ফন্ট সাইজ:
থিম:
Out of syllabus

২য় পর্ব

লেখক: রুহিতা

২.‘আসলে নকলে বাদ দিন মিস.অর্না।আমার পাঞ্জাবি নষ্ট হলো এটা কে ঠিক করবে! আপনি?’

নিহালের রাগ যে সপ্তমে চড়ে গিয়েছে বুঝতে বাকি থাকে না অর্নার।রেগে গেলে ক্লাসে এমন আপনি করে কথা বলে।আপাতত নিহালকে কোনোভাবে ম্যানেজ করে পালাতে পারলে অর্না বেঁচে যায়।অর্নার পাশে দাঁড়িয়ে নিশার অবস্থা বেগতিক।না পারছে যেতে আর না পারছে দাঁড়িয়ে থাকতে।এদিকে অর্না মাথা কাত করে বলে,

‘পাঞ্জাবিটা দিন আমি ধুয়ে দিব।’

‘আর ইউ ইনসেইন?’

নিহাল একটু চিৎকার করেই কথাটা বলে অর্নাকে।এদিকে নিহালকে এমন রাগতে দেখে এগিয়ে আসে তার ছোটো ভাই নাবিল। অর্নাকে এভাবে মাথা নুইয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞাসা করে,

‘ভাইয়া,কি হয়েছে? তুমি অর্নাকে বকছ কেন? এই অর্না কি করেছিস?’

অর্না একবার নাবিলের দিকে তাকালো তো আবার নিহালের পাঞ্জাবির দিকে। অর্নার দৃষ্টি অনুসরণ করে নিহাল সেদিকে তাকাতেই বুঝতে পারে তার ভাই কেন এমন ক্ষেপে আগুন হয়ে আছে।নাবিল পরিবেশ শান্ত করতে তানহাকে প্রথমে বলে,

‘অর্না,তুই যা হাত ধুয়ে নে।এক জায়গায় বসে থাকবি।’

এদিকে হঠাৎ এমন জটলা দেখে মশিউর রহমান ও নিজাম সাহেব এগিয়ে আসেন।নিজাম সাহেব নিহালকে জিজ্ঞাসা করে,

“নিহাল এভাবে কথা বলছ কেন কি হয়েছে?”

নিহালের উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে নাবিল বলে ওঠে,

“আব্বু তেমন কিছু না।ভাইয়ার পাঞ্জাবিতে একটু দাগ,,,

“তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছি?”

“না।”

“তাহলে চুপ থাকো।আর নিহাল,এভাবে রাগ করছ কেন?বাচ্চা মেয়ে খেয়াল করেনি।তুমি অনিকের থেকে পাঞ্জাবি নিয়ে চেঞ্জ করে নাও।”

নিহালকে কথাটা বলে নিজাম সাহেব অর্নাকে বলে,

“অর্না মা,,মন খারাপ করোনা।তুমি যাও হাত ধুয়ে নাও।”

নিজাম সাহেবের কথা শুনে অর্না মাথা নেড়ে দ্রুত সেখান থেকে সরে আসে।নিহালের সামনে থেকে তাকে সেভ এক্সিট দেওয়ার জন্য নিজাম সাহেবকে মনে মনে অসংখ্য ধন্যবাদ জানায়।অর্না চলে যেতে নিজাম সাহেব নিহালকে বলে,

“ প্রয়োজন হলে চেঞ্জ করে নাও।”

“কোনো প্রয়োজন নেই আব্বু।আমি বাড়িতে যাচ্ছি।”

নিজাম সাহেবকে কথাটা বলেই ছাদ থেকে নেমে আসে নিহাল।সিঁড়ির শেষ ধাপে এসে দেখা হয়ে যায় তার মা আফরোজা বেগমের সাথে।তিনি নিহালকে নেমে আসতে দেখে তাকে জিজ্ঞাসা করে,

“নিহাল,,নেমে আসছিস কেনো?খেয়েছিস?”

কথা বলতে বলতে আফরোজা বেগমের চোখ গেলো নিহালের পাঞ্জাবির সামনে হাতের ছাপের দিকে।সেদিকে তাকিয়ে আবারও প্রশ্ন করল,

‘একি,,তোর পাঞ্জাবিতে হাতের ছাপ কে দিল?’

রাগে নিহালের মস্তিষ্ক যেন ফুটছে।তারউপর আফরোজা বেগমের প্রশ্ন ঘী ঢালার মতো কাজ করল।তবুও মায়ের সামনে নিজের রাগ কন্ট্রোল করে বলল,

“একটা স্টুপিড,পাগল এই কাজ করেছে।আমি বাসায় যাচ্ছি।”

কথাটা বলেই নিহাল গটগট করে বেরিয়ে গেল।আফরোজা বেগম পিছন থেকে কয়েকবার ডাকলো তবে কাজের কাজ কিছুই হলো না।নিহাল ঠিকই বেরিয়ে গেলো।ছেলের এমন রাগের কারণ বোধগম্য হলো না আফরোজা বেগমের।

ছেলের এমন ব্যবহারে নিজাম সাহেব মশিউর রহমানের হাত ধরে বলেন,

“বন্ধু,,কিছু মনে করিস না।নিহালের ব্যবহারের জন্য আমি,,

“কি মনে করব পাগল তুই? ছেলে মানুষ ওরা।তবে নিহাল রাগ করে বেরিয়ে গেল যে।ওকে একটু ফোন কর।”

মশিউর রহমানের কথা শুনে নিজাম সাহেব একটু ইতস্তত করেন।কারণ,তিনি জানেন ছেলেকে কোনো ভাবেই আর এখন এখানে আনা সম্ভব না।তাই মশিউর রহমানের বলেন,

“থাক,, পরে তোর সাথে দেখা করতে বলব।এখন চল,, ওইদিকটা দেখি।”

দুইজনে এগিয়ে গেল স্টেজের দিকে।

_________

পরদিন সকাল বেলা,

ক্লাস শুরু হওয়ার প্রায় তিরিশ মিনিট পূর্বে ক্লাসে প্রবেশ করে অর্না আর নিশা।ক্লাসে ঢুকেই দেখতে পায় নীলা,ঝুমু আর নাবিল বসে গল্প করছে।

অর্নার সামনের সব বেঞ্চ রেখে একেবারে লাস্ট বেঞ্চের আগের বেঞ্চে এসে বসে।নাবিল, নীলা,ঝুমু ওরাও শেষের দিকে বসে। অর্নাকে দেখে নাবিল বলে ওঠে,

“সাবান সোডা কিনে রেডি হয়ে থাকিস।”

অর্না হাই বেঞ্চের উপর বসে নাবিলের দিকে তাকিয়ে বলে,

“কেন? আমি কি ধোপা বাড়ি খুলব নাকি!”

“সেটা নয়।তবে মনে হয় ভাইয়া তোকে দিয়েই পাঞ্জাবি পরিষ্কার করাবে।সকাল আম্মু নিতে চাইল দিল না।”

নাবিলের কথা শুনে পাশ ঠিক নিশা বেশ ভাব নিয়েই বলে ওঠে,

“দিক ,,আমরাও পরিষ্কার করে তোর ভাইয়ের মুখে সাদা পাঞ্জাবি ছুঁড়ে দেবো।”

নিশার এমন কথায় অর্না ওকে ঝাড়ি দিয়ে চুপ করতে বলে।নিহালের কথা তার মাথা থেকে বেরিয়ে গেছিল।গতকালের অনুষ্ঠানের ধকলের পর নিহালের ব্যাপারে সেভাবে ভাবার পূর্বেই ঘুমে তার অবস্থা কাহিল হয়ে গেছিল। এখন নাবিলের কথা শুনে অর্না মনে পড়ল গতকালের সেই মেসেজের কথা। নাবিলকে আড়াল করে ফোনটা চেক দেওয়ার দরকার।

আজকে প্রথম ক্লাস কামরুজ্জামান স্যারের।তারপর নিহালের ক্লাস।তাই অর্না নাবিলকে বেশ অনুরোধ করে একটু বলে,

“নাবি রে নাবি,, শোন আজকে আমি খাতা আনতে ভুলে গেছি একটা খাতা এনে দে না।পিলিজ!”

অর্নার কথা শুনে নাবিল প্রথমে উকি দিয়ে বাইরের আবহাওয়া দেখে নেয়।বাইরে সূর্য মামা তার সর্বোচ্চ ব্রাইটনেস অন করে রেখেছে।তপ্ত আবহাওয়া দেখে নাবিল দুইহাত উঁচু করে সারেন্ডার করার ভঙ্গিতে বলে ওঠে,

“মাফ ও চাই,,দোয়াও চাই।আমি পারবো না।এই রোদের মধ্যে বের হলে তো একেবারে শুঁটকি হয়ে যাব।আমি পারবো না।”

অর্না কি ছেড়ে দেওয়ার বান্দা সে নাবিলের সামনে তুরি বাজিয়ে বলে,

“যাবি না তো? আমিও তাহলে নিজে দায়িত্বে তোর আর সিনথিয়ার প্রেম পিরিতের কথা পাবলিশ করে দেবো।উইথ প্রুভ।”

“মেরি বেহেনা রুখ যা।এভাবে আমার কলিজায় হাত দেওয়ার মানে কি হ্যাঁ!! এনে দিচ্ছি তো।”

এতক্ষণ যাবত দুইজনের কথার মনোযোগ দিয়ে শুনছিল বাকি তিনজন।নাবিল উঠে দাঁড়াতে নীলা বলে ওঠে,

“নাবিল,আমিও যাবো দাড়া।কালার পেন কিনতে হবে।”

“চল।স্যার চলে আসবে না হলে।”

নাবিল আর নীলা চলে যায় নিচে থাকা স্টেশনারি দোকানে।এদিকে ঝুমু এমনিতেই শান্ত স্বভাবের মেয়ে ওরা চলে যেতে সে কামরুজ্জামান স্যারের পড়া দেখতে থাকে।পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় অর্না বেঞ্চের একেবারে কোনায় সরে যায়। অর্নার মতিগতি সুবিধার নয় বুঝতে পেরে নিশা এগিয়ে যায়।অর্নার সামনে থাকা আর একটা বেঞ্চের হাই বেঞ্চের উপর বসে ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞাসা করে,

“কি ব্যাপার তোর!! নাবিলকে সরালি কেন?”

অর্না ব্যাগ থেকে ফোন বের করে মুচকি মুচকি হাসতে হাসতে বলল,

“নিহাল স্যারের হাল কি একটু দেখে আসি।”

অর্না এখনো নিহাল স্যারকে অ্যাপ্রোচ করে যাচ্ছে বুঝতে পেরে নিশা ভয়ে ভয়ে গলার আওয়াজ নিচু করে বলে ওঠে,

“অর্না,,এসব বাদ দে।স্যার জানতে পারলে আমি সিউর তোকে এই তিনতলা থেকে ফেলে দেবে আর না হয় টিসি ব্যবস্থা করবে।”

অর্না মুখের সামনে হাত নেড়ে মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিতে বলে,

“কিছু হবেনা।জানবে তো।সে জানবে তাকে মেসেজ করছে ‘মোনালিসা মুনা’,,এখন সে কি খুঁজতে যাবে মোনালিসা মুনা কোন লিওনার্দো ভিঞ্চি থেকে আসলো।”

নিশা অর্নার কথায় নিশ্চিন্ত হতে পারছে না।ভয়ে দুশ্চিন্তায় দাঁত দিয়ে নখ খুঁটতে খুঁটতে বলে,

“ধরা পড়লে আমি নেই।আমাকে ফাঁসাবি না যেন।”

অর্না নিশার কথায় পাত্তা দিল না।ম্যাসেঞ্জার ঢুকতে দেখতে পেল নিহালের আইডি নামের পাশে সবুজ বাতি জ্বলজ্বল করছে। নিহালের ইনবক্স যেয়ে কম্পিত হাতে টাইপ করে,

“আসসালামু আলাইকুম নকল বর।বাসর কি করতে পেরেছেন?”

সেন্ড করেই চোখ বন্ধ করে ফেলে।বুকের মধ্যে থাকা হৃদপিণ্ড যেন বানরের মতো লাফাচ্ছে।কি এক জ্বালা।এমন কেন হচ্ছে? একটা মেসেজ তো।এদিকে আবার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে।এটা কি ভয়ে?সেসব ভাবনার মাঝে ফোনটা ভাইব্রেট করে উঠল।অর্না তাতে লাফিয়ে উঠল সেই সাথে তাকে দেখে লাফিয়ে উঠল সামনে বসে থাকা নিশা।বুকে কয়েকবার থু থু করে নিশার দিকে তাকিয়ে অর্না বলে,

“রিপ্লাই দিয়েছে রে,,,।”

নিশা অর্নার উরুতে একটা চড় দিয়ে বলে,

“এরকম বাঁদরের মতো লাফাছিস কেন?”

নিশা চড়টা বেশ জোরেই দিয়েছে বলে সেই জায়গাটা বাম হাত দিয়ে ঘষে চোখ মুখ কুঁচকে বলে ওঠে,

“তোর হাত না অন্য কিছু রে?উফফ,,রক্ত জমে গেছে নিশ্চিত।”

“রক্ত না আরো কিছু জমেছে।তুই হাই বেঞ্চের থেকে নাম।স্যারের আসার সময় হয়ে গিয়েছে।”

“দাড়া,,মেসেজের রিপ্লাই দিয়েনি।”

নিশাকে কথাটা বলে অর্না নিহালের মেসেজ ওন করতেই দেখা যায় নিহালের রিপ্লাই,

“বাসর ঘরে ঢুকে আপনাকে তো পেলাম না।করব কিভাবে!”

নিহালের উত্তর পড়ে অর্নার মুখ কিঞ্চিৎ ফাঁকা হয়ে যায়। অর্নাকে এমন অবাক হতে দেখে নিশা মুখ বাড়িয়ে দেখে নিহালের উত্তর।তাতে সে নিজেও অবাক।নিশা এবার অর্নাকে বলে,

“ আমি নিশ্চিত এটা নিহাল স্যার না।স্যারের যেই রাগ আর ভাব তাতে করে এমন রিপ্লাই অসম্ভব।”

অর্না নিশার কথায় তেমন পাত্তা দিল না।উল্টে নিজের মতো বলে উঠল,

“উত্তম কুমার ওগো বধূ সুন্দরী সিনেমাতে গান গেয়েছিল ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল কিছুই বুঝতে পারবেনা।’আসলে উত্তম কুমার এই জমানায় থাকলে নিহাল স্যারকে দেখে নির্ঘাত গাইত ‘পুরুষ চরিত্র বেজায় জটিল কিছুই বুঝতে পারবেনা।’”

অর্নাকে নিজের মতো বকবক করতে দেখে নিশা মনে মনে ভাবে,

“এই মেয়ে এই নিহাল স্যার করে করে পাগল হয়ে গিয়েছে।”

অর্না যখন উত্তর ভাবতে ব্যস্ত ঠিক সেই সময় ক্লাসরুমে প্রবেশ করে নিহাল।নিহালকে দেখে ক্লাসের বাকি সকলে দাঁড়িয়ে যায়।শুরুর ক্লাস কামরুজ্জামান স্যারের হওয়া সত্ত্বেও নিহালের আগমনের কারণ বুঝলনা নিশা।তবে কি অর্না ধরা পরে গেলো!!ভাবতেই নিশার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসছে।নিহাল তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। নিহালের চোখ মুখের শক্ত অভিব্যক্তি দেখে নিশা ভয়ে অর্নাকে ক্রমান্বয়ে খোঁচাতে থাকে।

“যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়।”

বিড়বিড় করে কথাটা বলে নিশা ক্রমান্বয়ে অর্নাকে খোঁচা দিতে থাকে।কিন্তু,অর্না তো তখন মেসেজ টাইপ করতে ব্যস্ত।এদিকে পিছন ঘুরে বসে থাকায় অর্না দেখতেও পাচ্ছে না তার পিছন থেকে নিহাল এগিয়ে আসছে,তার হাল নেই করতে।নিশা নিহালকে এগিয়ে আসতে দেখে সেই কখন হাই বেঞ্চ থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে।

নিহাল তাদের একেবারে কাছে এসে দাঁড়িয়েছে।এখন আর চাইলেও কিছু করার নেই।

অর্না মেসেজ নিহালকে রিপ্লাই সেন্ড করে ম্যাসেঞ্জার থেকে যেই বেরিয়েছে তখনই কেউ ছো দিয়ে ফোনটা কেড়ে নেয়।এক ঝটকায় হাত থেকে ফোনটা উধাও!

“এই আমার ফো…—!”

চমকে পেছনে ফিরতেই অর্নার চোখ কপালে উঠে গেল।

তার ফোনটা এখন নিহালের হাতে!নিহাল নির্বিকার ভঙ্গিতে ফোনটার দিকে একবার তাকিয়ে সেটাকে নিজের পকেটে ঢুকিয়ে ফেলল।তার মুখটা তখনও গম্ভীর, চোখেমুখে স্পষ্ট রাগ এবং বিরক্তির ছাপ।

অর্নার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে কঠোর গলায় বলল,

“হাই বেঞ্চের ওপর বসে ফোন চালানো!”

একটু থেমে ভ্রু কুঁচকে আরও কড়া স্বরে যোগ করল,

“গার্ডিয়ান নিয়ে এসে ফোনটা নিয়ে যাবেন, মিস অর্না।”

অর্না এক লাফে বেঞ্চের উপর থেকে নেমে পরে।অনুনয়ের সাথে বলতে শুরু করে,

“স্যার,, ভুল হয়েছে,,আর হবেনা।আমার ফোনটা প্লিজ ফিরিয়ে দিন।প্লিজ স্যার।”

নিহালের এমনিতেই অর্নার উপর প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ছিল।এখন ক্লাসে এমন ব্যবহার আরও বেশি মাথা গরম করে দিয়েছে।গলার আওয়াজ কিছুটা জোরে করেই বলল,

“চোখে দেখতে পান না,,এখন কি সেইসাথে কানেও কম শুনছেন মিস অর্না?”

পুরো ক্লাস এখন অর্নার দিকে তাকিয়ে। এর আগে কেউ অর্নার সাথে এমন ব্যবহার করেনি! অথচ আজ পুরো ক্লাসের সামনে নিহাল তাকে এভাবে বকাঝকা করছে।

অর্নাকে মাথা নিচু করে থাকতে দেখে নিহাল আর কথা না বাড়িয়ে টিচার্স ডেসকের সামনে এসে দাঁড়াল। অতঃপর পুরো ক্লাসের উদ্দেশ্যে গম্ভীর গলায় বলল—

“আজকের পর থেকে ক্লাস টাইমে কেউ যদি কোনোভাবে ফোন ইউজ করো, তো সেই ফোন সোজা প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে চলে যাবে! তারপর গার্ডিয়ান নিয়ে এসে ফোন নিয়ে যেতে হবে।ইজ দ্যাট ক্লিয়ার?”

ক্লাসের সবাই একসাথে বলে উঠল,

“ইয়েস স্যার!”

“ভেরি গুড।”

কথাটা বলে নিহাল আর এক মুহূর্তও অর্নার দিকে তাকাল না।নিজের মতো করে ক্লাস নিতে শুরু করল। লেকচার দেওয়া, বোর্ডে লেখা আর ছাত্রছাত্রীদের একের পর এক প্রশ্ন করার মাঝেই কেটে যেতে লাগল সময়। অথচ ক্লাসের এক কোণে যে অর্না এখনও অপমানে আর লজ্জায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে, সেদিকে তার কোনো খেয়ালই নেই। কিংবা বলা ভালো, খেয়াল থাকলেও নিহাল সম্পূর্ণ অবহেলায় তাকে এড়িয়ে গেল।

পুরো ৪৫ মিনিটের একটা দীর্ঘ ক্লাস অর্না ঠিক সেভাবেই নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ক্লাসের সহপাঠীদের আড়চোখের দৃষ্টি আর ফিসফিসানি যেন তীরের মতো এসে বিঁধছিল তার গায়ে। অপমানে চোখ দুটো বারবার জলে ভরে উঠলেও, খুব কষ্টে সে অশ্রু চেপে রাখল। পা দুটো ভার হয়ে আসছিল, কিন্তু না পারছিল বসতে, না পারছিল কিছু বলতে।

অবশেষে পিরিয়ড শেষের ঘণ্টা বাজল। নিহাল ডেসক থেকে নিজের বই-খাতা গুটিয়ে নিয়ে দরজার দিকে পা বাড়াল। কিন্তু ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঠিক শেষ মুহূর্তে, এক মুহূর্তের জন্য থামল নিহাল। অর্নার দিকে না তাকিয়েই, শীতল ও নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলল,

“মিস অর্না, আমার সাথে টিচার্স রুমে আসুন।”

#চলবে?

#out_of_syllabus

#লেখনী_রুহিতা

পর্ব -২ কার্টেসি ছাড়া কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন