#আপনি_যে_আমার_ই
#writer_Drm_Shohag
#পর্ব_৪২ (Page - DrmShohagHoney)
(অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ।)
"তোরা মেয়েরা এতো স্বার্থপর কেন বল তো?"
ইশরাত ভ্রু কুঁচকে তাকালো অয়নের দিকে। এগিয়ে গিয়ে বলল,
"কয়টা মেয়ের অভিজ্ঞতা আছে তোমার?"
"হিসাব করতে ক্যালকুলেটর লাগবে। তোর কাছে ক্যালকুলেটর আছে?"
ইশরাত রেগে বলল,
"অয়ন ভাইয়া?"
অয়ন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শার্ট পরছে। মুখ লুকিয়ে হাসল ইশরাতের রাগ দেখে। আবারো নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল,
"বিয়ের পরও বউ এর মুখ থেকে ভাইয়া ডাক শুনতে হচ্ছে। স্বামী ডাক শোনার জন্য কী আরেকটা বিয়ে করতে হবে?"
ইশরাত কাপড় গুছিয়ে ব্যাগে ভরছিল। অয়নের কথা শুনে রেগেমেগে সব ভাজ করা কাপড় এক এক করে অয়নের দিকে ছুঁড়তে লাগলো।
অয়ন হাতঘড়ি ড্রেসিংটেবিলের উপর রেখে ইশরাতের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,
"কি করছিস? এতোক্ষণ ধরে গুছিয়ে নিজেই সব এলোমেলো করছিস?"
শেষে ইশরাত হাতের ব্যাগটাও অয়নের দিকে ছুঁড়ে মারলে অয়ন ব্যাগটা ক্যাচ ধরে নেয়। ইশরাতের অবস্থা দেখে অয়ন হাসতে হাসতে শেষ। ইশরাত রেগেমেগে বিছানার উপর গিয়ে ওপাশ ফিরে শুয়ে পরল। অয়ন ভাইয়ার সাথে যাবেই না। হোস্টেলে যাওয়ার কথা। দেখতে দেখতে ১৫ দিন এর বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। কলেজে ক্লাস শুরু হবে আগামীকাল থেকে। আজ যাওয়ার কথা। সে যেতে না যেতেই আরেকটা বিয়ের কথা ভাবছে!
অয়ন হাতের ব্যাগ রেখে ইশরাতে পাশে গিয়ে ইশরাতের গা ঘেঁষে শুয়ে পরল। ইশরাত বুঝতে পেরে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। অয়নও ইশরাতের দিকে এগিয়ে যায়। ইশরাত আবারও সামনের দিকে এগোলে অয়ন আবারো এগোয়। ইশরাত রেগে অয়নের দিকে তাকিয়ে আবারও এগোতে নিলে ঠাস করে নিচে পরতে যায়, তার আগেই অয়ন ইশরাতের পেট আকড়ে ধরে। ইশরাত ভয় পেয়েছে। রাগের মাথায় খেয়ালই করেনি বিছানার সীমানা এখানেই শেষ। ভয়ে চোখ বুজে নেয়। অয়ন মৃদু হাসে। ইশরাতকে জড়িয়ে তার উপর উঠিয়ে নেয়। ইশরাত রেগে অয়নের উপর থেকে উঠতে চাইলে অয়ন দু'হাতে শক্ত করে নিজের সাথে জড়িয়ে নেয়। মাথাটা বুকে চেপে তার গাল ইশরাতের মাথার সাথে ঠেকিয়ে হেসে বলে,
"রেগে যাচ্ছিস কেন? নামগুলো গুণে হিসাব করবি না? রেগে গেলে তো হিসাবে গরমিল হবে।"
ইশরাত রেগে দু'হাতে অয়নের মাথার চুল টেনে ধরে। অয়ন মৃদু আর্তনাদ করে বলে,
"আরে কি করছিস? চুল ছাড়। টাক হয়ে যাবো তো।"
"তোমাকে আমি টাকই করে দিব। এরপর কে তোমায় বিয়ে করে দেখবো।"
"আরেকটা বিয়ের পারমিশন দিবিই না তাহলে?"
ইশরাত অয়নের চোখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চুল ছেড়ে অয়নের উপর থেকে উঠতে নিলে অয়ন ছাড়ে না। ইশরাত মাথা নিচু করে বলে,
"যাও ১০০ টা বিয়ে কর গিয়ে। আমাকে বলছ কেন? ছাড়ো আমাকে। আমার কাছে কী? যাও বিয়ে কর।"
ইশরাতের অভিমান দেখে অয়ন হাসল। ডানপাশের গালে হাত রেখে ইশরাতের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
".অনুমতি দিচ্ছিস তাহলে?"
ইশরাত কথা বলে না। অয়ন মৃদু হেসে ইশরাতকে ছেড়ে বলে,
"চল তাহলে, তোকে হেস্টেলে রাখতে যাওয়ার পথে তোর বর এর জন্য পাত্রী দেখব। হবেনা?"
ইশরাত কিছু না বলে বিছানার চুপচাপ বসে রইল। কখন থেকে বলতেই আছে, বলতেই আছে। করুক বিয়ে। হাজারটা করুক। চোখ ভিজে গেছে।
অয়ন ইশরাতকে চুপচাপ দেখে আবারো ইশরাতের দিকে এগিয়ে গেল। হাতের দিকে খেয়াল করলে দেখল হাতের উপর একফোঁটা পানি। দ্রুত মেঝেতে হাঁটু মুড়ে বসল। দু'হাতে ইশরাতের মুখ তুলে ইশরাতের চোখে পানি দেখে অবাক হলো। মানে সিরিয়াসলি? সে মজা করছে ইশরাত এটা বুঝতে পারছে না? দু'হাতে গাল মুছে দিয়ে বলল,
"আমি মজা করে বলেছি, তুই জানিস না?"
ইশরাত নাক টেনে বলল,
"জানি।"
"তাহলে কাঁদছিস কেন?"
ইশরাতের রাগ হলো। মজা করে এসব বলবে কেন? রেগে দু'হাতে অয়নকে ধাক্কা দিয়ে বলল,
"মজা করে বলেছ ভালো করেছ। তোমরা বন্ধুরা তো শুধু মজাই করতে পারো। এক বন্ধু মনিরাকে কিসব খাইয়ে অসুস্থ বানিয়ে দিল। আরেকজন বিয়ে করবে বলে নাচতে নাচতে মজা করতে এসেছ।"
অয়নের সম্পূর্ণ মনোযোগ ইশরাতের দিকে থাকায় বুঝতে পারেনি। হঠাৎ ধাক্কায় বসা অবস্থায়ই পিছন দিকে পরে যেতে নিলে মেঝেতে হাত ঠেকিয়ে নিজেকে সামলে নেয়। অবাক হয়ে ইশরাতের দিকে তাকালে দেখে ইশরাত চোখে পানি নিয়েই তার দিকে তাকিয়ে আছে। ইশরাত নিজেও অয়নকে এভাবে ধাক্কা দিতে চায়নি। হঠাৎ রাগের মাথায় বুঝতে পারেনি। অয়নের চোখে চোখ পরলে ইশরাত চোখ সরিয়ে নেয়।
অয়ন রূঢ় কণ্ঠে বলে,
"এভাবে ধাক্কা দিলি কেন? আমি বলছি না আমি মজা করেছি?"
ইশরাত অয়নের দিকে তাকালো। নিজে দোষ করে এখন তাকেই ধমকাচ্ছে। এখানে আর থাকবেই না। বিছানা থেকে নেমে দরজা খুলে বাইরে বেরতে নিলে অয়ন দ্রুত মেঝে থেকে দাঁড়িয়ে ইশরাতের হাত টেনে বলে,
"কই যাচ্ছিস? মজা করেছি বাবা। এতো সিরিয়াস হয়ে গিয়েছিস কেন?"
ইশরাত অয়নের হাতের মুঠো থেকে নিজের হাত মোচড়ামুচড়ি করতে করতে বাইরে তাকিয়ে ইমনকে দেখে ভাইয়া বলে ডাক দেয়। ডান হাতে নিজের দু'চোখ মুছে নেয়।
ইমন বোনের ডাক শুনে ঘরের কাছে এসে বলে,
"কি হয়েছে ডাকছিস কেন?"
"আমাকে হোস্টেলে রেখে আসো।"
"অয়ন যে বলল ও যাবে।"
পিছনের অয়নের দিকে তাকিয়ে বলল,
"ওকে রাখতে যাবি না?"
অয়ন কিছু বলার আগেই ইশরাত বলে,
"ভাইয়া আমি তোমার সাথে যাব।"
অয়ন রেগে বলে,
"ইমন তুই বের হ ঘর থেকে।"
ইমন একবার ইশরাতের দিকে তাকায় আরেকবার অয়নের দিকে। দু'জনকে দেখে ভ্রু কোঁচকালো। ঝামেলা হয়েছে বুঝল। ইমন অয়নের দিকে তাকিয়ে বলল,
"আমি ঘরের বাইরেই আছি দেখ ভালো করে। ইশরাতের হাত অয়নের হাতের মুঠোয় দেখল, আর ইশরাতকে বারবার হাত মোচড়ামুচড়ি করতে দেখে ভ্রু কুঁচকে বলল,
"ওর হাত এভাবে ধরে আছিস কেন?"
ইশরাতের দিকে তাকিয়ে বলল,
"কি হয়েছে তোদের?"
ইশরাত কান্নাভেজা কণ্ঠে বলে,
"তোমার বন্ধুর বিয়ে করার স্বাদ জেগেছে। বিয়ে দাও।"
ইমন ভ্রু কুঁচকে বলল,
"কি রে তোর বিয়ে করার স্বাদ জেগেছে? আমার বোনকে কাঁদাচ্ছিস কেন? থাাপ্পড় সব পিঠে পরবে বলে দিলাম।"
অয়ন রেগে বলল,
"তোর গর্ধোব বোনকে বোঝা আমি এটা ফাজলামি করে বলেছি। মাথায় কিছুই নেই। দু'ভাইবোন হয়েছে এক নম্বরের গাধা।"
ইমন জানে অয়ন মজা করেছে। তার বোন বেশি ইমোশনাল। এটুকুতেই কেঁদে দিয়েছে।
ইমন অয়নের দিকে আঙুল তুলে বলল,
"একদম আমাদের গাধা বলবি না। বেদ্দপ।"
এরপর ইশরাতের মাথায় হাত দিয়ে নরম কণ্ঠে বলল,
"পাগলি মেয়ে। কাঁদছিস কেন? ও মজা করেছে।
হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল,
জানিস না তোর অয়ন ভাইয়া তোর জন্য কি কি করেছে? তোর জন্য তো আমাকে আর সোহাগকেই পারলে ক্ষুণ করে ফেলত। সে আরেকজনকে বিয়ে করবে তোকে রেখে? আর কাঁদতে হবেনা নে।"
অতঃপর অয়নের দিকে তাকিয়ে বলল,
"যে ফাজলামি তোর বউ নিতে পারেনা সেই ফাজলামি করে ওকে কাঁদাস কেন?"
অয়ন শীতল দৃষ্টিতে তাকালো ইমনের দিকে। এরপর ইশরাতের দিকে তাকালো। ইমন অয়নের দৃষ্টি পরোখ করে ইশরাতের দিকে তাকিয়ে বলল,
"অয়ন রেখে আসবে তোকে। রেডি হয়ে নে।"
"ভাইয়া আমাকে তুমি রেখে আসো প্লিজ!"
ইমন তাকালো ইশরাতের পানে। অভিমান করে অয়নের সাথে যেতে চাচ্ছে না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা হয়েছে এরাই মিটিয়ে নিবে। এর মধ্যে সে ইন্টারফেয়ার করলে ভালো দেখায় না। অতঃপর বলল,
"আমার জরুরি কাজ আছে। অয়ন রেখে আসবে আমি বলে দিচ্ছি।"
অয়নের দিকে তাকিয়ে বলে,
"এই অয়ন আমার বোনকে সাবধানে রেখে আসবি। প্রথমবার কাঁদিয়েছিস কিছু বললাম না। আর একবার কাঁদালে কিন্তুু আমার বোনকেই আরেকটা বিয়ে দিয়ে দিব হু।"
কথাটা শুনে অয়ন ইশরাতের হাত ছেড়ে ইমনের দিকে এগিয়ে এসে বামহাতে ইমনের কলার ধরে ডানহাতে ইমনের গাল বরাবর ঘুষি দিয়ে বলল,
"এসব বলতে মানা করেছিলাম না?"
ইশরাত অয়নের থেকে ইমনকে ছাড়িয়ে রেগে বলল,
"তুমি ভাইয়াকে মারছ কেন?"
ইমন গালে হাত বুলিয়ে বলল,
"তোদের সমাধান দিতে এসে আমাকে উল্টে মার খেতে হচ্ছে। ইশ! চাপার দাঁত মনে হচ্ছে সব আজকেই পরে যাবে।
এই বেয়াদব নিজের বেলায় ১৬ আনা রেগে যাস। আর আমার বোনকে বলছিস কেন তুই বিয়ে করবি?"
"তোর বোনকে আমি মজা করে বলেছি।"
ইমন নিজের গালে দু'তিনবার আলতো থাপ্পড় দিয়ে বলল,
"আমিও তো মজা করেই বললাম। অ্যাহ! আমার বোনের অন্য কোথাও বিয়ের কথা শুনলে রেগে বোম হয়ে যাস। আর আমার বোন এর কি পেট নেই? তোর এসব উল্টাপাল্টা কথা শুনে ওর বদহজম হবেনা?"
ইশরাত বিরক্ত হয়ে বলল,
"আমার বদহজম হয়নি।"
"আমি তোর ভাই না? হৃদয় দিয়ে বোঝানো যাবে না, বুঝিসনি? তাই পেট দিয়ে বোঝাচ্ছি।
অয়নের দিকে তাকিয়ে বলল,
কি রে বুঝলি?"
অয়ন ইশরাতের হাত ধরে নিজের দিকে টান দিয়ে ইমনের মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দেয়। ইমন হা করে বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে আছে। এ আর সোহাগ বদল হয়নি তো কারো সাথে? এরা তার বন্ধু হতেই পারেনা। দরজায় থাপ্পড় দিয়ে বলল,
"অকৃতজ্ঞ সম্মন্ধি। আমিও একদিন বিয়ে করে তোদের মুখের উপর এভাবে দরজা বন্ধ করে দিব। শুধু অপেক্ষা কর বেয়াদবগুলো।"
এই বলে ইমন বাসা থেকে বের হলো। আসলেই তার কাজ আছে। ইশরাতকে একেবারে মিথ্যা বলেনি। তবে চাইলে ইশরাতকে হোস্টেলে নামিয়ে দিয়ে কাজে যেতে পারতো। কিন্তুু ওদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে সেখানে সে ঢুকে গেলে আরও দূরত্ব বাড়বে। গালটায় ভালোই ব্যাথা পেয়েছে। হাত বুলিয়ে মৃদু হাসল। অয়নের ভালোবাসার গভীরতা ইমন বুঝতে পারে। আর তার বোন তো কেঁদে ভাসাচ্ছে। আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল,
'আল্লাহ ওদের সারাজীবন এভাবেই ভালোবাসায় ভরপুর করে রেখ।'
********
ইশরাত চুপচাপ এলোমেলো করা জামাগুলো আবারো ভাজ করতে লাগলো। অয়ন ধীর পায়ে ইশরাতকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলল,
"সরি!"
ইশরাত যেন শোনেনি। সে তার মতো জামা ভাজ করে ব্যাগে ভড়তে লাগলো। অয়ন অসহায় মুখ করে ইশরাতের দিকে তাকিয়ে আবারো বলল,
"সরি বউ! আর এই টপিক নিয়ে মজা করব না। সত্যি।"
ইশরাত এবারো শুনেও না শোনার ভান করে থাকলো। অয়ন ইশরাতের হাত থেকে জামাগুলো জোর করে ছাড়িয়ে নিয়ে ইশরাতকে নিজের দিকে ঘুরালো। দু'হাতের আঁজলায় ইশরাতের মুখ নিয়ে মৃদুস্বরে বলল,
"কথা বল। সরি তো! প্রমিজ আর এই টপিক নিয়ে কখনো মজা করব না। সরি!"
ইশরাত নিজের গাল থেকে অয়নের হাত সরাতে চাইলে অয়ন সরায় না। ইশরাত কান্না মাখা গলায় বলে,
"দূরে যাও। লাগবেনা সরি!"
অয়ন ইশরাতের কানের সাথে মুখ লাগিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
"তাহলে কি লাগবে? ভালোবাসা?"
ইশরাতের শরীরে যেন বিদ্যুৎ বয়। আমতা আমতা করে বলে,
"কিকিছু লাগবে না।"
এই বলে ইশরাত নিজেকে ছাড়াতে চাইলে অয়ন বামহাতে ইশরাতের কোমড় জড়িয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়। ইশরাতের কাঁধে নিজের থুতনি ঠেকিয়ে ডানহাতে ইশরাতের ছেড়ে দেয়া চুলের ভাজে হাত চালিয়ে বলে,
"ভালোবাসি আমার রাণী। এমনিতেই আজকে চলে যাচ্ছিস। আমাকে একা একা থাকতে হবে। তার মধ্যে এভাবে গেলে আমি কীভাবে থাকবো বল তো?"
ইশরাত গাল ফুলিয়ে বলে,
"এজন্যই তো আরেকটা বিয়ে করতে চাচ্ছিলে।"
অয়ন ইশরাতের কয়েকটা চুল নিজের তিন আঙুলে পেঁচিয়ে হালকা জোরে টান দেয়। ইশরাত ব্যাথা পেয়ে মৃদু আর্তনাদ করে উঠলে অয়ন মুখ বাঁকিয়ে ইশরাতের গালে চুমু খেয়ে বলে,
"মজা করেছি বলেছি না? আমার একটাই রাণী। আর কেউ কখনো আমার রাণীর বরের জীবনে আসবেনা, বুঝেছিস? পাকা পাকা কথা বলবিনা একদম।"
ইশরাত নিজেকে ছাড়াতে চেয়ে বলে,
"রেডি হয়ে নিই। ছাড়ো।"
অয়ন ইশরাতকে ছেড়ে মৃদু হেসে কপালে চুমু খেয়ে বলে,
"ভালোবাসি ফুল রাণী।"
ইশরাত চোখ বুজে নিয়েছে। অয়ন নিচু হয়ে তার কান ইশরাতের মুখ বরাবর রেখে বলল,
"এবার আমার অ্যান্সার চাই। বল।"
ইশরাত চোখ খুলে অয়নকে তার দিকে কান বাড়িয়ে থাকতে দেখে এদিল ওদিক তাকালো। মনে মনে কিছু একটা ভেবে মুখ এগিয়ে নিয়ে চিল্লিয়ে বলল,
"অয়ন ভাইয়ায়ায়ায়ায়ায়া।"
অয়ন দ্রুত কান সরিয়ে নিয়ে এক আঙুল কানের মধ্যে দিয়ে রেগে বলল,
"বয়রা বানানোর ধান্দা করছিস? তাও অ্যান্সার টা দিলেও হতো। কি এক মায়ার ডাক পেয়েছিস। বরকে ভাইয়া ডাকছিস।"
ইশরাত মুখ টিপে হাসল। পিছন ঘুরতে নিলে অয়ন ইশরাতকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে বলে,
"অ্যান্সার না শুনে এক পা বাড়াতে দিব না। এবার বল।"
ইশরাত মাথা উঁচু করে অয়নের দিকে তাকালে অয়ন ভ্রু নাচিয়ে বলে,
"কি হলো বল?"
ইশরাত মাথা নিচু করে আমতা আমতা করে বলে,
"ববলছি।"
অয়ন এক মিনিট এর মতো অপেক্ষা করে ঘাড় বাঁকিয়ে ইশরাতের সারা মুখে চুমু আঁকে। ইশরাত চোখ বুজে নিয়েছে। অয়ন মৃদু হাসে তার বউ এর লজ্জামাখা মুখ দেখে। কপালের সাথে গাল ঠেকিয়ে বলে,
"বল।"
ইশরাত অয়নের শরীরের উপর নিজের ভার ছেড়ে দিয়েছে। মৃদু কম্পন স্বরে বলে,
"ভালোবাসি।"
অয়ন ইশরাতকে শক্ত করে নিজের সাথে জড়িয়ে নিয়ে বলে,
"আমিও আমার রাণীকে ভীষণ ভালোবাসি।"
এরপর ইশরাতকে ছেড়ে বলে,
"দ্রুত রেডি হয়ে নে। অলরেডি অনেক লেট হয়ে গেছে।"
ইশরাত আর সময় নষ্ট না করে কাপড়গুলো গুছিয়ে নিয়ে রেডি হতে গেল।
********
ইমন কাজের সূত্রে বগুড়া এসেছে। এখানে মনিরাদের বাসা। আজ প্রায় ১৫ দিন এর বেশি হয়ে গেল মনিরার সাথে না কোনো কথা হয়েছে, আর না তো দেখা। ইমনের মাঝে মাঝেই মেয়েটাকে মনে পরে। কে জানে আবার কবে দেখা বা কথা হবে! এখন যেখানে আছে এখান থেকে মনিরাদের বাসা খুব বেশি দূর না। ২০ মিনিট এর পথ। কিন্তুু এভাবে তো যাওয়া যায় না। তার বন্ধুর শ্বশুর বাড়ি। কোনোভাবে যদি মেয়েটাকে দেখতে পেত। এই শহরে এসে যেন মনিরাকে একটু বেশিই মনে পরছে। রাস্তার পাশে উল্টো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইমন।
পকেট থেকে সিগারেট বের করে দু'ঠোঁটের ফাঁকে সিগারেট রেখে লাইটার দিয়ে আগুন জ্বালালো। এরপর লাইটার টা পকেটে রেখে ডান হাত পকেটে রেখে বামহাতে সিগারেট ফুঁকতে লাগলো।
হঠাৎ করে শোরগোলে ভরে গেল জায়গাটা। কিছুক্ষণ আগেও জায়গাটা বেশ শান্ত ছিল, একদম কোলাহলমুক্ত। ইমন বিরক্ত হলো। সিগারেট মুখে নিয়েই পিছন ফিরল। দেখল রাস্তার অপরপাশে একটা বড় গেইট দিয়ে স্কুলের ছেলেমেয়েরা বের হচ্ছে। গেইটের উপরে দেখে বুঝল এটা আসলে একটা স্কুল। খেয়াল করেনি সেভাবে তাই বুঝতে পারেনি। ঘাড় ঘুরিয়ে সামনে ফিরেও আবার সাথে সাথে পিছন ফেরে। কাওকে দেখল না? ভ্রু কুঁচকে ভালো করে তাকালে দেখল মনিরা। মেয়েটা তার দিকেই চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছে। যদিও বোরখা পরে মুখ ঢাকা। কিন্তুু ইমনের চিনতে একটুও বেগ পোহাতে হয়নি। প্রথমত এই বোরখা সে চেনে। অনেকেরই থাকতে পারে স্বাভাবিক, তবে মনিরার চোখ আর তার দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকা সবমিলিয়ে মনিরারকে একদম ১০০% চিনে নিয়েছে।
এখনো তার মুখে সিগারেট। মনিরাকে এভাবে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে ভ্রু কোঁচকালো। তার মুখে সিগারেট বুঝতে পেরে দ্রুত তা মাটিতে ফেলে দিল। অতঃপর হাত দিয়ে মুখের সামনের ধোঁয়া সরানোর চেষ্টা করল। সব কাজ মনিরার দিকে তাকিয়েই করল। মনিরাও তার দিকে তাকিয়ে আছে। ইমনের মাথায় হঠাৎ একটা কথা এলো। মাথা নিচু করে সিগারেট এর দিকে তাকালো। সে সিগারেট টা ফেলল কেন? মনিরা তো তাকে নিষেধ করেনি, তাছাড়া নিষেধ করলেও বা কী? সে শুনবে কেন তার কথা? মাথায় ঢোকে না তার কাজকর্ম। মনিরার দিকে তাকিয়ে মনিরাকে একইভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে দু'হাত প্যান্টের পকেটে রেখে নিজেও সুন্দর মতো দাঁড়িয়ে মনিরার দিকে তাকিয়ে রইল।
মনিরা ইমনকে এভাবে প্রিপারেশন নিয়ে দাঁড়াতে দেখে চোখ সরিয়ে নিল। উনি তার স্কুলের সামনে আসলো কেন? এটা যে তার স্কুল সে চেনে? ভাবনা বাদ দিল। তার ভালো লাগছে না।
এই লোকটা তাকে একবারো দেখতে আসেনি।
আবার নিজেই ভাবলো আসবে কী করে? তাদের বাড়িতে তো যখন তখন আসা যায় না। আবার নিজেই নিজেকে বললো, কেন আগে তো সারাদিনই আসতো। আর এতোদিনে আরেকবার আসলে কী এমন হতো! কথা বলবে না এই লোকের সাথে। রাস্তা পার হতে গিয়েও থেমে গেল। এই সোজাই লোকটা দাঁড়িয়ে আছে। কিছুটা সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে সামনের দিকে তাকালে দেখল তার ঠিক সামনেই ইমন। কী হলো? সে তো কিছুদূর হেঁটে আসলো। তাহলে এই লোকও তার সামনেই কেন এখনো? আবার সামনের দিকে এগোতে নিয়ে পাশ ফিরে তাকিয়ে দেখল ইমনও তার সাথে হাঁটছে। বিড়বিড় করল,
"আবার আমাকে জ্বালাচ্ছে। লেজ কাটা বাদর একটা।"
এপাশ থেকে আর সামনে এগোনোও যাবে না৷ অনেক গাড়ি দাঁড় করানো। তার পাশ ঘেষে গাড়ি চলাচল করছে। এখানে খালি রিক্সাও নেই। সামনে এগোলে পাওয়া যাবে।
তার ফ্রেন্ড দু'টো তাকে রেখে কোথায় গেল! ইশ একা একা রাস্তা পার হবে কী করে? প্রতিদিন তিন বান্ধবী মিলে রাস্তা পার হয় দেখেশুনে। ওই দুটোকে পেলে থাপ্পড় দিয়ে সোজা করবে। তাকে না নিয়েই কোথায় বেরিয়ে গেছে কে জানে। একা একাই রাস্তা পার হওয়ার জন্য বার বার এগিয়ে গিয়েও আবার পিছিয়ে যাচ্ছে। অসহায় লাগলো। সামনে তাকালে দেখলে ইমম হাসছে।
বিড়বিড় করল,
'কত্ত বড় খারাপ লোক। মানুষের দুর্দিনে হাসছে।'
ইচ্ছে করল সব দাঁত ভেঙে দিতে।
"চলো আমি হেল্প করছি।"
ইমন রাস্তা পার হয়ে মনিরার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, মনিরা খেয়ালই করেনি।
হঠাৎ পাশে ইমনের গলা পেয়ে চমকে উঠল মনিরা। পাশ ফিরে ইমনকে দেখে অবাক হলো। রাস্তার ওপাশে ছিল। এতো তাড়াতাড়ি এপাশে চলে এলো কী করে?
ইমন মনিরার হাত ধরতে গেলে মনিরা দু'হাত গুটিয়ে নেয়। ইমন বুঝতে পারে মনিরা তো তার মতো এতো সহজ না। মৃদু হেসে বাম হাতের গোটানো শার্ট এর হাতা নামিয়ে নেয়, বোতাম খোলাই ছিল। তাই আর খুলতে হলো না। ডানহাতের শার্ট এর হাতা কি সুন্দর গোটানো, আর বাম হাতের হাতা পাগলদের মতো নামানো। যাকে বলে পার্ফেক্ট জোকার!
কিন্তুু ইমন আপাতত এসব ভাবছে না। মনিরার দিকে তার সম্পূর্ণ মনোযোগ। মনিরা ইমনের অবস্থা দেখে হিজাবের আড়ালে কয়েক দফা হেসেও নিল। ইমন বাম হাত এগিয়ে দিয়ে বলল,
"নাও শার্ট এর কোনা ধর।"
মনিরা ভদ্র মানুষের মতো শার্ট এর হাতার কোনা ধরে ইমনের সাথে রাস্তা পার হলো।
ওপাশে গিয়ে তার দুই বান্ধবীকে তাদের হাতের দিকে দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে নিজেও তার হাতের দিকে তাকায়। বুঝতে পেরে দ্রুত ইমনের শার্ট থেকে হাত ছাড়িয়ে নেয়। তার দুই বান্ধবীদের দিকে গিয়ে রেগে বলে,
"আমাকে রেখে কই গিয়েছিলি তোরা?"
ইশা বলল,
"এসব পরে হবে। এই হ্যান্ডশাম ছেলেটা কে? কোথায় পেলি? কি সুন্দর করে তোকে রাস্তা পার করে দিল!"
মনিরা আড়চোখে তাকিয়ে বলল,
"আমার আত্মীয়।"
"শুধু আত্মীয়? অন্য কেউ না?"
"অন্য কি হবে?"
ইশা হেসে বলল,
"কিছু না। বলছি আমার সাথে একটু সেটিং করিয়ে দিবি? তোকে দু'দিন পর পরই ট্রিট দিব।"
মনিরা ছোট ছোট চোখ করে ইশার দিকে তাকিয়ে রেগে বলল,
"বিবাহিত। দুই বাচ্চা বাপ। চলবে?"
ইমন খুব বেশি দূরে না থাকায় ওদের সব কথাই শুনতে পেয়েছে। মনিরার বান্ধবীর এসব কথা শুনে মনে মনে হেসেছে। বাচ্চা মেয়ে, ক্রাশ খায় বেশি। তাই সেদিকে পাত্তা দেয়নি। কিন্তুু মনিরার কথা শুনে চোখ বড় বড় করে তাকালো। তার বউ আছে? কোথায়? দু'টো বাচ্চাও আছে? তাহলে সে দেখতে পায় না কেন? হোয়াই?
মনিরার কথা শুনে ইশার মুখটা চুপসে গেল। মুখ গোমড়া করে বলল,
"এতো হ্যান্ডশাম ছেলে এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে করে নিল! মনটা গড়ার আগেই ভেঙে গেল। আচ্ছা থাক বান্ধবী। যাই তাহলে।"
এই বলে ইতুর হাত ধরে উল্টোদিকে হাঁটা ধরল।
মনিরা ইমনকে না দেখার ভান করে সামনে এগোয়। ইমন ভ্রু কুঁচকে মনিরার পিছু পিছু গিয়ে বলে,
"এই মেয়ে আমার বউ বাচ্চা কোথায়? কোথায় লুকিয়ে রেখেছ তাদের?"
মনিরা ইমনের দিকে হা করে তাকালো। তার বউ বাচ্চা সে লুকিয়ে রেখেছে? বিয়েই তো করল না৷ তাহলে সে লুকিয়ে রাখলো কীভাবে? পিছন ফিরে বলল,
"আমি কখন আপনার বউ বাচ্চা লুকালাম?"
"তোমার বান্ধবীদের যে বললে আমার বউ বাচ্চা আছে। এর মানে তুমি কোথাও লুকিয়ে রেখেছ। কোথায় লোকেশন বলো।"
মনিরা বুঝল এই লোক তার সাথে মজা করছে। কথাই তো বলবে না সে এই লোকের সাথে। এতোদিন দেখতে আসেনি। এখন এসেছে তাকে জ্বালাতে। আবারো সামনের দিকে এগোলে ইমন মনিরার সামনে দাঁড়িয়ে বলে,
"আমার বউ বাচ্চাকে বের করে না দিলে যেতে দিব না।"
মনিরা রেগে আঙুল তুলে বলল,
"আপনাকে কিন্তুু আমি ছাড়ব না। জ্বালাচ্ছেন কেন? সরুন সামনে থেকে।"
ইমন হেসে বলল,
"তোমাকে জ্বালানোই তো আমার কাজ মিষ্টি মেয়ে।"
মনিরা রেগে বলল,
"তো এতোদিন আসেননি কেন?"
কথাটা বলে নিজেই জিভ কাটল। কী বলে ফেলল এটা। এই লোক এখন তাকে কি ভাববে!
ইমন দু'হাত আড়াআড়িভাবে গুঁজে ভ্রু কুঁচকে বলল,
"আসার কথা ছিল নাকি?"
মনিরা কিছু না বলে পাশ কাটিয়ে যেতে নিলে ইমন আবারো সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলে,
"আচ্ছা আর জ্বালাবো না। রেগে আছো কেন? চলো তোমাকে বাড়ি পৌঁছে দিই।"
মনিরা মাথা নিচু করে বলল,
"লাগবে না।"
"সামনেই গাড়ি দাঁড় করানো আছে। চলো।"
মনিরা কিছু না বলে সামনে এগোলে ইমন বিরক্ত হয়। এই মেয়েটা আসলেই এক নাম্বার ত্যাড়া। সে যা বলবে তার উল্টো না করলে এর হবেই না।
সামনে ফুসকার দোকান দেখে মনিরাকে বলে,
"তুমি ফুসকা খাওনা? মেয়েরা তো ফুসকার পাগল।"
মনিরা ফুসকার দোকানের দিকেই যাচ্ছিল। ইমনের কথা শুনে রাগ হলো।
বিড়বিড় করল,
'সব মেয়েদের খোঁজ রাখে। কত্ত খারাপ!'
মনিরা ফুসকার দোকানে গিয়ে বলল,
"আঙ্কেল দুই প্লেট ফুসকা দিন।"
পাশ থেকে ইমন বলল,
"আমি এসব খাইনা।"
"আপনার জন্য কে ফুসকা চেয়েছে?"
ইমন চোখ ছোট ছোট করে মনিরার দিকে তাকালো। ত্যাড়া মেয়ে একটা। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
"ভেবেছি তোমার মধ্যে মানবতা আছে। পাশের মানুষকে না খাইয়ে একা একা খেতেই পারবানা। আমি তো আর জানিনা তুমি মানবতা হীন মেয়ে।"
মনিরা রেগে ব্যাগ থেকে টাকা বের করে ফুসকাওয়ালাকে দিয়ে বলল,
"আঙ্কেল টাকাটা রাখেন। আর ফুসকাটা আপনি খেয়ে নিয়েন। আমি খাবো না।"
এই বলে বাড়ির পথে হাঁটতে লাগলো। ইমন অবাক হলো। মনিরার হয়েছে কী? কেমন অদ্ভুদ বিহেভ করছে মেয়েটা! দৌড়ে মনিরার পিছু পিছু গিয়ে বলল,
"সুরাইয়া কি হয়েছে তোমার? তুমি কী সেদিনের জন্য এখনো আমার উপর রেগে আছো? আই এম সরি। প্লিজ রেগে থেক না।"
মনিরা ইমনের কথা শুনলো না। ইমন মনিরার সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
"পাশে একটা ফাঁকা মাঠ। ওখানে যাবে। পাঁচ মিনিট এর জন্য। প্লিজ!"
মনিরা কোনো কথা না বলে সেই মাঠের দিকে যেতে লাগলো। ইমন ভ্রু কোঁচকালো। হয়েছে কী এই মেয়ের? তবে তার কথা শুনে নিরবে তা পালন করছে দেখে মৃদু হাসল। মনিরার পিছু পিছু গিয়ে মাঠে গিয়ে দাঁড়ালো। ইমন মনিরার সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
"রাগ করে আছো এখনো?"
মনিরা মাথা নিচু করে আছে। তার কী হয়েছে নিজেও বুঝতে পারছেনা। সবকিছু কেমন যেন বিরক্ত লাগছে। একটুতেই রাগ লাগছে।
ইমন নরম কণ্ঠে শুধালো,
"আমাকে তোমার বন্ধু রূপে গ্রহণ করবে?"
মনিরা অবাক হয়ে তাকালো ইমনের দিকে। ইমন মৃদু হেসে বলল,
"বন্ধুত্বে বয়স ম্যাটার করেনা।
হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
হবে বন্ধু?"
মনিরার মনে হলো কোনো ছোট বাচ্চা তার কাছে আবদার করছে তার বন্ধু হওয়ার জন্য। ইমনের বাড়িয়ে রাখা হাতের দিকে তাকিয়ে রইল। সে তো হাত মেলাবে না।
ইমনের মাথা থেকে ব্যাপারটা বেরিয়ে যায় বারবার। সে যেমন, মেয়েটা তো তেমন নয়। হাত সরিয়ে নিয়ে মৃদু হেসে বলল,
"ওকে ওকে হাত মেলাতে হবেনা। মুখে বলো।"
মনিরা মাথা নিচু করে একপাশে ঘাড় হেলিয়ে সম্মতি দিল। ইমন হাসল মনিরার কান্ডে।
*******
চলবে ইনশাআল্লাহ~~~~~~~~
🟥Note: (গতকাল ৪১ পর্বের শেষ অংশ দিয়েছিলাম, গল্পের শেষ অংশ নয়। আশা করি বুঝেছেন। আর গল্প শেষ হতে এখনো অনেক লেট। অনেক প্লট বাকি আছে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।)