ফন্ট সাইজ:
থিম:
সাঁঝের মায়া

৮ম পর্ব

লেখক: দুর এ দিলশাদ দুআ

#সাঁঝের_মায়া

#পর্ব_৮

#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ_দুআ

[🚫কপি করা নিষেধ]

সে এই মূহুর্তে কেকের টুকরোখান হাতে নিয়ে হা করে দেখছে ইশানকে। হুট করেই তাদের ড্রয়িংরুমে সাজিয়ে রাখা ফটোফ্রেম এর কথা মনে পরে গেলো।হ্যা ওখানেই দেখেছে।দ্বিগুন হা হয়ে গেলো মুখটা তার।অস্ফুটস্বরে বললো,"ইশান ভাই!"

ইশান নির্বিকার চোখে তাকিয়ে রইলো।মেয়েটার ওপর রাগ লাগছে তার।কি আশ্চর্য। এতক্ষণে তাকে চোখে পরলো!জলজ্যান্ত একটা মানুষ কে নাকি এ মেয়ে এতক্ষণ খেয়ালই করেনি।তাকে খেয়াল করেনি,ইশান আরশাদ কে খেয়াল করেনি।এটা মানা যায়।

রাগ সংবরণ করলো।গম্ভীর গলায় বললো,

"ভালো আছিস?"

তিতির মাথা নাড়ালো হালকা।এই মানুষ টাকে এতক্ষণ দেখেনি কেনো সে।কেকের টুকরো খানা কি করবে বুঝতে পারছে না।সবাইকে তো খায়িয়ে দিলো ইশান ভাই কি খাবে।তিতির এর দোনোমনা বুঝতে পারছে সবাই।নিশি খপ করে তিতির এর হাতখানা টেনে নিলো ভাইয়ের মুখের দিকে।উচ্ছসিত গলায় বললো,"হা করো দাভাই।বার্বি লজ্জা পাচ্ছে তোমাকে খাওয়াতে।"

ইশান ডানে বায়ে মাথা নাড়লো,"উঁহু, তোরা খা।আমি এসব খাইনা।"

নিশি মুখ বাকালো,একদিন এর ব্যাপারই তো।"

ইশান চোখ বড় করে তাকালো নিশির দিকে।নিশি ছেড়ে দিলো তিতির এর হাত।বুঝলো ভাই খাবে না যখন বলেছে আর জোর করে লাভ হবে না।তিতির আবদার মাখা চোখে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ ওভাবেই ধরো।ইশানের কোনো সাড়া পাওয়া গেলো না। হঠাৎ নয়ন হাত চেপে ধরলো তিতির এর। হাত টেনে নিজের মুখে পুরে নিলো কেকের স্লাইডটা।হাত বাড়িয়ে একটা টিস্যু নিয়ে সুন্দর করে মুছিয়ে দিলো তিতির এর হাত।

ইশান তীক্ষ্ণ চোখে দেখলো সবটা।হুট করেই মেজাজ টা কেমন যেনো আরও খারাপ হয়ে গেলো।দু হাত পকেটে গুঁজে এগিয়ে গেলো রাস্তার দিকে।ঘাড় ঘুরিয়ে গম্ভীর গলায় শুধু বললো,"সবাই পাঁচ মিনিটের মধ্যে গাড়িতে উঠে বসবি।অভদ্রদের মতো সারারাত রাস্তায় কাটানোর পরিকল্পনা করছিস নাকি?"

আর এক সেকেন্ড অপেক্ষা করলো না।দ্রুত পায়ে গটগট করে চলে গেলো গাড়ির দিকে।ভাইয়ের আদেশের নড়চড় হলে কি হতে পারে তা সবার জানা আছে।হৈ হৈ পরে গেলো সবার মাঝে।তাড়াহুড়ো করে সবটা গুছিয়ে নিলো সবাই।এক একে দৌড়ে গিয়ে উঠে বসলো গাড়িতে।

ইশান স্টিয়ারিং এ হাত রেখে অপেক্ষা করছে।নয়ন আর তিতির এখনো এসে পৌছায়নি।ওদের দিকে তাকালো। তিতির একা একা ধীর পায়ে এদিক সেদিক তাকাতে তাকাতে আসছে।ইশান বিরক্ত হলো।বললোই তখন জলদি আসতে।মেয়েটা কেমন হেলেদুলে আসছে।ইশান গাড়ি ছাড়ছে না দেখে পিছুন থেকে নিশি ডাকলো ভাইকে,বার্বি নয়ন ভাইয়ের বাইকে যাবে ভাইয়া।চলো যাই।"

নিজের অজান্তেই স্টিয়ারিং শক্ত করে চেপে ধরলো ইশান।

"বাইকে যাবে মানে কি!"

ইশানের তীক্ষ্ণ গলার স্বরে চমকে উঠলো সবাই।নূরি এবার আমতা আমতা করলো,"তিতির টা বাইক খুব ভালোবাসে কিনা।নয়ন ভাই তো তাই বাইক নিয়ে আসলো।বাড়ি থেকেই তো বলে এসেছে।শোনো নি ভাইয়া?"

ইশান কিচ্ছু বললো না এবার।সে বাইরেই তাকিয়ে ছিলো।নয়ন এসে বাইক থামালো তিতির এর পাশে।এক হাত নয়নের কাঁধে রেখে উঠে বসলো তিতির।নয়ন পিছন ঘুরে দেখে নিলো মেয়েটার

জামাকাপড় ঠিক আছে কি না।সামনে তাদের বাড়ির গাড়ি বাইকে এক টানে নিয়ে এসে থামলো গাড়ির পাশে।ভ্রু তুললো,"ভাইয়া এখনো অপেক্ষা করছো?"

"গাড়ির সাথে সাথে চল।এভাবে এতো রাতে আলাদা না যাওয়াই ভালো।"

ইশানের কথায় নয়ন ও সম্মতি জানালো।পাশাপাশি চলতে থাকলো গাড়ি আর বাইক...

***

ইশান কিছুক্ষণ পরপর আড়চোখে তাকাচ্ছে ডানে।তার কথামতো নয়ন বাইকটা গাড়ির সমানে সমানে রাখছে।তিতির নয়নের কাঁধে হাত রেখে বসেছে।কি কি যে গল্প করছে এতো।মুখ থেকে হাসি সরছেই না মেয়েটার।আরেক টা হাত নেড়ে নেড়ে অনর্গল কথা বলে যাচ্ছে।নয়ন নিজেও বকবক করছে।দু'জনে গল্প বেশ জমে স্পষ্ট বুঝতে পারছে ইশান।

হঠাৎ পিছিয়ে গেলো সামান্য বাইকটা।ইশান বিরক্ত হলো,ভ্রু কুচকে তাকালো লুকিং গ্লাস এ।এখন অবশ্য মেয়েটার মুখ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে।পাশাপাশিই বরং তাকাতে অসুবিধা হচ্ছিলো।আধখোলা বেণী,বেবি হেয়ার গুলো একগোছা ওড়াউড়ি করছে।চোখ মুখে ঢেকে দিচ্ছে। মেয়েটার সে দিকে খেয়াল নেই।সাদা দোপাট্টা টা পিছনে উড়ছে।একটু পর পর ঠান্ডা বাতাসের আবেশে চোখমুখ বন্ধ করে অনূভব করছে যেনো।আর রইলো বাকি মুখের হাসি।ওটা এক মূহুর্তের জন্য সরছে না।স্বর্গের অপ্সরা লাগছে যেনো। গাড়ির ভিতর সবকটা উচ্চস্বরে গল্প গুজোব করছে।হঠাৎ কাধে ধাক্কায় চমকে তাকালো বা দিকে।বা পাশে নিয়াজ বসেছে।

ইশান তাকাতেই দু ভ্রু ওপরে তুলে বললো,

"কখন থেকে ডাকছি সবাই।কোথায় আছিস!"

"রুষার কাছে।" পিছন থেকে অণিমার গলায় হাসির রোল পরে গেলো পুরো গাড়িতে।

ইশান খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে পরলো।টনক টাও নড়লো বোধহয়।অবচেতন মনটা ব্যাঙ্গ করলো তাকে তিতির কে নিয়ে এভাবে ভাবার জন্য। বাকিদের কথাশলয় কান দিলো না,আর না তো ওদের গল্পগুজবে সায় দিলো।মনোযোগ দিলো ড্রাইভিং এ।

*****

মধ্যরাত।ঘড়িতে সময় দেখাচ্ছে রাত্র পোনে একটা।অথচ দেওয়ান বাড়ির বাইরে বা ভিতরে কোনোটা দেখেই বোঝার উপায় নেই এখন রাত।ইদের দিনের মতো হৈ চৈ বাড়ির ভিতর।বাড়ির গিন্নি রা রান্নাঘর থেকে ডায়নিং এ ছোটাছুটি তে ব্যাস্ত।ছোট রা এ ঘর থেকে সে ঘর।হবে নাই বা কেনো।কতগুলো বছর পর বাড়ির সবকটা ছেলেমেয়ে কে একসাথে পাচ্ছে তারা।

কর্তারা সোফায় বসে টিভি ছেড়ে নিজেদের মধ্যে গল্প গুজবে ব্যাস্ত।উচ্চস্বরে হাসাহাসির আওয়াজ ও আসছে।তিতির টাকে পেলে তার মামা রা বোধহয় আকাশের চাদ হাতে পায়।আদরের একমাত্র বোনের ছায়া খুজে পায় এ মেয়েটার মধ্যে। তিতির টা দেখতে একদম তার মায়ের মতো।তিতির বাসায় এসে সবার আদরে আদরে দম ফেলার সময় অবধি পাচ্ছে না।এই মাত্র এসে দারালো তার নানুআপুর রুমের সামনে।নানু যে ঘুমায়নি সে সেটা জানে।

আলতো হাতে দরজায় টোকা দিলো।ভিতর থেকে গলা শোনা গেলো সাথে সাথেই," কে? আমার পুত্তুল টা না?আয় আপু আয়।"

তিতির প্রশান্তির হাসি হাসে।দরজা ঠেলে ভিতরে ঢোকে।চন্দ্রস দেওয়ান হাতে তসবি নিয়ে বিছানায় হেলান দিয়ে পা লম্বা করে বসা।তিতির একপ্রকার ছুটে গিয়ে ঝাপিয়ে পড়লো তার কোলে।

চন্দ্রা দেওয়ান এর চোখ থেকে টপটপ করে কয়েক ফোটস পানি এসে পরলো তিতির এর মাথা ওপর। দু হাতে মাথার চুলগুলো সরিয়ে সোজা করে জাপটে ধরলো নাতনি কে।দু হাতে আজলায় নিলো মুখখানা।ভাঙ্গা গলায় বললো,"আমার পুত্তুল,আমার পুত্তুল টাকে কতদিন দেখি না।আমার বুকের জ্বলাপোড়স কমবে আজ।"

তিতির নিজেও কেঁদে ফেলে।এই মানুষটা তার মাঝে নিজের মেয়েকে খোঁজে।তিতির বলতে মানুষ টা অন্ধ পুরো।নানুর বুকে মাথা রেখে বসে থাকে সে।কি যে প্রশান্তি...

চন্দ্রা দেওয়ান চুমু খায় মাথার সিথিতে।

"খুব কষ্ট হয়েছে আমার পুত্তুল এর আজকে?"

তিতির মাথা তুললো। মাথা নাড়লো।

"আমি জানি হয়েছে।আমি সেই সক্কাল থেকে প্রহর গুনছি।আমার পুত্তুল টা কখন আসবে।আমার কিছুতেই আর দিন কাটেনা।"

তিতির শব্দ করে হাসলো।আবার শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।

"যাও।হাত মুখ ধুয়ে নাও।তোমার মামনী রা অপেক্ষা করছে।তোমার জন্য কতকিছু যে রান্না করেছে সারাদিন। যাও নানু,যাও।"

তিতির উঠে দাড়ায়।নানুর কপালে চুমু খেয়ে বিদায় নিয়ে ফিরে আসে নিজের রুমে।

দরজা খুলতেই মনটা ভালো হয়ে যায়।একদম যেরকম রেখে যায় প্রতিবার সেরকমই পায়।তার মামনী রা একবিন্দু ধুলোও জমতে দেয় না।বারান্দায় এসে দারায়।টিয়াপাখি জোড়া খাঁচাশলয় লাফালাফি করছে।তিতির খাঁচার কাছে এসেে দারাতেই।পাখি দুটো ডানা ঝাপটাতে শুরু করলো।আধো আধো শেখানো বুলি আউরালো," ওলে আমাল পুত্তুল,আমার পুত্তুল এয়েচে..."

তিতির শব্দ করে হেসে উঠলো।এ নিশ্চয়ই তার বোনেরা শিখিয়েছে।নানুআপু এভাবে ডাকে তিতির কে।রেলিং এ দু হাত রেখে আকাশের দিকে মাথা তুলে চোখমুখ বন্ধ করে দাড়িয়ে রইলে।এই ঘর,এই মানুষ, এই বারান্দা তার মানসিক শান্তি।

***

ইশান ফোন হাতে বারান্দায় এসেছে।রুষাকে ফোন করতে।পাশের বারান্দা থেকে টিয়াপাখির আধো আধো বুলিতে তাকালো।মিষ্টি হাসির শব্দ পাওয়া গেলো।শিরদাঁড়া বেয়ে শীহরন নামানের মতো সুন্দর হাসি।অন্ধকার এ বারান্দার মালিক রেলিং ঘেষে দাড়িয়ে আছে।সাদা দোপাট্টা টা উড়ছে।অন্ধকার এ মুখখানা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না।তার নিজের রুমে আলোও নেভানো।তাই ও বারান্দা থেকে তাকে দেখতে পাবে না।

হঠাৎই দারুণ মিষ্টি গলায় গান শোনা গেলো

Saans mai teri saans mili to

Mujhe saans aayi,saans ayi...

ইশান থমকে দাড়িয়ে রইলো।কি দারুণ গলা।বুকের ভিতর ঢিপঢিপ করছে গানটা শুনে।নিজেও গা এলিয়ে বসলো রকিং চেয়ারটায়...

Kab tak hosh sambhale koi

Hosh ude toh ud jaane do

Dil kab seedhi raah chala hai

Raah mude toh mud jaane do

Tere khayal me doob ke

aksar achhi lagi tanhaai

Saans me teri saans mili toh

mujhe saans aayi, Mujhe saans aayi

ইশান চোখ বন্ধ করে প্রতিটা শব্দ অনুভব করছে।হঠাৎই তিতির এর ফোন বেজে উঠলো।ফোনটা তুললো সে।

"হ্যালো রাহাত ভাই।"

ইশান এর কানে আসলো নামটা।সোজা হয়ে বসলো।কপাল কুচকে তাকিয়ে রইলো।

"থ্যাংক ইউ সো মাচ।না না গিফট কোনো বিষয়ই না।সেটা নেওয়ার সময় তো সামনে পরেই আছে।তখন হাঁপিয়ে যাবেন আমার আবদারে।"

......

"!নাহ কোনো সমস্যা হয়নি।স্টেশনে কাজিন রা সবাই এসেছিলো। "

.......

"নাহ খাইনি এখনো।ফ্রেশ হবো।তারপর খাবো।আপনি খেয়েছেন?"

………

ওপাশের মানুষ টা কি বললো।তিতির খিলখিল করে হেসে উঠলো।ইশানের বুকের ভিতর চিকচিক ব্যাথা করে উঠলো হাসির শব্দটায়।কার সাথে কথা বলছে মেয়েটা এতো নরম গলায়।ছেলেটা কে।ওর বয়ফ্রেন্ড! ভাই বলতো না তাহলে কে।তিতির কথা বলতে বলতে ভিতরে চলে গেলো।দরজা আটকানোর শব্দও শোনা গেলো।ইশান দীর্ঘশ্বাস ফেললো।যেই হোক লোকটা,যা ইচ্ছে করুক মেয়েটা,তার কি।

ফোন হাতড়ে ডায়াল করলো রুষার নাম্বার।মেয়েটার বাবার খোঁজ নেওয়া উচিত। ওপাশ থেকে কল তুললো না কেউ।সময় দেখলো।রাত অনেক।ঘুমিয়েছে হয়তো।ফোনটা টি টেবিলে রেখে চোখ বন্ধ করে রইলো।

*****

"আরেকটু দেই মা?" কেমন শুকিয়ে গেছে আমার মা টা।"স্ত্রীর কথায় মাথা ঝাকালেন রাইসুল দেওয়ান।বাকিরাও সাথে সাথে সায় দিলো।

"বড় মামণী।আমি বাড়ি আসলে কখনো তোমার মনে হয়েছে আমার সাস্থ হয়েছে?আমাকে তো তোমাদের সবসময় কংকাল লাগে।"

বড় গিন্নি মুখটা আরও কুচকে নিলো।ধমকে উঠলো,"চুপ করো তুমি।মা হও তখন বুঝবে। সন্তান নিয়ে টেনশন কাকে বলে।"

নিশি,নূরি রা মুখ টিপে হাসে।তাদের তিন মা চাচি একেরপর এক খাবার তিতির এর প্লেটে দিয়েই যাচ্ছে।মেয়েটা হাঁপিয়ে গেছে পুরো।

"আর সম্ভব নয় ছোট মামানি। দিয়ো না আর।"

"খেলিই তো না।কি খাস না খাস।খাওয়ার রুচিই চলে গেছে।হোস্টেল এর খাবার মানুষ খেতে পারে নাকি।"

তিতির অসহায় দৃষ্টিতে তাকায় আশেপাশে। তাকে বাঁচানোর একমাত্র মানুষ নয়ন ভাই।

নয়ন মায়ের হাত থামিয়ে দিলো।এগিয়ে নিলো তিতির এর প্লেট টা।এক সাইট থেকে খাবার ঢেলে নিলো নিজের প্লেটে।মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো,"আহ মা।মণি বলছে এতো খেতে পারছে না।তাও জোর করছো।জার্নি করে এসে এতো খাওয়া যায়।"

গিন্নি রা মুখে আচল চাপা দিয়ে হাসি আটকালো।এই মেয়ের প্রতি ছেলেটার আলাদা টান কারোর নজর এড়ায় না।রাহিয়ান সাহেব নিজেও ছেলের দিকে তাকিয়ে নিঃশব্দ হাসলেন।মাথা নামিয়ে সবাই মন দিলো খাওয়ায়।

নূরি ভাইকে ধাক্কা দিলো।বাকা গলায় বললো,"ভাইয়া আমিও খেতে পারছি না।নিবি।?"

নূরির কথার টান ধরতে পারলো নিশি,নয়নও পারলো।নয়ন চোখ গরম করে তাকালো বোনের দিকে।নিশি মাথা আর নামিয়ে নিলো হাসি লুকাতে।

এসবের মাঝে একটা হাত থমকে আছে।নিরবে খাবারের দিকে তাকিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে সবটা।বছর বারো -তেরো আগের কথা মনে পরে গেলো তার।তিতিরটা সবসময় তার প্লেট থেকে খেতে চাইতো,চাইতো ইশান ভাই তাকে খায়িয়ে দিক।এমনকি নিজের প্লেটের খাবারা টাও শুধু ইশানকেই দিতো।মেয়েটা ছোট্টবেলায় তাও নেওটা ছিলো।ধীরে ধীরে পড়াশোনার চাপ,বাবার শাসন সবেতে পরে সে হয়ে গেলো বদমেজাজী, মেয়েটা ধারেকাছে ঘেষতে চাইতো না তারপর আর।ধীরে ধীরে তো আরও দুরত্ব। ফলস্বরূপ শেষ আট নয় বছর বোধহয় আর দেখেনি মেয়েটাকে।সে বাড়ি এলে ভুলেও নামতো না আর নিচে,আসতো না তার সমানে।হয়তো অভিমান হয়েছিলো বাচ্চা মনে।কিন্তু এখন?সেসব কি বাচ্চা মেয়েটার মনে আছে!নেই বোধহয়।বড় হয়ে গেছে এখন।আজ বিশ পূর্ণ হলো।বাচ্চা তো নেই,বরং কিশোরী ধাপ টাও পেরিয়ে যাবে যাবে ভাব।চোখ তুলে তাকালো তিতির এর মুখপানে।দেখে বাচ্চাই লাগছে।এতো খাওয়ানোয় অভিমান এ গাল ফুলিয়ে আছে।আস্তে আস্তে বাকি খাবার চিবুচ্ছে।নয়ন এটা সেটা তুলে নিচ্ছে নিজের প্লেটে, আবার তিতির এর পছন্দসই৷ কিছু তুলে দিচ্ছে মেয়েটার পাতে।

ইশান এর হঠাৎ ই ভিষণ রাগ হলো,আগের কথা মনে পরে বোধহয়। ঝট করে উঠে দাড়ালো।সবাই তাকালো ওর দিকে

"মা আমার খাওয়া শেষ।"

বড় গিন্নি তাড়াহুড়ো পায়ে এগিয়ে আসলো ছেলের দিকে।মৃদু আর্তনাদ করে উঠলো,"হ্যা রে বাবা খেলিই না তো কিছু।"

"খেয়েছি মা।পেট ভরা।

বলেই আর এক সেকেন্ড দাড়ালো না ওখানে।হাত টা ধুয়ে গটগট করো সোজা চলে গেলো ওপরে নিজের ঘরে।একে একে সবার খাওয়া শেষে চলে এলো নিজ নিজ রুমে।রাইসুল সাহেবে বারবার সতর্ক করে দিলেন আজ রাতে যেনো তিতির এর ঘরে কেউ বিরক্ত না করে,মেয়েটাকে যেনো ঘুমাতে দওয়া হয়।সবাই মানলো। সত্যিই ক্লান্ত আজকে মেয়েটা।বিশ্রাম দরকার।

চলবে ইনশাআল্লাহ 🌼❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন