ফন্ট সাইজ:
থিম:
মহামায়া

২৯তম পর্ব

লেখক: তুশকন্যা

#মহামায়া |২৯|

#তুশকন্যা

"বাইয়া দেকো , আমার অনেক গুলো দাঁত হয়েসে! আমি এখন সবকিসু কুট্টুস কুট্টুস করে কামড়াতে পারি,হি হি।"

ভিভিয়ান স্তব্ধ হয়ে রইল। তার রাগী আর গম্ভীর প্রতিচ্ছবিটা এই একটি মেয়ের সারল্যের কাছে ধুলোয় মিশে গেল। সে রাগ করবে না কি যন্ত্রণায় কাতরাবে, তা ভেবে পেল না। এক হাত দিয়ে নিজের কপাল চেপে ধরে সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আনায়ার এই অবুঝ আস্ফালন আর দাঁত দেখানোর ভঙ্গিমা দেখে তার ভেতরের সমস্ত পুরুষালি গাম্ভীর্য যেন এক নিমিষেই পানসে হলো।

​সে কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে আড়ষ্ট গলায় বলল,

"তোর যে দাঁত হয়েছে সেটা তো আমি খুব ভালো করেই টের পেয়েছি। এখন আমার চোখের সামনে থেকে সর নয়তো তোর সব দাঁত আমি..."

ভিভিয়ানের কথা শেষ হওয়ার আগেই,আনায়া বলে উঠল,

"তুমি রাগ কসসো কেনো? কি করেসি আমি?"

ভিভিয়ান আর উত্তর দিতে পারল না। নিজের জায়গায় শক্ত হয়ে বসে রইল, তার মস্তিষ্কে তখনো আকস্মিক আক্রমণের রেশ রয়ে গেছে। অথচ আনায়া কেবল ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থেকে বোঝার চেষ্টা করছে—সে আদতে কি ভুলটা করেছে।

​

ভিভিয়ান উঠে দাঁড়ায়। তোয়ালেটা সোফায় ছুঁড়ে ফেলে,ক্লোজেটের দিকে এগিয়ে যায়। আনায়াকে এভাবে অগ্রাহ্য করায়, সেও তার পেছন পেছন হেঁটে যায়। ভিভিয়ান স্বাভাবিক হয়ে গম্ভীর্যের সাথে ক্লোজেট থেকে কিছু একটা বের করছিল। কিন্তু হুট করেই পাশ থেকে আনায়া বলে উঠল,

"বাইয়া, একতা কতা জিগ্গেছ করি?"

---"হু,বল।",ভিভিয়ান ব্যস্ত ভঙ্গিতে জবাব দেয়। আনায়া কোনো দ্বিধা না করেই বলে ওঠে,

"বাইয়া ওতা কি ছিল?"

---"কোনটা?"

---"উইযে ওতা!"

ভিভিয়ান আনায়ার দিকে মুখ ফিরিয়ে তাকায়। আনায়া আঙুল উঁচিয়ে তার দিকেই ইশারা করছে। ভিভিয়ান ভ্রুকুটি করে আনায়ার ইশারা লক্ষ করে নিজের দিকে তাকাল। নিমিষেই তার চোখ-মুখে কাঠিন্যের ছায়া নেমে এলো। সে সবকিছু গুলিয়ে ফেলল; আনায়াকে ধমকের স্বরে কিছু বলবে,তার আগেই আনায়া স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলে ওঠে,

"ওতা নরেছিল, শাপের মতো, আমি বুঁজেছি।"

আনায়ার এহেন কথা শুনে, ভিভিয়ানের ইচ্ছে করল নিজের মাথাটা সরাসরি দেওয়ালে ঢুকে ফাটিয়ে দিতে। পরক্ষণেই তার চিন্তা পরিবর্তন হলো, আনায়াকে ক্লোজেটে ভেতর ঢুকিয়ে আঁটকে দেওয়ার ভাবনায়। এই মেয়ে দুদিনে তাকে যেসকল বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে, তা সে পূর্ববর্তী সময়ে আর কখনো হয়নি।

ভিভিয়ানে দাঁতে দাঁত পিষে নিজেকে সংবরণ করে। অচিরেই কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে ভারিক্কি স্বরে বলল,

"তারা! তোর কাছে আমার একটাই রিকুয়েস্ট। দয়া করে তুই আর আমার কাছে আসিস না। আই প্রমিজ,তুই বড় না হওয়া পর্যন্ত আমি আর কখনো এই বাড়িতে আসব না।"

সাধারণ একটা প্রশ্নের উত্তর এমন কেনো, তা আনায়া বুঝল না। তবে ভিভিয়ানের ভাবগম্ভীর্য দেখে এইটুকু আন্দাজ করে নিল—সে হয়তো তার কোনো কাজকর্মে বিরক্তবোধ করছে। তাই সরাসরি বাড়ি না আসার কথা বলছে।

"তারা আর তোমা-কে বিরকরতো কববে না।", ঠোঁট উল্টে বলল সে। হুট করেই কি বুঝল কে জানে, অকস্মাৎ এক দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। ভিভিয়ান নিজেও অবাক হলো তার এমন কাজে। কিছু একটা বিড়বিড় করে বলতে গিয়েও, সে চুপ রয়ে গেল। ভারী শ্বাস ফেলে আওড়াল,

"যাক, এখন সারাটাদিন দূরে থাকলেই হলো। এটাকে নিজের কাছে রাখাই তো রিস্কি!"

_________

​ভিভিয়ান নিজের মতো সোফায় আধশোয়া হয়ে বইয়ে মনযোগ ডুবিয়েছিল। ঠিক তখনই তার ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করল আনায়া। ভিভিয়ানের ভ্রু কুঁচকে গেল—এখনই আনায়ার আগমনে। যেভাবে ঠোঁট উল্টে বলে গেল আর বিরক্ত করবে না—সে তো ভেবেছিল আগামী দুদিন তার ছায়াও মাড়াবেনা।

তবে ভিভিয়ান এতে বিরক্ত না হয়ে, ক্ষীণ তির্যক হাসল। এদিকে আনায়া কাঁচের একটি শিশি ভিভিয়ানের দিকে এগিয়ে দিল,তার ভাবগম্ভীর্য সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। যেন একটু আগে কিছুই হয়নি।

---"বাইয়া দেকো আমি এতা কি এনেচি।"

ভিভিয়ান মুখের সামনে থেকে বইটা সরিয়ে দিয়ে, আনায়ার দিকে ফিরল। খেয়াল করে দেখল, আনায়া একটা লাল রঙের নেইলপলিশ নিয়ে এসেছে।

​"বাইয়া, এতা লাগিয়ে দাও।"

​ভিভিয়ান ভ্রু উঁচিয়ে গম্ভীর স্বরে জিজ্ঞেস করল,

"এটা তুই কোথায় পেলি? ছোট মা এসব ইউজ করে?"

​আনায়া শিশিটা উঁচিয়ে ধরে,মাথা নেড়ে সগর্বে বলল,

"উঁহু, এতা মা'র না, এতা আমার। বড় আব্বু এনে দিয়েচে। আমি মা'কে বলনাম লাগিয়ে দিতে, কিন্তু সে বলনো তার অনেক কাজজজ। তুমি লাগিয়ে দিবে?"

​ভিভিয়ান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবল, বাবা হয়তো শুধু তার ব্যাপারেই এতো কড়া, নয়তো আনায়ার বেলায় তার আহ্লাদের কমতি নেই। ভিভিয়ান চেয়েও আর না করতে পারল না। সোফা থেকে সোজা ফ্লোরে ধপ করে বসে, আনায়াকে দুহাতে তুলে সোফায় বসিয়ে দিল।

ভিভিয়ান তাকে নেইলপলিশ লাগিয়ে দিতে রাজি রয়েছে বুঝতেই, আনায়া খুশিতে গদগদ হয়ে উঠল। ভিভিয়ান ততক্ষণে সহজাত গম্ভীর্যের সাথে বলল,

"একদম নড়াচড়া করবি না। আমি আগে কখনো এসব ট্রাই করিনি, তাই খারাপ হলে আমার কিছুই করার নেই।"

​আনায়া ভদ্র মেয়ের মতো সোফার কুশনে হেলান দিয়ে আয়েশ করে বসল। ভিভিয়ান ফ্লোরে বসে আনায়ার একটি ছোট্ট সিক্তপা নিজের হাঁটুর ওপর টেনে নিল। গোসলের পর আনায়ার গায়ের ত্বক স্পষ্টত স্বচ্ছ আর নরম দেখাচ্ছে। ভিভিয়ান অত্যন্ত একাগ্রতার সাথে নেইলপালিশের ব্রাশটা বের করল। নেইলপালিশ লাগাতে গিয়ে দেখল, কাজটা ততোটাও সহজ নয় যতটা ভেবেছিল। কেমন যেন এলোমেলো ভাবে বারবার এদিক-সেদিক লেগে যাচ্ছে।

ভিভিয়ান দ্রুত নিজের সম্পূর্ণ মনোযোগ আনায়ার আঙ্গুলে নিবদ্ধ করল। যদিও নিজের পায়ের দশা ঠিক কি হতে চলেছে, সেসব নিয়ে আনায়ার মাঝে কোনো ভাবান্তর নেই। ভাই তার যা করছে, তাই সে প্রচন্ড মনোযোগ সহকারে দেখছে। ভিভিয়ানের মতো বিশাল অবয়বের একজন মানুষ, যার হাতের এক একটি কিল-ঘুষিতে মানুষের চোয়াল অব্দি ভেঙে যায়, সে আজ নিজের সকল ধ্যানজ্ঞান একত্রিত করে, অত্যন্ত সন্তর্পণে আনায়ার কনিষ্ঠ নখটিতে লাল রঙ ছোঁয়াচ্ছে। এসকল দৃশ্য কখনো তার বন্ধুমহলে ছড়ালে, হয়তো এমন ভিভিয়ানের প্রতিচ্ছবিকে কেউ বিশ্বাসই করবে না।

​আনায়া একদৃষ্টে ভিভিয়ানের মনোযোগ দেখছিল। সে ফিসফিস করে বলল,

"বাইয়া, তোমার বউও কি নখে নেনপলিস লাগায়?"

​ভিভিয়ান মাথা নিচু করেই উত্তর দিল,

"লাগাতে পারে, আমি অত খেয়াল করিনি।"

​"আমি বড় হলে তোমার বউয়ের মতো ছুনদর হব?" আনায়ার এই সহজ প্রশ্নে,ভিভিয়ান ভ্রু কুঁচকে মুখ তুলে তাকায়। আনায়া উৎসুক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে তার উত্তরে অপেক্ষায়।

---"আগে আমায় এটা বল, তুই সবকিছুতেই আমার বউকে টানিস কেন?"

আনায়া বিস্তৃত হেসে বলে,

"কারন সে অনেক ভালো। আমিও তোমার বউয়ের মতো একদিন বড়ো হবো, ভালো হবো।"

আনায়া থেমে আবারও বলে,

"তাহনে বলো,আমি তার মতো ছুন্দর হবো কিনা?"

---"উঁহু, তুই মোটেও ওর মতো হবি না। কারণ তুই নিজেই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর একটা বিচ্ছু!"

ভিভিয়ানের কথায় আনায়া খিলখিল করে হেসে উঠল। ভিভিয়ান তার মাথার চুলগুলো খানিকটা এলোমেলো করে দিয়ে,ক্ষীণ হেসে আওড়াল,

"মাই লিটিল র‍্যাবিত(র‍্যাবিট)!"

ভিভিয়ান পুনরায় তার কাজে মনোযোগ দিল। অন্যদিকে আনায়া সে মাথা নাড়িয়ে নিজের নতুন রাঙানো নখগুলো দেখতে দেখতে খুব উৎফুল্ল হলো।

নেইলপালিশের শেষ আঁচড়টুকু দিয়ে ভিভিয়ান শিশিটা বন্ধ করে টিপয়টার ওপর রাখল। আনায়া সোফায় বসে পা দুটো সামান্য তুলে ধরে নিজের ছোট্ট রাঙানো নখগুলোর দিকে মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় তাকিয়ে আছে। লাল রঙটা তার দুধে-আলতা পায়ে বেশ মানিয়েছে। ভিভিয়ান এক মুহূর্ত তার এই নিস্পাপ খুশিটুকুর দিকে চেয়ে থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।

​সে হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে আনায়ার গালটা আলতো করে ছুঁয়ে গম্ভীর স্বরে বলল,

"ব্লাড!"

---"হু!"

---"আর দুদিন পর তো আমি চলে যাচ্ছি, মিস করবি না আমায়?"

​আনায়ার নখ দেখার আনন্দটা যেন এক নিমেষেই কর্পূরের মতো উড়ে গেল। সে নড়াচড়া থামিয়ে স্থির হয়ে ভিভিয়ানের চোখের দিকে তাকাল। তার ডাগর চোখজোড়ায় এক মুহূর্তের জন্য অবিশ্বাস খেলে গেল। সে অস্ফুট স্বরে জিজ্ঞেস করল,

​---"দাকায়? চলে যাবে? কিন্তু কেনো যাবে?"

​ভিভিয়ান নিজের গাম্ভীর্য ধরে রেখেই বলল,

"ওখানে আমার পড়াশোনা আছে, কাজ আছে। অনেকদিন হলো তো এখানে ছিলাম, এবার তো যেতে হবে।"

​আনায়া সোফা থেকে নেমে ভিভিয়ানের হাঁটু জড়িয়ে ধরল। তার ঠোঁট দুটো উল্টে এল; যা কান্নার পূর্বাভাস। সে ধরা গলায় বলল,

​---"তুমি যে বলেছিলে চেলি বড় হলে আমরা একসাথে খাব? তুমি চলে গেলে গাস তা কে দেকবে?"

​ভিভিয়ান আলতো করে তাকে নিজের কোলের কাছে টেনে নিয়ে বলল,

"গাছ দেখার দায়িত্ব তোর। তুই প্রতিদিন ওটাতে পানি দিবি, ওটা যখন বড় হবে তখন আমি আবার আসব। আর শোন, তুই যদি ঠিকমতো গাছটা বড় করিস, তবে ঢাকা থেকে তোর জন্য ওই বড় একটা এ্যাংরি বার্ডস সিরিজের টয়েস নিয়ে আসব। ওখানে রেড, স্টেলা,বম,চাক, সবাই থাকবে।"

​আনায়া এবার আর খেলনার লোভে ভুলল না। সে ভিভিয়ানের টিশার্টের কলারটা খামচে ধরে জেদের সুরে বলল,

​---"আমি খেলনা চাই না। তুমি যেও না বাইয়া। তুমি গেলে আমাকে কে গুসল করিয়ে দিবে? কে এমন ছুনদর করে ঝুতি করে দিবে? মা, বড়োআম্মু সবাই তো সুদু কাজ করে। কেউ তো খেলে না।"

​আনায়ার গলার কান্নামাখা স্বরে দৃঢ় গম্ভীর্যে মোড়ানো ভিভিয়ানও থমকে গেল। এর আগেরবার যখনই দু-একদিনের জন্য বাড়িতে আসতো—প্রতিবারই আনায়াকে নতুনভাবে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিতো। তবে এবারের ছুটিতে দুজনের মাঝে যে বন্ডিং তৈরি হয়েছে, তা পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে একদমই আলাদা।

যে ভিভিয়ান বাইরের দুনিয়ায় কারোর চোখের জলকে তোয়াক্কা করে না, সে আজ এই আড়াই বছরের বাচ্চার আকুতিতে ভেতরে ভেতরে কিঞ্চিৎ সংকোচিত হলো। আর যাই হোক,তার চলে যাবার কথা শুনে আনায়া যে এভাবে কান্না করে ফেলবে, তা সে মোটেও আশা করেনি। সে আনায়ার চিবুকটা তুলে ধরে,নির্বিকার ভঙ্গিতে চোখের জল মুছে দিয়ে বলল,

​"ধুর পাগলী! কাঁদিস কেন? তুই না আমার জানবাচ্ছা! আমি তো আসবই। আর তুই তো এখন বড় হয়েছিস, লজ্জাও পেতে শিখেছিস, এখন কি আর এভাবে কাঁদলে মানায়?"

​আনায়া ফুঁপিয়ে উঠে বলল,

"আমি আর কাঁদব না, তুমি তাও যেও না।"

​ভিভিয়ান আর কথা বাড়াল না। সে জানে এই বিচ্ছুটাকে এখন আর বোঝানো সম্ভব না। সে ভারী শ্বাস ফেলে, আনায়াকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। আনায়া তার কাঁধে মুখ গুঁজে গোঁ ধরে বসে রইল।

---" হুঁশ, অনেক কেঁদেছিস এবার চুপ হ।"

বেশ অনেকক্ষণ হয়ে গেলেও, আনায়ার ফোঁপানো বন্ধ হলো না। ভিভিয়ান কিঞ্চিৎ বিরক্ত হয় হুট করেই আনায়াকে কিছুটা কাত করে কোলের মধ্যে শুইয়ে দিয়ে,তার পেটে মুখ গুঁজে দিল। অনবরত মাথা নাড়ানোয়,, ঝাঁকড়া চুল ও খোঁচা খোঁচা দাঁড়ির স্পর্শে আনায়া সবভুলে হুড়মুড়িয়ে হেসে উঠল। হাসির তালে তার ছোট্ট শরীর অচিরেই ধনুকের ন্যায় বেঁকে গেল। একইসাথে চেঁচাতে লাগল,

"না,না, বাইয়া ছুরছুরি লাগে, ছেরে দাও বাইয়া..."

---"বল, আরো কাঁদবি?"

---"না,না, আর কাঁদবো না। ছেরে দাও বাইয়া, হা হা হি হি... আর না, আর না...বাইয়া পিলিছ..."

___________

দুপুরের তপ্ত রোদ জানালার পর্দার ভাঁজ গলে ঘরের কোণে এসে পড়েছে। দীর্ঘক্ষণ গোসল আর খাওয়া-দাওয়ার পর ক্লান্ত আনায়া আর ভিভিয়ান দুজনেই ঘুমের দেশে পাড়ি জমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

ভিভিয়ানের মাথায় অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছিল বিধায়, সে বিছানায় না গিয়ে সোফাতেই গা এলিয়ে দিল। গুমোট গরমে অস্বস্তি বোধ করায় এক সময় সে নিজের গায়ের টিশার্টটা খুলে, এসির পাওয়ারটা বাড়িয়ে দেয়। তার সুঠাম, প্রশস্ত বুকের একপাশে আনায়াকে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ধরে সে চোখ বুজে মৃদু স্বরে কোনো এক রূপকথার গল্প বানাতে গিয়ে ভুজুংভাজুং কাহিনি বানিয়ে বলতে শুরু করে। আর সেই গল্পই বিভোর হয়ে আনায়া কখন যে ভিভিয়ানের তপ্ত বুকের ওমে ঘুমিয়ে পড়েছে, তা সে নিজেও টের পায়নি।

​বিকেল গড়িয়ে যখন রোদ কিছুটা ম্লান হয়ে এল, তখন ভিভিয়ানের তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাবটা হঠাৎ কেটে গেল। শরীরের ওপর এক অদ্ভুত ও ভেজা অনুভূতির স্পর্শে তার ভ্রু কুঁচকে এল। সে ধীরস্থিরে চেতনার জগতে ফিরতেই এক চরম অপ্রস্তুত ও বিস্ময়কর দৃশ্যের সম্মুখীন হলো।

​আনায়া তার বুকের ওপর হাত-পা গুটিয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তবে অবুঝ মেয়েটি ঘুমের ঘোরে হয়তো মাতৃস্তন্যের চিরায়ত অভ্যাসে কিংবা কোনো স্বপ্নের তাড়নায় ভিভিয়ানের উন্মুক্ত বক্ষের এক বিশেষ বিন্দুকে নিজের মুখগহ্বরে পুরে নিয়েছে। ছোট্ট ঠোঁট দুটোর সেই আলতো ও ভেজা স্পর্শে ভিভিয়ান এক মুহূর্তের জন্য পাথরের মতো জমে গেল। তার মতো একজন গম্ভীর ব্যক্তিত্বের পুরুষের পক্ষে এই দৃশ্য যেমন অপ্রত্যাশিত, তেমনি এক প্রকার অদ্ভুত সঙ্কোচের।

দৃশ্যটি ভালোমতো প্রত্যক্ষ করতেই ভিভিয়ান যেন বিদ্যুস্পৃষ্ট হলো। সে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে একপ্রকার ধড়ফড়িয়ে উঠল। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দ্রুততর সে আনায়াকে নিজের বুক থেকে আলগা করে সোফার একপাশে শুইয়ে দিল। তার কপালে তখন বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে, গলার কাছে এক দলা শুষ্ক অস্বস্তি।

সে একবার নিজের বুকের দিকে তাকাল, আর একবার সোফায় বিভোর হয়ে ঘুমানো আনায়ার নিস্পাপ মুখটির দিকে। এক ধরনের অদ্ভুত সঙ্কোচ আর অপ্রস্তুত ভাব তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল।

​ভিভিয়ান আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। মেঝেতে পড়ে থাকা টিশার্টটি কুড়িয়ে নিয়ে তড়িঘড়ি করে গায়ে জড়িয়ে নিল।আনায়াকে সাবধানে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল সে। কিন্তু তার ভেতরের অস্থিরতা তখনো কমেনি। বাইরে প্রচণ্ড গুমোট গরম থাকা সত্ত্বেও সে যেন এক ধরনের অদৃশ্য শীত অনুভব করছিল।

ক্লোজেট থেকে নিজের একটি ভারী কালো জ্যাকেট বের করে সে গায়ে চাপাল, চেইনটা টেনে দিল একদম গলা পর্যন্ত।অস্থির পদক্ষেপে সে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় তার এই বিধ্বস্ত আর কিম্ভূতকিমাকার বেশভূষা অনিমার নজরে পড়ল। তিনি রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,

"ভিভান? তুমি কি কোথায় যাচ্ছো?...আর এই কাঠফাটা গরমের মধ্যে এসব কি পড়েছো আব্বা? মাথা ঠিক আছে তোমার?"

​ভিভিয়ান কোনো উত্তর দিল না। তার কান তখনো ভোঁ ভোঁ করছে, মস্তিষ্কে কেবল সেই অদ্ভুত মুহূর্তটি বারবার ফিরে আসছে। সে গটগট করে সদর দরজার দিকে এগিয়ে গেল। নিজের বাইকের চাবিটা হাতে নিয়ে স্টার্ট দেওয়ার ঠিক আগে সে অনিমার দিকে ফিরে তাকাল। অনেকটা আড়ষ্ট তবে দৃঢ় কন্ঠস্বরে আওড়াল,

​"ছোট মা! ঘরে আনায়া একা ঘুমাচ্ছে। তুমি গিয়ে ওর খেয়াল রেখো। আমি একটু বাইরে যাচ্ছি।"

---"কিন্তু,ভাইজান তো..."

---"চিন্তা নেই, সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসবো। বাবা কিছু বলবে না।"

​ছেলেটার এমন অদ্ভুত ভাবগম্ভীর্যে অনিমার কিঞ্চিৎ সন্দেহ হলো। তবে সে আর কিছু বলতে চাওয়ার আগেই ভিভিয়ান বাইকের এক্সেলেটর সজোরে ঘুরিয়ে ধুলো উড়িয়ে মেইনগেট দিয়ে বেরিয়ে গেল। তপ্ত বাতাসের ঝাপটা তার গায়ে লাগলেও তার ভেতরের সেই অস্বস্তির পারদ নামছিল না। মাথার মধ্যে ঘুরেফিরে সেই একই বিব্রতকর দৃশ্য গুলো তাকে তীব্র অস্বস্তিতে ফেলে দিচ্ছে।

___________

রাত নামার সাথে সাথে এহসান মঞ্জিলের চারপাশ নিঝুম হয়ে এল। ভাহিদ এহসান ও কাশফিয়া শোবার ঘরটি এই বাড়ির সবচেয়ে গম্ভীর-নিস্তব্ধতায় ঘেরা জায়গা হলেও—আজ সেখানে এক চিলতে বিশেষ চঞ্চলতা বিরাজ করছে।বিছানার ঠিক মাঝখানে বসে আছে আনায়া। তার পরনে হালকা সুতির একটা ফ্রক, হাতে ভিভিয়ানের দেওয়া সেই সাদা খরগোশটা। সবকিছু ছাড়িয়ে এখন এটাই তার সবচেয়ে প্রিয় খেলনা।

​এদিকে কাশফিয়া আলমারি গুছাতে গুছাতে মাঝেমধ্যে পেছনে ফিরে পাকনী বুড়িটার দিকে তাকাচ্ছে। আগামীকাল পাভেল-ভিভিয়ান দুজনেই চলে যাবে। আবার কবে আসবে কে জানে। যথারীতি মায়ের দায়িত্ব পালনে সে কোনো কমতি রাখেনি। দুজনের ফিরে যাবার পথে, কি কি দিয়ে দিবে তার সবকিছুই গুছিয়ে একজোট করে রেখে দিয়েছে। যতই জন্মসূত্রে সে খাঁটি রাশিয়ান হোক, বাঙ্গালীয়ানা এখন তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে গিয়েছে।

আনায়া খুব নিবিষ্ট মনে খরগোশটার কানদুটো টেনে এক করছে। আবার কখনো ফিসফিস করে কিছু একটা বকছে। এরিমধ্যে কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে কাশফিয়া ক্ষীণ হেসে বলল,

"কী রে বুড়ি? তোর খরগোশ কথাবার্তা কিছু বলে না?"

​আনায়া মুখ তুলে গম্ভীর হয়ে বলল,

"না বড়ো আম্মু, ও তো কতা বল-তে পাসছে না। ওর অনেক খুদা পেয়েসে।"

​কাশফিয়া কাজ থামিয়ে, আনায়ার পাশে এসে বসে। মুচকি হেসে বলে,

"ঠিক আছে, তবে তোর বড়-আব্বু আসুক, তারপর দেখি তোর আর ওর জন্য সে কি কি আনে।"

​ঠিক তখনি দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকল ভাহিদ এহসান। দিনের বেলার কঠোর ব্যবসায়ী রূপটা দরজার বাইরেই ফেলে এসেছে সে। হাতে একটা বড় প্যাকেট। আনায়া দেখামাত্রই "বড় আব্বু!" বলে চিৎকার দিয়ে বিছানা থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। ভাহিদ তাকে এক হাতে কোলে তুলে নিয়ে কপালে চুমু খেল।

​"এই নাও, আমার আম্মাজানের জন্য চকোলেট আর আইসক্রিম!"

​কাশফিয়া কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে বলল,

"এত রাতে আইসক্রিম? মেয়েটার ঠান্ডা লাগবে তো!"

​ভাহিদ সে কথা কানেই নিল না। সে বিছানায় আরাম করে বসে আনায়াকে পাশে বসাল। দুটো আইসক্রিম এনেছে বিধায়,একটা সে সরাসরি কাশফিয়ার দিকে এগিয়ে দিল। কাশফিয়া ভ্রু কুঁচকে বলল,

"আমার জন্য?"

ভাহিদ তখন আনায়ার আইসক্রিম-চকলেটের মোড়ক গুলো খুলে দিতে ব্যস্ত। কাশফিয়ার কথা শুনে, স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সে ইশারা করে বলল,

"হু,হু, খাও। তোমার জন্যই।"

কাশফিয়া কিঞ্চিৎ হাসল।

---"বাপরে! ছেলে বিয়ে দেওয়ার সময় হয়েছে,অথচ এখনোও তোমার পাগলামি কমে না?"

---"ছেলের নাতী-পুতি বিয়ে দেওয়ারও সময় আসুক,বেঁচে থাকলে তখনও আমার পাগলামি কমবে না।"

ভাহিদ এহসান থেমে আবারও বলে,

"আমার বউ তো আর যে সে কেউ নয়। কোনো এক রূপকথার দেশের রাজকন্যা তিনি। পাগলামি করে রাজকন্যাকে নিজের ঘরের রাণী বানিয়ে আনার দুঃসাহস তো দেখিয়েছিলাম—কিন্তু জানিনা, এতো বছরে সংসার জীবনে আমার চেষ্টা আদতে কতটুকু সফল হয়েছে।

কিন্তু হ্যাঁ,প্রেমিকা বউ হোক বুড়ো—তার প্রতি আমার ভালোবাসা-পাগলামি কোনোদিনও কমবে না, এইটুকুতে তো নিশ্চিত।"

কাশফিয়া অচিরেই হেসে ফেলল। অথচ ভাহিদ তখনও মাথা নুইয়ে আনায়ার সাথে খেলায় ভঙ্গিমায় ব্যস্ত। কাশফিয়া'র পারিবারিক গল্পটা কিছুটা প্যাচালো। সে সত্যিই কোনো সাধারণ পরিবারের মেয়ে নয়। আর না ভাহিদের জীবনে জড়ানোর গল্পটাও এতো সহজ ছিল।

কাশফিয়া সেসব ঘটনা মনে করে ভারী শ্বাস ফেলল। সবার চোখে এই বান্দা কেমন, তা বড় বিষয় নয়। কাশফিয়া তাকে চেনে কেবল একজন বউ পাগল হিসেবেই। সে তাকে একমনে কিছুক্ষণ পরখ করে নিয়ে মনে মনে আওড়ায়,

"ছেলেটাও বাপের মতো হয়েছে, দুনিয়ার সামনে পৃথিবীর সেরা রাগী-গম্ভীর অথচ... এখন এদিকটাও বাপের মতো হলেই হলো।"

এই বলেই কাশফিয়া ভারী শ্বাস ফেলে ক্ষীণ হাসল। এদিকে আনায়া খুব তৃপ্তি করে চেটেপুটে আইসক্রিম খেতে খেতে আধো-আধো গলায় রাজ্যের গল্প শুরু করল।

‘...জানো,জানো,বড়ো আব্বু...বাইয়া আমাকে নিনপালিস দিয়ে দিসে। এই দেকো,ছুন্দর হয়েচে না?"

ভাহিদ তার হাতে-পায়ের নেইলপালিশ মাখানো নখগুলোকে বেশ একাগ্রতার সহিত পরখ করে, অবাক হওয়ার ভঙ্গিতে বলে উঠল,

"আরে,আরে, আম্মাজানকে তো সেই সুন্দর দেখা যাচ্ছে। এই আম্মাজানটাকে এখন কোথায় লুকিয়ে রাখব বলেন তো?"

আনায়া খিলখিল করে হেসে উঠল। সে আরো ভুজুংভাজুং করে অস্ফুটস্বরে আরো কিছু কাহিনি শোনাতে শোনাতেই একপর্যায়ে বলে ফেলল,

"জানোওওও বড় আব্বুউউউ, বাইয়া আজ আমার উপর রাগ করেছিনো।"

---"কেনো,কেনো, তুমি কি করেছিলে?"

---"না,না, আমি তো কিসু করিনি। তারা ভালো মেয়ে, ও তো দুষটুমানি করে না।"

---"হ্যাঁ,তা তো বটেই। কিন্তু ভাইয়া রাগ কেন হয়েছিল? সে আবার তোমায় বকেনি তো?"

---"না, না, বকেনি। কিন্তু একতু রাগ করেসিনো। আমি কুট্টুস করে কামড় দিয়েছিনাম যে।"

প্রচন্ড গর্বের সাথে বলা আনায়ার এহেন কথায়, কাশফিয়া-ভাহিদ দুজনেই থমকে গেল। কাশফিয়া পাশ থেকে ভ্রু কুটি করে জানতে চাইল,

"আম্মা, ভাইয়াকে কামড় দিয়েছিলে? কোথায়?"

---"উযেএএ শাপে।"

---"মানে?"কাশফিয়া ভ্রু-জোড়া আরো খানিকটা কুঁচকে যায়। অথচ আনায়া আইসক্রিম খেতে খেতে আবারও স্বাভাবিক স্বরে বলে,

"বাইয়ার শাপে, এইজুন্য বাইয়া রাগ করেছিনো।"

আনায়ার কথার কোনোটাই দুজনে বুঝতে পারল না। ভাহিদ ভ্রু উঁচিয়ে কাশফিয়ার উদ্দেশ্যে জানতে চাইল,

"ও কি বলছো?"

---"জানি না, বুঝতে পারছি না। কখনকার ঘটনা, সেটাও তো জানিনা। দুপুরে তোমার ছেলে একবার বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। অনিমা বলল হাবভাব ঠিক না। হয়তো এই কারণেই, মাথা বিগড়ে আছে।"

ভাহিদ তার কথা শুনে কিছুটা বিরক্ত হলো।

---"রাখো ওর আলাপ, দিনদিন কি হচ্ছে নিজেও জানিনা।"

ছেলেকে নিয়ে ভাহিদের বিরক্তিবোধ দেখে, কাশফিয়া কপাল কুঁচকে ত্যাছড়া স্বরে বলল,

"হু,ছেলের ব্যাপারে যত চুপ থাকো ততই ভালো। ওর সব কিছু নিয়েই তো তোমার ঝামেলা।"

হুট করে ক্ষেপে যাওয়া এই মায়ের সাথে আর ভাহিদ কথা বাড়ালো না। সে পুনরায় নিজের আম্মাজানের দিকে মনোযোগী হলো। ভাবগম্ভীর্য স্বাভাবিক করে মুচকি হেসে বলল,

‘তা, আম্মজান,আর কি কি করলেন আজ সারাদিন?"

বাগানে চেরি গাছ লাগানো থেকে শুরু করে ভিভিয়ানের হাতে সারাদিন—সবই সে সবিস্তারে তার বড় আব্বুকে জানাতে লাগল। ভাহিদও মন্ত্রমুগ্ধের মতো ভাতিজি তথা এই কলিজার টুকরোর মিষ্টি গল্পগুলো শুনে যাচ্ছে।

​কথার এক পর্যায়ে ভাহিদ মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করল,

"তা আমার আম্মাজান, বড় হয়ে আপনি কি হবেন? ডাক্তার হবেন না ইঞ্জিনিয়ার? শুধু পাকনী বুড়ি হলেই চলবে না কিন্তু, ভাইদের মতো অনেক পড়াশোনাও করতে হবে। পারবে তো?"

"উঁহু, পাবব না।"

আনায়া এক নিমিষেই জবাব দিল। ভাহিদ ভ্রু কুঁচকে বলল,

"কেনো,কেনো, আমার আম্মাজান ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে না? তাহলে সে কি হবে?"

​আনায়া আইসক্রিম মাখা মুখটা,কব্জির পিঠে মুছে নিয়ে খুব আত্মবিশ্বাসের সাথে বলল,

"আমি এসব হবো না। আমি বউ হবো, বিভান বাইয়ার বউ!"

​মুহূর্তেই ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল। ভাহিদ এহসান আর কাশফিয়া বেগম একে অপরের দিকে তাকাল। অতঃপর ভাহিদ হো হো করে হেসে উঠল।কাশফিয়া নিজের আঁচল চেপে হাসি থামানোর চেষ্টা করতে লাগল।

​ভাহিদ এহসান আনায়াকে আদরের সাথে জড়িয়ে ধরে বলল,

"বলিস কী রে আম্মাজান! তোর বাইয়া তো অনেক পচা, সারাক্ষণ তোকে বকা দেয়। তুই ওর বউ হতে চাস কেন?"

​আনায়া একদম সিরিয়াস হয়ে মাথা নাড়িয়ে বলল,

"না! বাইয়া পচা না, বাইয়া অনেক ভালো। অন্নেক মুজা মুজা কেক বানায়, আমি কেয়েছি তো!... আর বাইয়া আমাকে গুসল করিয়ে দেয়, আমার সাথে খেলে ...মাজেমাজে একতু বকা দেয়, কিন্তু আদুর করে। ছুনদর করে ঝুঁতি করে দেয়।তাই আমি বাইয়ারই বউ-ই হব। শুদু বিভান বাইয়ার বউ হবো।"

আনায়ার কথার তালে ভাহিদ আনমনে হারিয়ে গেল। তবে তার মাথায় হয়তো কিছু একটা চলছিল। সেই একই চিন্তা বোধহয় কাশফিয়ার মাথাতেও ঘুরপাক খাচ্ছিল। যদিও এমন চিন্তাভাবনাকে দুজনের কেউই ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচনা করছিল না। বরং বেহুদা চিন্তা হিসেবেই তারা সেসব ভাবনাগুলোকে উড়িয়ে দিল।

চলবে_____

​

| নেক্সট পার্টটা আসতে কিছুটা দেরি হতে পারে(২-৩দিন)। এই কয়েকটা পর্ব খুব আলসেমি করে ছোট ছোট করে দিলেও, ৩০ নং পার্টটা হয়তো বিশাল বড় হবে। কারণ মাওয়া ভিভিয়ানের বিচ্ছেদের কারণ থেকে সোজা বর্তমানে বড় আনায়া অব্দি ফিরে আসা—সবটাই এই পর্বে দেখিয়ে দেবো। এবং ৩০নং পর্বই দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের শেষ পর্ব হবে।

পুরো গল্পই আমার অনেক আগে থেকেই সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত ও সাজিয়ে রাখা। সেক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো যেমন করব না, তেমনি কাহিনির একটা ক্ষুদ্রাংশও পরিবর্তন করতে পারব না। ফিউচারে অনেক কিছুই আসতে পারে যা অনেকের একদমই পছন্দ হবে না, কিন্তু অনুরোধ থাকবে পাঠক হিসেবে আগে সেসইব ধৈর্য নিয়ে পুরোটা পড়বেন,তারপর সিন্ধান্ত নিবেন আপনি পরবর্তীতেও গল্পটা কন্টিনিউ করবেন না। সবটাই আপনার হাতে, ধরাবাঁধা কোনো বিষয় নেই।রিসেন্ট একটা ঘটনার প্রেক্ষিতেই কথাগুলো বলা আর কিছুই নয়। আমি তুশকন্যা ছেড়েছি,পাঠক/পেইজ সবকিছু থেকে দায়বদ্ধতা এড়াতে, আপনাদের ক্ষেত্রেও বিষয়টা এমন হলেই ভালো। ~তুশ

❌গঠনমূলক মন্তব্য করার হলে করুন নয়তো চুপচাপ গল্প পড়ে চলে যেতে পারেন। তবুও নেক্সট নাইস ইমোজি দিয়ে কমেন্টবক্স ভরাবেন না।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন