ফন্ট সাইজ:
থিম:
অবাধ্য মন পাখি

২৫তম পর্ব

লেখক: খাদিজা পারভিন

#অবাধ্য_মন_পাখি

#পর্ব_২৫

#লেখনিতে_খাদিজা_পারভিন

অভ্র বড় বড় পা ফেলে নিজের বাড়ির ড্রয়িংরুমে এসে ঢুকল, তখনো তার বাহুবন্ধনে নিশাকে শক্ত করে ধরে রাখা। সোফার সামনে এসে দাড়ালো অভ্র।নিশা তখনো তার গায়ের ঘ্রান নিতে ব্যস্ত।অভ্র এক প্রকার সজোরেই কোনো জিনিস ফেলার মতো নিশাকে কোল থেকে সোফার উপর ছেড়ে দিলো।

হঠাৎ কোল থেকে ছাড়ার পর নিশার মনে হলো, সেই সুবাসটা যেন একটু দূরে সরে গেল।

নিশা সোফা থেকে উঠে বসে কালো শাড়ির ঘোমটাটা আর একটু টেনে নিল।

তবে কৌতূহল সামলাতে না পেরে, ঘোমটার এক চিলতে আড়াল থেকে সে উঁকি দিয়ে বাড়িটা দেখার চেষ্টা করল।

বাড়িটার ভেতরটা সত্যিই দেখার মতো। বিশাল হলরুমের মতো ড্রয়িংরুম, যার দেয়ালগুলো হালকা অফ-হোয়াইট রঙের। একপাশে ঝুলছে একটা ভিন্টেজ ঝাড়বাতি, সেখান থেকে মৃদু হলদেটে আলো ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। ঘরের আসবাবপত্রগুলো দেখলেই বোঝা যায় অত্যন্ত ব্যয়বহুল—মেহগনি কাঠের ভারী সোফা সেট, কোণায় একটা পিয়ানো আর দেয়ালে কিছু বিমূর্ত আধুনিক আর্ট পেইন্টিং।

অভ্র নিজের পকেটে হাত গুজে নিশার ঠিক সামনে এসে দাঁড়াল। তার লম্বা ছায়াটা নিশার ওপর এসে পড়ল। অভ্র ঠান্ডা গলায় প্রশ্ন করল, "নাম কী আপনার? আর মতলবটা কী, শুনি?"

নিশা এক মুহূর্তের জন্য থমকাল, তারপরই নিজের গলার স্বর পুরো বদলে দেহাতি ঢঙে জোর গলায় বলল, "আমার নাম রঙ্গিলা। আর আমার কোনো মতলব নাই। আপনি গাড়ি চালিয়ে আমার পা ভাঙে দিছেন, আমি মামলা করবো আপনার নামে।

পুলিশ ডাকবো।"

নিশার এই চিল-চিৎকার আর 'রঙ্গিলা' নাম শুনে অভ্রের ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। সে একটু ঝুঁকে নিশার কানের কাছে এসে নিচু স্বরে বলল, "সবেমাত্র জন্ম নেওয়া কাঁচা খেলোয়াড়।"

অভ্রের এই কথায় নিশার বুকের ভেতরটা ছ্যাৎ করে উঠল। ও কি তবে কিছু ধরে ফেলেছে?

সেই সময়েই হন্তদন্ত হয়ে ড্রয়িংরুমে এসে ঢুকল সোহান আর ইশান। সোহান এসেই সোফার সামনে হাঁটু গেড়ে বসল এবং নিশার পায়ের দিকে হাত বাড়িয়ে বলল, "দেখি দেখি, কোথাও ফ্র্যাকচার হলো নাকি?"

"স্টপ, ছুঁবি না।"

অভ্রের বজ্রকঠিন চিৎকারে সোহান হাত গুটিয়ে এক হাত পিছিয়ে গেল। সে পুরো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে অভ্রের দিকে তাকিয়ে বলল, "কী রে ভাই? দেখব না পায়ে কী হয়েছে?"

অভ্র পকেট থেকে হাত বের করে সোফার হাতলে ভর দিয়ে দাঁড়াল। চোখ দুটো নিশার দিকেই নিবদ্ধ রেখে বলল, "না, ছুঁবি না। যেহেতু আমার বাইকের সাথেই এক্সিডেন্ট হয়েছে, তাই ওটা আমিই দেখব।"

অভ্রের মুখে এমন অদ্ভুত কথা শুনে সোহান আর ইশান তো বটেই, ঘোমটার আড়ালে নিশার নিজেরও চোখ ছানাবড়া ।

নিশা মনে মনে বলল, ‘ছাই দেখবি তুই ল্যাওড়া মোদ্দা।বালডাও নড়ে নাই আমার! এইখানে আইসা আরেক বিপদে পড়লাম নাকি উপরওয়ালার জানে।"

তবে মুখে তো নাটক ধরে রাখতেই হবে। সে আবার কপাল চাপড়ে সুর করে বলতে লাগল, "ও মা গো! আমার পা-টা আসলেই এরা ভেঙে দিল গো।

এখন আবার পায়ের ওপর নাকি অত্যাচার করবে।"

অভ্র আর কোনো কথা না বাড়িয়ে সোজা নিশার পায়ের দিকে হাত বাড়াল। তার শক্ত, গরম হাতটা যেই না নিশার পায়ের গোড়ালির কাছে স্পর্শ করতে গেল, নিশা বিদ্যুৎবেগে এক ঝটকায় নিজের পা টেনে সরিয়ে নিল। যেন অভ্রের ছোঁয়াতেও কারেন্ট আছে।

এই কাণ্ড দেখে ইশান আর থাকতে না পেরে ফোড়ন কাটল, "কাকিমা, পায়ে হাত দিতেই যেভাবে পা সরালেন, অলিম্পিকের অ্যাথলেটরাও এত দ্রুত রিফ্লেক্স দেখাতে পারে না।আপনার পা আদেও ভেঙেছে তো?"

"কী বলে ওটা? আমি কাকিমা? আমারে দেখে ল্যাওড়ার কাকিমা মনে হয়? চোখের মাথা খাইছে নাকি?" নিশা মুখে কিছু বলছে না।বেশি কথা বললে প্রথম দিনই ধরা খেয়ে যাবে।

অভ্র এতক্ষণ শান্ত হয়ে দেখছিল। সে এবার নিশার দিকে তাকিয়ে হালকা সুরে বলল, "পা যখন ঝটকা দিয়ে সরাতেই পারছেন, তার মানে মামলা করার মতো জোর পায়ে এখনো আছে। আপনার এই পা' নিয়ে আমাদের সোফায় কতক্ষণ থাকার ইচ্ছে?"

সে এবার কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, "আপনারাই তো জোর করে কোলে তুলে আমাকে এইখানে আনলে এখন আবার খোঁটা দাও?আপনারা এত নিষ্ঠুর জানলে আমি আসতামই না।"

সোহান আর ইশান একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেসে কুটি কুটি। মাঝরাত পার হয়ে গেলেও এই রহস্যময়ী রঙ্গিলার চক্করে ঘরের পরিবেশটা কেমন যেন একটা জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে উঠলো।

রাস্তার পাশে একটা দোকানে বসে চা খাচ্ছে ইন্সপেক্টর আব্রাহাম।মাথায় চারটা খুনের রহস্য ঘুরপাক খাচ্ছে একটার ও কোনো প্রমাণ নেই। গরম চায়ের ধোয়া থেকে চোখ সরিয়ে সামনে তাকাতেই তার চোখ সেদিকে স্থির হয়ে আছে।সামনে মারিয়া কাপড়ের দোকান থেকে কাপড় কিনছে।

আব্রাহামের বাঁকা চোখ চিকচিক করে ওঠে," যাক পাখি একটা তো পাওয়া গেছে।"ঠোঁটের কোনে হাল্কা হাসি ফুলে ওঠে।

মারিয়ার উপর সে বাজপাখির মতো নজর রাখছে। চোখে পলক পড়ছে না আব্রাহামের। মারিয়ার কেনাকাটা শেষ হলে রিক্সা ধরে উঠে পড়ে। আব্রাহাম ও তার পিছু নেয়।রিক্সা এসে থামলো মারিয়ার ফ্লাটের সামনে।ভাড়া মিটিয়ে চলে গেলো ভিতরে পিছনে ফিরলো না।ফ্লাটের দরজা খুলতেই পেছন থেকে আব্রাহাম তাকে ধাক্কা দিয়ে ভিতরে ফেলে নিজেও ভিতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো। আকস্মিক ধাক্কায় নিচে পড়েই "কোন কুত্তার বাচ্চা" বলে সামনে সামনে তাকায় মারিয়া।সামনে আব্রাহামকে দেখে জিহ্বা কামড়ে পড়ে মারিয়া।

"সরি স্যার।"

মারিয়ার মুখে সরি শুনে আব্রাহাম দুই হাত বেঁধে দাঁড়ায়।

"কুত্তার অপমান করে দিলাম।আপনি তো কুত্তার কাতারেও পড়েন না।"বলেই গা ঝেড়ে উঠতে লাগে মারিয়া।

আব্রাহাম তেড়ে এসে তাকে ধরে দেয়ালের সাথে জাপটে ধরে,"তোর জিহ্বা টেনে ছিড়ে ফেলবো বে*শ্যা মাগি।মুখ সামলে কথা বলবি।তোর মতো বাজারের মেয়ের মুখে আমার নামে কোনো কথা মানায় না।"

দেওয়ালের সাথে জোরে পিঠ ঠেকায় মারিয়া ব্যাথায় কুঁকড়ে ওঠে।মারিয়ার চোখে ভয় স্পষ্ট।

পরক্ষনেই ঘর ফাটিয়ে হেসে দিলো মারিয়া। আব্রাহাম হা হয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে, " আমি শ্রেষ্ঠ চরিত্রহীনা মানলাম,কিন্তু, কিন্তু, কিন্তু, আপনি ও কি খুব চরিত্রবান নাকি একদিনে দশ নারীর সাথে শুয়ে পড়া ইন্সপেক্টর মিস্টার আব্রাহাম ক্রুস?"

আব্রাহাম মারিয়ার চোয়াল শক্ত করে ধরে,মারিয়ার ফর্সা মুখ রক্তবর্ণ ধারণ করেছে। কিন্তু মুখ থেকে কোনো শব্দ বার হচ্ছে না।

"তুই শায়লা সেজে কেন গিয়েছিলি?কার কথায় করেছিস এসব বল নয়তো তোকে এখানে মেরে রেখে চলে যাবো কেউ টেরও পাবে না।"

মারিয়া আবার ঘর ফাটিয়ে সেই হাসি দেয়, তারপর ইশারা করে উপরে সিসি ক্যামেরা দেখায়," কেউ না জানলেও একজন ঠিকই জানবে।"

ক্যামেরা দেখে আব্রাহাম মারিয়াকে ছেড়ে দেয়। তারপর জোরে একটা নিঃশ্বাস ফেলে। মারিয়া এখনো হেসে চলেছে ।গায়ে থাকা ওরনাটা খুলে দূরে ছুড়ে মেরে সোফার উপর বসে পড়ে।

আব্রাহাম তাকিয়ে আছে তার দিকে।মারিয়ার ওই উন্মুক্ত ফর্সা গলাটার দিকে তাকাতেই আব্রাহামের ভেতরের পশুটা যেন জেগে উঠছে। রাগ আর ক্ষোভের জায়গাটা মুহূর্তেই এক তীব্র কামনায় রূপ নিল। তার ইচ্ছে করল এখনই মারিয়ার ওই ফর্সা গলায় নিজের ঠোঁট ছুঁয়ে দিতে।

ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে সোফায় বসা মারিয়ার ওপর বাঘের মতো ঝুঁকে পড়ল। মারিয়া একটুও সরলো না, সেও তার সেই মায়াবী, নেশাক্ত চোখ দুটো মেলে সোজা আব্রাহামের দিকে তাকিয়ে রইল।

আব্রাহাম হাত বাড়িয়ে মারিয়ার গলায় আঙুল ছোঁয়াতেই মারিয়া আলতো করে শিউরে উঠল, তার শরীরটা মৃদু কেঁপে গেল। আব্রাহাম তার গলার ত্বকে নিজের আঙুল বোলাতে বোলাতে গলার স্বর একদম নিচে নামিয়ে এনে ফিসফিস করে বলল, "বলে দে না, কে তোকে এসবের জন্য পাঠিয়েছে?"

মারিয়া আব্রাহামের চোখের দিকে তাকিয়ে তার ইউনিফর্মের কলারটা শক্ত করে ধরে নিজের দিকে হেঁচকা টান মেরে আব্রাহামকে আরও কাছে এনে বলল, "প্রথম দেখায় আপনাকে আমার খুব ভালো লেগেছিল, ইন্সপেক্টর সাহেব। তাই নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে ওই শায়লা সেজে আপনার কাছে গিয়েছিলাম। কেউ আমাকে পাঠায়নি।"

আব্রাহাম মারিয়ার ঠোঁটের এত কাছে এসে নিজের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলল। সে হেসে বলল, "এতই যদি ভালো লেগে থাকে,তাহলে আজ আবার একটু কাছে আয় না?"

মারিয়া তার কলারটা ছেড়ে দিয়ে ঠোঁট উল্টে বলে, "আমি কোনো পুরুষের কাছে একবারের বেশি যাই না। মারিয়া চরিত্রহীনা হতে পারে তবে বাসি খাবার মুখে তোলে না।"

এই প্রত্যাখ্যানটা আব্রাহামের সহ্য হলো না। সে রাগে এক ঝটকায় মারিয়ার ওপর থেকে সোজা হয়ে উঠে এল।আবার সাথে সাথেই এক হিংস্র ঝটকায় মারিয়ার ওপর জোর করে চেপে বসল, মারিয়ার দুই হাত সোফার সাথে চেপে ধরে কোনো সুযোগ না দিয়েই সরাসরি মারিয়ার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট বসিয়ে দিল।

মারিয়া এক ধাক্কা মেরে তাকে দূরে সরিয়ে দিয়ে নিজের ঠোঁট মুছে বলে, "আব্রাহাম স্যারের চরিত্র ধোয়া তুলসী পাতা,

মেয়ে দেখলেই খুলে যায় তার হিতোপদেশের খাতা।"

আব্রাহাম আর কিছু না বলেই সেখান থেকে বেরিয়ে যায়।মারিয়া ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলে,"তুই নষ্ট হলেও বড় কাজের জিনিস।ঠিক আমার মতো।"

"রহিমা চা___" এতটুকু বলেই নিজের গাল নিজে চেপে ধরে নিশা। তারপর আশেপাশে তাকায় কেউ শুনে ফেললো নাকি।কাউকে না দেখে একটু নিশ্চিন্ত হলো।

নিশা পা টিপে টিপে, নিঃশব্দে তাকে থাকতে দেওয়া গেস্ট রুম থেকে বেরিয়ে এল।ডানে-বামে তাকাচ্ছে আর দেখছে ড্রয়িংরুমে বা আশেপাশে কেউ আছে কিনা, নাকি সবাই বাইরে চলে গেছে। মনে মনে ভাবে "কেউ না থাকলেই হলো, ফাইলটা সরাব আর টুক করে কেটে পড়ব।"

ঘুরতে ঘুরতে নিশা এসে হাজির হলো একদম শেষ মাথার একটা বড় রুমের সামনে। ভেতরে পা রাখতেই নিশা থমকে গেল। রুমটা বড্ড সুন্দর আর পরিপাটি করে সাজানো। ঠিক দেয়ালটার মাঝখানে মস্ত বড় করে টাঙানো রয়েছে আভ্রের একটা পোর্ট্রেট সাইজ ছবি ।

ছবিটা দেখেই নিশা আন্দাজ করলো এটা অভ্রের রুম তার মানে ফাইলটা এই রুমেই কোথাও আছ। নিশা আলমারি, টেবিলের ড্রয়ারগুলোতে হাত চালাতে শুরু করল।

হুট করে বাথরুমের দরজা খোলার আওয়াজ হলো। আওয়াজটা শুনে নিশা একদম পাথরের মতো সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে সেই দরজার দিকে, নড়ার ক্ষমতাটুকুও হারিয়ে ফেলল।

বাথরুমের ধোঁয়াটে কুয়াশা ঠেলে বের হয়ে এল অভ্র। পরনে কোনো শার্ট নেই, কেবল কোমরে একটা সাদা তোয়ালে জড়ানো। কাঁধের ওপর আরেকটা ছোট তোয়ালে দিয়ে সে নিজের ভেজা চুলগুলো মুছছিল। খালি গায়ে অভ্রের চওড়া কাঁধ, পেশিবহুল বুক আর টানটান শরীরটার দিকে তাকিয়ে আছে নিশা।

জিন্দেগিতে কোনো পুরুষের দিকে সে এইভাবে তাকায়নি কিন্তু আজ নিশার বুকের ভেতরটা আচমকা ধক করে উঠল। তার হার্টবিট কেন যেন হু হু করে ফাস্ট হয়ে গেল।নিশা নিজের বুকের ওপর হাত রেখে মনে মনে ভাবল, "মওলা ,আমার হার্ট এত জোরে লাফাচ্ছে কেন? আমি কি কোনো অ্যাটাক খেলাম নাকি?"

অভ্র চুল মুছতে মুছতেই খেয়াল করল তার ঘরের মাঝখানে রঙিলা এক হাত ঘোমটা টেনে দাঁড়িয়ে আছে।

অভ্র তোয়ালেটা কাঁধে ফেলে সন্দেহী গলায় বলে, "এখানে কী করছ তুমি? আর এই রুমে কীভাবে ঢুকলে?"

নিশা কি বলবে ভেবে পায় না।

অভ্র আবার এক মুহূর্ত নিশার দিকে তাকালো। তারপর তার পায়ের দিকে চোখ বোলাতেই দেখল, নিশা এতক্ষণ দিব্যি দুই পায়ে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অথচ কাল রাতে এই পা নিয়ে কত আহাজারি।

অভ্র এক ভ্রু উঁচিয়ে ঠান্ডা গলায় বলল, " তোমার পা তো দেখি একদম ঠিকই আছে মনে হচ্ছে।কোনো খোঁড়ানোর লক্ষণ তো দেখছি না।so এবার আপনি বাড়ি থেকে যেতে পারেন, গেট আউট।"

নিশা দৌড়ে গিয়ে অভ্রের পা জড়িয়ে ধরে," স্যার, দোহাই আপনার,এই শহরে আমার থাকার মতো কোনো জায়গা নাই। আমাকে দয়া করে আপনার বাড়িতে একটু কাজ দেন।আমি রান্নাবান্না, ঘর মোছা, আপনার কাপড় ধোয়া সব করে দেব।"

অভ্র দুই পা পিছিয়ে গিয়ে বিরক্ত মুখে বলল, "আমি কোনো মেয়ে মানুষ কাজে রাখি না। ছাড়ো আমার পা।"

কিন্তু নিশার মাথায় তখন জেদ কাজটা তাকে আজ আদায় করতেই হবে। সে ঝাঁপিয়ে গিয়ে অভ্রের দুই পা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ওপরে-নিচে জোরে জোরে ঝাঁকাতে শুরু করল।

নিশার এই অনাকাঙ্ক্ষিত টানের চোটে অভ্রের কোমরের তোয়ালেটা আলগা হয়ে একদম খুলে যাওয়ার উপক্রম হলো। অভ্র নিজের সম্মান বাঁচাতে একহাতে তোয়ালে চেপে ধরে আতঙ্কে চিৎকার করে উঠল, "আরে! আরে! করছ কী? তোয়ালে ছাড়ো।"

নিশা পা না ছেড়েই বলল, "ছাড়ব না। আপনি আগে বলেন কাজে রাখবেন কিনা? আপনি যদি আমাকে এই মুহূর্তে কাজ না দেন, তাহলে খোদার কসম বলছি, আমি আপনার এই তোয়ালে ধরে এক্কেরে টান দেব! তখন কিন্তু আমার দোষ নাই।"

চলবে__

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন