উপন্যাস: হৃদয়ে শুধু তুই
লেখিকা: আয়শা মনি
পর্ব: ৩
পুরো শেখ বাড়িতে আজ উৎসবের আমেজ। বাড়ির বড় ছেলে ইমতিয়াজ অদ্বয় শেখ দীর্ঘ ১০ বছর পর ফ্রান্স থেকে দেশে ফিরছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে পড়াশোনার জন্য সে বিদেশে গিয়েছিল, এই দীর্ঘ সময়ে একবারের জন্যও সে দেশে আসেনি। পড়াশোনার পাশাপাশি সেখানে সে সফলভাবে একটি ব্যবসাও শুরু করেছে। বাড়ির সবাই খুশিতে আত্মহারা, এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছে। সাধারণত বাড়ির যেকোনো অনুষ্ঠানে আয়রাই সবচেয়ে বেশি খুশি থাকে, কিন্তু আজ তার পুরো উল্টো। অদ্বয়ের আসার খবরে আয়রার মনটা আজ ভীষণ খারাপ।
আয়রা একা একা বিড়বিড় করে বলছে, "কী হতো লোকটা যদি না আসত? ও না এলেই তো সব ঠিক ছিল!" দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে আবার মনে মনে ভাবল, "এখন থেকে আবার সেই করলার মতো তিতা তিতা কথা শুনতে হবে।"
বাড়ির বড়রা অদ্বয়ের জন্য পছন্দের সব খাবার রান্না করতে ব্যস্ত। ইয়াসমিন বেগম সোফায় ছোট রাদিফকে নিয়ে বসে ছিলেন। আয়রা গিয়ে বলল, "চাচিমণি, দাও আমার কাছে রাদিফকে দাও।"
ইয়াসমিন বেগম বললেন, "না মামণি, ও এখন ঘুমাচ্ছে। জেগে গেলে অনেক কান্না করবে।"
আয়রা শুনল না, একপ্রকার জোর করেই রাদিফকে নিজের কোলে তুলে নিল। ইয়াসমিন বেগম তখন সুমাইয়া বেগম আর ফাতেমা বেগমকে কাজে সাহায্য করতে রান্নাঘরের দিকে গেলেন। কিন্তু তাঁরা ইয়াসমিন বেগমকে কোনো কাজ করতে দিচ্ছেন না। তবুও সে জোরাজুরি করে ছোটখাটো কিছু কাজ হাতে নিল।
এদিকে মুশতাক আহমেদ, মোজাফফর সাহেব আর অরণ্য গিয়েছেন এয়ারপোর্টে অদ্বয়কে আনতে। অদ্বয়ের ফ্লাইট ল্যান্ড করার পর অরণ্য তাকে দেখেই দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরল।
"ভাইয়া! কেমন আছো?"
অদ্বয় আলতো হেসে বলল, "আমি ভালো আছি। তুই কেমন আছিস?"
অরণ্য বলল, "ভালো আছি ভাইয়া।"
অদ্বয় এবার একটু গম্ভীর হওয়ার ভান ধরে বলল, "সবই তো বুঝলাম, কিন্তু তুই কি আমাকে এভাবেই কোলে তুলে নিয়ে যাবি নাকি?"
অদ্বয়ের কথা শুনে অরণ্য কিছুটা ততমতো খেয়ে গেল। অনেকদিন পর প্রিয় বড় ভাইকে দেখে আবেগের বশে সে অদ্বয়কে জড়িয়ে ধরেছিল। এরপর অদ্বয় তার বাবা আর চাচার কাছে গিয়ে কুশল বিনিময় করল এবং সবাই মিলে বাড়ির দিকে রওনা দিল।
ওদিকে আয়রা রাদিফকে নিয়ে সোফায় বসে ছিল। বাইরে গাড়ির হর্ন শুনতেই সে বুঝতে পারল অদ্বয় চলে এসেছে। সে কালক্ষেপণ না করে রাদিফকে আরিয়ানের কোলে দিয়ে এক দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেল।
অদ্বয় বাড়িতে ঢুকতেই মা আর চাচিরা তাকে ঘিরে ধরলেন। তিন জনই তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। অদ্বয় একটু বিরক্ত নিয়ে সবার উদ্দেশ্যে বলল, "তোমরা কান্না বন্ধ করবে, নাহলে আমি এখনি আমার পার্ছনাল ফ্লাইট !"
তার কথা শুনে সাথে সাথে তিন জনই কান্না থামিয়ে তাকে ছেড়ে দিলেন। তাঁরা জানেন অদ্বয় যা বলে তাই করে, হোক সেটা মজা করে কিংবা সিরিয়াসলি।
আয়রা নিজের রুমেই ছিল, কিন্তু সুমাইয়া বেগম তাকে জোর করে অদ্বয়ের সামনে নিয়ে আসলেন। সৌজন্যতার খাতিরে আয়রা মাথা নিচু করে জিজ্ঞাসা করল, "কেমন আছো ভাইয়া?"
অদ্বয় উত্তর না দিয়ে সুমাইয়া বেগমের দিকে তাকিয়ে বলল, "চাচিমা, যে আসতে চায় না তাকে কেন জোর করে নিয়ে আসলেন?"
কথাটা শুনেই আয়রার পিত্তি জ্বলে উঠল। সে চড়া গলায় বলে ফেলল, "আপনার মতো একটা করলার তেতো কথা শুনতে কার-ই বা আসতে ইচ্ছা করবে?"
অদ্বয় রাগী চোখে আয়রার দিকে তাকাল। সেই চাহনি দেখে আয়রার কলিজা শুকিয়ে গেল। ছোটবেলায় একবার অদ্বয়ের সাথে মুখে মুখে তর্ক করার কারণে সে আয়রাকে পাঁচটা থাপ্পড় দিয়ে সারা দিন এক রুমে আটকে রেখেছিল। পরে মুশতাক আহমেদের হস্তক্ষেপে সে ছাড়া পায়। অদ্বয়ের সেই রাগী চেহারা দেখে আয়রা আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে এক দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেল। ঠিক তখুনি রাইসার ফোন আসল। আয়রা রাইসার কাছে নিজের সব দুঃখের কথা বলতে শুরু করল। রাইসা আয়রার করুণ দশা শুনে হেসেই কূল পাচ্ছিল না।
আয়রা:কেমন বান্ধবীরে তুই, যে আমার কষ্টের কথা শুনে হাসছিস।
রাইসা:সরি জান,আসলে জানিসিত আমি হাসির কথা শুনলে আর থাকতে পারিনা
আয়রা:তোর কাছে এটা হাসির কথা মনে হচ্ছে?
রাইসা:তা নয়তো কি,,
আয়রা এক প্রকার রাগ করে কল কেটে দিল।তার এখন কিছুই ভালো লাগছেনা, নিচে যে জাবে তাও পারছেনা কারন নিচে এখন মানুষ রুপি একটা হনুমানকে আপ্পায়ন করা হচ্ছে,,