#সাঁঝের_মায়া (কাজিন রিলেটেড +রোমান্টিক)
#পর্ব_১০ (একটু আধটু রোমান্টিক মনে হয়🤌🫦)
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা
[🚫কপি করা নিষেধ, প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত ]
____"রুষা তোকে ফোন করেছিলো ঈশান?”
নিয়াজ এর প্রশ্নে নাথা তুললো না ঈশান।ফোনের স্ক্রিনেই দিকেই চোখ রেখে উত্তর দিলো,“ হু”
____“কিছু বলেছে তোকে?”
____“নাহ,কি একটা পরে বলবে বললো।”
____“ঈশান?”
____“শুনছি”
____“রুষার বোধহয় কিছু একটা হয়েছে।”
ঈশান মাথা তোলে নিয়াজ এর দিকে। ফোনটা বন্ধ করে প্যান্টের পকেটে গুঁজে রাখে। স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
____”কি হয়েছে?”
____“আই গেস…তুই রেগে যাস না প্লিজ”
____“রাগার কথা না হলেই রাগবনা,বল”
নিয়াজ উশখুশ করলো কিছুক্ষণ। একবার তাকালো
বাকি বন্ধু দের দিকে। সবাই মাথা ঝাকালো। নিয়াজ কে বলতে বললো কিছু একটা। নিয়াজ ফিরে তাকালো আবার ইশান এর দিকে।ধীর গলায় বললো,
____”আই গেস রুষা বিয়েটা করতে চাচ্ছে না ইশান।”
ঈশানের কপাল কুচকে এলো,
_____”রুষা বিয়ে করতে চাচ্ছে না,তোদের কে বললো।ও তো আমাকে কিছু বলেনি।তাছাড়া বিয়ের এই কাহিনি শুরুটাও ওরই করা,আমার নয়।"
নিয়াজ শুকনো ঢোক গিললো এবার।এবার মুখ খুললো অনিমা,
_____”আমার সাথে কথা হয়েছে ওর।ইন ফ্যাক্ট ওখানে ওরা সবাই ছিলো আরকি।তুই এসে পৌছাবার আগে।আমরাই কল করেছিলাম খোঁজ খবর নিতে আরকি।ওকে স্বাভাবিক লাগলো না।কথাবার্তা কেমন একটা।তোদের বিষয়টা নিয়ে আপসেট। “
ঈশান কথাবার্তার মাথামুণ্ডু কিচ্ছু বুঝতে পারছে না।রুষার সাথে তার কি হবে।কিছুই না।সবই নরমাল।এসব কথার মানে কি।
_____“আমার সাথে ওর কিচ্ছু হয়নি।কিচ্ছু না।বাড়ি আসার পর তিনবার কল করেছি।ওর বাবার খোঁজ নিতে।ইভেন ওর যে আমার বাসায় আসার কথা ছিলো হুট করে ও ক্যান্সেল করলো,মানে করতে হলো আরকি এটা নিয়েও আমি ওকে কিচ্ছু বলিনি,কোনো সমস্যাই হয়নি ওর আমার মধ্যে। তাহলে?কেনো মনে হলো তোদের এসব।”
অণিমা আবার সবার দিকে তাকিয়ে নিলো একবার,ফের ঈশানের দিকে তাকিয়ে বললো,
_____”শোন ঈশান, মেয়ে মানুষ তো আমি।রিতু আছে ওকেও জিজ্ঞেস কর।ওর কথাবার্তার ধরন স্পষ্ট। ও কিছু একটা নিয়ে স্যাটিসফাইড নয়।”
ঈশান বাঁকা হাসে,বাতাসে এলোমেলো হওয়া চুলগুলে দু হাতে ঠেলে পিছনে দেয়।
_____”কি আশ্চর্য। সেটা ও না বললে বুঝবো কিভাবে।আমি তো আমার দিক থেকে ঠিকই আছি।আগে প্রেম প্রেম করতো,তখনও রাগ করিনি,পরে প্রেমিকা হিসেবে সবাইকে পরিচয় দিতো,সেটাও কিছু বলিনি।একটা সময় মনে হয় ঠিক হয়ে যাবে,হয়নি।ওর ওপর তখনও রাগ করিনি।বরং তোদের কথায় নিজেকে বুঝিয়েছি মেয়েটা ভালো আর দিনশেষে পরিবার তো চাপ দেবেই বিয়ে নিয়ে,আমার লাইফে মেয়ে,প্রেম,ভালোবাসা এসবের জন্য আলাদা সময় কোথায়।সব জেনে এ মেয়ে থাকতে চাচ্ছে থাকুক।দেখা যাবে পরে।তার পর নিজ থেকেই থেকে গেছে ও।আমার দিক থেকে কোনো প্রেশার, এক্সপেকটেশন ওর ওপর ছিলো না।ওকেও রাখতে নিষেধ করেছিলাম।এখন আবার হুট করে বিয়ের কথা।ওকে... সেটাও ভেবে দেখলাম। ঠিক আছে।করবো বিয়ে।এখন নিজে থেকে আবার ওর এসব মনে হওয়ার কারণ কি!এত বছরের মনে হয় নি ওর!”
ঈশান হেসে দুদিকে মাথা নাড়লো,হতাশা প্রকাশ করলো নাকি ত্যাচ্ছি্ল্য বোঝা গেলো না।। বন্ধু রা নিজেরাও সবাই সবটা বুঝতে পারছে। সত্যিই তাই। রুষা সবসময় নিজ থেকে নিজের ইমাজিনেশন থেকে সবটা সাজিয়েছে।ইশান কখনো অসম্মান করেনি,রুষাকে এসব নিয়ে। রুষা জেনে শুনে জড়িয়েছে এসবে।আজ এই মূহুর্তে এসে ইশান কি চায়,কি আগে করা উচিত ছিলো আর পাঁচটা প্রেমিক রা কি কি করে সেগুলো নিয়ে কথা তুললে হবে!
অণিমা ইশানের কাধে হাত রাখলো,
_____”তুই একবার কল কর রুষাকে। আংকেল অসুস্থ তো।ও বোধহয় কিছু একটা নিয়ে ডিপ্রেসড। তাই এমন বলছে।”
ঈশান স্থির হয়ে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। ভাবলো কিছু একটা। পকেট থেকে ফোন বের করে। ডায়াল করলো রুষার নাম্বারে। তিনবারের বার কল তুললো ওপাশ থেকে।ওপাশে প্রচুর মানুষ জনের আওয়াজ আসছে।শব্দে একপ্রকার ফোন কানে ধরে রাখা জুলুম হলো ইশানের।লাউডে দিয়ে দূরে ধরলো ফোনটা।
_____“এতো আওয়াজ!কই আছিস?”
_____“একটু বাজারে এসেছি।”.
____“ কিছু বলবি বলছিলি তখন।বল”
রুষা চুপ করে রইলো। একটু পর তার আশেপাশে থেকে শব্দ কমে এলো অনেকটা। দূরে গিয়ে দাড়িয়েছে হয়তো।এবার গলার আওয়াজ বেশ স্পষ্ট লাগলো
____“ইশান।আই গেজ আমি আমাদের বিয়ে টা নিয়ে তোমাকে বেশি চাপ দিয়ে ফেলছি।”
____“এমনটা মনে হওয়ার কারণ?”
____“অনেক কারণ।”.”
____“সেটা এত বছরে কেনো মনে হয়নি?”
____“জানিনা।”
____“কবে থেকে মনে হচ্ছে? “”
____“হঠাৎ করেই.”
___“বেশ।এখন?”
রুষা ঈশানের এহেন নির্বিকার ভঙ্গির পিঠে আর কি বলবে গোছাচ্ছে হয়তো। খানিক সময় নিয়ে বললো,
_____“তুমি আমাকে ভালোবাসোনি কখনো। বেসেছো কি?”
_____“বিয়ের পর হয়তো বাসতাম।”
_____“ওটা পরের কথা।আগের কথা বলছি।এখন?"
_____“নাহ “
____“তবে বিয়ে টায় রাজি হয়েছ কেনো”
____“অ্যারেন্জ ম্যারেজ করে না মানুষ? “
রুষা হেসে ফেললো।হাসিটার অর্থ কি ধরা গেলো না।
_____“তার মানে এতদিন আমার সাথে এসব কি ছিলো!”
ঈশান বিরক্ত হচ্ছে এখন। মেয়ে মানুষ এর হেয়ালির সাথে সে পরিচিত নয়।পছন্দও করেনা।
____“কি ছিলো?আমি বলেছি কিছু ছিলো?? নাকি আমি সবসময় বলে এসেছি একতরফা এক্সপেকটেশানস না রাখতে। তুই রেখেছিস। আমি কোনো ইশারা দিয়েছি,আশা দিয়েছি? তারপরও তুই বলতি তুই এভাবেই খুশি। ওকে ডান।থাকলি।তারপর তোর সম্মান এর কথা ভেবেই তোরই বাকি অনুরোধ এও রাজি হোলাম।জিতলি সব দিক থেকে তুই।অথচ আজ ব্লেম আমাকেই করছিস!”
_____“আমি আর জিততে চাইনা। এমন জিত আমার দরকার নেই।”
____“সেটা তোর চাওয়া,তোর বিষয়।”
____“আমি কি বলছি বুঝতে পারছো?”
____“বিয়া টা চাস না তাইতো?”
রুষা আবার চুপ করে রইলো। তারপর মিনমিনে বললো,
____"হ্যা চাইনা।”
____“ওকে.”
____“তোমার কষ্ট হবে না?”
ঈশান নিঃশব্দে হাসলো।
____"আমি তো ভেবেছিলাম আমার থেকে বেশি কষ্ট তোর হবে।হচ্ছে না?”
রুষা বোধহয় কেঁদে ফেললো এবার। কথা শোনা যাচ্ছে না।তবে ঘনঘন নাক টানার আওয়াজ আসছে। কান্না বোধহয় বুঝতে দিতে চাচ্ছে না। নিজেকে ধাতস্থ করে নিলো। জোরে শ্বাস নিলো,
_____”আমি অনেক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছি ঈশান।কোনো হুটহাট সিদ্ধান্ত নয় কিন্তু। আর ইয়ার্কি ভেবে ভুল করো না।”
____“এমন মজা তুই কখনো করিস না।তাই সিরিয়াস ভাবেই নিলাম।”
_____“কারণ জানতে চাইবে না?”
____“নাহ।এটা তোর সিদ্ধান্ত। জোর জবরদস্তি আমার ডিকশনারী তে নেই।তুই নিজ ইচ্ছেতে এসেছিলি,নিজ ইচ্ছেয় যাবি।ইওর উইশ,আমার ফিলিংস কম,মনে হচ্ছে না কিছু তাই হয়তো।"
রুষার ইশানের জবাব টা হয়তো মন মতো হলো না।
____“জানতাম এটাই বলবে তুমি।অথচ একটা মেয়ে কি চায় জানো?তুমি ধরে রাখার চেষ্টা করছো?।কিন্তু ইশান আরশাদ তো সেটা করবে না।সেটা তো তার ক্যারেকটার এর সাথে যায়না।উহু,যায়না কথাটা বোধহয় ঠিক নয়।যাবে আসবে হয়তো কারোর জন্য কখনো।কিন্তু সেটা আমি নই।সেই ভাগ্যবান অন্য নারী হয়তো।”
ঈশান উত্তর দেয়না।ভালো লাগছে না এসব আবেগের কথাবার্তা। মেয়েটা একা একাই সবটা জটিল বানাচ্ছে।তার ভূমিকা কোথায় এখানে।দোষটাই বা কি!তাকে কি করতে বলছে মেয়েটা।এমন তো নয় সে অন্য মেয়ে নিয়ে কখনো কাহিনি করেছে,কখনো না।রুষাকে ভালোবাসে না মানে এমন নয় যে অন্য নারী আছে।রুষার প্রতি সে ফিলিংস তার আসেইনি।ধরেই নিয়েছিলো হালাল সম্পর্কে গেলে আপনা আপনিই চলে আসবে সেটা।
_____"ধর তোকে ধরে রাখার চেষ্টা করলাম এখন।তুই থাকবি?"
_____"তুমি করবে না।"
_____"সেটা জিজ্ঞেস করিনি।আমার কথার উত্তর দে রুষা।"
_____"আগে থাকতাম হয়তো।এখন হয়তো না।"
ঈশান শব্দ করে হেসে ফেললো।এ হাসিতে তাচ্ছিল্য মেশা সবটাই।
_____"আমি এখন হাজার চেষ্টা করলেও তুই থাকবি না রুষা।তোর ব্যাপার টা অন্য।যেটা বলছিস না।কথা ঘুরিয়ে আমার দিকে ব্লেম ঠেলে দিয়ে পালাচ্ছিস।"
রুষা আশ্চর্য ভাবে চুপ করে রইলো।সবাই স্পষ্ট বুঝতে পারলো ঈশান এর কথাটা সত্যি। বিষয়টা অন্য। ঈশান রাশভারি গলায় বললো,
_____“বেস্ট অফ লাক রুষা।অ্যাজ আ ফ্রেন্ড আছি সবসময় আমি,আমরা…”
ঈশান কল কেটে ফোনটা রাখে পাশে। সব বন্ধুরা হা করে শুনছিলো এতক্ষণ সবটাই। সবাই একপ্রকার হতবিহ্বল রুষার কথায়। এই মেয়ে এ জীবনে কখনো ঈশান কে ছাড়বে এটা হয়তো কারোর স্বপ্নেও ছিলো না।অসম্ভব ব্যাপার স্যাপার।তবে এখন স্পষ্ট এটাও বুঝতে পারছে রুষা যা বলছে সত্যিই সিরিয়াস ভাবেই বলছে।ইশান স্বাভাবিক চোখে তাকালো সবার দিকে।সবকটা থ মেরে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
___
নিয়াজ,অনিমা,সাজিদ,নাইম, রিতু, সকাল সকাল ইশান কে নিয়ে এসেছে ওদের এলাকার হাইস্কুল মাঠে। ছোটবেলায় এখানকার স্টুডেন্ট ছিলো ওরা সবাই।ফ্রেন্ড সার্কেলের মধ্যে শুধু ইকবাল আর রুষার বাড়ি অন্য জেলায়।তাছাড়া বাকি সবাই ছোট থেকেই একসাথে বড় হয়েছে।সময়ের স্রোতে সবাই এখন সাকসেস। কালেভদ্রে দেখা হয় আরকি।আর দেখা হলেই কি।গ্রামের এই মাঠে বসে আড্ডাটা হয় নাকি শহরে!সবাই উচ্চপদস্থ চাকরি করে।শহরে দেখা করতে গেলেও যায় সব হাই ফাই রেস্তোরাঁ তে।যতই হোক,তারা নিজেরা গ্রামের মানুষ। গ্রামের মাঠেঘাটে আড্ডাটা তারা ভুলবে কেনো। ইশান যদিও আসতে চাচ্ছিলো না আজ।ওর দাদি কে গতকালই হাসপাতাল থেকে আনা হয়েছে।কিন্তু বন্ধুদের জোরাজোরি তে এসে বসেছে ওদের আড্ডায়।সে যদিও বরাবরই গম্ভীর হয়ে থাকে।বাকিরা হৈ হট্টগোল করলেও তাকে কখনো চিৎকার চেচামেচি করে সেসবে জোগ দিতে দেখা যায়না।বড়জোর হেসে পাগলামি দেখে বন্ধু গুলোর।
রুষার কথায় ইশানের কোনো ভাবান্তর না দেখে সজোরে ধাক্কা দিলো নিয়াজ।
_____“কি রে ব্যাটা।ছ্যাকা তো খাইলি একটা।বেশি কষ্ট হচ্ছে। “
ঈশান মুখ বাকিয়ে তাকালো।বেয়াদব গুলো জানে সবটাই।তবুও অযথা কথা বাড়াবে।
_____“কষ্ট হলে যে ভাঙ্গলো বিয়ে তার হচ্ছে। সেটা ভালোমতো জানিস তোরা।আমার কিচ্ছু এসে যায়না।”
সবাই মানলো বিষয়টা। ঈশান কখনো ভালোবাসেনি রুষাকে,নিজ মুখেও কখনো বলেনি ওঁদের সম্পর্ক আছে।ইশান এর দিক থেকে সত্যিই ছিলনা কিছু।তবে মেয়ে হিসেবে,বন্ধু হিসেবে,তাকে ভালোবাসে সে হিসেবে সম্মান টা দিতো সবসময় রুষাকে।
রিতু গম্ভীর পরিস্থিতি সামলানোর জন্য ধাক্কা দিলো নাইম কে।নাইম ইশান এর গায়ে হেলান দিয়ে বসলো খানিকটা।
_____“ইশান শোননা।তোর তো বিবাহ যোগ্য তিন তিনটা বোন।বিয়ে থা তো দিতে হবে নাকি?”
ঈশান ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় নাইম এর দিকে।ইশান সাফাই দিলো,
_____“না মানে নিশিটা বড় হয়ে গেছে।বিয়ে দিবি না?”
নিয়াজ এর চোখমুখ একপ্রকার শুকিয়ে আসলো বজ্জাতগুলো আবার তার পিছে লাগছে।ঈশানটা একবার টের পেলে তার খবর করে দেবে।
ঈশান গম্ভীর গলায় বললো,
_____“দেবো না কেনো।দেবো।বড় হচ্ছে দিতেই হবে।সুপাত্র খোঁজ সবাই।বিসিএস করা পাত্র হলে ভালো হয়।”
_____“কি সমস্যা! বিসিএস দিয়ে কি হবে।সব মেয়ের বাড়ি থেকে খালি বিসিএস ভুড়িওয়ালা খোঁজে কেনো বুঝিনা।”
হঠাৎ নিয়াজ এর উত্তেজিত গলার আওয়াজ সবাই তাকালো।
ঈশান চোখ ছোট করে কপাল কুচকে তাকিয়ে রইলো।বাকিরা মুখ চেপে হাসছে।
_____“ ভুড়িওয়ালা হবে কেনো।আমার বোনকে আমি স্মার্ট দেখে৷ বিয়ে দেবো।অবশ্যই ওর ক্লাসের..বিসিএস মানেই কি ভুড়িওয়ালা নাকি।”
নিয়াজের ইচ্ছে হচ্ছে আরও কয়েকটা কথা শুনিয়ে দিতে।কিন্তু পাছে আবার সব ফাঁস হয়ে যায় এই ভয়ে মনের কথা মনেই রেখে দিয়ে ব্যাস্ত হাতে সিগারেট বের করলো একটা।ইশান তাকালো সেদিকে।চোখ দিয়ে ইশারা করলো সিগারেট এর দিকে।রাশভারি গলায় বললো,
_____"এটাও একটা পয়েন্ট। আমার বোনের বর সিগারেট খেতে পারবে না।এসব বদ অভ্যাস থাকা যাবেনা “
নিয়াজ এর হাত থমকে গেলো।কটমট করে তাকালো ইশান এর দিকে।ইশান উদাশ চোখে এদিক ওদিক দেখছে।
____“তুই তো খাস।তার বেলায়.”
ঈশান একই ভঙ্গিতে বললো,
_____”আমার বউয়ের সমস্যা হলে অবশ্যই ছাড়বো।”
____“আমিও সেম।”
ঈশান স্থির দৃষ্টি তাক করলো নিয়াজ এর দিকে।
_____”তোকে ছাড়তে কে বলেছে।আমি তো আমার বোনের হাসবেন্ড এর কথা বললাম।তুই রাগছিস কেনো।”
নিয়াজ চুপসে গেলো।ধরানো সিগারেট খানা ধরিয়ে দিলো নাইমের হাতে।সবাই একপ্রকার মুখ চেপে চেষ্টা করছে বুকফাটা হাসি আটকানোর।নিয়াজ মুখ কালো করে বসে রইলে।ইশান নিজেও ঘাড় ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসলো।বিরবিরিয়ে বলে উঠলো,
____গাধা একটা।”
*****
নিশি,নূরি দু'জনেই টিউশনি তে গিয়েছে।শাওয়ার নিয়ে ছাঁদে এসে রোদে চুল শুকাতে এসেছে তিতির।রাফিকে নিজের ফোন হাতে ছুটে আসতে দেখলো সে।
_____“তোমার ফোন কখন থেকে বাজছে।নাও…”
রাফি ফোনটা হাতে দিয়েই যেভাবে এসেছিলো ঠিক সেভাবেই ছুট দিলো একপ্রকার। ফোনের দিকে তাকাতেই রাহাত ভাইয়ের নাম ভেসে উঠলো।তেরো বার মিসড কল।কপালে চিন্তার ভাজ পরলো তার।সে নিজেও সাথে সাথে কল ব্যাক করলো।লাগাতার রিং হচ্ছে। ওপাশ থেকে ফোন তুলছে না কেউ।
হাতে ডাম্বেল খানা নিয়ে ছাঁদের আসতেই ইশান এর চোখ পরলো ছাদের রেলিং এর পাশে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে থাকা এক সুন্দরী কিশোরীর।বাচ্চাই যদিও মনে হয়।একরাশ ভেজা লম্বা চুল এক হাতে মুছতে ব্যাস্ত।আরেক হাতে ফোন।ইশান সিঁড়ি কোঠার দরজাতেই দাড়িয়ে রয়।কি সিন্ধ দেখাচ্ছে মেয়েটাকে।এ মেয়েকে দেখে কেনো জানি তার বোন বোন ফিলিংস টা আসতে চায়না।এটা উচিত নয়।তারও বা কি দোষ।বাকি বোন গুলোর মতো এর সাথে কখনো সেরকম সম্পর্ক ছিলো কি!ছিলো না।নাহ তো ছোটবেলায়ও কখনো বোনের মতো ব্যবহার করতো।যখন বোধবুদ্ধি হয়নি,তখন থেকেই এ মেয়ে তার ওপর অন্যরকম অধিকারবোধ দেখাতো,অভিমান করে থাকতো।নিশি,নূরিকে যেমন কোলেপিঠে ভাইয়ের মতো বড় করেছে এ মেয়ে ততটা দূরে দূরে থেকেছে ভাই বোন এর সম্পর্ক থেকে যেনো।আর মাঝখানে এতো গুলো বছরের দুরত্ব তো রয়েছেই।
ইশান তিতির কে দেখেও না দেখার ভাব করে ছাঁদের এক সাইটে চলে আসলো।তিতির হুট করে ইশানকে ছাদে দেখে চমকে উঠলো একপ্রকার। ইশান উল্টো ঘুরে এক্সারসাইজ করছে।তিতির মুখ বাকালো।পাগল নাকি লোকটা।ভর দুপুরে এক্সারসাইজ করে কে!
এ লোকের সবকিছুই উল্টাপাল্টা। সে নিজেও না দেখার অভিনয় করে ঘাড় ঘুরিয়ে রাখলো।
হঠাৎ ফোনখানা বেজে উঠলো তিতির এর।রাহাত ভাই ফোন দিয়েছন।সাথে সাথে রিসিভ করলো কলখানা।
_____“হ্যালো রাহাত ভাই।”
তিতির এর মুখে এহেন ডাক শুনে ইশান এর হাত থেমে গেলো।শব্দহীন হওয়ার চেষ্টা করলো খানিকটা।নিজের অজান্তেই ইচ্ছে হলো মেয়েটার ফোনালাপ শোনার।
_____“কবে যাচ্ছেন তাহলে?”
_____“বিকেলে ফ্লাইট”
_____“ওখান থেকে?”
_____“ওখন থেকে মায়ের শরীর এর অবস্থা বুঝে যদি দেশে আনা যায় আনবো না হলে সিঙ্গাপুর নেবো।”
_____“ঠিক আছে।খেয়াল রাখবেন আন্টির আর নিজেরও।”
ফোন রাখলো তিতির।দীর্ঘশ্বাস ফেললো।রাহাতের মা গিয়েছিলেন হজ্বে।ওখানে গিয়ে হার্টঅ্যাটাক করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি।রাহাত এর খবর পাঠানো হয়েছে আজকে সকালেই।মা এর খবর পেয়ে হন্তদন্ত হয়ে আজকেই তাকে দেশোর বাইরে ছুটতে হচ্ছে। কবে ফিরবে তার নিশ্চয়তাও দিতে পারছেন না।
তিতির এর ভিষন মন খারাপ হলো রাহাতের মায়ের জন্য। রাহাত ভাই আর তার বোনের ওই মা টা ছাড়া সাত কুলে বোধহয় আর কেউ বেই,রাহাত ভাই অন্তত সেটাই বলতো।
তিতির ইশানকে দেখলো এক নজর।গায়ের ওড়না টা ঠিকঠাক করে এগিয়ে গেলো তার কাছে।চওড়া রেলিং এ পা ঝুলিয়ে বসলো।ইশান ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো। ধমকে উঠলো,
_____"ওটা তোর দোলনা পেয়েছিস?নাম।"
তিতির নামলো না।পা দোলাতে দোলাতে বললো,
_____”এখানে বসার আমার অভ্যাস আছে।কিচ্ছু হবে না।”
ইশান বিরক্ত চোখে তাকালো। গাধা কোথাকার।এখান থেকে হুট করে পরে গেলে কি হবে আন্দাজ আছে এর!চোখ গরম করে আবার ধমক দিলো,
_____”নামতে বললাম না!”
_____“পরবো না আমি এখান থেকে।আগেও উঠেছি।”
_____“অ্যাক্সিডেন্ট কি রোজ রোজ হ?সাবধান থাকতে ক্ষতি কি।নামতে বলেছি আমি।”
তিতির ঠোঁট উল্টায়,
_____"তা ঠিক।তবে সামনে আপনি আছেন তো।এরকম গাট্টাগোট্টা বডি বানিয়েছেন। আপনার সামনে থেকে যদি আপনারই ছোট বোন পরে যায়,ধরবেন না?”
ঈশান এর মাঝেমধ্যে এই মেয়ের কথাবার্তা অসহ্য লাগে। যেমন এখন লাগছে।
_____“তুই ছাদ থেকে গড়িয়ে পরবি আর আমি তোকে ধরবো এর জন্য আমি বডি বানিয়েছি?”
“_____"বেশি বোঝেন।সেটা কখন বললাম আমি।এখনকার কথা বলছি।আর বোনকে যদি নাই বাচাতে পারেন তাহলে এমন দেহ বানানোর ফজিলত কি?”
_____“আমার দেহের ফজিলত আমার বউ বুঝবে।তোর বুঝতে হবে না।”
_____“ছিহ্ কিসব কথা।”
_____“এখানে ছিহ্ এর কি দেখলি।”
_____“বোনের সমানে বউয়ের গল্প করতে লজ্জা করেনা।”
ঈশানের এই মূহুর্তে মেয়েটাকে কষিয়ে চড় মারতে মন চাচ্ছে। এক লাইনে কম করে হলেও দু বার করে বোন বোন শুরু করেছে।মহা সমস্যা। অবশ্য বোনই তো হয়।তার শুনতে ভালো লাগছে না কেনো।আজকাল নিজের মনটার মতিগতি ও বোঝে না সে।
_____“যা তো সামনে থেকে।কাজ করতে দে।”
তিতির হাত বাড়িয়ে আম গাছের পাতা টান দিলো।একঝাঁক ময়লা এসে পড়লো ইশানের মাথায়।ইশান এগিয়ে গেলো রাগে কান ধরে টান দিতে।তিতির নিজের ভয়ে চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে নিলো।একপ্রকার চেঁচিয়ে উঠলো,
_____ “মারবেন না,মারবেন না।ভুলে হয়ে গেছে।”
ঈশান বিরক্ত মুখে দাত কিড়মিড় করতে করতে গা ঝেড়ে সরে দারালো।বুকে আড়াআড়ি হাত ভাজ করে তপ্ত চোখে তাকালো তিতির এর দিকে।”তোকে এখান থেকে যেতে বললাম না?”
_____“ভাইয়া।আপনি বড্ড খিটমিট করেন।ছোট বোনদের সাথে এমন ব্যবহার অন্যায়।”
হায় খোদা।আবার বোন।এ মেয়ে কি কোনোভাবে তার অজান্তে তার বেয়াদব মনটার সাথে কোনো আলাপ আলোচনা করেছে নাকি।সে যে বারবার বোন বোন করা পছন্দ করছে না এটা কি মেয়েটা টের পেয়েছে।না হলে এমন ভাইয়া ডেকে মাথা খাচ্ছে কেনো।আগের থেকে গলার দ্বিগুণ গম্ভীর করে ধমক দিলো ইশান।
_____ “ভাই বোন, ভাই বোন করে হেদিয়ে না মরে বিদায় হ তো সামনে থেকে।”
_____“কি আজব।ভাইয়া লাগেন,ভাইয়া ডাকবো না?পরে আবার বলবেন বেয়াদব।তা আমি মানবো কেনো!"
_____“মানতে হবে না তোর বাপ লাগি আমি।সর।"
_____“আসতাগফিরল্লাহ।আল্লাহ রহম নাজিল করুক আপনার ওপর।কথা বার্তা বুঝে বলেন না নাকি!”
ঈশানের ধৈর্যের বাধ ভেঙে যাচ্ছে এবার।এ মেয়েকে দেখে আজকাল অবাক হয় সে।এমন বাঁচাল কবে থেকে হলো মেয়েটা।আগে তো এমন ছিলো না।মোদ্দাকথা তার সামনে তো এমন কখনো করতো না।এখন জ্বালিয়ে মারছে পুরো।ইশান চোখ ফিরিয়ে নিলো তিতির এর থেকে।সরে দাড়ালো।নিজের কাজে মন দিলো।
তিতির একগাল হেসে চোখ রাখলো নিজের ফোনে।
হঠাৎ বেশ কিছুক্ষন পর এক নজর চোখ তুলে নামিয়ে নিতেই বুকটা ধ্ক করে উঠলো।ফট করে আবার চোখ তুললো সে।এতক্ষণ খেয়াল করেনি।ইশান বেশ খানিকটা দূরে গিয়ে এক্সারসাইজ করছে।সমস্যা সেটা নয়।সমস্যা হলো গায়ের টি শার্ট খুলে রেলিং এ ঝুলানো।এই মূহুর্তে শুধু একটা কালো ট্রাউজার জড়ানো কোমড়ে।তাও নাভির বেশ খানিকটা নিচের দিকে।
তিতির এর বুকের ভিতর ধুকপুকানি শব্দ বোধহয় বাইরে থেকেও শোনা যাচ্ছে।হা করে তাকিয়ে আছে সামনের পুরুষটার দিকো।ঘেমে নেয়ে একাকার। চুল থেকে টপটপ করে ঘাম ঝরে পরছে।প্রতিবার পুশ আপের সাথে পেশিগুলো ফুলেফেঁপে উঠছে। ঘামে চিকচিক করছে পেশিবহুল শরীরখানা।নিয়মিত শরীরচর্চার ছাপ স্পষ্ট পুরে শরীর জুড়ে।ইশান উঠে দাড়াতেই চোখ গেলো তিতির এর দিকে।হা করে তাকিয়ে আছে।গিলে খাবে যেনো। কপাল কুচকে তাকিয়ে রইলে।এগিয়ে আসলো খানিকটা ওর দিকে।নাহ্ কোনো হেলদোল নেই।একই দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে।ইশান এর নিজেরও আনইজি লাগছে।আরেকটু এগুয়ে এক হাত রাখলো রেলিং এ।তুরি বাজালো তিতির এর মুখের সামনে।চমকে উঠলো।
ঈশান কে নিমিষে একদম সমানে দেখে পেছনে হেলে গেলো খানিকটা।পরে যাবে খেয়াল করতেই এক হাত কোমড় পেচিয়ে ধরলো ইশান।হেচকা টানে সমানে এসে ঘামে ভজা বুকের সাথে ধাক্কা খেলো তিতির।উচু রেলিং এ বসায় দুজনের মুখ সমানে সমান। দুজন দুজনের তপ্ত নিঃশ্বাস অনূভব করতে পারছে।তিতির দু হাতে জড়িয়ে আছে ইশানের পেশিবহুল শক্ত কাধ।ইশান এক হাত রেলিংে ভর দিয়ে অন্য হাতে জড়িয়ে আছে মেয়েটাকে। দুটো দেহের মধ্যে একবিন্দুও ফাকা নেই।
ইশানের বুকের সাথে লেগে থাকা তিতিরের বুক ওঠানামা করছে ক্রমাগত।তিতির চোখ বন্ধ করে আছে ভয়ে।এখনো খোলেনি। ঈশান ভয়ার্ত মুখটা পরখ করলো একবার। দারুণ ভয় পেয়েছে।তিতির এর কপাল থেকে শুরু করে দৃষ্টি নামালো ধীরে ধীরে নিচের দিকে। ঠোঁট কামড়ে ধরে আছে।যথারীতি হেঁচকা টানে ওড়না সেই ফাঁসের দড়ির মতো গলায় আটকে আছে,যেখানে থাকা দরকার সেখানে নেই
একই ভাবে ঈশানের নিজের শরীরের ঘামে ইতিমধ্যেই ভিজে উঠেছে মেয়েটার স্কাই ব্লু কালার জামাখানা।ইশান ঘোর লাগা চোখ সরাতে পারলো না। চোখ আটকে রইলো তার আর তিতির এর বিদ্রোহ প্রকাশে ব্যাস্ত লাগাতার ওঠানামা করা ফাঁকাবিহীন বুক জোড়ার দিকে।তিতির রীতিমতো হাপাচ্ছে।ভয়ে? নাকি ইশান এর এহনে গভীর ছোঁয়ায়?তার বুকের ভিতরের হৃদপিন্ড টাও ঠিকরে বেড়িয়ে আসতে চাইছে।
খালি গায়ে স্পষ্ট দৃশ্যমান সে ওঠানামা। তিতির এরও তাই।নারী দেহের আকর্ষণীয় অংশটুকু আরও আকর্ষণ করতে ব্যাস্ত যেনো।ঈশান ধীরে ধীরে আবার মুখ তুলে তাকালো তিতির এর মুখের ওপর।কোমড় ধরে রাখা হাতটি মেয়েটার ভেজা চুলের পানিতে ভিজে গেছে পুরো।অন্য হাতে তিতির এর মুখের ওপরের চুলগুলো সরিয়ে কানে গুজলো।তিতির কানে ঠান্ডা হাতের এমন নরম স্পর্শে কেঁপে উঠলো।
পিটপিট করে তাকালো। ঈশান একদম তার মুখ বরাবরই।এতক্ষণ এ খেয়াল হলো শক্ত করে চেপে ধরে আছে তার কোমড়।পরে যাবে এ রেশ কেটে গেছে এতক্ষণে। কোমড়ের স্পর্শ টা এখন ভয় ধরাচ্ছে কেমন একটা।দু হাত কাধ ছেড়ে দিলো ইশানের।বুকের ওপর কাঁপা হাত রেখে ধাক্কা দিলো।মিনমিন গলায় বললো,
_____”নামতে দিন।”
ঈশান নড়চড় করলো না একটু।আর না তো নজর সরালো।
তিতির একই ভাবে আবার ধাক্কা দিতেই কোমড়ে আরও জোরে চাপ অনূভব করলে।ইশান শক্ত করে চেপে ধরেছে।ব্যাথায় মৃদু আর্তনাদ করে উঠলো তিতির।
_____”আহ্ লাগছে তো।আস্তে ধরুন।নামতে দিন”.
ঈশান এর কি হলো কে জানে।ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি চেপে ধরলো তিতির এর ঠোটের ওপর।হাস্কিস্বরে বলে উঠলে,
_____”উসসসস্ এমন সাউন্ড দিচ্ছিস কেনো।সমস্যা হচ্ছে আমার। “
তিতির চোখ বড় বড় করে ফেললো। ঈশান এর কথার টান ধরতে না পারার মতো নিব্বি সে মোটেই নয়।ঠোঁট চেপে ধরলো লজ্জায়।
_____“প্লিজ ঈশান ভাই।নামান”
এবার বোধহয় কথাটা কাজে দিলো।এহেন মূহুর্তে ভাই ডাক শুনে হয়তো হুশ ফিরলো ইশান এর।কি অবস্থায় আছে দুজন খেয়াল হতেই হেঁচকা টানে নামিয়ে একপ্রকার ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিলো তিতির কে।চোখমুখ লাল হয়ে গেছে মেয়েটার। সামনে জামা একদম ইশানের ঘামে ভিজে উঠছে।তিতির নিজেও খেয়াল করলো সেটা।শরীরের ভাজ থেকে শুরু করে আরও অনেক কিছুই বেশ দৃশ্যমান হয়ে ফুটে উঠেছে।তিতির ফট করে ওড়না টেনে নামালো। জরজেট ওড়না খানায় লাভের লাভ খুব একটা হলো না।ঘুরে দাড়ালো উল্টো হয়ে।ঈশানের এই মূহুর্তে আকাশ পাতাল এক করে রাগ হওয়ার কথা,কিন্তু কি আশ্চর্য। হচ্ছে না কেনো।সে থ মেরে দাড়িয়ে আছে।পুরুষ মানুষ এই একটা জায়গায় তেই হুশ খোয়ায় বোধহয়।কিন্তু এমন তো আগে হয়নি।রুষা এর আগে একবার সুইমিং পুল এ পরে গেছিলো।সেই তুলেছে।কই এমন ফিলিংস তো হয়নি।হওয়া তো তখন উচিত ছিলো। তখন না হয়ে এখন হচ্ছে কারণ কি!এখন এমন ফিল হওয়া রীতিমতো অন্যায়,এ মেয়ের ওপর তো আরও।কি করছিলো সে এতক্ষণ, কি করতে যাচ্ছিলো।কোন খেয়ালে ছিলো,কোথায় হারিয়ে গেছিলো।আর একটু জন্য অঘটন ঘটায়নি সে।
ইশান পাশ ফিরলো।টি শার্ট গায়ে জড়ালো।না ঘুরেই ভারী গলায় বললো,”
_____নিচে যা।সোজা রুমে যাবি।”
তিতির বোধহয় এটার অপেক্ষা তেই ছিলো।দেরি করলো না এক মূহুর্ত।দ্রুত পায়ে নেমে গেলো ছাঁদ থেকে।ইশান জোরে শ্বাস ছাড়লো।দু পা পিছিয়ে সজোরে ধাক্কা খেলো রেলিং এ।দাড়িয়েই রইলো ওভাবে থ মেরে।কিছু একটা ভুলভাল ঘটছে আজকাল।যেটা সে ধরতে পারছে না।
চলবে ইনশাআল্লাহ....
[প্রায় ৩ হাজার শব্দে লেখা।আপনারা বড় পর্ব চান।চেষ্টা করবো বড় করেই দেওয়ার।আবার বলছি ১০০ রিঅ্যাক্ট পার না হলে গল্প আসবে নাআআআআ🙂]