ফন্ট সাইজ:
থিম:
রাগে অনুরাগে তুমি

২৬তম পর্ব

লেখক: ইসরাত জাহান এশা

#রাগে_অনুরাগে_তুমি [ ২৪ ]

#ইসরাত_জাহান_এশা

.

বিকেল পরেছে সূর্য পশ্চিমে হেলে পরবে। পাখিরা ডানা ঝাপটাছে, কোনো পাখি এখনি নীরে ফিরছে। রাস্তায় গাড়ির হর্ন, লোকজনের ভিড়, ফুটপাতে দোকানপাট, রেস্টুরেন্টে খাবারের গন্ধ, আকাশে সিগন্যালের আলো... একটা ব্যস্ত, উষ্ণ পরিবেশ। শহরের মানুষজন কাজ শেষে বাড়ি ফিরছে, কেউ কেউ আড্ডা দিচ্ছে, কেউ বা শপিং করছে। হঠাৎ করে শহরের কোলেজুড়ে একটা রোমান্টিকতা নেমে আসে, লাভার্সরা হাতে হাত রেখে হাঁটছে, বন্ধুরা আড্ডা দিচ্ছে, পরিবারগুলো একসাথে সময় কাটাচ্ছে... শহরের বিকেলটা জীবন্ত হয়ে ওঠে।

নীরা ক্লাসে বসে আছে যতটা নার্ভাস নিয়ে ক্লাসে এসেছিলো। ততটাও নার্ভাস নিয়ে ক্লাস করেনি। বেশ ভালোই করেছে। দুইটা মেয়ের সাথেই ফ্রেন্ডশিপ হয়েছে। শুধু দুইটা কেনো নীরা যাদের সাথে মিশবে তাদের সাথেই ফ্রেন্ডশিপ হয়ে যাবে। মিশুক মেয়ে যে। নীরা এখন আপাতত ক্লাসে বসে আড্ডা দিচ্ছে তার নতুন বান্ধুবির সাথে। তাদের মধ্যে ইরা বলে উঠে

“ হে রে তোকে সখি বলবো নাকি বইনা বলবো? “

“ যেটা খুশি সেটাই বলবি “

কী ভাবছেন প্রথমদিনেই তুই। এটা হওয়া যায়? হ্যাঁ হওয়া এই মেয়েদের ধারা হয়ে হয়। ইরা নীরা তাদের নামটাও যে অনেকটাই মিল। শুধু ❝ই ন❞ টাই অমিল। ইরা মেয়েটিও খুব মিশুক, মিষ্টি একটা মেয়ে খুবি চঞ্চল । এক চড়ুই যদি আরেক চড়ুই কে সাথি হিসেবে পায় তাহলেতো চঞ্চল গিরি বারবেই। শান্ত থাকা যায় বুঝি উহু থাকা যায় না। এই দুই নারিও শান্তু থাকতে পারেনি তাদের গল্পের ঝুরি নিয়ে বসেছে। তাদের এই গল্পে বেচারি তমা গালে হাত দিয়ে বসে আছে । সে মুলত খুবি শান্ত প্রকৃতির মেয়ে বেশি কথা বলে না। নীরা ইরার সাথে কথা বলে তার মনে হলো মেয়ে দুটো খুব ভালো হ্যাঁ বেশি কথা বলে তাতে কি মানিয়ে নিবো। এছারা দুইটা মেয়ের ব্যবহার খুবি অমায়িক। তমাকে গালে হাত দিয়ে বসে থাকতে দেখে নীরা খুচো দিয়ে বলল

“ কী হয়েছে মুড অফ কেনো । নাকি তুই করে বলেছি দেখে রাগ করা হয়েছে আমার উপর কোনটা। “

তমা নীরার পানে তাকায়। উত্তরের আসায় চেয়ে আছে তার দিকে। তমার বেশ লাগলো মেয়েটাকে। তমা নীরার গাল টেনে বললো

“ নারে চড়ুই কিছু হয় নি আমার। আমি তোদের কথা শুনছিলাম বুঝলি। আর বন্ধুত্বের মধ্যে তুমি জিনিসটা আনবি না তুই ঠিক আছে। “

নীরা অমায়িক হেসে তমাকে জড়িয়ে ধরে বললো

“ বেশ তাই হবে “

ইরা মুখ ফুলিয়ে বললো

“ বাহ বাহ কী সুন্দর বন্ধুত্ব আমার চক্ষুদ্বয় জুড়াইয়া গেলো। “

এই বলে মুখ বাকায়। নীরা তমা হেসে ফেললো। ওদের হাসিতে ইরাও হেসে ফেলে। অন্য কেও দেখলে ভাববে জনম জনম ধরে পরিচিত ওরা। নীরা এবার আমতা আমতা করে বললো

“ আমি যাই কেমন আমার উনি চলে আসবে। “

ইরা ব্রু নাচিয়ে বললো

“ হুম এখন তো আবার তোর উনি আসবে। আহা কী মাখো মাখো প্রেম। বউকে ক্লাসে দিয়ে যাওয়ার সময় চুমু দিয়েছে। এখন তো আপনার উনির কথা মনে পরবেই। “

নীরা লজ্জা পায়। চুমুর বিষয় টা তমা, ইরা দেখেছে। তখন থেকে তাদের কথা বার্তা। কিছুক্ষণ পর পর ইরা খোচা মারতে ভুলে না। আর নীরা লজ্জায় মিইয়ে যায়।

তূর্য লাইট ব্লু শার্ট হাতা গুটিয়ে রেখেছে কুনুই পর্যন্ত। , কালো জিন্স, চোখে চশমা কপাল কুচকে তাকিতে আছে ফোনের দিকে। অপেক্ষা করছে বোন আর তার নুড়ি ফুলের জন্য। ধানমণ্ডি থেকে সোজা বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসেছে। চিন্তায় আছে নীরা কে নিয়ে। মেয়েটি ভালোভাবে ক্লাস করতে পেরেছে তো। আর ওদিকে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে এক মেয়ে একদম গালে হাত দিয়ে। মেয়েটি তূর্যর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে পাশে থাকা বান্ধুবিকে বললো

“ দোস্ত ছেলেটা কী হেন্ডসাম I like him. মারাত্মক সুন্দর ছেলেটি। “

“তোর পছন্দ হয়েছে বুঝি “

“ভিষণ “

নীরাও ক্লাস থেকে বেরিয়ে দেখতে পেয়েছিলো তূর্যকে। তূর্যর দিকে তাকিয়ে থাকা মেয়ের দিকেও নজর পরে নীরার। রাগ হয় ভিষণ । এভাবে সেজে গুজে আসার দরকার কী। রাগে নাকের পাটা গুলে উঠে। তূর্য একটু উপরে তাকাতেই দেখে তার বউ রেগে আছে। আর একটা মেয়ে তাকে গিলে খাচ্ছে। তূর্য বাকা হাসে। মনে মনে বলে “ বউকে একটু জ্বালালে মন্দ হয় না। “

সে আবারো ফোনে চোখ নিবন্ধন করে। মেয়েটি তূর্যের কাছে যায়। তূর্যের দিকে হাত বাড়িয়ে বলে।

“ হ্যালো আই এম অলিন্দা। "

তূর্য গম্ভীর মুখে তাকায়। হাত না বাড়িয়েই বলে,

" তূর্য চৌধুরী "

অলিন্দা হাত গুটিয়ে নেয়। কিছুটা অপমানিত বোধ করে। সেটায় গুরুত্ব দেয় না। ভয় কাটিয়ে বললো,

" কিছু কথা ছিলো বলতে পারি? "

"বলুন "

"আমি সেকেন্ড ইয়ারে আছি। আমি সোজাসাপটা বলছি। আপনাকে আমার ভিষণ ভালো লেগেছে। আমি আপনায় পছন্দ করি। “

তূর্য বলার আগে নীরার দিকে এক পলক তাকালো। নীরার রাগে ফুসে উঠছে। তূর্যর হাসি পায় কিন্তু হাসে না। একটু নাহয় জ্বলুক। লিপি ক্লাস থেকে বেরিয়েছে ভাই দেখে দ্রুত আসে। তূর্য অলিন্দার দিকে তাকিয়ে বলে

“ লিসেন মেয়ে, ওই যে মেয়েটা দেখছেন। সে অলরেডি আমার বুকে রাজ্যত্ব করছে। তার রাজপ্রাসাদে আমি প্রজা। আমার বেগম সাহেবার আদেশ ছাড়া অন্য মেয়ে নিকটে যাওয়া আমার বুকে সাহস নেই। আর ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন আমার একটা ৫ বছরের ছেলে আছে। “

লিপি তাকিয়ে আছে। কি হয়েছে বুঝতে পারছে না। অলিন্দার দিকে তাকাতেই দেখে চোখের কটোরে পানি চিকচিক। লিপি তূর্যের উদ্দেশ্যে বলে,

“ ভাইয়া কিছু হয়েছে। অলিন্দা কিছু বলেছে। “

তূর্য লিপির দিকে তাকিয়ে মাথা দুই পাশে নারে। নীরা ধুপধাপ পা ফেলে চলে যায়। দাঁড়ায় না শুধু অলিন্দার দিকে ভস্য করে দেওয়ার মতো তাকিয়ে থাকে। অলিন্দাও তাকায় নীরার দিকে। অলিন্দা কিছুটা ঘাবরে যায়। যেনো চোখ দিয়েই বলে দিচ্ছে __ শাকচুন্নি তোকে পড়ে দেখছি। আমার রাজার দিকে নজর দেওয়া_____। লিপি যা বোঝার বোঝা হয়ে গেসে। মুচকি হেসে বললো

“ ভাইয়া শি ইজ জেইলাস। “

“ একদম “

“সামলাও তোমার রাগান্বিত বউকে। আর হে আমি সম্পুর্ন ভাবির পক্ষে তুমি কে চিনি না “

এই ভাবি ভাবি বলতে বলতে নীরার কাছে চলে গেলো। তূর্য উঠে বসলো। ধীর গতিতে আগাচ্ছে।

নীরার মুখ এখনো রাগে ফুলে আছে। পণ করে নিয়েছে কথা বলবে না তার গোমরামুখোর সাথে। অন্য মেয়ের সাথে হাসা হাসি। লিপি এসে আরো উসকে দিয়ে বলছে

“ ভাবি তুমি ফুলে থাকো কথা বলবে না। ভাইয়ার সাহস কতো বড় এতো সুন্দর একটা বউ রেখে আবার অন্য মেয়ের সাথে কথা বলে। তুমি একদম ঠিক কাজ করছো “

তূর্য গাড়িতে বসে থেকেই সব কথা শুনে। হাসে মুচকি। মেয়েটা যে তার প্রতি অনেক ডমিনয়ন। তূর্য গাড়ি চালিয়ে ওদের সামনে গিয়ে কঠোর গলায় বললো

" গাড়িতে না উঠলে দুটো কে গাড়ির নিচে পিসে মারবো। "

লিপি আর নীরা কিছুটা ভয় পায়। কিন্তু মুখে প্রকাশ করে না। দুইজনেই গাড়িতে উঠে। নীরা পিছনেই বসেছে। তূর্য লুকিং গ্লাসে তার ফুলকে দেখে নিলো একবার। গরমে গাল লাল আভা ধারণ করেছে, ঠোঁটে এখনো সকালের লিপ বামের হালকা গোলাপি আভা রয়েছে। রাগের কারণে নাকের পাটা লাল। বেশ লাগছে । মনে চাচ্ছে নাক টায় কামড় দিয়ে খেয়ে নেই পুরোই স্ট্রবেরি।

★

গোধুলি লগ্নে নরম আলো ছড়িয়ে পড়ে আকাশের বুকে,। রাঙা সূর্যের শেষ হাসি মিশে যায় সোনালি মেঘের ফাঁকে। ধীরে ধীরে দিন ফুরিয়ে আসে, ক্লান্ত সময় থমকে দাঁড়ায়। পাখিরা ফিরে আসে আপন নীড়ে, ডানায় ভর করে হাজারো গল্প গাঁথায়। হালকা বাতাস ছুঁয়ে যায় মন, আনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি গোধুলির রঙে মিশে থাকে জীবনের নরম একান্ততা আর শান্তি। এই সময়টা যেন স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝামাঝি কোনো পথ, যেখানে হারিয়ে যেতে চায় মন, ভুলে সব দুঃখ-কষ্ট। গোধুলি লগ্ন মানেই এক অদ্ভুত মায়া, এক কোমল অনুভব, দিনের শেষে হৃদয়ে জাগায় নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্নের রঙিন রব।

তূর্য ডিভানে বসে অফিসের কাজ করছে। মুন্নি আর নাহিয়ান ফোনে রুপাঞ্জেল কার্টুন দেখিছে আর কথা কাটাকাটি করছে। নীরা পড়ার টেবিলে বসে আছে। ক্লাসে কিছু CQ দিয়েছে বলা হয়েছে নিজ বুদ্ধিতে ফিলাপ করতে। নীরা সেটাই করছে আসে পাশে কী হচ্ছে সেটা দেখার প্রয়োজন মনে করছে না।

মুন্নি ছোট ছোট পায়ে গুটি গুটি করে হেটে তূর্যর কাছে যায়। তূর্যর হাটু ধরে ডিভানে উঠে বসে। কিছুক্ষন কুটুর কুটুর চোখে তাকিয়ে রইলো। তূর্য বুঝতে পেরে ল্যাপটপ টি-টেবিলে রেখে মুন্নিকে পায়ের উরুতে বসিয়ে ফোলা ফোলা গালে চুমু খেয়ে বললো।

" শালিকা কিছু বলবা "

মুন্নি মাথা উপর নিচ করে বুঝালো।

" বলো "

" তুনাবাই আমি বিয়া করমু "

তূর্য চোখ বড় করে বললো

" কী বললে "

" বিয়ে করমু "

" এই ধানি লঙ্কা বয়স কতো তোর। তুই যে এখন বিয়ে করতে চাস। "

" তানি না তো "

" সময় হলে আমার শালিকাকে বিয়ে দিবো। "

" কবে তময় হবে "

" অনেক দেরিতে "

" এতো দেলি কেনু হবে "

তূর্য পুনরায় গালে চুমু খেয়ে বললো

" কারণ আমার ধানি লঙ্কা অনেক ছোট। বড় হলে একটা রাজ পুত্রের সাথে বিয়ে দিবো। ঘোরায় চরে বিয়ে করতে আসবে। "

" তত্তি "

" তিন সত্যি "

"লুপান্তেল এর বর ইতুজিন পিতজহারবাত

(রুপাঞ্জেল এর বর ইউজিন ফিটজহারবার্ট)

এর মতু

তূর্য বুঝতে পারে না। লুপাঞ্জেল বলাতে বুঝতে পারে। তূর্য হেসে মাথা দুলায় অর্থাৎ আসবে। মুন্নি খুশিতে হাত তালি দেয়। নাহিয়ান এতক্ষন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলো বিয়ের কথা উঠতেই এগিয়ে আসে বাবার কাছে। বাবার পাশে বসে বললো

" বাবা এই মুন্নি কি বাদনাম হুয়ির বিয়ে দিবে? "

তূর্য কিছু বলার আগেই মুন্নি বলে

" এই পতা চেলে, আমাল নাম মুন্নি। তুমি কেনু বুলছু মুন্নি কি পাতনাম উহি "

" এই মুন্নি চুন্নি, আগে উচ্চারন ঠিক করে বলো। পাতনাম বলছো কেনো। পাত কি তুমি জানো। "

" হি আমি তানি পাত কি "

" বলো পাত কী "

অবস্থা ব্যগতিক দেখে তূর্য দুইজনকেই শান্ত হতে বলে। তারা তো সাপে নেউলের মতো লেগে থাকেই। একটু খোঁচা দিতে দেরি মারামারি করতে দেরি হয় না তাদের। নীরা সব কথাই শুনেছে আর মুচকি মুচকি হেসেছে। মুন্নি রাগ করে মুখ ফুলিয়ে রেখেছে। নাহিয়ান ও হাত বুকে গুজে রেখেছে। তূর্য ব্রু কুচকে তাকায় দুটোর দিকে। এটুকুনি বয়সে এতো রাগ। বড় হলে কী হবে কে জানে। আল্লাহ মালুম।

★

রাত নেমে এসেছে। বাহিয়ে ঠান্ডা হাওয়া বইয়ে খুব শীতল। বৃষ্টি নামবে না আকাশে বড় গোলাকার চাঁদ উঠেছে তারা ঝলমল করছে।

খাবারের টেবিলে বসে আছে সবাই। নীরা নাহিয়ান আর মুন্নিকে খাইয়ে দিচ্ছে। আমেনা চৌধুরীর পানে চায়। আসার পর থেকে মুখ থমথমে করে রেখেছে। তেমন কথা বলেনি। আমেনা গলা খাকারি দিয়ে বললো

" তূর্য তোমার ছোট চাচা ফোন দিয়েছে। ঊষার বিয়ে ঠিক হয়েছে। যেতে বলেছে আমাদের আর তোমার দাদিও তার নাত বউকে দেখতে চেয়েছে। "

তূর্য সব শুনে বললো

" বিয়ে কবে "

" সামনে সপ্তাহ "

" কাল তোমায় সিওর হয়ে জানাচ্ছি মা। অফিসে অনেক কাজ। "

" হুম তুমি সময় বের করো। এই সপ্তাহ শেষ হতে আর মাত্র ৪ দিন বাকি। "

" আচ্ছা মা। "

নাহিয়ান আর মুন্নি সব কথা শুনলো। ঘুরতে যাবে বলে খুশিতে আত্নহারা হয়ে গেলো। মুন্নি তূর্যর উদ্দেশ্যে বললো

" তুন বাই আমালে নিবা না "

তূর্য মুন্নির মাথায় হাত বুলিয়ে বললো

" হ্যা ধানি লঙ্কা নিয়ে যাবো। "

মুন্নি খুশি হয় খুব। নীরা হাসে বোনের হাসিতে। তূর্য সেই হাসি টা দেখে মনে ভালো লাগা কাজ করে। সেই কোন বেলায় তার নুড়ি ফুলের হাসি দেখেছিলো। নীরা বুঝতে পারে তার দিকে এক জোরা চোখ পর্যবেক্ষণ করছে। বুঝতে পেরেই হাসি মুখ থেকে গম্ভীর মুখ করে নেয়। তূর্যের মুখ আবার চুপসে যায়।

নীরা খাবার শেষ করে ঘরে গিয়ে দেখলো তূর্য ফোন ঘাটছে। ঘরে বাচ্চারা নেই। তূর্য এক পলক তাকায়। নীরা ঘর থেকে বেরিয়ে যায় বাচ্চাদের খোঁজে । লিপির ঘরে উকি দিয়ে দেখলো বাচ্চারা গল্পে মগ্ন হয়ে আছে। নীরা আর কিছু বলে না । নীরা ঘরে না গিয়ে শ্বাশুড়ির ঘরে যায়। আমেনা চৌধুরী চোখে চশমা পড়ে ম্যাগাজিন পরছে। আমেনা চৌধুরী ভিষণ শখিন মানুষ। তার টেবিল ভর্তি ম্যাগাজিনের বই। দরজার বাহিরে দাঁড়িয়ে আমেনার উদ্দেশ্যে বললো

" মা আসবো "

আমেনা চোখ তুলে তাকাল নীরা পানে। বই বন্ধ করে বললো

" আয় ভিতরে অনুমতি নিচ্ছিস কেনো। "

নীরা গিয়ে আমেনার কোলে মাথা রেখে বললো

" আজ তোমার কাছে ঘুমাই। ভিষণ মা মা পাচ্ছে আমার। "

আমেনা মুচকি হাসে নীরার কথায়। মেয়েটা ভিষণ আদুরে। কপালে চুমু দিয়ে বললো

" ঘুমা মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি। "

নীরাও আবেশে চোখ বন্ধ করে নেয়। আমেনা সযত্নে নীরাকে আগলিয়ে নেয়। মেয়েটাকে সেও ভালোবাসে। এত মিষ্টি আর চঞ্চল মেয়েকে না ভালোবেসে উপায় আছে।

........

পেরিয়ে যায় অনেক ক্ষণ নীরা ঘরে আসে না। তূর্য এবার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে ১২:১০ মিনিট নীরার আসার নাম নেই। কোথায় গেলো? আসছে না কেনো? সে কি জানে না নীরার বুকে মাথা না রাখলে ঘুম আসে না। অভ্যাসে পরিণয় হয়ে গিয়েছে। তূর্য আর এক মুহুর্ত দাড়ায় না বিছানা থেকে তরাগ করে উঠে বাহিরে গেলো একে একে রান্নাঘর ড্রয়িংরুম, লিপির রুম চেক করলো। না নীরা তো কোথাও নেই। তূর্য কি মনে করে আমেনার ঘরে গেলো দরজা মেলা ছিলো। ভিতরে প্রবেশ করে দেখলো নীরা আমেনার বুকে মুখ লুকিয়ে ঘুমাচ্ছে। আমেনা নীরার চুলে হাত দেওয়া এখনো। তূর্যর কপাল সিঠিল হয় না। বউয়ের জন্য অপেক্ষা করছে আর বউ কিনা তার শ্বাশুড়ির সাথে ঘুমচ্ছে। এটা হতে দেওয়া যায় না। তাই আগ পাছ না ভেবে নীরাকে পাজা কোলে তুলে নেয়। এক পলক মায়ের দিকে তাকিয়ে হন হনিয়ে চলে যায়। তূর্য চলে যেতে আমেনা চোখ খুলে। মুলত সেই দরজা খুলে রেখেছে। জানে তার ছেলে আসবে। সেতো মা তার ছেলের খবর সে আবার না জানবে। আমেনা এবার চাদরে নিজেকে আবৃত করে ঘুমিয়ে পড়ে।

তূর্য নীরাকে কোলে করে এনে বিছানায় শুয়ে দেয়। লাইট অফ করে ড্রিম লাইট জ্বালিয়ে দেয়। নীরার কাছে গিয়ে গলার ওড়না সরিয়ে দেয়। দু চোখে, ফুলো ফুলো গালে, কপালে, থুতনি, নাকে, ঠোটে শুকনো চুমু খায়। নাকে আলতো করে কামড় দেয়। তূর্য নীরার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে যায়। বাহিরে শীতল হাওয়া আর ঘরের ভিতর শিতল দুটি দেহ আরামে ঘুমচ্ছে।

চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন