ফন্ট সাইজ:
থিম:
আপনি যে আমার-ই

১২তম পর্ব

লেখক: DRM Shohag

#আপনি_যে_আমার_ই

#writer_Drm_Shohag

#পর্ব_১২

(অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ।)

সোহাগ অফিস যাবে বলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শার্ট-প্যান্ট পরছিল। মৌ দরজায় দাঁড়িয়ে তার স্বামীকে নিখুঁতভাবে পরোখ করছিল। মানুষটা সুন্দর। বিয়ের দিন এতো সুন্দর লাগেনি, এখন যতটা লাগছে।

আসলে ভালোবাসা যত বাড়ে ভালোবাসার মানুষটা তার চোখে তত সুন্দর হতে থাকে। এজন্যই হাজারো অসুন্দর মেয়ে তার স্বামীর কাছে আসমান থেকে নেমে আসা পরী।

সোহাগ মৌ কে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মৃদু হেসে বলল,

“ওখানে দাঁড়িয়ে কী করছ?”

মৌ ভেতরে এসে বলল,

“আপনাদের তো নিজের ব্যবসা। তাহলে একদিনও মিস দিলেন না কেন? বিয়ের পরদিন থেকে প্রতিদিন যাচ্ছেন।”

সোহাগ আয়নায় মৌ এর মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,

“বিয়ের তিনদিনের মাথায় তুমি বর কে এতো মিস করতে শুরু করেছ? তাহলে আমি ব্যবসার কাজে বাইরে গেলে কীভাবে থাকবে?”

“ধ্যাত! আমি সেটা কখন বললাম?”

“তাহলে কোনটা বললে?”

“আপনি কখনো দেখেছেন জামাই তার শ্বশুর বাড়ি দু'দিনের জন্য গিয়ে সেখান থেকে অফিস যায়?”

সোহাগ বলল,

”আচ্ছা আর মিস করতে হবে না। আমি তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরব ইনশাআল্লাহ।”

মৌ ভ্রু কুঁচকে তাকালো সোহাগের দিকে। তাকে বলছে কী আর এই সাহেব তাকে উত্তর দিচ্ছে কী!

সোহাগ মৌ এর রিয়েকশন দেখে হাসল। অতঃপর বলল,

“আমার গজলের রিভিউ তো দিলেনা।”

মৌ উত্তর দিল না। সোহাগ তা দেখে বলল,

“ভাবছি একটা গার্লফ্রেন্ড বানাবো। সে অভিমান করলে তাকে গজল গেয়ে শোনাবো। তারপর তার থেকে রিভিউ নিব। বউ তো দিচ্ছে না। কী আর করার।”

মৌ সোহাগের কথা শুনে মাথা নিচু করে নিল। নখ দিয়ে মেঝে খুঁটতে খুঁটতে ভাবল,

‘মানুষটা সবসময় তাদের মাঝে আরেকজনকে কেন টেনে কথা বলে!

গজল শুনতে মৌ এর এমনিতেও ভালো লাগে। আর প্রিয় মানুষের মুখ থেকে শুনতে আরও কতই না ভালো লাগবে! সোহাগ কী নিজে থেকে তাকে পড়ে নিতে পারে না? কথায় কথায় থার্ড পারসন কে টেনে আনা মৌ এর খুব অপছন্দের।

চোখ ভিজে উঠল। সোহাগের পাশে অন্য কাওকে ভাবলে অটোমেটিক চোখ ভরে ওঠে। ইয়ারকি করেও জিনিসটা মৌ সহ্য করতে পারে না। চোখের কোণা দিয়ে পানি গড়ালো।

মৌ কে চুপ হয়ে যেতে দেখে সোহাগ ভ্রু কোঁচকালো। শার্ট এর দুটে বোতাম খোলা রেখেই মৌ এর কাছে এসে দাঁড়ালো। মৌ তাকালো না তার দিকে। সোহাগ তার দুই হাতে মৌ এর মুখখানি ধরে তার দিকে করল। মৌ চোখ নামিয়ে রেখেছে। গালে গড়িয়ে পরা পানি।

মৌ এর দিকে তাকিয়ে সোহাগ হতবাক হয়ে গেল। সে তো মজা করে বলেছে। আর এই মেয়ে কেঁদে ভাসাচ্ছে। সোহাগ হাসবে না কাঁদবে বুঝল না।

খারাপই লাগলো। সে শুধু কাঁদাচ্ছেই মেয়েটাকে। কিন্তুু এখন তো মৌ কে রাগিয়ে দিতে কথা টা বলেছিল। ভেবেছিল মৌ রেগে গিয়ে তাকে কিছু বলবে। সোহাগ মৌ এর রাগ উপভোগ করবে। কিন্তুু

হলো তার উল্টো।

মৌ সোহাগের হাতের উপর হাত রেখে সোহাগের হাত তার গাল থেকে সরিয়ে দিতে চাইলো। সোহাগ ছাড়লো না। করুন সুরে বলল,

“আমি মজা করে বলেছি মৌ বউ বিশ্বাস কর। সত্যি বলছি।”

মৌ তবুও সোহাগের দিকে তাকালো না। সোহাগ কী করবে ভেবে পেল না। বউটা তার এতো অভিমানী! কিছু বলতে দেরি করলেও অভিমান করতে দেরি হয় না। মৌ এর চোখের পানি হাত দিয়ে মুছে দিল।

তারপর মৌ এর গাল থেকে হাত সরিয়ে নিজের দুই কানে দিয়ে বলল,

“সরি অভিমানী মৌ বউ! কান ধরেছি। আর এমন হবে না।”

মৌ আড়চোখে সোহাগের দিকে তাকালো। হাসি পেল। কিন্তুু হাসল না। গম্ভীর গলায় বলল,

“আমি কালকে কী বলেছিলাম ভুলে গেছেন?”

সোহাগ মনে করার চেষ্টা করল,

‘আপনার মুখে অন্য মেয়ের কথা শুনতে আমার ভীষণ মন পুড়ে।’

সোহাগ জিভেয় কামড় দিল। ইশ মজা করার আর টপিক পায়নি। অতঃপর মিনতির স্বরে বলল,

“আর হবে না মৌ বউ এই ভুল। এই যে কানে ধরলাম তো।”

মৌ বলল,

“আচ্ছা ঠিক আছে।”

সোহাগ মৌ কে স্বাভাবিক হতে দেখে বলল,

“আমার গজলের রিভিউ?

“সত্যি বলব না-কি মিথ্যা?”

“অবশ্যই সত্যি”

মৌ মনে মনে হেসে বলল,

আমাকে উল্টাপাল্টা বলে জ্বালানো তাই না? আমিও কম পারিনা! অতঃপর বলল,

”খুবই বিশ্রী”

সোহাগ মৌ এর দিকে তাকিয়ে দেখল মৌ এর ঠোঁটের কোণে হাসি। তা দেখে ঠোঁট বাকিয়ে হেসে বলল,

“তোমাকে দেখতে? তা আমি জানি। কিন্তুু আমার কোনো প্রবলেম নেই। আমাি এই বউ নিয়েই সারাজীবন থাকব ইনশাআল্লাহ।”

মৌ ভ্রু কুঁচকে বলল,

“আপনার গজল বিশ্রী বলেছি।”

সোহাগ মনে মনে হেসে উপর থেকে গম্ভীর মুখে বলল,

”হ্যাঁ জানি তো তুমি বিশ্রী। এতোবার বলতে হবে না। আমার কান একদম ঠিক আছে।”

মৌ বুঝল সোহাগ তার সাথে আবার মজা করছে। সোহাগ কিছু বুঝে ওঠার আগেই মৌ সোহাগের কাছে গিয়ে পা উচুঁ করে সোহাগের কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল,

“আপনার গজল বিশ্রী বিশ্রী বিশ্রী।”

সোহাগ দ্রুত মৌ এর কাছ থেকে সরে গিয়ে কানে আঙুল দিয়ে বলল,

“আমার কানের বারোটা বাজালে গো বউ। এখন যে সবাই তোমায় বয়রার বউ বলে ডাকবে।”

মৌ রেগে বলল,

“ডাকুক। আপনি আমার সাথে মজা করছেন কেন!”

সোহাগ ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বলল,

”বউ আমার প্রশংসা করেনা।”

মৌ মেকি রাগ দেখিয়ে বলল,

“আর আমার বর তে প্রশংসা করেই না উল্টে আমাকে বিশ্রী বলছে।”

সোহাগ মৌ এর দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল,

“আমার মুখ বিশ্রী বললেও চোখ তো সুন্দর বলে। মুখ থেকে বিশ্রী শব্দ বেরলেও চোখ তো তোমাতেই আটকে থাকে। সুন্দর, বিশ্রী এসব সংজ্ঞায়িত করতে চাই না। এসব বলায় কী আসে যায়?"

যেখানে সোহাগের দুটি চোখ শুধু মৌ কে খোঁজে,

সোহাগের একটি মন শুধু মৌ কেই বোঝে!”

মৌ সোহাগের দিকে তাকিয়ে ছিল। চোখে চোখ পরায় চোখ নামিয়ে মৃদু হাসল। অতঃপর বলল,

“যেখানে মৌ এর ভালো লাগে বলে

অন্যদের গজল শোনে,

সেখানে তার প্রিয়জনের কণ্ঠে গাওয়া গজল মৌ এর কতটা মন ছুঁয়েছে তা কী তার স্বামী বোঝে!”

সোহাগের তার বউ এর কথা শুনে তার ঠোঁটের কোণের হাসি বিস্তৃত হলো।

অতঃপর বলল,

“আমি তোমায় প্রিয়জন বউ?”

মৌ ভ্রু কুঁচকে তাকালো সোহাগের দিকে। অতঃপর বলল,

“না তো!”

সোহাগ অবাক হয়ে বলল,

“তাহলে কে?”

মৌ দাঁত বের করে হেসে বলল,

“পাশের বাসার আঙ্কেল।”

সোহাগ দুঃখী দুঃখী মুখ করে বলল,

“হায়! গজল শোনালাম আমি। প্রিয়জন হয়ে যাচ্ছে পাশের বাসার আঙ্কেল!”

মৌ সোহাগ এর কথা শুনে শব্দ করে হেসে ফেলল। অতঃপর নিচু হয়ে বসলে সোহাগ বলল,

“আরে কী করছ? আমি করে নিচ্ছি।”

মৌ মৃদু হেসে বলল,

“বউ ভালোবেসে কিছু করলে বাঁধা দিতে নেই।"

অতঃপর সোহাগের প্যান্ট গিরার উপর পর্যন্ত গুটিয়ে দিল। অতঃপর উঠে দাঁড়িয়ে সোহাগের শার্ট এর হাতা গুটিয়ে দিল। চুলে হাত বুলিয়ে ঠিকঠাক করে দিল।

সোহাগ অপলক তার বিবাহিত বউ কে দেখছে।

তারপর মৌ হাঁটুর নিচ পর্যন্ত হিজাব পড়ে মুখ ঢেকে সোহাগের হাত ধরে ঘর থেকে বের হলো।

মেইন গেইটের কাছে গিয়ে বলল,

“সাবধানে যাবেন। আর দোয়া পড়ুন।”

সোহাগ মাথা নাড়ল।

মৌ আবার বলল,

“দেখেশুনে বাইক চালাবেন। আর হেলমেট অবশ্যই সবসময় মাথায় রাখবেন।

সাবধানে বাইক চালাবেন।”

মৌ এর অস্থিরতায় সোহাগ হিজাব এর উপর দিয়েই মৌ এর মুখে হাত বুলিয়ে মৃদু হেসে বলল,

“চালাব মৌ বউ।”

অতঃপর তার গন্তব্যে চলে গেল।

★★

কালকে চোর পিটানি খেয়ে ইমনের গায়ে হালকা জ্বর উঠেছিল। এখন যদিও নেই। কিন্তুু মৌ এর বাবা তাদের যেতে দেয়নি। কালকে যেভাবে মনিরা আপ্যায়ন করেছে। সবমিলিয়ে মৌ এর বাবা মা কিছুতেই ইমন, অয়নকে যেতে দেয়নি।

সোহাগ নিজের অফিসে কাজ করে আবার এখানে চলে আসবে।

ইমন শুয়ে শুয়ে বলল,

”ভাই ওই মিষ্টি-ঝাল মেয়ে আমার সাথে একদম ঠিক করেনি।”

অয়ন অবাক হয়ে বলল,

“সোহাগের শালি কে এসব নামে ডাকছিস ও শুনলে তোকে থাপড়াবে।”

“আরে সোহাগ আমাদের ভাই। ওকে এতো ভয় পাওয়ার কী আছে?”

অয়ন হেসে বলল,

“সোহাগ রেগে গেলে কে যেন আমার পিছে লুকায়!”

ইমন বিরক্ত হয়ে বলল,

“রেগে গিয়ে মারলে যা লাগে ভাই! চোর হয়ে যা পিটানি খাইলাম তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি লাগে আমার কী মনে হয় জানিস রেগে গেলে ওর শরীর হাতুড়ি হয়ে যায়।”

“তোর বাজে বকা শুরু হচ্ছে আবার?”

ইমন ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বলল,

“তুই একবার ভাব। ওইটুকু মেয়ে আমার সাথে দেখা হলেই, হয় আমাকে মারছে। নয়তো মার খাওয়াচ্ছে। এটা কী ঠিক বল?

“এটাই ঠিক। মানুষের বাড়ি এসেও তোর রাত-বিরেতে সিগারেট না খেলে হয় না?

সোহাগ জানলে পারলে কী করবে ভেবেছিস?”

ইমন ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলল,

“সোহাগ জানবে না।”

“আমি বললেও না?”

“তুই তো আমার বন্ধু।”

“বন্ধু বলেই বলব। সোহাগের হাতের থাপ্পড় না খেলে তুই সোজা হবি না”

“আমি তো সোজাই আছি। দেখ একদম সোজা হয়ে শুয়ে আছি।”

অয়ন ইমনের কথার উত্তর না দিয়ে ফোনে মনোযোগ দিল।

এদিকে ইমন ভাবতে লাগলো কী করা যায়! কিছুক্ষণ ভাবতেই মাথায় একটা দারুণ বুদ্ধি এলো। অতঃপর উঠে লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নেমে অয়নকে বলল,

“ভাই বুদ্ধি পেয়েছি।”

অয়ন ভ্রু কুঁচকে বলল,

“তোর কুবুদ্ধি তোর কাছে রাখ।”

“এই তুই আমার বন্ধু হতেই পারিস না। ওই মেয়ে আমাকে এতো মার মারল। আর তুই আমাকে একটু সাহায্যও করছিস না।”

অয়ন মুখের সামনে হাত নাড়িয়ে বলল,

“যা গোসল করে আয়। গা থেকে জ্বরের গন্ধ বের হচ্ছে।”

অয়নের কথা শুনে ইমন অয়নের পাশে গা ঘেষে বসল। অয়ন রেগে বলল,

“যাবি এখান থেকে?”

ইমন সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলল,

“কী ব্যাপার? আমাকে দূরে সরতে বলছিস কেন? তোর হরমোন তার মানে ঠিকঠাক? আলহামদুলিল্লাহ। অনেক দোয়া করেছি জানিস।”

“তুই সোজা হবি-ই না ঠিক করে নিয়ে নিয়েছিস?”

ইমন অয়নের পাশ থেকে উঠে দাঁড়ালো। অতঃপর তার দুই হাত দিয়ে অয়নের চোখ ডলে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল,

“এবার দেখ আমি সোজা কী-না!”

অয়ন রেগে কিছু বলতে গিয়েও বলল না। চোখ বুজে রইল। এই বেয়াদবের সাথে কথাই বলবে না সে। এদিকে ইমন অয়নকে রাগিয়ে মিটমিট করে হেসে ওয়াশরুমে গেল।

★★

মৌ সোহাগ যাওয়ার পর মনিরার ঘরে গিয়েছে। গিয়ে দেখল মনিরা বই পড়ছে। দাদি-আপু ঘরে নেই।

মৌ মনিরাকে বলল,

“মনিরা কি করছিস?”

মনিরা বইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকলেও কিছু যেন ভাবছিল। মৌ উত্তর না পেয়ে মনিরার পাশে এসে দাঁড়ালো। মনিরাকে গভীর ভাবনা মত্ত দেখে মৌ বইয়ের উপর একটা হাত দিয়ে বারি দিল। মনিরা ভয় পেয়ে বলে উঠল ,

“কে? কে?”

পাশে তাকিয়ে মৌ কে দেখে বোধয় ভয় পেল। যেন মৌ তার ভাবনা ধরে ফেলেছে। মৌ এর অদ্ভুত লাগলো তাকে দেখে এমন ভয় পাওয়ার কী আছে? যদিও কালকে রাতের ঘটনায় ভয় পাওয়াটাও স্বাভাবিক। ভাবনা রেখে বলল,

“কী ভাবছিলি?”

মনিরা আমতা আমতা করে বলল,

“চোর ভা.... বলতে গিয়ে থেমে গেল। কী বলছে নিজেই জানে না। অতঃপর হেসে বলল,

“কিছু না আপু। তুমি কিছু বলবে?”

মৌ তীক্ষ্ণ চোখে মনিরার দিকেই তাকিয়ে ছিল। অতঃপর বলল,

“হুম। আয় আমার পাশে বোস। কথা আছে।”

এই বলে মনিরার হাত ধরে বিছানায় নিজে বসে মনিরাকেও বসালো। মৃদু হেসে বলল,

“কালকে রাতে ঘরের বাইরে গেছিলি কেন?”

মনিরা ভয় পেয়ে গেল। মনে হচ্ছে সেই চোর, ধরা পরার ভয়ে পালাতে চাচ্ছে। অতঃপর নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে বলল,

“খেতে গিয়েছিলাম আপু। তখন দুলাভাইয়ের বন্ধুকে চোর ভেবেছি।”

“আব্বুকে না ডেকে তুই কেন গেলি?”

“ভেবেছি আব্বুকে ডাকতে গেলে চোর চলে যাবে।”

“আচ্ছা বুঝলাম। চোরকে তোর কোনো দিক দিয়ে মাহরাম মনে হলো?”

মনিরা মাথা নিচু করে চুপ করে রইল।

মৌ রেগে বলল,

“উত্তর চেয়েছি আমি।”

“ভুল হয়ে গেছে আপু। আর হবেনা। তাড়াহুড়োয় চলে গিয়েছিলাম।”

“যে জিনিসগুলোর জন্য এতো তাড়াহুড়ো করলি সেই জিনিসগুলো কী তোকে কবরে গিয়ে বাঁচাবে?

জিনিস বাঁচাতেই তো ভুলে গিয়েছিলি মাথায় কাপড় দিতে তাই না? কবরে নিয়ে যাবি এসব?”

মনিরা চুপ করে রইল।

মৌ আবার বলতে শুরু করল,

“গায়রে মাহরাম কে ধরেছিলি চোর বেঁধে রাখতে। কবরের আজাব কে এভাবে বেঁধে রাখতে পারবি?”

মনিরা চুপ।

মৌ এর তখনকার সব ঘটনা মনে পড়ল। নিজের বোন কে একটা ছেলের সাথে ওভাবে দেখেছে। মনে পরায় যেন রাগ কন্ট্রোল করতে পারল না। মৃদু চিৎকার করে বলল,

“মনিরা আমি উত্তর চেয়েছি। উত্তর দে!”

মনিরা কেঁপে উঠল। তার আপু এমনিতে খুব ভালো। কিন্তুু প্রয়োজনে তাকে অনেক শাসন করে। রেগে গেলে মনিরা তার আপুকে বেশ ভয় পায়।

মৌ মনিরা চুপ থাকতে দেখে যেন আরও বেশি রেগে গেল।

মনিরা মাথা তুলে কিছু বলতে নিলেই মৌ মনিরার ডান গালে ঠাস করে একটা থাপ্পড় দিল।

মনিরার মুখ বাম দিকে হেলে গেল। মনিরা চোখ বুঝল। আপু তাকে এর আগে অনেক বকেছে। কিন্তুু কখনো মারেনি।

মৌ চিৎকার করে বলল,

”আর কোনোদিন এমন দেখলে আমি নিজে তোর জন্য জেলখানা বানিয়ে সেখানে আটকে রাখব। এমন বেপর্দায় চলা, আল্লাহর প্রতি উদাসীন রক্তের বোন আমি চাই না।”

অতঃপর উঠে দ্রুত বাইরে চলে গেল।

মনিরা বিছানার উপর পা দুটো তুলে হাটুঁতে মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে উঠল।

আপুর উপর রাগ লাগছে না। সে অপরাধ করেছে, বড় আপু মেরেছে। কিন্তুু কষ্ট লাগছে। প্রথমবার আপুর হাতে এভাবে থাপ্পড় খেয়েছে। আপু কী তার উপর খুব রেগে গেছে?

এসব ভেবে কিছুটা শব্দ করে কেঁদে উঠল।

মৌ দরজার বাইরে বেরিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। এতো আদরের ছোট বোনের গায়ে আজ প্রথমবার হাত তুলেছে। হাত কাঁপছে। চোখের কোণে পানি জমেছে। এখনি গড়িয়ে পরবে এমন।

সে মনিরাকে মেরে অনুতপ্ত নয়। মনিরার জন্য এটুকু দরকার ছিল। অনন্তকাল জীবনের জন্য এই কষ্ট সে তার আদরের ছোট বোন কে যেমন দিতে পারে, তেমন নিজেও কষ্ট পেতে পারে।

অতঃপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে গালে গড়িয়ে পরা পানি হাত দিয়ে মুছে তার ঘরের দিকে চলল।

চলবে ইনশাআল্লাহ..................

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন