#শঙ্খচূড়ার__রূপকথা #পর্ব__০৪
#ইসরাত__জাহান__এশা
তিতলি সবার পিছু পিছু দক্ষিণের জঙ্গলে গিয়ে পৌছালো। পাশ দিয়ে নদীর স্রোত ভেসে যাচ্ছে। স্বচ্ছ নির্মল পানি আর সেখানে ভেসে এলো কারোর জীবন। তিতলি ধীর পায়ে লা/শের কাছে এলো। মেয়ের লা/শ। এই মেয়েও হয়তো কিশোরী! তিতলি সেকান্দার আর তাহির এর মাঝে দাঁড়িয়ে গম্ভীর গলায় বললো,
" এই নিয়ে পাচটা লা/শ ভেসে এলো তাও একি সময় আর এই বুধবারে। কাকা এই খুনিকে বের করুন নয়তো পরে নতুন কারোর প্রাণ যাবে। আর যদি বের করতে না আরেন তাহল এই তিতলি সেই খুনিকে বের করবে। এই খুনিকে বের করতে গিয়ে যদি আমার প্রাণও যায় তাহলে সেটাই সই। "
তিতলি কথা বলে আর দাড়ালো না। যেভাবে এসেছে সেভাবেই চলে গেলো। তিতলির শেষ কথায় পরিবেশ থমকে গেলো। চারপাশ ভারি হয়ে উঠলো। সেকান্দর গ্রাম বাসিকে বলে লাশ উঠিয়ে আনলো পানি থেকে।সেকান্দার তাহিরকে বললো,
" তাহির ভাই কি হচ্ছে কি আমাদের শান্তিপূর্ণ গ্রামে। এক এক করে পাচটা মেয়ের জীবন নষ্ট হয়ে গেলো। তিহু মামুনির কথায় কিন্তু ফেলে দেওয়ার মতো না। আমরা যদি চুপচাপ বসে থাকি তাহলে আরো নিষ্পাপ মেয়েদের জীবন যাবে। "
তাহির সেকান্দারের কাধে হাত রেখে বললো,
" ভাইসাব আমার যে এখন আমার মাইয়ার জন্য ভয় হইতাছে। ও তো উড়নচণ্ডী, উড়ে বেড়াইতে পছন্দ করে। এহন যদি ওর কিছু হয় আমি বাচুম না। "
" কিচ্ছু হবে না তিহু মামুনির। তিহু মামুনি হচ্ছে সাহসী কন্যা। আমাদের মেয়ের সুরক্ষা আমাদের দিতে হবে তহির ভাই। "
★
তিতলি আনমনে মাঠের মাঝ দিয়ে হেঁটে আসছে। সন্ধ্যা নেমেছে বেশ অনেকক্ষণ আগেই। চারপাশ গুমোট হয়ে আছে। আকাশের বুক চিরে ক্ষণে ক্ষণে বিদ্যুৎ ঝলসে উঠছে, আর তার কিছুক্ষণ পরই গুরুম গুরুম শব্দে কেঁপে উঠছে চারদিক। তিতলি ধীর পায়ে হাঁটতে হাঁটতে একবার আকাশের দিকে তাকাল। এই দৃশ্য তার কাছে নতুন নয়। যখনই গ্রামের কোথাও কোনো কিশোরী মেয়ের লাশ পাওয়া যায়, ঠিক তখনই যেন আকাশও কান্নায় ভেঙে পড়ে। তুমুল বৃষ্টি নামে। তিতলি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বুকের ভেতর অজানা এক ভয় দানা বাঁধতে লাগল। সে দ্রুত পা চালিয়ে বাড়ির দিকে এগিয়ে গেল। বাড়ির আঙিনার কাছাকাছি আসতেই হঠাৎ কারও গলার আওয়াজ শুনে তিতলি থেমে গেল। সঙ্গে সঙ্গে পাশের আমগাছটির আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে ফেলল। কয়েকজন গ্রামবাসী কথা বলতে বলতে রাস্তা দিয়ে চলে যাচ্ছে। তিতলি গাছের আড়াল থেকে কান পেতে তাদের কথাগুলো শোনার চেষ্টা করল। আবছাভাবে একজনের আতঙ্কিত কণ্ঠ ভেসে এলো—
“আমাগো গেরামে কিশোরী মাইয়া আর কয়জনই বা বাকি আছে? হবগুলানেই মইরা গেছে। হাতে গোনা ছয়-সাতজন বাকি আছে। আল্লাহই ভালো জানে, সামনে কোন মাইয়ার পেরান যায়! আল্লাহ ভালো করছে, আমার ঘরে কোনো মাইয়া দেয় নাই।”
লোকটির কথার সঙ্গে সঙ্গে অন্যরাও নানা কথা বলতে লাগল। একসময় তাদের কণ্ঠস্বর ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল। এরই মধ্যে টুপটাপ করে বৃষ্টি নামতে শুরু করেছে। তিতলি কিছুক্ষণ নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইল। বুকের ভেতরটা কেমন যেন ভারী হয়ে এসেছে। অবশেষে গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে এলো সে। আকাশের দিকে তাকাতেই কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি এসে পড়ল তার মুখে। আর এক মুহূর্তও দেরি না করে স্কার্টটা একটু তুলে ধরে দৌড়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ল তিতলি। ফুলবানু বিকেলেই চলে এসেছে। বৃষ্টি নামছে দেখে উঠোন থেকে কাপড় নিচ্ছিলো। তিতলি দৌড়ে এসে ফুলবানুকে জড়িয়ে ধরলো। আচমকায় জড়িয়ে ধরায় ফুলবানু কিছুটা পিছিয়ে যায়। ফুলবানু তিতলির পিঠে হাত রেখে নরম গলায় ডেকে বললো,
" বইন কি হইছে তোর? "
তিতলি ফুলবানুকে জড়িয়ে ধরে বললো,
" দাদিজান আজকেও একটা মেয়ের লাশ পাওয়া গেছে। "
ফুলবানু কথাটা শুনে আতকে উঠলো। নাতনিকে বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বললো,
" চিন্তা করিস না বইন। সব ঠিক হইয়া যাইবো। তুই ভয় পাইস না কেমন। "
তিতলি ফুলবানুকে ছেড়ে সোজা হয়ে দাড়ালো। ফুলবানুর দুই গালে হাত রেখে তিতলি আত্ববিশ্বাস কন্ঠে বললো,
" দাদিজান আমি ভয় পাইনা। যেটা সত্য সেটাই করি। ভয় পেয়ে জীবন চলে না। ভয় পেয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে পারবোনা দাদিজান। "
ফুলবানু আতকে উঠে বললো,
" বইন কিছু করিস না বইন। তোর কিছু হইলে আমাগো কি হইবো? সব কিছুতে নিজেকে জরাইতে হয়না। "
তিতলি নিজের ঘরে যেতে যেতে বললো,
" আমাকে পাচ দশটা মেয়ের মতো ভেবো না দাদিজান। আমি তিতলি, সবার থেকে আলাদা। "
ফুলবানু ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকলো ফুলবানু নিজের কাজ সেরে ঘরের খিল দিয়ে বসে রইলো।
তিতলি পরনের ভেজা কাপড় ছেড়ে গোসল করে পরিষ্কার কাপড় গায়ে জড়িয়ে জানালার ধারে এসে বসে রইল। বাইরে তখন অবিরাম বৃষ্টি। টিনের চালে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো একটানা ঝরে পড়ে তৈরি করছে এক অদ্ভুত, ভূতুড়ে শব্দ। তার সঙ্গে মিশে আছে হিমশীতল বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ। তিতলি একদৃষ্টিতে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল। জানালার ফাঁক গলে আসা বৃষ্টির ছিটেফোঁটা কখন যে তার গাল আর চুল ভিজিয়ে দিচ্ছে, সেদিকে তার কোনো খেয়ালই নেই। প্রকৃতির সেই স্নিগ্ধ অথচ বিষণ্ণ রূপের মাঝে ডুবে গিয়ে সে যেন নিজের অজান্তেই হারিয়ে গেছে অন্য কোনো জগতে।
••••
রাতের বৃষ্টির পর যেনো গ্রামের পরিবেশকে আরো নিশ্চুপ করিয়ে দিয়েছে। তিতলি, পারুল, ময়না এক সাথে স্কুলে যাচ্ছিলো। ময়না, পারুল এই কথা ওই কথা বললেও তিতলি আজ নিশ্চুপ। যা পারুল আর ময়নার সহ্য হলো না। ময়না তিতলিকে মৃদু ঢাক্কা দিয়ে বললো,
" কিরে তিতলি কি হইছে তোর। আজ নিশ্চুপ কেন তুই? "
তিতলি নিজের ভাবনা থেকে বের হয়ে ময়না আর পারুলের উদ্দেশ্যে বললো,
" শোন এখন থেকে বুধবারে সন্ধ্যা নামার আগে একা একা কোথাও বের হবি না। কাওকে নিয়ে তারপর বের হবি বুঝলি। "
পারুল বুঝলো না তিতলির কথায়। তাই প্রশ্ন করলো,
" কে তিতলি কিছু হইছে? "
প্রশ্ন করায় তিতলি বিরক্ত হলো। তাই নাক মুখ কুচকে বললো,
" এতো বেশি প্রশ্ন করিস কেন? যা বলছি তাই করবি। গ্রামে থাকিস দেখোস কি হচ্ছে না হচ্ছে। কাল একটা লাশ পাওয়া গেছে। তাই এখন থেকে নিজেরা সাবধানে থাকবি। রাত্রে একা এক বের হবি না। "
পারুল আর ময়না এবার বুঝলো তিতলির কথা। তাই তিতলিকে আশ্বাস দিয়ে বললো,
" চিন্তা করিস না সই। তোর কথা আমরা রাখবো। নিজেরা সাবধানে থাকবো। "
তিতলি মিষ্টি হাসি উপহার দিলো। তিন বান্ধুবি মিলে চললো স্কুলের উদ্দেশ্যে।
★
চেয়ারম্যানের বাড়িতে আজ গ্রামবাসীদের ভিড় জমেছে। একের পর এক কিশোরী মেয়ের খুন হচ্ছে, অথচ কোনোভাবেই সেই হত্যাকাণ্ডের রহস্যের সমাধান হচ্ছে না। এভাবে আর কতদিন চলবে? গ্রামের নিষ্পাপ মেয়েগুলোর জীবন এভাবে আর কত ঝরে যাবে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আজ চেয়ারম্যানের বাড়িতে একত্র হয়েছে গ্রামের মানুষজন। তাদের সঙ্গে উপস্থিত হয়েছেন মেম্বারও।চেয়ারম্যান সবার কথা চুপচাপ শুনছিলেন। একসময় গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,
“আমি থানায় খবর দিয়েছি । পুলিশ তদন্ত করছে। কিন্তু আমরাও চুপ কইরা বসে থাকবো না। গ্রামের মেয়েগুলার নিজেদের৷ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। একা একানা বের হওয়াই ভালো। অপরিচিতদের সাথে দুরত্ব বজায় রাখা উত্তম। ”
তারমধ্যে এক পুরুষ বলে উঠলো,
" আমাগো মাইয়ার পেরান যাইতাছে আপনাগো মাইয়ার না। আপনারা শুধু কইয়াই যাইতাছেন সুরক্ষা ব্যবস্থা করতাছেন না। এক এক করে পাচটা মাইয়ার জীবন শেষ। যেদিন আপনার মাইউয়ার জীবন যাইবো হেদিন বুঝবেন মাইয়া হারানোর কতো কষ্ট। এহন বুঝবেন না। "
সেকান্দার আর কিছু বললো না। কি বলবে সে? ভুল কিছুতো আর বলে নাই। একেক করে গ্রামবাসীরা চলে গেলো।
★
বিকেলের দিকে তিতলি, ময়না, পারুল স্কুল থেকে ফিরছিলো গল্প করতে করতে। তখন বিহারের ডাক ভেসে এলো। তিতলি পিছন ফিরে দেখলো বিহার কালো রঙের পাঞ্জাবি পরে হেটে আসছে। তিতলি থমকে দাঁড়িয়ে রইলো। বিহার সামনে এগিয়ে এসে বললো,
" কি দেখছো? "
তিতলি সামনে হাটতে হাটতে বললো,
" কিছু না। ডাকলে যে! "
বিহার বললো,
" একটা সত্য কথা বলবে তিহু? "
তিতলি বিহারের দিকে তাকিয়ে বললো,
" তুমি আমায় তিহু বললে? "
" কেনো ডাকা যায় না বুঝি! "
" তা নয়, সেকান্দার কাকা শুধু আমায় তিহু বলে ডাকে। তাই আরকি। "
" স্কুলে গিয়েছিলে বুঝি? "
" জ্বী। "
" কিসে পড় এবার? "
" দশম শ্রেণীতে পড়ছি। সামনে মাধ্যমিক দিবো।"
" পড়াশোনা করো ঠিক মতো? "
তিতলি চোরা চোখে তাকিয়ে বললো,
" কেনো তুমি কী আমার পড়ার দায়িত্ব নিবে মাঝি? "
" নিয়েও পারি! "
" আচ্ছা মাঝি বলো কী কথা জানতে চাও? "
বিহার বুক ভরা শ্বাস নিয়ে বললো,
" গ্রামের লা/শ পাওয়া যাচ্ছে কবে থেকে? আর শুধু মেয়েদের কেনো? "
তিতলি দাঁড়িয়ে গেলো বিহারের প্রশ্নে। তিতলিকে দাড়াতে দেখে বিহারও দাঁড়িয়ে গেলো। তিতলি চারপাশ দেখে বললো,
“হাটো, বলছি আমি। আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে, সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ তারিখ। রোজ বুধবার। ঠিক সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে গ্রামের এক ছেলে ঢাকা থেকে এক অন্য ধর্মের মেয়েকে বিয়ে করে গ্রামে নিয়ে আসে। মেয়েটা হিন্দু ছিল। তবে ছেলেটার ভালোবাসার কারণে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাকে বিয়ে করেছিল। ছেলেটার নাম ছিল আসমান। জন্ম এই গ্রামেই, তবে পড়াশোনার জন্য সে ঢাকায় থাকত। আর মেয়েটার হিন্দু নাম ছিল মৃণালিনী। বিয়ের পর ইসলাম গ্রহণ করে সে আসমানের সঙ্গে গ্রামে ফিরে আসে। ওরা গ্রামে আসার পর খবরটা মুহূর্তের মধ্যেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন সেকান্দার কাকা আর আমার আব্বা পাশের গ্রামে একটা বিচারসভায় গিয়েছিল। কিন্তু তারা ফিরে আসার আগেই গ্রামের কিছু মানুষ মৃণালিনীকে ধরে ফেলে। তারপর... তাকে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়। মেয়েটার চিৎকারে সেদিন পুরো পরিবেশ গুমোট হয়ে গিয়েছিল। আসমানকে আটক করে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই ছেলেটা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। আজও সে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। মানুষ তাকে পাগল বলে। মৃণালিনীকে যখন আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছিল, তখন আসমান চিৎকার করে একটা কথা বলেছিল—‘এই গ্রামে কোনো কিশোরী মেয়ে থাকবে না। সবাই একে একে মরবে।’”
কথাটা শুনে বিহারের শরীর শিউরে উঠল।
“আর তারপর থেকেই শুরু হয় এই হত্যাকাণ্ড। প্রায় এক মাস ধরে, প্রতি বুধবার যেন মৃত্যুর ছায়া নেমে আসে গ্রামে। কোনো মেয়ের লাশ পাওয়া যায় জমিতে, কোনোটা নদীতে ভেসে ওঠে। আবার কখনো নিজের বাড়ির উঠোনেই পড়ে থাকে কোনো কিশোরীর নিথর দেহ।”
চারপাশের নীরবতা যেন আরও ভারী হয়ে উঠল। বিহার এতক্ষণ একটাও কথা বলতে পারল না। এত কিছু ঘটে গেছে এই গ্রামে—অথচ সে কিছুই জানত না! মৃণালিনী, আসমান, সেই আগুন, আর একের পর এক কিশোরীর মৃত্যু—সবকিছু যেন হঠাৎ করেই এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা মনে হলো তার কাছে। বিহার যেই না কিছু বলবে তখনি নজরে আসে এক বাছুর ছুটে আসছে। বিহার তা দেখে চোখ বড় বড় করে ফেলে। তিতলির পিছনি দাঁড়িয়ে বললো,
" তিহু এই গরুকে সরাও! "
তিতলি অবাক হলো বেশ। বাছুর এসসে থামলো তিতলির কাছে। তিতলি মাথায় হাত বুলিয়ে বিহারের উদ্দেশ্যে বললো,
" এতো বড় ছেলে হয়ে একটা বাছুরকে ভয় পাও? "
বিহার মাথা চুলকে বললো,
" ছোট বেলায় একটা গরু গুতো দিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছিলো। তারপর থেকেই ভয় লাগে। "
" চিন্তা করবেন না। আমার হাসি আপনাকে কিছুই করবে ন। "
বিহার একটু অবাক হলো। অবাকের স্বরে বললো,
" হাসি কে? "
" আমার গরুর নাম। "
" এটা তোমার গরু? "
" হ্যাঁ "
" গরুদের আবার নামও হয়? "
তিতলি বিহারের দিকে তাকিয়ে বললো,
" কেনো থাকে না? আমি রেখেছি কতো মিষ্টি একটা নাম। "
বিহার মুচকি হেসে মিনমিন করে বললো,
" তাতো হবেই। গরুর মালকিনই কতো মিষ্টি তার গরুর নাম আবার মিষ্টি হবে না! "
তিতলি ভ্রু কুচকে বললো,
“ কিছু বললে? “
“ কই নাতো! “
তিতলি হাসিকে আদর করে দিলে চলে যায়। এবার বিহারের দিকে তাকিয়ে বললো,
“ এবার আসি মাঝি। পরে দেখা হবে। “
কথা শেষ করে চলে যেতে নিলে বিহার পিছন ডেকে বললো,
“ তোমার সখা বানাবে তিহু রাণি? “
তিতলি পিছনে হাটতে হাটতে বললো,
“ এই তিতলি যাকে তাকে সখা বানায় না মাঝি! আমার সখা হতে হলে শর্ত আছে।”
“ কি শর্ত? “
তিতলি মুচকি হেসে বলল,
“আমায় নিয়ে নদীবিলাস করাইতে হবে। তুমি হবে মাঝি, আমি হবো তোমার নৌকার যাত্রী। নদীর বুকে ভাসতে ভাসতে তুমি বৈঠা বাইবা, আর আমি চুপচাপ বসে তোমার গান শুনবো। কেমন?”
বিহার হেসে বলল,
“বেশ, মেনে নিলাম।”
বিহারের উত্তর শুনে তিতলি খিলখিল করে হেসে উঠল।
চলবে……..🌷