ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদয়ে শুধু তুই

১৫তম পর্ব

লেখক: আয়শা মনি

উপন্যাস: হৃদয়ে শুধু তুই

লেখিকা: আয়শা মনি

পর্ব:১৫

আজ আয়শার গায়ে হলুদ। তাই সবাই ঠিক করেছে মেয়েরা কাচা হলুদ কালার শারি পরবে আর ছেলেরা পাঞ্জাবি। এটা অবশ্য অদ্বয় ঠিক করেছে। 

আয়রার মনটা অনেক খারাপ। কারণ সে নাদিমকে বলেছিল তাকে কাচের চুরি এনে দিতে কিন্তু দেয়নি।তার জন্য আয়রা মন খারাপ করে পুকুরের পাশে গিয়ে মন খারাপ করে বসে থাকে।অদ্বয় একটা ফোন রিসিভ করার জন্য সেদিক দিয়ে যাচ্ছিল। পুকুরের পাশে আয়রাকে দেখে অদ্বয় ভ্রু কুঁচকে সদিকে যায়।

— কি হয়েছে এখানে একা বসে আছিস কেন?

— কিছু হয়নি।

— তাহলে বসে আছিস কেন।

— এমনি।

অদ্বয় এবার দাঁতে দাঁত পিশে বলল..

— এক থাপ্পড়ে সব দাঁত ফেলে দিব বেয়াদব মেয়ে বল কি হয়েছে। 

— আমি নাদিম ভাইয়া কে বলেছিলাম আমাকে যেন কাচের চুরি এনে দেয়। কিন্তু আমাকে এখন এনে দেয়নি একটু পরু অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যাবে।

— তো আমাকে বললে কিহতো।

— আপনি কতো ব্যস্তো আপনি এনে দিতেন নাকি।

— মানুষ যতোই ব্যাস্তো হোকনা কেন কিছু মানুষের জন্য সব ঠেলে সময় বের করেনেয়।এখন ভিতরে যা আর মন খারাপ করতে হবেনা।আমি ১০ মিনিটের ভিতর তোকে তোর চুরি এনে দিব। 

আয়রা কিছুক্ষণ অদ্বয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে সেখান থেকে চলে গেল।আয়রার কথায় এই মানুষটাকে বুঝা বড্ড দায়।এই মানুষটা এই ভালো তো খারাপ।মাঝে মধ্যে আয়রার কাছে অদ্বয়কে 

রহস্য মানব লাগে।

অদ্বয় নাদিম আর আরিয়ানকে নিয়ে মার্কেটে গেছে আয়রার জন্য চুরি কিনতে।কিন্তু সেখানে একটা বিপত্তি ঘটলো।অদ্বয় আয়রার কাছে চুরির রং জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছে। অদ্বয়ের মনে পরলো আয়রা নাদিমকে চুরি এনে দিতে বলে ছিল। 

— তোকে না আয়রা চুরি আনতে বলে ছিল। 

—হ্যা কিন্তু আমার রং মনে নেই।

অদ্বয় বিরক্তি চোখে নাদিম আর আরিয়ানের দিকে তাকালো।

অদ্বয় এবার একটা মুচকি হাসি দিয়ে দোকানদারকে বলল,,, 

—চাচা সব চুরি প্যাক করুন। 

অদ্বয়ের কথা শুনে নাদিম আর আরিয়ান বিস্ময় চোখে তাকালো। আরিয়ান বলে উঠলো,, 

— সব চুরি দিয়ে কি করবে ভাইয়া। 

— চুড়ির দোকান দিব।

আরিয়ানের তখন সুনাইরার কথা মনে পরলো।কি ভেবে যেন আরওয়ান একটা লাল চুরি সুনাইরার জন্য নিল।

— কিরে তুই চুরি নিলি কেন।

— এমনি ভালো লাগলো তাই। 

— তুইওকি মেয়েদের মতো চুরি পরবি নাকি।

— তুই চুপথাক।

আয়রা নিজের রুমে রেডি হচ্ছিল।আয়রা এই প্রথম শারি পরেছে।সবসময়ের মতোই আজও চোখের নিচে গাড়ো করে কাজল দেওয়া। হাদু অব্দি চুল গুলো খোলা। ঠোঁটের নিচে কালো তিলটাকে সাদা চামড়ার সাথে বাশ মানিয়েছে। আয়রাকে দেকে মনে হচ্ছে ভুল মানুষের জায়গায় করে পরি চলে এসেছে। পিছন থেকে অদ্বয়ের কন্ঠ ভেসে এলো। 

— তোকে আজ অন্য দিনের থেকে আরও বেশি সুন্দর লাগছে।

— আপনি কখন এলেন। 

— এসেছি অনেক্ক্ষণ আগে। এতক্ষণ তোকে দেখছিলাম। এই নে তোর চুরি। 

আয়রা অদ্বয়ের হাতের দিকে তাকিয়ে চোখ বড় বড় করে ফেলল,,

বিস্ময়ে আয়রার মুখ থেকে কথা বের হচ্ছে না।

আয়রাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে অদ্বয় বলল,,

— কি হয়েছে এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন? 

— এতো গুলো চুরি..!

— হ্যা তোর কাছ থেকে চুরির রং জানতে ভুলে গিয়েছিলা তাই সাব কালালের সব ধরনের চুরি নিয়ে এসেছি। 

আয়রা কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না। কি বলবে সে। কথায় পাবে এমন মানুষ। যে একটা চুরি চাইলে পুরো দোকান কিনে নিয়ে আসবে।

— কি হলো।চুরি গুলো নে আমার হাত ব্যাথা হয়ে গেছে। 

— হ্যা দিন।

আয়রা ব্যাগ গুলো নিতে নিতে বলল,,

— ভালোই হলো। এখন সবাইকে চুরি গিফট করতে পারবো।

অদ্বয় রাগি গলায় বলল,,

— এক থাপ্পড় দিব।এখান থেকে একটা চুরি যদি অন্য কাওকে দিস তাহলে সেই দিনই তোর শেষ দিন হবে।

অদ্বয়ের কথায় আয়রার মনে মনে বলল,,

থরিনা আমি এগুলো অন্য কাওকে দিব।এগুলো শুধু আমার আমিতো শুধু দেখছিলাম কি বলে।আমার বেডার জিনিস শুধু আমার।শুধু জিনিস না বেডা ডাও আমার।

— আবার কোন ভাবনায় ডুবলি।

— না কিছুনা আমি চুরি গুলো দিবনা কাওকে আচ্ছা অদ্বয় ভাই বপনাকে একটা প্রশ্ন করে?

— হ্যা কর কি করবি।

আয়রা একটু আমতা আমতা করে বলল,,

— আপনার কি কোনো গাল ফ্রেন্ড আছে? 

অদ্বয় ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো,,

— কেন?

— না এমনি। বলুন না

অদ্বয় মুচকি হাসি দিয়ে একটু ভাবার ভান ধরে বলল,,

— হ্যা আছে তো।

আয়রা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলল,,

— কথায় 

— জানিনা। 

বলে অদ্বয় আয়রার মাথায় গাট্টা মেরে চলে গেল। 

অষ্টাদশির মনে ঝর বইছে।তার নিঃস্বাসের গতি বেরে গেছে। অদ্বয় ভাইয়ের gf আছে।

ছেলের বাড়ির থেকে হলুদ দিতে এসেছে। সাথে সুনাইরাও এসেছে।আরিয়ান  চুরি  নিয়ে সুনাইরার কাছে গেল।

— এই মেয়ে এদিকে আসো

— কেন এখানেই বলুন।

আরিয়ান বিরক্তি নিয়ে বলল,

—এদি আসো।

সুনাইরা আর কিছু না বলে আরিয়ানের পেছন পেছন গেল,,

— কি হয়েছে বলুন।

আরিয়ান পাঞ্জাবির পকেট থেকে সুনাইরার জন্য লাল কাচের চুরি গুলো বের করলো।

— ধরো 

— কেন আর এটা কি

—দেখছনা চুরি।

— আমাকে কেন।

— বোনের জন্য নিয়েছিলান কিন্তু অদ্বয় ভাই আগেই ওর জন্য পুরো দোকান নিয়ে চলে এসেছে তাই তোমাকে দিলাম।

— লাগবেনা।আমার অনেক আছে  

— নিতে বলেছি নেও।

সুনাইরা কিছুক্ষণ ভেবে চুরি গুলো নিলো।

— চুরি গুলো সুন্দর তাই নিলাম।

মুজাফফর সাহেব নাদিমকে একটু পর পর ডেকছে। এতে নাদিম খুব বিরক্ত। বিয়ে বাড়িতে একটু মজা করবে তা না। তাকে কাজ দিচ্ছে। নাদিক সবে একটু বসে পানি খাচ্ছিলো তখনি মুশতাক আহমেদের ডাক। নাদিম রাগ করে পানি না খেয়েই কাকাইয়ের কাছে গেল।

— ডাকছিলে কাকাই।

—হ্যা কিছু ফুল লাগবে বাজার থেকে নিয়ে আসো।

— কাকাই একটু পরে যাই।

— না বিয়ে বাড়িতে অনেক কাজ।এখনি যাও বসেইতো আছো।

কথাটা শুনে নাদিমের রাগ সপ্তম আকাশে পৌঁছে গেল।সে এখানে খেটে খেটে মরছে আর ইনি বলছে সে বসে আছে।রাগে গজগজ করতে করতে নাদিম বাজারের দিকে গেল।

আয়রা,রাইছা, সুমাইয়া বেগম, ফাতেমা বেগম, আয়শা,সুনাইরা,আর,ইয়াসমিন বেগম একসাথে বসে আছে।সবে আয়শাকে সাজানো শেষ হলো।সবাই হাসাহাসি করছে।তাদের মধ্যে শুধু আয়রা মন খারাপ করে বসে আছে।তার ঠোঁটে সব সময় যেই লেপ্টে থাকে আজ সেটা নেই।কি হবে সেই হাসি রেখবে।যদি মনের সেই শান্তিটাই না থাকে। আয়রা পরছেনা ঠোঁট উল্টে কান্না করতে। এই ১৯ বছর বয়সে সে কখনই এভাবে মন খারাপ ছিল না।আয়রার মনে বিষন্নতায় ছেয়ে আছে।আয়রাকে এভাবে মন খারাপ করে থাকতে দেখে ফাতিমা বেগম বললনে,,

— আয়রা কি হয়েছে তোর মন খারাপ কেন? 

— কিছু না মামনি।

— মামনিকে বলবিনা।

— না এমনি কিছু হয়নি।

— তুইতো কখন এভাবে থাকিসনি তাহলে।অদ্বয় কিছু বলেছে।

— না উনি কি বলবে।

— তাহলে কেউ বকেছে।

— না এমনি।

— শুনলাম অদ্বয় নাকি তোকে পুরো দোকান কিনে দিয়েছে। 

— হ্যা চুরি। 

— তাহলে মন খারাপ কেন। 

— এমনি।আচ্ছা মামনি একটা প্রশ্ন করি।

— হুম কর এতে আবার জিজ্ঞেস করার কি আছে।

— অদ্বয় ভাইয়ের কি কোনো মেয়ে বন্ধু আছে।

— কার অদ্বয়ের।যেই ছেলে ছোটো থেকে মেয়ে দেখলেই অন্য রাস্তা দিয়ে যেত।মেয়ে দের সাথে কথাতো দূরে থাক কোনো মেয়ের দিকে তাকাতও না। তার আবার মেয়ে বন্ধু। অদ্বয় শুধু একটা মেয়ের সাথেই কথা বলে।হাসে।রাগ দেখায়।সেটা হলি তুই। অদ্বয় যদি বলে থাকে তাহলে তোকে জ্বালানোর জন্য বলেছে।

আয়রা কি বলবে বুঝতে পারছেনা।সে বুঝলো অদ্বয় এমমনি বলেছে।শুধু শুধু সে এতো কান্না করলো।ওই বজ্জাত বেডার জন্য সে এই পর্যন্ত ৪ বার কাজল দিয়েছে। তার কত কাজল নষ্ট হলো।

মুনসুর সাহেব রাদিফকে নিয়ে দাড়িয়ে ছিলেন।তার অনেক কাজ।কিন্তু ছেলে বায়না ধরেছে সে বাবার কাছ থেকে যাবে না।রাদিফ ছোটো বলে ওকে বোঝানো যাচ্ছে না।মুনসুর সাহেবও কিছু বলতে পারলেন না।রাদিফ তার সবচেয়ে আদরের সন্তান। আয়রার পরে রাদিফ কেই বোধহয় তিনি এতোটা আদর করলেন।মুনসুর সাহেবরা তিন আপন ভাই হলেও তাদের মধ্যে তফাত অনে।তিন ভায়ের থেকে মুশতাক আহমেদ একটু বেশি গম্ভীর। তিনি ওতোটা কথা বলতে পছন্দ করেন না।তার পর মনসুর সাহেব। তিনি অতটাও গম্ভীর না যতটা তিনি দেখান।শেষে মুজাফফর সাহেব তিনি অনেক প্রাণবন্ধন। সবার সাথে হেসে কথা বলেন।ছোটো থেকেই তিনি ছোটফোটে।এই সুবাদেই অবশ্য আয়রা এমন চনচল হয়েছে। মুনসুর সাহেব দেখলেন অদ্বয়,আরিয়ান,নাদিম,ইশতিয়াক,অরণ্য কথাও যাচ্ছে। মনসুর সাহেব তাদের ডাকলেন।

—কাকাই কিছু বলবে?

— হ্যা তোমরা ৫ ভাই মিলে কথায় যাচ্ছো? 

— কাকাই একটা কাজ পরে গেছে তাই।

আরিয়ানের কথায় মনসুর সাহেব ভ্রু কুঁচকে বললেন,, 

— কি কাজ অদ্বয়।তোমাদের বোনের বিয়ে।তোমরা একটু এখানে হাতে হাতে কাজ করবে একটু মজা করবে। আর অফিসের তো কোনো কাজ থাকার কথানা। আমি সব কাশেম সাহেবকে বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি।আর তোমার অফিস তো কিছু দিনের জন্য বন্ধ দিয়েছো।তাহলে কিসের কাজ।আর কাজ পরলে সবাইকে একসাথে যেতে হবে নাকি।

মনসুর সাহেব এক নাগাদারে কথা গুলো বলে এবার শাস নিলেন।সবাই তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। এতোটুকুর জন্য তিনি এতো গুলো কথা শুনিয়ে দিবেন তা কেউ সপ্নতেও আনেনি।

— কাকাই অফিসের কাজ না।এখানে একটু ঝামেলা হয়েছে। আমরা ওিটা ঠিক করতে যাচ্ছি।

— ঝামেলা মানে।তোমরা আবার কোন ঝামেলায় জোরালে।

— কাকাই আমরা বড় হয়েছি দয়া করে আমাদের বিষয়টা আপনি বুঝবেনা বলার হলে আমরা শুরু তেই বলতাম।

মনসুর সাহেব বুঝলেন এখানে ওরা কোনো অঘটন ঘটিয়েছে। 

— আচ্ছা যাও। আর যাওয়ার আগে তোমার কাকিমাকে বলে দেও যাতে রাদিফকে নিয়ে যায় ও ঘুমিয়ে পরেছে। 

— আচ্ছা কাকাই আর বাবা কে কিছু বলবেনা। 

বলে অদ্বয় আর ৪ বাঁদর চলে গেল।

বাড়ি থেকে কিছুটা দুরে একটা পুরানো ভাঙা চুরা বাড়িতে তুহিন একটা ছেলেকে বেধে রেখেছে। অদ্বয়রা যেতেই তুহিন বলল,,

— ভাই নে তোর আসামি। আজ আমার গায়ে হলুদ  এখন বিয়ে টাও করিনি এই সময় তুই আমাকে একা এখানে পাঠালি।

তুহিনের কথা অদ্বয় মুচকি হাসি দিয়ে বলল,,

— থাক আর আফসোস করতে হবেনা। তুই যা এবার ওকে আমরা দেখে নিব।

তুহিন কিছু না বলে ওর বাইক নিয়ে চলে গেল।

— ভাই ও কি করেছে বলতো।

অদ্বয় ছেলেটার দিকে তাকিয়ে রাগে গটগট করতে করতে বলল,,

— ও আমার কলিজায় হাত দিয়েছে। ওকে এর আগেও সাবধান করেছি ও শুনেনি আর ওকে বুঝাবো আমার কলিজায় হাত দেওয়ার পরিনতি।

কথাটা শুনে ছেলেটা গজরে উঠলো,,

— আমাকে ছেড়ে দে না হয় ভালো হবেনা

ওর কথা কেউ কালে নিলনা।আরিয়ান ওর সাথে করে নিয়ে আসা জিনিস গুলো বের করে অদ্বয়ের সামনে রাখলো।জিনিস গুলো দেখে ছেলেটার কলিজা কেঁপে উঠলো।অদ্বয় ছেলের থুতনি চেপে ধরে বলল,,

— এগুলো দেখে কিছু বুঝতে পারছিস তোর সাথে কি করা হবে নিরব।

নিরব নামটা শুনে নাদিম বলে উঠলো,, 

— এটা সেই নিরব না ভাইয়া যে আয়রাকে পরীক্ষার হলে জালিয়েছিলো।

— হ্যা...! 

কথাটা শুনে অরণ্য তরিত ব্যগে বলে উঠলো,, 

— ও আবার কি করেছে ভাইয়া।

অরণ্যের কথা শুনে অদ্বয় দাতে দাত পিষে বলতে লাগলো,,

— ওকে সেই দিন বুঝিয়ে বলার পরে ও আবার আয়রার গায়ে হাত দিয়েছে। শুধু আয়রানা সাথে রাইছা আর সুনাইরাকেও।সেদিন যখন আয়রা নাদিমকে চুরি আনার কথা বলে আসছিলো তখন নিরব ওদের রাস্তা আটকায়।ওরা পাষ কাটিয়ে আসতে গেলে ওদের ওরনা ধরে টান দেয়। সে জন্যই আয়রা কাল মন খারাপ করে বসে ছিল। আমি তখনি সন্দেহ করেছি। শুধু একটা চুরির জন্য আয়রা এভাবে মন খারাপ করবেনা,,

বলতে বলতে অদ্বয় নিরবের নাকে ২-৩ টা ঘুসি বসিয়ে দিয়েছে। 

অদ্বয়ের কথা শুনে সবার চোখ লাল হয়ে গিয়েছে রাগে।আয়রা ওদের এক মাত্র বোন। ওর সাথে এমন করেছে এই ছেলে।আর ইশতিয়াক তো রাইছার কথা শুনে রীতিমতো রাগে ফুঁসছে। আরিয়ানও কেন জানি সুনাইরার কথা শুনে রাগে নিরবকে লাথি দিচ্ছে। অদ্বয় নাদিম আর অরণ্যকে বলল নিটবের সব জামা কাপড় খুলতে।অদ্বয়ের কথা মতো ওরা তাই করলো।অদ্বয় ওর সামনে থেকে একটা কওটা তুলে নিলো।কোওটাটা খুলতেই অসংখ্য লাল পিঁপড়া বেরিয়ে এলো।অদ্বয় আগে থেকেই হাতে গ্লাফস পরেছিল।অরণ্য আর নাদিম নিরবকে সোজা করে ব্যাধে ফললো।বাঁধা হতেই অদ্বয় ছেলেটার শরীরে লাল পিঁপড়া ছেরে দিল।পিঁপড়া ছাড়তেই নিরবের আর্তনাদ শুরু হলো।পুরো শরীরে বিচরণ করছে পিঁপড়া। ব্যাথায় নিরব চিৎকার করছে।ওর এই অবস্থা দেখে ইশতিয়াক হাসতে হাসতে বলল,,সবেতো শুরু আরও বাকি আছে। তুই আমার বোন আর আমার প্রিও মানুষের নিকে নজর দিয়েছিস। একটু তো সয্য করতেই হবে।অদ্বয় এবার নিরবের গায়ে পানি ডালতে লাগলো যতক্ষণ না পিঁপড়া গুলো সব সরে জায়।নিরবের পুরো শরীর লাল হয়ে গেছে। যায় গায় যায় গায় ফুলে গেছে কামরে।ব্যাথায় মুখ থেকে কথা বের হচ্ছে না। তাও আস্তে আস্তে বলল,,আমাকে ছেড়ে দিন আমি আর এমন করবোনা।অদ্বয় একটা মুচকি হাসি দিয়ে একটা ব্ল্যাট নিলো।ব্ল্যাট দিয়ে নিরবের শরীরের যায় গায় যায় গায় ফারতে লাগলো।ফারা শেষ হলে আরিয়ান আর নাদিম মিলে লবন মরিচের গুঁড়ো ছড়িয়ে দিলো নিরবের শরীরে। মুরগী কাটলে যেকের করে নিরব বর্তমানে সেই রকম করছে।ওর এই অবস্থা দেখে অরণ্য বলল,,

ভাইয়া ওকে এবার হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই। নাহলে মরে যাবে।

অদ্বয় নিরবকে একটা লাথি মেরে বলল,,

যা নিয়ে যা ও যাতে না মরে।আমার আরও হিসাব নেওয়ার বাকি আছে। বলে অদ্বয় সেখান থেকে বেরিয়ে গেল।

বাসায় যেতেই মুশতাক আহমেদ বললেন,, 

ওরা সাবাই কথায়।

— বাবা ওরা আসছে পিছনে। 

বলে অদ্বয় মুশতাক আহমেদকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল। 

অদ্বয় দেখলো আয়রা রাদিফকে নিয়ে দাড়িয়ে আছে। অদ্বয় একটা মুচকি হাসি দিয়ে আয়রার কাছে গেল।আয়রা অদ্বয়কে দেখে মুখ ফিরিয়ে নিল।সে অদ্বয়ের সাথে কথা বলবেনা।কিছুতেই না। তর মনে অনেক অভিমান জমেছে। 

চলবে....

(আসসালামু আলাইকুম সানজিদা একজন জিজ্ঞেস করেছো নায়কাকে।নায়কা আয়রা শেখ আর নায়ক অদ্বয়)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন