#আপনি_যে_আমার_ই
#writer_Drm_Shohag
#পর্ব_৪০ (Page - DrmShohagHoney)
(অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ।)
নাফিসা বেগম পানি খেয়ে নিজ ঘরের দিকে যাচ্ছিলেন। বেল বাজানোয় দরজার দিকে এগোলেন। দরজা খুলে অপরিচিত এক মেয়েকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বোঝার চেষ্টা করল একে তিনি চেনেন কীনা! কিন্তুু অনেক ভেবেচিন্তেও চিনতে পারলেন না। মৃদু হেসে বললেন,
"তোমাকে তো ঠিক চিনলাম না আম্মু।"
মিতু নাফিসা বেগমকে দেখে ভাবলো হয়তো এটা স্যার এর মা হবে। এ বয়সী আর কে বা বাসায় থাকবে?
মিতু নাফিসা বেগমকে সালাম দিয়ে বলল,
"আন্টি আমি আপনাদের অফিসের একজন স্টাফ। স্যার এর ওয়াইফ কী বাসায় আছে? তার সাথে একটু জরুরি দরকার ছিল।"
নাফিসা বেগম কিছুটা অবাক হলেন। মৌ এর সাথে অফিসের স্টাফ এর পরিচয় আছে? ওতো মাথা ঘামালেন না। মেয়ে মানুষ। হয়তো কোনো না কোনোভাবে পরিচিত হয়েছে। অতঃপর মৃদু হেসে বললেন,
"হ্যাঁ আছে। এসো এসো ভেতরে এসো।"
দরজা লাগিয়ে মিতুকে নিয়ে মৌ এর ঘরের দিকে গেল।
মৌ আসর নামাজ পরে জায়নামাজ ভাজ করে রাখল। এমন সময় নাফিসা বেগম ঘরের ভেতর এসে বললেন,
"আম্মু তোমার সাথে একজন দেখা করতে এসেছে।"
মৌ তার শ্বাশুড়ি মায়ের কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে তাকালো। তার সাথে কে দেখা করতে আসবে? নাফিসা বেগমের পাশে মিতুকে দেখে অবাক হলো। এটা তো সেই মেয়েটা যে তার স্বামীর দিকে নজর দেয়, আবার সেদিন তাকে ক্ষ্যাত বলেছিল। তার সাথে এ মেয়ে কেন দেখা করতে এসেছে? কিছু বলতে গিয়েও কথা গিলে নিল নাফিসা বেগম কে দেখে। তাকে এসবে জড়ানোটা কেমন যেন দেখায়। তাই মৌ মৃদু হেসে বলল,
"আচ্ছা আম্মু। আমি কথা বলছি।"
নাফিসা বেগম মিতুকে এ ঘরে রেখে গেলেন। কিছুক্ষণ পর রেণুর হাতে বেশ কয়েক প্রকার নাস্তা পাঠিয়ে দিয়েছেন।
মৌ কপালে বিরক্তির ভাজ ফেলে বলল,
"আপু বসুন।"
মিতু অপরাধীর ন্যায় সোফায় বসল। সামনে রাখা নাস্তার দিকে একবারো তাকালো না। সে তার খুব প্রয়োজনে এসেছে। নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল,
"আপু আমাকে প্লিজ ক্ষমা করে দিন।"
মৌ মুখ গোমড়া করে চেয়ে রইল। সবকিছুর জন্য ক্ষমা করা যায়। কিন্তুু এ তো তার জামাই এর দিকে নজর দিয়েছে। এতো উদার মৌ হতে পারেনি এখনো। এ দিক থেকে উদার হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছেও তার নেই। ভ্রু কুঁচকে বলল,
"কেন ক্ষমা চাচ্ছেন?"
মিতু আমতা আমতা করে বলল,
"সেদিন আপনাকে ক্ষ্যাত বলেছিলাম। না বুঝে বলেছি। প্লিজ আপু ক্ষমা করে দিন আমাকে। আপনাকে এভাবে বলায় স্যার আমায় চাকরি থেকে বের করে দিয়েছে।"
মৌ অবাক হলো। এই সামান্য কারণে সোহাগ এ মেয়েকে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছে? যদিও এতে তার অতটা খারাপ লাগলো না এর কারণ তার জামাই এর দিকে যে নজর দেয় তাকে সেই অফিসে না রাখাটাই ভালো।
মিতু অনুরোধের সুরে বলল,
"আপু আমার চাকরি টা খুবই প্রয়োজন। আমার ফ্যামিলিতে আমার এই চাকরির টাকা দিয়েই সংসার চলে। আমার বাবার ছোটখাটো একটা দোকান আছে। প্লিজ আপু আমায় চাকরিটা দিন।"
এ পর্যায়ে মৌ কিছুটা নরম হলো। মেয়েটাকে বোধয় চাকরি থেকে সরিয়ে দেয়া উচিৎ হয়নি। আসলেই ফ্যামিলির জন্য মেয়েটা চাকরি করছে। তার স্বামীর মাধ্যমে আল্লাহ একজনের রিজিকের ব্যবস্থা করে দিয়েছে, এটা আল্লাহর রহমত। আর তারা সেটা ইচ্ছে করে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের জন্য একটা পরিবার কষ্ট করছে ভাবতেই মৌ এর অনুতাপ হলো। তার ভালো লাগেনা বলে একজন পরিবারকে কষ্ট দেয়া তো ঠিক নয়। অতঃপর জোরপূর্বক হেসে বলল,
"আপু আপনি চিন্তা করবেন না। আপনাকে চাকরি থেকে সরানো হবেনা। আমি উনার সাথে কথা বলবো ইনশাআল্লাহ।"
মিতু খুব খুশি হলো। স্যার এর বউ নিশ্চয়ই ভালো মানুষ। নয়তো তাকে সেদিন এভাবে বলার পরও কি সুন্দর তাকে চাকরিটা আবার ফিরিয়ে দিতে চাইছেন। মৌ কিছু একটা ভেবে বলল,
"আপনার হয়তো বিয়ে করে নয়া উচিৎ। অন্যদের বরকে নিয়ে তাহলে মাথাব্যাথা থাকবে না।"
কথাটা শুনে মিতু থতমত খেয়ে গেল। স্যার এর সাথে যে হাত মেলাতে চাচ্ছিল, আবার সেদিন ফোন দিয়ে স্যার এর মন খারাপ এর বয়াপার শুনতে চাচ্ছিল। এসব ভেবে মিতু খুবই বিব্রতবোধ করল। অপরাধীর সুরে বললো,
"আপু আমি জানতাম না স্যার বিবাহিত। আসলে স্যার কখনো কোনো মেয়ের দিকে তাকাতো না, কথাও বলতো না। আমরা ভাবতাম মেয়েদের নিয়ে স্যর এর প্রবলেম। আমরা কথা বলতে আসলে স্যার এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতো। এজন্য সেদিন কল দিয়ে স্যার বিবাহিত শোনার পরও বিশ্বাস হয়নি। প্লিজ আপু কিছু মনে করবেন না।"
মৌ মিতুর কথাগুলো শুনলো। একটা ব্যাপারে ভালো লাগলো তার বর এসব ব্যাপারে খুবই সাবধানে থাকে। এতোক্ষণ মন যতটা বিরক্তিতে ভরা ছিল এখন কিছুটা সরে গিয়েছে। তবে এই মেয়ের কথা শুনে মনে হচ্ছে তার ব নিয়ে ভাবা অফ করে দিবে। অবিবাহিত ভেবে চান্স নিতে চাচ্ছিল। যাইহোক নজর যেহেতু তার বর এর দিকে দিয়েছিল তাই এই মেয়ের প্রতি পুরোপুরি বিরক্তিভাব গেল না।কিন্তুু জোরপূর্বক হেসে বলল,
"প্রবলেম নেই। একটা পরামর্শ দিতে চাই।"
"জ্বি আপু অবশ্যই।"
মৌ বোঝানোর স্বরে বলতে লাগলো,
"আমি জানিনা আপনি এই কনসেপ্ট কোথা থেকে পেয়েছেন যারা বোরখা পরে তারা ক্ষ্যাত। আর যারা নিজেকে প্রদশর্ন করে তারা মর্ডান। তবে আমি একটা কথা বলি, কথাটা আমার নয়। কথাটা আমার আপনার সবার ইসলাম ধর্মেই আছে মেয়েদের পর্দা করতে হবে। আর এর অনেক কারণ আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর কারণ হলো আল্লাহ তায়ালা মেয়েদের এতো বেশি মর্যাদা দিয়েছেন, যে তিনি চান মেয়েরা যেন সবার আড়ালে লুকিয়ে থাকে। শুধুমাত্র তার স্বামীর জন্যই যেন একটা মেয়ে নিজেকে উম্মুক্ত রাখে।
সবাই আমাদের দেখে নিলে আমাদের মর্যাদা আল্লাহ কমিয়ে দেন। সবচেয়ে বড় কথা পুরুষেরা একটা মেয়ের দিকে যেভাবে তাকায় এটা যদি মেয়েরা জানতো তাহলে তারা লোহা দিয়ে নিজেদের আবৃত করে নিত। আসলে বোকা মেয়েরা জানেনা কিছু ছেলেরা শুধু শরীর দিয়ে ধর্ষণ করেনা, তারা চোখ দিয়েও খুবই বাজেভাবে ধর্ষণ করে।"
মৌ এর কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনলো মিতু। তবে লাস্ট কথাটা কেন যেন শরীরে কাঁটার মতো বিঁধলো। মনে পরল তার দিকে কত ছেলে তাকাতো। আর সে খুশি হতো ছেলেদের তাকানোতে। কিন্তুু আজ কেন যেন সেই একই তাকানোর কথা মনে পরায় শরীর শিরশির করল। অনুভব করলো সে অনেক ছেলের চোখ দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
মৌ এর দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল,
"আপনি খুবই ভালো আপু। অনেক সুন্দর করে কথা বলতে পারেন।"
মৌ হাসল। অতঃপর বলল,
"আপনি তো কিছুই খেলেন না।"
মিতু ভদ্রতাসূচক একটা বিস্কুট মুখে দিয়ে পানি খেয়ে নিল। অতঃপর মৌ কে ধন্যবাদ দিয়ে বাসা থেকে বের হলো।
মৌ নাস্তাগুলো গুছিয়ে ছাদের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো। রেলিঙের সাথে হেলান দিয়ে রাস্তা দেখায় মনোযোগী হলে খেয়াল করল মিতু নামের মেয়েটা যাচ্ছে। তবে অবাক হয়েছে এটা দেখে মেয়েটা শুধু হিজাব বেঁধে এসেছিল। কিন্তুু এখন সেই বাঁধা হিজাব এর কিছু অংশ দিয়ে নিজের মুখ কোনোরকমে ঢেকে নিয়েছে। এককথায় তার মুখ দেখা যাচ্ছে না। এটা দেখে মৌ অনেক বেশি বিস্মিত হলো। একরাশ ভালো লাগা কাজ করলো। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করল, তার অছিলায় আল্লাহ তার একটা বান্দাকে সঠিকটা বোঝার তৌফিক দিয়েছেন।
********
ইমন দুপুরের খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ রেস্ট নিল। ফোনে ইউটিউব থেকে দেখে নিল কীভাবে চকলেট গলিয়ে কোনো কিছুর উপর প্রলেপ দেয়া যায়। এরপর রান্নাঘরে গিয়ে একটা হাড়িতে পানি নিয়ে চুলায় বসিয়ে দেয়। সার্ভেন্ট রা করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তুু এসব কাজ মানুষের থেকে করে নেয়া যাবে না।তাই নিজে নিজেই শুরু করল। পানি গরম হয়ে গেলে তার উপর একটা কাঁচের বাটি বসিয়ে দিল। এরপর কিনে আনা সব চকলেট সেই বাটিতে ঢেলে দিল। কিছুক্ষণ পর চকলেটগুলো গলে গেলে সেই গ্রাম থেকে কুড়িয়ে আনা জিনিসগুলো সব গলানো চকলেট এর মধ্যে ঢেলে দিল। এরপর সেগুলো বাটি থেকে নামাতে গিয়ে ছেঁকা খেল হাতে। ইশ! এই মেয়ের জন্য যে তাকে আরও কত কিছু করতে হবে।৷ বিড়বিড় করে বলল,
"বাট নো প্রবলেম। এ মেয়কে শিক্ষা দেয়ার জন্য এসবের প্রয়োজন আছে।"
এরপর চকলেট গুলো ঠান্ডা হয়ে গেলে আবারো একইভাবে আরেকবার চকলেট গলিয়ে তার মধ্যে সব ঢেলে দিল। দু'বার করে প্রলেপ দিয়ে নিল। তার তো দয়ার শরীর। তাই একটু দয়া করে ডাবল প্রলেপ দিয়ে ছাড় দিল আরকি! এরপর সব ঠান্ডা হয়ে গেলে একটা বাটিতে ঢেলে ঘরে নিয়ে গেল। সার্ভেন্ট রা দূর থেকে উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করছিল তাদের ভাইজান করছে টা কী? কিন্তুু দেখতে পায়নি। তবে অনেক সুন্দর চকলেট এর ফ্লেবার তারা পেয়েছে।
ইমন রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে একজনকে বলল,
"রবিন আশেপাশে যে পাতিল, বাটি আমি ইউস করেছি ওগুলো সব ডাস্টবিনে ফেলে দিও কেমন?"
ছেলেটা মাথা চুলকালো। জিনিসপত্র ফেলে দিতে বলছে কেন? কি সুন্দর চকলেট দিয়ে কী যেন রান্না করল মনে হলো। কিন্তুু স্যার যেহেতু বলেছে ফেলতে হবে। তাই মাথা নেড়ে বলল,
"আইচ্ছা ভাইজান।"
ইমন মনে মনে শয়তানি হাসি দিয়ে তার ঘরে গেল। একটা ভালো মানের চকলেট বক্স কিনে এনেছে। সেই বক্স থেকে সব চকলেট ঢেলে তার তৈরী করা চকলেট ভরল বক্সে। আবার আগের মতো নতুন করে প্যাকেট করল। বক্সটা হাতে নিয়ে বলল,
"একদম পার্ফেক্ট। এই জ্বালানি মেয়ে এবার উচিৎ শিক্ষা পাবে। বি রেডি ফর সারপ্রাইজ মিষ্টি মেয়ে।"
অতঃপর নিজেকে পরিপাটি করে সোহাগদের বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হলো।
ইশরাতের ঘরে যেতে দরজার সামনে গিয়ে থেমে যায় ইমন। এখন তার বোন বিবাহিত। হুটহাট তো যাওয়া যাবেনা। দরজায় টোকা দিয়ে ডাকল,
"ইশরাত আছিস?"
ভেতর থেকে ইশরাত বলল,
"হ্যাঁ ভাইয়া। আসো।"
বোনের অনুমতি পেয়ে ইমন দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল। অয়ন বেলকনিতে গিয়েছিল। ইমন যখন ঘরে আসে অয়নও বেলকনি থেকে ঘরে আসে। ইমন অয়নকে দেখে বলে,
"কেমন দিনকাল যাচ্ছে ভাই?"
অয়ন ভ্রু কুঁচকে বলল,
"তোকে বলব কেন?"
"আমার বোনকে বিয়ে করে আমার সাথে ভাব নিচ্ছিস? এ আমি মানবো না বলে দিচ্ছি।"
"তুই না মানলে আমার কী? আমার জিনিস আমার হয়ে গেছে। এখন তুই হাত পা ছড়িয়ে কাঁদ, যা মন চায় কর।"
ইমন অয়নের কাছে গিয়ে চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে বলল,
"যা ভাগ। তোর জন্য কে কাঁদবে? আমি অনেক বিজি মানুষ।"
অয়ন ভ্রু কুঁচকে বলল,
"তুই আমার বউ এর ঘরে কি করছিস?"
ইমন হা করে তাকালো। কি বেয়াদব বন্ধু। কালকে বিয়ে করে ওর বউ হলো মাত্র। আর ইশরাত যে ওর জন্ম থেকে বোন। অয়নের পিঠে থাপ্পড় দিয়ে বলল,
"বেশি বাড়াবাড়ি করলে কিন্তুু আমার বোনকে ছাড়িয়ে নিব বলে দিচ্ছি।"
অয়ন রেগে ইমনের কলার ধরে বলল,
"তোর মুখ আমি ভেঙে দেব বেয়াদব।"
ইমন অয়নের হাত থেকে কলার ছাড়িয়ে বলল,
"শালা হই তোর। একটু লজ্জা রাখ ভাই। মনে হচ্ছে আমি ভিলেন, আর তুই আমার বোনকে আমার হাত থেকে উদ্ধার করতে এসেছিস।"
অয়ন আবারো ইমনের কলার ধরে বলল,
"সব ফাজলামি মানলেও এই ফাজলামি আরেকদিন করলে তোর সাথে আমার মারামারি কাটাকাটি হয়ে যাবে বলে দিলাম।"
ইমন শীতল চোখে অয়নের দিকে তাকালো। তাদের অয়ন তাদের চোখের সামনেই লুকিয়ে লুকিয়ে কবে তার বোনকে এতো ভালোবাসতে শিখে গেল? এই ভেবে মৃদু হাসল।
ইমনকে হাসতে দেখে অয়ন ধাক্কা দিল ইমনকে। এই ছেলের সাথে কথা বলাই বেকার।
ইশরাত হা করে দুই বন্ধুর দিকে তাকিয়ে আছে। এরা কি পাগল? এগিয়ে গিয়ে বলল,
"আরে তোমরা ঝগড়া, মারামারি কেন করছ বাচ্চাদের মতো?"
ইমন নিজের কলার ঠিক করে ইশরাতের দিকে তাকালো। মনে হচ্ছে ইশরাত নাক এর ভিতর থেকে কথা বলছে। ভালো করে তাকিয়ে বুঝল সর্দি লেগেছে। অয়নের দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলল,
"কালকেই তোর হাতে আমার বোনকে দিলাম। আর আজকেই ওর সর্দি বাঁধিয়ে দিয়েছিস বেয়াদব সম্মন্ধি?"
ইমনের কথা শুনে অয়ন ইশরাতের দিকে তাকালো। কালকে অসময়ে গোসলে করে এমন হয়েছে। অয়নের বন্ধু ইমন, তাই অয়ন ব্যাপারটাকে স্বাভাবিকভাবে নিলেও ইশরাত বড় ভাইয়ের সামনে বেশ বিব্রতবোধ করল। অয়ন ইশরাতের উপর থেকে চোখ সরিয়ে ইমনের দিকে বিরক্তিকর চাহনিতে তাকালো।
এগিয়ে গিয়ে ইমনের কলার ধরে ইশরাতের থেকে কিছুটা সরিয়ে নিয়ে মৃদুস্বরে বলল,
"বেয়াদব শালা আজকেই তোকে বিয়ে করিয়ে দিব দাঁড়া। নিজের বোনটাকেও ছাড় দিচ্ছিস না।"
ইমন অয়নের হাত সরিয়ে নিজের কলার ঠিক করতে করতে বলল, "তোর প্রবলেম কী রে? কলার টা টেনে টেনে লম্বা করে দিল।
অতঃপর অয়নের দিকে তাকিয়ে আঙুল দেখিয়ে বলতে লাগলো,
শোন বিয়ে করলেই সর্দি লা... থেমে গেল। ব্যাপারটা বুঝতে সময় লেগেছে তার। আড়চোখে ইশরাতের দিকে তাকালে দেখল মেয়েটা মাথা নিচু করে আছে। জিভ কাটল। সে তো ইশরাতের বড় ভাই। কিন্তুু সে ওই সেন্স এ কিছু বলেও নি। অয়নের দিকে তাকিয়ে হেহে করে হেসে অয়নের কাঁধে হাত রেখে বলল,
"আমারও নাক এর মধ্যে কেমন জানি লাগছে বুঝলি। বেশি গরম তো। তাই হয়তো। নে ভাই তুই তোর কাজ কর। আমার ইশরাতের সাথে জরুরি কথা আছে।"
এরপর নিজেকে স্বাভাবিক করে ইশরাতের সামনে চকলেটের বক্স ধরে বলল,
"শোন ইশরাত এটা তোর বান্ধবীকে দিবি। পারবিনা?"
ইশরাত ভ্রু কুঁচকে তাকালো। তার বান্ধবী কে? সবাই তো হোস্টেলে। ভ্রু কুঁচকে বলল,
"কোন বান্ধবী?"
"সুরাইয়া, আই মিন মনিরার কথা বলছি।"
ইশরাত অবাক হলো। মনিরার সাথে তো তার ভাইয়া সারাদিন ঝগড়া করতে থাকে। তার জন্য চকলেট এনেছে তার ভাইয়া, ব্যাপারটা বিশ্বাস হচ্ছে না। ইমন ইশরাতের অবাক হওয়া মুখ দেখলেও পাত্তা দিল না। যেতে যেতে বলল,
"দিয়ে দিস কিন্তুু।"
অয়ন ফোনে ব্যস্ত। ইশরাত চকলেট এর বক্স টা ভালো করে উল্টেপাল্টে দেখল। বেশ দামি চকলেট মনে হচ্ছে। ভাবলো তার ভাইয়া এতোদিন ঝগড়া করেছে, এখন আর হয়তে চায়না। সবকিছু ঠিকঠাক করতে চাচ্ছে। তাই চকলেট দিচ্ছে। তার ভাইয়া ওতোটাও খারাপ না। এই ভেবে মনিরার ঘরে গেল।
"মনিরা এটা নাও।"
মনিরা ইশরাতের বাড়িয়ে রাখা হাতে চকলেট বক্স দেখে বলল,
"এটা কার আপু?"
"তোমার।"
"তুমি কিনে এনেছ আমার জন্য?"
ইশরাত হেসে বলল,
"ভাইয়া তোমার জন্য এনেছে।"
ইশরাতের কথা শুনে মনিরার মুখ থেকে হাসি সরে গেল। কপালে ভাঁজ পরল। ইশরাত আপুর ভাই মানে তো ওই ইমন। সে তার জন্য চকলেট এনেছে? অবিশ্বাস্য! অবাক হয়ে বলল,
"তোমার ভাইয়া এনেছে? তাহলে আমি নিব না আপু। এটা তুমি নাও।"
ইশরাত মন খারাপ করে বলল,
"নিবে না কেন? ভাইয়া হয়তো তোমার সাথে আর ঝামেলা করবেনা, তাই তোমাকে এই উপহার দিয়েছে। উপহার ফিরিয়ে দিতে নেই জানোনা?"
মনিরা কিছু একটা ভেবে ইশরাতের হাত থেকে বক্সটা নিয়ে বলল,
"আচ্ছা দাঁড়াও, তোমার ভাইয়াকে বিশ্বাস নেই। ফাঁকা বক্স দিয়েছে কীনা আগে সেটা দেখি।"
মনিরার কথা শুনে ইশরাত হাসল। মনিরা বক্স টা খুলে অবাক হলো। বক্সটার ভেতর ছোট ছোট চকলেট। এটা এর আগে দেখেনি। ইশরাতের দিকে এগিয়ে নিয়ে হেসে বলল,
"আপু দেখো চকলেটগুলো কী কিউট!"
ইশরাতও অবাক হলো। আসলেই চকলেটগুলো অনেক ছোট্ট ছোট্ট। মনিরা হেসে বলল,
"আপু তুমিও এখান থেকে নাও।"
ইশরাত দুটো নিল। এরপর মনিরার দিকে তাকিয়ে বলল, "এগুলো তুমি খাও।"
এই বলে ইশরাত তার ঘরের দিকে এগোলো। দুটো চকলেট ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে। এমন অদ্ভুত চকলেট কখনো দেখেনি। অয়নকে দেখাবে বলে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে।
মনিরা ঘর থেকে বেরিয়ে মৌ এর ঘরে গেল। মৌ ছাদ থেকে ঘরে এসে তার ঘরে মনিরাকে দেখে বলল,
"তোর হাতে কী?"
মনিরা মৌ এর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
"আপু এখান থেকে দু'টো চকলেট নাও।"
মৌ দু'টো নিয়ে বলল,
"কোথায় পেলি?"
মনিরা ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলল,
"একজন দিয়েছে। খেয়ে দেখো আপু। অনেক মজা হবে নিশ্চয়ই।"
মৌ একটা মুখে দিয়ে একবার দাঁত বসালে কী অদ্ভুদ গন্ধ লাগে। দৌড়ে বাথরুমে গিয়ে ফেলে দিয়ে মুখ ধুঁয়ে নেয়। উকি আসছে। ছিঃ! এটা কী দিয়ে গেল মনিরা তাকে? দ্রুত ব্রাশ করে নিল। ভাগ্যিস একটাই মুখে দিয়েছিল, নয়তো আরও বারোটা বাজতো। ব্রাশ করায় এখন একটু ভালো লাগছে। মুখ ধুয়ে এসে বোঝার চেষ্টা করল জিনিসটা আসলে কী? উপর থেকে তো চকলেটই মনে হচ্ছে, সে ডার্ক চকলেট খেতে পারেনা তেতো লাগে বলে। কিন্তুু ডার্ক চকলেট এর স্বাদ কী এতোই জঘন্য হয়? ডার্ক চকলেট এর স্বাদ ও তো ভুলে গেছে। কিন্তুু এতো জঘন্য হওয়ার কথা তো না। বুঝতে পারল না। ভাবলো মনিরার তো ডার্ক চকলেট পছন্দ। ও খেতে পারলে ভাববো আসলেই এটা ডার্ক চকলেট। ভাবনা বাদ দিয়ে চকলেটটা ফেলে দিয়ে হাত ধুয়ে নিল।
*********
"অয়ন ভাইয়া দেখো।"
অয়ন ফোন থেকে চোখ সরিয়ে ইশরাতের বাড়িয়ে রাখা হাতের দিকে তাকালো। ছোট ছোট গোল গোল দুটো চকলেটের মতো দেখে বলল,
"এগুলো কোথায় পেলি?"
"এগুলোই তো ভাইয়া দিয়ে গেল। বলল মনিরাকে দিতে। এমন কিউট চকলেট কোথায় পাওয়া যায়?"
অয়ন ইশরাতের কথা শুনে ফোন পাশে রেখে চকলেট দু'টো নিজের হাতে নিল। ইমনকে তার হারে হারে চেনা আছে। সোহাগের শালির সাথে তো সারাদিন ঝগড়া করে, ওর জন্য এনেছে মানে নিশ্চয়ই কোনো ঘাবলা করেছে। জোরে চাপ দিয়ে ভাঙলে দেখল ভেতরে কালো টাইপ কিছু। বুঝতে পারল না কী। নাকের কাছে নিয়ে অয়নের নিজেরই বমি আসল। কী বিশ্রী গন্ধ!
ইশরাত বলল,
"কি হয়েছে?"
অয়ন দ্রুত হাত থেকে চকলেট দুটো ফেলে হাত ধুয়ে এসে বলল,
"এগুলো চকলেট নয়। তোর ভাই যে কী, এখনো চিনিসনি।"
ইশরাত ভ্রু কুঁচকে বলল,
"তাহলে কী?"
"তোর ভাইকে গিয়ে বল।"
ইশরাত ভাবলো মনিরাকে তো ওসব চকলেট ভেবে সেই দিয়ে এলো। ওগুলো খেয়ে মেয়েটা কী ভাববে তাকে! দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে মনিরার ঘরে গিয়ে দেখল নেই। কোথাও খুঁজে না পেয়ে আবার ঘরে আসল। অয়নকে রেডি হতে দেখে বলল,
"কোথাও যাচ্ছ?"
"হ্যাঁ অফিসে কাজ আছে। আসতে রাত হতে পারে। তুই ইমনদের বাসায় যাস ইমনের সাথে। আমি অফিস থেকে ফিরে ওখানে যাব ইনশাআল্লাহ।"
ইশরাত মাথা নেড়ে ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে রইল। অয়ন রেডি হয়ে বুজের কাছে তিনটে শার্ট এর বোতাম আবারো খুলল। এরপর ইশরাতের কাছে গিয়ে দু'হাতে হাত ধরে টেনে নিজের দিকে আনল। অতঃপর ইশরাতের হাত টেনে তার বুকের খোলা স্থানে রাখল। ইশরাত মাথা নিচু করে নিয়েছে। অয়ন মৃদু হেসে বলল,
"তোর হাত যেখানটায় সেখানে একটা বাইট দিবি।"
কথাটা ইশরাতের কর্ণকুহরে যেতেই চোখ খিচে নিল। বিড়বিড় করল,
"অসম্ভব।"
অয়ন কথাটা শুনতে পায়। মৃদু হেসে বলে,
"তোর এতো লজ্জা উৎপত্তির উৎস কী বলতো? মূল উৎস ভেঙে দিলেই আর লজ্জা পাবিনা। আমাকেও আর কিপ্টা বউকে নিয়ে সংসার করতে হবে না।"
ইশরাত অয়নের হাতের বন্ধন থেকে বেরতে চাইলো। অয়ন একহাতে আরেকটু শক্ত করে কোমড় জড়িয়ে ধরে বলল,
"আচ্ছা আপাতত বোতামগুলো লাগিয়ে দে। এটা দিয়েই চালিয়ে নিচ্ছি।"
ইশরাতকে চুপচাপ দেখে আবারো হেসে কানের কাছে মুখ এগিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
"লাগিয়ে দে।"
ইশরাত আমতা আমতা করে বলল,
"ততুমি লাগাও।"
অয়ন হাসল ইশরাতের লজ্জামাখা মুখ দেখে। নরমালি যখন কথা বলে তখন যেন মুখ থেকে খই ফোটে। যখনই সে তাদের মাঝে দূরত্ব কমিয়ে আনে তখনই তোতলা হয়ে যায়। কপালে চুমু খেয়ে বলল,
"বরের সেবা করলে সাওয়াব হয়। লাগিয়ে দে।"
ইশরাত ধীরে ধীরে হাত উঠিয়ে বোতাম তিনটে, সময় নিয়ে লাগিয়ে দিল। অয়ন তার বউকে জড়িয়ে ধরে মৃদুস্বরে আওড়ালো,
"ভালোবাসি আমার রাণী।"
এরপর ইশরাতকে ছেড়ে দু'গালে হাত রেখে বলল,
"খেয়ে নিবি তাড়াতাড়ি। আসছি। আল্লাহ হাফেজ।"
*******
মনিরা বাসা থেকে বের হলো। ভাবলো বাগানে গিয়ে বসে খাবে। প্রকৃতি দেখবে আর খাবে। ইমন বাসার এক সাইড দিকে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিল। মনিরাকে চকলেট বক্স হাতে বাগানের দিকে যেতে দেখে হাসল। সিগারেট ফেলে সিগারেটে লেগে থাকা আগুন পা দিয়ে নেভালো। অতঃপর মনিরার পিছু পিছু এগোলো। মনে মনে হাসল। মেঘ না চাইতেই জল পেয়ে গেছে। তার হাতের স্পেশাল চকলেট খাওয়া নিজ চোখে দেখতে পাবে ভেবে আনন্দ হলো। মুখের এক্সপ্রেশন কী হবে? ভেবেই হাসি পেল।
অতঃপর মনিরার পিছু পিছু গেল।
মনিরা বাগানে গিয়ে একটা গাছের নিচে আরাম করে বসল। এরপর চকলেট এর বক্স খুলে চকলেটগুলো দেখে মুখে হাসি ফুটল। তার এই কিউট চকলেট গুলো খেতেই ইচ্ছে করছে না। মনে হচ্ছে খেলেই তো শেষ হয়ে যাবে। এসব চিন্তা বাদ দিয়ে হাতে একমুঠো তুলে নিল। ১০-১২ টার মতো উঠেছে। ছোট ছোট চকলেট একটা একটা করে কতক্ষণে খাবে। ইমন মনিরার পাশে আছে, তবে কিছুটা দূরে লুকিয়ে। মনিরাকে এক হাত ভর্তি মুঠো করে নিতে দেখে চোখ বড় বড় করে তাকালো। আবার হাসিও পেল। একটা খেলেই কী অবস্থা হবে, সেখানে একমুঠো নিয়েছে।
বিড়বিড় করল,
"হাহ! খাও মেয়ে খাও। মন ভরে খাও।"
মনিরা বক্সটা মাটিতে রেখে হাতের সবগুলো একসাথে মুখে দিয়ে দুই,দিনবার মুখ নাড়িয়ে চিবিয়েছে। এতোগুলো একসাথে মুখে দেয়ায় এর কিছু অংশ অলরেডি পেট এর মধ্যে পৌঁছেছে হয়তো। মনিরার মনে হলো সে এই প্রথম সবচেয়ে জঘণ্য কোনো খাবার মুখে দিয়েছে। ভেতর থেকে নাড়িভুড়ি সব যেন উল্টে আসছে। সব উগলে ফেলে দিল। উকি করতে লাগলো। দুমিনিট এর মাথায় দুপুরের সব খাবার পেট থেকে বমি রূপে বেরিয়ে এলো। মনিরার মাথা ঘিরছে।
ইমন ভয় পেয়ে গেল। দৌড়ে মনিরার দিকে এসে বলল,
"সুরাইয়া ঠিক আছো?"
মনিরার শরীর দুর্বল লাগছে। উকি করলে শরীরের ভেতর যে কী অশান্তি হয় তা কীভাবে বোঝাবে মনিরা? পানিতে চোখ ভর্তি হয়ে গেছে। পাশের একটা গাছ আকড়ে ধরল। ইমনের কণ্ঠ পেয়ে ঘাড় বাঁকিয়ে ইমনের দিকে তাকালো।
ইমন অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল মনিরার মুখপানে। মেয়েটার চোখে পানি। রেগে গেলে ভালো লাগে, ঝাল লেগে চোখ ভর্তি পানি, সেভাবেও মেয়েটাকে কী সুন্দর লাগে! কিন্তুু আজ কষ্ট পেয়ে চোখ ভর্তি পানি এটা যেন ইমনের কিছুতেই মানতে পারল না। বুকে চিনচিন ব্যাথা হলো। সে তো মজা করতে চেয়েছিল। বুঝতে পারেনি এমন হবে।
মনিরার দিকে এগিয়ে আসতে গিয়ে থেমে যায়। নাহ, এমনিতেই মেয়েটা তাকে মুখ দেখাতে চায়না সে দেখে নিয়েছে। এখন সে তাকে ধরতে গেলে ব্যাপারটায় মনিরার খারাপ লাগতে পারে। তাই সে সময় নষ্ট না করে দৌড়ে বাসার ভিতর গেল। ইশরাত বিছানা ঝাড়ছিল। এমন সময় ইমন দৌড়ে গিয়ে কোনো কথা না বলে ইশরাতের হাত ধরে আবার দৌড়ে বাগান এর দিকে আসতে লাগলো। ইশরাত বলতে লাগলো,
"ভাইয়া কী হয়েছে? কোথায় নিয়ে যাচ্ছ আমাকে? পরে যাব তো।"
ইমন ইশরাতকে মনিরার কাছে নিয়ে গিয়ে বলল,
"ওকে দেখ প্লিজ। কী হয়েছে ওর? প্লিজ ওকে ধর।"
ইশরাত পাশ ফিরে মনিরাকে গাছের সাথে বসে থাকতে দেখে অবাক হলো। আরও বেশি অবাক হলো মনিরার সামনে বমি দেখে। পাশে চকলেট এর বক্স। বোঝা হয়ে গেছে ইশরাতের। অয়ন ভাইয়া বলেছিল এগুলো চকলেট নয়। সে তো মনিরাকে খুঁজল। কিন্তুু পেল না। কখন যে বাগানে চলে এসেছে।
তার ভাইয়ার উপর রাগ হলো। কিন্তুু আপাতত সেসব বাদ দিয়ে দ্রুত মনিরাকে ধরল। অতঃপর বলল,
"মনিরা খারাপ লাগছে?"
মনিরার খুবই দুর্বল লাগছে। ইমন যাওয়ার পর আবারো বমি হয়েছে। আবারো উকি আসছে। কোনোরকমে বলল,
"আপু আমাকে ঘরে নিয়ে যাও। মুখ ধুতে হবে। আমার বমি আসছে।"
ইশরাত মনিরাকে ধরে ধরে বাসার ভিতর নিয়ে গেল। ইমন অসহায় চোখে তাকিয়ে রইল। নিজের উপর রাগ হলো। মনিরার জন্য খারাপ লাগছে। শুধু খারাপ নয়। কষ্ট হচ্ছে। তখন কেমন অসহায় চাহনি নিয়ে তার দিকে তাকিয়েছিল মেয়েটা। ওমন দৃষ্টি তার হৃদয়ে কষ্টের ভিড় জমালো।
চকলেট এর বক্সে আরো কয়েকটা দেখে পা দিয়ে সট মারল। কেন দিতে গেল এসব। অন্যভাবে মজা করতে পারতো। মেয়েটা কত কষ্ট পাচ্ছে! মাথার চুল টেনে ধরল। ইচ্ছে করছে মনিরাকে এক সেকেন্ডে আবারো ঠিক আগের মতো করে দিতে। চকলেট এর বক্স টা কত আনন্দের সাথে নিয়ে এসে বসেছিল। আর এখন তার চোখে কেমন অসহায়ের ছাপ! কষ্টের ছাপ!
বিড়বিড় করল,
"আই এম সরি সুরাইয়া।"
******
মনিরার আরে বেশ কয়েকবার বমি হয়ে অফ হয়। কিন্তুু সন্ধ্যার পর থেকে তার যাত্রা শুরু হয় বাথরুম টু বিছানা, বিছানা টু বাথরুম। বমি করে এমনিই যা উইক হয়েছিল, এখন বাথরুম টু বিছানা, বিছানা টু বাথরুম হয়ে সব শক্তি হাওয়া হয়ে গেছে। মৌ চিন্তিত হলো। তার মানে ওগুলো ডার্ক চকলেট ছিল না। কে দিল মনিরাকে? আগে মেয়েটা সুস্থ হয়ে নিক। কথাই বলতে পারছে না ঠিক মতো। সোহাগও বাড়ি ফেরেনি। ইশরাতকে বললে ইশরাত বলল তার ভাইয়া বাসায় আছে। তাকে বলছে সে।
ইশরাত ইমনকে ব্যাপারটা জানালে ইমন চিন্তিত হলো। তার জন্য মেয়েটার কী অবস্থা। যদি তখনকার অসহায় মুখটা না দেখতো এখন অবশ্যই হেসে ফেলত। কিন্তুু এখন হাসি আসছে না। পরিচিত ডক্টর আঙ্কেল কে কল করলে তিনি সোহাগদের বাড়িতে আসে। মনিরার অবস্থা দেখেই বলে দেয় ফুড পয়জনিং হয়েছে। কিছু ওষুধ দেয়। আর মনিরাকে স্যালাইন করে দিয়েছে। পানি শূন্য হয়ে গেছে শরীরে।
সোহাগ, অয়ন রাত করে বাসায় ফিরে এ অবস্থা দেখে অবাক হলো। সোহাগ এই ব্যাপারে কিছু না জানলেও অয়ন বুঝতে পেরেছে। ঘরে গিয়ে ইমনকে বলে,
"তোর প্রবলেম কী ইমন? দেখেছিস মেয়েটার কী অবস্থা করেছিস?"
ইমনের এমনিতেই ভালো লাগছে না। তার মধ্যে এ কানের কাছে এসে শুরু করেছে। বিরক্ত হয়ে বলল,
"চুপ কর তো ভাই। কী জেরা শুরু করেছিস?"
এরই মধ্যে ইশরাত ঘরে এসে বলে,
"ভাইয়া তুমি জানো মনিরা কত অসুস্থ হয়ে গেছে? ওকে স্যালাইন দিয়ে দিয়েছে ডক্টর। শরীরে একটুও শক্তি অবশিষ্ট নেই।"
ইমন অসহায় মুখ করে তাকালো ইশরাতের দিকে। ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বলল,
"বিশ্বাস কর আমি ওর উপর ডাবল প্রলেপ দিয়েছিলাম।"
অয়ন রেগে বলল,
"জিনিস টা কী? কোথা থেকে আমদানি করেছিস এটা?"
ইশরাতের দিকে তাকিয়ে বলল,
"এই ভাইকে কোথা থেকে আমদানি করেছিস বল তো? একটু সভ্য বানাতে পারিস নি? এমন বেয়াদব ভাইয়ের বোন হয়েছিস কেমনে আল্লাহই জানে।"
ইশরাত রেগে বলল,
"আমাকে কথা শোনাচ্ছ কেন? আমি কী করেছি?"
"তোর-ই তো ভাই। তোকে বলব না তো কাকে বলবো?"
ইশরাত কোমড়ে হাত রেখে বলল,
"তোমারও তো বন্ধু আবার শালা। দুটো সম্পর্ক। দোষ তো তোমার বেশি হওয়া উচিৎ হিসেব মতে।"
অয়ন চোখ ছোট ছোট করে বলল,
"একদম ভাইয়ের মতো হওয়ার চেষ্টা করবি না। থাপ্পড় খাবি।"
ইশরাত গাল ফুলালো।
অয়ন ইমনের দিকে তাকিয়ে বলল,
"কি রে, ওই মূল্যবান এক্সক্লুসিভ জিনিস টার নাম কী? বল?"
ইশরাতও ইমনের দিকে তাকালো। আসলেই তারা কেউ চিনতে পারেনি।
ইমন আমতা আমতা করে বলল,
"ছাগলের ছোট ছোট গোল গোল পটি।"
চলবে ইনশাআল্লাহ~~~~~~