পর্ব — ২
“পেছনে পেছনে”
কয়েকদিন ধরে জান্নাত আর লামিয়া খেয়াল করছিল, দুজন ছেলে প্রায়ই তাদের পেছনে পেছনে আসে।
একদিন লামিয়া বিরক্ত হয়ে বলল,
—“জান্নাত, ওই দুইটা ছেলে আবার আসছে।”
জান্নাত পিছনে তাকিয়ে বলল,
—“আসতে দে। তুই ভয় পাচ্ছিস কেন?”
—“ভয় না। বিরক্ত লাগছে।”
—“চল, দ্রুত হাঁটি।”
দুজন দ্রুত হাঁটতে শুরু করল।
কিন্তু ছেলেদুটোও দূরত্ব রেখে তাদের পেছনে আসতে লাগল।
একদিন ঘটনাটা সীমা ছাড়িয়ে গেল।
জান্নাত বাসায় ফিরে চুপচাপ ছিল। তার মুখ দেখে মা বুঝে গেলেন কিছু একটা হয়েছে।
—“কী হয়েছে জান্নাত?”
জান্নাত প্রথমে কিছু বলতে চাইল না।
লামিয়াও সেদিন তাদের বাসায় এসেছিল। শেষ পর্যন্ত দুজন মিলে সব বলল।
বিষয়টা পরিবারের কানে যেতেই বাড়িতে রীতিমতো বিচার বসে গেল।
কে সেই ছেলে? কোথায় থাকে? কেন মেয়েদের পেছনে ঘোরে?
সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা শুরু হলো।
আর ঠিক তখনই জান্নাতের জীবনে আরেকজন মানুষের উপস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
সে হলো সাইদ।
সাইদ ছিল জান্নাতের খালাতো ভাই।
ছোটবেলা থেকেই জান্নাতকে সে অন্যরকমভাবে দেখত।
জান্নাত যখন ছোট ছিল, সাইদ দূর থেকে তাকিয়ে থাকত। জান্নাতের হাসি, কথা বলা, রাগ করা—সবকিছুই তার অদ্ভুত ভালো লাগত।
কিন্তু কখনো কাউকে কিছু বলেনি।
কারণ জান্নাত ছিল তার আপন মানুষ।
আর কিছু সম্পর্ককে মুখে বলা যায় না।
শুধু নীরবে বয়ে নিয়ে যেতে হয়।
সাইদ তখনও জানত না, তার এই ছোটবেলার অনুভূতি একদিন এত গভীর হয়ে যাবে যে, জান্নাতকে হারানোর ভয় তার নিজের অস্তিত্বকেই কাঁপিয়ে দেবে।
আর জান্নাত?
সে তো তখনও বুঝতেই পারেনি—
কেউ একজন তাকে ছোটবেলা থেকে ভালোবেসে যাচ্ছে।
খুব নিঃশব্দে।
খুব যত্ন করে।
আর সেই ভালোবাসার নাম—
সাইদ।