ফন্ট সাইজ:
থিম:
অন্ধকার শেষে আলোর দেখা

৮ম পর্ব

লেখক: Rahiya sheikh Raisa
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো ক্যাম্পাসজুড়েই যেন অন্যরকম ব্যস্ততা। কোথাও মঞ্চ সাজানোর কাজ চলছে, কোথাও পোস্টার লাগানো হচ্ছে, আবার কোথাও শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিবেশনার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আর এই ব্যস্ততার সবচেয়ে বড় শিকার চার বান্ধবী।
— রাইসা, তুই আবার কোথায় যাচ্ছিস?
মেহার চিৎকার শুনে রাইসা থেমে গেল।
— কোথাও না তো!
— হাতে ওই পোশাকটা কেন?
রাইসা নির্দোষ মুখ করে বলল,
— Rehearsal করতে যাচ্ছি।
মেহা বিরক্ত হয়ে বলল,
— তোর পড়াশোনার rehearsal কবে হবে?
পাশ থেকে প্রিয়া হেসে বলল,
— মেহা, ওকে আজকে ছেড়ে দে। অনুষ্ঠানটা শেষ হোক, তারপর ওকে ধরে পড়াবি।
স্মৃতি সঙ্গে সঙ্গে যোগ করল,
— হ্যাঁ। তবে একটা কথা—রাইসা মঞ্চে উঠলে কিন্তু একদম অন্য মানুষ হয়ে যায়।
রাইসা মুচকি হাসল।
— দেখেছিস? অন্তত স্মৃতি আমাকে বোঝে।
মেহা চোখ ঘুরিয়ে বলল,
— তোকে বোঝার চেষ্টা করতে করতে আমার মাথার বারোটা বাজে।
চারজনের হাসিতে করিডোরটা মুখর হয়ে উঠল।
রাইসা শুধু নাচ নয়, অনুষ্ঠানে একটি আবৃত্তি আর গানেও অংশ নিচ্ছে। তাই তার ব্যস্ততাও অন্যদের চেয়ে বেশি।
মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে সে একবার চারপাশটা দেখে নিল।
মাইক্রোফোন ঠিক আছে কি না, সাউন্ড ঠিকমতো হচ্ছে কি না—সবকিছু নিয়ে আয়োজকদের ব্যস্ততা।
মেহা দূর থেকে তাকিয়ে বলল,
— তুই কিন্তু নার্ভাস হবি না।
রাইসা হেসে বলল,
— আমি? কখনো না।
— গতবার মঞ্চে ওঠার আগে কে বলেছিল, ‘আমার পেটের মধ্যে প্রজাপতি উড়ছে’?
স্মৃতি হেসে উঠল।
— ওটা nervousness না, ওটা dramatic dialogue।
রাইসা ভেংচি কাটল।
— তোরা তিনজন আমার শত্রু।
প্রিয়া তার কাঁধে হাত রেখে বলল,
— যা, rehearsal কর। আমরা আছি।
রাইসা মঞ্চের দিকে এগিয়ে গেল।
অন্যদিকে—
Himi Group of Industries-এর দশতলার কেবিনে মাহভীর একটি ফাইল দেখছিল।
সামনে বসে ছিল সাকিন।
— অনুষ্ঠানটার invitation আবার এসেছে।
মাহভীর চোখ না তুলেই বলল,
— জানি।
— তাহলে যাচ্ছিস?
কয়েক মুহূর্ত নীরবতা।
— যেতে হবে।
সাকিন হালকা হাসল।
— ‘যেতে হবে’ নাকি ‘যেতে চাইছিস’?
মাহভীর এবার চোখ তুলে তাকাল।
— বেশি কথা বলিস না।
— ঠিক আছে, সাহেব।
মাহভীর আবার ফাইলের দিকে মন দিল।
কিন্তু সাকিন বেরিয়ে যাওয়ার আগে বলল,
— অনুষ্ঠানটা কিন্তু বেশ বড়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক মানুষ থাকবে।
— হুম।
— তুই গেলে সবাই তোকে চিনবে।
— সেটা আমার সমস্যা না।
সাকিন হেসে মাথা নাড়ল।
— তোর attitude-এর কোনো পরিবর্তন হবে না, তাই না?
মাহভীর কোনো উত্তর দিল না।
সাকিন চলে গেল।
কেবিন আবার নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
মাহভীর জানালার বাইরে তাকাল।
ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা নিচে ছোট হয়ে দেখা যাচ্ছে।
তার সামনে ছিল আরও একটি ব্যস্ত দিন।
কিন্তু সে জানত না—
এই সাধারণ একটি অনুষ্ঠানের দিনই তার জীবনের শান্ত সময়টাকে আবার অস্থির করে তুলতে চলেছে।
অনুষ্ঠানের আগের রাতে মেহাদের বাসায়ও ব্যস্ততা।
রাইসা নিজের পোশাক গুছিয়ে রাখছে।
মেহা বিছানায় বসে তালিকা মিলাচ্ছে।
— পোশাক?
— আছে।
— জুতা?
— আছে।
— আবৃত্তির কাগজ?
রাইসা থেমে গেল।
— ওটা...
মেহা চোখ বড় করে তাকাল।
— কী?
রাইসা ধীরে ধীরে বলল,
— মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে রেখে এসেছি।
মেহা মাথায় হাত দিল।
— তুই একদিন আমাকে মেরে ফেলবি!
রাইসা হেসে বলল,
— কালকে নিয়ে আসব।
— এখনই নিয়ে আয়!
— এত রাতে?
— তাহলে কালকে সকালে তোর কান্না শুনব?
রাইসা মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— আচ্ছা বাবা, যাব।
মেহা হেসে ফেলল।
তারপর দুজন কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল।
মেহা হঠাৎ বলল,
— কাল কিন্তু তুই ভালো করে perform করবি।
রাইসা মৃদু হাসল।
— করব।
জানালার বাইরে রাতের ঢাকা শহর তখন আলোয় ভরা।
অন্যদিকে চৌধুরী বাড়িতেও অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি কম ছিল না।
মাহভীরের ছোট বোন মাহা চৌধুরীও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বর্ষের ছাত্রী। রাইসা, মেহা, প্রিয়া আর স্মৃতির মতো সেও Science নিয়েই পড়ছে।
তবে পড়াশোনার পাশাপাশি মাহার সবচেয়ে বড় ভালোবাসা ছিল নাচ।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সেও একটি নৃত্য পরিবেশন করবে।
নিজের ঘরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শেষবারের মতো নাচের স্টেপগুলো মিলিয়ে নিচ্ছিল মাহা।
সাথী চৌধুরী দরজার পাশে দাঁড়িয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন,
— এতবার practice করছিস কেন?
মাহা ঘুরতে ঘুরতে বলল,
— কালকে অনুষ্ঠান, মা। ভুল করলে কিন্তু চলবে না।
— তুই তো ছোটবেলা থেকেই নাচ পছন্দ করিস।
মাহা হেসে বলল,
— কাল কিন্তু ভাইয়াকেও আসতে হবে।
সাথী বললেন,
— মাহভীর যাবে?
— যাবে। আমি নিজে বলে রেখেছি।
ঠিক তখনই দরজার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল মাহভীর।
মাহা তাকে দেখে ডাকল,
— ভাইয়া!
মাহভীর থামল।
— কী?
— কাল কিন্তু অনুষ্ঠানে আসবি।
— দেখি।
— না, ‘দেখি’ না। আসতেই হবে।
মাহভীর বোনের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
— ঠিক আছে। আসব।
মাহা খুশি হয়ে বলল,
— কথা দিলি কিন্তু!
মাহভীর শুধু মাথা নাড়িয়ে চলে গেল।
মাহা আবার আয়নার সামনে দাঁড়াল।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই অনুষ্ঠানে আগামীকাল থাকবে মাহভীর, মাহা, রাইসা, মেহা, প্রিয়া আর স্মৃতি।
কেউ জানত না, সেই অনুষ্ঠানটা শুধু গান, নাচ আর আনন্দের একটা দিন হয়ে থাকবে না।
সেই দিন থেকেই গল্পের কিছু মানুষ একে অপরের জীবনের সঙ্গে নতুনভাবে জড়িয়ে যেতে চলেছে।
চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন