ফন্ট সাইজ:
থিম:
আপনি যে আমার-ই

১৮তম পর্ব

লেখক: DRM Shohag

#আপনি_যে_আমার_ই

#writer_Drm_Shohag

#পর্ব_১৯

(অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ)

মনিরা আকীলা বেগমের কথা পাত্তা দিল না।

সিগারেট এর গন্ধ পেয়ে আশেপাশে তাকালো। এই জঙ্গলে সিগারেট এর গন্ধ কই থেকে আসছে? মাথায় তেল দেবেনা বলে তো দৌড়ে বারান্দায় চলে আসলো। সেদিনের জ্বিন এর কাহিনি তো ভুলেই গিয়েছিল। মাথায় কাপড় টেনে বিড়বিড় করতে লাগলো,

“আল্লাহ আর জীবনে এই বেলকনিতে আসবো না।”

ডান দিক থেকে কাশির আওয়াজ পেয়ে ইমন ডানদিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো।

ইমনকে পাশের ঘরের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানতে দেখে চোখ বড় বড় তাকালো। যেখানে বাঘের ভয়, আজ তার একের পর এক সেখানেই সন্ধ্যা হচ্ছে।

ভাবল মাথায় তেলই দিবে তাও ভালো। এই ছেলের থেকে তাও বাঁচুক। এই ভেবে যেই না দরজার ছিটকিনি খোলার জন্য এগোতে চাইলো ইমন মৃদু চিৎকার করে বলল,

“এই মেয়ে এই তুমি আবার আমার পিছু পিছু চলে এসেছ? কি পেয়েছো কী হ্যাঁ? আমার সাথে একটার পর একটা কেলেঙ্কারি করবে আর আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে সহ্য করব? তোমার কপালে যদি আমি শুক্র থেকে বৃহস্পতি না বাজিয়েছি তো আমার নামও ইমন নয়।”

মনিরা ইমনের দিকে ইনোসেন্ট মুখ করে তাকিয়ে আছে। কি বলবে সে!

মনিরাকে ইমন তার দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে ইমন কিছুটা থতমত খেয়ে গেল।

ঘর থেকে ইশরাত ভাইয়ের কথা শুনে বেলকনিতে আসল। এসে ভ্রু কুঁচকে বলল,

”এই ভাইয়া, কী হয়েছে? একা একা বকবক করছ কেন? পাগল-টাগল হলে না-কি?”

মনিরা ইশরাত এর শুনে হেসে ফেলল। হাসির শব্দে ইশরাত সামনে তাকিয়ে মনিরাকে দেখে বলল,

“আরে মনিরা তুমি এখানে?”

মনিরা হেসে ইমনের দিকে তাকালো। হসি গায়েব। কীভাবে তাকায়! যেন তাকে গিলে খাবে!

এদিকে ইমন ইশরাত এর দিকে তাকিয়ে বলল,

“এই বেয়াদব মেয়েকে আমি ছাড়ব না ইশরাত।”

ইশরাত ইমনের কথায় ভ্রু কুঁচকে তাকালো। মনিরা কী করেছে? কিছু বলতে গেলে ইমন হনহন করে ঘরের ভেতরে চলে গেল। ইশরাত মনিরার দিকে তাকিয়ে বলল,

“কেসটা কী হলো?”

মনিরা মুখ চেপে হাসল। অতঃপর বলল,

“আসলে আমি তোমাকে বলে ব্রাশ করতে এলাম যে। তখন বেল বাজল। ভেবেছি আব্বু এসেছে। তাই ওভাবেই দরজা খুলে দিয়েছি। আব্বুর জায়গায় তোমার ভাইয়াকে দেখে ভয়ে তা যা হয়ে গেছে আপু।”

ইশরাত একে একে দুই মিলিয়ে চোখ বড় বড় করে বলল,

“তার মানে ভাইয়ার মুখে তোমার ব্রাশ করা ফেনা লেগেছে!”

মনিরা শব্দ করে হেসে ফেলল।

ইশরাত এর নিজেরও ব্যাপারটায় বেশ হাসি পাচ্ছে।

মনিরা হাসতে হাসতে বলল,

“তোমার ভাইয়া প্রথমবার যখন এসেছিল। তখন আমি চোর ভেবে তোমার ভাইয়াকে আমি আর আমার দাদি-আপু অনেক মেরেছিলাম আপু।”

পুরো কাহিনি শুনে ইশরাত আর নিজের হাসি আটকাতে পারছে না। তার নিজের ভাইয়ের সাথে এতো করুন ঘটনা ঘটেছে সে জানতেই পারেনি। তবে যতই হোক নিজের ভাই তাই হাসি চেপে একটু গম্ভীর ভাব নিয়ে বলল,

“আমার ভাইকে তোমরা এভাবে আপ্যয়ন করেছিলে?”

হঠাৎ গম্ভীর ইশরাতকে দেখে মনিরার হাসি গায়েব। ইশ! সে তো ভুলেই গিয়েছিল ইমন ইশরাত আপুর নিজের ভাই। ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বলল,

”সরি আপু! ইচ্ছে করে করিনি বিশ্বাস কর!”

মনিরার এমন ফেস দেখে ইশরাত হেসে ফেলল। অতঃপর বলল,

“পাগলি মেয়ে, মজা করলাম। মিস্টেক হতেই পারে। আর আমার ভাইয়া ওতোটাও খারাপ না। চাপ নিও না।”

★★

১১ টা নাগাদ সোহাগ মৌ দের বাড়ি হাজির। শুক্রবার হওয়ায় মৌ সকাল সকাল গোসল সেরে নিল। বাথরুম থেকে বেরিয়ে সোহাগকে সোফায় বসে চোখ বুজে থাকতে দেখে ভ্রু কোঁচকালো। সোহাগের তো বিকেলে আসার কথা ছিল। সোহাগ কে বেশ ক্লান্ত দেখালো। মৌ সোহাগের পাশে বসে সোহাগের কপালে হাত রাখল।

সোহাগ কপালে কোমল হাতের স্পর্শ পেয়ে চোখ বুজেই মৃদু হাসল।

মৌ ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করল,

“আপনার তো বিকেলে আসার কথা ছিল, এখন আসলেন যে?”

সোহাগ চোখ মেলে মৌ এর দিকে তাকিয়ে হেসে বলল,

“বউ যেখানে সোহাগ সেখানে।”

মৌ অন্যদিকে তাকিয়ে বলল,

“সে কথা কালকে মনে ছিলনা?”

”সোহাগের রাগ যেখানে, সোহাগের বউ থাকবে না সেখানে।”

“হয়েছে। রাগ শয়*তানের পক্ষ থেকে আসে জানেন না?”

“জানি তো বউ। কিন্তুু নিজের রাগকে কিছুতেই কন্ট্রোল করতে পারিনা। কি করব বলো তো? টিপস্ দাও।”

মৌ বলতে লাগলো,

“শুনুন, যখন রাগ উঠবে সর্বপ্রথম আ'ঊুযুবিল্লাহ-হিমিনাশ্ শায়*তনির রজিম পড়বেন।

এর অর্থ আল্লাহ তোমার কাছে বিতাড়িত শয়*তান এর থেকে আমি তোমার থেকে পানাহ চাই।

এটা আপনি মন থেকে অনুভব করবেন। এভাবে বলবেন যেন আপনি সরাসরি আল্লাহর কাছে চাইছেন।

এরপর গিয়ে সুন্দর করে অজু করবেন। যেমন তেমন ভাবে করবেন না। সুন্দর করে আল্লাহকে স্মরণ করে অজু করবেন। আর মনে মনে বলবেন আল্লাহ আমার রাগ তুমি এই অজুর মাধ্যমে নিভিয়ে দাও। মন থেকে এমন করতে পারলে দেখবেন আপনার রাগ একবিন্দু থাকবে না।”

সোহাগ মৌ এর কথা শুনে মৃদু হেসে বলল,

“আমি অনেক ভাগ্যবান পুরুষ এমন বউ পেয়ে।”

সোহাগ এর কথা শুনে মৌ হেসে বলল,

”আমিও ভাগ্যবতী নারী কারণ দ্বীন ইসলামের কথা শুনতে চাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে যে সে অবশ্যই অনেক ভালো মনের মানুষ।”

★★

দুপুরের রান্না আজ মৌ করেছে, রান্না শেষে ঘেমে আবারো গোসল করতে হলো। এরপর নামাজ পড়তে হলো। ফারজানা বেগম রান্না করতো, হঠাৎ করেই প্রেশার বেড়ে যাওয়ায় মৌ কে রান্না করতে হলো। একেবারে রান্না পারে না তা না। তবে তার আম্মুর মতো খুব ভালো রান্না পারে না। যা পেরেছে তা-ই রেঁধেছে।

সোহাগ নামাজ পরে বাড়ি ফিরল। ঘরে এসে মৌ কে শুয়ে থাকতে দেখে ভ্রু কোঁচকালো। মৌ এর পাশে বসে বোঝার চেষ্টা করল মৌ ঘুমিয়েছে কি-না! কপালে হাত দিয়ে কপলা মাথা বুলিয়ে দিলে মৌ চোখ মেলে তাকালো। মেহরাবকে দেখে মৃদু হাসল।

সোহাগ চিন্তিত কণ্ঠে বলল,

“তোমার কী শরীর খারাপ?”

“না তো! আজ আমি রান্না করেছি। তাই একটু ক্লান্ত লাগছে। আম্মুর প্রেশার বেড়ে গিয়েছিল এজন্য আমি রাঁধলাম।”

বুঝতে পেরেছি। আচ্ছা খেয়ে ঘুমিয়ে নিও কিছুক্ষণ।

কিছুক্ষণ পর মৌ উঠে বসল। সোহাগের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল,

“আমার জন্য কিছু আনেনি?”

মৌ এর কথায় সোহাগ ভ্রু কুঁচকে তাকালো। মসজিদ থেকে কী আনবে? এই দুপুরের সময় তো দোকানও খোলা থাকবেনা। অতঃপর বলল,

“কিছু লাগতো তোমার?”

মৌ মন খারাপ করে বলল,

“হুম লাগতো। কিন্তুু আপনি তো আনেনি দেখছি। লাগবে না।”

এই বলে মৌ উঠে যেতে নিলে সোহাগ মৌ এর হাত ধরে বলল,

“আরে মন খারাপ করে কই যাও? কী আনতে বলছো সেটা তো বলো? বুঝতে পারছি না তো।”

মৌ মৃদু হেসে বলল,

“আল্লাহর কাছে থেকে দোয়া আনবেন ভেবেছিলাম। কিন্তুু আপনি তো ভুলে গেছেন।”

সোহাগ হেসে বলল,

“ভুলে যায়নি। যে আল্লাহ আমায় এতো দামি নেয়ামত দিয়েছে, তার জন্য আল্লাহর দোয়া আনতে ভুলবো কী করে?

তবে সাথে আনিনি দোয়া। আল্লাহকে বলেছি আমি বাড়ি আসার আগেই যেন আল্লাহ আমার দোয়া তোমার কাছে পৌঁছে দেয়। বুঝেছ?”

মৌ হেসে বলল,

“হুম বুঝেছি। ভাত নিয়ে আসি। আপনি বসুন।”

এই বলে মৌ নিজেকে ভালোভাবে ঢেকে খাবার আনতে গেল।

ডাইনিং এ গিয়ে দেখল ফারজানা বেগম খাবার সাজাচ্ছে। তা দেখে মৌ বলল,

“আম্মু আমি করে দিচ্ছি। তুমি ঘরে যাও।”

ফারজানা বেগম সোহাগ আর মৌ এর জন্য দু'প্লেট খাবার বেড়ে মৌ এর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল,

”ঠিক হয়ে গেছি আমি। তুই জামাইকে খাবার দে। আর তুইও খেয়ে নে মা। আমি সব সাজিয়ে তোর আব্বুকে ডাকছি।”

মৌ মাকে সুস্থ দেখে বেশি কিছু না বলে ঘরের দিকে গেল। ফারজানা বেগম মনিরা, ইশরাত আর আকীলা বেগমকে খাবার দিয়ে এসে নিজের জন্য এক প্লেট বেড়ে ঘরে গেলেন। ঘরে গিয়ে ওয়াসিল হোসেনকে পাঠালেন ইমনকে সাথে নিয়ে একসাথে বসে যেন খায়।

মৌ দের বাড়িতে এভাবেই আপ্যান করা হয়। গায়রে মাহরাম আসলে সব মেয়েরা ঘরে গিয়ে খায়। আর বাড়ির পুরুষ সেঔ মানুষ কে নিয়ে একসাথে বসে খায়। যা লাগে ওয়াসিল হোসেন নিজেই সব এগিয়ে দেয়।

★

ইশরাত, মনিরা আকীলা বেগম একসাথে খাবার খেতে বসেছে। ইশরাত বেশ মজা করে খাবার খাচ্ছে। ঝাল তার অনেক পছন্দের। গরুর মাংসের তরকারি টা একদম তার মনমতো হয়েছে। ইশরাত মুখের খাবার শেষ করে হাত দেখিয়ে বলল,

“একদম পারফেক্ট ঝাল।”

এই বলে মনিরার দিকে তাকালে দেখল মনিরার চোখ ভর্তি পানি নিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে তাকিয়ে আছে।

পাশে আকীলা বেগম সমানে পানি খাচ্ছে। মনিরা আশেপাশে পানি খুঁজে না পেয়ে যেমন ছিল ওমনই এক দৌড়ে বাইরে গেল। ডাইনিং এ তার আব্বু আর ইমনকে বসে থাকতে দেখে আর এগোতে পারল না। কোনদিকে যাবে? কান দিয়ে যেন ধোঁয়া বের হচ্ছে।

ওয়াসিল হোসেন উল্টা দিকে হয়ে বসে থাকায় তাকে দেখতে পাচ্ছে না। কিন্তুু ইমন মনিরার দিক হয়ে বসে আছে। ভাত মেখে মুখে দেওয়ার জন্য হা করে বেখায়ালে সামনে চোখ পরলে মনিরাকে মাথায় কাপড় বিহীন, চোখ ভর্তি পানি আর চোখ মুখ লাল এমনভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মুখে ভাত না নিয়েই হা বন্ধ করল।

কী হয়েছে মেয়েটার?

এভাবে প্রথম মনিরাকে দেখল। সবসময় গোছালো মেয়েকে দেখেছে। অগোছালো মেয়েদেরও দেখেছে। কিন্তুু এই অগোছালো মেয়েটা যেন তার মনে গেঁথে গেল।

মনিরার কোনোদিকে খেয়াল নেই। সে দৌড়ে বেসিন এর দিকে গেল। অতশত না ভেবে হাত দিয়েই বেসিন এর পানি খাওয়া শুরু করল। ঝাল তো কমে না। বেশ অনেকক্ষণ এভাবে পানি খাওয়ার পর কিছুটা ঝাল কমে এলে মনে পরল তার মাথায় তো কাপড় নেই। আব্বু পিছন ফিরলেই তাকে এভাবে দেখে আস্ত রাখবে না। দ্রুত মাথায় কাপড় টেনে পিছন না ফিরেই তার ঘরের দিকে দৌড় লাগালো।

ইমন খাওয়া বাদ দিয়ে মনিরার সব কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করছিল। ওয়াসিল হোসেন খাওয়ার মাঝে ইমনকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে বলল,

“কী হলো বাবা খাচ্ছ না কেন?”

ইমন বলল,

“এইতো আঙ্কেল খাচ্ছি।”

এই বলে মুখে ভাত নিল। মুখের খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খেয়ে নিল। দ্বিতীয়বার মুখে দিয়ে আর গিলতে পারছে না। চোখ-কান-নাক সবদিয়ে মনে হচ্ছে ধোঁয়া বের হচ্ছে! চোখ লাল হয়ে গেছে। ঝাল এ চোখে পানি জমেছে।

ওয়াসিল হোসেন এর অর্ধেক খাওয়া শেষ। ঝাল তার প্রিয়। বেশ মজা করেই খাচ্ছিল। ইমনকে এমন অবস্থায় দেখে বলল,

“এ কী বাবা তুমি কাঁদছ কেন?”

ইমন দ্রুত পানির গ্লাস নিয়ে সব পানি শেষ করল। কথা বলার অবস্থায় নেই।

এই বাড়ির সবাই তাকে এতো বাজেভাবে আপ্যায়ন করে কেন?

তার সাথে এ বাড়ির মানুষের শত্রুতা আছে না-কি!

★★

সোহাগ এর চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে। মৌ খাবার মুখে দিয়ে বুঝেছে কিছুটা ঝাল হয়েছে, কিন্তুু তার কাছে এটা পারফেক্ট লাগলো। সোহাগের দিকে চোখ পরলে অবাক হয়ে বলল,

“কী হয়েছে আপনার?”

সোহাগ কোনোরকমে বলল,

“পানি দাও।”

মৌ দ্রুত জগ থেকে পানি ঢেলে দিল। সোহাগ খেয়ে কিছুটা শান্ত হলো। মৌ মন খারাপ করে বলল,

“আপনি ঝাল খেতে পারেন না?”

সোহাগ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

“পারি। কিন্তুু এতো ঝাল কোনো সুস্থ মানুষই খেতে পারবে না।”

“আপনি কী আমাকে অসুস্থ বলতে চাইছেন?”

“তুমি এতো ঝাল কীভাবে খাও?”

“ওভাবেই। কিন্তুু এতোটা দিতে চাইনি। ভুল করে এতোটা ঝাল হয়েছে।”

সোহাগ আর কিছু না বলে শুয়ে পড়ল।

মৌ দ্রুত খাওয়া শেষ করে বলল,

“আপনার জন্য মিষ্টি কিছু বানিয়ে আনছি। অপেক্ষা করুন।”

এই বলে ঘরের বাইরে গেল। ডাইনিং টেবিলের সবকিছু গুছিয়ে রাখল। তার বাবা ঝাল পছন্দ করে। কিন্তুু একটা প্লেটে ভাত ভর্তি। তার বাবা ছাড়া সোহাগের একটা বন্ধু আছে। তার মানে সেও খেতে পারেনি। মনিরাও তো খেতে পারেনা এতো ঝাল। কী এক অবস্থা!

টেবিল গুছিয়ে মনিরার ঘরে গিয়ে দেখল মনিরা চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। প্লেট ভর্তি ভাত দেখে বুঝল খেতে পারেনি। দাদি-আপুরও একই অবস্থা। কেউই তো খেতে পারেনি। মৌ এর খারাপ লাগলো। সবার খাওয়ার ১২ টা বাজিয়েছে সে।

ইশরাত এর খাওয়া শেষ দেখে বুঝল এই মেয়ে ঝাল খোর। যাক আরেকজনকে তো বাবার পাশাপাশি পেল যে তার মতো ঝাল খেতে পছন্দ করে।

মৌ মৃদু হেসে বলল,

“আপু তুমি এতো ঝাল খাবার খেতে পারলে?”

ইশরাত মৌ কে দেখে বলল,

”ভাবি একদম পারফেক্ট হয়েছে। কে রেঁধেছে?”

”আমি রেঁধেছি। কিন্তুু কেউই খেতে পারেনি।”

ইশরাত হেসে বলল,

“থ্যাংক্স ভাবি। সত্যি বলতে অনেকদিন পর নিজের মনমতো খাবার তৃপ্তি নিয়ে খেলাম। থ্যাংক ইউ সো মাচ ভাবি!”

মৌ ভ্রু কুঁচকে বলল,

“তুমি বার বার থ্যাংক্স বলছো কেন? এটায় কী কোনো উপকার আছে?”

ইশরাত বলল,

“কেন ভাবি? আমি তোমার উপর অনেক খুশি হয়ে বললাম। এটাই তো বলি আমরা।”

মৌ মৃদু হেসে বলল,

“জানি সবাই খুশি হয়ে একে অপরকে থ্যাংক্স দেয়। কিন্তুু তুমি বলো তো এটায় কী কোনো উপকার আছে?”

ইশরাত বুঝল না। এখানে উপকারের কথা কেন আসছে?

ইশরাতকে ভাবনায় মশগুল হতে দেখে মৌ মৃদু হেসে ইশরাত এর পাশে বসে বলল,

“এই যে থ্যাংক্স-ওয়েলকাম মানুষ একে অপরকে দেয় এখানে কোনো উপকার নেই জানো। কিন্তুু আমাদের ইসলামে এরকম অনেক শব্দ আছে যা তোমার উপকার করবে, তোমার জীবনে কল্যাণ বয়ে আনবে।”

ইশরাত অবাক হয়ে বলল,

“সেগুলো কী ভাবি?”

মৌ মৃদু হেসে বলল,

”এই যে তুমি আমার উপর খুশি হয়ে থ্যাংক্স দিলে এর বদলে তুমি আমাকে বলতে পারো

‘জাযাকিল্লাহু খয়রন’ এর অর্থ হলো -

‘আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিক।’

ছেলেদের ক্ষেত্রে জাযাকাল্লাহ খয়রন,

আর মেয়েদের ক্ষেত্রে জাযাকিল্লাহু খয়রন বলতে হয়।

থ্যাংক্স এর কোনো অর্থ খুঁজে পাবে না তুমি। কিন্তুু দেখো ইসলামে কী সুন্দর আরেকজনের প্রশংসা করতে চাইলে আল্লাহ তার জন্য দোয়ার মাধ্যমে উপকার রেখে দিয়েছে।”

ইশরাত উৎফুল্ল মনে বলল,

“আসলেই তো। এটা তে খুবই সুন্দর ব্যাপার।

অতঃপর কিছুটা মন খারাপ করে বলল,

“তুমি কত কিছু জানো ভাবি! আর আমি মুসলিম হয়েও কিছুই জানিনা।”

মৌ মৃদু হেসে বলল,

“জানো না তো কী হয়েছে? আস্তে আস্তে জেনে যাবা ইনশাআল্লাহ। আর তুমি আল্লাহর কয়েকটা বিধান জানো না বলে মন খারাপ করছ আল্লাহ এতে তোমার উপর খুব খুশি হয়েছে জানো?”

ইশরাত অবাক হয়ে বলল,

“সত্যি ভাবি?”

“হুম অবশ্যই। কেউ আল্লাহর থেকে দূরে গিয়ে এর জন্য মন খারাপ করলে, আল্লাহর দিকে ফিরতে চাইলে আল্লাহ অনেক অনেক খুশি হন।”

ইশরাত হেসে বলল,

“আমি আল্লাহর দিকে ফিরতে চাই ভাবি। আল্লাহর বিধানগুলো আমার খুব ভালো লাগে। তুমি আমাকে হেল্প করবে?”

“ইনশাআল্লাহ করব। আমি উঠি। মনিরাদের জন্য কিছু রান্না করে আনি।”

ইশরাত চিন্তিত হয়ে বলল,

“ভাইয়াও ঝাল খেতে পারেনা ভাবি। আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম।”

“চিন্তা কর না আপু। সবার জন্য মিষ্টি কিছুর ব্যবস্থা করছি।”

এরই মধ্যে আকীলা বেগম বাথরুম থেকে বেরিয়ে মৌ কে দেখে বলল,

”কী রানছস তুই?”

মৌ ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বলল,

“তোমার পেটের অবস্থা এর মধ্যেই খারাপ হয়ে গেল? দুঃখিত দাদি-আপু। তোমরা ঝাল আসল টেস্ট টাই বুঝলে না।”

ইশরাত হেসে বলল,

“একদম ঠিক বলছো ভাবি। ঝাল হলো অমৃত।

আকীলা বেগম বললেন,

“তোদের ঠিক তোদের কাছে থুইয়া দে। কিছু আন। খাইয়া ওষুধ খামু।”

“একটু অপেক্ষা কর দাদি-আপু। আনছি।”

এই বলে মৌ রান্নাঘরের দিকে গেল।

মৌ গেলে ইশরাত হাত ধুয়ে আকীলা বেগমের পাশে বসে বলল,

“দাদি-আপু তুমি আমাকে গল্প শোনাও।”

“কীয়ের গল্প শুনবি?”

“তোমার আর দাদার।”

আকীলা বেগম ইশরাত এর মুখে নিজের স্বামীর কথা শুনে মৃদু হাসল। অতঃপর বলল,

”তোর দাদা মেলা ভালা মানুষ আছিল।”

“কেমন ভালো ছিল?”

”হেয় আমারে বোরখা ছাড়া বাইরে কোনোদিন বাইরে বেরতে দিত না।”

ইশরাতের কাছে ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং লাগলো। স্বামী বউকে বোরখা ছাড়া বাইরে বেরতে দিত না। তার আম্মু তো বোরখা পরতো না। তার আব্বু কিছু বলতো না।

আকীলা বেগমের কথায় ইশরাত তার দিকে তাকালো।

“তার মেলা রাগ আছিল। কিন্তুু মন মেলা নরম আছিল। মেলা ভালা মানুষ আছিল হেয়।”

ইশরাত প্রশ্ন করল,

“দাদি তোমাকে বাইরে বেরতে দিত না কেন বোরখা ছাড়া?”

আকীলা বেগম হেসে বলল,

“হের বিয়ে করা বউ মানষে দেখলে হেয় কষ্ট পাইতো। আর আল্লাহরে ভয় পাইতো।”

ইশরাত এর কাছে আরো ইন্টারেস্টিং লাগলো। বউকে অন্যকেউ দেখলে স্বামী কষ্ট পায়? কই তার আব্বু তো কষ্ট পায়নি।

আকীলা বেগম ইশরাত এর চুল এর দিকে খেয়াল করলে মনে হলো কত জনম যে মাথায় তেল পরেনি। অতঃপর বলল,

“আয় তোরে আমি মাথায় তেল দিয়া দিমু।”

আকীলা বেগমের কথায় ইশরাত খুশি হলো। দুই-তিন মাস আগে নিজে নিজেই দিয়েছিল। পড়াশুনার চাপে, সব কাজ নিজে নিজে করায় চুলের এতো যত্ন নিতে পারে না। মেহরাব ভাইয়ার বাড়ি গেলে মেহরাব ভাইয়ার মা তাকে দিয়ে দেয়। আকীলা বেগম দিয়ে দিতে চাওয়ায় খুশি হলো। মা ছাড়া মেয়েকে কেউ ভালোবাসা দিতে চাইলে যেন আকাশের তারা পায় হাতে। অতঃপর বলল,

“আচ্ছা দাদি-আপু দিয়ে দাও।”

আকীলা বেগম একটু অবাক হলেন। ভাবলেন মৌ আর মনিরাকে দিয়ে দিতেই পারেন না। আর এই মাইয়ারে কইতে না কইতেই রাজি হইয়া গেল।

অতঃপর তেল ঢেলে নিয়ে ইশরাতকে দিয়ে দিলেন।

আকীলা বেগম বললেন,

“খাড়া দুই বেনি কইরা দেই। ভালা লাগবো তোরে।”

ইশরাত মৃদু হাসল। বেনি করা শেষ হলে ইশরাত উঠে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে ঘুরে ঘুরে দেখে বলল,

“নট ব্যাড!

দাদি-আপু অনেক সুন্দর হয়েছে।”

এরই মাঝে মৌ গরম গরম সেমাই নিয়ে হাজির।

“এইযে ননদিনী, দাদি-আপু সবার জন্য সেমাই এনেছি।”

ইশরাত তা শুনে বলল,

“ভাবি এখন কিছু খেলে পেট ফেটে যাবে।”

ইশরাত এর কথায় মৌ হেসে বলল,

“আচ্ছা পরে খেয়ে নিও। আর এইটা তোমার ভাইয়াকে একটু কষ্ট করে দিয়ে এসো কেমন?”

ইশরাত তার দুই বেনি দুই হাত দিয়ে নাড়িয়ে বলল,

“ভাবি দেখো তো আমায় কেমন লাগছে?

মৌ ইশরাতকে দেখে বলল,

”দাদি-আপু তোমাকে তেল দিয়ে আবার বেনিও করে দিয়েছে?”

ইশরাত মাথা নেড়ে বলল,

“হুম ভাবি।”

মৌ হেসে বলল,

“সুন্দর লাগছে। পাক্কা গ্রামীণ মেয়ে। অনেক সুন্দর!”

ইশরাত বলল,

“থ্যাংক্স ভাবি! সরি সরি, জাযাকিল্লাহু খয়রন ভাবি।”

মৌ হেসে বলল,

“তোমার ভাইয়া খেতে পারেনি দুপুরে। খাবারটা দিয়ে এসো আপু।”

মৌ এর কথায় ইশরাত মাথা নেড়ে ইমনের ঘরের দিকে গেল।

মৌ তার দাদি-আপুর হাতে সেমাই এর বাটি আর ওষুধ দিয়ে মনিরার কাছে গিয়ে মনিরাকে ডাকলো। না খেয়েই ঘুমিয়ে পরেছে মেয়েটা। মনিরা এপাশ ওপাশ করে আবার ঘুমিয়ে পরল। মৌ ভ্রু কোঁচকালো। অতঃপর মৃদু হেসে মনিরার পায়ের কাছে গিয়ে পায়ের তলায় সুড়সুড়ি দিতে লাগলো।

এদিকে মনিরা লাফ দিয়ে উঠে বসে বলল,

“ও দাদি-আপু আমায় জ্বীন নিয়ে গেল গো! আমায় ধর ধর।”

মনিরার কথা শুনে আকীলা বেগম আর মৌ শব্দ করে হেসে ফেলল।

মনিরার ঘুমের ঘোর থেকে বেরিয়ে মৌ কে হাসতে দেখে বুঝল তার আপু পায়ের তলায় সুড়সুড়ি দিয়েছে। এটা তার আপুর নিনজা টেকনিক তাকে ঘুম থেকে উঠানোর। দুই হাত দিয়ে চোখ কচলে মৌ এর দিকে তাকিয়ে বলল,

“আপু তুমি সবসময় আমার ঘুমে ডিস্টার্ব কর।”

মৌ মনিরার পাশে বসে বলল,

“ডিস্টার্ব করেছি তোর পছন্দের খাবার এর জন্যই। মানুষের ভালো করতে নেই। থাক ঘুমা। আমিই খেয়ে নিচ্ছি এটা।”

মনিরা মৌ এর হাতে সেমাই দেখে মৌ এর হাত থেকে সেমাই এর বাটি কেড়ে নিয়ে বলল,

”এটা ঠিক নয় আপু। যে আমি কাঁচা সেমাই খেয়েই সাভার করে দিই, সেই আমার সামনে পাকা সেমাই আমাকে না দিয়ে খেতে চাচ্ছ!”

মৌ ভ্রু কুঁচকে বলল,

“পাকা সেমাই কই পাইলি?”

“আরে আপু রান্না ছাড়া সেমাই যদি কাঁচা সেমাই হয়, তাইলে রান্না করা সেমাই তো পাকা সেমাই-ই হবে। এটা তে কমনসেন্সের ব্যাপার।”

মৌ বিছানা থেকে উঠে যেতে যেতে বলল,

“তোর কমনসেন্স তোর কাছেই রাখ। চুপচাপ খেয়ে নে।”

★★

“ভাইয়া এই নাও।”

ইমন চোখ বুজে শুয়ে ছিল। এতোক্ষণ হলো ঘুমানোর চেষ্টা করছিল। পেটে ক্ষুধা থাকলে কী আর চোখে ঘুম আসে! ইশ! বেড়াতে এসে মানুষ খেয়ে হুশ পায় না, আর আমি যতবার বেড়াতে আসি এ বাড়ি, হয় মার খেতে হুশ পাই না, নয়তো অনাহারে থেকে থেকে ক্ষুধায় হুশ পাই না। ইশরাত এর কথায় ভ্রু কুঁচকে চোখ মেলে তাকালো।

ইশরাতের হাতে বাটি দেখে উঠে বসে বলল,

“কি এনেছিস?”

ইশরাত হেসে বলল,

“সেমাই”

“যাহ! হয়ে গেল!”

পেটে হাত বুলিয়ে ভাবল এ দিয়েই আপাতত পেট চালাক। বিকেল হলেই এ বাড়ি থেকে বেরবে, আর জীবনে আসবে না।

ইশরাত বলল,

“কী হলো ভাইয়া? জানি তোমার সেমাই পছন্দ না। আপাতত খেয়ে নাও। কিছু করার নেই।”

ইমন কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল,

”বোন আমার আমায় একটু ভাত খেতে দে!”

ইশরাত এর খারাপ লাগলো। তার ভাইটা ক্ষুধা সহ্য করতে পারেনা একদম। রেখে গেলে একটু খেয়ে খাবে না। আবার ক্ষুধাও সহ্য করতে পারবে না। তাই ভাবল নিজ হাতেই খাইয়ে দেবে।

অতঃপর হেসে ইমনের পাশে বসে বলল,

“আমি খাইয়ে দিচ্ছি নাও। বোনের ভালোবাসায় এই অপছন্দের সেমাই খুব ভালো লাগবে। নাও।”

ইমন কিছু না বলে হা করলে ইশরাত ইমনের মুখে দিতে গিয়েও নিজে খেয়ে নিল। ইমন বেচারা বিরক্ত হয়ে ইশরাত এর মাথায় গাট্টা মেরে বলল,

”থাপড়ে সোজা করব বোনের বাচ্চা। চুপচাপ খাওয়া আমাকে।”

ইশরাত মুখ বেঁকিয়ে ইমনকে খাইয়ে দিতে লাগলো। খাওয়ার মাঝে ইমন অপলক ইশরাত এর দিকে তাকিয়ে রইল। চোখ ঝাপসা হয়ে এলো। পলক পরল না। দু'বছর আগেও তার বোনটা এতো বড় ছিল না। মা ছাড়া ছোট্ট বোনটা হুট করেই কেমন বড় হয়ে গেল। তাদের ছাড়া একা একাই থাকতে শিখে গেল। যে বোন এর মুখ না দেখে সকাল হতো না, যার মুখ না দেখে ঘুমোতে যাওয়া হতো না আজ তাকে না দেখে মাস এর পর মাস কাটিয়ে দিতে হয়।

ইশরাত এর ইমনের দিকে চোখ পরলে অবাক হয়ে তাকালো। তার ভাইয়ের চোখে পানি কেন?

হাতের বাটি পাশে রেখে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল,

“ভাইয়া কি হয়েছে তোমার?”

ইমন মৃদু হেসে বলল,

“তোর এইচএসসি শেষ হয়ে গেলে ঘরের কোণের ভার্সিটিতে চান্স পাইলে পড়তে দিব, নয়তো ন্যাশনাল এ ভর্তি করে দিব। আম্মুও নেই, তুইও নেই,৷ আব্বু তো বিদেশেই বেশি থাকে। আমার খুব একা লাগে বোন।”

ইশরাত এর চোখ ভিজে উঠল। তারও তো ভীষন খারাপ লাগে ভাইয়ের জন্য। মাথা নিচু করে টুপটাপ চোখের পানি ফেলে বলল,

“আমি এইচএসসি এর পর আর বাসা থেকে অন্য কোথাও থাকবো না ভাইয়া। আমারও তেমার কথা খুব মনে পরে।”

ইমন ইশরাতের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,

“তুই আমার ছোট আম্মুর মতো। মা হারানোর পর তুই ছোট্ট বোন হয়েও কেমন মায়ের দায়িত্ব পালন করতে শিখে গেছিস।”

ইশরাত হেসে বলল,

“আম্মুকে অনেক মনে পরে ভাইয়া। আমাদের আম্মু ভালো আছে তো ভাইয়া?”

ইমন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

”হুম ভালো রাখবেন আল্লাহ। চিন্তা করিস না।”

ইশরাত মাথা নাড়াল।

ইমন নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল,

”খাইয়ে দে বোন।”

ইশরাত চোখের পানি মুছে ইমনকে খাইয়ে দিতে দিতে বলল,

”এবার আমার একটা নিজের ভাবির ব্যবস্থা কর ভাইয়া। যে তোমাকে নিয়ম করে তুলে খাওয়াবে।”

ইশরাত এর কথায় ইমন ভ্রু কুঁচকে বলল,

”অ্যাহ! শখ কত! পারব না। ফালতু কিছু বলবি না।”

ইশরাত মন খারাপ করে বলল,

“তুমি আম্মুকে কথা দিয়েছিলে মেয়েদের ডিস্টার্ব করবে না। কিন্তুু এটা তো কথা দাওনি যে বিয়েই করবে না।”

ইমন দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

আম্মু বেঁচে থাকতে কত জ্বালিয়েছে। মেয়েদের বিরক্ত করতো, আর তারা এসে তার মায়ের কাছে বিচার দিলে মায়ের হাতে কত যে কান মলা খেয়েছে, বকা খেয়েছে। পাত্তা দেয়নি মায়ের কথা।

হাহ! বেঁচে থাকতে মা যদি দেখে যেত তার ছেলে সেই অভদ্র নেই। আর মেয়েদের বিরক্ত করে না। একটুও করে না।

★★

বিকেলে ইশরাত মনিরাকে গিয়ে বলল,

“মনিরা চল তোমাদের বাড়ির পিছন দিকটা একবার ঘুরে আসি। কিছুক্ষণ পর তো চলেই যাব।”

ইশরাত এর কথা শুনে মনিরা চোখ বড় বড় করে তাকালো। বাড়ির পিছনে তো জ্বীন আছে। জীবনেও যাবে না। অতঃপর ইশরাতকে বলল,

“আপু যেও না। ওখানে জ্বীন আছে।”

ইশরাত খুশি হয়ে বলল,

“সত্যি জ্বীন আছে? তাহলে তো আরও আগে যাওয়া উচিৎ ছিল।”

মনিরা অবাক হয়ে হয়ে বলল,

”কী বলছ? জ্বীন দেখে ভয় পাও না আপু?”

ইশরাত বলল,

”জানিনা। তবে জ্বীন দেখার অনেক ইচ্ছে আমার। আর দিনের বেলা কিছু করবে না জ্বীন। কিছু করলেও আমি তো আছি। প্লিজ প্লিজ চল মনিরা।”

মনিরা ভাবল এখন দিনের বেলা। সন্ধ্যার আগেই চলে আসব। দিনে তো জ্বীন বের হয় না। ভয়ে ভয়ে ইশরাতকে নিয়ে ঘর থেকে বের হলো।

ইশরাত মনিরা দু'জন মিলে হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছিল। বাড়ির পিছনে অনেক গাছ। দিনের বেলা এপাশে আসলে দুন্দর লাগে। উপভোগ করার মতো জায়গা। কিন্তুু রাতে ভয় লাগবে। যেতে যেতে মনিরার পায়ের সাথে কিছু বেজে ঠাস করে পরে যায়। পায়ের গোড়ালিতে বেশ ব্যাথা পেয়েছে। ইশরাত দ্রুত মনিরাকে ধরে দাঁড় করাল। অতঃপর বলল,

”বেশি ব্যাথা পেয়েছ?”

মনিরা মাথা নেড়ে বলল,

”ঠিক আছি আপু। সমস্যা নেই।”

অতঃপর আরেকটু এগিয়ে কিছুটা ফাঁকা জায়গা পেল। জায়গাটা ইশরাতের বেশ পছন্দ হলো। দু'হাত ছড়িয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বলল,

“হায় হায় মনিরা তোমাদের এখানে এতো সুন্দর জায়গা আছে! আর তোমরা আসো না! আমি হলে তো সারাদিন এখানেই কাটিয়ে দিতাম।”

মনিরা বলল,

”আপু জ্বীন আছে। ওরা তোমাকে সারাদিন থাকতে দিবে না।”

মনিরার কথায় ইশরাত হেসে বলল,

“তুমি বাচ্চাদের মতো কথা বল।”

মনিরা ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বলল,

“সে যাই বলো। একবার জ্বীনকে দেখেছি, তা কখনো ভুলতে পারব না।”

ইশরাত মনিরার হাত ধরে সামনে এগলো। পায়ের সাথে কিছু বেজে যাওয়ায় বসে পরল। হাত দিয়ে উল্টেপাল্টে দেখল।

মনিরা বলল,

”কী হলো আপু বসলে কেন?”

ইশরাত জিনিসটা হাতে উঠিয়ে মনিরার দিকে ধরলে মনিরা তা দেখে চোখ বড় বড় এক চিৎকার দিল।

মনিরার চিৎকারে ইশরাত নিজেও ভয় পেয়ে কেঁপে উঠল।

চলবে ইনশাআল্লাহ..............

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন