ফন্ট সাইজ:
থিম:
বসন্তের দিনগুলি

৩৭তম পর্ব

লেখক: সিনথিয়া জাহান

#বসন্তের_দিনগুলো

#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান (সিনু)

#পর্বঃ৩৭

মহিলাগুলো যাওয়ার পর সিনু ওর মা আর বোনের সাথে বসে কিছুক্ষণ আড্ডা দিল মন মেজাজ টা ভালো করার জন্য ৷ তারপর হঠাৎ সাজিদের কথা মনে হতেই ও ছাদ থেকে নিচে নেমে এলো ৷ প্রথমে আশেপাশে খুঁজল কিন্তু কোথাও পেল না ওকে ৷ তারপর রুমে প্রবেশ করতেই ওর মুখটা চিন্তায় ছেঁয়ে গেল ৷ সাজিদ মলিন মুখে বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসে আছে ৷

সিনু ত্রস্ত পায়ে সাজিদের দিকে এগিয়ে গিয়ে ওর গালে হাত দিয়ে বলল,,, কি হয়েছে সাজিদ? আপনার মুখটা এমন লাগছে কেন? শরীর খারাপ লাগছে? ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব?

সাজিদ নির্জীব চোখ দুটো তুলে সিনুর বিচলিত মুখটার দিকে তাকিয়ে কাঠ হেসে বলল,,, অস্থির হয়ো না সিনুপাখি ৷ আমি ঠিক আছি ৷

সিনু তবুও চিন্তিত মুখে সাজিদের দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ কয়েক মুহূর্ত নিরবতার পর সাজিদ অস্ফুট স্বরে বলল,,,

তোমার বুকে মাথা রেখে একটু ঘুমাতে চাই ৷ অনুমতি দিবে?

সিনু তৎক্ষণাৎ জবাব দিল,, কেন দিব না? আসুন ৷

সিনু আধশোয়া হয়ে শুয়ে পড়ল আর সাজিদ ফ্যাকাশে মুখে ওর বুকে মাথা রেখে শুয়ে পড়ল ৷ সিনু ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল ৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই সাজিদ ঘুমিয়ে পড়ল ৷ সিনু এখনও গভীর চিন্তায় মগ্ন ৷ সাজিদ এর হঠাৎ এমন আচরণের কারন কি?

এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল সেটা সিনু জানে না ৷ বেশ কিছুক্ষণ পর সাজিদের ঘুম ভেঙে গেল ৷ চোখ খুলে কয়েক মিনিট সিনুর ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে থেকে ও বিছানা থেকে নেমে বেলকনিতে চলে গেল ৷ তারপর উদাস নয়নে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকল ৷

আচমকা ঘুম ভেঙে সাজিদকে না দেখে সিনু বিচলিত হয়ে পড়ল ৷ চট জলদি বিছানা থেকে নেমে ও সাজিদকে খুঁজতে লাগল ৷ বেলকনিতে ওকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সিনু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল ৷ তারপর হাই তুলতে তুলতে বলল,,,

আপনি এখানে? আমাকে একদম ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন সাজিদ ৷

সাজিদ এক পলক পিছু ঘুরে সিনুকে দেখে পুনরায় আকাশের দিকে তাকাল ৷ সিনু ওর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে নিজেও আকাশের দিকে তাকাল ৷ কয়েক মুহূর্ত পিনপতন নিরবতা বিরাজ করল ৷ নিরবতা ভেঙে সাজিদ কাটকাট গলায় বলল,,,

আমি তোমাকে বিয়ে করে ভুল করেছি তাই না সিনু?

সিনু হতভম্ভ হয়ে সাজিদের দিকে তাকিয়ে বলল,,, আমি কি কিছু ভুল করেছি? দয়া করে আমার ভুল ধরিয়ে দিন তবুও এমন কথা বলবেন না ৷

সাজিদ শুকনো হেসে বলল,,, ভুল থাকলে তো ধরিয়ে দিব ৷

তাহলে এভাবে বললেন কেন?

তুমি নিঁখুত সিনু কিন্তু আমি তোমার যোগ্য নই ৷আমার মতো কালো ছেলের সাথে তোমাকে মানায় না ৷ তুমি ভালো কোনো ছেলেকে ডিজার্ব করো ,আমাকে না ৷

এবার সিনু পুরো বিষয়টা বুঝে ফেলল ৷ মহিলাগুলোর কথা নিশ্চয়ই ও শুনেছে ৷ সিনুর চোখ জ্ব'লে উঠল, উ'ত্তেজিত হয়ে সাজিদকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলল,,,

এই ছেলে আমাকে আর ভালো লাগছে না সেটা বললেই পারেন ৷ অযথা এসব লজিক দেখিয়ে আমাকে অন্যের গলায় ঝুলিয়ে দিতে চাচ্ছেন?

সাজিদ ব্যতি ব্যস্ত হয়ে বলল,,, ভুল বুঝছো ৷ আমি সত্যি তোমার যোগ্য নই সিনু ৷

চুপপ একটাও কথা বলবেন না ৷ ওই মহিলাগুলোর কথা আপনি শুনেছেন তাই না?

সাজিদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,,, হ্যাঁ শুনেছি ৷ উনারা তো ভুল কিছু বলেননি ৷ আমি কালো, তুমি ফর্সা আমাদের একসাথে যায় না ৷

সিনু হঠাৎ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল ৷ কাঁদতে কাঁদতে বলল,,, চুপপ চুপপ ৷ একদম চুপপ করুন ৷ সবাই কেন আপনাকে কালো বলে? এমনকি আপনি নিজেও কেন বলেন? আমার চোখ দিয়ে একবার নিজেকে দেখুন ৷ আপনি আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ ৷ আপনাদের কোনো অধিকার নেই আমার সুদর্শন স্বামীকে কালো বলার!

সাজিদ সিনুর এমন কান্নায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল ৷ সিনুকে ধরে ওর কান্না থামানোর চেষ্টা করতে ধরলেই সিনু ওকে ধা'ক্কা দিয়ে নিজের থেকে সরিয়ে দিল ৷ তারপর বলতে লাগল,,,

খবরদার আমাকে টাচ করবেন না ৷ আপনি কোন সাহসে আমার স্বামীকে কালো বললেন? যতক্ষন পর্যন্ত না আপনি নিজেকে সুদর্শন বলবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আমার ধারে কাছেও ঘেষবেন না!

সাজিদ আহাম্মক হয়ে সিনুর দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ পর মুহূর্তে হেসে ফেলল ৷ তারপর সিনুকে জরিয়ে ধরে বলল,,,

আচ্ছা আচ্ছা তোমার স্বামী সুদর্শন এবার খুশি?

সিনু তবুও সাজিদের থেকে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ল ৷ কিন্তু সাজিদ নাছোড়বান্দা , ছাড়ল তো না ই বরং আরো শক্ত করে জরিয়ে ধরল ৷ সিনু আরো কিছুক্ষণ ছটফট করার পর শান্ত হয়ে গেল ৷ সাজিদের বুকে মাথা রেখে মৃদু ফোপাতে লাগল ৷ তারপর বলল,,,

আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি , আপনি কি তা বোঝেন না?

সাজিদ সিনুকে আরো শক্ত করে জরিয়ে ধরে মুচকি হেসে বলল,, আজ বুঝলাম তুমি আমাকে কতো ভালোবাসো সিনুপাখি ৷

সিনু সাজিদের পেটে চিমটি কেটে বলল,, ওওও এতোদিন জানতেন না?

সাজিদ পেটে হাত দিয়ে মৃদু আ'র্তনাদ করে হাসতে লাগল ৷ সিনু কটমট দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে আছে ৷ সাজিদ হাসি অব্যাহত রেখে পুনরায় সিনুকে নিজের সাথে জরিয়ে নিল ৷ এবার সিনু আর নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করল না ৷বরং নিজের সুদর্শন স্বামীর বুকে মাথা রেখে ওকে আষ্টেপৃষ্টে জরিয়ে ধরে থাকল ৷

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

আজ ব্রয়লার মুরগি আর কথায় কথায় হিসাব চাওয়া বেডি মিস ত্যানাত্যানার শুভ বিবাহ হতে চলেছে ৷

রাইমার বলা কথাটা শুনে সিনু আর রাইশা জোরে হেসে উঠল ৷ ওরা এখন একটা নামী দামী কমিউনিটি সেন্টারের নির্দিষ্ট কামরায় বসে আছে ৷ ওদের থেকে কিছুটা দুরত্বে তানিয়াকে কনের সাজে সাজিয়ে দেওয়া হচ্ছে ৷ সিনুদের হাসি শুনে তানিয়া পিছু ঘুরে কপাল কুঁচকে বলল,,,

হাসছিস কেন? আমাকেও বল আমিও হাসব ৷

রাইশা বিরবির করে বলল,,, তোকে বললে হাসবি না বরং আমাদের থেকে হিসাব চাবি তাই থাক বলার দরকার নেই ৷

ওর কথা শুনে সিনু আর রাইমা আবার হেসে উঠল ৷ তানিয়ার কপালের ভাঁজ আরো বেড়ে গেল ৷ সিনু হাসি থামিয়ে বলল,,,

তোকে কেন বলব? নতুন বউয়ের এতো আগ্রহ ভালো না ৷ চুপচাপ নিজের বিয়েতে মনোযোগ দে ৷

তানিয়া দাঁতে দাঁত চেপে বলল,,, বললি না তো? দেখিস এর হিসাব আমি পরকালে গিয়ে নিব ৷

ওর কথা শুনে ওরা তিনজন একসাথে হাই তুলল ৷ তানিয়া বি'রক্ত হয়ে ওদের থেকে চোখ সরিয়ে নিল ৷ সিনুরা আবারও মুখে হাত চেপে হাসতে লাগল ৷ কিছুক্ষণ ওখানে থাকার পর রাইমা আশপাশ টা দেখার জন্য রুম থেকে বাইরে চলে গেল ৷

নাভিন কিছুক্ষণ আগেই কমিউনিটি সেন্টারে এসে পৌঁছেছে ৷ আজকে সাদার সাথে কালো এমব্রয়ডারি দেওয়া একটা পাঞ্জাবী পড়েছে ও ৷ নাভিনের দিকে চোখ যেতেই রাইমা হাসিমুখে ওর দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল,,,

এই যে প্রফেসর সাহেব ৷ শুনছেন?

নাভিন সামনে হাস্যজ্জ্বল মুখে কালো শাড়ি পরিহিত রাইমার দিকে তাকাতেই থমকে গেল ৷ চোখের পলক পড়ছে না ৷ হঠাৎ আশেপাশের সবাই ওর সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল,শুধু রাইমাকেই নিজের চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে ৷ রাইমা ওর কাছে চলে আসলেও নাভিনের হুশ ফিরল না ৷ রাইমা ভ্রু কুঁচকে ওর সামনে চুটকি বাজিয়ে বলল,,,

কি হলো প্রফেসর সাহেব?

নাভিনের ঘোর কেটে গেল ৷ অপ্রস্তুত হেসে মাথা চুলকে বলল,,, কিছু না ৷ আর হ্যাঁ ইট'স লেকচারার ইন ক্যামিস্ট্রি ৷

রাইমা মাছি তাড়ানোর মতো করে বলল,,, হ্যাঁ হ্যাঁ জানি বারবার মনে করিয়ে দিতে হবে না ৷

জানো তাহলে ভুল নামে ডাকো কেন?

রাইমা দাঁত কেলিয়ে বলল,,, কারন আমি এতে করে মানসিক শান্তি পাই ৷ আর আপনি কেন বারবার ভুল ধরিয়ে দিতে যান? আপনার ক্লান্তি আসে না?

নাভিন মুচকি হেসে বলল,,, ভুল ধরিয়ে দিয়ে আমিও মানসিক শান্তি পাই ৷

ওর কথা শুনে রাইমা হেসে উঠল ৷ নাভিন পুনরায় বলল,, বাই দা ওয়ে আজ আমরা ম্যাচিং ম্যাচিং ড্রেস পড়েছি ৷ দারুন তো ৷

রাইমা একপলক নিজের কালো শাড়ি আর নাভিনের সাদার সাথে কালো এমব্রয়ডারি দেওয়া পাঞ্জাবী টা দেখল ৷ তারপর আগ্রহ ভরা কন্ঠে বলল,,,

আরে তাই তো দেখছি ৷ হোয়াট আ কোইনসিডেন্স!

পিছন থেকে কেউ ডাকতেই রাইমা পিছু ঘুরল ৷ হাতের ইশারায় উত্তর দিয়ে রাইমা পুনরায় নাভিনের দিকে তাকাতে যাবে তখন ই সামনে রাখা একটা আয়নার দিকে ওর চোখ আটকে গেল ৷ নাভিন এক নজরে মুগ্ধ নয়নে ওর দিকে তাকিয়ে আছে ৷ তা দেখে রাইমার ভীষণ অ'স্বস্তি হতে শুরু করল ৷ সময় নিয়ে বড় করে একটা শ্বাস ফেলে রাইমা নাভিনের দিকে তাকাল ৷ রাইমা তাকানোর সাথেই নাভিন চোখ সরিয়ে নিল ৷ রাইমা চট জলদি বলল,,,

আপনি ইনজয় করুন ৷ আমাকে যেতে হবে ৷

বলেই রাইমা আর এক মুহূর্ত দেরি না করে জলদি নাভিনের সামনে থেকে চলে গেল ৷ ওর ভীষণ বি'ব্রতিবোধ হচ্ছে ৷ নাভিনের ওর দিকে ওভাবে তাকিয়ে থাকাটা ওর একদম ভালো লাগেনি ৷ মনটা ভালো করার জন্য রাইমা তানিয়াদের কাছে চলে গেল ৷ সেখানে গিয়ে দেখল তানিয়া একলা বসে আছে ৷ রাইমা ভ্রু কুঁচকে বলল,,,

তুই একা কেন? ওরা কোথায়?

দুটোকেই ওদের স্বামী এসে ধরে নিয়ে গেছে ৷ ভাইয়ার কি জানি দরকার ছিল আর সাজিদ ভাইয়া নিজের একটা দাদুর সাথে সিনুর পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়েছেন ৷

রাইমা ধপ করে একটা চেয়ারে বসে পড়ে বলল,,, একটু পর তো তোরও স্বামী হবে ৷ শুধু আমার ই কেউ নেই রে!

তানিয়া হেসে উঠে বলল,, তোরও হবে ৷

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

সিনু আশির্ধো একজন বৃদ্ধ মানুষের সাথে পাশাপাশি চেয়ারে বসে আছে ৷ উনি সাজিদের দাদুর আপন ছোট ভাই ৷ টুকটাক কথা বলছে সিনু উনার সাথে ৷ সাজিদ কিছু কাজের জন্য ওদের একা রেখে চলে গেছে ৷ কয়েক মূহুর্ত পর হঠাৎ বৃদ্ধ লোকটা ব্যস্ত কন্ঠে বলে উঠল,,,

সিনু মা ধর ধর ধর ৷ এই ধর ধর ৷ ধরে ফেল ৷

সিনু চমকে উঠে বলল,, কি দাদু? কি ধরব?

বৃদ্ধ লোকটা হতাশ কন্ঠে বলল,, এই যাহ ৷ বেরিয়ে গেল তো ৷ ধরতেই পারলি না ৷

সিনু কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে হা করে উনার দিকে তাকিয়ে আছে কারন একটু আগেই বৃদ্ধ দাদু প্রাকৃতিক গ্যাস ত্যাগ করেছেন আর উনি সেই প্রাকৃতিক গ্যাসকে ধরার জন্যই সিনুকে বলতেছিলেন ৷ এমন ঘটনায় সিনু পুরো বেআক্কল বনে চলে গেল ৷ এটা কি ছিল?

সাজিদ ওদের দিকে এগিয়ে এসে বলল,,, কি দাদু দেখা হয়েছে আমার বউকে?

হ্যাঁ তবে তোর বউ একটু বোকাসোকা ৷তোর বউকে ধরতে বললাম , বোকা মেয়েটা ধরতেই পারল না ৷

সাজিদ এক পলক সিনুর থতমত মুখটার দিকে তাকাল অতঃপর দাদুর দিকে তাকিয়ে বলল,, তুমি ওকেও তোমার সেই ঐতিহাসিক জিনিস ধরতে বলেছো?

বের হতে চেয়েছিল তাই ধরতে বলেছি কিন্তু পারল না ধরতে আফসোস ৷

সাজিদ বহু কষ্টে হাসি আটকাল তারপর দাদুকে নিয়ে অন্য জায়গায় রেখে আসল ৷ সিনু সাজিদের সামনে ল'জ্জায় পড়তে চায় না তাই দ্রুত অন্যদিকে চলে গেল ৷ রাইশাকে দেখতেই সিনু ওর কাছে চলে গেল তারপর ওর সাথে কথা বলতে লাগল ৷ হঠাৎ সামনে তানজিদ কে দুটো মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখে রাইশার ভ্রু কুঁচকে গেল ৷

ক্ষু'ব্ধ হয়ে সেদিকে এগিয়ে গিয়ে মেয়েগুলোকে উদ্দেশ্য করে ও গম্ভীর গলায় বলল,,, কি চাই?

একজন মেয়ে বলল,,, আপনার জেনে কি লাভ? আমরা উনার সাথে কথা বলছি ৷ আপনি নাক গলাচ্ছেন কেন?

রাইশা তানজিদের হাতের সাথে নিজের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে কাটকাট গলায় বলল,,, নাক তো গলাবোই কারন এটা আমার জিনিস আই মিন হাসবেন্ড সো দূরে গিয়ে ম*রো বাবুরা ৷

মেয়ে দুটো থতমত খেয়ে গেল ৷ দ্রুত সেখান থেকে প্রস্থান করল ৷ ওরা চলে যেতেই রাইশা তানজিদের হাত ঝাটকা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বলল,,,

খুব দাঁত বের হচ্ছিল না মেয়েগুলোকে দেখে?

তানজিদ অপ্রস্তুত হয়ে বলল,,, কি বলছো বউজান? আমার দোষ নেই ৷ এখন ওরা যদি এসে কথা বলে তাহলে আমি কি করব?

আপনি সাথে সাথে বলতে পারেননি আপনি বিবাহিত , আপনার বউ আছে?

আচ্ছা আচ্ছা এর পর থেকে বলব ৷ ঠিক আছে বউজান?

রাইশা মুখ ভেংচি কেটে স্টেজের দিকে চলে গেল ৷ তানজিদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে সামান্য হাসল ৷ তারপর নিজেও স্টেজের দিকে চলে গেল ৷ কিছুক্ষণ আগেই তানিয়াকে স্টেজে নিয়ে আসা হয়েছে ৷ পর্দার ফাঁক দিয়ে মেহমেত হা হয়ে তানিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে ৷ তা দেখে সাজিদ ওর পিঠে দুম করে একটা ঘুষি মে*রে বলল,,,

ব'লদ সবাই দেখছে তোকে ৷ আমার সম্মানের কথা ভেবে হলেও অন্তত চোখ সরা ৷

মেহমেত চোখ নামিয়ে নিল ৷ তারপর সাজিদের দিকে তাকিয়ে বলল,,, Whatever তোর মতো অন্তত নি'র্লজ্জের মতো তাকিয়ে ছিলাম না যেভাবে তুই আমার ভাবীর দিকে তাকাস!

সাজিদ কিছু বলল না ৷ কাজী বিয়ে পড়ানো শুরু করলেন ৷ প্রথমে মেহমেতের থেকে কবুল শুনে এবার তানিয়ার থেকে কবুল শুনলেন ৷ বিয়ে পড়ানো শেষ হতেই সবাই আলহামদুলিল্লাহ্ বলে উঠল তারপর ওদের দাম্পত্য জীবনের জন্য দোয়া করল ৷

বিয়ের কার্যক্রম শেষ হলে মেহমেত আর তানিয়াকে স্টেজে পাশাপাশি বসানো হলো ৷সকলের অগোচরে মেহমেত তানিয়ার কানের কাছে মুখ এনে বলল,,,

সুন্দর লাগছে মিস ত্যানাত্যানা ৷ Whatever একদম আমার বউয়ের মতো ৷

তানিয়া ভ্রু কুঁচকে বলল,, ওওও তার মানে মনে মনে আপনার অন্য বউও আছে? কান খুলে শুনে রাখুন এর হিসাব আমি পরকালে গিয়ে নিব!

মেহমেত ৩২ পাটি দাঁত বের করে হেসে বলল,,, উফফ হিসাব হিসাব আর হিসাব ৷ Whatever আমার মনে মনে বিয়ে করা বউটাও আপনি মিস ত্যানাত্যানা ৷

তানিয়া লাজুক হাসল ৷ তারপর নরম কন্ঠে বলল,,, শুনুন ৷

জ্বি বলুন ৷

আনা বেহি বাক ৷

মেহমেত চক চন্দা খেয়ে গেল ৷ আহাম্মক হয়ে বলল,, কি! এটা কোন ভাষা? এর মানে কি? Whatever কোনোভাবে অন্য ভাষায় আমার থেকে হিসাব নিলেন না তো?

তানিয়া মুখে হাত চেপে হাসল তারপর ড্যাম কেয়ার ভাব নিয়ে বলল,,, বলব না ৷ নিজে খুঁজে বের করুন mr. Whatever ৷

মেহমেত কিছু বলার আগেই সেখানে সিনু চলে আসল ৷ দাঁত কেলিয়ে বলল,,, তানি হিসাব নেওয়া শুরু করে দিয়েছিস নাকি আমার দেবর টার কাছ থেকে?

তানিয়া হাই তুলে বলল,, আমার বয়েই গেছে ৷

আমি তোকে বিশ্বাস.....

কথাটা সম্পূর্ণ করার আগেই সিনু স্টেজে মাথা ঘুরে পড়ে গেল ৷ মেহমেত আর তানিয়া চিৎকার করে উঠল ৷ ওদের চিৎকারে সবাই সেদিকে এগিয়ে গেল ৷ সাজিদ সিনুকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে দৌঁড়ে স্টেজে চলে এসে সিনুর মাথাটা নিজের উরুতে রেখে ওর গালে হালকা থা'প্পড় মে*রে বলতে লাগল,,,

সিনুপাখি চোখ খোলো সিনুপাখি ৷ কি হয়েছে তোমার? আমাকে ভয় পাইয়ে দিও না!

চলবে,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন