ফন্ট সাইজ:
থিম:
আপনি যে আমার-ই

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: DRM Shohag

#আপনি_যে_আমার_ই

#writer_Drm_Shohag

#পর্ব_০৬

(অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ।)

ইমন বিড়বিড় করল,

“হুহ ইমন খানের পকেট ফাঁকা করবে আর ইমন চুপচাপ থাকবে! প্রশ্নই আসে না!

আমি ভাবির সাথে পরিচিত হই, ততক্ষণে তোর সদ্য বিয়ে করা বউকে হারিয়ে একটু প্রেশার বাড়ুক।”

মনিরা ইমনকে একা একা বিড়বিড় করতে দেখে ভ্রু কোঁচকালো।

ইমন মনিরার দিকে তাকিয়ে বলল,

“ভাবি একটু এদিকে আসবেন? দরকারি কথা আছে।”

মনিরা ভ্রু কোঁচকালো। গাড়ির ভেতর যে কেউ নেই তা এখানে দাঁড়িয়েই বুঝল। আশেপাশে চোখ বুলিয়ে দেখল কেউ নেই। আশপাশটা ফাঁকা দেখে কিছুটা ভয় পেল। কিন্তুু তা প্রকাশ না করে মনে মনে সাহস জোগালো।

ইমন কোনো হেলদোল না দেখে ভাবল, সে তো তার পরিচয়ই দেয়নি। তাই হয়তো কিছু বলছে না।

অতঃপর মৃদু হেসে বলল,

“আমি সোহাগের ফ্রেন্ড ইমন। আজ তো আপনার সাথে দেখা হয়নি। পরিচিতও হয়নি। তাই ভাবলাম পরিচিতাই ভাবলাম পরিচিত হই। একটু সাইডে আসবেন প্লিজ।!”

মনিরা এবার ইমনের পরিচয় পেয়ে তার কোঁচকানো ভ্রু কিছুটা শিথীল করল। তাকে মৌ ভেবেছে তাও বুঝল। এজন্যই বারবার ভাবি ডাকছে।

ইমন এবারো মেয়েটাকে স্ট্যাচু হয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখে এক ভ্রু উঁচিয়ে তাকিয়ে রইল। পাশে চোখ ঘোরাতেই দেখল ডান কাঁধের উপর মৌমাছি বসে আছে। বলতে গিয়েও থেমে গেল। ভাবল মেয়ে মানুষ, জানলে নিশ্চিত চিৎকার করবে।

এতো রাতে একটা মেয়ে-ছেলে দাঁড়িয়ে আছে, চিৎকার শুনে রাস্তার মানুষ এসে দেখলে উলটাপালটা ভাববে। এই ভেবে ডান হাত উঠিয়ে মনিরার দিকে বাড়ালে, ইমনের ডান গালে জোরেশোরে একটা থাপ্পড় পরল। পুরো মুখ বাম দিকে ঘুরে গেল।

ইমন হতভম্ব! ব্যাপারটা বুঝতে তার পুরো ৩০ সেকেন্ড সময় লাগলো।

গালে হাত দিয়ে বিস্ময় নিয়ে সামনে তাকাল।

মনিরা রাগে ফোঁসফোঁস করতে করতে বলল,

“আমি তোর ভাবি না। ভাবির ছোট বোন। মেয়ে দেখলেই গায়ে হাত দিতে মন চায় তাইনা? বন্ধুর বউ এর ভেবে তার শালির গায়ে হাত দিতে যাচ্ছিলি, লজ্জা করেনা?”

ইমন স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে। মুখে কোনো রা নেই। কি বলা উচিৎ বুঝতে পারছেনা। মনিরার কাঁধের দিকে তাকিয়ে দেখল মৌমাছিটা নেই। অতঃপর মনিরার মুখের দিকে তাকিয়ে বহু কষ্টে সত্য কথাটা বের করতে চাইল।

হা করে কিছু বলতে গেলে একই গালে আগের চেয়েও জোরে আরেকটা থাপ্পড় পরল।

মনিরা দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

“কোনো মিথ্যা এক্সকিউস শুনতে চাইনি। তাই ২য় থাপ্পড়টা। আর জীবনে মেয়েদের দিকে হাত বাড়াতে গিয়ে ১০০ বার ভাববি। বাপ-মা শিক্ষা দিতে পারেনি।

লম্পট একটা।”

অতঃপর দ্রুত পায়ে হেঁটে বাড়ির দরজার দিকে গেল।

রাগে ইমনের শরীর কাঁপছে। যে হাত দিয়ে তাকে মেরেছে, সেই হাত এতোক্ষোণে ভেঙে গুড়িয়ে দিতো। মনিরা মেয়ে বলে সুস্থভাবে তার সামনে থেকে হেঁটে যেতে সফল হলো। রাগ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য চোখ বুজে কয়েকবার শ্বাস টানল।

অয়ন ইমনকে ভেতরে যেতে বলে বিকাশ থেকে টাকা উঠাতে গিয়েছিল। টাকা উঠিয়ে বাড়ির ভেতরে যেতে গিয়ে দাঁড়িয়ে গেল। মেহরাবের গাড়ির সামনে ইমনকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে আসল। ভ্রু কুঁচকে বলল,

“কী রে? এখানে দাঁড়িয়ে কী করছিস?”

ইমন পকেট থেকে মাক্স বের করে দ্রুত মুখে পরল। অতঃপর ইমনের দিকে ফিরে নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলল,

“এমনি ভালো লাগছিল না। এখন চল।”

তারপর অয়নকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই হনহন করে ভেতরে চলে গেল।

অয়ন বেকুব হয়ে দাঁড়িয়ে ইমনের প্রস্থান দেখল। ইমনের এমন অদ্ভুত আচরণের মানে বুঝল না। আবার মুখে মাক্স লাগিয়েছে। এর মনে কখন যে কী চলে সে বুঝে না! বেশি না ভেবে সেও বাড়ির ভেতর প্রবেশ করল।

••••••••••••••

সোহাগের মা মনিরা আর তার দাদির জন্য একটা ঘর দেখিয়ে দিল। মনিরা ঘরে গিয়ে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দিল। দাদির দিকে তাকিয়ে বলল,

“দাদি-আপু তুমি ফ্রেশ হও। তারপর আমি যাব।”

”হ, যাইতাছি।”

আকীলা বেগম বোরখা খুলে ধীর পায়ে বাথরুমের দিকে পা বাড়ালে মনিরা দৌড়ে বাথরুমে ঢুকে পড়ল। অতঃপর দাঁত কেলিয়ে বলল,

“ভুল করে তোমাকে আগে আসতে বলেছিলাম দাদি-আপু, হিহি।”

অতঃপর দরজা আটকে দিল।

আকীলা বেগম রেগে দরজায় মৃদু বারি দিয়ে বললেন,

“এই ছেমড়ি দরজা খোল। বেদ্দব মাইয়া।”

মনিরা ভেতরে থেকে হেসে বলল,

“দাদি-আপু দরজার সামনে বসে অপেক্ষা কর। আমার হয়ে গেলেই খুলব।”

আকীলা বেগম বিরক্ত হয়ে বিছানায় গিয়ে বসলেন।

কিছুক্ষণ পর মনিরা দরজা খুলল। আকীলা বেগম শব্দ পেয়ে উঠে দাড়ালেন। মনিরা তা দেখে আবার ঠাস করে দরজা লাগাল। আকীলা বেগম রেগে বললেন,

“এই ছেমড়ি বাহির হবিনা আইজ?”

মনিরা মুখে হাত চেপে হাসি আটকাল। অতঃপর বলল,

“দাদি-আপু তোমাকে বেশিক্ষণ না দেখে থাকতে পারিনা। তাই তো দরজা খুলে তোমাকে একঝলক দেখে নিলাম।”

এখন রাত ন'টা বেজে গিয়েছে। মনিরা ভাবল একেবারে ওজু করে এশার নামাজ পরে নিবে। দরজা খোলার পর মনে পরল ওজু না করেই বের হচ্ছে, তাই আবার দরজা লাগাল। কিন্তুু তার দাদি-আপুকে জ্বালাতে পারলে তার ভীষণ শান্তি শান্তি লাগে। তাই আসল কথা না বলে তার দাদি-আপুকে একটু জ্বালিয়ে নিল।

মনিরা ওজু করে বের হয়ে তার সামনে দাদি-আপুকে রেগে তাকিয়ে থাকতে দেখে মেকি হাসল।

আকীলা বেগম রেগে বললেন,

“এই মাইয়া আমার পিছে না লাগলে কী তোর প্যাটের ভাত হজম হয়না?”

মনিরা উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলল,

“তুমি তো জিনিয়াস দাদি-আপু। আমি বলার আগেই সত্যি কথাটা কীভাবে বুঝলে?”

আকীলা বেগম রেগে বললেন,

“তোর মুখ আইজ আমি সেলাই কইরা দিমু, দাঁড়া।”

মনিরা ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলল,

“সে তুমি যাই করো, আজ আমার খাওয়া বেশি হয়েছে গো দাদি-আপু। আর এসব হজম হওয়ার জন্য তোমাকে বেশি বেশি জ্বালানো লাগবে, নয়তো বদহজম হয়ে যাবে।”

আকীলা বেগম তার এই ছোট নাতনীর উপর বিরক্তির উপর বিরক্ত হচ্ছে। তিনি কোনো কথা না বলে বাথরুমে গিয়ে দরজা আটকে দিল।

এদিকে মনিরা তার দাদি-আপুকে জ্বালাতে পেরে হেসে কুটিকুটি।

~~~~~~~~~~~~

অয়ন ইমনকে অনেকক্ষণ থেকে খোঁচাচ্ছে,

“কী হয়েছে রে তোর? মুখে মাক্স লাগিয়েছিস কেন?”

ইমন চুপচাপ বসে আছে। অয়নের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছেনা। অয়ন বিরক্ত হয়ে বলল,

“আরে ভাই। হয়েছে টা কী, বলবি তো না-কি?

কথা বলছিস না কেন? আমি কী কিছু করেছি?

ইমনের হাত ধরে ঝাঁকিয়ে বলল,

কী হয়েছে বল ভাই!”

ইমন অয়নের দিকে রেগে তাকিয়ে আবার চোখ ফিরিয়ে নিল।

অয়ন হাল ছেড়ে দিল। ইমনের এমন আচরণ তাকে বেশ ভাবাচ্ছে। ইমন হাসি-খুশি ছেলে। এমনি এমনি অদ্ভুত আচরণ করছেনা তা অয়নের জানা। কিন্তুু সে টাকা আনতে গেল, আবার ফিরে আসল। এর মাঝে কী এমন হলো সেটাই খুঁজছে অয়ন।

সোহাগের মা অয়নকে শরবত দিলে, অয়ন মৃদু হেসে তা নিয়ে মুখে দিল। ইমনকে দিলে ইমন বলল,

“আন্টি আমি খাব না।”

নাফিসা বেগম ইমনের কথায় কপালে ভাঁজ ফেলে চাইল। হেসে বলল,

“খাবে না কেন বাবা? অনেক গরম পরেছে। খেয়ে নাও, ভালো লাগবে।

আর এই গরমে মাক্স পরে আছো কেন?”

ইমন মাক্স এর আড়ালে মৃদু হেসে বলল,

“এলার্জিটিক প্রবলেম এর জন্য।”

নাফিসা বেগম আর জোর করলেন না। চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালে ইমনের কথা শুনে দাঁড়িয়ে গেল।

“আন্টি আমি বাসায় যাবো। আপনাকে বলার জন্যই ভেতরে আসলাম।”

অয়ন অর্ধেক শরবত খেয়ে ইমনের দিকে হা করে চেয়ে আছে। তারা কত কিছু প্লান করল। মেহরাবের পিছে লাগবে বলে। আর এখন বলছে আন্টিকে বলার জন্যই ভেতরে আসল। সিরিয়াস কিছু না-কি! ইশরাত এর কিছু হয়নি তো! ভাবতেই অয়ন ভীত হলো।

নাফিসা বেগম ভ্রু কুঁচকে বললেন,

“কেন? তোমার কী শরীর খারাপ লাগছে বাবা?”

ইমন ভাবল এটা বললে বোধয় তাকে যেতে দেবে। তাই বলল,

“জ্বি আন্টি। এলার্জি চাপ দিয়েছে।”

নাফিসা চিন্তিত কণ্ঠে বললেন,

“আচ্ছা একটু অপেক্ষা কর আমি তোমাকে একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। সাথে ওষুধের ব্যবস্থাও করছি।”

ইমন পড়ল বিপাকে। ভাবল অসুস্থ বললে যেতে দেবে। কিন্তুু হলো তার উল্টো। অতঃপর বলল,

“আন্টি আমাকে নিয়ে ব্যস্ত হবেন না। আজ আমি বাড়ি যাই। আবার কালকে আসব।”

“আমি কোনো কথা শুনতে চাইনা। তুমি আর অয়ন বাবা আগামী তিনদিন নিজেদের বাড়ি যাওয়ার জন্য এ বাড়ি থেকে এক পা বাড়াবেনা।”

ইমন আর কিছু বলার মতো খুঁজে পেল না।

নাফিসা বেগম যেতেই অয়ন উদ্বিগ্ন কণ্ঠে প্রশ্ন করল,

“ইশরাত ঠিক আছে?”

ইমন এক ভ্রু উঁচিয়ে অয়নের দিকে তাকালে অয়ন থতমত খেয়ে মেকি হেসে বলল,

“তোকে স্বাভাবিক লাগছেনা, তাই খোঁজ নিচ্ছি। আর....”

ইমনের কথায় থেমে গেল।

”ঠিক আছে।”

ইমনের ঠিক আছে কথাটি শুনে অয়ন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। এখন নিজেকে অনেকটা হালকা লাগছে। অতঃপর সন্দেহের দৃষ্টিতে চেয়ে বলল,

“তোর মুখে কবে থেকে এলার্জির প্রবলেম শুরু হলো?”

“আজ থেকে।”

সোহাগের মামা ফায়সাল রহমান এর ডাকে ইমন, অয়ন দুইজনই সামনে তাকাল।

”ইমন, অয়ন বাবারা আমার সাথে এসো।”

ফায়সাল রহমানের পিছু পিছু ইমন, অয়ন গেল।

একটা ঘরের সামনে এসে ফায়সাল রহমান পকেট থেকে এলার্জির ওষুধ বের করে ইমনের হাতে দিয়ে বলল,

“এটা রাখো।”

ইমন কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ ওষুধ নিল। অতঃপর ঘরে গিয়ে সোজা বেলকনিতে চলে গেল। অয়ন ইমনকে আর ঘাটলো না। দরজা আটকে বিছানায় হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়ল। ইমন সোজা বেলকনির দিকে গেল।

~~~~~~~~~~~

সোহাগের সব বোন ঘরে গিয়ে শুয়ে বসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিল। অতঃপর মারুফা বলল,

“চল ভাবির ঘরে যাই। নয়তো সোহাগ ভাইয়া আবার চলে যাবে। একবার তার ঘরে চলে গেলে আমাদের সব প্লানিং শেষ। চল চল।“

নিশু বলল,

“হ্যাঁ চল। তুই তো অলরেডি খাবার অর্ডার করে রেখেছিস। চল। নয়তো তোকে ওই রেস্টুরেন্টে গিয়ে থালাবাসন মাজতে হবে।”

মারুফা বলল,

“তোদের সবার জন্যই করেছি। মাজতে হলে সবাইকেই যাওয়া লাগবে।”

মারিয়া বলল,

“আরে থাম তোরা। চল যাই। নয়তো সত্যি সত্যি আমাদের টাকার অভাবে থালাবাসন মাজতে হবে। তোরা যা খাদক আমাদের টাকা দিয়ে বিল পরিশোধ হবেনা। আম্মুদের বললে উল্টে বাসার সব কাজ করাবে।”

মারিয়ার কথা শুনে মিশু বলল,

“ঠাকুর ঘরে কে রে?”

নিশু, মারুফা একসাথে বলে উঠল,

“আমি কলা খাইনি।”

মারিয়া বলে উঠল,

“আরে আমাকে চোর প্রমাণ করতে হবে না। আমি কী অস্বীকার করেছি নাকি যে আমি বেশি খাই না!”

মারুফা রেগে বলল,

“শুধু বেশি না। আমাদের তিনজনের খাবার তুই একাই সাবাড় করে দিয়ে থাকিস। আর আমাদের খাদক বলছিস? খাদকের নানি কোথাকার।”

মিশু বলল,

”তোরা কী যাবি? না-কি আমি ঘুমাবো?”

নিশু বলল,

”যাচ্ছি আমি।”

অতঃপর সবাই মিলে সোহাগের ঘরের দরজায় গিয়ে নক করল। মারিয়া বলল,

“ভাবি আছো?”

মৌ বিয়ের শাড়ি বদলে সুতি শাড়ি পরে নামাজ পড়ছিল। দরজার বাইরে থেকে আওয়াজ শোনায় নামাজে মনোযোগ কিছুটা ব্যাঘাত হলো। আর তাই মৌ পড়ল,

‘আ'ঊযুবিল্লা-হি মিনাশ্ শা*ইতনির্ রজীম্’

অতঃপর বাম দিকে ইশারায় তিনবার থুতু ফেললো।’

তারপর আবারও নামাজ মনোযোগ এর সহিত আদায় করতে লাগলো।

★ উসমান ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন:

‘আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! শয়*তান আমার ও আমার সালাতের মাঝে অনুপ্রবেশ করে এবং কিরআতের ব্যাপারে দৌদুল্যতা সৃষ্টি করে।’

তখন রাসূল (সা:) বলেন,

‘ঐ শয়*তানের নাম হচ্ছে খানযাব, যখন তুমি তার উপস্থিতি অনুভব করো তখন ওথেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো, আর তোমার বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলো। (মুসলিম-৪/১৭২৯)

উসমান ইবনু আবুল আসের হাদীস এটি। সেখানে বলা আছে যে, তিনি বলেন,

‘আমি যখন এই দু'য়া পাঠ করি তখন আল্লাহ তায়ালা শয়*তানকে আমার নিকট হতে দূরে সরিয়ে দেন।

মৌ সালাম ফিরিয়ে উঠে দাড়ালো। অতঃপর দরজা খুলে দিল। সবার দিকে তাকিয়ে বলল,

“দুঃখিত আপুরা। আমি নামাজ পড়ছিলাম, তাই খুলতে দেরী হলো।”

মারিয়ারা সবাই ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলল,

“আরে ভাবি সমস্যা নেই। আমরা আমরাই তো।”

মারুফা অবাক হয়ে বলল,

“ভাবি তোমার তো আজকে বিয়ে। তুমি তবুও নামাজ পড়ছ?”

মৌ মারুফার কথা শুনে ভ্রু কোঁচকালো। ভাবল বিয়ের দিন নামাজ পড়া যায়না এমন কোনো হাদীস তো শোনেনি, শুনবে কী করে! এমন হাদীস তো নেই-ই। অতঃপর মৃদু হেসে বলল,

“মুসলিম হতে হলে নামাজ পড়তেই হবে আপু। রাসুল (সা:) বলেছেন, কাফির আর মুসলিম দের পার্থক্য হলো নামাজ। যেকোনো পরিস্থিতিতেই নামাজ পড়তে হবে, মিস দেয়া যাবেনা। অতঃপর উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল,

আপু তোমরা বসো না!”

মিশু সহ তারা চার বোন সবাই বিছানায় বসল। অতঃপর মিশু বলল,

“ভাবি তুমি কী আজ কোনো নামাজ মিস দাওনি?”

মৌ বলল,

“না আপু। নামাজ মিস দিব কেন? সব নামাজই পড়েছি আলহামদুলিল্লাহ। তোমরা পড়োনি?”

সবাই একসাথে বলে উঠল,

“না ভাবি।”

মারিয়া বলল,

“আমরা তো অনুষ্ঠান বা কোথাও ঘুরতে গেলে নামাজ পড়ি না, এরকম করলে কী অনেক গুনাহ হবে ভাবি?”

মৌ এদের কথা শুনে অবাক হলো। ভাবল সুন্দর করে বুঝিয়ে বললে এরা নামাজের গুরুত্ব বুঝবে। অতঃপর সবার উদ্দেশ্যে বলতে শুরু করল,

“নামাজ এমন একটি ইবাদত, এটা কোনো অবস্থাতেই মাফ নেই। আল্লাহ বলেছেন,

তোমরা দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় না করতে পারলে বসে আদায় করো, বসে না পারলে শুয়ে আদায় করো। একদম নড়াচড়া না করতে পারলে ইশারায় পড়।

আরও বলেছেন,

ওজু করতে না পারলে মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নামাজ আদায় করো। মাটি না থাকলে ওজু ছাড়াই পড়। এই একটা ইবাদতের কোনো মাফ নেই। পড়তেই হবে।”

মৌ এর কথা সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনল। সবার খুবই খারাপ লাগলো। ইশ তারা কত দিন যে নামাজ আদায় করেনি। তারা তো নিজেদের মুসলিম বলেই পরিচয় দেয়, অথচ কত অজুহাতে কত নামাজ যে মিস দিয়েছে।

মৌ আবারও বলতে শুরু করল,

“নামাজ এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলি। আমরা নামাজে দাঁড়ালেও আসলে আমরা মূলত সরাসরি আল্লাহর সাথে কথা বলতে আল্লাহ সামনে দাঁড়িয়ে যাই। যখন সিজদাহ্ করি তখন আল্লাহর কুদরতি পায়ে মাথা ঠেকাই। প্রতিদিন শত ব্যস্ততার মাঝেও যরা পাঁচবার আল্লাহর ডাকে সাড়া দেয় তাদের আল্লাহ ভালোবাসেন। অনেক ভালোবাসেন।”

মৌ এর কথা শুনে সবার চোখ ভিজে গেল। মিশু ভাঙা গলায় বলল,

“ইশ আমরা কত নামাজ মিস দিয়েছি। আল্লাহ কী আমাদের আর ভালোবাসবেন না ভাবি?”

মৌ সবার দিকে তাকিয়ে দেখল সবার চোখ ভেজা, যেন টোকা দিলেই টপটপ করে পানি ঝরবে। আর মিশুর চোখ বেয়ে পানি ঝরতে শুরু করেছে। মৌ এর নিজেরও চোখ ভিজে গেল।

চোখ বুজল। আল্লাহকে স্মরণ করল। মহান আল্লাহই যে প্রকৃত শান্তিদাতা। আল্লাহকে স্মরণ করলে চোখ ভেজে, প্রশান্তির পানি জমো চোখের কোণায়।

মৌ বড় করে শ্বাস টেনে স্বাভাবিক হয়ে মুচকি হেসে বলল,

“একটা হাদীস শোনাই তোমাদের?”

সবাই বলল, “শোনাও ভাবি।”

মৌ বলতে শুরু করল,

“ধরো কোনো মরুভূমিতে একজন লোক তার উট হারিয়ে ফেলেছে। চারিদিকে খাঁখাঁ মরুভূমি। জনমানবশূন্য জায়গা। কোথাও পানি নেই। চাইলেও আর বাড়ি ফিরতে পারবেনা। তার মৃত্যু নিশ্চিত, এমন সময় দূর থেকে সেই লোক তার সেই হারিয়ে যাওয়া উট খুঁজে পেয়ে কতটা খুশি হবে ভাবো?”

নিশু বলল,

“উটকে ফিরে পাওয়া মানে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা। এটার খুশি তো পরিমাপ করা যাবেনা।”

মৌ মুচকি হেসে বলল,

“মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া তার উটকে পেয়ে সেই ব্যাক্তি যতটা খুশি হয়, আল্লাহর কোনো বান্দা পাপ করে আল্লাহর কাছে তওবা করে ফিরে গেলে আল্লাহ তার চেয়ে অনেক বেশি খুশি হয়।

এবার তোমাদের উত্তর পেয়েছো? আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসেন কি-না!”

মৌ এর কথা শুনে সবাই পানি ভর্তি চোখে হেসে ফেলল। মিশু হঠাৎ ফুঁপিয়ে উঠে বলল,

“আল্লাহ এতো দয়ালু ভাবি? এতো ভালোবাসেন আমাদের? আমরা তো তাকেই ভুলে দিব্যি দিন কাটিয়ে দিই।”

মৌ হেসে বলল,

“আর কখনো নামাজ মিস দিও না কেমন? এখন নামাজ পড়ে নাও এখানে। আজকের যে নামাজ পড়োনি সেগুলোর শুধু ফরজ নামাজ কাজা পড়ে এশার নামাজ পড়ে নাও।”

মৌ এর কথায় চার বোন একে একে ওজু করে এসে নামাজে দাঁড়িয়ে গেল। মৌ পএই দৃশ্য দেখে প্রশান্তির শ্বাস ফেলল। মনে মনে বলল,

‘তোমার কাছে হাজার কোটি শুকরিয়া রহমান আল্লাহ। তুমি ওদের সঠিক বুঝ দিয়েছ। আলহামদুলিল্লাহ।’

~~~~~~~~

চার বোন নামাজ শেষ করে উঠে দাড়ালো। মারুফা এসে মৌ কে জড়িয়ে ধরে বলল,

“তোমায় অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাবি। তুমি আমাদের সঠিক পথ দেখিয়েছো।”

মৌ মারুফার পিঠে হাত বুলিয়ে বলল,

“সবকিছুর মালিক আল্লাহ। হেদায়েত দেয়ার মালিকও আল্লাহ। আমি অছিলা মাত্র।”

মারুফার হঠাৎ ঘড়ির দিকে চোখ পড়ল, ঘড়ির কাটা ১১ টা বেজে পঁয়তাল্লিশ মিনিটে। তাড়াতাড়ি মৌ কে ছেড়ে বলল,

“ভাবি তুমি তাহলে থাকো। তোমার বর এক্ষুনি এসে যাবে। দরজায় দাঁড়াতে হবে। নয়তো আমাদের অনেক বড় লস হবে।”

মৌ কিছুই বুঝল না। কিছু বলার আগেই তাড়াহুড়ো করে চার বোন বেরিয়ে দরজা আটকে দিল বাইরে থেকে। মৌ বোকার মতো তাকিয়ে রইল। অতঃপর ভাবনা রেখে মোবাইলের এ্যাপস্ থেকে কুরআন পড়তে আরম্ভ করলো।

মারিয়া বলল,

“তোরা দরজার এখানে দাঁড়িয়ে থাক। আমি খালা-মনির থেকে একটা তালা চাবি আনি।”

এই বলে দৌড় দিল।

★★

“ফুপি একটা তালা চাবি দাও।”

“কি করবি?”

“তোমার ছেলেকে আটকাব। তাড়াতাড়ি দাও।”

নাফিসা বেগম ছেলে-মেয়েদের কান্ড দেখে হেসে ফেললেন। অতঃপর মারিয়ার হাতে তালাচাবি ধরিয়ে দিলেন।

মারিয়া তা নিয়ে আবার সোহাগের ঘরের দিকে দৌড় লাগালো।

তালা চাবি মিশুর হাতে দিলে মিশু তা ঘরে লাগিয়ে দিল। পিছন থেকে সোহাগ বলল,

“কি রে আমার ঘরের সামনে তোরা কী করছিস?”

মিশু বলল,

“তোমার বউ কে পাহারা দিচ্ছিলাম।”

“তো এবার যা। আমি তো এসে গেছি। আর পাহারা দিতে হবেনা।”

“আমাদের পাওনা মিটিয়ে দাও ভাইয়া।”

এই বলে চার বোন হাত বাড়াল। সোহাগের পাশ থেকে মাসুদ মারুফার পাশে দাঁড়িয়ে বলল,

”হ্যাঁ দিয়ে দে আমাদের পাওনা।”

“তোর আবার কীসের পাওনা?”

“তোর ঘর সাজাতে হেল্প করেছি। দে।”

”তুই তো ছেলের বাবা হয়েছিস। আমি তোর ছোট। সরে যা তোরা। বিয়ে করে অনেক টাকা অলরেডি চলে গিয়েছে।”

মাসুদ বলল,

“ছেলের ভাগের অংশ ও নিতে এসেছি। বার বার বলে ঘুমিয়েছে তার ভাগ এর টাকা না নিয়ে যেন না ঘরে ফিরি।”

সোহাগের খুব ক্লান্ত লাগছে। সে আর কথা বাড়ালো না। বলল কত?

মিশু বলল,

“২০ হাজার।”

“এতো দিতে পারব না।”

“এতোই দিতে হবে।”

সোহাগ বুক পকেট থেকে ১৫ হাজার বের করে এক হাতে পাঁচ হাজার রেখে আরেক হাত দিয়ে ১০ হাজার দিতে গেলে মারুফা পাশ থেকে পাঁচ হাজার টাকা টান দিয়ে নিয়ে নিল।

সোহাগ অসহায় হয়ে বলল,

“তোরা এমন ডাকাত হলি কীভাবে?”

“সে যাই বলো। পাঁচ হাজার কম আছে। বাকি টাকাটা দাও।”

“আর নাই কাছে। ঘরে আছে।”

“চালাকি করছো না তো?”

“চেক করে দেখ নাই।”

“আচ্ছা আচ্ছা, দিতে হবে কিন্তুু।”

সোহাগ ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বলল,

“অবশ্যই আমার আদরের বাদর বোনগুলোকে না দিয়ে কাকে দিব?”

নিশু বলল,

”টাকার জন্য কিছু বলছি না। নইলে তোমার খবর ছিল হু!”

সোহাগ বলল,

”আচ্ছা এবার যেতে দে। ক্লান্ত লাগছে।”

সোহাগের কথায় মারিয়া তালা খুলে দিলে সোহাগ ধীরে ধীরে ঘরে গেল। অতঃপর দরজার দিকে ফিরে সবার দিকে তাকিয়ে বলল,

”একটু অপেক্ষা কর।”

এই বলে সামনে তাকিয়ে বলল,

”ফুপি কিছু বলবে?”

সোহাগের কথায় সবাই পিছন ফিরলে সোহাগ সাথে সাথেই ঠাস করে দরজা লাগিয়ে ছিটকিনি লাগিয়ে দিল।

চার বোন আর মাসুদ দরজা লাগানোর শব্দ পেয়ে পিছন ফিরলে দেখল দরজা লাগানো। বুঝল তাদের বাটপার ভাই তাদের বোকা বানিয়েছে।

চার বোন আর মাসুদ বোকার মতো একে-অপরের দিকে তাকালো। অতঃপর সবাই দরজায় বারি দিয়ে বলল,

”সোহাগ ভাইয়া টাকা দাও। এটা ঠিক নয়। তুমি বাটপারি করেছ আমাদের সাথে। আমাদের পাওনা আমাদের দাও।”

ভিতর থেকে সোহাগ বলল,

“সারারাত দরজার সামনে আনাগোনা করা মশা গুলোকে পাহারা দে। তাহলে আরো বোনাস পাবি।”

চলবে ইনশাআল্লাহ~~~~~~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন