ফন্ট সাইজ:
থিম:
অবাধ্য মন পাখি

২২তম পর্ব

লেখক: খাদিজা পারভিন

#অবাধ্য_মন_পাখি

#পর্ব_২২

#লেখনিতে_খাদিজা_পারভিন

হাইওয়ের পাশে ফেলে রাখা অজ্ঞাত এক লোকের লাশের খবর ও ছড়িয়ে পড়েছে।

চারপাশে লোকের ভিড় কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ আসবে।

পুলিশের আগে নিশা দলবল নিয়ে হাজির।মৃত ব্যক্তির মুখ দেখেই নিশার মাথার ভিতর কেমন যেন করে উঠল।খুব পরিচিত মুখ কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারছে না।উফ্ কি অসহ্যকর অনুভূতি।

চন্দন পাশ থেকে বলে উঠে," দেখুন বস লোকটার সারা শরীরে ক্ষত।দেখে মনে হচ্ছে অনেক অত্যাচার করে মারা হয়েছে।"

নিশা এবার তার মুখ থেকে নজর সরিয়ে শরীরের দিকে তাকালো। সত্যিই তো এর এই অবস্থা কে করলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই আব্রাহাম পুরো ফোর্স নিয়ে এসে সেখান থেকে সব মানুষদের সরিয়ে দিলো।সে এতক্ষনে মৃত ব্যক্তির মুখ দেখে নাই।বরাবরের মত নিশার উপরই তার নজর।নিশার চিবুকের মাঝ বরাবর একটা লাল দাগ আছে যা আব্রাহামকে খুব টানে।

"আপনাকে সরে যাওয়ার জন্য কি আলাদা করে বলতে হবে ম্যাম?

আপনি একটু সরে দাঁড়ালে আমাদের ইনভেস্টিগেশন করতে সুবিধা হতো।"

"কিবা আবার ইনভেস্টিগেশন করবেন জানা আছে।মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত আর পুলিশের দৌড় টাকার বান্ডিল পর্যন্ত।"

নিশার কথা শেষ হওয়ার আগেই আব্রাহাম লাশের দিকে তাকি চুপ হয়ে গেছে।বিষয়টা নিশার নজর এড়ালো না। আব্রাহামকে এমন চুপ হয়ে যেতে দেখে নিশা আবারও জিজ্ঞেস করে, "চিনেন নাকি উনাকে?"

আব্রাহাম আবার স্বাভাবিক হয়ে বলে, " না।"

কিন্তু নিশার শিকারি চোখ তা মানতে পারলো না।নিশা আর কিছু না বলে সেখান থেকে চলে গেলো।

নিশা চোখের আড়াল হতেই আব্রাহাম মেইন স্পট থেকে সরে একটু দূরে গিয়ে পকেট থেকে ফোন বের করলো।

আশেপাশে তাকিয়ে একটা নাম্বারে ডায়াল করলো, "ড্যাড, জাহিদ আঙ্কেলকে কেউ মেরে দিয়েছে,সকালে হাইওয়ের উপর লাশ পাওয়া গেছে।"

তারপর ফোন কেটে আবারো সেখান থেকে চলে গেলো।সে চলে যাওয়ার সাথে সাথে গাছের পেছন থেকে বের হলো নিশা।

"উপরওয়ালার ডাক যখন প্রায় দোরগোড়ায় চলে আসে মানুষ তখন পদে পদে ভুল করতে থাকে। জাহিদ?

মিস্টার আসিফ ইব্রাহিমের গন্ধযুক্ত বাম হাত, তার সকল পাপের ৩০% অংশীদার, তার বিশ্বস্ত সহকারী জাহিদ নশওয়াদ?রাস্তার উপরে লাশ পড়ে আছে!

কিন্তু কে মারলো?আমার শিকার কে নিলো?যে_ই মারো না কেন কাজটা একদম ঠিক করো নাই।নিশার শিকার নিশা নিজে করবে।অন্য কেউ এসে তার ভাগ বসাবে তা আমার একদম পছন্দ না।"

আব্রাহামের কপালে চিন্তার ছাপ।তিনটা খুনের খুনির এখনো কোনো হদিস পাওয়া গেলো না এর মধ্যে আবার জাহিদ আঙ্কেল খুন হলো।কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না।সব কিছু যেন তার গুলিয়ে যাচ্ছে।

বার বার লাশের দিকে তাকাচ্ছে আর তার শরিরে থাকা ক্ষত গুলোর দিকে চোখ বোলাচ্ছে।

লাশের চারপাশটা ক্রাইম সিন টেপ দিয়ে ঘেরা।ব্যারিকেডের ওপাশে এসে থামল তিনটা বাইক। রাস্তা ব্লক থাকায় পুলিশ কনস্টেবলরা তাদের আটকে দিয়েছে।

বাইক থেকে নামল অভ্র রায়হান, পেছনে সোহান আর ইশান। অভ্র মাথার হেলমেটটা খুলে তা হাতে নিয়ে সামনে এগিয়ে এল।পরনে কুচকুচে কালো লেদার জ্যাকেট, কালো প্যান্ট আর পায়ে হাই-বুট।

অভ্রকে এভাবে এগিয়ে আসতে দেখে আব্রাহাম নিজের চিন্তার জগৎ থেকে বের হয়ে এলেন।

প্রথম দেখায় অভ্রকে চিনতে পারে আব্রাহাম।সে যতটুকু জানে এই ছেলেটা নিশার শত্রু।আর নিশার শত্রু তার কাজে আসতে পারে ভেবে তিনি এক পা এগিয়ে ডান হাতটা বাড়িয়ে দিলেন। নিজের গম্ভীর গলায় পরিচয় দিলেন, "আমি ইন্সপেক্টর আব্রাহাম ক্রুস।"

কিন্তু অভ্র করমর্দনের জন্য এক চুলও হাত বাড়াল না। সে অত্যন্ত উদাসীন আর শীতল চোখে একবার আব্রাহামের বাড়িয়ে রাখা খালি হাতটার দিকে তাকাল। তারপর সোজা আব্রাহামের চোখের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল, "আমাদের যেতে দিন।"

অভ্রের দেমাগ দেখে আব্রাহাম অবাক হলো।পুলিশ অফিসারের বাড়িয়ে দেওয়া হাত এভাবে প্রত্যাখ্যান করায় আব্রাহামের ভেতরের ইগোতে প্রচণ্ড আঘাত লাগল। রাগে তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। তিনি হাতটা নামিয়ে নিয়ে বললেন, "অন্য পথে যান। এই পথে মার্ডার ইনভেস্টিগেশন চলছে, কোনো সাধারণ পাবলিকের যাওয়া যাবে না।"

অভ্র আর একটা কথাও বাড়াল না। অবজ্ঞার একটা ছোট্ট হাসি ঠোঁটের কোণে ফুটিয়ে সে পেছনে ঘুরে নিজের বাইকের দিকে চলে গেল। আব্রাহাম ভাবলো অভ্র ভয় পেয়ে অন্য পথে যাচ্ছে। বিষয়টা ভেবে তার একটু হাসি পেলো।

অভ্র বাইকে উঠে স্টার্ট দিল। তারপর ইশান আর সোহানকে চোখের ইশারা করতেই তিনটা বাইকের ইঞ্জিন একসাথে গর্জে উঠল। আব্রাহাম কিছু বুঝে ওঠার আগেই, অভ্র পুলিশের ব্যারিকেডকে তোয়াক্কা না করে, বাইকটা এক চাকার ওপর তুলে প্রচণ্ড গতিতে একটা টান দিল।পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে নিষিদ্ধ পথ দিয়েই চোখের পলকে বেরিয়ে গেল। তার পেছন পেছন ইশান আর সোহানও ঝড় তুলে চলে গেল।

রাস্তায় শুধু রয়ে গেল বাইকের টায়ারের পোড়া দাগ আর ধোঁয়া। হতভম্ব আব্রাহাম রাগে চিৎকার করে দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ করে গর্জে উঠলেন—

"What the fuck! stop."

বাকি পুলিশরা হা হয়ে তাকিয়ে আছে। রতন ছুটে এসে আব্রাহামের কাছে এসে দাঁড়ালো।"স্যার পিছু করবো ওদের?"

"বলদের মতো কথা বলো না।স্পিড দেখেছো ওদের পিছু করলে এখন ধরতে পারবা? যাও নিজের কাজ ভালো মতো করো‌।"

রতন চুপ হয়ে গেলো।

দিনের বেলা একটা টিন আর কাঠের সংমিশ্রণে গড়া একটা ঘরের ভিতর অন্ধকার আর দমবন্ধ করা পরিবেশ।সেই ঘরের ভেতর থেকে ভেসে আসছে ভাঙচুরের শব্দ আর এক নারীর বুকফাটা আর্তনাদ। বাইরে বৃষ্টি ছিল না আবার রোদও ছিলো না স্যাঁতস্যাঁতে একটা পরিবেশে একটা ঘরের ভেতরে পৈশাচিকতা।

ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা কাঁচের টুকরো আর উল্টে যাওয়া হাঁড়ি-পাতিল। ঘরের কোণে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে মাটিতে বসে আছে এক অসহায় নারী। তার চোখের নিচে কালসিটে দাগ, ঠোঁটের কোণ ফেটে রক্ত গড়াচ্ছে, আর পুরো শরীর ভয়ে কাঁপছে।

তার সামনে পশুর মতো হিংস্র চেহারায় দাঁড়িয়ে আছে তার স্বামী রাব্বি হোসেন। লোকটার চোখ দুটো রাগে লাল, পুরো শরীর রাগে কাঁপছে। লোকটা কোনো কথা না শুনেই হুট করে সাথীর চুলের মুঠি খপ করে ধরে ওপরে টেনে তুলল।

"ওগো, আল্লার দোহাই লাগে আমারে আর মেরো না। আমি তো কোনো দোষ করি নাই।আমার বাপ গরিব এত টাকা কোথায় পাবে?" সাথী দুই হাত জোড় করে তীব্র যন্ত্রণায় ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।

কিন্তু তার স্বামীর ভেতরে দয়ার কোনো লেশমাত্র নেই। সে গালিগালাজ করতে করতে সজোরে একটা চড় কষাল সাথীর গালে। চড়ের শব্দটা পুরো ঘরে প্রতিধ্বনিত হলো। সে ছিটকে গিয়ে মেঝেতে থাকা কাঁচের টুকরোগুলোর ওপর পড়ল, কাঁচের তীক্ষ্ণ কোণগুলো তার চামড়া ফুঁড়ে রক্ত বের করে আনল।

রাব্বি সেখানেই থামল না। সে নিজের কোমর থেকে চামড়ার বেল্টটা টেনে খুলে নিল। তারপর পশুর মতো হাত চালিয়ে বেল্ট দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটাতে লাগল সাথীর পিঠে আর ঘাড়ে।

প্রতিবার বেল্টের আঘাতে সাথীর গায়ের চামড়া ফেটে যাচ্ছিল আর সে তীব্র ব্যথায় চিৎকার করে মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছিল। সে বারবার তার স্বামীর পা জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করছিল, কিন্তু রাব্বি তাকে লাথি মেরে সরিয়ে দিয়ে আবার বেল্ট উঁচিয়ে ধরল।

সাথীর অসহায় কান্নার আওয়াজ আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে আসছিল, সে প্রায় অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে রইল।

রাব্বি হাঁপাতে হাঁপাতে লাল চোখে তার দিকে তাকিয়ে বলল, "যেহেতু টাকা আনতে পারবি না তো তোকে বাঁচিয়ে রেখে কি লাভ?

আজ তোকে মেরেই ফেলব, দেখি তোকে বাঁচাতে কোন বাপের ব্যাটা আসে!"

"বাপের ব্যাটা না,কয়েক বাপের বেটি এসেছে।"

হটাৎ অন্য কারো গলার স্বর শুনে রাব্বি তাড়াতাড়ি সামনে তাকালো।

সামনে নিশা আর তার পেছনে অনেক জন মহিলা দাঁড়ানো সবার হাতে ঝাড়ু,সবার মুখে রাগ স্পষ্ট । একজনকে একসাথে দেখে রাব্বি সত্যি ভয় পেয়ে সাথিকে ছেড়ে দিয়ে একটু পিছিয়ে দাঁড়ালো।

নিশার পাশে থাকা তার দশ বছরের ছোট ছেলেকে দেখে বুঝতে পারলো নিশা কে কে খবর দিয়েছে।

"চন্দন চেয়ার আন আর চানাচুর দে। আর তোমরা রাব্বি মিয়াকে একটু শিখিয়ে দাও কিভাবে সংসার করতে হয়।"

ক্ষিপ্ত মহিলারা ঝড়ের বেগে ছুটে গিয়ে রাব্বি কে ইচ্ছা মতো মারছে।

চন্দন তাড়াতাড়ি একটা চেয়ার এনে নিশা কে বসতে দিলো আর পকেট থেকে চানাচুরের প্যাকেট বের করে দিলো। চন্দনের কাছে সব সময় খাবার জন্য কিছু না কিছু থাকে।তাকে চেক করলে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন পদের খাবার জিনিস পাওয়া যায়।

নিশা চেয়ারে বসে চানাচুরের প্যাকেটের উপর লেগে থাকা ঘাম দেখে নাক সিঁটকায়, " সরা ওটা।তুই খা। বাঁধন পাশের দোকান থেকে কিছু নিয়ে আয় তো খুব খুদা পেয়েছে।"

নিশা চেয়ারের উপর বসে আছে আর সামনে মার খেতে থাকা রাব্বির চিৎকার শুনছে।

সাথীর শরীর অবশ ছিল কিন্তু তার সামনে তার স্বামী মার খাচ্ছে এটা দেখে সে সহ্য করতে পারছে না।সাথী কোনো মতে উঠে এসে নিশার পায়ে পড়লো।

নিশা পা সরিয়ে নিলো, "আরে করছো কি ছাড়ো।"

"আপা উনারে ছেড়ে দেন উনার খুব কষ্ট হচ্ছে।ছেড়ে দেন উনাকে আপা।"

নিশা অবাক হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলো, "যে তোমাকে এত মারলো তুমি তার জন্য আমার পায়ে পড়ছো?"

"উনি ছাড়া আমার আর কেউ নেই আপা।আমি অনেক ভালোবাসি উনাকে।উনিই আমার সব।" এটা বলেই সাথি দৌড়ে গিয়ে সবাইকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে নিচে পড়ে থাকা রাব্বির মাথাটা তুলে নিজের কোলে নিলো।

"অনেক ব্যাথা পাইছেন?কোথায় ব্যাথা পাইছেন?কেউ মারবেন না উনাকে।" বলেই তার মাথাটা নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে ধরে কান্না করে দিলো।

নিশা এখনো অবাক হয়ে তাকে দেখছে।নিশার থেকে বেশি অবাক রাব্বি নিজে।সে যাকে এত মারলো সে তার জন্য নিশার পায়ে পড়লো?বিষয়টা তার কেমন যেন লাগছে।ভিতরে ভিতরে নিজের প্রতি রাগ আর অনুশোচনা তাকে ঘিরে ধরেছে।রাব্বি নিজেও কান্না করে দিলো।

নিশা এবার বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো।বাকি মহিলারা সরে দাড়ালো।নিশা সাথীর কাছে গিয়ে আলতো হাতে তাকে ধরে উঠে দাড় করালো।সাথি রাব্বিকে ছেড়ে উঠতে চাইলো না কিন্তু নিশা তাকে ইশারায় শান্ত হতে বলে। তখনো সাথীর মুখে একই কথা ,"দয়া করে মারবেন না উনাকে।"

নিশা রাব্বির দিকে তাকায়।এতজন একসাথে মারায় তার নাক থেকে রক্ত বার হয়ে গেছে শরীরে ছোপ ছোপ দাগ পড়ে গেছে।কোনো মতে উঠে বসে সে।মাথা নিচু করে আছে।

" দেখ কুত্তার বাচ্চা,ভালো করে দেখ।তুই কাকে অমানুষের মতো মারলি।তোর শরীরে ব্যাথা আছে এই মেয়েটার শরীরে ব্যাথা নেই?

এক বুক ভরসা আর স্বপ্ন নিয়ে যে মেয়েটা তোর মতো একটা অচেনা মানুষের হাত ধরে নতুন একটা ঘরে এলো , তার পুরো পৃথিবীটাই আবর্তিত হলো তোকে ঘিরে বিনিময়ে তুই কি দিলি?"

নিশা একটু থেমে আবার বলতে শুরু করে_

"একজন স্বামীই হলো তার স্ত্রীর রক্ষক কিন্তু সেই রক্ষকই যখন ভক্ষক হয়ে ওঠে, ঘরের চার দেয়াল যখন ভালোবাসার নীড় না হয়ে একটা কসাইখানায় পরিণত হয়, তখন সেই নারীর পায়ের তলা থেকে পুরো দুনিয়াটা সরে যায়। সে না পারে মুখ ফুটে কাউকে নিজের অপমানের কথা বলতে কারন সমাজের লোক হাসাহাসি করবে এই ভয়ে আর না পারে নিজের বাপের বাড়িতে ফিরে গিয়ে বোঝা হতে।"

রাব্বি তখন উঠে সাথীর পা জড়িয়ে ধরে কান্না করে দেয়," আমাকে মাফ করে দাও আমার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে ।" সাথী তাড়াতাড়ি তাকে পা থেকে তুলে সালাম করে।

"ছি ছি কি করছেন আপনি?পাপ হবে তো আমার।"

পাশে দাঁড়ানো সব মহিলারা নিশার বলা প্রতিটা কথায় খুব খুশি হয়ে তার অনেক প্রশংসা করলো।

নিশা পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে রাব্বির হাতে দিয়ে চলে আসে।

চন্দন অনেকক্ষণ ধরে তার পিছু পিছু হাঁটচে আর একটা কথা জিজ্ঞেস করার জন্য অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু ভয়ে বলে উঠতে পারছে না।

নিশা চায়ের দোকানে গিয়ে বসে। চন্দন ভয়ে ভয়ে বলে "একটা প্রশ্ন ছিলো বস।"

"বলে ফেলো চন্দন শেখ।"

"আপনি এত ভালো ভালো কথা কোথা থেকে শিখলে?কি সুন্দর করে বললেন আহা.. আমার প্রান টা জুড়িয়ে গেলো।আমি যদি কোনো দিন বিয়ে করি তো আমি আমার বৌকে মাথায় তুলে রাখবো।"

পাশ থেকে বাঁধন বলে ওঠে " কিন্তু তোমাকে মেয়ে দিবে কে?"

এটা শুনতে সবাই হেসে ফেলে।সবার হাসির মাত্রা আরো বেড়ে যায় যখন জানতে পারে নিশা সেখানে যাওয়ার আগে ফোন থেকে ঐ নীতি কথা গুলো বার করে পড়ে তারপর গিয়ে বলেছে।

নিশার ফোনে কল আশার শব্দে সবাই চুপ হয়ে গেলো।নিশা ফোন রিসিভ করে।ওপাশ থেকে শোনা যায় নিশার উকিলের গলা।

" ম্যাম এতিমখানার মাঠের ব্যাপারটা ক্লিয়ার করতে চাই। ওখানকার জমি নিয়ে যে মামলা চলছে তা একটা ফাইলকে কেন্দ্র করে।ঐ ফাইলটা যদি একবার সরানো যায় তাহলে ঐ জমি নিয়ে আর কোনো সমস্যা হবে না।বাকিটা আমি সামলে নিতে পারবো। কিন্তু সমস্যা হলো ফাইলটা আছে অভ্র রায়ানের কাছে সেখান থেকে ঐটা সরানো একদম অসম্ভব।"

"আচ্ছা আমি একটু ভেবে দেখি।" এটা বলে নিশা ফোন কেটে দিলো।

"এখন কি করবেন বস?"

"ভাবছি।তোরা কেউ আমাকে অভ্র রায়ানের ঠিকানা জোগাড় করে দিতে পারবি?"

বাঁধন পাশ থেকে হ্যাঁ বলে।চন্দন বলে ওঠে," ঠিকানা দিয়ে কি করবেন বস?"

"ওর বাড়িতে থাকতে যাবো।"

"কিন্তু কি হিসেবে?"

"কাজের লোক হিসাবে।"বলেই নিশা হেসে ফেলে।

সবাই অবাক হয়ে একসাথে বলে ওঠে ,"আ্যা!"

চলবে__

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন