#রাগে_অনুরাগে_তুমি // ২১ //
#ইসরাত_জাহান_এশা
রাত প্রায় ১১টার কাছাকাছি। বাইরে প্রবল ঝড়ো হাওয়া বইছে—যেকোনো মুহূর্তে বৃষ্টি নামবে মনে হচ্ছে। গাড়ির ব্যাক সিটে মুন্নি খেলছে, আর সামনে নীরা চুপচাপ বসে আছে তূর্যের কোলে। এখনও সে তূর্যের সঙ্গে একটা কথাও বলেনি। তূর্য বহুবার চেষ্টা করেছে কথা বলানোর, কিন্তু আফসোস—তার নুড়ি ফুলটা ভীষণ অভিমান করে আছে। তূর্য নিজের থুতনি নীরার কাঁধে রেখে নাক ঘষে আদুরে গলায় বলল—
—ও বউ, সরি বলেছি তো… কথা বলো তোমার সোয়ামির সাথে।
নীরা ঠান্ডা গলায় বলল—
—আমি কারোর বউ না।
তূর্য মুচকি হেসে বলল—
—তাহলে আমি কে?
—আমার বেয়াই।
—ও, তাই বুঝি?
—জ্বী।
—তাহলে চলেন বিয়াইন সাব, আবার কাজি অফিসে যাই। সেখানেই না হয় আবার বিয়ে করবো। আর সেখানেই আবার নাহয় আপনার মধু-সুধা পান করব… বিয়াইন থেকে বউ বানিয়ে ফেলব!
নীরা কটমট করে তাকালো। তূর্য চোখ টিপে নীরার ঘাড়ে নাক ঘষে একটা ছোট শুকনো চুমু দিল। তবুও নীরার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। প্রতিক্রিয়া নাপেয়ে তূর্য ঘাড় নামিয়ে নীরার গ্রীবাদেশে জোরে কামড় দিল।
নীরা ব্যাথাতুর আওয়াজ তুললো। । নীরা ব্যথায় চমকে উঠতেই পিছন থেকে মুন্নি বলে উঠল—
—আপুই, কী হইছে?
তূর্য ঠোঁট কামড়ে হাসি চেপে বলল—
—ও কিছু না, শালিকা।
মুন্নি আবার প্রশ্ন করল—
—আপুই চিচালে কেনু?
নীরা ভশ্য করে দেওয়ার মতো করে তূর্যের দিকে তাকালো। তারপর আমতা আমতা করে বলল—
—তেমন কিছু না রে বুড়ি… একটা বড় মোমাছি কামড় দিয়েছে।
শেষ কথাটা দাঁত চেপে বলতেই তূর্য আর ধরে রাখতে না পেরে হেসে উঠল।
★
চৌধুরী ভিলা একদম নিশ্চুপ। সোফায় বসে আছে নীরা মাথা নিচু করে রেখেছে। সবাই নীরাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। এমনকি নাহিয়ান ও । সেটুকু থাকলেও চলতো। সবার দেখাদেখি ছোট মুন্নিও কোমড় ধরে জহুরি চোখে তাকিয়ে আছে। একবার নীরাকে দেখছে তো আরেকবার তূর্য, আর লিপির দিকে তাকাচ্ছে। সবাই চুপ থাকতে দেখে আমেনা চৌধুরী গলা খাকারি দিয়ে বলে উঠলো।
" এই যে আমার এক মাত্র বউ মা, কাহিনি কী হুমম? "
নীরা শুধু তাকালো। আমেনা চৌধুরীর চোখ দেখে ভয়ে আবার মাথা নিচু করে দিলো। আমেনা চৌধুরী আবার ফের বললো
" গিয়েছিলেন কোথায় শুনি? "
নীরা এবার ভাবলো কী বলবে তার শ্বাশুড়িকে? যদি সত্যি বলে তাহলে তার স্বামী অপমান বোধ করবে। আর যদি শুনে তার স্বামী ভুল বুঝে ধমকে, অপমান করে বলেছে বাসা থেকে বের বেরিয়ে যেতে। এটা কী বলা যায়? উহু বলা যায় না। সেতো তার নিজের সম্মান। আর যদি শ্বাশুড়ি বকে তাছাড়া এটা তাদের স্বামী স্ত্রীর ব্যাপার। তাদের মধ্যে তো আর তৃতীয় ব্যাক্তিকে ঢুকানো উচিত না। সে হোক মা, বাবা, ভাই বোন, শ্বশুর, শাশুড়ি কাওকেই না। তাই দেনামনা করে আমতা আমতা করে বলল
" মা আসলে কী হইসে বলোতো। বাহিরে অনেক ঠান্ডা বাতাস বইছিলো। তাই বাগানে গিয়েছিলাম হাটতে। কিন্তু হাটতে হাটতে কখন যে মেইন রাস্তায় চলে গিয়েছি বুঝতেই পারি নি। আর রাত বারছিলো আমি রাস্তা হারিয়ে ফেলেছিলাম। একা একা কখনো তো যায় নি এর জন্য। "
আমেনা চৌধুরী জহুরী চোখে তাকিয়ে রইলো নীরার দিকে। বিশ্বাস করলো কী? উহু করেনি, তার বয়স তো আর এমনি এমনি বাড়েনি । চুল তো আর হাওয়ায় পাকে নি। তিনি ঠিক থাউর করতে পারলেন নীরা মিথ্যে বলছে। কিন্তু কেনো মিথ্যে বললো মেয়েটা ? তিনি আর ঘাটালেন না নীরাকে । চুপ করে গেলেন। শান্তু গলায় বললো
" এমন টা আর করবে না কেমন? "
নীরা মাথা নেরে সম্মতি দিয়ে মুখে বললো
" আচ্ছা মা "
নীরা সোফা থেকে দাঁড়িয়ে ঘরের দিকে চলে গেলো। কিন্তু পায়ে কাচ ঢুকার কারণে খুড়াতে খুড়াতে যাচ্ছিলো। আমেনা চৌধুরী তা দেখে আবার বললো
" নীরা পায়ে কী হয়েছে? "
নীরা থমকে দাঁড়ালো। কী বলবে সে এখন তার শ্বাশুড়িকে ? আমেনার দিকে ফিরে বললো
" মা রাস্তায় কাচ ছিলোয়ার আমি তো খালি পায়ে হাটছিলাম তাই সেখানেই পা কেটে গেসে। "
আমেনা চৌধুরী সেটাও অনায়সে ধরে ফেললো। আমেনা চৌধুরী তূর্যের দিকে তাকালো। তূর্য মাথা নিচু করে বসে রইলো । তার যা বোঝার বোঝা হয়ে গেলো। তাই তূর্যের দিকে তাকিয়ে বললো
"তূর্য "
তূর্য মাথা তুলে মায়ের দিকে তাকালো। আমেনা চৌধুরি বললো
" নীরাকে কোলে নিয়ে ঘরে যাও। পা কেটে গেসে এতো হাটা দরকার নেই। "
তূর্য সুন্দর বাধ্য ছেলের মতো বউকে কোলে নিলো মায়ের কথায়। যেনো মনে হলো ভাজা মাছ উলটে খেতে পারে না। মায়ের কথায় উঠে আর বসে। মায়ের বলার সাথে সাথে বউকে কোলে নিয়ে ঘরে চলে গেলো। কোলে নেওয়ার পর নীরা তূর্যের দিকে তাকালো না। মুখ ফিরিয়ে রেখেছে। এমনকি ধরলো না। তূর্য নীরা কে আরো জোড়ে চেপে ধরলো। তবুও কাজের কাজ হলো না। তূর্য হতাশার নিস্বাস ফেললো। কী যে করবে তার এই বউটাকে নিয়ে।
★
নীরা ঘরে গিয়ে কোনোদিকে না তাকিয়ে জামাকাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো। ধারাম করে দরজা লাগালো। তূর্য একটু চমকে উঠলো কিছুটা ভয় পেলো। চোখের পাতা বার বার ফেলে বুকে থুতু দিলো। তূর্য নিজেই নিজের কাটা হাত দিয়ে পুরো ঘর পরিষ্কার করলো। পরিষ্কার শেষে তূর্য শার্ট খুলে বিছানায় বসতেই নীরা বেরিয়ে এলো। তূর্য আর বিছানায় বসল না। উঠে গিয়ে নিজেও ফ্রেশ হওয়ার জন্য। তূর্য ওয়াশ রুম থেকে বের হওয়ার সময় ঘরে উকি দিলো। উকি দিয়ে দেখলো , নাহ তার রাগান্বিত বউজান ঘরে নেই। নিচে হয়তো। তাই তারাতারি ঘরে ঢুকে একটা টিশার্ট পরে নিচে গেলো। নিচে গিয়ে দেখলো তার আগ্নেয়গিরি বউ ছেলে আর সালিকে খাওয়াচ্ছে। তূর্য নিচে নেমে তার চেয়ারে বসে পরল। খাওয়ার জন্য। লিপি খাওয়া শেষ করে ঘরে চলে গিয়েছে। তূর্যকে খাবার দেওয়া হলে সে খাচ্ছে না। মূলত তার এখন একা খেতে ইচ্ছে করছে না। তাই নীরার দিকে তাকিয়ে বললো।
" নীরা খাবে না? "
নীরা প্রতিউত্তর দিলো না। তার বদলে আমেনা দিলো।
" ও খাবে তুমি খেয়ে নাও। বাচ্চাদের খাইয়ে নেক আগে। "
তুর্য বেশ বুঝতেই পারলো এটা নীরা ইচ্ছা করেই করছে। তাই দ্বীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে খাওয়া শুরু করলো কাটা হাত দিয়ে। সে বেশিক্ষন খেতে পারলো না। খাবে কী করে তার বউ যে খুব অভিমান করেছে। হাতের ব্যাথা বুকের ব্যাথা সব মিলি একাকার। দুই তিন লোকমা খেয়ে উপরে চলে গেলো। নীরা সবটাই লক্ষ্য করলো। কিন্তু কিছু বললো না।
★
তূর্য ঘরে গিয়ে পায়চারি করছে। আর ভাবছে বউয়ের অভিমান কী করে ভাঙ্গাবে। ভাবতে ভাবতে ডিভানে বসলো। কিছুক্ষন পর নীরা একটা প্লেটে খাবার এনে তূর্যের সামনে রাখলো। প্লেট রেখে হাত ধুয়ে এসে ভাত মাখিয়ে তূর্যের মুখের সামনে ধরলো। কিন্তু মুখে কিছুই বললো না। তূর্য আপন মনে তার বউয়ের হাতের ভাত খেতে ব্যাস্ত সে। তূর্য সুযোগ বুঝে নীরার হাতে কামড় দিলো। নীরা ব্যাথা পেলেও কিছুটি বললো না। তূর্যের খাওয়া শেষ হয়ে গেলে নীরা হাত ধুয়ে তূর্যের মুখ মুছিয়ে দিলো নিজের ওড়না দিয়ে। তারপর হাতে এন্টিসেপ্টিক ক্রিম লাগিয়ে দিলো। ক্রিম লাগানোর পর ,, নীরা প্লেট নিয়ে চলে যেতে নিলে তূর্য নীরার হাত টেনে ধরলো নীরা পিছন ফিরে তাকালো না। তূর্য ঢোক গিলে বলল
"ও বউ কোথায় যাচ্ছো। একটু বসো। "
নীরা হাত মুছরাতে মুছরাতে বললো
" হাত ছাড়ুন আমার। "
" ছাড়বো না "
" মেজাজ গরম করবেন না "
" আচ্ছা করবো না "
" আমার হাত ছাড়ুন ব্যাথা পাচ্ছি। বাচ্চারা একা ঘুমাচ্ছে যাবো আমি। "
তূর্য কপাল কুচকে বললো
" মানে অন্য ঘরে ঘুমাবে কেনো? "
" ইচ্ছা আমার "
এই বলে নিজের সর্ব শক্তি দিয়ে হাত ছাড়িয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো প্লেট নিয়ে। আর তূর্য রাগে নিজের চুল টানতে টানতে বললো
" ইয়া আল্লাহ দয়া করো আমাকে। আমার বউটার অভিমান কীভাবে ভাঙ্গাবো আমি। "
বলতে বলতে বাহিরে বৃষ্টি নামা শুরু করলো । বারান্দার পর্দা গুলো দাপড়াচ্ছে অনেক। তূর্য তাকিয়ে রইলো বাহিরে। আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল তার বউয়ের জন্য। কিন্তু তার বউয়ের আসার নাম নাই। তুর্য থাস করে শুয়ে পড়লো বিছানায়। কিন্তু ঘুম তো আর হানা দিচ্ছে না। দিবেই বা কী করে বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছে আর মনের বৃষ্টি হচ্ছে বউয়ের জন্য। কতক্ষণ এপাশ ওপাশ করে করে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো। ১২:৩৫ বাজছে। কোনো দেনা মনা না করে জোড়ে শ্বাস নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। প্রথমে লিপির পাশের ঘরে খালি ঘরে উকি দিলো দেখলো না বউতো এই ঘরে নেই। তাহলে কোথায়? কী মনে করে লিপির ঘরের সামনে দাঁড়ালো। ঘরে টোকা দিলো। লিপি ঘুমাতে জাচ্ছিলো। ভার্সিটির পরিক্ষা চলছে তাই একটু পড়ছিলো। ঘরের দরজায় টোকা পেয়ে একটু কপাল কুচকে তাকালো। এতো রাতে কে এলো। লিপি বিছানার দিকে তাকাতেই দেখলো নীরা মাঝে শুয়ে আছে আর মুন্নি, নাহিয়ান দুই জন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে আছে। লিপি বুঝলো কে এসেছে। তাই মুচকি হেসে দরজা খুলে দেখলো তূর্য দাঁড়িয়ে। যা ভেবেছিলো ঠিক তাই। তূর্য আমতা আমতা করে বললো,
" নীরা কী এই ঘরে আছে লিপি? "
লিপি মুচকি হেসে বললো
" হুম ভাইয়া অনেক্ষন আগেই এসেছে। এখন ঘুমাচ্ছে। "
এই বলে দরজার সামনে থেকে সরে দাঁড়ালো। তুর্য উকি মেরে দেখলো নীরা ঘাপটি মেরে শুয়ে আছে। তূর্য লিপিকে কিছু না বলে নীরাকে কোলে তুলে নিলো। নীরা ঘুমের মাঝেই তূর্যকে আকরে ধরলো। তূর্যের অজান্তেই মুখে হাসি ফুটলো। তূর্য লিপিকে দেখে বললো
" বাচ্চারা সাথে থাকলে তোর কোনো প্রব্লেম হবে না তো "
" কী যে বলো না ভাইয়া। ওদের সাথে থাকলে আমারই অনেক ভালো লাগবে। তুমি নিশ্চিত ভাবে যাও। "
তূর্য আর কিছু বললো না। ঘর থেকিয়ে বেরিয়ে গেলো। লিপি দরজা আটকে বিছানার মাঝখানে শুয়ে পরলো। ছোট ছোট বাচ্চাদের আগলে নিয়ে ঘুমিয়ে গেলো।
★
তূর্য নীরাকে নিয়ে ঘরে ভিতর নিয়ে গেলো না । নীরাকে নিয়ে সোজা চলে গেলো ছাদে। বৃষ্টির কোনা গুলো নীরাকে ভিজিয়ে দিলো। চোখের উপর পানির মতো কিছু পরতেই নীরা পিটপিট করে চোখ মেললো। চোখ খুলতেই তূর্যের ভিজা মুখ দেখলো। তূর্যের মুখে বৃষ্টির কোনা গুলো জমা হয়েছে। চুল থেকে পানির ফোটা গুলো নীরার মুখে পড়ছে। নীরা ফেল ফেল করে তাকিয়ে রইলো তার স্বামীর দিকে। আর তূর্য তাকিয়ে রইল তার প্রিয়তমার দিকে। নীরার কিছু মনে পরতেই নীরা রাগে বললো
" এটা কোন ধরণের অস্যভ্যতা? আপনি আমায় এখানে নিয়ে এসেছেন কেনো? "
" আমি অস্যভ্যতামো করছি? "
" অবশ্যই "
" তাহলে বেশ চলো অস্যভ্যতামো করি কেমন। "
এই বলে নীরার ঠোটে ঠোট লাগিয়ে দিলো। খুব সাবধানে তার প্রিয়তামার মধু সুধা পান করতে ব্যাস্ত। "
নীরার দম আটকে আসছে। উপর থেকে বৃষ্টির পানি। আর নিচে তার স্বামীর ছোট ভালোবাসা।
তূর্য এক সময় নীরাকে ছেড়ে দিলো। দুইজনেই ভিজে একাকার। নীরা তাকালো তূর্যের চোখের দিকে। বৃষ্টির মধ্যে তাকাতে পারছে না। তবুও তাকালো। নীরা এবার নিজেকে সামলাতে পারলো না ঝরঝর করে কেঁদে দিলো ঠোট বেকিয়ে। তূর্য নীরাকে আগলিয়ে নিলো। নীরা তূর্যকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো বুকে মুখ গুজে দিলো। পিঠের খাচটার গেঞ্জি খামচে ধরলো। তূর্য আটকালো না। কাঁদুক নায়া কতক্ষন পরে নাহয় আদর করে ভুলিয়ে দিবে। নীরার কান্না থেমেছে এখিন ফুপাচ্ছে। তূর্য এবার বললো
" নুড়ি ফুল "
নীরা চোখ তুলে তাকালো। তূর্যের দিকে তাকালো। কান্নার ফলে চোখ লাল হয়ে গেসে। নাকের পাটা লাল হয়ে উঠেছে। কান্নার সাথে বৃষ্টির পানির জন্য ঠান্ডায় কাপছে ঠোট জোড়া। তূর্য আবার ফিরে বললো
" ও নুড়ি ফুল "
" হুম "
" ও বউ কী করলে তোমার রাগ কমবে তোমার। অভিমান ভাঙ্গাতে পারবো। বলো না বউ। আমায় মাফ করো না বউ। আমার যে আর এই দহন শয্য হচ্ছে না। "
নীরা তূর্যের সাথে আর মিশে যেতে প্রগার চেষ্টা করছে। তূর্য আরো আগলিয়ে নিলো। নীরা এখনো ফুপাচ্ছে। ফুপাতে ফুপাতে বললো
" আমি আপনাকে অনেক ক্ষন আগেই মাফ করে দিয়েছি। আমার না খুব কষ্ট হচ্ছে নাহিয়ানের বাবা। আনার বুক টা না খুব ব্যাথা করছে নাহিয়ানের বাবা। আপনি কেনো আমায় বুঝলেন না। "
তূর্যের বুকটা ভারি হয়ে উঠলো। তূর্য নীরার কপালে কপাল থেকিয়ে বললো
" অনেক কষ্ট দিয়েছি আমি ফুল। "
"হ্যা খুব কষ্ট দিয়েছেন "
" বুকে অনেক ব্যাথা হচ্ছে "
নীরা বাচ্চাদের মতো মাথা উপর নিচ করলো। হাত দিয়ে বুকের বাম পাশে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বললো
" এ- এখানে না খুব ব্যাথা হচ্ছে। কেমন দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার। "
তূর্য তাকালো তার ফুলের দিকে। কীভাবে বাচ্চাদের মতো অভিযোগ জানালো। তূর্য মাথা নিচু করে গলা আর বুকের মাঝেতেই ছোট ছোট চুমু দিলো। তূর্য নীরাকে কোলে রাখা অবস্থায় নীরার গলার ভাজে মুখ ডুবিয়ে বললো
" বিশ্বাস করো পাখি। আমি আর এমনটা করবো না। আমার তখন মাথা কাজ করছিলো না। আ.. "
তুর্যকে আর কিছু বলতে দিলো না। নীরা তূর্যের কানের কাছে মুখ নিয়ে বললো,
" চুপ একদম চুপ আর একটা কথাও না। আমি জানি সব আর বলতে হবে না। ঘরে চলুন জ্বর আসবে নাহয়। "
তূর্য মাথা তুলে তাকালো তার ফুলের দিকে। কপালে একটা চুমু দিয়ে বললো।
" ভালো বাসি আমি আমার নুড়ি ফুলকে। "
" আমিও ভালোবাসি আমি আমার পুচকুর আব্বুকে "
পুচকুর আব্বু সম্মন্ধে কিছুটা অবাক হলো। অবাক মিশ্রিত কন্ঠে বললো,
" পুচকুর আব্বু মানে। "
নীরার দুই হাত তূর্যের গলায় রাখলো। মুখে দুষ্টু হেসে বললো
" আমার ফিউচার বেবির কথা বলেছি আমার সোয়ামি। "
তূর্য হাসলো। নীরা একটু থেমে আবার বললো
" আপনার আগমনটা ছিলো আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর তম অধ্যায়। আপনি ছাড়া আমি অসম্পুর্ন। "
তূর্য অমায়িক হাসলো বউয়ের কথায়। তার আর কী লাগে। এমন বউ যার আছে সে কী আর খারাপ থাকতে পারে।
চলবে.........