#রাগে_অনুরাগে_তুমি |৩১|
#ইসরাত_জাহান_এশা
স্নিগ্ধ সকালের এক অপূর্ব মাধুর্য আছে—যেন প্রকৃতি নিজেই ধীরে ধীরে জেগে উঠছে। ভোরের নরম আলো আকাশ জুড়ে মৃদু রঙ ছড়িয়ে দেয়, আর শিশিরভেজা ঘাসে পা রাখলেই মনে হয় যেন ঠান্ডা মায়ার ছোঁয়া লাগছে। চারদিকে হালকা কুয়াশার পর্দা, গাছের পাতায় জমে থাকা ছোট ছোট জলবিন্দু সূর্যের আলোয় ঝিলমিল করে ওঠে। পাখিদের কিচিরমিচির ডাক নীরবতাকে ভেঙে এক মিষ্টি সুর তৈরি করে, দূরে কোথাও গরুর ঘণ্টার টুংটাং শব্দ শোনা যায়। হালকা বাতাসে ভেসে আসে মাটির সোঁদা গন্ধ, যা মনকে এক অদ্ভুত শান্তিতে ভরিয়ে দেয়। এই সময়টা যেন ব্যস্ততার আগের এক প্রশান্ত বিরতি—যেখানে সবকিছুই ধীর, কোমল আর স্বস্তিময়।
নীরা সকালে ঘুম ভাঙতেই অনুভব করলো তাকে কেউ আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে আছে। নীরা চোখ খুলেই দেখলো তূর্য নীরার পেট থেকে শাড়ি সরিয়ে সেখানে মুখ গুজে রেখে ঘুমাচ্ছে। উত্তপ্ত নিশ্বাসের কারণে নীরার শরীরে আলাদা শিহরণ বইয়ে চলছে। নীরা তূর্য কে ডাকলো না পেট থেকে মাথা সরিয়ে বালিশে শুইয়ে দিলো। উঠে চলে গেলো ফ্রেশ হতে।
….
নীরা ফজরের কাজা নামাজ শেষ করে নিচে নামলো। সবাই উঠে গেসে কিন্তু নীরা সবার দেরিতে উঠেছে। চোখ ঘুরিয়ে আমেনা চৌধুরীকে খুজছে। অবন্তী নীরার কাছে এসে বললো
“ বড় ভাবি দিন দিন কী তুমি ছোট হচ্ছো? “
এহেন প্রশ্নে নীরা কিছুটা ঘাবরে যায়। মনে মনে ভাবছে আজকে লেট করে উঠাতে হয়তো এই কথা বলছে। আমতা আমতা করে বললো
“ আসলে একটু দেরি হয়ে গেলো “
“ সমস্যা নেই তো ভাবি। একটু পর আমরা আয়োজন করবো হলুদের জন্য। বাহিরে সাজানোর জন্য লোক এসেছে। “
পাশ থেকে রুশা বললো। কোলে তার আট মাসের মেয়ে বর্ষা। মেয়েটা কাদছে সকাল থেকে কারোর কোলেই যাচ্ছে না। নীরা রুশার কাছে গিয়ে বললো
“ বুবু বাবুর কী হয়েছে কাদছে কেনো? “
“ আর বলোনা ভাবি সকাল থেকে তার সেনের বাশি বাজাচ্ছে থামছেই না। বিয়ের বাড়িতে কতো কাজ বলোতো। কারোর কোলেই যাচ্ছে না। সকাল থেকে খাচ্ছে না। ওর আব্বুও বাহিরে কাজ করছে। “
নীরা বর্ষাকে নিজের কোলে নিয়ে বললো
“ মনে তো হয় না খেয়েছো সকালে। যাও খেয়ে নাও, আমি রাখছি। “
রুশা একটু সস্থির নিশ্বাস ফেললো। তারপর বললো
“ ভাবি তাহলে একটু রাখো। আমি খেয়ে আসি তারপর ওরে ওর বাপের কাছে দিয়ে আসবো। “
নীরা হেসে বললো,
“ সমস্যা নেই বুবু তুমি যাও আমি আছি। “
রুশা মুচকি হেসে চলে গেলো। নীরা বর্ষাকে নিয়ে হাটাহাটি করছে রিনরিন গলায় বিরবির করে কথা বলছে। যা বর্ষা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছে। কান্না তো সেই কখন পালিয়েছে। কথা শুনছে আর ফোকলা দাঁতে হাসছে। নীরা ওর মুখে একটু একটু করে সুজি দিচ্ছে আর কথা বলছে। বর্ষাও লক্ষি মেয়ের মতো খাচ্ছে। খাওয়া শেষ হলে নীরা বর্ষাকে সোজা করে নিলো। পিঠে হালকা হাতে চাপ্পড় দিলো যেনো ঘুমিয়ে পড়ে। একটু পর ঘুমিয়ে পরলো। নীরা বর্ষার দিকে অপলক চোখে তাকিয়ে রইলো। কিছুক্ষণ পর পর গালে নাকে লাল টক্টকে ঠোটে হাত বুলাচ্ছে। ছোট ছোট হাতে চুমু দিচ্ছে। আর আপন মনে হাসছে। তার ও তো খুব শখ এমন ছোট একটা পুতুলের জন্ম দিতে। তার গর্ভে ধারণ করতে। ভাবছে আর হাসছে। তখনি রুশা এসে দেখলো তার মেয়ে ঘুমিয়ে পরেছে। আর তার দিকে তাকিয়ে হাসছে নীরা। রুশা নীরার পাশে বসে। নীরার বাহুতে থুতনি ঠেকিয়ে বললো
“ ভাবি ঘুমিয়ে পড়েছে “
নীরা হেসে বললো,
“ হুম ঘুমিয়েছে আর সাথে লক্ষি বাচ্চার মতো খেয়েছে। ওর তোমায় পছন্দ করে নি বুবু। সে তার বড় চাচিকে পছন্দ করেছে তাই কান্নাকাটি করে নি। “
“ হ্যাঁ সেটাই তো দেখছি। একটা কাজ করো নিয়ে যাও একে। “
“ আচ্ছা প্যাকেট করে দিয়ো “
একটু চুপ থেকে আবার বললো,
" বুবু নাহিয়ান আর মুন্নি কি ঘুম থেকে উঠেছে? "
" হুম উঠেছে আর ওরা ভোরেই উঠেছে সাথে মেঘলাও আছে। ওদের নাস্তা খাইয়ে দিসি। চিন্তা করো না। "
" আমায় একটু ডাকতে পারতে বুবু। কোথায় ওরা? "
" ওরা তিন জন রিজবি ভাইয়ার সাথে আছে। বাহিরে গেসে এসে পরবে। আর তোমায় ডাকিনি ইচ্ছে করে। কাল রাতে বড় ভাইয়া যেভাবে গেলো তোমার পিছু তাই ভাবলাম ওই আরকি। "
নীরা লজ্জা পেলো। রুশা শব্দ করে হেসে উঠলো। নীরাকে বললো
" হইসে হইসে ভাবি লজ্জা পেয়ো না এক কালে আমিও লজ্জা পাইতাম এই দুই ছাও হইয়া সব লজ্জাকে মাটি দিয়ে দিসি। "
এই কথায় দুই জা হেসে উঠলো। এমন মিল থাকলে কোনো সংসারে অশান্তি হয় না। দুই জা যদি বোনের মতো থাকে সংসারে কেউ ফাটল ধরাতেও পারে না।
★
★
গ্রামের হলুদের দিনটা যেন একেবারে রঙে-গন্ধে ভরা উৎসব। উঠোনজুড়ে কাঁচা মাটির গন্ধ, চারদিকে কলাগাছ পুঁতে সুন্দর করে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে। মাটির উপর আলপনা আঁকা—সাদা চালের গুঁড়োর নকশা যেন শোভা ছড়াচ্ছে। চারপাশে গাঁদা ফুলের মালা, শিউলি আর বেলি ফুলের গন্ধে পরিবেশ হয়ে উঠেছে মিষ্টি আর মনোমুগ্ধকর। বাঁশের খুঁটির সঙ্গে রঙিন কাপড় ঝুলছে, হালকা বাতাসে দুলে দুলে এক অন্যরকম সৌন্দর্য তৈরি করছে। উঠোনের একপাশে পিতলের থালা , দুধ, সরিষার তেল—সব কিছুই সুন্দর করে সাজানো।
নীরা গোসল শেষ করে বাসন্তী রঙের শাড়ি ঘোমটা সহ আটপৌরে। হাতে বাসন্তি রঙের চুড়ি। কানে ঝুলছে ছোট ঝুমকা। কানের পাশে বেলি আর কামিনি ফুলের ছোট এক গুচ্ছ ফুল গুজেছে। চোখে কাজল দিয়ে গাঢ় করে। খুব সাধারণ ভাবেই তৈরি হয়েছে। উঠোনে বসে হলুদ পাটায় বাটছে। হাত নড়াচ্ছে আর চুড়ি গুলোর আওয়াজ হচ্ছে যা চারদিকে অন্য্রকম শোভা হয়ে উঠেছে। দূর থেকে তূর্য তার বধুকে দেখছে হাতে তার ফেইরি লাইট। কাজ রেখে তার বউকে দেখায় ব্যাস্ত সে। দেখবেই তো এতো সুন্দর বউকে দেখা ছাড়া আর কোনো উপায় আছে তার। নীরা কোনো দিকেই তাকাচ্ছে না সে তার মতো কাজ করে যাচ্ছে। হলুদ বাটার পর পিতলের বাটিতে হলুদ তুলে রাখলো। নীরা তার দুই হাতের দিকে তাকালো। হাদি মুখ খানা মলিন হয়ে আসলো। আজ যদি সে বাকি পাঁচটা মেয়ের মতো বড় হতো তার ও যদি মা থাকতো তাহলে তারও এভাবে হলুদ হতো সবাই আনন্দ করতো। কিন্তু তার ভাগ্যের পরিহাস। নীরা আর কিছু ভাবলো না। দুই হাত গুটিয়ে নিলো। দূর থেকে তূর্য সবই দেখলো। নীরার মনের অবস্থাও বুঝতে পারলো।
নাহিয়ান এসে দাড়ালো নীরার পাশে। মুখ গম্ভীর বাবার মতো করে রেখেছে। নীরা নাহিয়ানকে বললো
" বাবা কী হয়েছে? মন খারাপ? "
" না আম্মু "
" তাহলে? "
" আদি চাচ্চু বলসে আন্নি মানে মুন্নিকে বিয়ে করবে। কেনো মুন্নি তো একটা রাজ পুত্রের সাথে বাবা বিয়ে দিবে। আমি বাবাকে বলবো মুন্নিকে যেনো বাসায় গিয়ে তারাতারি বিয়ে দিয়ে দেয়। "
নীরা মুখ টিপে হেসে বললো,
" তাই তোমার মিন্নি আন্নিকে বিয়ে দিয়ে দিবে বাসায় যাওয়ার পর! কিন্তু বাবা মুন্নিকে কে আন্নি ডাকতে কে শিখালো তোমায়? "
"আব্বু বলেছে "
" আচ্ছা তুমি তোমার আন্নিকে দেখে দেখে রাখো কেমন একলা কোথাও যাবে না তোমরা এই পানির কাছেও আসবে না কেমন। "
" আচ্ছা আম্মু "
★
ঊষাকে বসানো হয়েছে পিঁড়ির উপর, চারদিকে আত্মীয়-স্বজন আর গ্রামের মেয়েরা ঘিরে আছে। কণের সাজ একদম সহজ, কিন্তু অপূর্ব সুন্দর। হলুদ রঙের শাড়ি—মাঝে লাল পাড়, গুজরাটি স্টাইলে শাড়ি পড়িয়ে দিয়েছে রুশা। যা তার গায়ের সঙ্গে দারুণ মানিয়েছে। চুল খোলা তাতে গাঁদা ফুলের গাজরা জড়িয়ে দেওয়া। কপালে ছোট্ট লাল টিপ, চোখে হালকা কাজল, ঠোঁটে মৃদু হাসি—সব মিলিয়ে এক স্বাভাবিক, কোমল সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।
হাতে গাদা ফুলের গাজরার চুড়ি—হলুদ আর কমলা মিশেলে। গলায় ফুলের মালা, হাতে ও পায়ে আলতা, আর মুখে হলুদের আভা—যেন সে নিজেই এক টুকরো রোদের মতো উজ্জ্বল। তার গাল জুড়ে লাজুক হাসি, চোখে স্বপ্নমাখা দীপ্তি—এই সাজে কোনো বাড়তি জাঁকজমক নেই, কিন্তু আছে এক গভীর মায়া আর গ্রামবাংলার নিজস্ব সৌন্দর্য।
একে একে সবাই ঊষাকে হলুদের ছোয়া দিচ্ছে। মুরব্বিরা হলুদ দিয়ে সরে গিয়েছে। কিশোরীদের হলুদ দিতে বারণ করেছে। গ্রামের প্রাচীন প্রথাগত অবিবাহিতদের বিয়ের কণের গায়ে হলুদ দিতে নেই। তার কিশোরী রা দেয় নি। কিন্তু তারা মজা করছে। পুকিরের পাশে হলুদ দেওয়া হচ্ছে। কিশোরীরা আর ভাইরা পুকুর থেকে পানি এনে ছিটাচ্ছে। সবাই ভিজে একাএকার। রুশা এগিয়ে এসে ঊষাকে হলুদ দিয়ে মিষ্টি করে হেসে বললো
“ আমার ননদিনী সুখী হও। “
ঊষাও মিষ্টি হাসে। ঊষা এবার তূর্যকে বললো,
“ ভাইয়া এবার আপনি দিয়ে দিন বোনকে হলুদ। “
তূর্যর কেমন জানি হাত কাপছে। এভাবে একদিন তার ছোট বোনকেও বিদায় দিতে হবে ভেবে। তূর্য তাকালো লিপির দিকে। তারা এখন মজা আনন্দে ব্যাস্ত। তূর্য এগিয়ে এসে গালে কপালে হাতে হলুদ লাগিয়ে ফিয়ে বললো
“ জানি না তোর এই বড় ভাই তোদের মনে কতটা জায়গা করে নিয়েছে। কতটা আপন হতে পেরেছি। মন থেকে দোয়া করি নতুন জীবন যেনো তোর রঙিন হয়। সব সুখ যেনো আমার এই বোনটার কপালে হয়। দুঃখের ছিটেফোঁটাও যেনো তার গায়ে না লাগে।” গ্রামের মহিলারা সহ উপস্থিত সবাই মুগ্ধ হলো তূর্যের কথায়। ঊষা ছল ছল দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো
“ বড় ভাইয়া তুমি আমাদের জীবনে অনেক দামি। জ্ঞ্যান হওয়ার পর তোমার ছায়ায় তো ছিলাম বেশি। তুমি আমার জন্য ব্লেসিং। শত খুজলেও আমি আমার এই সোনার টুকরো ভাইদের মতো ভাই পাবো না। “
তূর্য হেসে বোনের মাথায় হাত রাখলো। ঝুকে কপালে ঠোঁট ছুয়ে বললো
“ ভাইয়া আছে তোর পাশে। যেকোনো দরকারে আমায় পাবি সবসময়। “
ঊষা হেসে ফেলে। নীরা এতক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাই বোনের ভালোবাসা দেখছিলো। এই পরিবারের সবাই মিশুক। তাকেও কতো আপন করে নিয়েছে। নীরাও হাসলো। নীরা তাকিয়ে আছেই সামনের দিকে পিছন থেকে যে কেও আসছে সে বুঝতেই পারছে না। তিশা, লিপি এসে নীরার মাথায় এক কলস পানি দিয়ে দেয়। যার ফলে নীরা ভিজে থুবুথুবু। নীরা প্রথমে ভয়ে চিল্লিয়ে উঠে। রুশা ঊষা দেখে হেসে ফেললো। মেয়েটার যে এসবে অভ্যস্ত নয়। তূর্য কিছুটা বিরক্ত হলো বোনদের এই কাজে। কিন্তু কিছু বললো না। কি বলবে সে? সে যে আবার তার বউয়ের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিতে আছে ভিজে থাকা অবস্থায় আরো স্নিগ্ধ লাগছে। সাথে মুখের হাসি। লিপি আর তিশা পানি ঢেলে চলে গেসে। আমেনা এবার নীরার উদ্দেশ্যে বললো “ নীরা এবার তোর পালা। হলুদ লাগিয়ে দে তো দেখি। “
নীরা তাকায় তূর্যের দিকে কিন্তু তূর্যকে দেখে নীরার কপাল কুচকে আসলো। তূর্যের চাহনি দেখে অপ্রস্তুত হলো। মুখ বেকিয়ে মনে মনে শ-খানিক গালি দিলো। হাসি মুখে গেলো তার ননদিনীকে হলুদ মাখাতে। নীরা যেই না হলুদ দিবে তখনি এক মহিলা হাত ধরে বললো,
“ এই মেয়ে আমরা না বলেছি কোনো অবিবাহিত মেয়েরা যেনো বিয়ের কণের গায়ে হলুদ না ছোয়ায়। তাহলে দিচ্ছো কেনো? মানা করলে শুনো না কেনো? শহরে থাকো বলে কি কথা শুনবে না মানবে না। গুরুজনদের কথার অবাধ্য হচ্ছো। বাবা মা কিছু বলে দেয় নি কীভাবে ব্যবহার করতে হয়। তাদের কথা মানতে হয়। শুনতে হয়। “
নীরা বেক্কল হয়ে গেলো। কী থেকে কী বলছে এই মহিলা। মা বাবার প্রসঙ্গে গেলোই বা কীসের জন্য? আর সে অবিবাহিত? সে এক বাচ্চা আরেকটা বাচ্চার বাপ সামলায়। সে কীভাবে অবিবাহিত ? তাকে দেখে কী এতটাই ছোট মনে হয়? ছোট যেনো না লাগে তাই শাড়ি পড়ে থাকে এখানে। তাও কিনা সবাই বলে সে ছোট সে অবিবাহিত? নীরা রুশার দিকে তাকিয়ে বললো
“ বুবু কিছু বলো? “
পাশ থেকে একটা মহিলা বলে উঠলো
“ এই মেয়ে বুঝি তোমার ছোট বোন মেজো বউ? তবে মেয়েতো ভারি মিষ্টি। বয়স কতো ওর বিয়ে দিবে না? “
রুশা কী বলবে এদের। নীরার চোখ তো তূর্যের উপর নিবদ্ধ। লোকটা আবার কী করে বসবে। তূর্য চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছে মহিলাদের দিকে। পাশ থেকে আরেক মহিলা বলে উঠলো,
“ মেয়ে তোমার নাম কী। বাসা কই? বাবা মায়ের নাম কী? “
নীরা কিছু বললো না ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তূর্যের দিকে। তূর্যও কটমট করে তাকিয়ে আছে নীরার দিকে। নীরা শুকনো ঢোক গিললো। আস্তে আস্তে তূর্যর গা ঘেষে দাড়ালো। পাঞ্জাবির কোণা টেনে ধরে মাথা নিচু করে নিলো। যেনো বোঝাতে চাচ্ছে আমি তো আপনারই । এমন করেন কীসের জন্য? তূর্য নীরার কোমড় সবার সামনেই জড়িয়ে ধরে মহিলাদের উদ্দেশ্যে বললো,
“ শুনুন কাকিমা রুপি সিসি ক্যামেরা। ওর বিয়ে হয়ে গেসে সাথে ও দুই মাসে অন্তসত্তা। আমার সন্তান ওর গর্ভে। আর আপনাদের খেয়ে দেয়ে আর কোনো কাজ নেই? আমার চুড়ুই পাখির বউকে নিয়ে টানাটানি করেন। অন্য কোনো লোকের বউ নিয়ে টানাটানি করেন গিয়ে। “
এই বলে আর দাঁড়ালো না নীরাকে সবার সামনেই পাজা কোলে নিয়ে বাড়ির ভিতরে গেলো। পুকুর পারে সব বয়জেষ্ঠ্যরা ছিলো। তারা এই কাজে কেউ খুশি হয় নি। বরং মুখ বেকালো। নীরাকে নিয়ে যাওয়ার সময় সবাই তালিয়ে ছিলো। তরুণ তরুণীরা মিটিমিটি হাসছে। রিহান তা দেখে লিপির কাছে গেলো। কানের সামনে মুখ নিয়ে নিচু স্বরে বললো
" ভুটকি নিজেকে রেডি কর এইরকম পরিস্থিতিতে তোরও পরতে হবে। খুব শিগ্রই। "
এই বলে চলে যায়। লিপির উত্তরের অপেক্ষা করে না। লিপি রিহানের সব কথাই শুনলো। প্রতিক্রিয়া করলো না। কথা শুনার পর লজ্জারা হানা দিয়েছে।
....
আমেনা চৌধুরী মহিলার উদ্দেশ্যে গম্ভীর গলায় বললো,
" দেখুন আপা একটা কথা বলি। আপনার বয়স আর মাথার চুল এমনি বারেনি আর হাওয়ায় পাকে নি চুল। আপনার বুঝা উচিত ছিলো আগে। আপনারা যখন বলেছেন এখানে কোনো অবিবাহিত মেয়ে বিয়ের কণ্যাকে হলুদ ছোয়াতে পারবে না তখনি কিন্তু সবাই চলে গিয়েছে কেউ নেই। আর আমি যখন আমার বউমাকে ডেকেছি তখন আপনার ভাবা উচিত ছিলো সে বিবাহিত হতে পারে। ওর হাতে হলুদ নিয়ে ঊষার গালেও ছুয়াতে পারেনি এর মধ্যে ওর হাত ধরে ফেললেন। সাথে ব্যবহার টাও ভালো করেননি । আমার বউমা দেখতে ছোট হলেও বিবাহিত মনে হয় না। তাই বলে কি একবার জিজ্ঞেস করবেন না আপনি। এই চৌধুরীর বাড়ির বড় বউ সে। আমার ঘরের আলো সে। তার সাথে খারাপ ব্যবহার আমি আমেনা মানবো না। "
মহিলা দমে গেলো কিছু বলার সাহস পেলো না সে। রুশা আমেনা চৌধুরীর উদ্দেশ্যে বললো,
" বড় মা এবার ঊষাকে গোসল করানোর দরকার। "
আমেনা, সিমিন, রূম্পা, জমেলা চার মা মিলে মেয়েকে গোসল করিয়ে দিলো। এখন ঘরে যেতে হবে। সিমিন আমেনার উদ্দেশ্যে বললো
" বুবু মেয়েকে তো কোলে করে ঘরে নিয়ে যেতে হবে। কে নিয়ে যাবে? "
রুশা ফট করে বলে উঠলো
" আরে ছোট মা তোমাদের ছেলে আছে না সেই নিয়ে যাবে। দাঁড়াও আমি ডাকি। "
রুশা রাজুকে ডাক দিলো। রাজু বউয়ের ডাক শুনে চলে আসে। রুশা রাজুর দিকে তাকিয়ে বললো
" কোলে নিতে হবে পারবে না। "
" এই তোমার কী কোলে উঠতে মনে চাইলো নাকি। বড় ভাইয়া আর ভাবি কে দেখে। কোলে উঠতে মনে চাইসে তাই বলে কি মায়েদের সামনে বলবে তুমি। "
রুশা হতবাক হয়ে চেয়ে রইলো। সে কি বললো আর সে কী বলছে এগুলো। চার জা লজ্জা পেলো খানিকটা। রুশা কপট রাগ দেখিয়ে বললো
" দিন দিন বুরো হচ্ছে আর জ্ঞ্যান বুদ্ধি লোপ পাচ্ছে। আমাকে কোলে নিতে বলি নাই। ঊষাকে কোলে নিয়ে বাসার ভিতরে যেতে হবে। "
রাজুও নিজের ভুল বুঝতে পারে। ভুল সময়ে ভুল কথা বলেছে সে। তাই পরিস্থিতি ঠিক করতে ঊষার দিকে চেয়ে বললো
" তোর ওজন কতো? "
ঊষার খানিক ভেবে বললো
"১ মাস আগে ৫২ ছিলো। এখন জানি না কতো "
রাজু চোখ কপালে তুলে বললো
" ১ মাস আগে যদি তোর ৫২ কেজি। তাহলে বাকি এই কয়েকদিন তো তুই রাক্ষসীর মতো খেয়েছিস তারমানে ৬০+। হায় আল্লাহ আমার কোমড় যাবে আজকে। এই আলির বস্তাকে কোলে নিতে গেলে। আমার ছানাপোনারা কতো ছোট। ওদের এভাবে রেখে আমি টপকাটে পারবো না। "
ঊষা লজ্জা পেলো ভাইয়ের কথায়। রুশা বিরক্তিকর গলায় বললো
" কোমড় ভাঙলে হাতুরি দিয়ে কোমড় ঠিক করে দিবো। বোনকে নিয়ে ঘরে যাও। "
রাজু এবার আর কোনো কথা বললো না। কী আর বলবে তার বউয্র রেগে গেছে তা সে বেশ বুঝতে পেরেছে। তাই আর কথা না বাড়িয়ে ঊষাকে কোলে নিয়ে নিলো। বাসার ভিতরে যাওয়ার আগে সিমিনের উদ্দেশ্যে বললো
" ছোট মা রেডি থাকো আমার কোমড় মালিশ করে দেওয়ার জন্য "
ওদের যাওয়ার পর সবাই হেসে ফেললো।
★
★
তূর্য নীরাকে ঘরে নিয়ে এসে এক প্রকার ছুড়ে ফেললো বিছানার উপর। নীরা খানিকটা ব্যাথা পায়। তূর্য দরজা আটকিয়ে পরনের পাঞ্জাবি খুলে নীরার উপর সম্পুর্ন ভর দিয়ে দেয়। একে অপরের নিশ্বাস, হার্টবিট সব শুনতে পারছে। নীরা রাগ দেখিয়ে বললো,
" আপনি বাহিরে কী বললেন? আমি ২ মাসের প্রেগন্যান্ট । "
" ভুল কী বলেছি। তুমি না ১৫/২০ টার বাচ্চার মা হতে চাও। সেটাই পুরন করবো এবার। বিয়ের পর একটাই আবদার করেছিলে তুমি। সেটা তো আর অপূরক রাখতে পারি না। আফটার অল একটা মাত্র চড়ুই পাখির মতো বউ কিনা। "
নীরা বিব্রতবোধ করে। আমতা আমতা করে বললো
" আমি তো সেটা এমনি বলেছিলাম আপনি তা সিরিয়াস নিয়ে নিয়েছেন। "
" তুমি মজা করলেই কী। আমি তো সিরিয়াস "
নীরা অবাক হয়। আবার ভয় ও পায় । তারপরও রাগ দেখিয়ে বলে, "
"অসভ্য লোক উঠুন আমার উপর থেকে। আমার শরীর ভিজা। বিছানা ভিজে যাচ্ছে। গোসল করবো আমি। "
তূর্য নীরার নাকে চুমু দিয়ে বললো।
" একেবারে ফরজ গোসল শেষ কইরো। এখন আমাকে সঙ্গ দাও। "
নীরা চুপ হয়ে যায়। বাধ্য স্ত্রীর মতো সায় দিলো নিজের স্বামীকে।
....
বিকেলটা ধীরে ধীরে গড়িয়ে যাচ্ছিল। রোদের সোনালি আলো ম্লান হয়ে নরম কমলা আভায় চারপাশ ভরে উঠছে। উঠোন জুড়ে হালকা ব্যস্ততা—কেউ ফুল সাজাচ্ছে, কেউ থালা গোছাচ্ছে। একটু পরেই বরপক্ষ আসবে বিয়ের তত্ত্ব নিয়ে, তাই ছোট করে হলেও আয়োজনের কোনো কমতি নেই।
এদিকে বাড়ির ছাদে তরুণীদের ভিড়। হাসি-আড্ডায় মুখর চারপাশ। কেউ কারো হাতে মেহেদি লাগাচ্ছে, কেউ নতুন ডিজাইন নিয়ে মেতে আছে। কারো হাতে লতাপাতা, কারো হাতে জটিল নকশা—মেহেদির গাঢ় রঙে যেন ভবিষ্যতের স্বপ্ন আঁকা হচ্ছে। বাতাসে মেহেদির মিষ্টি গন্ধ, আর মেয়েদের টুকটাক হাসি মিলেমিশে এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করেছে
কিছুক্ষণ পর বরপক্ষ এসে পৌঁছায়। সবাই হাসিমুখে তাদের অভ্যর্থনা জানায়, শুভেচ্ছা বিনিময়ে চারপাশ ভরে ওঠে। কিন্তু শেষের মানুষটিকে দেখেই যেন হঠাৎ পরিবেশের রঙ বদলে যায়। নিঃশব্দ এক অস্বস্তি নেমে আসে সবার চোখে-মুখে।... কণিকা।...
পাতলা কালো শাড়িতে তাকে যেন আরও রহস্যময় লাগছে। তার উপস্থিতি যেন কারও জন্য অপ্রত্যাশিত, কারও জন্য অস্বস্তিকর। তূর্য দূর থেকে তাকিয়ে থাকে—চোখে রাগের ঝিলিক, মুঠো করা হাতের ভেতর জমে থাকা অস্থিরতা।
কণিকা ভেতরে ঢুকে চারপাশে তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় বলল,
“আমাকে শুভেচ্ছা জানাবে না?”
কেউ উত্তর দেয় না। নিস্তব্ধতা যেন আরও ভারী হয়ে ওঠে। তূর্য সোফায় বসে আছে, হাতে ফোন, কিন্তু চোখ স্থির কণিকার দিকে।
এই সময় মুন্নি দৌড়ে এসে তূর্যের পাশে দাঁড়িয়ে বলল,
“তুনাবাই, মামারে কিছু বলো।”
তূর্য চোখ না সরিয়েই বলল,
“কি হয়েছে বুড়ির?”
মুন্নি মুখ ফুলিয়ে বলল,
“মামা আমার মেহেদি নষ্ট করে দিছে।”
তূর্য হালকা স্বরে বলল,
“থাক বুড়ি, তোমার আপুই মামাকে বকে দিবে, কেমন?”
“আচ্ছা।”
হঠাৎ পেছন থেকে ভেসে এল এক কণ্ঠ—
“কেনো আমায় বকবে? আমি কী করেছি?”
নাহিয়ানের গলা শুনে সবাই তাকায়। তূর্য ধীরে ধীরে তার দিকে তাকাল। বুকের ভেতরটা কেমন অজানা আশঙ্কায় কেঁপে উঠল।
নাহিয়ান সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলল,
“বাবা, আমার আম্মু কোথায়?”
কণিকা তখনই বলে উঠল,
“এই যে বাবা, আমি এখানে।”
নাহিয়ান ঘুরে তাকায়, কিন্তু যেন কাউকে খুঁজে পায় না। আবার তূর্যের দিকে তাকিয়ে কাঁপা গলায় বলে,
“ও বাবা, বলো না…”
কণিকা এগিয়ে এসে তার হাত ধরতে চাইলে নাহিয়ান ছিটকে সরে যায়। চোখ ভিজে উঠে, কাঁদো কাঁদো গলায় বলে,
“তুমি আমার আম্মু না… আমার আম্মু কই? ও আম্মু… আম্মু কোথায় তুমি…”
কথাগুলো বলতে বলতেই সে কান্নায় ভেঙে পড়ে।
তূর্য স্থির হয়ে বসে থাকে, যেন কিছুই করতে পারছে না। মুন্নি নাহিয়ানের কান্না দেখে দৌড়ে এসে তূর্যের কোলে উঠে পড়ে, আঁকড়ে ধরে তাকে।
এদিকে নীরা নামাজ শেষ করে ঘরে বসে ছিল। ছেলের কান্নার শব্দ শুনেই ছুটে বেরিয়ে আসে। সিঁড়ি দিয়ে নামতে তাকে দেখে অনেকের মুখে স্বস্তির ছাপ ফুটে ওঠে। নীল রঙের থ্রি-পিসে নীরাকে আজ শান্ত, মায়াবী লাগছে। তূর্য তাকিয়ে থাকে তার দিকে।
নীরা এগিয়ে এসে নাহিয়ানকে কোলে তুলে নেয়, তার মাথায় হাত বুলিয়ে নরম গলায় বলে—
“বাবা, কী হয়েছে? আম্মু তো এখানেই আছি…”
নাহিয়ান তাকায় নীরার দিকে। নীরাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর বলছে,
" আমার মানিক বলো কী হয়েছে। মুন্নি মেরেছে? বাবা বকেছে আমার মানিককে? "
নাহিয়ান ফুপিয়ে বলে,
" আম্মু আমার আম্মু তুমি শুধু আমার আম্মু। "
নীরা বুঝে উঠতে পারলো না কী হয়েছে ছেলেটার। এমন করছে কেনো কেন? নাহিয়ানের কান্না শুনে সবাই নিচে আসে। কণিকারে দেখে সবাই বিরক্ত হয়। তূর্যকে কিছু বলতে যাবে অমনি চোখ পড়ে কণিকার উপর। নীরার চিনতে অসুবিধে হয় না। দুই তিন মাস আগে লিপি দেখিয়েছিলো। তবুও না চিনার মতো করে রুশার উদ্দেশ্যে বললো
" বুবু উনি কে? "
রুশা হেসে বলে,
" ভাবি নিমন্ত্রিত ছাড়া এসেছে "
" ও আচ্ছা তাহলে খাইয়ে বিদায় করে দাও। অসহায় মানুষ হয়তো। খেতে পারেনা। তাই চলে এসেছে। "
কণিকা ফুসে উঠে নীরার দিকে আঙ্গল তুলে চিল্লিয়ে বললো
" How dare you tell me this?"
নীরা ভ্রু কুচকে বললো
" Lower your voice. This is a decent house."
পিছন থেকে লিপি বললো
" বড় ভাবি এদের কী খেতে দেওয়া যায়। বলোতো, তাহলে আমি নিজের হাতে রেধে খাওয়াতাম। "
"সাটআপ "
" আস্তে কথা বলুন। বুবু একে খাইয়ে আপদ বিদায় করো। আমার ছেলে কাদছে। আমি ঘরে যাই। এই আপদ বিদেয় হলে আমায় ডেকো। "
এই বলে পা বাড়াবে তখনি কণিকা নীরার হাত শক্ত করে ধরে বললো,
" রাস্কেল আমার ছেলেকে দাও। "
নীরার কলিজা ধক করে উঠলো। একবার নাহিয়ানের দিকে তাকালো। ছেলেটা তার পানেই চেয়ে আছে। নীরা নাহিয়ানের উদ্দেশ্যে বললো
" বাবা আম্মুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরো তো। রাতে যখন ভয় পাও আর আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরো সেভাবেই ধরো। "
নাহিয়ান ও তার মায়ের কথা মতো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। নীরা পিছন ফিরে কণিকার হাত উল্টে মুচরিয়ে ধরে শক্ত গলায় বললো
" ভাষা সামলান নিজের। আর আমার ছেলে আমার ছেলে করছেন কেনো। দের বছরের বাচ্চাকে রেখে বুইরার হাত ধরে যাওয়ার সময় মনে হয় নি আমার বাচ্চা আছে। জন্ম দিয়েই খালাস হয়ে গেসেন। জন্ম দিলে শুধু মা হয়। আপনার মধ্যে তো মাতৃত্বর কোনো স্বাধ নেই। আছে শুধু লোভ। আপনার মুখ থেকে মা শব্দ বের হলে এই শব্দ টা নিজেরেই ঘৃণা উঠবে। আবার যদি আমার ছেলে আমার ছেলে করেন না মুখ ভেঙে দিবো "
এই বলে ঢাক্কা মারে। কণিকা পরতে গিয়েও পড়ে না। বাসার সকলের মুখে হাসি। তূর্য নিজেও খুব খুশি। কণিকা ফের বলে উঠে,
" আমি আমার ছেলেকে নিয়েই যাবো। তুমি বলার কে? কে হও তুমি "
নীরা নাহিয়ানকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শক্ত গলায় চোখে চোখ রেখে বললো
" আমি ওর মা। মা হই ওর। আমার সামনে থেকে আমার সন্তানকে নিয়ে যাওয়ার অধীকার এই নীরা চৌধুরী কাওকে দেয় নি। আমার বুকের ধন আমার বুকেই থাকবে। উপর ওয়ালা ছাড়া এই সন্তান আমি নীরা কাওকেই দিবো না। "
এটা বলে আর থাকে না চলে যায়। মাঝপথে দাঁড়িয়ে রুশার উদ্দেশ্যে বললো
" বুবু এই আপদকে বিদেয় করো। এভাবে না গেলে ঘাড় ধরে বের করো আর তাও যদি না যায় ঝাড়ু দিয়ে মেরে বিদেয় করো। এইবকাল নাগিনীর ছায়া যেনো আমাদের সংসারে না পড়ে। "
সবাই নীরার কথা শুনে হাসে। তূর্যও প্রাণ খুলে হাসে। তার যে আজ খুব আনন্দ হচ্ছে। একদম খাটি বউ পেয়েছে সে। তূর্যও আর নিচে থাকে না নীরার পিছুপিছু ঘরে যায়।
রিজবি হাতে ঝাড়ু নিয়ে বললো,
" মেঝো ভাবি বড় ভাবির লাস্ট অফসন ব্যবহার করি। এই হাত দিয়ে ওর নোংরা শরীর ধরতে চাচ্ছি না। "
রিহান বলে উঠে,
" আরে চুলের মুঠি ধরে বের করলেই হয়। "
কণিকা আর এক মুহুর্ত দাঁড়ায় না চলে যায়।
সবাই প্রান ভরে নিশ্বাস নিলো। আমেনা চৌধুরী আবার প্রমাণ পেলেন নীরাই নাহিয়ানের জন্য বেস্ট মা।
....
তূর্য ঘরে অনেক্ষন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। নীরার কোলে নাহিয়ায় শুয়ে আছে। নীরা কথা বলছে না। মুখ ফিরিয়ে রাখছে। তূর্য এগোতে গেলেই নীরা বলে উঠে
" আপনি আমাদের কাছে আসবেন না। "
" ঠিক আছে বউয়ের কথাই শেষ কথা। "
"চলে যান এখান থেকে "
" আচ্ছা চলে যাবো। আগে কাছে আসো আমার স্ট্রবেরি একটু টেস্ট করি "
" আপনাকে আমার সহ্য হচ্ছে না "
" আমারো আর সহ্য হচ্ছে না। স্ট্রবেরি খাওয়ার জন্য "
"বাবা চলে যাও। আম্মু কি বলেছে শুনতে পাও নি। "
" চলে যাবো আগে বলো তোমার আম্মুকে আমার স্ট্রবেরি দিয়ে দিতে। আমায় দিয়ে দিলেই চলেই যাবো। "
" আম্মু বাবার স্ট্রবেরি দিয়ে দাও। "
তূর্য বাকা হাসে। নীরা কটমট করে তাকায়। তূর্য সামনে এগিয়ে এসে নাহিয়ানকে বলে,
" আব্বু চোখ বন্ধ করো তো দেখি। "
নাহিয়ান ও বাধ্য ছেলের মতো চোখ বন্ধ করে। তূর্য নীরার অধরে অধর মিলিয়ে দিলো। একটু পর ছেরে বললো,
" ভালোবাসি বউ খুব ভালোবেসে ফেলেছি। মায়ার বাধনে জড়িয়েছ আমায়। তোমার এই বাধন ছিরে যাওয়ার সাহস আমার নেই। "
নীরা হাসে। তূর্যের বুকে মাথা রেখে স্বস্থীর নিশ্বাস নেয়।
চলবে.............!