ফন্ট সাইজ:
থিম:
আপনি যে আমার-ই

৩৫তম পর্ব

লেখক: DRM Shohag

#আপনি_যে_আমার_ই

#writer_Drm_Shohag

#পর্ব_৩৬ (Page - DrmShohagHoney)

(অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ।)

সোহাগ ইমনের কাছে এসে দেখে ইমন ঠিক আছে কী না। অয়ন ইমনকে ধরে বসে আছে। ইমন আগের চেয়ে অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে বুকে হালকা ব্যাথা করছে। সোহাগ বলল,

"ইমন হাঁটতে পারবি? দ্রুত এখান থেকে বেরতে হবে। নয়তো প্ল্যান ভেস্তে যাবে।"

ইমন ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো। অতঃপর বলল,

"চল। ট্রাক ছেড়ে দিয়েছে?"

"নাহ। টায়ার চেঞ্জ করছে। ছেড়ে দিবে মনে হয় কিছুক্ষণের মধ্যেই। আমাদেরও রেডি থাকতে হবে।"

"আচ্ছা চল।"

লুকিয়ে লুকিয়ে মেইন রাস্তায় তাদের দাঁড় করিয়ে রাখা গাড়িতে তিনজন উঠে বসে। কিছুক্ষণ পরই সেই ট্রাক মেইন রাস্তায় ওঠে। ট্রাকটি এগিয়ে গেলে পিছু পিছু ফলো করতে থাকে সোহাগ। ফাঁকা রাস্তায় গেলে সোহাগ হঠাৎ গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দেয়, এরপর ড্রাইভার এর দিকে এলোপাথাড়ি গু*লি ছুঁড়তে থাকে। ড্রাইভার দু'একটা গু*লি ছুড়লেও সোহাগদের সাথে পেরে ওঠে না। ডান সাইড থেকে গু*লি ছোড়ায় ড্রাইভার গাড়ি থামিয়ে দেয়, বামপাশ দিয়ে ট্রাক থেকে নেমে পালিয়ে যায়। সোহাগ তাদের কাজে সফল। এরপর একজনকে দ্রুত কল করে।

"ঈশান কোথায় তুমি?"

"স্যার আমি ট্রাক এর পিছনে।"

"দ্রুত ট্রাক এ উঠে স্টার্ট দাও।"

"জ্বি স্যার।"

"পৌঁছে কল করবে।"

"জ্বি স্যার।"

পিছন থেকে গু*লির আওয়াজ আসছে। ইশান পিছু ফিরে পাল্টা গু*লি ছোঁড়ে। সোহাগ গাড়িতে বারি দিয়ে বলে,

"এই ছেলে কী বোকা? ওরা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে আর এই ছেলে ওদের ফাঁদে পা দিচ্ছে। মৃদু চিৎকার করে বলে উঠল,

"ঈশান গাড়িতে উঠৈ দ্রুত স্টার্ট দাও। হারি আপ।"

ঈশান হাতের কাছে ইটের টুকরো পেয়ে অনেকগুলো একসাথে ছুঁরে মারে। এরপর কোমড়ে পিস্তল গুঁজে ট্রাক এ উঠে পরে। এরপর ট্রাকে উঠে স্টার্ট দিয়ে ট্রাক নিয়ে চলে যায়।

এবার পুলিশরা সোহাগদের গাড়ির দিকে গুলি ছুঁড়তে থাকে। সোহাগ দ্রুত গাড়ি রাস্তা থেকে আড়ালে নিয়ে ব্রেক করে। এরপর গাড়ি থেকে বের হয়, অয়নও বের হয়। ইমন বেরতে নিলে সোহাগ ইমনকে ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে বসিয়ে দেয়। ইমন ভ্রু কুঁচকে বলল,

"প্রবলেম কী ভাই? সিরিয়াস মোমেন্ট এ নিজেদের মধ্যে কী মারামারি মারামারি খেলতে চাইছিস?"

সোহাগ গাড়ি লক করে দিয়ে বলে,

"চুপচাপ বসে থাক। তোকে এতো মাতব্বরি কে করতে বলছে? আমি আর অয়ন সামলে নিব। তুই বোস। আমরা ওদের শায়েস্তা করে আসছি।"

"আরে আমি বাবু হয়ে বসে থাকব কেন?"

"যে ইটের বারি খেয়েছিস, ওর ডাবল বড় ইট আমি তোর বুক বরাবর মারব বেয়াদব। বেশি কথা না বললে ভাত হজম হয়না।"

ইমন অসহায় হয়ে বসে থাকলো। হাহ! ওর গায়ে এখনো যা শক্তি আছে, কয়েকজনকে অনায়াসে চিৎপটাং করে দিতে পারবে। যাক ওরাই যাক। সে ঘুমিয়ে নিক।

"আবার ওদের কাছে যাচ্ছিস কেন? পুলিশের লোক! যদি তোকে জেলে ভরে দেয়,"

বলে অয়ন হাসল।

সোহাগ পিস্তল হাতে ধীর পায়ে এগিয়ে যেতে যেতে জোরে হেসে উঠে বলল,

"তুই ইমনের মতো অযৌক্তিক কথা বলতে শিখে গেছিস মনে হচ্ছে। তবে এই মোমেন্ট এ এরকম জোক্স শুনতে খারাপ লাগলো না।

এই বেয়াদবদের শায়েস্তা না করে এখান থেকে বেরলে নিজেও শান্তি পাব না। যা পালানোর তা পাঠিয়ে দিয়েছি। এবার এই পুলিশের দল আমাদের থেকে পালাবে।"

বাম পাশ থেকে একজন সোহাগের দিকে গুলি তাক করলে অয়ন দৌড়ে গিয়ে লাথি দেয়, লোকটি হুমড়ি খেয়ে পরে। সোহাগ এগিয়ে গিয়ে হেসে বলে,

"এরা শত্রুপক্ষকে ধরতে এতো কাঁচা ক্যান ভাই? পুলিশের লোক এতো দুর্বল হলে মানায় না।"

অয়ন লোকটার একহাতের উপর এক পা রেখে দাঁড়িয়ে বলে,

"অটোপাশের ছাত্র মনে হয়।"

সোহাগ লোকটার আরেকহাত পারা দিয়ে সামনের দিকে এগিয়েও হঠাৎ পিছন ফিরে হাতের তালু বরাবর গুলি করে, পিস্তল ঘুরিয়ে বাম পায়ে শুট করে। লোকটা চিৎকার দিলে অয়ন সামনে এগোয়, সাথে সোহাগ।

ভেবেছিল এরা দু'জন চলে গেলে সে উঠে পালাবে। কিন্তুু কিছু বুঝে ওঠার আগেই গু*লি করে দিয়েছে।

পায়ের শব্দ পাচ্ছে। এদিকেই আসছে। সোহাগ গাছের আড়াল থেকে সকলের অবস্থান ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিল। সুযোগ বুঝে গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে এলোপাথাড়ি গু*লি করতে থাকে, সবগুলোর অবস্থান দেখে নিয়ে শুট করেছে। হাত আর পায়ে। অয়ন একজনের চুল ধরে বলে,

"সবগুলোকে হসপিটাল যাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এবার যা হসপিটাল গিয়ে শুয়ে শুয়ে আরাম কর বাচ্চারা। তোদের জন্য এতো বড় কাজ নয়।"

একজন অয়নের দিকে গু*লি ছুঁড়তে নিলে সোহাগ সে পুলিশের পেট বরাবর লাথি দেয়। বুকের উপর পা দিয়ে বলে,

"তোর তেজ কমেনা! একহাতে গুলি খেয়ে আরেকহাতে আক্রমণ করছিস। গো অ্যহেড। এরকম পুলিশ অফিসার হওয়া চাই। আই লাইক ইট!"

অয়ন পিছন থেকে বলে,

"ছেড়ে দে। ক্লান্ত লাগছে।"

সোহাগ আশেপাশে তাকিয়ে বলল,

"এদের মূল অফিসার কোন গর্তে লুকালো?"

"সব কয়টা আহত। এদের হসপিটাল নিয়ে যাওয়ার জন্য ও সুস্থই থাকুক চল।"

"মন্দ বলিস নি। চল।"

সোহাগও নিজের গাড়ি স্টার্ট দেয়। পিছন থেকে গু*লি ছুঁড়ছে তাদের দিকে। অয়ন জানালা দিয়ে দু'তিনটে গু*লি ছুঁড়ে ভেতরে মাথা ঢুকিয়ে নেয়। গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দেয় সোহাগ। কিছুক্ষণের মাঝে পুলিশদের নাগালের বাইরে চলে যায়। সুযোগ পেয়েই উঠে পরেছে। সোহাগ বিড়বিড় করল,

"মুক্ত আকাশে ক'দিন উড়ে নে। খুব শীঘ্রই ডানা কেটে দিতে আসব।"

মূল অফিসারসহ সাথে দু'জন অন্যদিকে থাকায় সোহাগ, অয়নের কবল থেকে বেঁচেছে।

তারা গাড়ির পিছন পিছন দৌড়ালো অনেক দূর পর্যন্ত। কিন্তুু লাভ এর লাভ কিছুই করতে পারল না। হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে। হাঁপিয়ে গেছে। হাঁটুতে ভর দিয়ে শ্বাস নিতে লাগলো। সোজা হয়ে একটা ছোট ইটের টুকরো পা দিয়ে সট মেরে রাগান্বিত স্বরে বলল,

"এই ছেলেদের দল কারা? আমাদের হাত থেকে কীভাবে পালিয়ে যায়? আলারের বাচ্চা ট্রাক থেকে নেমে এলি কেন? কই তুই? কু*ত্তার বাচ্চা কথা বল।"

আলাল মাথা নিচু করে আতঙ্কিত কণ্ঠে বলল,

"স.সরি স্যার!"

"তোর হাত নাই? গু*লি চালাতে পারিস নি? ভীতুর বাচ্চা, পালিয়ে এসেছে।"

পাশ থেকে একজন পুলিশ অফিসার বলল,

"স্যার এরা খুবই দক্ষ হাতে গু*লি চালিয়েছে। দক্ষতার সাথে হঠাৎ অ্যাটাক করেছে। আমরা বুঝতেই পারিনি। মাফিয়ারা যেমন হয় অনেকটা তেমন।"

আরেকজন বলল,

"জ্বি স্যার! আমাদের প্রায় সব অফিসারদের খুবই বাজেভাবে গু*লি করেছে।"

"তোদের গায়ে শক্তি নেই হারাম*জাদা?"

সাকিল বলল,

"স্যার ওদের গায়ে অনেক শক্তি।"

"তোদের কী এখন হরলিক্স কিনে দিতে হবে? অপুষ্টির দল কোথাকার!"

"কবে কিনে দিবেন স্যার?"

নাছিম সাহেব রেগে তাকালো সাকিলের দিকে। অতঃপর রাগান্বিত স্বরে বলল,

"এই বেয়াদবটাকে আমার সামনে থেকে সরা আলাল। নয়তো কপাল বরাবর শুট করে এক্ষুনি উপরে পাঠিয়ে দিব।

স্যারকে কী জবাব দিব আমি? আমার চাকরিই না চলে যায়। এরা কারা? কারো মুখ দেখতে পেলাম না। সবকটা মুখ ঢেকে এসেছে। উফ! মাথা কাজ করছে না।"

পিছন ফিরে বলল,

"হা করে কী দেখছিস? অপদার্থগুলোকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা কর।"

এই বলে চলে গেল। নাছিম সাহেব চলে গেলে সাকিল মাথা চুলকে বলল,

"আমরা যদি গুলি খেয়ে, আক্রমণ করতে গিয়ে আঘাত পেয়ে অপদার্থ হই, তাহলে নাছিম স্যার পায়ের উপর পা তুলে বসে থাকে, তার স্যার আবার দুই পা টেবিলের উপর রাখে। এরা কোন পদার্থ?"

আলাল সাকিলের হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে যেতে বলল,

"গর্ধোব ভাই চলুন। আমাদের জরুরি কাজ আছে।"

সাকিল হেসে বলল,

"কি নামে ডাকলে? ভালোই তো নামটা।"

আলাল সাকিলের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করল,

"এই পিস কই থেকে আসছে কে জানে! গাধারও বুদ্ধি আছে। এর তাও নাই।"

******

তিন বন্ধু ইমনদের বাড়িতে যায়। রাত প্রায় দু'টোর কাছাকাছি। এতো রাতে নিজের বাড়ি যেতে চাইলো না সোহাগ। সব থেকে বড় কথা তার শরীরের যা অবস্থা, এ অবস্থায় যাওয়া যাবে না। তাই ইমনদের বাড়িতে এসে গোসল করে নিল। ক্লান্ত লাগছে। আজ অনেক বড় একটা কাজে সফল হয়েছে। ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল। সে তার কাজে সফল না হয়ে বাড়ি ফেরে না। এটা নতুন নয়। তখন ইমনের বুকে বেশ বড়সড় ইট লেগেছিল। বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো।

ইমনের ঘরে গিয়ে বলল,

"তোর বুক ব্যাথা করছে?"

ইমন শুয়ে ছিল। বুকে ব্যাথা নেই। তবে জায়গাটায় ব্যাথা হয়ে আছে। সোহাগ এর পিছু পিছু অয়নকেও আসতে দেখে ভ্রু কুঁচকে বলল,

"রাত-বিরেতে তোদের দু'জনের কী হলো? বউ ছেড়ে আমার ঘরে কী?"

অয়ন এগিয়ে গিয়ে ইমনের বুকে যেখানটায় ব্যাথা পেয়েছিল সেখানে মৃদু চাপ দিলে ইমন 'আহ' করে ওঠে।

অয়ন স্বাভাবিক হয়ে ইমনের পাশে বসে বলে,

"এই খোঁজ নিতেই এসেছিলাম। বাঁচালদের মতো কথা বলবি না। চুপচাপ ঘুমা। কাল ডক্টরের কাছে যাবি।"

"তোরা আমাকে নিয়ে পরছিস কেন? তোদের বউ তোদের পাত্তা দিচ্ছে না? আমি তোদের বন্ধু। বউ এর সার্ভিস বন্ধুর কাছে খুঁজে লাভ নাই। যা কেটে পর।"

অয়ন রেগে বলল,

"তোর সার্ভিস লাগবেও না। এর চেয়ে বিয়েটা করে নে সবকিছু ঠিকঠাক থাকতে থাকতে। নয়তো পরে আফসোস করে কূল পাবি না।"

"কীসের আফসোস!"

"কীসের আবার? বাবা হওয়ার ক্ষমতা হারানোর।"

ইমন অয়নের পায়ের উপর এক পা তুলে দিয়ে বলে,

"এটা তো ভেবে দেখেনি। ভেবেছি বিয়ে না করলে বউ পাওয়া যাবে না। কিন্তুু বাবা হওয়ার চান্স তো হারানো যাবে না মনে হচ্ছে।

আমার কথা বাদ দে। তোর সেই জুলিয়েট এর কী খবর? কোনো খোঁজ তো দিচ্ছিস না। আমরা কবে যাব তাদের বাড়ি?"

সোহাগ দাঁড়িতে হাত বুলিয়ে অয়নের উদ্দেশ্যে

চিন্তিত কণ্ঠে বলল,

"এটা তো আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। কালকে ভোরের আলো ফুটলেই আগে তোদের বিয়েটা দিয়ে দিব।"

অয়ন ভাবনায় ব্যস্ত। কীভাবে বলবে সে? কিন্তুু তাকে তো বলতেই হবে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে অনেক কিছু হারিয়েছে, কিন্তুু ইশরাতকে তার চাই। অন্যসবকিছুতে তার করার কিছুই ছিল না। কিন্তুু তার ইশরাতকে নিজের করে পাওয়ার জন্য উপায় তো আছে। হয়তো কঠিন, কিন্তুু আছে তো। সে কিছুতেই পিছপা হবে না।

ইমন চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে বলল,

"কী রে অফ হয়ে গেলি ক্যান? আবার ঝামেলা হলো নাকি? হলে বিয়ের পর মিটিয়ে নিস। এখন আমাদের ঠিকানা দে।"

অয়ন নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল,

"এই ব্যাপারে আমার তোদের সাথে কথা আছে। ছাদে যা। আমি আসছি।"

"ছাদে কেন যাওয়া লাগবে? এখানেই বল।"

"আঙ্কেল জেগে যাবে। ছাদে যা।"

এই বলে অয়ন অন্যরুমে যায়। কিভাবে বলবে তা নিয়েই ভাবছে। শরীর ঘেমে যাচ্ছে। হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে। ভয়ে বুক ধুকধুক করছে। তার অনুভূতি প্রকাশের পরিণতি কী হবে? ঘরে গিয়ে সোজা ওয়াশরুমে গেল। চোখে মুখে পানি দিল। অস্থিরতা কমছে না। কি করবে? ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে বেলকনিতে গেল। মেঝেতে বসে বিড়বিড় করল,

"প্লিজ আল্লাহ ইশরাতকে আমার করে দাও। প্লিজ হেল্প মি! ও ছাড়া আমি বাঁচবো না আল্লাহ।"

মাথায় বারি দিতে ইচ্ছে করছে। তার দুই বন্ধু কি করবে তাকে? যখন জানবে তাদের ভাইয়ের মতো বন্ধু তাদের বোনের দিকে নজর দিয়েছে। ইমন তার সাথে কথা বলবে তো! তাকে ভুল বুঝবে না তো! সোহাগ কিভাবে নিবে বিষয়টা? নাহ আর ভাবতে পারছে না। উঠে দাঁড়ালো। যা হওয়ার হবে। কিন্তুু সে তার ইশরাতকে ছাড়বে না। ভাবতেও পারেনা এমন কথা।

সোহাগ ছাদে গিয়ে ভাবলো মৌ কে একবার কল করবে। আবার ভাবছে হয়তো ঘুমিয়েছে। এটা ওটা ভাবতে ভাবতেই ফোন বের করে দেখল ৩০ টা মিসড কল মৌ এর নাম্বার থেকে। মাথায় হাত চলে গেল। তার মা জানতো সে বাড়ি না আসলে রাত করে কাজ শেষে ইমন নয়তো, অয়নদের বাড়িতে থাকে। কিন্তুু তার বউ তো জানেনা। বিয়ের পর আজকেই প্রথম কাজ শেষে বাড়ি ফিরল না। দ্রুত মৌ এর নাম্বারে কল ব্যাক করে। সাথে সাথে রিসিভও হলো। সোহাগ কী বলবে বুঝতে পারছে না। রিসিভ করল মানে ঘুমায়নি। ২:৩০ এর কাছাকাছি বাজে। নিজের মাথা নিজেরই ফাটাতে ইচ্ছে করল। তার জানিয়ে দেয়া উচিৎ ছিল আগেই। কিন্তুু আজ যে কাজ ছিল সে কীভাবে জানাতো! গলা ঝেড়ে বলল,

"বউ!"

মৌ রাতে খেতেও পারেনি। ১২ টার পর থেকে অপেক্ষা করছিল। ফোন এর উপর ফোন দিয়েছে। টেনশনে মাথা ফেটে যাচ্ছিল, নামাজ পড়ে কত কেঁদেছে। কোনো বিপদ হলো কী-না। তার শ্বাশুড়ি আম্মু তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে য়াওয়ায় তাকেও আর ডাকেনি। একা একা পুরো আড়াই ঘণ্টা দমবন্ধ অবস্থায় কাটিয়েছে। হঠাৎ এতো রাতে সোহাগের ফোন পেয়ে সাথে সাথে রিসিভ করে কানে ধরে। উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলে,

"আপনি ঠিক আছেন? কোথায় আপনি? প্লিজ বাসায় আসুন। কথা বলছেন না কেন? কোথায় আপনি বলুন?"

কথা বলতে বলতে মৌ এর কথা জড়িয়ে যাচ্ছে। গলা ভারি হয়ে আসছে।

সোহাগ স্পিচলেস। তার বউ এতো টেনশন করছিল তার জন্য? আর সে একটা খোঁজ দিতে পারেনি। বাম হাত কপালে ঠেকিয়ে চোখ বুজল। মৌ এর কান্নাজড়িত কণ্ঠ, শুধুমাত্র তার বেখেয়ালের জন্য। কোনোরকমে বলল,

"অনেক কাজের চাপ ছিল বউ। ৫ মিনিটে আসছি।"

এই বলে কল কেটে দ্রুত ছাদ থেকে নামতে গিয়ে অয়নের সাথে ধাক্কা খায়। অয়ন ভ্রু কুঁচকে বলে,

"এভাবে তাড়াহুড়ো করে কোথায় যাচ্ছিস?"

সোহাগ কোনোরকমে বলল,

"ভাই মৌ টেনশনে অবস্থা খারাপ করে ফেলেছে। আমাকে এক্ষুনি যেতে হবে। কালকে তোর কথা শুনব ইনশাআল্লাহ। আজ আসি।"

এই বলে আর দাঁড়ালো না। ইমন ঘর থেকে বেরিয়ে সোহাগকে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যেতে দেখে অয়নকে বলল,

"ও এতো রাতে কই যায়?"

"বউ টেনশন করছে। তাই। যা ঘুমা।"

"চারদিকে শুধু ভালোবাসার রং উড়ছে, মাঝখানে আমি এক সিঙ্গেল পোলা।"

"বিয়ে কর।"

"দেখা যাক।

অয়নের হাত টেনে বলে,

আজ তোর সাথে ঘুমাবো আয়।"

অয়ন ইমনের থেকে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলে,

"আমারে কী পাগলা কু*ত্তায় কামড়াইছে, যে তোর সাথে ঘুমাবো! যা ঘুমা। আর ঠিক করে ঘুমানো শেখ্। নয়তো বউ বিয়ের পরের দিন বাপের বাড়ি চলে যাবে।"

এই বলে অয়ন অন্যরুমে চলে গেল।

ইমন বিড়বিড় করল,

"তাহলে কী আমার বিয়ে হবে না? আমার বউ নাহয় মাটিতে পরে যাবে মাঝে মাঝে। এরপর আমি কোমড় মালিশ করে দিব। হয়ে গেল! সহজ হিসাব।"

********

সোহাগ এর 'কাজের চাপ ছিল' কথাটা শুনে মৌ কেমন চুপচাপ হয়ে গেল! এতোটা কাজের চাপ তাকে নিজের একটা খোঁজ দিতে পারেনি? এতো রাত হবে তাহলে সেটা কল কর বলতে না পারুক, এএটা টেক্সট করে তো বলে দিতে পারতো। সে আড়াই ঘণ্টা যাবৎ কার জন্য ছটফট করে মরছিল? তার জন্য?যে কাজের চাপে বউ কে একটা খোঁজ দিতে পারেনি? সে ঠিক আছে কীনা এই একটা কথা বলতে মানুষটার কত সময় লাগতো? চুপচাপ ফোন রেখে ডান কাত হয়ে শুয়ে পরল। চোখ বুজল। তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল ঠোঁটের কোণে। সে যতটা ভেবেছে, ততটা ইমপোর্টেন্ট হয়তো এখনো সে তার স্বামীর কাছে হতে পারেনি। চোখের কোণ ঘেষে পানি গড়িয়ে পরল। একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।

সোহাগ ১০ মিনিট এর পথ তিন মিনিটে এসেছে। দৌড়ে এসেছে। মেইন গেট এর চাবি তার কাছে থাকে। তাই এতো রাতে কাওকে ডাকেনি। তার মা জেগে গেলে আরেক সমস্যা। মেইন গেট লাগিয়ে দ্রুত পায়ে নিজের ঘরে প্রবেশ করল। ডিম লাইটের আলোয় মৌ কে ওপাশ ফিরে শুয়ে থাকতে দেখল। এতোটুকু সময়ের মধ্যে ঘুমিয়ে গেছে? দরজা লাগিয়ে এগিয়ে গেল। ধীরে ধীরে বিছানায় উঠে বসল। বোঝার চেষ্টা করল মৌ ঘুমিয়েছে না কি জেগে আছে। কোনো সাড়া নেই। সে ঘরে এসেছে, বিছানায় বসল, মৌ জেগে থাকলে নিশ্চয়ই উঠে বসত। তাই সে চুপচাপ মৌ এর পাশে শুয়ে পরল। হাত বাড়িয়ে মৌ কে নিজের বুকের উপর টেনে নিল। দু'হাতে জড়িয়ে ধরল। এখন সে নিশ্চিত মৌ ঘুমিয়েছে। নয়তো সে জড়িয়ে ধরেছে ভেবেও এভাবে চুপচাপ থাকতো না৷

তাই মৌ কে ভালোভাবে নিজের সাথে জড়িয়ে সেও চোখ বুজল।

মিনিট দু'য়েক পর তার বুক কেমন ভেজা ভেজা লাগলো। ভ্রু কোঁচকালো। উপরে তাকালো। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে গুড়িগুড়ি, কিন্তুু তাদের ছাদ তো ফুটা নয়। মাথা তুলে তাকালো। মৌ নিস্তেজ হয়ে আছে, যেন মনে হচ্ছে ঘুমাচ্ছে। সোহাগ মৌ কে বালিশে শুইয়ে দিয়ে পাশ ফিরে মৌ এর দিকে তাকালো। এতোক্ষণ অন্ধকারে থাকায় ডিম লাইটের আবছা আলোয় মৌ কে স্পষ্ট দেখতে পেল। গাল গড়িয়ে পানি পরছে অনবরত। চোখের পাতা মৃদু কাঁপছে। কিন্তুু একদম চুপচাপ, নিস্তেজ হয়ে আছে।

সোহাগ অবাক হয়ে মৌ এর দিকে তাকিয়ে রইল। সে দিব্যি দেখতে পারছে মৌ এর গাল গড়িয়ে পানি থামার নাম নেই।

সোহাগ ভাবলো কিছু, সে কলে বলেছিল, কাজের চাপ ছিল। কাজের চাপে তার বউকে একটাও কল করতে পারেনি। মৌ তাকে ভুল বুঝেছে। কেঁদেছিল কলে। সে ভয়েস শুনে বুঝেছিল। কিন্তুু মৌ কথা কেন বলছে না? গালে হাত দিয়ে মৃদুস্বরে ডাকল,

"মৌ?"

মৌ কয়েক সেকেন্ড পর ওপাশ ফিরতে নিলে সোহাগ মৌ কে জড়িয়ে ধরে।

"কথা বলো মৌ বউ। কাঁদছো কেন? আজ অনেক কাজের চাপ ছিল। প্লিজ কান্না থামাও।"

ঘাড়ে ভেজা অনুভব হয়। চোখ বুজল। তার বউ এটা তাকে কীভাবে শাস্তি দিচ্ছে? মৌ কে নিজের থেকে ছাড়িয়ে দু'গালে হাত রাখে। চোখের পানি মুছে দেয়। চোখের পানিতে আবারো গাল ভিজে যায়। সোহাগ অসহায় চোখে তাকায় বউ এর মুখ পানে।

এগিয়ে গিয়ে মৌ এর চোখের পানি ঠোঁট এর সাহায্যে শুষে নেয়। কপালের সাথে কপলা ঠেকিয়ে বলে,

"প্লিজ কথা বলো। এমন শাস্তি কোথা থেকে শিখেছ? দেখ তোমার বর কষ্ট পাচ্ছে। প্লিজ কথা বলো।"

মৌ বিড়বিড় করে বলে,

"যার কাছে আমার ইমপোর্টেন্স নেই তার কথা আমি ভাবতে চাই না। আমি আপনার কেউ না।"

সোহাগ চোখ বুজে বলল,

"আমার বউ, আমার অর্ধাঙ্গিনী, আমার অভিমানী পাখি আর কখনো এমন ভুল হবে না। বি নরমাল প্লিজ!"

মৌ জড়ানো কণ্ঠে আওড়ায়,

না। আমি আপনার কেউ.. সোহাগ মৌ এর ঠোঁট এর উপর ঠোঁট রাখে। এভাবেই বলে,

"আপনি আমার সব, পাখি,, আপনি যে আমার-ই, শুধু আমার-ই। আপনার অভাগা স্বামীর সাথে কথা বলুন। তার অন্তর ছটফট করছে মৌ বউ এর মুখে স্বাভাবিক হাসি দেখার জন্য।"

মৌ সোহাগের বুকে হাত রেখে ঠেলে সরাতে চায়। সোহাগ নিজেই মাথা তুলে বলে,

"আচ্ছা আমি যাচ্ছি।"

এই বলে উঠতে নিলে মৌ চোখ খুলে সাথে সাথে সোহাগের গলা জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে উঠে। বিড়বিড় করে বলে,

"খারাপ লোক, সারাদিন রাত খোঁজ দেয়নি। আমি দু'মিনিট কথা বলিনি বলে আমায় ফেলে চলে যাচ্ছে।"

সোহাগ মৌ এর কথায় শুনে মৃদু হেসে কাঁধে চুমু খায়। কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলে,

"খারাপ লোকটাকেই আমার পাখি ভালোবেসে জড়িয়ে ধরেছে।"

মৌ কে ছাড়িয়ে দু'হাতে চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে, "আর কাঁদবেনা। একটুও না।"

মৌ এর হাত নিয়ে তার বুকে রেখে বলে,

"এই যে দ্রুতগামী হার্টবিট অনুভব করছ এটা কেন জানো? তোমার জন্য। মৌ কে টেনে জড়িয়ে ধরে মাথায় চুমু খেয়ে বলে,

"এবার বুঝেছেন, আপনি যে আমার-ই,, শুধু আমার-ই।"

মৌ চোখ বুজে সোহাগের বুকে পরে রইল। যেন তার স্বামীর বুক, তার থেকে সব কষ্ট শুষে নিয়েছে। শান্তিতে চোখ বুজল। এতোক্ষণ কাঁদার ফলে ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পরেছে। মাঝে মাঝে কেঁপে কেঁপে উঠছে। সোহাগ মৌ এর গাল এর সাথে লাগিয়ে চোখ বুজল। আর কখনো এই ভুল করবেনা। কত কষ্ট পেয়েছে তার বউটা তার সামান্য বেখেয়ালির জন্য। ঠোঁট বাঁকিয়ে চুমু আঁকলো গালে। অতঃপর মৌ কে জড়িয়ে ঘুমিয়ে গেল।

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে দেখছে মৌ তার সাথে অন্যদিকে তাকিয়ে কথা বলছে, এতো অভিমান! তাও আবার ঠিকঠাক কথা না বলে শাস্তি দিচ্ছে তাকে। সকাল থেকে অসহায়ভাবেই কাটল। অফিস যাওয়ার আগে মৌ কে জড়িয়ে কপালে চুমু আঁকলো।

"আজ তাড়াতাড়ি বাসায় আসব ইনশাআল্লাহ।"

মৌ মাথা নাড়ালো। সোহাগ ভেবেছিল তার বউ খুশি হয়ে একটু হাসবে। কই সেই হাসি! অফিস যাওয়ার আগে তার বউ এর হাসি মুখটা দেখা কপালে নাই। যা শিক্ষা দিচ্ছে তার বউ। আর জীবনে এমন ভুল হবে না। মরে গেলেও আর এ ভুল করবেনা।

সোহাগ মৌ মাথা দু'হাতে ধরে বলল,

"মুখ দিয়ে বলো।"

"কি বলবো?"

"যা খুশি। কিন্তুু বলো।"

"আপনার দেরি হয়ে যাচ্ছে, আপনি যান।"

সোহাগ অসহায় মুখ করে আবারো মৌ এর কপালে চুমু খেয়ে বলল,

"আসছি।"

*********

রাত ১০ টা নাগাদ সোহাগ অফিস থেকে বের হয়। তখন ফোনে কল আসে। অয়নের ফোন। রিসিভ করলে ওপাশ থেকে বলে,

"অফিস থেকে ফেরার পথে আমার বাসা হয়ে যাস। দরকার আছে।"

প্রায় ৩০ মিনিট পর সোহাগ অয়নের বাসায় আসে। ইমন আর অয়ন ছাদে। সোহাগ এগিয়ে গিয়ে বলে,

"এতো জরুরি তলব যে! কি দরকার বল।"

ইমন বলল,

"আমাদের অয়ন ওর লাভস্টোরি শোনাবে। আয় আয়।"

সোহাগ এগিয়ে গিয়ে ইমনের পাশে ছাদের মেঝেতে বসে। অয়নের দিকে তাকিয়ে বলে,

"শুরু কর।"

অয়ন রেলিঙের সাথে হেলান দিয়ে ইমন আর অয়নের দিকে তাকিয়ে আছে। কীভাবে বলবে? এদের দু'জনের মুখে এই হাসি তার কথা শুনে কী থাকবে? ইশরাতের হাসি মুখটা মনে পরল। কাল সারারাত আজ সারাদিন ছটফট করে মরেছে। ইশরাতের সাথে যোগাযোগ নেই। এভাবে পারবে না।

সোহাগ বিরক্ত হয়ে বলল,

"তুই কী বলবি? নাকি আমি যাব? ক্লান্ত লাগছে।"

"বলছি।"

ইমন হেসে বলল,

"কালকেই বুঝছি তোর জুলিয়েট এর সাথে ঝামেলা হয়েছে। হিস্টোরি বলে ফোন নাম্বারটা আমায় দিস। একদম সব এমনভাবে ঠিক করে দিব আর জীবনে ঝামেলাই হবে না। নে নে শুরু কর। চিন্তা বাদ দে।"

অয়ন মলিন হাসল। সত্যিই যদি ইমনের কথাটা সত্যি হতো! অতঃপর গলা ঝেড়ে বলল,

"ইশরাতের ব্যাপারে কথা বলব। ইশরাতের বিয়ের ব্যাপারে।"

ইমন হেসে বলল,

"এইচএসসি-ই দিল না। এতো তাড়াতাড়ি ছেলে দেখছিস? ভালো ভালো। তুই আর সোহাগ এর মতো ইশরাতের জন্য বড় ভাই আছে বলেই আমি আর বাবা নিশ্চিতে ঘুমাতে পারি।"

অয়ন অসহায় চোখে ইমনের দিকে তাকিয়ে রইল। তাকে ইমন কতটা বিশ্বাস করে ইশরাতের ভাই হিসেবে। সে হয়তো বলতে পারবে না। কিন্তুু ইশরাতের মুখটা ভেসে উঠল। হাসিমাখা মুখ, কান্না মাখা মুখ, নাহ, তাকে বলতে হবে। নয়তো তার ফুলের রাণী যে তার থেকে হারিয়ে যাবে।

"আমি ইশরাতকে ভালোবাসি।"

সোহাগ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল অয়নের দিকে। কথাটার অর্থ বুঝতে পারছে না।

ইমন হেসে বলল,

"ভাই সেটা তুই না বললেও আমরা জানি। কোন ভাই তার বোনকে ভালোবাসে না বল তো?"

অয়ন কাতর চোখে তাকালো। সোহাগকে তার দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে চোখ নামিয়ে নিল। চোখ বুজে বলল,

"আমি ইশরাতকে বিয়ে করতে চাই। আমার বউ করতে চাই।"

ইমন না বুঝেই হেসে বলতে নিল,

"ইশরাতকে বিয়ে দি.... ইমনের কথা থেমে যায়। কথা বলতে ভুলে গেছে। অয়নের কথাটা ইমনের মস্তিষ্ক যখন ধরতে পারল তখন ইমন হা করে অয়নের দিকে তাকিয়ে থাকে। মনে মনে মেলাতে লাগে অয়ন ইশরাত বিয়ে! কীভাবে সম্ভব! ওরা তো ভাই-বোন। ভাই-বোন এর তো বিয়ে হয়না।

ইমন থেমে থেমে বলল,

"ভাই-বোনের তো বিয়ে হয়না ভাই। তুই জানতিস না তাইনা?"

বোনকে এসব নজরে দেখতে নেই রে। চোখে পানি চিকচিক করছে। আর কথা বেরলো না।

সোহাগ কোনো কথা না বলে দাঁড়িয়ে যায়। দ্রুত পায়ে অয়নের কাছে গিয়ে অয়নের কলার ধরে চিৎকার করে বলে,

"বেঈমান, বোনকে এসব নজরে দেখতে বিবেকে বাঁধেনি তোর?"

এই বলে অয়নের নাক বরাবর ঘুষি দেয়।

ইমন গায়ে শক্তি পাচ্ছে না। মাথা নিচু করে যেন কিছু ভাবছে। সোহাগ অয়নকে সোজা করে আবারো নাক বরাবর ঘুষি দেয়। অয়ন এবার ছিটকে পরে যায় ছাদে। ইমন যেন দুনিয়াতেই নেই। ছাদে হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে পরল।

সোহাগ অয়নকে টেনে দাঁড় করায়। কলার ধরে বলে,

"বন্ধু নামের কলঙ্ক। তোর মতো বন্ধু তো বিষধর সাপ এর চেয়েও ভয়ংকর।"

অয়নের নাক দিয়ে রক্ত বেরচ্ছে। চুপচাপ মার খাচ্ছে।

ইমন শোয়া থেকে দুর্বল পায়প হেঁটে আসে। সোহাগের কাঁধে হাত রেখে বলে,

"ছেড়ে দে।"

সোহাগ অনের কলার ধরে বলে,

"ওকে ছেড়ে দিব? ওকে? ও ভাই হওয়ার যোগ্য নয়। তুই শুনলি না ও কী বলল? ওর নজর খারাপ। ও দুনিয়ায় আর মেয়ে পায়নি। ওর ইশরাতের দিকে কেন চোখ গেছে! দুশ্চরিত্র! তোর মতো বন্ধুকে ক্ষুণ করতে আমার হাত কাঁপবে না।"

লাস্ট কথাটা বলার সময় সোহাগের গলা কাঁপছিল।

অয়ন হাসল। হাত কাঁপবে না, অথচ গলা কাঁপছে।

সোহাগ রাগে অয়নকে এলোপাতাড়ি মারতে লাগলো। ইমন যেন এ দুনিয়ার বাইরে। চুপচাপ ছাদ থেকে নিচে নেমে গেল।

সোহাগ অয়নকে মারতে মারতে আধমরা করে ফেলেছে। অয়ন বিড়বিড় করে বলল,

"ভীষণ ভালোবাসি ফুলের রাণী।"

চলবে ইনশাআল্লাহ~~~~~~~~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন