ফন্ট সাইজ:
থিম:
বসন্তের দিনগুলি

৩৪তম পর্ব

লেখক: সিনথিয়া জাহান

#বসন্তের_দিনগুলো

#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান (সিনু)

#পর্বঃ৩৪

মেহমেত বিছানায় গড়াগড়ি দিতে দিতে সা'পের মতো ফোস ফোস করতেছে ৷ আর বারবার মোবাইলের স্ক্রিনে টাইম দেখতেছে ৷ ও আবারও সময় দেখল তারপর হতাশ কন্ঠে বলল,,,

আমি গিয়েছিলাম বেলা ১১ টায় আর এখন বাজে ১১ টা ৪৫ মিনিট ৷ Whatever হয়েছে ভাই আমার না মেনে নেওয়া ভাবীকে এখন রেহাই দে ৷

সাজিদ দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে বাকা হেসে বলল,, দিয়েছি রেহাই ৷

মেহমেত শোয়া থেকে উঠে বসে বলল,, কিছুক্ষণ পর মানে যে ৪৫ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড সেটা আজ বুঝলাম ৷ Whatever এটা জানানোর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ সাজ্জু বেইবি ৷

সাজিদের ঠোঁটের কোণে এখনও বাকা হাসি লেপ্টে আছে ৷ ও বিছানায় গিয়ে মাথার পিছনে দু হাত রেখে শুয়ে পড়ল ৷ মেহমেত ওর উপর ঝুকে বলল,,,

এ্যাহহহহহ মুখ থেকে হাসি সরছেই না দেখছি! Whatever তুই আমার না মেনে নেওয়ার ভাবীকে জোর জবরদস্তি করিস নি তো?

সাজিদ মেহমেতের পিঠে একটা থা'প্পড় বসিয়ে দিয়ে বলল,,, বাজে কথা বললে দাঁত ফেলে দিব তোর ৷ অনুমতি না নিয়ে কোনোকিছু করার মানুষ আমি না ৷ ওহ হ্যাঁ না মেনে নেওয়া ভাবী আর বলবি না নয়তো দ্বিতীয়বার সিনুর হাত থেকে তোকে আমি বাঁচাতে পারব না ৷

মেহমেত হাই তুলে বলল,, আচ্ছা আচ্ছা বলব না ৷

সাজিদ ওর থেকে চোখ সরিয়ে আবারও মাথার নিচে দু হাত দিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসল ৷ তা দেখে মেহমেত টিটকারি দিয়ে বলল,,

সাজ্জু বেইবির ই দিন ৷ Whatever আমার তো রাত চলতেছে ৷ তোকে দেখে এখন ওই লাইন দুটোই শুধু আমার মুখে আসতে চায় ৷

সাজিদ ভ্রু কুঁচকে বলল,, কি?

মেহমেত গলা খাকারি দিল তারপর সুর তুলে বলল,, ভাই যখন বউ লইয়া আমার রুমের সামনে দিয়া হাইট্টা যায়,বুকটা ফাইট্টা যায় ৷ ফাইট্টা যায়, বুকটা ফাইট্টা যায় ৷

ওর গান শুনে সাজিদ সামান্য হাসল ৷ তারপর হাসি থামিয়ে বলল,,, নিজেকেই এখনও সামলাতে শিখিস নি তাতেই বউ চাচ্ছিস? বুঝেছি তোর পিঠ শিরশির করতেছে আমার হাতের মা*র খাওয়ার জন্য ৷

মেহমেত কপাল কুঁচকে বলল,, আমি তোর থেকে জাস্ট দুই বছরের ছোট ৷whatever আমার এখন বিয়ে করা জরুরি ভিত্তিতে দরকার ৷

বাদ দে এসব ফ্যাচর ফ্যাচর ৷ বল কি জন্য ডেকেছিলি?

মেহমেত দাঁত কপাটি বের করে বলল,, এই তো গল্প করার জন্য ৷ whatever আমার থাকবে জরুরি কথা? ইহা হাস্যকর সাজ্জু বেইবি ৷

সাজিদ গম্ভীর মুখে শোয়া থেকে উঠে ওর মাথায় চাটি মে*রে বলল,,, ব'লদ কোথাকার!

বলেই ও রুম থেকে বেরিয়ে গেল ৷মেহমেত মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বলল,, Whatever বউ পেয়ে ভাইকে ভুলে গেলি? ইট'স নট ফেয়ার সাজ্জু বেইবি!

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

রুমে প্রবেশ করার সাথেই সাজিদ থমকে গেল ৷ সিনু এলোমেলো পোশাকে ঘুমিয়ে আছে ৷ এমন দৃশ্য দেখে ও শুকনো ঢোক গিলে চোখ সরিয়ে নিল ৷ কিছু একটা ভেবে সিনুর কাছাকাছি গিয়ে কম্পিত হাতে ওড়না দিয়ে ওকে ঢেকে দিল ৷ তারপর লম্বা লম্বা পা ফেলে বেলকনিতে চলে গিয়ে বেলকনির হাতলে হাত রেখে জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে লাগল ৷

সিনু আড়মোড়া ভেঙে বিছানা থেকে উঠল ৷ সাজিদ যাওয়ার পর একটু শুয়েছিল, কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিল সেটা বুঝতেই পারেনি ৷ বিছানায় বসে সিনু হাই তুলতে লাগল ৷ হঠাৎ ঠোঁটে হাত যেতেই ওর তখনকার কথা মনে পড়ে গেল ৷ ফলশ্রুতিতে ঠোঁটের কোণে লাজুক হাসি ফুটে উঠল ৷

সিনু বিছানা থেকে নেমে বাথরুমে চলে গেল চোখে মুখে পানি দেওয়ার জন্য ৷ বাথরুম থেকে বেরিয়ে ও বেলকনিতে পা বাড়াতেই সামনে সাজিদকে দেখে প্রচন্ড ল'জ্জা পেয়ে গেল ৷ সাজিদ উল্টো দিকে মুখ করে ছিল তাই সিনু চট জলদি ওখান থেকে চলে আসতে ধরলেই সাজিদ বলল,,,

ঘুম ভেঙেছে?

সিনুর পা থেমে গেল ৷ অস্ফুট স্বরে বলল,, হু ৷

সাজিদ পিছু ঘুরে ওর দিকে এগিয়ে আসল ৷ তারপর সিনুকে দেওয়ালের সাথে মিশিয়ে ওর খুব কাছাকাছি চলে আসল ৷ সিনুর চোখ বড় বড় হয়ে গেছে ৷ সাজিদ ঘোর লাগা কন্ঠে বলল,,,,

খবরদার এভাবে এলোমেলো পোশাকে কখনো ঘুমাবে না নয়তো আমি ভয়'ঙ্কর কিছু করে ফেলতে পারি!

সিনু দ্রুত মাথা উপর নিচ করল ৷ তবুও সাজিদ ওকে ছেড়ে দিল না ৷ ওর দিকে অপলকভাবে তাকিয়ে থেকে বলল,,,

তুমি অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত আমি আর আগাব না ৷ তুমি সময় নাও ৷ আমার ধৈর্য আছে ৷ তোমাকে অফুরন্ত সময় দিলাম ৷

সিনু কৌতূহল বশত জিজ্ঞাসা করল,,, কতদিন?

এই ধরো ২৪ ঘন্টা ৷

সিনু আহাম্মক হয়ে গেল ৷ ব্যঙ্গ করে বলল,, সিরিয়াসলি? ২৪ ঘন্টা আপনার কাছে অফুরন্ত সময় মনে হয়?

তা নয় তো কি? ৬০ মিনিটে এক ঘন্টা তাহলে ২৪ ঘন্টা মানে কতগুলো মিনিট হয় হিসাব করে দেখো ৷ আমি জানি তোমাকে একটু বেশিই সময় দিয়ে ফেলেছি ৷ আমি একটু মহান তো, কি আর করা যাবে বলো?

সিনু বিদ্রুপের স্বরে বলল,,, মহান! আমার এই টাইমে হবে না ৷

আচ্ছা তাহলে ২২ ঘন্টা ৷

সিনু চোখ ছানাবড়া করে সাজিদের দিকে তাকিয়ে বলল,,, হোয়াট!

ওকে তাহলে ২০ ঘন্টা ৷

সিনু চট জলদি বলে উঠল,, এই না না ২৪ ঘন্টা ঠিক আছে ৷

সাজিদ সিনুর আরেকটু কাছে এসে ওর কানে মুখ এনে বলল,,, আই এম ওয়েটিং ফর ইউ সিনুপাখি ৷

বলে সাজিদ রুম থেকে বেরিয়ে গেল ৷ সিনু ওখানে ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগল ৷ অনেকক্ষন থাকার পর নিজেকে সামলে নিয়ে ও শ্বাশুড়ি মায়ের কাছে চলে গেল ৷

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

আজ বাড়িতে সবাই বেশ মজা করেছে ৷ আড্ডা দিয়েছে ৷ রাত ১১ টার দিকে সবাই যে যার রুমে চলে গেল ঘুমানোর জন্য ৷ সাজিদ বরাবরের মতো আজও সিনুকে পিছন থেকে জরিয়ে ধরে শুয়ে আছে ৷ দুজনেই চুপচাপ ৷ কিছু একটা বলার জন্য সাজিদ উশখুশ করতে লাগল ৷ আরো কিছুক্ষণ পর ও নরম কন্ঠে বলল,,,

সিনু ৷

হু ৷

আমি আর পারছি না ৷ তখন ভুল বলেছিলাম ৷ আমার আসলে ধৈর্য নেই ৷ আমি তো আর সামিন ইয়াসার মির্জা না ৷ আমি শেখ সাজিদ হাসান , আমার ধৈর্য নেই ৷

সিনু কম্পিত কন্ঠে বলল,,আপনি আমাকে ২৪ ঘন্টা সময় দিয়েছিলেন ৷

সাজিদ আকুল হয়ে বলল,, জানি কিন্তু আমি যে পারছি না ৷ আই নিড ইউ ডেসপারেটলি সিনুপাখি! প্লিজ আন্ডারস্টান্ড ৷

সিনু চুপ করে থাকল ৷ সাজিদ ওর নিরবতাকে সম্মতি ধরে নিয়ে ওকে নিজের দিকে ঘুরাল ৷ তারপর সময় নিয়ে নিয়ে ওর কপালে, দু গালে , চোখের পাতায় , ঘাড়ে চুম্মন করল ৷ সাজিদের এক একটা গভীর স্পর্শে সিনু কেঁপে কেঁপে উঠতেছে ৷ বহু উত্থান পতনের পর আজ ওরা এক হয়ে গেল ৷

অনেক সময় পেরিয়ে গেছে ৷ মাঝরাতে হঠাৎ করে সিনুর ঘুম ভেঙে গেল ৷ মস্তিষ্ক সজাগ হতেই দেখল সাজিদ ওর বুকে পরম নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে ৷ কিছুক্ষণ ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে সিনু নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল কিন্তু পারল না ৷ লোকটা ঘুমের মধ্যেও ওকে জরিয়ে ধরে আছে ৷ ওর ছটপটানিতে সাজিদের হাতের বাধন আরো জোরালো হলো ৷ তাই সিনু হার মেনে চুপচাপ শুয়ে থাকল ৷

সিনু সাজিদের সিল্কি চুলগুলোতে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল ৷ এতে শান্তি পেয়ে সাজিদ ঘুমের ঘোরেই আরো জোরে সিনুকে জরিয়ে ধরল ৷ সিনু এবার চাপা আ'র্তনাদ করে বলল,,,

আরে আমার হাড় হাড্ডি কি সব ভেঙে ফেলতে চান সাজিদ?

সাজিদ ঘুম ঘুম কন্ঠে বলল,, এই শা'কচু'ন্নি আমার সাথে ভাব করার চেষ্টা করবে না ৷ আমার নিজস্ব বউ আছে ৷

সিনু স্বশব্দে হেসে উঠল ৷ ফলে সাজিদের ঘুম হালকা হয়ে গেল ৷ মাথা তুলে ও চোখ পিটপিট করে সিনুর দিকে তাকিয়ে বলল,, কি হয়েছে? হাসছো কেন?

সিনু হাসি থামিয়ে বলল,, আপনাকে বলব না ৷

সাজিদ ভ্রু কুঁচকে কয়েক মূহুর্ত সিনুর দিকে তাকিয়ে থেকে ওর ওষ্ঠের সাথে নিজের ওষ্ঠ এক করে দিল ৷ ঘটনার আকস্মিকতায় সিনু হতভম্ভ হয়ে গেল ৷ কিছুক্ষণ পর সাজিদ ছেড়ে দিলে সিনু ওর থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল ৷ সাজিদ সিনুর ল'জ্জা মাখা মুখটার দিকে তাকিয়ে নিঃশব্দ হাসল ৷ কিছুক্ষণ আগেই আযান দিয়েছে তাই দুজনে উঠে নামাজের প্রস্তুতি নিতে লাগল ৷

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

সিনু ভ্রু কুঁচকে বোরকা পড়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে ৷ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর ও একটা মাস্ক পড়ে নিল ৷ সাজিদ রেডি হয়ে সিনুকে পিছন থেকে জরিয়ে ধরে ওর কাধে নিজের থুতনি ঠেকিয়ে বলল,,,

মাস্ক পড়লে কেন সিনুপাখি?

সিনু নিজেকে ওর থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,, আপনার করা কর্মকান্ডগুলো ঢাকার জন্য ৷

সিনুর বলা কথার মানে বুঝতে পেরে সাজিদ হেসে ফেলল ৷ তারপর ওরা শপের উদ্দেশ্যে চলে গেল ৷ শপে প্রবেশ করতেই ওরা তিনজন এসে সিনুকে ঘিরে ধরল ৷ তানিয়া ভ্রু কুঁচকে বলল,,,

মাস্ক পড়েছিস কেন?

সিনু আমতা আমতা করতে লাগল ৷ রাইশা চোখ সরু করে বলল,,

কি মিনমিন করছিস? গলায় জোর নেই? সাজিদ ভাইয়া তোকে খেতে দেয় না?

সিনু গলায় খানিকটা জোর এনে বলল,, আসলে এই গরমে এ্যালার্জি হয়েছে ৷ তার উপর ধুলোবালির অ'ত্যাচার তাই আরকি মাস্ক পড়েছি ৷

ওরা তিনজন সুক্ষ্ম নজরে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,, ওওও ৷

সিনু চট জলদি ওদের সামনে থেকে দূরে চলে গেল ৷ তারপর মারিয়ার সাথে কাজ নিয়ে কিছু কথা বলতে লাগল ৷ কথা বলা শেষে কাউন্টারে চলে আসল ৷ ওরা তিনজন এতোক্ষণ ওর দিকেই তাকিয়ে ছিল ৷ রাইমা বিজ্ঞের মতো বলল,,,

সিনু সত্যি করে বল কি হয়েছে? তোকে আজ স্বাভাবিক লাগছে না ৷ তোকে অদ্ভুত অদ্ভুত লাগছে, হাঁটা চলাও অন্যদিনের মতো না ৷

তানিয়া কিছু একটা ভেবে চোখ বড় বড় করে বলল,,, তুই অলরেডি বাসর করে ফেলিস নি তো?

সিনু থতমত খেয়ে গেল , নিদারুন ল'জ্জায় মিইয়ে গেল ৷ আমতা আমতা করে বলল,, কিসব বলছিস? চুপ কর তোরা ৷

ওরা তিনজনই আসল ব্যাপারটা বুঝে গেল ৷ তারপর মিটমিট করে হাসতে লাগল ৷ রাইশা হতাশ কন্ঠে বলল,,,

যেখানে সবার আগে আমার বিয়ে হওয়ার কথা সেখানে তুই হুড়মুড় করে বিয়ে করে ফেললি ৷ এখন আবার আমাদের খালামনি বানানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছিস? আমার বিয়ে টা অন্তত হতে দে ভাইই ৷

তানিয়া,রাইমা, সিনু অবাক হয়ে ওর দিকে তাকাল ৷ তা দেখে রাইশা ভড়কে গিয়ে বলল,,

এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন? কি ভুল বলেছি?

রাইমা হতভম্ভ কন্ঠে বলল,, তুই নিজের বিয়ের প্রতি কবে থেকে এতোটা ইন্টারেস্টেড হয়ে গেলি?

ওর কথার পিঠে তানিয়া বলে উঠল,, আমার ভাইয়া তোর বলা কথাটা শুনলে তো খুশিতে পাগল হয়ে যেত!

রাইশা নিজের কান্ডে বি'ব্রত হয়ে দ্রুত পাশের শপে চলে গেল ৷ তা দেখে ওরা তিনজন হেসে উঠল ৷ একটু পর তানিয়াও পাশের শপে চলে গেল ৷ রাইমা সিনুর পাশে গিয়ে বলল,,,

আমার কিন্তু ভাগ্নি চাই সিনু ৷ কথাটা মনে রাখিস ৷

ওর কথায় সিনু ল'জ্জা পেয়ে মাথা নিচু করল ৷ হঠাৎ সামনে তাকাতেই সাজিদের সাথে ওর চোখাচোখি হয়ে গেল ৷ সাজিদ ওর দিকে তাকিয়ে চোখ মা*রল ৷ সিনু হ'তভম্ভ হয়ে দ্রুত সেখান থেকে চোখ সরিয়ে নিল ৷ তা দেখে সাজিদ নিঃশব্দ হেসে কাজে মন দিল ৷

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

আজ নয় কাল তানজিদ আর রাইশার বিয়ে ৷ সকলে বিয়ের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে ৷ বিয়েটা বড় সড় একটা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজন করা হবে ৷ তানজিদ নিজের বিয়ের খুশিতে আধপাগল হয়ে গেছে ৷ সব কাজ নিজ হাতে সামলাচ্ছে , কারো সাহায্যও নিচ্ছে না ৷

রাইশার সাথে ফোনে মাঝে মাঝে টুকটাক কথা বলে তানজিদ ৷ ও বুঝতে পারে রাইশা এখনও ওর সাথে ফ্রি হতে পারেনি তাই ও যেন অ'স্বস্তিতে না পড়ে সেজন্য প্রয়োজনের বাইরে অতিরিক্ত কোনো কথা বলে না মানে ভালোবাসা নিয়ে ৷

সকাল সকাল সবাই মিলে কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে উপস্থিত হলো ৷ তানজিদ শেরওয়ানী পড়ে স্টেজে চুপচাপ বসে আছে ৷ ওর পাশে সাজিদ , মেহমেত দাঁড়িয়ে আছে ৷ অন্যদিকে পার্লার থেকে হায়ার করে আনা মেয়েগুলো রাইশাকে কনের সাজে সাজিয়ে দিতে লাগল ৷ সিনুরা পাশে দাঁড়িয়ে ওকে সাজানো দেখতেছে ৷ মাঝে মাঝে মেয়েগুলোকে সামান্য পরামর্শও দিচ্ছে রাইশাকে কিভাবে সাজালে বেশি সুন্দর দেখা যাবে সেই বিষয়ে ৷

রাইশাকে গোলাপী কালারের একটা জামদানী শাড়ী আর হিজাব পড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ মুখে সামান্য প্রসাধনীর ছোঁয়াও আছে ৷ ওকে দেখতে মাশাআল্লাহ অনেক সুন্দর লাগছে ৷ সিনু , রাইমা, তানিয়া হা হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে ৷ চোখের পলক ফেলছে না ৷ তা দেখে রাইশা ভ্রু কুঁচকে বলল,,,,

শা'লা রা একটা মেয়ের দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে তোদের ল'জ্জা করে না? দিনদিন উচ্চ লেভেলের ইভটিজার হয়ে যাচ্ছিস তোরা!

ওর কথা শুনে সিনুরা হেসে কুটিকুটি হলো ৷ তারপর হাসি থামিয়ে রাইমা বলল,,

আমরা একশবার দেখব ৷ তোর কোনো সমস্যা?

রাইশা মুখ ভেংচি কেটে অন্যদিকে তাকাল ৷ ওরা আরো কিছুক্ষণ হাসি ঠাট্টা করে রাইশাকে স্টেজে নিয়ে গেল ৷ তারপর তানজিদের পাশে গিয়ে ওকে বসিয়ে দিল ৷ তানজিদ রাইশাকে দেখে ওই যে হা করেছে সেই হা এখনও বন্ধ করেনি ৷ তা দেখে তানিয়া তানজিদের পিঠে হালকা থা'প্পড় দিয়ে বলল,,,

ভাইয়া মুখ বন্ধ করো ৷ ন'র্দমার পচা মাছি গুলো এসে তোমার মুখে ঢুকে যাবে! তখন বুঝো ঠ্যালা!

তানজিদ অপ্রস্তুত হয়ে রাইশার থেকে চোখ সরিয়ে মাথা নিচু করে ফেলল ৷ অন্যদিকে রাইশা নিজের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে চোখ বন্ধ করে বসে আছে ৷ তানিয়া ক্যামেরা ম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলল,,,

এই ছেলে সব ছবি যেন ভালো নয় ৷ একটা ছবিও যদি দেখেছি খারাপ হয়েছে তাহলে এর হিসাব আমি পরকালে গিয়ে নিব ৷

ওর কথা শুনে ক্যামেরা ম্যান টা আহাম্মক হয়ে গেল আর বাকিরা হেসে উঠল ৷ মেহমেত হাসতে হাসতে বলল,, Whatever মিস ত্যানাত্যানা আপনি এতো এতো হিসাব নেন কিভাবে?

তানিয়ার পাল্টা জবাব,যেভাবে আপনি কথায় কথায় Whatever বলেন mr.Whatever ৷

ওদের মধ্যে আর কোনো কনভার্সেশন হলো না কারন কাজী চলে এসেছেন ৷ উনি তানজিদ আর রাইশার বিয়ে পড়ানো শুরু করলেন ৷ বিয়ে পড়ানোর মুহুর্ত থেকে রাইশা কান্না শুরু করে দিয়েছে ৷ তানজিদ অসহায়ভাবে নিজের ক্রন্দনরত সদ্য বিবাহিতা বধুর দিকে তাকিয়ে আছে ৷

একমাত্র সন্তান হওয়ায় রাইশার বাবা মা ওকে জরিয়ে ধরে কান্নায় ফেটে পড়লেন ৷ সবাই উনাদের কান্না আটকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো ৷ প্রায় এক ঘন্টা পর উনাদের কান্না কিছুটা থামল ৷ এলোমেলো পায়ে হেঁটে এসে রমজান ইকবাল নিজের একমাত্র মেয়েকে তানজিদের হাতে তুলে দিয়ে দুজনকে দোয়া করে দিয়ে চোখের পানি মুছলেন ৷

ওদের তিন বান্ধবীর চোখগুলোও কান্না করার দরুন লাল হয়ে ফুলে গেছে ৷ একটু পর বর কনে কে গাড়িতে বসানো হলো , তানিয়াও সেখানে গিয়ে বসল ৷ রাইশার একপাশে তানজিদ অন্যপাশে তানিয়া বসেছে ৷ রাইশা এখনও ফুপিয়ে কেঁদে চলেছে ৷ তানিয়া ওর হাতে আলতো করে নিজের হাত রেখে বলল,,,

কাঁদিস না সোনা ৷ এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে যাচ্ছিস ৷ আর সেখানে কথায় কথায় হিসাব চাওয়া তোর এই বেস্ট ফ্রেন্ড ওরফে কুটনী ননদিনী তো আছেই ৷ তোর কিসের চিন্তা?

ওর কথায় রাইশা কান্নারত অবস্থাতেই সামান্য হাসল ৷ ওকে হাসতে দেখে তানজিদ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল আর বোনের দিকে কৃতজ্ঞতার নজরে তাকাল ৷ গাড়ি এসে বাসার সামনে থামতেই ওরা এক এক করে নেমে পড়ল ৷ তুলি বেগম এসে নিজের ছেলের বউকে ভিতরে নিয়ে গেলেন ৷ বিয়ের ধকলের কারনে উনি রাইশাকে সোজা তানজিদের রুমে নিয়ে গেলেন ৷ তারপর ওর সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে উনি নিচে চলে আসলেন ৷

চলবে,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন