ফন্ট সাইজ:
থিম:
নতুন ভাড়াটিয়া

৫ম পর্ব

লেখক: miju
পাখি এখন কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে। সে যেহেতু তার বাবার একমাত্র মেয়ে, তাই বাবা চান তার মেয়ে একটু পড়াশোনার মধ্যে থাকুক।
পাখি মাকে জানিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেল। বাবাকেও জানিয়ে দিল, সে কোচিংয়ে যাচ্ছে।
যাওয়ার সময় আর সকালের দেখা পেল না। বোধহয় ছেলেটা তার গেঞ্জির ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত।
যাই হোক, পাখির দুদিন পরেই ইংরেজি পরীক্ষা। এটাই তার শেষ পরীক্ষা। তাই এখন অন্য কোনো কিছুতে মন দিতে চাচ্ছে না। কারণ পাখি বরাবরই ইংরেজিতে কাঁচা।
দুই ঘণ্টা পড়াশোনা শেষ করে বিকেল পাঁচটায় পাখি বাড়ির দিকে রওনা দিল।
বাবার দোকানের সামনে আসতেই সেই পুরোনো অভ্যাসটা আবার পাখিকে ঘিরে ধরল।
“বাবা, আমি এসেছি।”
জহিরুল মিয়া মেয়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন।
তারপর বললেন,
“যাও, বাসায় যাও।”
পাখিও আর কিছু না বলে বাড়ির দিকে চলে গেল।
পাখিদের বাড়ির সামনে একটা বেশ বড় মাঠ আছে। সেখানে তাদের বাড়ির আশপাশের কয়েকজন মেয়ে খেলছিল। বয়সে তারা পাখির চেয়ে চার-পাঁচ বছরের ছোট।
এরই মধ্যে সকালও বাড়িতে এসে পড়েছে।
পাখির মনটা হঠাৎ করে চেয়ে উঠল ছোট ছোট মেয়েগুলোর সঙ্গে একটু খেলতে। আর মনকে আর বেশি আটকাতে পারল না সে।
খুশিও ছিল তার সঙ্গে।
দুজন মিলে বাচ্চাগুলোর সঙ্গে খেলতে শুরু করল।
আর সকাল?
সে বাড়ির সিড়ির সামনেই বসে ফোন স্ক্রল করছে।
দেখতে মনে হচ্ছে, তার পুরো মনোযোগ ফোনের দিকেই।
কিন্তু আসলে তার চোখ বারবার চলে যাচ্ছে পাখির দিকে।
এমনভাবে তাকাচ্ছে, যেন পাখি বুঝতেই না পারে ছেলেটা তার দিকে নজর রাখছে।
কিন্তু খুশির চোখ ফাঁকি দেওয়া এত সহজ নয়।
খুশি বেশ কিছুক্ষণ পর বিষয়টা বুঝতে পারল।
মনে মনে সে ধরে নিল, ছেলেটা হয়তো তাকে পছন্দ করে।
হয়তো তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
কিন্তু খুশি জানত না, সকালের নজরটা তার দিকে নয়।
সকালের চোখ শুধু পাখিকেই খুঁজছে।
প্রথমদিকে পাখি বিষয়টা বুঝতে পারেনি।
কয়েকবার চোখাচোখি হওয়ার পর ধীরে ধীরে তার নজরেও বিষয়টা এলো।
পাখি বুঝতে পারল, সকাল ফোনে যতই ব্যস্ত থাকার ভান করুক, তার নজর বারবার এদিকেই চলে আসছে।
ব্যাপারটা বুঝতে পেরে পাখি আর বেশিক্ষণ সেখানে থাকল না।
খেলা শেষ করে খুশিকে সঙ্গে নিয়ে পাখি তাদের ফ্ল্যাটের দিকে চলে গেল।
এভাবেই দিনটা কেটে গেল।
————
পরের দিন।
তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে।
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে পাখির মনে হলো, বৃষ্টিতে ভিজে নিজের মনটা একেবারে ঠান্ডা করে নিতে। কিন্তু না, তার মা কড়াকড়িভাবে নিষেধ করেছেন, হুট করে আসা বৃষ্টিতে যেন সে না ভেজে।
তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পাখি আর বৃষ্টিতে ভিজল না।
এর মধ্যেই ঘরের কিছু জিনিস প্রয়োজন হলো। তাই তার মা পাখিকে বললেন, বাবার দোকান থেকে কিছু জিনিস নিয়ে আসতে।
পাখিও এমন সুযোগ পেয়ে আর কে শোনে কার কথা!
এক ছুটে ছাতা নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
অবশ্য নিচতলার ফ্ল্যাটের দরজার সামনে সকালও দাঁড়িয়ে ছিল।
পাখিকে দেখেই তার একটু ইতস্ততবোধ হলো।
খুশিও ছিল পাখির সঙ্গে।
এই মেয়েটা প্রায় সবসময়ই পাখির সঙ্গে থাকে। পাখি যেখানে, খুশির নামও যেন সেখানেই ভেসে আসে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন