ফন্ট সাইজ:
থিম:
অবাধ্য মন পাখি

৫০তম পর্ব

লেখক: খাদিজা পারভিন

#অবাধ্য_মন_পাখি

#part_50
#Writer_KP
ভোরের আলো ফুটতেই গাছের পাতায় জমিয়ে রাখা শিশিরবিন্দুগুলো হালকা রোদের স্পর্শে মুক্তোর মতো জ্বলজ্বল করে উঠলো।
 উঠানের মাঝখানে পাশাপাশি রাখা দুটো খাটিয়া। একটার ওপর কাফনে মোড়ানো শুভ্র কাপড়ে আবৃত জাহানারা বেগম, আর তার ঠিক পাশেই রাখা মারিয়ার নিথর দেহ।
পুরো উঠান জুড়ে ধূপ আর আতরের সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে, কিন্তু সেই সুবাস কান্নার গন্ধ আর মৃত্যুর শোক_কে ঢাকতে পারছে না।বাতাস থমথমে, মনে হচ্ছে এই বাড়ির প্রতিটি ইট-পাথরও নিঃশব্দে শোক পালন করছে।সবাই যার যার মতো স্তব্ধ হয়ে এক কোণে বসে আছে। কারো মুখে কোনো বাক্য নেই, শব্দ বুনে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো সামর্থ্য আজ এই বাড়ির কারো অবশিষ্ট নেই।
মারিয়ার বাড়ির লোক কারা বা কোথায় থাকে তা নিশা জানে না।এইভাবে তার মৃত্যু হবে তা কখনো ভাবতে পারেনি। তাই তার কোনো খবর পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, কেউ আসেওনি।
নিশা বসে আছে তার মায়ের খাটিয়ার ঠিক পাশটিতে, একদম ঘেষাঘেষি করে। তার ডান পাশে নিশার ছায়া হয়ে বসে আছে অভ্র। নিশার চোখের ভেতরের জমাট বাঁধা অন্ধকার একটুও আলগা হয়নি। চোখের পাপড়িগুলো স্থির, তারা দুটো এক অনড় পাথরের মতো আটকে আছে কাফনের কাপড়ে ঢাকা মায়ের অবয়বটার ওপর।
আর কোনো কান্নার সুর নেই তার কণ্ঠে, নেই কোনো হাহাকার। ভেতরের তীব্র শোক তাকে এমন এক স্তব্ধতায় বন্দি করে ফেলেছে যে, সে যেন এই দুনিয়ার বাইরের অন্য কোনো শূন্যতায় হারিয়ে গেছে। অভ্র কয়েকবার নিশার দিকে আড়চোখে তাকালো, কিন্তু তাকে ছোঁয়ার বা ডাকার সাহস পেল না। এই নির্জন নীরবতার পেছনে জমে থাকা আগ্নেয়গিরির আঁচ সে স্পষ্ট টের পাচ্ছে।
জোহরের নামাজের পরই দুজনের জানাজা। সময় গড়াচ্ছে ধীর গতিতে, সূর্যের আলো যতই কড়া হচ্ছে, চারপাশের নিস্তব্ধতা যেন ততটাই ভারী হয়ে চেপে বসছে মল্লিক বাড়ির বুক জুড়ে। নিশা কেবল এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো শুভ্র চাদরে ঢাকা সেই মুখটার দিকে,যেখানে তার পুরো পৃথিবীটা আজ চিরকালের জন্য নিশ্চুপ হয়ে ঘুমিয়ে আছে।
"আর কখনো মায়ের মুখটা দেখা হবেনা বুঝি?রাগি গলায় চেঁচিয়ে আর কি নিশা বলে ডাকবে না?আর কি কখনো হাত কেটে আছে বলে এসে খাইয়ে দিবে না?তখন কি আমি না খেয়ে থাকবো?" এত এত প্রশ্ন তার মনে কিন্তু কোনো উত্তর নেই।
কবরস্থানে নিশার বাবার কবরের পাশেই খোঁড়া হয়েছে জাহানারা বেগমের শেষ শয্যা। মাটির গন্ধ বাতাসে ভেসে এসে মল্লিক বাড়ির বুকচাপা হাহাকারকে আরও গভীর করে তুলেছে।
জোহরের নামাজ শেষ হতেই মহল্লার মানুষেরা একে একে এসে হাজির হলো। খাটিয়া নেওয়ার সময় হয়ে এসেছে। অভ্র ধীরপায়ে উঠানে এসে দাঁড়াল। জাহানারা বেগমের খাটিয়ার একপাশ শক্ত করে চেপে ধরলো সে ও।
নিশা তখনও যেন দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মায়ের খাটিয়ার পাশে পাথরের মতো লেপ্টে বসে ছিল। অভ্র আলতো করে নিশার কাঁধে হাত রেখে তাকে উঠিয়ে দাঁড় করালো। নিশার কাঁচের মতো স্থির চোখের দিকে তাকিয়ে শান্ত, স্বরে বলল, "এবার মাকে নিয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে।"
কথাটা শুনতেই নিশার অবশ হয়ে আসা মগজে একটা সূক্ষ্ম তরঙ্গ খেলে গেল। সে ফ্যালফ্যাল করে চারপাশের মুখগুলোর দিকে তাকাল। অভ্রের মুখের দিকে তাকিয়ে অবুঝ শিশুর মতো শুধাল, "আমি যাব না?"
 রহিমা চোখের পানি মুছতে মুছতে এগিয়ে এলো। ভয়ে ভয়ে নিশার হাত দুটো ধরে তাকে আলতো করে পেছনে সরিয়ে এনে নরম গলায় বলল, " কবরস্থানে মেয়েদের যেতে নেই।"
নিশা আর কোনো প্রতিবাদ করল না। কেবল নিঃশব্দে চেয়ে রইল।
কয়েক জোড়া শক্ত হাত ধীর গতিতে খাটিয়া দুটো কাঁধে তুলে নিলো। 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' ধ্বনির মাঝ দিয়ে বাড়ির আঙিনা পেরিয়ে ধীরপায়ে গলি পেরিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল জাহানারা বেগম আর মারিয়ার শেষ যাত্রা।
উঠানটা কিছু মূহূর্তের ব্যবধানে ফাঁকা হয়ে গেল।
নিশা অসংলগ্ন পায়ে হেঁটে সোজা জাহানারা বেগমের খালি ঘরটায় গিয়ে ঢুকলো। যে ঘরে মায়ের গায়ের চেনা সুবাস তখনও লেগে আছে।
ধীরপায়ে ঘরের চারপাশটা ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলো নিশা। ঘরটা এখনো ঠিক সেভাবেই সাজানো, যেভাবে তার মা সবসময় গুছিয়ে রাখতেন। বিছানার ওপর মায়ের পরিষ্কার চাদর, কাঠের আলমারির ওপর রাখা ছোট ফুলদানি, আর বাতাসে তখনও ভেসে থাকা মায়ের গায়ের সেই বিশেষ আতরের স্নিগ্ধ সুবাস। ঘরের প্রতিটা কোণ জাহানারা বেগমের উপস্থিতির জানান দিচ্ছে, অথচ তিনি নিজে আর কোথাও নেই।
বুকের ভেতরের অসীম শূন্যতা নিয়ে নিশা মায়ের খাটের কাঠ ধরে ধুপ করে নিচে মেঝেতে বসে পড়লো। খাটের কাঠে মাথা ঠেকিয়ে একের পর এক মায়ের স্মৃতি যখন মনের আকাশে ভিড় করছিল, তখন ক্লান্তি আর মানসিক চাপে কখন যে তার চোখ দুটো বুজে এলো, সে নিজেও টের পেল না।
কিছুক্ষণ পর নিশার ঘুম ভাঙলো এক উষ্ণতার ছোঁয়ায়। তার মনে হলো সে কোথাও একটা বন্দি হয়ে আছে।
চোখ জোড়া হালকা মেলে মাথাটা সামান্য উঁচিয়ে তাকাতেই নিশার চোখ থমকে গেল,সে অভ্রের বাহুবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আছে। অভ্র খাটের সাথে হেলান দিয়ে নিচে বসে আছে, আর নিশাকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। অভ্রের নিবিড়, গহীন দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে নিশার মুখের ওপর।
নিশা চোখ মেলতেই অভ্র নরম গলায় শুধালো, "উঠেছো?"
কথাটা বলেই অভ্র এক হাত নিশার পিঠের উপর রেখে নিশা কে ধরে অন্য হাত দিয়ে পাশে রাখা ট্রে থেকে প্লেটটা তুলে নিশার সামনে বাড়িয়ে দিল। তার দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলল, "একটু খেয়ে নাও। কাল রাত থেকে কিছু খাও নি,শরীর খারাপ হয়ে যাবে।মা তো তোমাকে দেখছে। তুমি যদি এইভাবে না খেয়ে থাকো তো মা কষ্ট পাবে না?"
নিশা একবার প্লেটের খাবারের দিকে তাকাল, তারপর নিজের অবশ হয়ে আসা দু-হাতের দিকে নজর দিল।
অভ্রের দৃষ্টিও এড়ালো না সেই দৃশ্য। নিশার ফর্সা,চওড়া দুটি হাতে গতকাল রাতের কালচে দাগ, মাংস ছিঁড়ে যাওয়া ক্ষত আর জমাট বাঁধা রক্তের ছোপ ছোপ চিহ্ন। যে হাত দিয়ে সে কাল রাতে এতগুলো প্রান নিলো,সেই হাত দুটি এখন বড্ড নিঃসহায়ভাবে কাঁপছে।
নিশা চোখ দুটো সরিয়ে নিয়ে অভ্রের বুক থেকে নিজেকে আলগা করে একটু দূরে সরে বসলো। খুব নিরাসক্ত গলায় বলল, "খাব না। নিয়ে যান।"
অভ্র আর দ্বিতীয় বাক্য উচ্চারণ করল না। প্লেটটা পাশে রেখে সে নিঃশব্দে উঠে দাঁড়াল এবং রুম থেকে বেরিয়ে গেল। নিশা একবার তার চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। তারপর আবার দেয়ালের দিকে মুখ করে অন্য দিকে তাকিয়ে রইল।
মিনিট তিনেক পর ঘরে আবার কারো পায়ের শব্দ হলো।
নিশা তাকাতেই অভ্রের ভেজা হাত দুটো তার চোখে পড়লো। নিশা বুঝে ফেললো,লোকটা বাইরে নিজের হাত ধুতে গিয়েছিল।
অভ্র এসে নিশার একদম গা ঘেঁষে বসলো। পাশে রাখা খাবারের প্লেটটা কোলে নিয়ে, নিজের হাতে অনেক যত্ন করে এক লোকমা ভাত মেখে নিশার ঠোঁটের একদম সামনে তুলে ধরলো।
নিশা বড় বড় চোখে বিস্ময় নিয়ে তাকাল অভ্রের দিকে।
জাহানারা বেগম বেঁচে থাকতে যখনই নিশা রাগ করে না খেয়ে থাকতো, ঠিক এভাবেই মা নিজে হাতে লোকমা তুলে তার মুখে তুলে দিতেন। মায়ের মৃত্যুর পর, জীবনের এই অন্ধকার মোড়ে দাঁড়িয়ে জাহানারা বেগমের পরে এই প্রথম কেউ এত অধিকার আর মায়া নিয়ে তার মুখের সামনে খাবার তুলে ধরেছে।
"আমি খাবো?" কাঁপা কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল নিশা।
"না,আপনি না,আমার বৌ খাবে হা করুন।"
নিশা ছোট্ট করে হা করে।অভ্র তার অপটু হাতে কোনরকমে লোকমাটা নিশার গালে তুলে দেয় তার তিন ভাগের একভাগই নিশার ঠোঁটের আশেপাশে লেগে যায়। সেগুলো আবার অন্য হাতে মুছে দেয় অভ্র।এভাবে কিছুটা খাওয়ার পর নিশা অভ্রের হাত চেপে ধরে।
"কি হলো?"
"আপনি খেয়েছেন?"
"না তোমার খাওয়া হলে খেয়ে নিবো।"
"আমি আর খাবো না আপনি খান।"
"আর একটু খাও।"
"না,জোর করবেন না।ভালো লাগছে না পরে খাবো।"
অভ্র আর জোরাজুরি করল না।উঠে দাঁড়াতে গেলে নিশা আবার হাত ধরলো তার।
" আবার কি হলো?"
"খাবারে বিষ মিশিয়েছেন নাকি? সত্যি করে বলুন তো আমার ঘরের শত্রু কি আপনি?আপনার কথা বলছিলো আসিফ?"
"মানে?" অভ্র কিছু না বুঝতে পেরে চেঁচিয়ে উঠলো।
"মানে টা খুব সহজ অভ্র রায়ান।আপনি গত রাতে আব্রাহামের বাড়ির বাইরে থাকলেন কিন্তু ভেতরে গেলেন না কেন?আপনি চিনতেন আসিফ ইব্রাহিমকে?তার সামনে গেলে কি ধরা পড়ে যেতেন?বা অন্য কিছু সামনে চলে আসতো? আর এখনই বা এত দরদ করে ভাত খাইয়ে কেন দিলেন? কিছু আছে এর মধ্যে?"
অভ্রের চোখ লাল হয়ে এসেছে, " হ্যাঁ তোকে মারতে চাই আমি,বিষ আছে এই খাবারে।তুই মরলে সব থেকে বেশি খুশি হবো আমি।"
নিশা নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না।সে তো একটু একটু করে অভ্রকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলো।
অভ্র আবারো বলতে শুরু করলো, "একটা কথা সত্য তুই মরে গেলে আমার আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে না।একা একা কার বাল ফেলাবো এই দুনিয়ায়?তাই এখন এই বিষ মেশানো বাকি খাবার টুকু আমি খেয়ে চল দুইজন এক সাথে মরি।"
অভ্র সেখানে বসে বাকি খাবার খেতে লাগলো।নিশা একটু সরে বসে বিড়বিড় করে বলে," সোজা ভাবে বললেই হয় খাবারে কিছু নেই এত নাটক ঠা*পানোর কি আছে!গোয়ার কোথাকার।"
খাবার শেষ করে অভ্র উঠে যায় সেখান থেকে।
অভ্র চলে যাওয়ার পর নিশা আবারো খাটের সাথে মাথা ঠেকিয়ে চোখ দুটো বুজে ফেলেছিল। কিন্তু তার আয়ু ছিল খুব অল্প।
হঠাৎ ছোট ছোট পায়ের মৃদু শব্দে চোখ মেললো সে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই রোদেলা প্রজাপতির মতো উড়ে এসে সোজাসুজি নিশার কোলের ওপর বসে পড়লো।পুতুলের মতো দেখতে মেয়েটার নিষ্পাপ চোখেমুখে এক রাজ্যের বিস্ময়।
রোদেলা নিজের ছোট্ট দুটি হাত নিশার গলায় পেঁচিয়ে ধরে তুলতুলে গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলো, "আমার বড় আম্মু কে ওরা কোতায় নিয়ে গেছে গো, নিতা?"
কথাটা শুনতেই নিশার বুকে সদ্য হওয়া গভীর ক্ষতটা চিনচিন করে উঠলো। 
সে রোদেলাকে কোনো জবাব না দিয়ে তীব্র আকুলতায় জাপটে ধরে নিজের বুকের সাথে লেপ্টে জড়িয়ে ধরলো। যেন এই ছোট্ট নিষ্পাপ স্পর্শটুকুই তাকে আবার মানুষ বানানোর শক্তি দিচ্ছে। নিশা রোদেলার চুলে মুখ গুঁজে খুব নরম ও বিষণ্ণ গলায় বলল, "আল্লার কাছে নিয়ে গেছে, তোমার বড় আম্মু সেখানে খুব ভালো থাকবে, অনেক শান্তিতে থাকবে।"
কথা বলতে বলতেই রোদেলার মুখটা নিজের হাতের তালুতে তুলে নিলো নিশা। আর তখনই তার চোখ গেল রোদেলার বাঁ পাশের ফর্সা গালটার ওপর। সেখানে স্পষ্ট ফুটে আছে লাল হয়ে ওঠা হাতের চড়ের দাগ।
 নিশার রক্তের তাপমাত্রা যেন স্বাভাবিক থেকে হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেল। ভেতরের ঘুমিয়ে থাকা ক্ষ্যাপা আত্মাটা আবার সজাগ হয়ে উঠলো। মেজাজটা চরম গরম হয়ে নিশার কণ্ঠস্বরে আগুনের আঁচ এলো। সে রোদেলার গালের লাল দাগটায় আঙুল ছোঁয়াবে, অমনি রোদেলার কোমল চিবুক ধরে শুধালো, "প্রিন্সেস,কী হয়েছে গালে? এই দাগ কিসের? কে মেরেছে তোমাকে?"
নিশা আর কিছু বলার আগেই রোদেলা তার ছোট্ট শাহাদাত আঙুলটা সোজাসুজি এনে নিশার ঠোঁটের ওপর আলতো করে বসিয়ে দিল। তারপর চারপাশটা আতঙ্কে একবার দেখে নিয়ে ফিসফিস করে নিশার কানে কানে বলল, "চুপ,এতা বলতে হয় না। এতা বললে যে ভুত এসে তোমাকে খেয়ে ফেলবে।"
নিশা চমকে উঠে কোঁচকানো কপালে বলল, "মানে? কী বলছিস এসব? কিসের ভূত?"
রোদেলা নিশার ঠোঁটে আঙুল চেপে ধরে রেখেই ভীতু ভঙ্গিতে বারবার মাথা দুলিয়ে বলতে লাগলো, "হুম, একদম চুপ। এতা বলতে হয় না। ভুত চলে আসবে।"
নিশা কতবার রোদেলার চিবুক উঁচু করে, রকমারি আদর আর ছলেবলে সত্যটা শোনার চেষ্টা করলো, কিন্তু মেয়েটি কিছুতেই কারো নাম কিংবা ঘটনার কথা মুখে আনলো না। সে কেবল চোখ দুটো বড় বড় করে একটাই কথা আউড়ে যেতে লাগলো,"ভুত আসবে নিতা, চুপ কলো।"
নিশার মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষে তখন অচেনা এক আশঙ্কা জাপটে বসেছে। এই বাড়িতে নিশ্চয়ই মায়ের বিদায়ের অগোচরে আরও কিছু ঘটেছে, কিন্তু কি?
চলবে___

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন