ফন্ট সাইজ:
থিম:
আপনি যে আমার-ই

১ম পর্ব

লেখক: DRM Shohag

#আপনি_যে_আমার_ই

#writer_Drm_Shohag

#পর্ব_০১

(Page - DrmShohagHoney)

“আমি আমার এই ছোট ঘরে তোমার বউ আনতে চাই আব্বু, আর আমার বউমা।

কাল যে মেয়েকে দেখে আসলাম তাকে আমার খুব মনে ধরেছে। তুমি কী চাও আব্বু?”

মায়ের কথায় সোহাগের রাগে কপালের রগ ফুলে উঠল। মেয়েটাকে তার একদমই পছন্দ হয়নি। হিজাব দিয়ে মাথা ঢেকে আসলেও দুই ভ্রু কুন্ডলীর মাঝ বরাবর একটা কালো টিপ পড়া ছিল।

ইসলামে টিপ পড়া হারাম। এইটা কে না জানে!

রেগে গেলেও নিজেকে সামলে নেয়ার চেষ্টা করল। মাকে সে রাগ দেখাতে চায় না। মায়ের সম্মান অনেক উপরে। মায়ের ঋণ কখনো শোধ করা যায়না। আল্লাহ সেই সাধ্য আমাদের দেয়নি।

তবে আমরা তাদের ঋণ শোধ না করতে পারি, কিন্তুু তাদের সবচেয়ে সম্মানীয় জায়গায় রাখতে তো পারি। এইসব ভেবে সোহাগ তার সমস্ত রাগ চেপে মায়ের দিকে চেয়ে মুচকি হাসল।

অতঃপর চোখ বুজে মনে মনে বিড়বিড় করে পড়ল,

“আউজুবিল্লাহ হিমিনাশ্ শাইতনির্ রজিম্।”

নিজেকে যথাসাধ্য ধাতস্থ করে শান্ত কণ্ঠে বলল,

”আম্মু আমরা আরো কয়েকটা মেয়ে দেখি?”

ছেলের কথায় নাফিসা বেগম এর মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। কপাল কুঁচকে প্রশ্ন করলেন,

“কেন আব্বু? তোমার কী মেয়ে পছন্দ হয়নি? কী সুন্দর মিষ্টি একটা মেয়ে। খুব সুন্দর করে কথা বলে। তুমি কী তার সাথে আলাদা করে আরেকবার কথা বলে দেখবে? আমি ব্যবস্থা করব?”

সোহাগের ইচ্ছে করছেনা তার মায়ের হাসিটুকু কেড়ে নিতে। কী দেখল আম্মু মেয়েটার মাঝে? আম্মু তো নিজেও ইসলাম এর বিধিনিষেধ খুব সুন্দরভাবে মেনে চলে। অথচ মেয়েটা যে কপালে টিপ লাগিয়েছে, তা কী তার মায়ের চোখে পড়ছেনা? গলা ঝেড়ে বলল,

“আম্মু আমি অবশ্যই তোমার পছন্দের মেয়েকেই বিয়ে করতে চাই। কিন্তুু তুমি দেখোনি মেয়েটার কপালের কালো টিপ? আমি দ্বীনদার মেয়েকে বেশি প্রাধান্য দিতে চাই। এই সৌন্দর্য তো একদিন ফুরিয়ে যাবে। কিন্তুু একজন দ্বীনদার ব্যাক্তির মাঝে যে ব্যাক্তিত্ব সেটা সারাজীবন রয়ে যাবে।”

নাফিসা বেগম মৃদু হেসে বলল,

“আব্বু আমার মনে হয় সে জানেনা টিপ পরা হারাম। বিয়ের পর তুমি ওকে জানালে সে অবশ্যই এটা মানবে ইনশাআল্লাহ। তুমি চাইলে বিয়ের আগে আরেকদিন কথা বলে দেখতে পারো! বলবে?”

“না আম্মু, আমি আর দেখা করতে চাইনা, কথা বলতেও চাইনা। আমার ভালো লাগছেনা। আমি একটু ঘুমাবো।”

ছেলের কথায় নাফিসা বেগম চিন্তিত স্বরে বললেন,

“আব্বু তোমার কী তোমার আম্মুর উপর ভরসা নেই? মেয়েটা বাবা-মায়ের বাধ্য বলেই তো তোমাকে বিয়ে করার মত দিয়েছে, তাই না? বাবা-মায়ের বাধ্যগত সন্তান নিশ্চয়ই স্বামীর অবাধ্য বউ হবেনা!”

“জ্বি আম্মু বুঝেছি। আমি তোমার সাথে এই ব্যাপারে পরে কথা বলব ইনশাআল্লাহ।”

এই বলে সোহাগ শুয়ে পড়ল। মাথায় হাজার খানিক চিন্তা নিয়ে, ডান হাত দুই চোখের উপর রেখে চোখ বুজল।

নাফিসা বেগম ছেলেকে একা রাখতে নিরবে প্রস্থান করলেন।

••••••••••••••

সোহাগ বার বার এপাশ-ওপাশ করছে। মাথায় হালকা ব্যাথা করছে। সেদিকে পাত্তা দিলনা। বরং ভাবনায় মত্ত হলো।

‘আম্মু তো ঠিকই বলেছে বাবা-মায়ের বাধ্যগত সন্তান স্বামীর অবাধ্য হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আর মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নয়। সে হয়তো জানেনা ইসলামে টিপ পরা হারাম। এমন অনেক কিছু আমারও অজানা থাকতে পারে। বিয়ের পর একে-অপরকে অজানা বিধিনিষেধ জানাব, জানব ইনশাআল্লাহ।

ওই একটা কপালের টিপ ছাড়া তার কাছে মেয়েটাকে যথেষ্ট ভদ্র মনে হয়েছে।'

তার মা যাওয়ার বিশ মিনিটের মাথায় বিছানা ছেড়ে দ্রুত মায়ের ঘরে গেল।

“আম্মু আসব?”

নাফিসা বেগম ঘরের এককোণে বসে স্বামীর স্মৃতিচারণ করছিলেন। বছর দুয়েক আগে তার স্বামী হার্ট অ্যাটাকে তাকে আর তার ছেলেকে একা করে পরপারে চলে গিয়েছেন। স্বামীর শূন্যতায় কত রাত যে তাকে নির্ঘুম কাটাতে হয় তার ইয়ত্তা নেই। ছেলের বিয়ে নিয়ে দুজনের কত-শত স্বপ্ন ছিল! অথচ তার স্বামী তাদের স্বপ্ন পূরণের সব দায়িত্ব একা তার কাঁধে তুলে দিয়ে হারিয়ে গেলেন অজানায়। যেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব।

চোখ দিয়ে টুপটাপ জল গড়ালো। অথচ তা মুছে দেয়ার জন্য তার প্রিয় স্বামী আর পাশে বসে নেই। শুয়ে আছে অন্ধকার কবরে।

ছেলের ডাক কর্ণকুহরে যেতেই নাফিসা বেগম দ্রুত চোখ মুছলেন। পিছন ফিরে জোরপূর্বক ঠোঁটে হাসি টেনে বললেন,

“কিছু বলবে আব্বু?”

মায়ের ভাঙা গলায় সোহাগ এর মন খারাপ এর পাল্লা ভারি হলো। তার মা অবুঝ নয়। তাকে সময় দিবে বিয়ের জন্য। সে রাজি না হলে কাঁদবেন না, তা সেহাগের জানা। নিশ্চয়ই আব্বুর কথা ভেবে কাঁদছে। ধীর পায়ে মায়ের পাশে এসে বসল।

ভেজা চোখে মায়ের দিকে চেয়ে বলল,

“আম্মু এভাবে বসে কাঁদলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন বান্দার প্রতি। আব্বুকে আল্লাহ ভালো রাখবেন ইনশাআল্লাহ। আব্বু, আব্বুর অর্ধাঙ্গিনী, আমি, আমার ভবিষ্যৎ অর্ধাঙ্গিনী, তোমাদের ভবিষ্যৎ নাতি-নাতনি সবাই একসঙ্গে জান্নাতুল ফেরদৌসে থাকব ইনশাআল্লাহ। সবাইকে সেভাবেই আমল করতে হবে। এভাবে কাঁদলে তো আল্লাহ নারাজ হয়ে যাবে। তাহলে আমার এ স্বপ্ন কীভাবে পূরণ হবে বলো?”

ছেলের কথা শুনে নাফিসা বেগম মৃদু হেসে সোহাগের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,

“তোমার স্বপ্ন আল্লাহ কবুল করুক, আমিন।”

“আম্মু আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

“বলো আব্বু কী সিদ্ধান্ত নিলে। আমি তোমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছু করবনা ইনশাআল্লাহ।”

“মেয়ের বাড়ি জানিয়ে দাও আম্মু, আমি তোমার পছন্দের মেয়েকেই বিয়ে করতে চাই। আমারও তাকে পছন্দ হয়েছে। আর সে যা জানেনা আমি তাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলব ইনশাআল্লাহ। আমার যেসব অজানা আছে, সেসব তার থেকে জেনে নিব ইনশাআল্লাহ।”

ছেলের কথায় নাফিসা বেগম এর চোখ ঝাপসা হয়ে এলো। ছেলেটা একদম তার বাবার মতো হয়েছে। প্রথমে অবুঝের মতো আচরণ করলেও একটু পরই ঠান্ডা মাথায় ভেবেচিন্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়।

অতঃপর মৃদু হেসে তুষ্ট কণ্ঠে বললেন,

“ঠিক আছে আব্বু। তোমার কথা শুনে ভালো লাগল।”

••••••••••••••

ছেলের বাড়ি থেকে ইতিবাচক উত্তর পেয়ে মৌ এর আব্বু-আম্মু অানন্দে আত্মহারা। হবে নাই বা কেন! ছেলের আর্থিক অবস্থা অনেক ভালো। ছেলে অনেক বড় ব্যবসায়ী। এতো বড় ঘর থেকে মেয়ের জন্য ইতিবাচক উত্তর আসলে যেকোনো বাবা-মা ই খুশি হবে।

কিন্তুু মৌ এর মাথা ভর্তি চিন্তা। কেমন হবে তার জীবনসঙ্গী! শুনেছে বড়লোক ছেলেরা খুব বেশি ধার্মিক হয়না। বেশিরভাগই বিগড়ে যায়। যদিও তার আব্বু-আম্মু খোঁজ-খবর নিয়েছেন। তারা ছেলের নামে কোনো ব্যাড রিপোর্ট পায়নি।

ছেলেকে মৌ এর খুব একটা পছন্দ হয়নি বাহ্যিকভাবে।শার্ট-প্যান্ট পরে এসেছিল। তার ইচ্ছে তার স্বামী পাঞ্জাবি- পায়জামা পরবে সবসময়। তবে মুখ ভর্তি দাঁড়ি আছে। আর আম্মু বলেছে ছেলে নাকি খুব ধার্মিক। পোশাক-আশাক দেখে মৌ এর তেমন মনে হয়নি।

আম্মু বলেছে,

'পোশাক দেখে কাওকে বিচার না করতে। পাঞ্জাবি পায়জামা না পরলে গুনাহ হয়, এমন তো না। আর তুই চাইলে তোর পছন্দের কথা তাকে জানাবি, বোঝাবি তাকে।

তবে একজন ধার্মিক ব্যাক্তির উচিৎ সুন্নতি পোশাককে বেশি প্রাধান্য দেয়া।

তাছাড়া হয়তো কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আল্লাহ নিজেই তার ভেতর জানা জিনিসের ঘাটতি রেখে দেন, যাতে তার হালাল স্বামী অথবা স্ত্রী এসে তাকে সঠিক পথ দেখায়। এতে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মোহাব্বত বাড়ে।'

চিন্তায় মাথা ব্যাথা শুরু হলো মৌ এর। দ্রুত একটা টাফলিন খেয়ে কিছুক্ষণ চোখ বুজে শুয়ে থাকল।

ত্রিশ মিনিট পর মৌ শোয়া থেকে উঠে ওজু করার জন্য বাথরুমে গেল। সুন্দর করে ওজু করে এসে ইসতেখারার নামাজ আদায়ের জন্য জায়নামাজে দাঁড়িয়ে গেল।

হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে। গুরুত্বপূর্ণ কাজের উদ্যোগ নিতে, রাসুল (সা.) আমাদের ইসতেখারার {কল্যাণের ইঙ্গিত প্রার্থনার} সালাত ও দু'য়া শিক্ষা দিতেন।

মৌ ইসতেখারার নামাজ আদায় করে জায়নামাজে বসে ইসতেখারার দোয়া পাঠ করল। আল্লাহর দরবারে কেঁদে কেঁদে ফরিয়াদ জানাল,

“হে আল্লাহ! এ বিয়েতে আমার দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ থাকলে এ বিয়ে সম্পন্ন করে দাও। আর যদি কল্যাণ না থাকে তাহলে কোনো এক অছিলায় এ বিয়ে তুমি ভেঙে দাও।”

দোয়া শেষে জায়নামাজ গুছিয়ে রাখল। এখন অনেকটা শান্তি লাগছে। মনে মনে বিড়বিড় করল,

“মহান আল্লাহ সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। আমি তো জানি আমি নিজেকে যতটা ভালোবাসি, আমার আল্লাহ আমাকে তার চেয়েও অনেক বেশি ভালোবাসেন। এতোক্ষণ অযথাই দুশ্চিন্তা করছিলাম। শয়তানকে প্রশ্রয় দিতে গিয়ে মাথা ব্যাথা বাড়িয়েছি। আসতাগফিরুল্লাহ্।”

অতঃপর চোখে-মুখে পানি ছিটিয়ে প্রফুল্ল মনে ঘর থেকে বের হলো।

আল্লাহর দরবারে কাঁদলে বিনিময়ে অফুরন্ত প্রশান্তি পাওয়া যায়। যা এই পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া অসম্ভব। যে মহান আল্লাহকে অনুভব করতে পেরেছে, মহান আল্লাহকে চিনেছে তার চেয়ে ধনাঢ্য ব্যাক্তি এই জমিনে আর নেই।

••••••••••••••

আামাদের সমাজে একটা ভুল প্রচলিত আছে। তা হলো মেয়ের কাছে বিয়ে পড়ানো।

মেয়ের অনুমতি নিতে হয়, কিন্তুু মেয়ের কাছে বিয়ে পড়ানোর কোনো নিয়ম নেই। মেয়ের বাবা তার মেয়ের অনুমতি নিয়ে ছেলের কাছে আসবে। অতঃপর মেয়ের বাবার সম্মতিতে ছেলের কাছে কাজি বিয়ে পড়াবে,এটাই নিয়ম।

সোহাগ-মৌ এর বিয়ে মোটামুটি জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলো।

সোহাগ এর মা, খালা, খালাতো বোন, মামি, মামাতো বোন সবাই ঘরে এসে মৌ কে দেখে গিয়েছেন।

মৌ খেয়াল করল বড়দের সবাই বোরখা পরলেও, কম বয়সী মেয়েগুলোর জামার উপর মাথায় হিজাব বাঁধা। কিন্তুু মুখ খোলা। মুখে ভারী মেকআপ।

মনে মনে বলল,

‘আল্লাহ তুমি এদের সঠিক বুঝ দাও।'

কিছুক্ষণ পর মৌ এর ঘর ফাঁকা হয়ে গেল। মৌ এর ছোট বোন মনিরা। এবার ক্লাস টেন এ। নিজেকে হিজাবে আবৃত করেছে। পায়ের পাতা পর্যন্ত গাউন পরেছে, গাউনের হাতা হাতের কব্জি পর্যন্ত। ম্যাচিং করে নিকাব পরেছে। মুখ ঢেকে রাখা। বিয়ে বাড়ি, কত মানুষ আসবে। মায়ের কড়া আদেশ যেন চুল, মুখ কিচ্ছু দেখা না যায়।

সোহাগের কাছে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল। ভাবল বিয়ের আগেও আলাদাভাবে তার বোন আর দুলাভাই সেভাবে কথা বলেনি। এখন সবাই খাওয়া-দাওয়া করবে। দুলাভাইকে আপুর ঘরে এনে ওদের একসাথে খেতে দিলে জড়তা কাটবে।

মনিরা একটু সামনে এগিয়ে গেলো। সোহাগের আশেপাশে অনেক ছেলে। ভাবল হয়তো সোহাগের এর ফ্রেন্ড, আরও আত্মীয়-স্বজন হবে। এতো মানুষের ভীরে গেলে আম্মু তাকে কাঁচা-ই লবণ-মরিচ দিয়ে চিবিয়ে খাবে।

আশেপাশে চোখ বুলিয়ে দেখল কাওকে পায় কি-না। পাশ দিয়ে ফুপাতো ভাই সিয়ামকে যেতে দেখে তাকে ডাকল। সিয়ামের বয়স ৯ বছর। মনিরা সিয়ামের কানের কাছে গিয়ে বলল,

“দুলাভাইকে গিয়ে বলবি আপনাকে আপনার বউ ডাকছে।”

ভাবল সিয়ামকেই আপুর ঘর পর্যন্ত নিয়ে যেতে বলবে। যদি দুলাভাই এর সাথে আম্মু তাকে দেখে, তবে তার কপালে দুঃখ আছে।

সিয়ামের হাত টেনে বলল,

“তুই দুলাভাইকে আপুর ঘরে রেখে আসবি ঠিক আছে?”

সিয়াম মাথা হেলিয়ে দৌড় দিল সোহাগের এর দিকে।

মনিরা সিয়ামকে সোহাগের কাছে পাঠিয়ে তার ঘরের দিকে পা বাড়ালো।

••••••••••••••

মনিরার ঘরে সোহাগের এর খালাতো, মামাতো, ফুফাতো বোনেরা বসে ছিল।

একটু আগে তাদের মায়েদের সাথে নতুন ভাবিকে দেখতে গিয়ে নতুন ভাবির সাথে ভালোভাবে পরিচয় হতে পারেনি। তাই তারা একে অপরের সাথে আলোচনা করে ঠিক করল নতুন ভাবির সাথে খাবে।

দরজার কাছে মনিরাকে দেখে মারুফা বলল,

“হাই! তুমি ভাবির কে হও?”

মনিরা মারুফাদের দিকে এগিয়ে গেল। মৃদু হেসে বলল,

“আমি আপুর ছোট বোন মনিরা।”

অতঃপর মনিরার সাথে একে একে চার বোন পরিচিত হলো।

মিশু, নিশু আপন দুই বোন, সোহাগের খালার মেয়ে। মারুফা সোহাগের মামাতো বোন, মারিয়া সোহাগের ফুফাতো বোন। সবাই সোহাগের ৩-৪ বছরের ছোট।

মারুফা বলল,

“কীসে পড় তুমি?”

“ক্লাস টেন।”

মারিয়া বলল,

“ওহ তুমি তো আমাদের চেয়ে ছোট। আমরা সবাই কেউ অনার্স, কেউ মাস্টার্সে পড়ছি।”

মিশু বলল,

“মনিরা আমরা ঠিক করেছি আমাদের নতুন ভাবি মানে তোমার আপুর সাথে সবাই মিলে একসঙ্গে খাবো। তুমিও যাবে আমাদের সাথে?”

এর মাঝে মনিরার ডাক পড়ল। তার মা তাকে ডাকছে। মনিরা সবার দিকে তাকিয়ে বলল,

“আম্মু ডাকছে। এসে কথা বলছি ঠিক আছে?”

মারিয়া মৃদু হেসে বলল, “আচ্ছা যাও।”

মনিরা তার মায়ের কাছে গেলে তার মা তার হাতে শরবতের গ্লাসের ট্রে ধরিয়ে দিল। সোহাগের মা, খালা, মামি, ফুফুদের তার মায়ের ঘরে বসার ব্যবস্থা করেছে। মনিরা শরবত নিয়ে তার মায়ের ঘরে গিয়ে সবাইকে দিয়ে পুনরায় আসল মায়ের কাছে।

মনিরা ইতঃস্তত করে তার মাকে বলল,

“আম্মু একটা কথা বলব।”

“বল, এতো আয়োজন করছিস কেন?”

“আপুর ননদিনীরা বলল আপুর ঘরে আপুর সাথে খাবে। আমাকেও তাদের সাথে থাকতে বলেছে। আমি যাই আম্মু?”

“তো যা! আমি কী মেয়েদের সাথে মিশতে তোকে নিষেধ করেছি?”

“আপুর ঘরে দুলাভাই আছে। সিয়ামকে বলে আমি দুলাভাইকে আপুর ঘরে পাঠিয়েছিলাম। কাওকে বলে দুলাভাইকে তার বন্ধুদের কাছে পাঠিয়ে দিই?”

ফারজানা বেগম মনিরার কথা শুনে ঠিক করলেন, জামাই যখন তার মেয়ের ঘরেই আছে। তাহলে জামাইকেও মেয়ের সাথেই খেতে দেবে। অতঃপর বলল,

“না। তোর দুলাভাইকে তোর আপুর সাথেই খেতে দেব। ওদের সবাইকেই একসাথে খেতে দেব। তুই তোর ঘরে বসেই খাবি।”

মনিরা সাহস করে বলল,

“আম্মু শুধু আজকে সবার সাথে বসে খাই? আর কখনো দুলাভাইয়ের সামনে মুখ খুলব না।”

”গায়রে-মাহরাম একদিনের জন্য মাহরাম হয়ে যাবে? পরপুরুষের সামনে মুখ খোলার স্পর্ধা একদম দেখাবিনা।”

মায়ের কথায় মনিরার সারা মুখে আঁধার নামল।

তা দেখে নাফিসা বেগম বললেন,

“আমি কী আমার জন্য বলছি বল? এই যে তোর হাসি-খুশি বিসর্জন দিচ্ছিস, মৃত্যুর পর এই আমল টুকুই শুধু সাথে যাবে, আর কিচ্ছু যাবেনা। বুঝেছিস? আল্লাহকে ভয় কর মা!”

মনিরা চুপচাপ শুনল মায়ের কথা। তবে কিছু বলল না।

ফারজানা বেগম মনিরার হাতে আরেকটা শরবতের ট্রে ধরিয়ে দিয়ে বলল,

“এটা তোর আপুর ননদিনীদের দিয়ে আয় যা।”

মনিরা বিনা বাক্যে তার ঘরের দিকে পা বাড়ালো।

মনিরার প্রস্থানে তার মা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এ মেয়ে যে কবে আল্লাহর বিধান নিজে থেকে বুঝে মানবে, ফারজানা বেগম তা ভেবে হতাশ হয়! মৌ এদিক থেকে মনিরার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। ছোটবেলা থেকেই তার যেন আল্লাহর প্রতি আলাদা টান!

মনে মনে বলল,

‘আল্লাহ আমার ছোট মেয়েটাকেও তুমি তোমার দ্বীনের ওপর কবুল করে নাও।’

“দুলাভাই আপনার বউ আপনাকে ডাকছে।”

চলবে ইনশাআল্লাহ~~~~~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন