ফন্ট সাইজ:
থিম:
সরকার ভাই

১ম পর্ব

লেখক: কায়ানাত খান কবিতা

#সরকার_ভাই( the king of dhaka)

লেখনীতেঃ #কায়নাত_খান_কবিতা

🚫 কপি নিষিদ্ধ 🚫

পার্টঃ ১

“বিয়া তো আমি করবারই চাই! মাগার মন মতো পোলা তো ডাউনলোডই হই নাই ক্যা—আয়েশার এই কথাটি শুনে খানিকটা বিসম খেয়ে বসে জান্নাতি। যেন হঠাৎ করে খুব অদ্ভুত কিছু একটা শুনে ফেলেছে সে।

মুখটা একটু হা হয়ে আসে তার, হালকা কেশে গলা পরিষ্কার করে নেয় সে। কারণ ইতিমধ্যে আয়েশা ১৩ খানা পাত্রকে রিজেক্ট করে দিয়েছে। তাদের রিজেক্ট হওয়ার প্রধান কারণ ছিলো, আয়েশার মনে কাউকে দেখে ঘন্টি না বাজা।প্রেমে পড়লে মনে ঘন্টি বাজে এই অন্ধবিশ্বাস রয়েছে আয়েশার মন জুড়ে।যার ফলে ২২ বছরের আয়েশা সিদ্দিকা আদরের বিয়ে হচ্ছে না। অবশ্য হচ্ছে না বললে ভুল হবে। কারণ বিয়ের জন্য ছেলেরা তো আসে কিন্তু ফেরত যাওয়ার সময় তাদের সাথে এমন অনেক অঘটন ঘটে যার ফলে বিয়ে নামক ফুল আয়েশার কপালে ফুটছে না। অবশ্যই অঘটন গুলো তার নিজের সাঙ্গপাঙ্গ দিয়ে ঘটানো। কারণ একটাই মনে ঘন্টি না বাজা।

এতগুলো পাত্র দেখার পরেও তার মন মতো কেউ হলো না। এটাই যেন তাদের কাছে সবচেয়ে বড় বিস্ময়কর ব্যাপার স্যাপার।

পাশে হাঁটতে থাকা কাকুলি তখনই একটু ঘাড় বাকিয়ে আয়েশার দিকে তাকায়। মুখে এক খানা দুষ্টু হাসি টেনে এনে বলে—

—দেখ আয়েশা!”

আয়েশা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড় বড় করে তাকায় কাকুলির দিকে। সেই দৃষ্টিটা এতটাই কড়া যে কাকুলি মুহূর্তেই বুঝে যায়।সে খুব বড় মাত্রায় ভুল করে ফেলেছে। আয়েশা নামে ডাকাটা তার একদমই পছন্দ না। কারণ এই নামে ডাকার অধিকার শুধু মাত্র তার আব্বাজানের রয়েছে । অন্য কেউ ডাকলে গা-পিত্তি জ্বলে যায় তার।

নিজের ভুল বুঝতে পেরে কাকুলি দ্রুত জিহ্বায় ভেংচি কাটে। তারপর নাটকীয় ভঙ্গিমায় মুখে বড়সড় হাসি টেনে বলে—

—ওহ সরি… পারিসা। পারভেস কাকার ছেড়ি পারিসা”

আয়েশা তখনও গম্ভীর মুখে তাকিয়ে থাকে কয়েক সেকেন্ড। তারপর একটু শান্ত হয়ে বলে—

—হুম, ঠিক আছে। এই বার কো, কী কইবার চাইছিলি?

কাকুলি একটু সাহস জোগাড় করে বলে,

—এই যে তুই বাড়িতে শান্ত আর বাইরে ভন্ড সাইজা থাকোস… এমন সেম কালারের মানে… এমন সেম চরিত্রের পোলা যদি তোর কপালে জুটে? বাড়ি থাইকা বাইর হস বোরখা পইরা আর ভার্সিটি আওনের সময় ফাঁকা রাস্তায় গিয়ে বোরখা টোরকা খুইল্লা, চোখে চশমা দিয়া নায়কা শাবনূর সাইজা ঘুইরা বেড়াস। এমন ৪২০ যদি তোর জামাই ও হয়?”

কথাটা শেষ হতে না হতেই আয়েশার চোখ চিকচিক করে ওঠে। এক ঝটকায় কাকুলির গলায় হাত দিয়ে তাকে একটু নিচু করে ফেলে সে।তারপর পিঠে টুপটাপ তিন–চারটা কিল বসিয়ে দেয়।

– ওরে মা-রে.. পিঠ গেলো…!”

কাকুলি কুঁকড়ে যায়, কিন্তু মুখে হাসিটা তখনও অম্লান হয়ে রয়েছে।

আয়েশা তারপর গলা উঁচু করে গর্বিত ভঙ্গিতে বলে—

—আমার জামাই হইবো বিশ্ব বিখ্যাত ভদ্রলোক। যাকে এক নামে বাংলাদেশর সবাই চিনবো। ভদ্র গিরিতে পিএইচডি করা হইবো। যাকে দেখলে মানুষ সম্মানের সহিত সালাম দিয়ে উঠবো। কইবো, আরে এই লোক তো মহান।”

আয়েশার চোখে তখন অদ্ভুত এক আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠে। যেন সে নিজের ভবিষ্যৎটা পরিষ্কার দেখতে পারছে।তার স্বামী হবে এমন একজন মানুষ, যার নাম শুনলেই মানুষ চিনে ফেলবে, সম্মান করবে। সাধারণ কেউ নয়, একেবারে সবার পরিচিত একজন। যিনি কখনো সিগারেট খায়নি। মারামারি করেননি। রক্তের সাথে কষ্মিমকালে ও লেনাদেনা নেই তার। এমন মহান ব্যক্তির খোঁজে রয়েছে আয়েশা সিদ্দিকা আদর। ওরফে পারিসা!

আয়েশার কথাটা শুনে কাকুলি একটু থমকে যায়। তারপর ঠোঁট বাঁকিয়ে তাকায় তার দিকে। আয়েশার চোখে তখন ও অদ্ভুত এক আত্মবিশ্বাস।যেন সে মনে মনে এমন একজন মানুষকেই এঁকে রেখেছে, যার সঙ্গে তুলনা করার মতো কেউ নেই।

কাকুলি পিঠে খাওয়া কিলের জায়গাটা হাত দিয়ে ঘষতে ঘষতে বিরক্ত মুখে বলে,

—হ, বুঝছি! তোর জামাই হবে দুনিয়ার সেরা ভদ্রলোক। এমন ভদ্রলোক যে হাঁটলে মানুষ রাস্তা ছাড়ে, কথা বললে সবাই চুপ মাইরা শোনে!”

আয়েশা নিজের নেকাব ঠিক করতে করতে বলে,

—এইডাই তো চাই! ভদ্র গিরিতে পিএইচডি করা জামাই।”

–মা, খালারা! এহন চল। আসরের আজান দিবো। তোর প্রতিদিন বোরখা একবার খোলা আবার বাইত যাওয়ার সময় পরার চক্করে এই ফাঁকা জায়গায় আসা লাগে। এমনিতেই দেশের অবস্থা ভালা না। এতো খুন খারাবি হইতাছে। কখন না জানি…! ”

জান্নাতির বলতে দেরি। কিন্তু তাদের দিকে কিছু সংখ্যাক লোক তেড়ে আসতে দেরি করে না।

কার্জন হলের পেছনের সরু পথটা ধরে ১০–১২ জন লোক দৌড়ে আসতে থাকে। প্রত্যেকের হাতেই চকচকে ধারালো অস্ত্র—কারও হাতে চাপাতি, কারও হাতে ছুরি। তাদের চোখেমুখে হিংস্র তাড়া। সামনে একজন লোক প্রাণপণে দৌড়াচ্ছে। মনে হচ্ছে সে বাঁচার জন্য শেষ শক্তিটুকু দিয়েই ছুটছে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কাটা দাগ, জামা রক্তে ভিজে গাঢ় হয়ে গেছে।

কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা আয়েশা, কাকুলি আর জান্নাতি মুহূর্তেই পাথরের মতো জমে যায়। ভয় এমনভাবে শরীরকে গ্রাস করে যে দৌড় দেওয়ার শক্তিটুকুও যেন হারিয়ে বসেছে তারা।

সামনের লোকটা হঠাৎই দিক বদলে সরাসরি আয়েশার দিকে ছুটে আসে। মুহূর্তের মধ্যে সে আয়েশাকে খপ করে ধরে ফেলে এবং গলায় ছুরি ঠেকিয়ে দাঁত চেপে বলে—

—“আর আগাইবি না! নাইলে এই মেয়েটা কিন্তু শেষ!”

তার কণ্ঠে এমন হুমকি ছিল যে তাড়া করে আসা লোকগুলো এক লহমায় থেমে যায়। বাতাসে থমথমে নীরবতা নেমে আসে।

আয়েশার চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়তে থাকে। তার পুরো মুখ নেকাবে ঢাকা। পর্দার আড়ালে শুধু দুটো চোখ দেখা যায়।ভয়ে, আতঙ্কে আর অশ্রুতে ভরা।

আস্তে আস্তে চোখ বন্ধ করে মনে মনে বলতে থাকে সে—

“এতদিন আব্বাজানের কথা শুনি নাই । শয়তানি কইরা ঘুরছি। বাসা থাইকা বোরখা পইরা বের হইয়া মাঝরাস্তায় আইসা বোরখা খুইল্লা নায়িকা গো মতো ঘুরছি। আবার বাসায় যাওয়ার সময় ভদ্র মাইয়া সাজছি। এইডার শাস্তি এতো তাড়াতাড়ি পামু ভাবি নাই। হে খোদা… আব্বাজানরে সরি কইবার সুযোগও দিলেন না? আব্বা গোওওও!”

চোখের পানি জমে যখন দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে, ঠিক তখনই আয়েশা অনুভব করে তার শরীরটা ঘুরে উঠেছে। যেন কেউ তার কোমর জাপ্টে ধরে তাকে ঘুরিয়ে হালকা নিচু করে ঝুঁকিয়ে রেখেছে। হঠাৎ এমন ঘোরানোর ফলে আয়েশার মাথা ও হালকা চক্কর দিয়ে ওঠে। চোখ বন্ধ করে ফেলে সে। কিছু ক্ষণ দম নিয়ে ভয়ে ভয়ে ধীর গতিতে চোখ মেলতে থাকে সে।

চোখ খুলতেই দেখে—একজন যুবক তাকে শক্ত করে ধরে রেখেছে। তার চোখে গাঢ় সুরমা, ঠোঁটের নিচে স্পষ্ট একটা বাদামি তিল। উজ্জল শ্যাম বর্নের লোক। বেশ আর্কষণীয় দেখতে। ৯০ দশকের সালমান শাহ একদম। আয়েশার মন একটুর জন্য অন্য দিকে ঘুরবে ঠিক সেই মুহুর্তেই কারো গোঙানির আওয়াজ কর্নপাত হয় আয়েশার। গোঙানির সূত্র খুঁজতে গিয়ে হুট করে সামনে তাকাতেই চোখ কপালে উঠে যায় আয়েশার। তার ডুপ্লিকেট সালমান শাহ বর্তমানে রঘু ডাকাতে পরিনত হয়েছে। এক হাতে তাকে রেখে আরেক হাতে সে ইতোমধ্যে রামদা চালিয়ে দিয়েছে আয়েশাকে জিম্মি করা লোকটার সিনা বরাবর।

সবকিছু এত দ্রুত ঘটে যে আয়েশা বাকরুদ্ধ হয়ে পরে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই লোকটা ধপ করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

যুবকটা মুহূর্তের জন্য আয়েশার দিকে তাকিয়ে থাকে।নেকাবের আড়ালে পুরো মুখ ঢাকা। শুধু দুটো জোড়া ভ্রু আর বাদামি চোখ দেখা যায়। কিন্তু ডান ভ্রুর শেষ প্রান্তে ছোট্ট একটা তিল স্পষ্ট।

যুবকটি কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকে আয়েশার পানে যেন কিছু মনে রাখছে সে।

তারপর হঠাৎই আয়েশাকে ছেড়ে দিয়ে সামনে পা বাড়ায়।হঠাৎ ছেড়ে দেওয়ায় আয়েশা ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। ব্যথায় শরীর কেঁপে ওঠে তার। কিন্তু চারপাশের পরিস্থিতি এমন যে অভিযোগ করার সুযোগও নেই।

যুবকটি ধীর পায়ে সামনে এগিয়ে যায়। তার হাঁটার ভঙ্গিতেই ছিল ভয়ংকর নিশ্চিন্ততা।

সে দাঁত চেপে বলে।

-- বাঘে ছুঁইলে ১৮ ঘা..আর আমি ছুঁইলে ৮৮!"

তারপর হুট করে আহত যুবকটির ওপরে নিজের রাম'দা চালিয়ে দেয়। যা দেখে আয়েশা এবং তার বান্ধবীরা খুব জোড়ে চিৎকার করে ওঠে। রক্ত মাখানো হাতে যুবকটি তাদের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে বলে,

— সাইলেন্স"

চলবে।

( সূচনা পার্টকে প্রথম পার্ট করে ধরে ভাই? সূচনা পার্টের মানে ও কী জানেন না? আর প্লট পরিবর্তন করা হবে কয়বার বলেছিলাম? গল্প রিলেটেড পোস্ট করলে এড়িয়ে যান কেন? আগের চারটা পার্ট ডিলিট করা হবে না। এই নতুন প্লটের কোনো না কোনো অংশে ব্যবহার করা হবে। কমেন্ট সেকশনে কষ্ট না করে কখনো কী পোস্ট দেয় একটু দেখবেন প্লিজ। বিরক্ত লাগে এক কথা বলতে। গল্প রিলেটেড পোস্ট ইগনর না করাই ভালো)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন