ফন্ট সাইজ:
থিম:
অলকানন্দার নির্বাসন

অন্তিম কাল [প্রথম খন্ড]

লেখক: মম সাহা

#অলকানন্দার_নির্বাসন

#মম_সাহা

অন্তিম কাল [প্রথম খন্ড]

অম্বরের লাল সূর্যের দেখা নেই প্রায় অনেকদিন। কুহেলীর চাদরে ঢেকে গেছে সে। যেমন করে সুখ ঢেকে যায় দুঃখের নোনা জলে! বেদনার তৃষ্ণার্ত অস্বচ্ছতার রঙ পুরো আকাশ জুড়ে। শীতের হিমেল রিক্ততা ছুঁয়ে যায় বক্ষদেশ। ছাঁদের কার্ণিশে যেন ঘুমিয়ে আছে শান্তির বাজ পাখি। কেমন এক গমগমে ভয় নিয়ে নন্দার বেঁচে থাকা।

“বৌঠান, আমার কার্য আমি সম্পাদন করিয়াছি আপনার কথা মতোই।”

নন্দার ভাবনার সুতো ঢিলে হলো। কেমন অস্ফুটস্বরে গোঙানির মতন করে বলল, “হু!”

অ্যালেন কিঞ্চিৎ ভ্রু কুঁচকালো। দু-পা সামনে এসে প্রশ্ন ছুঁড়ল,

“আপনি কী চিন্তিত?”

এবার ঢিলে হয়ে থাকা ভাবনার সুতো পুরোপুরি ছিঁড়ল। নন্দা পরিষ্কার স্বরে জবাব দিল,

“না, তেমন কিছু নয়। মা-কে কাশী পৌঁছানো হয়েছে?”

“হ্যাঁ, হইয়াছে।”

“অন্নপূর্ণাকে শহরে পাঠানো গিয়েছে?”

“ইয়েস, তা-ও হইয়াছে।”

নন্দা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচাল। পরমুহূর্তেই তার চোখ জোড়ায় বিষণ্ণতা নামল। কেমন অসহায় কণ্ঠে বলল,

“আপনি আর উনিও কয়েকটা দিনের জন্য এদেশ থেকে চলে যান, দয়া করে।”

অ্যালেনের সদা সম্মান প্রদর্শিত নিচু ঘাড় আজ প্রথম উঁচু হলো, পূর্ণদৃষ্টিতে চাইল সে নন্দার পানে। কিন্তু সেকেন্ডের মাথায় তার চক্ষুদ্বয় ফিরিয়ে নিল নিজের অসংযতা। বহুদিন... প্রায় বহুদিন পর সেই ধ্বংসাত্মক রূপে অ্যালেনের হৃদয় যেন থমকে গেল। নারীর এমন সৌন্দর্য যেন সব পুরুষেরই সংযতচিত্ত মুহূর্তেই অসংযত করে দিতে বাধ্য। মেয়েটার কী রূপ! কী দীপ্তি! কী শোভা! অ্যালেনের মনে হলো, সে যেন সূর্যের দিকে তাকিয়ে ছিল সেকেন্ডের জন্য। লাল টকটকে শাড়ির সাথে জড়োয়া গয়নাতে সে যেন কোনো দেবীকে দেখে ফেলেছে। অ্যালেন চোখ বন্ধ করল, তবুও শান্তি মিলল না। বন্ধ চোখের আড়ালেও যেন সেই নারীর উঁকিঝুঁকি দেওয়া। অ্যালেন মাথা আরও নত করল, ব্যস্ত কণ্ঠে বলল,

“মার্জনা করিবেন, বৌঠান। আমার একটি কার্য সম্পাদন করিতে হইবে। আমাকে এখন প্রস্থানের অনুমতি প্রদান করুন।”

নন্দা ভ্রু কুঁচকালো, অ্যালেনের ঘর্মাক্ত শরীর দেখে সে কিঞ্চিৎ অবাকও হলো। তবুও সে অনুমতি দিল,

“আচ্ছা, আসুন এখন।”

অনুমতি পেতেই যেন অ্যালেন বেঁচে গেল। দ্রুত ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল। তার পা কাঁপছে। মাথা ঘুরাচ্ছে। এত সুন্দর মানুষটাকে তার দেখা উচিত হয়নি। একদম উচিত হয়নি। এটা পাপ। এই অসংযত দৃষ্টি ঐ পবিত্র মানুষের জন্য নয়। অ্যালেন নিজের প্রতি ক্ষুব্ধ হলো। সজোরে আঘাত করল তার সামনের দরজাটায়। সশব্দে কেঁপে উঠল কাঠের ভারী দরজা। অথচ অ্যালেনের চোখে নন্দার মুখ সদা উজ্জ্বল, জ্বলজ্বলে অংশুমালীর মতন যেন।

অ্যালেন বেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই স্টিফেনের প্রবেশ। নন্দা তখন আবারও ধ্যানে মগ্ন। স্টিফেনের মুখে হাসি, ধ্যানমগ্ন স্ত্রীর পানে তাকিয়ে শুধাল,

“তোমার দহনে কেন সবাই পুড়িয়া যায়, সানশাইন?”

নন্দা আকস্মিক প্রশ্নে প্রায় বেশ ভালো করেই চমকে গেল। চক্ষুদ্বয় তার অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। বিস্মিত কণ্ঠে বলল,

“কী?”

স্টিফেন হাসল, তীব্র এক বুক ভরা বিষণ্ণতা নিয়ে বলল, “তোমার এত সুন্দর হওয়া উচিত হয় নাই, সানশাইন। উচিত হয় নাই।”

নন্দা যেন স্টিফেনের কথার কূল-কিনারা পেল না। তার চোখে প্রশ্নের জোয়ার। জিজ্ঞেস করল ভাবুক স্বরে,

“এমন বলছেন কেন?”

“বলিবার কারণ কিছু তো নিশ্চয় আছে। সেই কারণটা আছে বলিয়াই আমি অসুখী, সানশাইন। কত ভালোই না হইতো, যদি আমি তোমার সৌন্দর্যের প্রশংসা কোনো কারণ ছাড়াই করিতে পারিতাম!”

“আমি আপনার এমন কথার কোনো কারণ বুঝে পাচ্ছি না!”

“কারণ খুঁজিও না, সানশাইন। কিছু কথার কারণ না থাকিলেই বোধকরি ভালো হতো। সব কারণ যে সবসময় সুখের হয় না। আচ্ছা সানশাইন, তুমি আমায় কখনো হারাইয়া ফেলিলে কষ্ট পাইবে? হয়তো পাইবে না। কারণ আমি তোমার কেহ হইতে পারি নাই কখনো। তবে, আমি হারাইয়া গেলে, নতুন করিয়া তোমার জীবন শুরু করিবে, কেমন? পড়াশোনাও করিবে। গ্রামবাসীর অভিভাবক হইবে। তোমার সকল অসম্মানের জবাব তুমি সফলতা দিয়ে দেখাইও। আমি না থাকিলেও তোমার সফলতার গল্পে আমি নিবিড় ভাবে থাকিয়া যাইবো। তুমি চাইলেও আমারে মুছিয়া ফেলিতে পারিবে না আর।”

অলকানন্দার বুকের উপর অমলিন হয়ে থাকা ভালোবাসার নক্ষত্রটা যেন ভয়ঙ্কর ভাবে কাঁপতে শুরু করল। একসময় যে মানুষটার থেকে নিজেকে সরিয়ে ফেলতে তার ইচ্ছে হয়েছিল, আজ যেন সে মানুষটার সাথে নিজেকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রাখতে চাচ্ছে সে। কিন্তু সংশয়ের দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ টুকু রয়ে যাওয়ায় নন্দা ছুটে গিয়ে মানুষটাকে জড়িয়ে ধরতে পারল না। স্টিফেন দু'হাত মেলে এগিয়ে গেল। হয়তো নন্দার তুমুল আবরণী ইচ্ছেটা সে পড়ে ফেলেছে। কিন্তু এগিয়ে গিয়েও সে শেষ অব্দি ইচ্ছে পূরণ করল না। হাতটা নামিয়ে ফেলল কি যেন এক গোপন ভাবনায়। সুঠাম দেহী, শুভ্র রাঙা শক্ত পুরুষটার আজ কঠিন চোখে টলমলে স্রোত। সে নন্দার থেকে চোখ ফিরিয়ে কিছুটা অন্যদিকে তাকিয়ে, বাঁকা হেসে বলল,

“আমি যখন থাকিব না, তখন তোমার জীবনে আমি গাঢ় হইয়া থাকিবো সানশাইন, দেখে নিও। তোমায় আমি অনুমতি দিলাম, আমার অবর্তমানে তুমি অন্য কাউকে নিয়া সংসার আরম্ভ করিতে পারো। আমার কোনো আপত্তি থাকিবে না। তোমার ভালো থাকায় আমি, আমায় খুঁজিয়া নিব।”

নন্দা কথা বলতে চাইল কিন্তু হৃৎপিণ্ডের তুমুল ব্যাথায় যেন তার বাক্য লোপ পেল। স্টিফেন জবাবের আশায় কিয়ৎক্ষণ অপেক্ষা করল। অবশেষে এক বুক হতাশা নিয়ে সে বেরিয়ে গেল। চলে গিয়েও ফিরে দাঁড়াল সে। তার বিষণ্ণ সুন্দর কণ্ঠে বলল,

“যেদিন তোমার শরীরে অন্য কেউ স্পর্শ করিবে, মনে রেখো সানশাইন, সেদিনই আমি পৃথিবী থেকে মুছিয়া যাইব চিরতরে। এর আগে আমি মরিয়া গেলেও মরিবো না।”

নন্দার বুকের তীব্র যন্ত্রণা গাঢ় হলো। এতদিনে সে উপলব্ধি করছে, ভালোবাসা শব্দটার আসলে তীক্ষ্ণতা কেমন হতে পারে। প্রেমের উচ্ছল ঢেউ ঠিক কতটা বিষাদ পূর্ণ হয়।

_

সুখের সময় ফুরিয়ে এসেছে প্রায়। তার ফুরিয়ে আসার ধ্বনি বাজছে চারপাশে। নন্দা তা বেশ ভালো করেই অনুভব করতে পারছে। সেই বিষণ্ণ, বিষাদ সুর ভেসে বেড়াচ্ছে নির্বাসন মহলের আনাচে-কানাচেতে।

সময়টা প্রায় গাঢ় রাত। মহলের বড়ো রুমটায় বসে আছে নন্দা। তার চোখে ঘুম নেই। ক্রমশই উত্তেজনায় কাঁপছে তার শরীর। শতাব্দ তাকে টেলিফোন করেছিল সন্ধ্যাবেলা। জানিয়েছিল— তারা আসছে। তারপর থেকে নন্দার শরীর অসাড় হয়ে আসছে। সে জানে, তাদের আসাটা ঠিক কতটুকু ভয়ঙ্কর। কিন্তু সে অসহায়। অ্যালেনের সাহায্য নিয়েও স্টিফেনকে আজ বাড়ি থেকে বের করতে পারেনি সে। লোকটা কেমন নাছোড়বান্দা! আজ সে বাড়ি থেকে না বেরোনোর পণ করেছে যেন। নন্দা বলতেও পারছে না আগাম বিপদসংকেতের কথা। মানুষটার চোখে তাহলে সে নিচু হয়ে যাবে। আর যাই হোক, ভালোবাসার মানুষের কাছে নিচু হয়ে নন্দা বাঁচতে পারবে না।

সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতেই নন্দার অবশিষ্ট সুখের সময়টুকু নিঃশেষ হলো। পদশব্দ শুনতে পেল তার আশেপাশে। নন্দা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই দেখল শতাব্দ, দীপকদাসহ তাদের দলের অনেকেই পুরো ঘর জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে।

নন্দা তৎক্ষণাৎ দাঁড়িয়ে পড়লো। এতক্ষণ যে বিপদের আশংকা করেছিল তা ঘটে গেছে৷ কথাটা নন্দার মস্তিষ্কে প্রচার হতেই তার শ্বাস থেমে গেল। সে রুদ্ধশ্বাস কণ্ঠে বলল,

“আপনারা প্রবেশ করলেন কীভাবে?”

“কেন? প্রবেশ করা নিষেধ ছিল নাকি?”

দীপক'দা এর ঠোঁটে বাঁকা হাসি। নন্দা থমকে গেল। শতাব্দের দিকে তাকাতেই দেখল তার মাথা নত। তীব্র শীতের মাঝেও নন্দা তুমুল ঘামছে। চারপাশে ললিতাকে খুঁজে গেল সে কিন্তু না, মেয়েটা আজ আসেনি। নাকি এসেছে? বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে কী!নন্দার ভাবুক স্বত্তার অন্তস্থল কাঁপিয়ে দীপকদা শুধাল,

“অলকানন্দা, তুমি তোমার প্রতিশ্রুতি রাখতে প্রস্তুত তো?”

নন্দা তোতলানো স্বরে বলল, “কি...কিসের প্রতিশ্রুতি?”

“দেশরক্ষার।”

নন্দা আঁচল দিয়ে ঘাম মুছলো। তার পা কাঁপছে। ভীতু গলায় বলল,

“না, না, ভুলিনি।”

“তবে চলো, আজকে নিজের সংসার চিতায় তুলে দেশের আঁধার দূর করবে। পারবে তো?”

নন্দার পিলে চমকে উঠল। সে দু-কদম পিছিয়ে গেল। চোখ বন্ধ করতেই ভেসে উঠল স্টিফেনের হাস্যোজ্জ্বল মুখটি। আবার সেই আকুতি মাখা কণ্ঠ। 'তুমি কেবল আমার হইয়া থাকিও' কথাটা বারবার প্রতিধ্বনিত হলো তার চারপাশে। কী আকাঙ্খা লোকটার! ভালোবাসার হাহাকারে ভারী তার বুক। নন্দার কাছে সেই বুক-ই তো পেতে দিয়েছিল মানুষটা। নন্দা জেনেশুনে কীভাবে ক্ষত করবে সেই বুকে?

“আমার মনে হচ্ছে অলকানন্দা তার প্রতিশ্রুতি ভুলতে চাচ্ছে?”

নন্দার কণ্ঠ শুকিয়ে এলো। তার কানে তার প্রতিশ্রুতি বাজছে। সে দেশের জন্য নিজের সব জলাঞ্জলি দিবে বলেছিল। কানে বাজছে দেশের মন্ত্র বুকে প্রেমের সুর। কোনটা বেছে নিবে সে?

“অলকানন্দা, ইংরেজরা আমাদের সাথে কী কী করছে তৎকালীন সময়ে, তা তোমার অজানা নয় নিশ্চয়? কত কৃষকের পেট কেড়েছে, কত মানুষের জান! আজ সব মিথ্যে হয়ে গেলো তোমার কাছে? কেবল সংসারই তোমার আপন রইলো?”

নন্দার দৃষ্টি নত হলো। কারো সাথে সে দৃষ্টি মেলাতে পারছে না লজ্জায়। এমন অগ্নিপরীক্ষায় সে দিকভ্রান্ত। হাতড়ে সমাধান খুঁজতে চাইল। দেশের অসহায়ত্ব না একটি অসহায় হৃদয়ের প্রেম, কাকে বেছে নেবে নন্দা? আজ যদি সে দেশের সাথে বেইমানী করে, কাল কীভাবে চোখ মেলাবে তাদের সাথে!

“তুমি তবে সংসার চাচ্ছো?”

নন্দা নিশ্চুপ। দীপকদা নন্দার হাতে একটি সাইলেন্স গান ধরিয়ে দিলেন। ফিসফিস করে বললেন,

“দেশ তো মা, মায়ের চোখে নিচে নেমো না, নন্দা।”

নন্দার চোখে টলমলে অশ্রু। দীপকদা তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে স্টিফেনের রুমের দিকে। নন্দা পুতুলের মতন যাচ্ছে। মনে মনে বার বার ঈশ্বরকে ডাকছে। স্টিফেন যেন না থাকে ঘরে। কোনো এক দৈবচক্রে মানুষটা আজ অদৃশ্য হয়ে যাক। নন্দা তাকে এরপর পৃথিবীর বুক থেকে খুব গোপনে লুকিয়ে রাখবে। আর কখনো সে জানাবে না, তার একটি ভালোবাসার মানুষ আছে। শুধু একটিবারের জন্য আজ মানুষটা বেঁচে যাক!

রুমে দরজা খুলতে নন্দা হতভম্ব। পুরো রুমের কোথাও স্টিফেন নেই। দীপদা'র সরু ভ্রুও কুঁচকে এলো। নন্দার দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্য করে বলল, “দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে নন্দা!”

বারান্দা দিয়ে নিচে নামতে নামতে নন্দার হাতের যন্ত্রটা দৃষ্টিগোচর হলো স্টিফেনের। সে ফিসফিস করে বলল,

“আমার প্রেমের সাথে বেইমানী করিলে, সানশাইন! তবে তা-ই হোক, আজ থেকে তুমি, আমি বিহীন ভালো থাকিবে। প্রেমের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শাস্তি হিসেবে তোমার জীবন প্রেমহীন কাটুক। তুমি নির্দয়, সানশাইন। তুমি বড়োই পাষাণ। তুমি ভালোবাসিলে না আমায় সানশাইন, ভালোবাসিলে না! আমাকে আর বন্দুক দিয়ে গুলিবিদ্ধ করিতে হইবে না, সানশাইন। আজ থেকে আমি মারা গিয়াছি। তোমার হাতে আমার জন্য থাকা মরণ বাণ দেখাটাই আমার মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট। তুমি ভালো থাকিও, সানশাইন। তোমার নির্বাসিত জীবন সুখের হউক। আমি ভালোবাসিতে-বাসিতে ভালোবাসার দাবী ছাড়িয়া দিলাম, যাও।”

নন্দা অন্ধকারে একটি ব্যাথিত দৃষ্টি দেখে চমকে উঠল। সে দৃষ্টির কোণ ঘেঁষে সে ঘৃণা দেখল কী! হয়তো দেখল। ভালোবাসার আঁখি যুগলে ঘৃণার দৃষ্টি নিয়ে নন্দা ভালো থাকতে পারবে?

_

স্টিফেন আর অ্যালেন বাড়ি থেকে বেশ দূরে আসতেই হাঁপিয়ে উঠল। খানিক জিরিয়ে পাশ ফিরতেই দেখে ললিতা দাঁড়িয়ে আছে ক্ষীণ হেসে।

অন্যদিকে "অলকানন্দার নির্বাসন" মহলে দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। নন্দা দৌড়াচ্ছে না, বাঁচতে চাচ্ছে না। চোখ বন্ধ করে তার আসন্ন মৃত্যুর অপেক্ষা করছে। তার আর কোনো ভয় নেই। ঘৃণার জীবনের সমাপ্তিতে তার আসন্ন, অনাকাঙ্খিত নির্বাসনও যেন মুক্তি পায়। হয়তো অন্য কোনো গল্পে, অন্য কোনো গদ্যে আবার মিলন হবে তাদের। সেদিন কল্পনা, ভ্রম, চতুরতা, ঘৃণা কিছুই থাকবে না তাদের মাঝে। সেদিন দেশ-জাতির ভেদাভেদও থাকবে না তাদের মধ্যে। সেদিন নন্দা স্বীকার করবে, এই শুভ্র রাঙা পুরুষকে ভালোবেসে সে ধন্য হয়েছে, সে ইতিহাস হয়েছে।

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে অন্তিম কাল [প্রথম খন্ড] শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন