ফন্ট সাইজ:
থিম:
অবাধ্য মন পাখি

৪৭তম পর্ব

লেখক: খাদিজা পারভিন

#অবাধ্য_মন_পাখি

#Part_47
#writer_KP
"এখন চলো আমার সাথে রুমে আমি ঘুমাবো।"
"আপনি মরবেন তো আমি কি করতে যাবো?আমার কাজ আছে আমি যেতে পারবো না।"গলার স্বর আস্তে করে দাতে দাঁত চেপে বললো নিশা।
"নিশু চলো আমার সাথে।" 
আব্রাহামের এমন আহাম্মক মার্কা কথা শুনে অভ্র হা হয়ে আবার আব্রাহামের দিকে তাকায়।" আবে এ,গায়ে কি গুইসাপের চামড়া নাকি?"
"শুধু শুধু গুইসাপের অপমান করলেন ? গুইসাপ ও তো লাথি খেয়ে লজ্জায় ঝোপে লুকায় আর এ তো পুরো বেহায়া আলট্রা প্রো ম্যাক্স।"
আব্রাহাম আর সহ্য করতে না পেরে সানগ্লাসটা চোখে দিয়ে গাড়িতে উঠে পড়লো। যাওয়ার আগে এক পলক নিশা আর অভ্রের দিকে তাকালো।নিশা তাকে হাত নাড়িয়ে বললো," বাইই,"
অভ্র সাথে সাথে নিশার হাত ধরে নিশার দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকালো, "আমি তোমার হাজব্যান্ড হই আমার সামনে পরপুরুষকে বাই বলো কেন?"
"হিংসা হয়?"
" আমার কেন হিংসা হবে? তাছাড়া তোমার মতো হাপ বয় কে নিয়ে কে হিংসা করবে?"
নিশা পেছনে ঘুরে বললো," ঐ যে আবার আব্রাহাম আসছে।"
"কই?" এটা বলে অভ্র পেছনে ঘুরতেই নিশা বাইক স্টার্ট দিয়ে এক টান দিয়ে চলে গেলো।
"পালাতে চাও বেবি? পালাও যত দূর পারো যাও।পালাতে পালাতে পাতালপুরীতে গেলেও আমি তোমাকে খুঁজে নিয়ে আসবো।"
অভ্র চট করে গিয়ে নিজের বাইকে উঠে নিশার পিছু নিলো। নিশা কিছু দূর যাওয়ার পর লুকিং গ্লাসে দেখলো, তার জমাই বাবু নিজের বড়লোক দাবি করি বাইকটায় চেপে দ্রুত গতিতে তার পিছু নিয়েছে।
 হেলমেটের ভিতরই জোরে হেসে দিলো।
বেশ কিছুটা পথ এগিয়ে নির্জন এক বাইপাস রোডে এসে নিশা লুকিং গ্লাসে আবারো ভালো করে চোখ রাখলো। অভ্র তখন তার বাইকের একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে, চালকের আসনে তার চিবুক শক্ত।
নিশা বাইকের স্পিড একটু কমিয়ে,অভ্রকে তার পাশাপাশি আসার সুযোগ দিয়ে জোরে চেঁচিয়ে বললো,"এই যে বেলাই চোখের নাঙ্গচোর বর আমার।পিছু পিছু ক্যাঁচ ক্যাঁচ করে ঘুরে লাভ নেই। আপনার মতো জামাইকে এই নিশা মল্লিক দিনে দশবার হাটে বেচে আবার নতুন করে কিনে আনে। দৌড় প্রতিযোগিতায় নামছেন নাকি?"
"কত মোন মধু গেলালে তোমার মুখের ভাষা কানে তোলার উপযোগী হবে?"
নিশা আরেকটা বিকট হাসি দিয়ে এক ঝটকায় এক্সেলেটর মোচড় দিয়ে একশ সত্তর কিলোমিটার গতিতে বাইক ছুটিয়ে দিল।মুহূর্তের মধ্যে চাকার ঘর্ষণে কালচে ধোঁয়া উড়িয়ে নিশার বাইকটা তীরের মতো সামনের দিকে ছিটকে গেল।
"এত সোজা নয় বেবি,"মন মনে বিড়বিড় করে অভ্র রায়হানের ভেতরের জেদটা জ্বলে উঠলো।
সে-ও বাইকের গিয়ার পাল্টে গতি বাড়িয়ে দিল একশো আশির ঘরে। দুটো ইঞ্জিনের বিকট গর্জনে পুরো রাস্তাটা কেঁপে উঠতে লাগলো। বাতাসের চাপ চিরে দুটো বাইকরাজপথের বুকে দুটো ক্ষিপ্রগতির হিংস্র চিতাবাঘের মতো প্রতিযোগিতা শুরু করেছে।
নিশা বারবার লুকিং গ্লাসে অভ্রের অবস্থান পরীক্ষা করছে আর ফাঁক পেলেই চাকা ডানে-বাঁয়ে কসরত করে অভ্রকে ওভারটেক করার রাস্তা ব্লক করে দিচ্ছে। অন্যদিকে অভ্রও কম যায় না। একে অপরকে ইঞ্চি পরিমাণ ছাড় না দিয়ে, দুটো বাইকই তখন বাতাসের বেগে ছুটছে।
অনেকক্ষণ পর নিশা বাইক থামায়।নিশা কে দাঁড়িয়ে পড়তে দেখে অভ্র ও একই জাগায় গাড়ি থামায়।
নিশা মাথা থেকে হেলমেটটা খুলে এক ঝটকায় চুলগুলো পেছনে ঠেলে দিল। কপালে জমে থাকা একফোঁটা ঘাম মুছে সে চোখ দুটো বড় বড় করে চারপাশে তাকালো। আঁকাবাঁকা অচেনা রাস্তা, চারপাশে ঘন মেহগনি গাছের সাড়ি আর অদ্ভুত নীরবতা। কোনো দোকানপাট নেই, কোনো চেনা চিহ্ন নেই এমনকি রাস্তার কোনো সাইনবোর্ডও চোখে পড়ছে না।
পকেট থেকে ফোনটা বের করে দেখলো নেটওয়ার্কের সিগন্যাল সম্পূর্ণ গায়েব।ফোনের উপরে নেটওয়ার্কের লাল নাড়ি বেরিয়ে আছে আর সেখানে নেটওয়ার্কের রক্ত দিয়ে লেখা "No service"
নিশার কপাল কুঁচকে একাকার হয়ে গেল।
অভ্রের দিকে তাকিয়ে বিরক্ত গলায় জিজ্ঞেস করলো, "কিরে জামাই নাঙ্গচোর এটা কোন জায়গা? আমার পিছু ধাওয়া করতে গিয়ে আপনি আমাকে কোন জঙ্গলে নিয়ে এলেন?"
অভ্র বাইকের স্ট্যান্ডটা ফেললো। তারপর নিজের হেলমেটটা খুলে বাইকের ওপর রেখে শান্ত চোখে চারপাশের নিঝুম পরিবেশটার দিকে একবার চোখ বোলালো।
পকেটে হাত গুঁজে, ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটিয়ে অভ্র নিশার দিকে তাকালো। তারপর দু-হাত ছড়িয়ে দিয়ে বেশ আনন্দিত গলায় বলে উঠলো, "ওয়াও! কনগ্র্যাচুলেশনস নিশা মল্লিক,আমরা হারিয়ে গেছি।"
______________________________________________
অভ্র কে হন্ন হয়ে খুঁজছে আকাশ।সেই সকালে বাইক নিয়ে বের হতে দেখেছে , তার আর কোনো খবর নেই। কিছুক্ষণ পরপর কল দিলেও পাওয়া যাচ্ছে 'আউট অফ নেটওয়ার্ক'। উপায়ান্তর না পেয়ে হন্তদন্ত হয়ে আকাশ এসে হাজির হলো মল্লিক বাড়িতে, উদ্দেশ্য অভ্রের কোনো হদিশ পাওয়া যায় কি না দেখা।
 দরজায় কলিং বেল বাজতেই ভেতর থেকে রহিমার গলা, " কে?"
"আমি আকাশ।অভ্র স্যারের অ্যাসিস্ট্যান্ট।"
রহিমা দরজা খুললো," ভেতরে এসে বসেন।"
আকাশ ভেতরে ঢুকে অভ্রের কথা জিগ্গেস করতে যাবে এরই মধ্যে উপর থেকে জামিলা ডাক দিলো,"রহিমা এদিকে আয় তো।"
রহিমা চলে গেলো।
সোফায় এসে বসতেই আকাশের ছাতি যেন ফেটে যাওয়ার উপক্রম হলো। প্রচণ্ড গরম, তার ওপর বাইরে ছোটখাটো একখানা বাইক রেস কাভার করে আসার পর গলার নালী একদম কাঠ হয়ে শুকিয়ে গেছে। চারপাশে একফোঁটা জলীয় বাষ্পের দেখা না পেয়ে আকাশের চোখ দুটো সোজা গিয়ে আটকালো রান্নাঘরের কোণে রাখা চকোলেট রঙের ফ্রিজটার ওপর।
পানির পিপাসায় ছটফট করতে করতে আকাশ মনে মনে ভাবল, 'ফ্রিজের ভেতর ঠান্ডা পানি আছে কি না একটু পরখ করে দেখলে ক্ষতি কী?"
সে উঠে ফ্রিজের কাছে গেলো। এক টানে ফ্রিজের পাল্লাটা খুলতেই ভেতর থেকে আসা হিমশীতল হাওয়া তার মুখে এসে লাগলো।
তবে সেই হাওয়ার চেয়েও যা বেশি চোখে লাগলো, তা হলো মাঝের তাকে সাজিয়ে রাখা বিশাল এক কাঁচের পাত্র ভর্তি রসগোল্লা।ধবধবে সাদা, রসে টইটুম্বুর একেকটা রসগোল্লা আলোয় জ্বলজ্বল করছে। তা দেখে আকাশের নিজের চোখ দুটোও মুহূর্তের মধ্যে এক একটা রসগোল্লার আকার ধারণ করলো।জিভে নিমেষেই আটলান্টিক মহাসাগরের জোয়ার নেমে এলো।
"পিপাসা তো পানির, কিন্তু রসগোল্লার রস কি আর পানি নয়?"নিজের মনকে এই যুক্তি দিয়ে বোঝাতে আকাশের এক সেকেন্ডও লাগলো না।
আশেপাশে তাকিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখে পাত্রের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো।একটা, দুটো, তিনটে করে গপাগপ রসগোল্লা মুখে পুরতে লাগলো। মিষ্টির রসে গাল দুটো একবারে ফোলা ফুটবলের মতো হয়ে উঠেছে, তবুও থামার কোনো লক্ষণ নেই।
"আকাশ ভাই, এইটা আপনি কী করছেন?" রহিমার চড়া গলার চিৎকারে আকাশ চমকে উঠে থমকে গেল। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। রহিমা এক লাফে এগিয়ে এসে তার তুলে ধরা হাতটা শক্ত করে চেপে ধরেছে।
আকাশ চোরের মতো ধরা খেয়ে অপরাধীর ভঙ্গিতে আস্তে করে রহিমার দিকে ঘুরে তাকালো। তার গাল দুটো রস আর গোল্লায় এতটাই ফুলে উঠেছে যে মুখ দিয়ে ঠিকমতো শব্দই ফুটছে না! ঠোঁটের কোণ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে ঘন রসের ফোঁটা।
সে কোনোমতে ফোলা গাল দুটোকে অনেক কষ্টে ম্যানেজ করে, অপরাধী চোখে রহিমার দিকে তাকিয়ে তোতলে তোতলে ফিসফিস করে বলল, "ব্বে-বেশি খাই নি রহিমা। সত্যি বলছি, আর খাবো না।"
রহিমা পেট চেপে ধরে সোজা 'হো হো' করে হেসে উঠলো। " যান মুখ ধুয়ে আসুন আমি পানি দিচ্ছি।"
আকাশ বাধ্য ছেলের মতো চলে গেলো।পানি খাওয়া শেষ করে আকাশ রহিমার দিকে তাকালো।
" অভ্র স্যার কোথায়?"
"উনি তো এখানে নেই।"
"ধুর শুধু শুধু এখানে আসা। আচ্ছা আমি তাহলে গেলাম আর ইয়ে মানে এই বিষয়টা কাউকে বলো না কেমন?"
"আচ্ছা ঠিক আছে।"
বেরিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে দরজা খুলতেই সামনে এসে দাঁড়ালো মারিয়া।আকাশের সাথে ছোটখাটো একটা ধাক্কা খেলো মারিয়া।
আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে চোখের সানগ্লাসটা নাক বরাবর টেনে আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো," ও মাই গড, নিশার বাড়িতে ব্লাক ডায়মন্ড?"
রহিমা পাশ থেকে জিজ্ঞেস করলো, " কে আপনি?"
মারিয়া হেসে জবাব দেয়," নিশা আছে?আমি নিশার ফ্রেন্ড।"
" না আপামনি তো বাড়িতে নাই।আপনি ভেতরে আসুন।"
" ওহ না প্লিজ।আমি এই পথ দিয়েই যাচ্ছিলাম তো ভাবলাম ওর সাথে একটু দেখা করে যাই ।বাড়িতে যেহেতু নাই তাই আর যাবো না। আচ্ছা বাই বাই।"
আকাশ হা হয়ে মারিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।"কি সুন্দর দেখতে। উপরওয়ালা এটা কি আমার?"
আকাশের মনে লাড্ডু ফুটছে।মারিয়া হেটে গেট পার হতেই যাবে এর মধ্যে আকাশ এক দৌড়ে তার দিকে গেল," এক্সকিউজ মি, শুনেন।"
মারিয়া আকাশের পা থেকে মাথা অব্দি দেখে বললো," জী বলুন।"
"বাইরে তো অনেক রোদ আমি আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসি কোথায় যাবেন বলুন।
"সত্যি?"
"হুম। আপনার কোনো অসুবিধা আছে?"
মারিয়া মনে মনে বললো," আরে আমি কোনো ছেলেকে না বলি না।"
"আরে না কোনো অসুবিধা নেই সত্যিই অনেক ভালো হবে যা গরম আর রোদ।"
আকাশ খুশিতে আটখানা হয়ে যায় মারিয়ার কথা শুনে। তাড়াতাড়ি নিজের বাইক টা এনে তার সামনে দাঁড়ায়।
আকাশ এক গাল হেসে ঝটপট নিজের হেলমেটটা মাথায় লাগিয়ে নিলো। মারিয়া বেশ সাবলীল ভঙ্গিতেই আকাশের বাইকের পেছনে গিয়ে বসলো। বাইক স্টার্ট দিতেই বাতাসে চুল উড়িয়ে মারিয়াকে নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়লো আকাশ। 
রসগোল্লা ছুরি করে ধরা পড়ার আত্মগ্লানিটা একটু কমে এসেছে।এমন এক সুন্দরী রূপসীর সান্নিধ্য পেয়ে আকাশের মনের ভেতর আনন্দ যেন আর ধরছিল না। মনের ভেতর যেন হাজারটা লাড্ডু একসাথে ফুটতে শুরু করেছে।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাইক এসে থামলো মারিয়াদের ফ্লাটের সামনে। চারপাশটা বেশ নিরিবিলি।
বাইক থেকে নেমে মারিয়া মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বলল, "আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। যা গরম ছিল বাইরে। আসুন না, ভেতরে এসে একটু কোল্ড কফি খেয়ে যান।"
আকাশের মনে মনে তখন আনন্দের জোয়ার।সে গাল দুটো চওড়া করে বলল, "এমন একটা জাগায় আপনি আঘাত করলেন! কফির কথা বললে তো আর না করা যায় না।"
ভেতরে ঢুকে ড্রয়িংরুমের সোফায় গিয়ে বসলো আকাশ।আকাশ চারপাশটা দেখতে লাগলো। দেওয়ালে সব বডিওয়ালা ছেলেদের ছবি টানানো।মারিয়া মিষ্টি হেসে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল কফি বানাতে। কিছুক্ষণ পর ট্রেতে দু কাপ কফি নিয়ে এলো সে। ট্রে-টা টেবিলে রেখে মারিয়া হাসতে হাসতে ধীরে ধীরে আকাশের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো।
আকাশ একটু অস্বস্তিতে পড়লেও সে ভাবছিল মারিয়া হয়তো অতি-আতিথেয়তার নমুনা দেখাচ্ছে। মারিয়া সোফায় আকাশের একদম ঘেষে বসলো, তারপর নরম স্বরে বলল, "একটু গরম লাগছে, তাই না?"
আকাশ কফির মগে একটা চুমুক দিয়ে তোতলানো স্বরে বলল, "হ্যাঁ, রোদ তো অনেক, একটু গরম তো লাগবেই।"
কিন্তু মারিয়া এতটুকু তে থামলো না। সে এক হাত বাড়িয়ে সোজা আকাশের শার্টের ওপরের বোতামটায় হাত দিয়ে সেটা খোলার চেষ্টা করতেই আকাশের মগজের সবগুলো ওয়ারিং একসাথে শর্টসার্কিট হয়ে গেল।
আকাশের চোখ দুটো গোল গোল হয়ে কপালে উঠে গেল। গলার কফির ফোঁটাটা মাঝরাস্তায় আটকে গিয়ে সে মনে মনে ভাবল, ‘ওরে বাবা রে। এ তো কফির দাওয়াত দিয়ে সোজা আমার ইজ্জত হরন করতে চাইছে।আমার ইজ্জতের দাম কি মাত্র এক কাপ কফি?জলজ্যান্ত শয়তানের খালাতো বোন এখানে আর এক মুহূর্ত থাকলে আমার আর নিজের বলতে কিচ্ছু থাকবে না।"
মারিয়া যখন দ্বিতীয় বোতামে হাত দিতে গেল, আকাশ,
"ওরে বাবারে, বাঁচাও আমাকে এই ডাইনির হাত থেকে।"পাগলের মতো এক বিকট চিৎকার ছাড়লো আকাশ
সোফা থেকে এক লাফে ছিটকে উঠে দাঁড়িয়ে সে কফির মগ টেবিলে ফেলে দিল। মারিয়া কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকাশ দরজার দিকে দিলো এক দৌড়।
মারিয়া হাঁ করে তাকিয়ে রইলো। ওদিকে আকাশ জুতো জোড়া হাতে নিয়েই মারিয়ার বাড়ির গেট ডিঙ্গিয়ে এক টানে বাইকের কাছে এসে থামলো। হাত-পা থরথর করে কাঁপছে, তাড়াতাড়ি বগল থেকে জুতা নামিয়ে,জুতা পায়ে দিয়ে বাইকে বসে এক্সেলেটরে মোচড় দিয়ে এক টানে বাইক ছুটিয়ে সেখান থেকে হাওয়া হয়ে গেল আকাশ।আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো,"আজকের পর থেকে আর কোনো অজানা রূপসীকে লিফট দেওয়া তো দূরের কথা, কোনো মেয়ের দিকে তাকালে সে নিজের নামই বদলে ফেলবে।"
চলবে__
(ফেসবুক টাস্ক পুরান করতে অনেক রিয়্যাক্ট দরকার।এই পর্বে ৫০০+ রিয়্যাক্ট না হলে আর পরের পর্ব দিবো না।)
[I'd owner : lekhika ar por ar kono part deyni pai opekkha korun.]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন