ফন্ট সাইজ:
থিম:
আপনি যে আমার-ই

৩০তম পর্ব

লেখক: DRM Shohag

#আপনি_যে_আমার_ই

#writer_Drm_Shohag

#পর্ব_৩১ (Page - DrmShohagHoney)

(অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ।)

ইশরাতের জ্ঞান ফিরলে একে একে সবাই গিয়ে দেখা করে আসে।

"বোন তোর কীভাবে এমন হলো? কে মেরেছে? ওদের দেখেছিস? আমায় শুধু বল, ওদরে আমি উগান্ডা পাঠিয়েই ছাড়ব।"

ইমনের কথা শুনে ইশরাত হেসে ফেলল। ঠোঁটের কোণে কেটে যাওয়ায় ব্যাথা পেয়ে আহ বলে উঠল। ইমন উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল,

"কী হলো? কষ্ট হচ্ছে? দাঁড়া এক্ষুনি ডক্টরকে ডেকে আনছি।"

ইশরাত স্বাভাবিক হয়ে বলল,

"কিছু হয়নি ভাইয়া। এই যে কেটে গেছে তাই একটু টান লেগেছে।"

ইমন ইশরাতের হাতে চুমু খেয়ে কান্নাভেজা কণ্ঠে বলল,

"আমি অনেক ভয় পেয়েছি। ভেবেছি আমার আরেকটা বোন রূপি ছোট আম্মুকেও হারাতে যাচ্ছি।"

ইশরাতের খারাপ লাগলো। মন খারাপ করে বলল,

"ভাগ্যে যা আছে তা হতো। তবে আল্লাহ আমার আয়ু বাড়িয়ে দিয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। এবার আমার সাথে জান্নাতে যাওয়ার জন্য নামাজ না পড়লে আমি তোমার সাথে একদম কথা বলবো না।"

ইমন হাসল বোনের কথা শুনে। মাথায় হাত বুলিয়ে কপালে চুমু আঁকলো। অতঃপর বলল,

"ইনশাআল্লাহ। আল্লাহকে কথা দিয়েছি। পাক্কা নামাজ পড়ব। তুই তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যা ভাঙা বোন আমার। নয়তো আমি বোরিং ফিল করব। কতদিন যে তোর সাথে ঝগড়া না করে কেয়ারিং এর ঢং করতে হবে!"

ইশরাত মেকি রাগ দেখিয়ে বলল,

"যাও তো ভাইয়া। কেয়ারিং এর ঢং কে করতে বলেছে তোমাকে?"

ইমন হাসল। তার বোনটাকে এভাবেই ভালো লাগে। আল্লাহ যেন তার বোনকে সবসময় হাসিখুশি রাখে। সে ওকে ছাড়া কী করে থাকতো! ভাবতেই আবারো চোখ ভিজে উঠল।

ইশরাত ইমনের দিকে তাকালে দেখল কেমন ছলছল চোখে তার দিকে চেয়ে আছে।

"ভাইয়া তুমি কাঁদলে আমার খারাপ লাগে। আমি তো ঠিক হয়ে গেছি বলো? এখন কাঁদছো কেন?"

ইমন হাত দিয়ে চোখ কচলে বলল,

"তোর জন্য কে কাঁদছে? আমি তে কাঁদছি তোর হাত ভেঙে গেল, এখন সেবা তো আমাকেই করতে হবে। সেটা ভেবেই আমার কান্না পাচ্ছে।"

ইশরাতের আবেগে পুরো পানি ঢেলে দিল ইমন। ইশরাত মেকি রাগ দেখিয়ে বলল,

"তোমার সাথে কথাই নেই আমার। যাও।"

ইমন হেসে বলল,

"তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যা বোন। আমার শুধু ঝগড়া করে পোষাবে না। চুল টানাটানি, কান টানাটানি, না করলে আমার জীবনটা বোরিং এর ড্রাম হয়ে যাবে।"

ইশরাত রেগে বলল,

"আবার?"

ইমন ইশরাতকে এভাবে দেখে কত যে শান্তি পাচ্ছে। তার আদরের ছোট বোন তার কাছে সেই ছোটই আছে। ছোটবেলায় কোলে নিবে বলে আম্মুর কাছে বসে কাঁদত। তার আম্মু দিতে চাইতো না, যদি ফেলে দেয় সে ভয়ে। আজ তার মেয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে। অতঃপর আনমনে বলল,

"তোকে এতো বিশ্রীভাবে কোনোদিন দেখিনি জানিস বোন। আর কখনো একা একা বাইরে বের হবি না। তোর জন্য তোর ভাইয়ের মুখে হাসি ফোটে, আর তোর কিছু হলে তোর এই ভাইটা শোকে একদম হাসতে ভুলে যায়। তুই সবসময় ভালো থাকবি বোন।"

ইশরাতের খারাপ লাগলো। কী হয়ে গেল কয়েক সেকেন্ডের ভিতর। তাকে তো অয়ন ভাইয়া ডেকেছিল। সে পিছু ঘুরতে গিয়েও আর পারেনি। তার আগেই কী থেকে কী যে হয়ে গেল! ঘরের আশেপাশে তাকিয়ে অয়নকে খুঁজল। কোথাও দেখতে পেল না। অয়ন ভাইয়া তো অসুস্থ। সে কেমন আছে এখন? খুব দেখতে ইচ্ছে করল। সবাই তো তার সাথে দেখা করে গেল। তাহলে অয়ন ভাইয়া এলো না কেন? ঠিক আছে তো!

"অয়ন ভাইয়া কোথায় ভাইয়া?"

ইমন মৃদু হেসে বলল,

"বাইরে আছে। দাঁড়া ডেকে দিচ্ছি।"

এরই মধ্যে দরজায় মনিরা দাঁড়িয়ে বলল,

"ইশরাত আপু আসব?"

ইমন মনিরার কথা শুনে পিছন ফিরে বলল,

"না আসবে না। তোমাকে এখানে কে ডেকেছে?"

মনিরা চোখ ছোট ছোট করে ইমনের দিকে তাকালো। তখন কী সুন্দর হাসল। আর এখন দেখ তার সাথে কেমন ত্যাড়া কথা বলছে।

ভেতরে গিয়ে বলল,

"আসব। আপনার কী হ্যাঁ? এটা কী আপনার হসপিটাল?"

"আমারই তো। দেখছ না আমার বোন বেডে শুয়ে আছে।"

"ইশরাত আপু আমারও বোন। এখন আপনি বিদেয় হোন তো মশাই।"

ইমন হা করে তাকালো। তার বোন এর কাছ থেকে তাকেই বিদায় করতে চাচ্ছে। কি মেয়ে!

ইশরাত দু'জনের দিকে তাকিয়ে বলল,

"আরে তোমরা রোগী দেখতে এসেও ঝগড়া করছ?"

মনিরা কোমড়ে হাত দিয়ে বলল,

"আপু তোমার ভাই আসলেই অনেক ঝগরুটে।"

"আমি ঝগরুটে? তুমি ঝগরুটে মেয়ে। নিজের স্বভাব আমার উপর চাপাচ্ছো।"

"মিথ্যুক। আপনি সবসময় আমার পিছে আগে লাগেন।"

ইমন ইশরাতকে বলল,

"দেখেছিস কে মিথ্যুক! আমি তোর আর ওর সামনেই বসে আছি। আর ও বলছে আমি নাকি ওর পিছে লাগি।"

ভাইয়ের মশকরা ধরতে পেরে ইশরাত হেসে ফেলল।

মনিরা রেগে বলল,

"আপনি যাবেন? আমি ইশরাত আপুর সাথে কথা বলব।"

"তো বলো। আমি কী তোমার মুখ বেঁধে রেখেছি? আমার সামনে কথা বলতে লজ্জা পাচ্ছো? তা আমার সাথে ঝগড়া করার সময় তোমার লজ্জা কোথায় যায়?"

"আমি লজ্জা পাচ্ছি না। কিন্তুু আপনি একটা অসহ্য মানুষ। আপনি এই রুম থেকে যান।"

"যাব না, কি করবে?"

মনিরার ইচ্ছে করছে এই লোকের সব চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলতে। বেয়াদব লোক। যেই বোনটা সুস্থ শুনেছে ওমনি আবার আগের রূপে চলে এসেছে। কথাই বলবে না এর সাথে।

ইমনকে কিছু না বলে ইশরাতের বেডে বসে ইশরাতের সাথে কথা বলতে লাগলো। ইমন পাত্তা না পেয়ে উঠে দাঁড়ালো। বাইরে যেতে যেতে বলল,

"আমার বোনটাকেও বহুরূপী বানিয়ে দিচ্ছে এই মেয়ে। এখন বোনটাও আমাকে চিনছে না। বহুরূপী বেয়াদব মেয়ে বলে কথা! বড়দের সম্মান করতে জানেনা।"

মনিরা ইমনের কথা গুলো শুনে পিছন ফিরে বলল,

"আপনি অসহ্য, অসভ্য, বেয়াদব সবগুলো। ছোটদের স্নেহ করতে জানেন না।"

ইমন কথাটা বলেই চলে গিয়েছিল। এরপর দরজায় এসে দাঁড়িয়েছিল ইমনের বাবা আরিফ সাহেব। ইমন দরজা হালকা চাপিয়ে দিয়ে যাওয়ায় মনিরা ভেবেছে দরজার ওপাশে ইমন দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তুু কথাগুলো বলার পর ইমনের বাবাকে দেখে চোখ বড় বড় করে তাকালো।

আরিফ সাহেব কনফিউজড হয়ে তাকিয়ে আছে। সে তো অসহ্য, অসভ্য, বেয়াদবির কিছুই করেনি। আর সে তো ছোটদের স্নেহও করে। ভেতরে এসে মাথা চুলকে বলল,

"কি যেন বলছিলে আম্মু?"

মনিরা কি বলবে এখন? ইশরাত আপুর বাবা ভাবছে সব কথা তাকে বলেছে। বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেল। কি বলবে বুঝতে পারছে না।

ইশরাত হেসে বলল,

"তোমার ছেলেকে বলেছে বাবা। তোমার ছেলে মনিরাকে জ্বালিয়ে মারছে।"

আরিফ সাহেব অদ্ভুদভাবে মনিরার দিকে তাকালো। তার ছেলেকে এই মেয়ে এসব বলছে? তার ছেলেকেও সে চেনে। যা বিচ্ছু ছেলে তার! অতঃপর হেসে বলল,

"তুমি আমার ছেলের সাথে ঝগড়া কর? ব্যাপারটা বেশ ইন্টারেস্টিং তো!"

মনিরা লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করল। আরিফ সাহেব হেসে ইশরাতের পাশে বসে বলল,

"আম্মু আমি এখন যাচ্ছি। দুই ঘণ্টার মধ্যে চলে আসব ইনশাআল্লাহ। কিছু খেয়ে নিও কেমন!"

"আচ্ছা বাবা।"

আরিফ সাহেব মনিরার দিকে তাকিয়ে বললেন,

"এই যে আমার আরেক আম্মু, আমি কিছু মনে করিনি তোমার কথায়। আমার ছেলে বিচ্ছু। ছোটবেলায় এর চেয়েও অনেক বকা শুনতো সবার কাছে বাদরামি করার জন্য।"

মনিরা হিজাব আড়ালে হাসল বিচ্ছু নাম শুনে। মাথা নেড়ে বলল,

"বুঝেছি আঙ্কেল।"

********

অয়ন চেয়ারে বসে আছে হেলান দিয়ে। হাত পা ভীষণ যন্ত্রণা করছে। ইমন এসে অয়নকে বলল,

"ইশরাত তাকে দেখতে চাচ্ছে। আর আমি বাইরে যাচ্ছি খাবার আনতে। তুই ততক্ষণে ইশরাত এর সাথে দেখা করে নে। আমি এসে ডক্টরের কাছে গিয়ে তোর হাত-পা ড্রেসিং করিয়ে নিব।"

কিছুক্ষণ পর সবাই ইশরাতের রুম থেকে বেরিয়ে গেলে অয়ন ইশরাতের কেবিনে আসে। ইশরাত চোখ বুজে আছে। অয়ন ঠিক করে হাঁটতে পারছে না। ধীর পায়ে ইশরাতের বেড এর পাশে রাখা চেয়ারে বসল। দু'পা মেলে দিল। অতঃপর ইশরাতের দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। এই মেয়েটার কিছু হলে সে কী নিয়ে বাঁচতো? ভাবলেই বুকের ভেতর কেমন অসহনীয় যন্ত্রণা হয়।

ইশরাত চোখ মেলে অয়নে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মৃদু হেসে বলল,

"অয়ন ভাইয়া তুমি ঠিক আছো?"

অয়নের ইচ্ছে করল ইশরাতকে শক্ত করে তার সাথে জড়িয়ে ধরে বলতে,

"তুই আমার বুকে এভাবেই থাক ফুলের রাণী। বিশ্বাস কর আমার বিন্দুমাত্র কষ্ট হবে না। দেখবি আমিই এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী ব্যাক্তি হয়ে যাবো।"

সেই ইচ্ছে কে আপাতত চাপা দিল। তার ফুলের রাণী কে যে হালালভাবে বিয়ে করেনি। এসব সে পারবে না হালাল বিয়ের আগে। ইশরাতের হাত নিজের মুঠোয় নিয়ে বলল,

"ভীষণ ভালোবাসি আমার ফুলের রাণীকে। আর কখনো একা একা রাস্তা পার হবি না বুঝেছিস? দরকার হলে সারাদিন অপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পা ব্যাথা করে ফেলবি। আমি পা টিপ দিব। কিন্তুু কখনো একা একা রাস্তা পার হবি না।"

ইশরাত কী বলবে বুঝল। না। কতটা কষ্ট পেয়েছে মানুষটা! খারাপ লাগলো। তার হয়তো আরেকটু সাবধানে চলা উচিৎ ছিল। তার জন্য কতগুলো মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। মৃদুস্বরে বলল,

"সরি অয়ন ভাইয়া। আর কখনো এমন বেখেয়ালে চলব না। আর তোমার হাত পায়ের কী অবস্থা?"

অয়ন ঠোঁট টেনে হেসে বলল,

"মনের ব্যাথা বড় ব্যাথা। সেটার অর্ধেক তো সেড়ে গেছে। তুই পুরোরপুরি সুস্থ হয়ে হয়ে গেলে পুরোটা সারবে। এসব ছোটখাটো ব্যাথা এখন এমনিই সেরে যাবে। বুঝলি ফুলের রাণী?"

"তোমার পা আমাকে দেখাও। হাত দেখাও। আমি দেখব কতটা সেরেছে।"

অয়ন তার পায়ের দিকে তাকালো। প্যান্টে ভালোই রক্ত লেগেছে। এটা দেখে তো ইশরাত এই অসুস্থ অবস্থায় আরও টেনশন করবে। অতঃপর বলল,

"তোর দেখতে হবে না। তুই নিজে আগে সুস্থ হো। আমি ডক্টরের থেকে ড্রেসিং করিয়ে নিব ইমন আসলে।"

ইশরাত মন খারাপ করে বলল,

"অয়ন ভাইয়া আমি না বুঝে তোমার কল রিসিভ করছিলাম না। আমায় প্লিজ ক্ষমা করে দাও। আমার জন্যই এমন হয়েছে। আমার জেদ এর জন্য তোমারও এতো কষ্ট করে আসতে হয়েছে। এখন সবাই কষ্ট পাচ্ছো।"

অয়ন ভ্রু কুঁচকে বলল,

"ইশরাত মার খাবি কিন্তুু। তোর জন্য এমন হয়েছে কে বলল? ভাগ্যে ছিল হয়েছে। এইতো সুস্থ হয়ে গেলি। আল্লাহ আমাদের কাছে তোকে ফিরিয়ে দিল। আর আমি আমার ফুলের রাণীর অভিমান ভাঙাতে এসেছিলাম। ভালোবাসলে এটুকু কষ্ট করতে না পারলে সেটা ভালোবাসা হবে?"

ইশরাতের ভালো লাগলো অয়নের কথা। কিন্তুু প্রথমে মারতে চাইলো, তাই অন্যদিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল,

"শুধু মার খাওয়ানোর জন্য প্রস্তুত থাকে। কিছু বললেই মার খাবি কিন্তুু।"

অয়ন ইসরাতের কথা শুনতে পেয়ে হেসে ফেলল। অতঃপর বলল,

"আপাতত এটাকেই ভালোবাসা ভাব। আদর-সোহাগ জমা করে রাখছি। হালাল হয়ে গেলে সব একসাথে বের করে দিব ইনশাআল্লাহ।"

অয়নের কথা শুনে ইশরাত লজ্জা পেয়ে চোখ বুজল। অয়ন মৃদু হাসল ইশরাতের দিকে তাকিয়ে।

কবে পাবে মেয়েটাকে তার নিজের করে? পাবে তো? তার বন্ধু ইমন মেনে নিবে তো! যদি মেনে না নেয়, উল্টে তার বন্ধুরাই যদি তাকে ছেড়ে দেয়। তার কী কেউ আছে নিজের বলতে? তার আম্মু, ছোট্ট অমিত ভাই টা নেই, তাকে একা রেখে পরপারে চলে গেছে। বাবা থেকেও নেই, দিনশেষে বাবা বলে ডাকার জন্যও নেই।

আপন বলতে সোহাগ আর ইমন আর তার ফুলের রাণী ইশরাত। তার ভালোবাসার জন্য যেটুকু আছে সেটুকুও হারাবে না তো! চারিদিক থেকে বিষাদেরা ঘিরে ধরল। চোখ বুজে আল্লাহকে মনে মনে বলল,

"সবাই হারিয়ে যাওয়া মানুষটার জীবন থেকে আর কিছু হারিয়ে দিও না প্লিজ আল্লাহ। এবার একটুখানি পূর্ণতা দিও তোমার এই বান্দাকে।"

(Page - DrmShohagStory)

********

ইশরাত এখন অনেকটা ভালো আছে আলহামদুলিল্লাহ। এজন্য মৌ, নাফিসা বেগম, মনিরা তার বাবা সবাই বাড়িতে গেল। সোহাগ, অয়ন, ইমন হসপিটাল থাকল।

"ইশরাত রাস্তা পার হতে গিয়ে এক্সিডেন্ট করেছে বুঝলাম। কিন্তুু ইশরাত এর হোস্টেলের ওখানে তুই কীভাবে গেলি?"

ইশরাতের রুমে পাশের বেডে অয়ন চোখের উপর হাত দিয়ে শুয়ে চোখ বুজে ছিল। ডক্টর এসে কিছুক্ষণ আগে ড্রেসিং করিয়ে আবার ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে। ইমনের কথা শুনে অয়ন চোখের উপর থেকে হাত সরিয়ে ইমনের দিকে তাকালো।

"তাকিয়ে আছিস কেন? তোর তো কী যেন কাজ ছিল? ইশরাতের হোস্টেলের এখানে কী কাজ? আমার জানা মতে আমাদের অফিসের কোনো কাজ ওদিকে নেই। তাহলে?"

সোহাগ রুমের ভিতর ঢুকে ইমনের কথা শুনে নিজেও প্রশ্নাত্মক চোখে অয়নের দিকে তাকিয়ে বলল,

"হ্যাঁ তাইতো! তুই এখানে কী কাজে এসেছিলি?"

অয়ন কী বলবে বুঝতে পারছে না। ইমন কিছু একটা চিন্তা করে বলল,

"তুই কী সত্যি সত্যি নিজের জন্য জুলিয়েট জুটিয়েছিস? তার জন্যই এতো অসুস্থ হয়েও হসপিটাল থেকে পালিয়ে এলি?"

অয়ন অদ্ভুদভাবে ইমনের দিকে তাকালো। পালিয়ে এসেছে মানে? তাকে কী জোর করে বিয়ে দিচ্ছিল, যে সে পালিয়ে আসবে? তার প্রয়েজন হয়েছে এসেছে। এ দু'জন আবার সিআইডি হয়ে গেল কেন!

ইমন চুটকি বাজিয়ে বলল,

"আমি ধরে ফেলেছি।"

অয়ন চোখ বড় বড় করে তাকালো ইমনের দিকে। ইশরাত আর তাকে ধরে ফেলল!

"ইশরাতের এখানেই তোর জুলিয়েট থাকে তাই না? আর তুই হয়তো ইশরাতের হেল্প নিতেই ওর কাছে এসেছিলি।"

অতঃপর হেসে বলল,

"হয় হয়। প্রেম করলে বোনদের থেকেই হেল্প নিতে হয়। এ ব্যাপারে ছোট বোনেরা হেল্পার হিসেবে একদম পার্ফেক্ট। মন খারাপ করে বলল,

তোর ভবিষ্যৎ বউ এর সাথে তো পরিচয়ও করালি না।"

কথাটা মুখ ফসকে বলে ফেলল ইমন। ভাবলো সোহাগ তো এসব পছন্দ করেনা। আড়চোখে সোহাগের দিকে তাকিয়ে দেখল সোহাগ গম্ভীর মুখ করে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। এই হাসে, তো এই গম্ভীর। অতঃপর অয়নের দিকে তাকিয়ে বলল,

"না মানে, পরিচয় করাতে হবে না। আমাদের একটু ট্রিট তো দিতে পারতিস তাই না? এতো পর করে দিচ্ছিস কেন?"

সোহাগ সন্দেহী চোখে অয়নের দিকে তাকালো। ইমনের কথাটা তার কাছে যুক্তিসম্মত লাগলো। কারণ এদিকে তাদের কোনো কাজ নেই। থাকলেও তারা জানতো। অয়ন এমন কোনো কাজ করেনা যেটা তারা জানবে না। সব কাজ তাদের তিনজনকে নিয়েই। ইমনের দিকে তাকিয়ে বলল,

"ওর দিকে তাকিয়ে হেহে করে হাসছিস কেন বেয়াদব? আবার ট্রিট চাচ্ছিস! ও হারাম রিলেশন করছে আর তুই প্রশ্রয় দিচ্ছিস?"

ইমন হাসি থামিয়ে বলল,

"নে ফেরেশতার দাদা হাজির।"

সোহাগ ইমনের পিঠে থাপ্পড় দিয়ে বলল,

"তোরা আমার বন্ধু কীভাবে হয়েছিস সেটাই মাঝে মাঝে ভাবি। আমার বন্ধু হয়ে ইসলামের ব্যাপারে কোনো মন নেই।"

ইমন ভাব নিয়ে বলল,

"তুই ভাবতে থাক। আর আমি এন্সার দিচ্ছি। শোন। আমি, তুই, অয়ন এই তিনজনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক একই সুতোয় গাঁথা। এই সম্পর্ক ধর্ম-জাত দিয়ে হয়না। এজন্যই আমরা বন্ধু। বুঝলি গাধা?"

"মন্দ বলিস নি। কিন্তুু তোর প্রশংসা করতে পারছি না। আল্লাহর বিধানগুলো একটু মানার চেষ্টা কর। দেখলি তো ইশরাতকে আল্লাহ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনল।"

ইমন এর মুখ থেকে হাসি সরে গেল। আসলেই তার বোন এর যদি কিছু হয়ে যেত! সে আর নামাজ ছেড়ে দিবেনা। সোহাগের দিকে তাকিয়ে বলল,

"আমি আজকে নামাজ পড়েছি তো। আর নামাজ মিস করব না কথা দিয়েছি আল্লাহকে।"

"তাহলে তো ভালো। দেখিস আবার যেন ছুটে না যায়। কিন্তুু নামাজ পড়ে আবার ওর হারাম রিলেশন এর কথা শুনে হাসছিস কেন?"

অতঃপর সোহাগ অয়নের দিকে তাকিয়ে বলল,

"তোর সত্যি সত্যিই রিলেশন আছে তাই না? এসব বাদ দে। তাকে ছাড়া থাকতে না পারলে বিয়ে করে নে। নয়তো চুপচাপ এখানেই সমাপ্ত করে দে।"

অয়ন সোহাগের দিকে তাকালো। এরপর ইমনের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলো,, যদি সত্যি সত্যিই বলে দেয় ইশরাত আর তার কথা, ইমন কী মেনে নিবে? সোহাগ মেনে নিবে?

ইমন অয়নকে তার দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলল,

"আমাকে কী আজকে একটু বেশিই সুন্দর লাগছে বাড়ির পোষাকে? লাগলেও নজর ঠিক কর। আমি ছেলেদের প্রতি আসক্ত হই না।"

ইমনের কথা শুনে অয়ন চোখ সরালো। সোহাগ হেসে ইমনের পিঠে থাপ্পড় দিয়ে বলল,

"তুই বাঁচাল-ই থেকে যাবি।"

অতঃপর অয়নের দিকে তাকিয়ে বলল,

"কি রে বিয়ে করবি ওই মেয়েকে?"

অয়ন চোখ বুজে বলল,

"করব ইনশাআল্লাহ।"

অয়নের কথা শুনে ইমন আার সোহাগ দু'জনেই একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো। তারা এতোক্ষণ ১% হলেও ভাবছিল হয়তো অন্য কোনো ব্যাপার হবে। তাদের অয়ন মেয়েকে ভালোবাসতে শুরু করেছে। আবার তার জন্য কত কষ্ট করে এতোদূর আসল। ইমন হঠাৎ বলে উঠল,

"আমার আইডিয়া তো একদম জায়গা মতো লেগে গেল। আরে বাহ! সবাই আমার প্রশংসা কর।"

সোহাগও হাসল। সত্যি বলতে অয়নের জন্য তার খারাপ লাগে। ছেলেটার কেউ নেই। একদম একা। একটা মেয়ে ওর জীবনে আসলে ওর জীবনটায় সুখের দেখা মিলবে। মৃদু হেসে বলল,

"ওই মেয়ের বাড়ির লোকের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত আমাদের জানাস। আমরা সবাই মিলে কথা বলতে যাব ইনশাআল্লাহ।"

অয়ন চোখ খুলে তাকালো ইমন আর সোহাগের দিকে। দু'জনের মুখেই হাসি। সত্যিটা জানলে এই হাসি হয়তো থাকতো না। সবচেয়ে বড় কথা তারা ইশরাতের সাথে তাকে দেখেও এক মুহূর্তের জন্য তার সাথে ইশরাতকে জড়িয়ে ভাবেনি। কতটা বিশ্বাস করলে এমন করতে পারে! সে কী করে তাদের এই বিশ্বাস ভাঙবে? ঘাড় কাত করে ইশরাতের দিকে তাকালো।

ইশরাত ঘুমিয়ে আছে। ঘুমের ওষুধ দেয়ায় এতো কথার মাঝেও গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন মেয়েটা। এই মায়বী মুখের মেয়েটাকে ছাড়া তো কিছুই ভাবতে পারেনা সে।

ইশরাতের থেকে চোখ সরিয়ে ইমন আর সোহাগের দিকে তাকিয়ে বলল,

"শরীর খারাপ লাগছে। আমি ঘুমাবো।"

এই বলে উল্টো পাশ ফিরে চোখ বুজল।

*******

ইশরাতকে হসপিটাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসার আজ প্রায় ১৫ দিন হয়ে গেল। ইশরাত এখন সোহাগদের বাড়িতে আছে। নাফিসা বেগম, মৌ, সেহাগ কেউ তাকে তার বাড়িতে যেতে দেয়নি। ও বাড়িতপ তে কোনো মেয়ে মানুষ নেই। ইমন আর তার বাবা আছে শুধু। ইশরাতের হাত ভাঙায় বিভিন্ন কাজে একজন মেয়ে মানুষ দরকার। আর রাতে তার কাছে থাকা দরকার। সবকিছু চিন্তা করেই সোহাগ, নাফিসা বেগম যেতে দেয়নি ইশরাতকে। এ কয়দিন প্রতিদিন ইমন, আরিফ সাহেব এসে এসে নাফিসাকে দেখে গিয়েছে। এখন ইশরাত একদম সুস্থ বলা যায়। তবে হাতের প্লাস্টার এখনো খোলা হয়নি। এজন্য কিছু কাজে এখনো মৌ কে নয়তো, নাফিসা বেগমকে প্রয়েজন হয়। আর ১৫ দিন পূর্ণ হলে হাতের প্লাস্টার খুলতে পারবে।

"আমার একটা ইচ্ছে আছে। রাখবেন?"

সোহাগ ল্যাপটপে কাজ করছিল। মৌ এর কথা শুনে মাথা তুলে আবার ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে বলল,

"এখানে এসো।"

মৌ সোহাগের পাশে বসলে, সেহাগ হাতের ল্যাপটপ রেখে মৌ এর দিকে ফিরে বসল। দু'হাত বাড়িয়ে মৌ এর কোমড় জড়িয়ে ধরে বলল,

"মাত্র একটা ইচ্ছে পূরণ করব না। আমার বউ এর কোনো ইচ্ছেই অপূর্ণ রাখব না।"

মৌ নিজেকে সেহাগ এর থেকে ছাড়াতে চাইলে সোহাগ শক্ত করে মৌ এর কোমড় জড়িয়ে বলল,

"ওহ হো প্রশান্তি কই যাবা?"

মৌ ভ্রু কুঁচকে তাকালো সোহাগের দিকে। তার নাম প্রশান্তি কখন হলো? ভ্রু কুঁচকে বলল,

"আমার নাম ভুলে গেছেন? কার নাম এর সাথে আমার নাম গুলিয়ে ফেলছেন?"

সোহাগ মৌ এর ঘাড়ে নাক ঘষল। মৌ নড়াচড়া করলে সোহাগ হেসে বলল,

"পার্ফেক্ট বউদের মতে কথা। হাসবেন্ড কে নিয়ে এমন সিরিয়াস থাকতে হয়। একটু ভেবে বলল,

"বউ শব্দের অর্থ কী জানো?"

মৌ কপালে ভাজ ফেলে বলল,

"বউ শব্দের অর্থ আবার কী? বউ মানে বউ।"

"নাহ হয়নি। বউ শব্দের অর্থ হলো প্রশান্তি।"

"এটা কোথায় লেখা আছে। আমি তো পড়িনি কখনো।"

"এটা তেমার বরের মনের ডিকশনারিতে লেখা আছে। তোমাকে দেখলে প্রশান্তি পাই, জড়িয়ে ধরলে প্রশান্তি পাই, কণ্ঠ শুনলে প্রশান্তি পাই, এক কথায় তুমি রিলেটেড সবকিছুই প্রশান্তির। তাহলে বলো বউ এর অর্থ প্রশান্তি হওয়া উচিৎ নয়? কিন্তুু কেউ এটা বুঝতে পারেনি। তাই তোমার বর তার মনের ডিকশনারিতে এই শব্দের অর্থ অ্যাড করে নিয়েছে।"

সোহাগের যুক্তি শুনে মৌ তব্দা খেয়ে সোহাগের দিকে চেয়ে রইল। কয়েক সেকেন্ড পর ফিক করে হেসে দিল। হাসতে হাসতে বলল,

"আপনি পারেন ও। কী যুক্তি!"

"আচ্ছা হাসা শেষ হলে তোমার ইচ্ছের কথা বলো।"

মৌ হাসি থামিয়ে বলল,

"আমার ইচ্ছা আপনি শার্ট প্যান্ট ছেড়ে পাঞ্জাবি-পায়জামা পরুন।"

"এতোদিনে অভ্যাস কী করে চেন্ঞ্জ করব?"

মৌ একটু ভেবে বলল,

"আপনি প্রথমে শুধু পাঞ্জাবি পরার অভ্যাস করুন। এরপর পায়জামা পরার অভ্যাস করবেন। ধীরে ধীরে একদম পরিপূর্ণভাবে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

আমি জানি শার্ট-প্যান্ট পরলে গুনাহ হবে না। বাট সুন্নতি পোষাক রেখে কেন এসব পরবেন বলুন?"

সোহাগ মৌ কে জড়িয়ে ধরে মাথায় চুমু খেয়ে বলল,

"এইজন্যই বলি তোমার বর সবচেয়ে ভাগ্যবান স্বামী। আমার বউ আমার কাছে জান্নাতে যাওয়ার জন্য যে কাজ গুলো করতে হবে সেসব কাজ এর আবদার নিয়ে আসে।"

মৌ সোহাগের বুকে মাথা রেখে বলল,

"আর আমিও ভাগ্যবতী বউ কারণ তার বরকে আল্লাহর বিধানের কথা বললে সে খুশি হয়, তা মেনে চলে। এমন স্বামী কয়জন পায়?"

সোহাগ মৌ কে শক্ত করে জড়িয়ে নিল নিজের সাথে। বিড়বিড় করল,

"আমার প্রশান্তি।" মৌ এর মাথায় চুমু খেল।

একটু পর মৌ কে ছেড়ে বলল,

"রেডি হয়ে নাও। মাগরিব এর আজান দিতে এখনো এক আওয়ার সময় আছে। আমার জন্য কিছু পাঞ্জাবি কিনে আনি।"

"আচ্ছা।"

*********

"ইশরাত রেডি হয়ে নাও। তোমার সোহাগ ভাইয়া আর আমি বাইরে যাচ্ছি। তুমিও যাবে আমাদের সাথে।"

মৌ এর কথা শুনে ইশরাত হেসে বলল,

"ভাবি আমি এই ভাঙা হাত নিয়ে বাইরে গেলে মানুষের এক্সিডেন্ট হবে। সবাই আমার দিকেই তাকিয়ে থাকবে।"

ইশরাতের কথা শুনে মৌ হেসে বলল,

"তাহলে একা একা থাকবে? আম্মু তো ঘুমায়।"

ইশরাত বলল,

"সমস্যা নেই ভাবি। তবে আমার জন্য দুইটা কাজ করে দিতে পারো।"

"কী কাজ?"

"একটা হলো অনেক ঝাল দিয়ে ফুসকা আনবে পাঁচ- ছয় প্লেট এর সমান। আর দ্বিতীয় টা হলো যদি মনিরার পড়াশুনার ক্ষতি না হয়, তাহলে ওকে এখানে আসতে বলবে কয়দিনের জন্য।"

মৌ হেসে বলল,

"আচ্ছা তোমার দু'টো ইচ্ছেই পূরণ করব ইনশাআল্লাহ। আসছি তাহলে।"

"আচ্ছা ভাবি।"

*********

মৌ আর সোহাগ মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। মৌ এর হাত সোহাগ এর হাত এর মুঠোয়। মার্কেট এর ভিতর যাওয়ার জন্য পা বাড়ালে হঠাৎ একটা মেয়ে সোহাগের সামনে এসে দাঁড়িয়ে যায়। হাত বাড়িয়ে বলে,

"হ্যালো স্যার! কেমন আছেন? এখানে কোনো কাজে এসেছেন?"

সোহাগ মেয়েটার বাড়িয়ে দেয়া হাত এর দিকে তাকালো। নিজেও হাত বাড়ালো মেয়েটার দিকে, হাত মেলানোর জন্য।

মৌ চোখ বড় বড় করে চেয়ে আছে। তার স্বামী পরনারীর সাথে হাত মেলাবে। আর সে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবে? ইচ্ছে করছে এই মেয়ের হাত ভেঙে দিতে, কত্ত বড় সাহস তার স্বামীর দিকে হাত বাড়ায়! আর এই লোক হাত হাত এগোচ্ছে কীভাবে! শুধু হাত মেলাক, বর এর হাত কেটে হাত বিহীন বর নিয়ে ঘুরবে সে। এরপর পরনারীর সাথে হাত মেলানো বের করবে। এখানে কিছু বলতেও পারছে না? কী বলবে?তাকে তে অভদ্র ভাববে। কী যে করবে। সোহাগের হাতের মুঠো থেকে নিজের হাত ছাড়ানোর জন্য বার বার নাড়াচ্ছে। সোহাগ যেন তার হাত আরো শক্ত করে ধরল। করতে কী চাইছে মানুষ টা?

চলবে ইনশাআল্লাহ~~~~~~~~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন