(এইটা আমার লেখা প্রথম গল্প, কাজিন রিলেটেভ, রোমান্টিক আসা করি সবার ভালো লাগবে)
"রাফি ভাইয়া আমি তোমাকে "ভালোবাসি"।
কথাটা বলার সাথে সাথে "সোহার" গালে সজোরে একটা "থাপ্পড়" মারলো রাফি। সাথে সাথে সোহার "চোখে পানি" চলে আসলো। সোহা গালে হাত দিয়ে টলমলে চোখে রাফির দিকে তাকালো। রাফি ওর দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে আছে। রাফি কঠিন সুরে বললো:—
"কি বললি তুই আবার বল"!?
"আমি তোমাকে "ভালোবাসি"।
রাফি বললো:—
"বয়স কতো তোর"?
সোহা বললো:—
"১৪"
রাফি অনেকটা রাগী সুরে বললো:—
"এই বয়সে ভালোবাসার কী বুঝিস তুই"?
" আমি সব বুঝি ভাইয়া"।
রাফি তখন কঠিন সুরে অনেকটা ধমক দিয়ে বললো:—
"রুম থেকে বের হ"
ধমক শুনে সোহা কেপে উঠলো। আর বলতে চাইলো:—
"রাফি ভাই"
কিন্তু রাফি কথা শেষ করতে দিলো না। সোহা কথা শেষ করার আগেই রাফি আগের চেয়েও দ্বিগুণ রেগে বললো:—
"যেতে বলেছি তোকে"
এত জোড়ে ধমক শুনে সোহার চোখে পানি চলে আসলো। কিন্তু সে ঘর থেকে এক পাও নরলো না। তখন রাফি আরো রেগে যেয়ে বলে:—
"কি বলছি তোকে কথা কানে যায় না"
সোহা তখন বলা শুরু করে:—
"রাফি ভাইয়া আমি তোমাকে "অনেকদিন" থেকে "ভালোবাসি" প্লিজ ভাইয়া আমার ভালোবাসাটা গ্ৰহন করো। আমি তোমাকে সত্যি অনেক ভালোবাসি ভাইয়া।
সোহা কান্না করতে করতে কথাগুলা বললো। সোহার কথা শুনে রাফির অনেক রাগ লাগছিলো কিন্তু রাফি তার রাগটা সংযোম করলো আর নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করলো কারণ সে জানে এখন সোহার সাথে রাগারাগি করলেও কিছু হবে না কারণ সে বুঝবে না। তাই সে নিজেকে শান্ত করে সোহা কে বুঝানোর সুরে বললো:—
"দেখ সোহা তুই এখনও অনেক ছোট। তুই ভালোবাসার তেমন কিছু বুঝিস না। হয়তো তোর আমাকে ভালো লেগেছে তাই আবেগের বসে এইসব বলছিস। তুই যখন বড় হবি তখন দেখবি তোর এই আবেগ আর থাকবে না। তখন দেখবি তোর আমাকে আর ভালো লাগবে না। তাই বলছি তুই আগে বড় হ ভালো করে পড়াশোনা কর। তখন তুই আমার থেকেও ভালো ছেলে পাবি"।
" কিন্তু ভাইয়া আমার তো তোমাকেই লাগবে"।
সোহার কথা শুনে রাফি এবার আর নিজেকে শান্ত রাখতে পারলো না। আবারও সোহার গালে সজোরে একটা থাপ্পড় মারলো রাফি। আর কঠিন সুরে বললো:—
"এতখন ধরে আমি তোকে কী বুঝিয়েছি আমার কথা বূঝিসনি তুই। বলেছি না তুই এখনো অনেক ছোট। আরেকবার ভালোবাসার কথা বলবি তাহলে আমি মেঝো আব্বুর কাছে তোর নামে বিচার দিবো এখন বল তুই কী চাস"।
সোহা তার আব্বুর কথা শুনে আর কিছু বলতে পারলো না কারণ সে তার আব্বুকে অনেক বেশি ভয় পায়। তাই সে চুপচাপ রুম থেকে বের হয়ে গেলো।
রাফি চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফললো।আর মনে মনে অনেক বড় একটা সিদ্ধান্ত নিলো।
(চলেন এবার ওদের পরিচয় দেওয়া যাক)
ঢাকার শাহাবাগে বিশাল বড় চৌধুরী বাড়ি অবস্থিত। দেখতেই কেমন রাজকীয় রাজকীয় একটা ভাব আছে বাড়িটার মধ্যে। এই রাজকীয় বাড়িটা তৈরি করেন এই বড় কর্তা শহিদুল চৌধুরী আলম যিনি এখন মৃত তার স্ত্রী রহিমা চৌধুরী সে এখনো বেচেঁ আছেন। আলম চৌধুরীর তিন ছেলে কোনো মেয়ে নেই। বড় ছেলে রায়হান চৌধুরী। মেজো ছেলে সাইফুল চৌধুরী। এবং ছোট ছেলে জিহাদ চৌধুরী। বড় ছেলে রায়হান চৌধুরীর স্ত্রী রাইমা চৌধুরী তাদের এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলে আফরান চৌধুরী রাফি যার বয়স ২১ সে এখন অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র। মেয়ে আফিয়া চৌধুরী রাফা যার বয়স ১৪ সে এখন ক্লাস ৮ এ পড়ে। মেজো ছেলে সাইফুল চৌধুরীর স্ত্রী সাঈমা চৌধুরী তাদেরও এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলে সাইবার চৌধুরী সামির যার বয়স ১৯ সে এবার H.S.C দিবে। মেয়ে সানাইয়া চৌধুরী সোহা যার বয়স ১৪ সেও রাবার সাথে ক্লাস ৮ এ পড়ে বলতে গেলে তারা দুইজন best friend । ছোট ছেলে জিহাদ চৌধুরীর স্ত্রী কবিতা চৌধুরী তাদের এক ছেলে দুই মেয়ে। বড় মেয়ে কোহিনুর চৌধুরী কলি যার বয়স ১৯ সেও এবার সামিরের সাথে H.S.C দিবে তারা দুইজন সমবয়সী সাথে দুইজন অনেক ভালো ফ্রেন্ডও। মেজো ছেলে নাহিয়ান চৌধুরী মুগ্ধ যার বয়স ১৬ সে এবার S.S.C দিয়েছে এখনও রেজাল্ট বের হয় নাই। ছোট মেয়ে কোহেলিকা চৌধুরী কুহু যার বয়স ১১ সে এখন ক্লাস ৬ এ পড়ে। এই হলো তাদের একটা বিশাল বড়ো ফ্যামিলি। চৌধুরী বাড়ির সবাই অনেক মিলেমিশে থাকে কেউ কাউকে নিয়ে হিংসা করে না। সবাই সবাইকে অনেক ভালোবাসে।
(চলেন এবার গল্পে ফিরে যাওয়া যাক)
রাফির ঘর থেকে বের হয়ে সোজা নিজের ঘরে আসে সোহা। ঘরে এসেই দরজা বন্ধ করে কান্না করতে থাকে সোহা। ঠিক তখনই ঘরের দরজায় টোকা দেয় রাফা। আর বলতে থাকে:—
"এই সোহা দরজা খোল দরজা বন্ধ করে কী করছিস"?
কিন্তু সোহা দরজা খোলে না। সোহাকে দরজা খুলতে
না দেখে রাফা বলে:—
"কিরে কী হয়েছে তোর দরজা খুজছিল না কেনো দরজা খোল তারাতাড়ি"।
সোহা এবার যেয়ে দরজা খুলে দিলো। দরজা খোলার সাথে সাথে হুরমুর করে রুমে ঢুকলো রাফা। রুমে ঢুকেই সোহার চেহারা দেখে আতকে উঠলো মেয়েটা। আর বলতে শুরু করলো:—
" কিরে কী হয়েছে তোর এভাবে কান্না করেছেন কেনো"?
সোহা টলমলে চোখে রাবার দিকে তাকালো। সোহার চোখ মুখ দেখে রাফা বুঝতে পারলো সিরিয়াস কিছু হয়েছে। তাই সে তারাতাড়ি রুমের দরজা বন্ধ করে দিয়ে সোহা কে নিয়ে বিছানায় বসালো। আর বললো:—
" কি হয়েছে তোর আমাকে বল"?
সোহা তখন রাফা কে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলো। আর তখনকার সব ঘটনা রাফা কে বললো। রাফা তো সোহার কথা শুনে অবাক। সে জানে সোহা তার ভাইকে পছন্দ করে কিন্ত এত তারাতাড়ি যে সোহা প্রোপজ করে দিবে সেই বিষয়ে রাফা জানতো না। জানলে হয়তো সোহা কে বারণ করতো। রাফা সোহাকে বললো:—
"তুই কী পাগল সোহা তুই এত তারাতাড়ি রাফি ভাইয়াকে কেন প্রোপজ করতে গেলি। তোর মাথা ঠিক আছে তো।
সোহা বললো:—
" আমি এত কিছু জানি না আমি রাফি ভাইয়াকে ভালোবাসি তাই সত্যিটাই বলছি। কিন্তু রাফি ভাইয়া আমার ভালোবাসা গ্রহণ করেনি"।
রাফা বললো:—
আরে পাগল আমরা এখনো ছোট। তাই ভাইয়া তোর ভালোবাসা গ্ৰহন করেনি। তুই আগে বড় হ তখন না হয় তোর ভালোবাসার কথা আবারো ভাইয়াকে বলিস।
সোহা আর কিছু বললো না। রাফার বুকে মাথা গুঁজে চুপচাপ বসে রইলো।
রাত তখন ১০ টা চৌধুরী বাড়ির সবাই ডাইনিং টেবিলে বসে আছে শুধু সোহা, রাফা আর রাফি ছাড়া। আর গৃহীনিরা দাড়িয়ে খাবার সার্ভ করছে। একটু পর রাফিকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখা গেলো। সে এসে তার চেয়ারে বসে পরলো। সে একবার পুরো ডাইনিং টেবিলে চোখ বুলালো তার চোখ যেয়ে আটকালো সোহা আর রাফার চেয়ারে দেখলো ওরা দুজন আসে নাই। রাফি মাকে জিজ্ঞেস করলো:—
"আম্মু সোহা আর রাফা কোথায়? ওরা খাবে না"?
রাইমা চৌধুরী বললেন:—
"রাফা ওদের থাবার ওপরে পাঠিয়ে দিতে বললো। ওদের নাকি অনেক পড়া আছে সেইগুলো কমপ্লিট করছে"।
রাফি বুঝলো সোহা আর রাফা কেনো খেতে আসেনি। সে আর কিছু না বলে তার আব্বুর দিকে তাকালো তারপর বললো:—
" আব্বু তোমার সাথে কিছু কথা ছিলো"।
রাফির কথা শুনে সবাই তার দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকালো। রায়হান চৌধুরী বললো:—
"হ্যাঁ বলো কী কথা"?
রাফি বললো:—
" আব্বু আমি বিদেশ যেতে চাই"।