#সাঁঝের_মায়া ___[ পর্ব ২১ ]
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআ
[🚫 অযথা পিছনে লাগবেন না। ঝামেলা করতে চাইনা। আপনারাও ভদ্র থাকুন। অনুরোধ এটা। কারোর শখের জিনিসে হাত বাড়াবেন না।]
একমুহূর্তের জন্য মাথা শূন্য হয়ে গেলো তিতিরের। ঈশানের মুখে ‘ভালোবাসি না ‘ শব্দটা তার কাছে স্বাভাবিক লেগেছে। কারণ জানতো এটা সে। তার দিক থেকে ও তো হুট করেই সব। ভালোবাসতে সময় তো লাগবেই। তবে পরের কথাটা? অন্য কেউ আছে মানে! হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো সে।
প্রকৃতি আজ সত্যিই রুষ্ট। বৃষ্টির প্রকোপ তো বেড়েছেই, সাথে দমকা বাতাসের ঝাপটা। বাইরে প্রচণ্ড শব্দ। গাছটাছ ভেঙেও পরছে বোধহয়। তিতির বিছানা থেকে ততক্ষণে উঠে এসে দাঁড়িয়েছে ঈশানের মুখোমুখি। ছ’ ফুট ল’ম্বা মানুষ’টার সমানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে তাকে খানিকটা ঘাড় উঁচিয়েই কথা বলতে হয়।
চোখেমুখে রাজ্যের বিস্ময় বিরাজ করছে তিতিরের। ঈশান মজা করার মানুষ নয়। একদমই নয়..
ঈশানের মুখের দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিললো সে। ধীর গলায় বললো,
—’ বিয়ে টা আপনি করতে চাননি তাইনা?’
ঈশান চোখে চোখ রাখলো না। মাথা উপর-নীচ করলো। গম্ভীর কণ্ঠে জবাব দিলো।
—’ হ্যা। ‘
—’ সারাদিন কি তার কাছেই ছিলেন?’
—’ হ্যাঁ ছিলাম। ‘
এবারও ঈশানের কাটকাট জবাব। তিতির খেয়াল করলো তার গলাটা কেমন শুকিয়ে আসছে। বু’কের ভিতরে এখনো ধড়ফড় করছে কিন্তু সেটা কেমন একটা যন্ত্রণা দায়ক। স্বাভাবিক গলায় বললো,
—’ না ফিরলেই তো পারতেন। বিয়েটা হতো না।’
ঈশান এবার তাকালো তিতির এর দিকে। মাথার লাল দোপাট্টা দিয়ে টানা ঘোমটা তো সে নিজেই একটু আগে তুলেছে। সেটা অবহেলায় মেঝেতে পরে আছে। তিতিরের গায়ে, ভেঙে বেনারসি পড়া। চুলগুলো পেছনে খোপাঁ করা। কপালে টায়রা পরা। খোপায় কি ফুল ওগুলো! নাম জানে না সে। কামিনী বোধহয়! নাকি জুঁই! গা থেকে এখনো একটা গহনাও খোলা হয়নি। গলার কাছটা বেশ লাল হয়ে গেছে সারাদিন এতো ভারি গহনা পরে থাকায়। ফর্সা ত্বকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সেটা। বাইরে বৃষ্টির দিকে তাকালো। গাছপালা এলিয়ে পরছে ঝড়ো বাতাসে। উদাস গলায় বললো,
—’বাধ্য হয়ে আসতে হয়েছে না হলে দিদা...।’
—’ঈশান ভাই আপনি আমাকে কখনো ভালোই বাসেননি না?’
নিজের কথা শেষ হওয়ার আগেই তিতিরের এহেন প্রশ্ন থমকে গেলো। সে পিছনে থাকা হাতের মুঠো অস্বাভাবিক শক্ত হলো আর ও দু দিকে অপরাধীর মতো মাথা নাড়লো।
—’আমার জীবনে রূষা ছাড়া আর কোনো মেয়ে নেই । সরি তিতির।’
তিতিরের মাথা কেমন একটা চক্কর কেটে উঠলো। ঈশানের কথাটা কেমন দারুণ জোরে শোনালো। মেয়েটার নাম তাহলে রূষা! কই এ নাম তো সে কখনো শোনেনি কেউ বলেনি তাকে, ঈশানও না। ধড়ফড় করা বুকটাকে শান্ত করতে চাইলো জোরে শ্বা’স নিয়ে, হলো না। আর কিছু জিজ্ঞেস করতেও ভয় হচ্ছে তিতিরের। শোনার ক্ষমতা তার হবে তো! কাঁপা গলায় অবশেষে জিজ্ঞেস করলো,
—’আর আমাদের বিয়েটা?’
—’বাধ্য হয়ে।’
—’আর আমাকে খুন করলেন কেন তাহলে?’
—’আমি তোকে বেঁধে রাখবো না।’
তিতির হেসে ফেললো। ঈশান চমকে তাকালো সেদিকে। মেয়েটার চোখেমুখে কোনো কঠিনতা নেই। চোখ দুটো কেমন একটা ছলছল করেছে। অসহায়ের হাসি, হেরে যাওয়ার হাসি। বেইমানির স্বীকার হওয়ার হাসি।
—’বেঁধে ফেলেছেন ইতিমধ্যেই। তিন কবুলের মানে জানেন? ‘
ঈশান নিজের মনটাকে পাথর চাপা দিলো একপ্রকার। চোয়াল শক্ত করে কোনোমতে বললো,
—’ডি’ভোর্স চাই আমার। মু’ক্তি দে আমাকে। প্লিজ। আমি রূষা কে ছাড়া আর কাউকে বউ হিসেবে মানতে পারবো না।’
তিতিরের নিজে অন্য গ্রহের মানুষ বলে মনে হলো। পায়ের নিচটা কেমনটা শূন্য শূন্য লাগছে। শরীরে বল পাচ্ছে না। কোনোমতে অস্ফুটস্বরে উচ্চারণ করলো,
—’বিয়ের প্রথম রা”তে বলছেন ডি”ভোর্স দেবেন? এতোটা স্বা’র্থপর কিভাবে হতে পারলেন আপনি? আমার জীবনটা কেন ন’ষ্ট করলেন? বিয়ের আগে একবার বলতে পারতেন অন্য কাউকে ভালোবাসেন। আপনি আমি এখানে থাকতাম না আজকে।’
ঈশান সেই আগের মতো কঠিন মুখে দাঁড়িয়ে আছে। তিতিরের চোখে চোখ রাখছে না। অপরাধবোধ হচ্ছে কি সত্যি! কি করতে পারে সে। কিচ্ছু তার হাতে নেই এই মুহূর্তে।
—’ ক্ষমা করিস আমাকে। আমি তোকে কখনো ভালোবাসতে পারবো না। ‘
তিতিরের বুক চি’ড়ে চি’ৎকার বেড়িয়ে এলো, আকাশ-পাতাল এক করে চিৎকার করতে ইচ্ছে হলো। এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো এই সময়টা যদি মিথ্যা হয়ে যেতো, কোনো দুঃস্বপ্ন হতো, চোখ খুলে দেখতো ওই সাজানো গোছানো ফুলের রাজ্যে ওই পাষাণ মানুষ টার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে। এমনটা তো হতেও পারতো। পারতো না কি!
তিতির কেনোমতে নিজেকে সামলানের চেষ্টায় ব্যাস্ত। ভালোবেসে তো তারা কেউ-ই বিয়ে করেনি। বাধ্য হয়েই মন কে মানাতে হয়েছে। রাহাত কে যখন ফোনে পাচ্ছিলো না, কিছুতেই যোগাযোগ করতে পারছিলো না। অপরাধবোধে জর্জরিত হয়ে তবুও নিজের মৃত বাবা-মা, নানা, নানু সবার কথা ভেবে রাজি হতে হয়েছে তাকে। বিয়ে খোদার মর্জি। সেই মর্জি মানতে হবেই। বিয়েের পর না হয় ভালোবাসবে। কবুলের সাথে সাথে টের পেয়েছিলো সেই পবিত্র অনূভুতি, যেটা আগে কখনো হয়নি। কানে কানে কেউ বলেছিলো এখন থেকে যা হবে,,সেটাই ভালোবাসা। কিন্তু এসব কি! এই ছিলো ভাগ্যে? তিতির জড়ানো গলায় বললো,
—’ এ জীবন আপনার নামে করে দিলাম। আর আপনি এত সহজে বলে দিলেন ভালোবাসা নেই, কিছু নেই?’
ঈশানের চোখজোড়া হঠাৎই র’ক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। কারণটা কি ধরতে পারা গেলো গেলো না। বাইরের ঝড়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে ঘরের মধ্যে একজোড়া নবদ’ম্পতির মনের ঝড়। উথাল-পাতাল হয়ে যাচ্ছে সব। এক নিমিষে মি’থ্যা মনে হচ্ছে সব স’ম্পর্ক। ঈশান তিতিরের কোনো প্রশ্নের বোধহয় গুছিয়ে জবাব দিতে পারছে না। আর না তো চোখে চোখ মেলাতে পারছে। গলা শুকিয়ে এসেছে অনেক আগেই, আচমকা শ্বা”স নিতেও ক’ষ্ট হচ্ছে। র’ক্তিম দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে একই গম্ভীর স্বরে বলতে গেলো কথা। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে গলা ভেঙে আসছে, কণ্ঠ কিছুতেই কঠিন হচ্ছে না।
—’ আমি তো’কে ভালো’বাসি না। আমি সারাদিন রূষার সাথে ছিলাম। বুঝতেই পারছিস নিশ্চয়ই।’
আর কোনো যেনো শুনতে ইচ্ছে হচ্ছে না কিছুই, শুনতে পারছে না সে। ঠ’কে গেলো বোধহয় এ জীবনে, কঠিন ভাবে ঠ’কে গেলো। না তো তাকে যে ভালোবাসে সেই রাহাত ভাই তাকে পেলো, আর না তো সে যাকে ভালোবাসলো সেই ঈশান তার হলো। বিয়ের প্রথম রা’তে কোনো স্বা’মী যদি উপহার হিসেবে বি’চ্ছে’দ চায় সে নারীর ভাগ্য কে কি বলা যেতে পারে! কার ওপর অভিযোগ করা যেতে পারে? খোদার কাছে কি এই প্রশ্ন করা যাবে? নাকি সেটাও পা’প! তিতির এর তা জানা নেই। তিতির দু হাতে কান চেপে ধরলো। গাল বেয়ে গড়িয়ে পরলো নোনা জল। ফুঁপিয়ে উঠলো মেয়েটা। ভাঙা ভাঙা করে উচ্চারণ করলো কথাগুলো।
—’ আর বলবেন না দয়া করে। সহ্য করতে পারছি না। বুকটা এফোড় ওফোড় হয়ে যাচ্ছে। দয়া করুন এবার আমার ওপর একটু দোহাই লাগে আপনার..’
ঈশানের চোখ জ্বালা করছে। নিঃশ্বাস নিতেই পারছে না। পেটের কা’টা অংশের ব্য’থা অনুভব করতে না পারলেও সেই ব্য’থাটা বুকের বাঁ পাশে হচ্ছে। কারণ কি এটার? সে তো সত্যিই চায়নি প্রথমে বিয়েটা, মি’থ্যে ছবি দেখেও বিশ্বাস না করলেও রে’গে গিয়েছিলো, ওর সেই প্রে’মিক পু’রুষ এর কথা বলায় একপ্রকার জেদেই রাজি হয়েছিলো বিয়েতে। তাহলে মেয়েটার আ’ক্ষেপ এ তার কষ্ট কেনো হচ্ছে৷ ঈশান চুপ করে রইলো। মুখে কোনো কোমলতার ছাপ আনলো না। তিতির ততক্ষণে মেঝেতে বসে পরেছে। আশ্চর্যজনক ভাবে এখন কাঁদছে না। বসে আছে পাথরের মতো। স্থির নজর ঈশানের পায়ের দিকে। ঈশান নিচু হয়ে মেয়েটাকে তুলতে গিয়েও তুললো না। তিতির চোখদুটো মুছলো। কান্নার জলে চোখের কাজল ছড়িয়ে গেছে, তবুও কি স্নিগ্ধই না লাগছে মেয়েটাকে। হাসলো তিতির, সে হাসিতে বিদ্রূপ নাকি অবহেলা ঈশান সেটা ধরতে পারলো না। মুখ তুললো ঈশানের দিকে।
—’বেশ! আপনার নামে কবুল পরে, আপনাকে ভালোবেসে যখন কলঙ্কই লাগলো তবে সে কলঙ্কই মঞ্জুর। ভালোবাসা ভালো থাকুক। আপনার অনুরোধই রইলো। দেবো মুক্তি।’
ভালোবেসে কলঙ্ক! ভালোবাসা..? ঈশান চমকে তাকালো তিতির এর দিকে। তিতিরের মুখে আর কান্না নেই। কেমন একটা নির্জীব মনে হচ্ছে মেয়েটাকে। ঈশান কথা বাড়াতে পারলো না। তিতির ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো রোবটের মতো।
—’ তোর দায়িত্ব নেবো আমি চিন্তা করতে হবে না। আর সবার সমানে আমরা স্বাভাবিক কাপল হিসেবেই থাকবো। থাকতে হবে আরকি। ঘরের ভিতর আমাদের মধ্যে কি সম্পর্ক সেটা বাইরের কেউ জানবে না। সময় মতো সবাইকে সব জানিয়ে দেবো। এখন জানালে দিদা স’হ্য করতে পারবে না। তার জন্যই যখন এতো কাহিনি করতে হলো নাটক’টা না হয় চলতে থাক। তারপর তোর জীবন তোর মতো, যা চাইবি, যেভাবে চাইবি হবে।’
তিতির কথা বললো না। ঈশানের কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনলো। অসহায় চোখে তাকিয়ে রইলো সামনের হৃদ’য়হীন, পা’ষাণ স্বামী নামক একটা মানুষ এর দিকে। ঈশান আলমারি খুলে জামাকাপড় বের করে ঢুকে গেলো ওয়াশরুমে। কয়েক মিনিট এর মধ্যে বেড়িয়েও এলো। বেড সাইট টেবিল থেকে মেডিসিন বের করলো কিছু একটা। চোখের ওপর হাত রেখে বিছানায় সটানে শুলো। তিতির তাকিয়ে রইলো সেদিকে। কি করবে সে এখন, কার কাছে যাবে। এই দুঃখের ভাগ নেয়ার তো কেউ নেই।বেশ কিছুক্ষণ পর ঈশানের সাড়াশব্দ পাওয়া গেলো না আর। কড়া ওষুধ এর ডোজে ঘুমিয়ে পরেছে। তবে সে যে আ’ঘাত পেয়েছে সে কথা তিতির জানলো না, সে আ’ঘাতের হদিস এখনো তিতির পায়নি। তাই ঈশানের ঘুমে অ’ভিমান, নিজের ওপর মায়া, আ’ক্ষেপ আরও দ্বিগুণ হলো।
ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো বেলকনির দিকে। দরজা খুললো। বাইরে প্রচণ্ড ঝড় বইছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসেবে দশ নাম্বার সতর্ক সংকেত টাইপের ঝড়। আজ হঠাৎ করেই সে খুব সাহসী হয়ে গেলো। অন্ধকার ভ’য় পাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানিতে চিৎকার করে মানুষ খোঁজা মেয়েটা আর ভয় পেলো না। ঘাড় ঘুরিয়ে একবার দেখলো ঈশানকে। বারান্দায় তাই গ্লাস সরানোতে ঘরে দমকা বাতাস ঢুকছে। ঈশানের বোধহয় ঠাণ্ডা লাগছে। মুচকি হাসলো। এসে দাঁড়ালো বারান্দায়, গ্লাসটা লাগিয়ে দিলো। মুহূর্তেই ভিজে একসাড় হয়ে গেলো সে। মুষলধারে বৃষ্টি, সে বৃষ্টির পানিতে তার দুঃখ, আজকের অপমান, সব কি মোছা সম্ভব? নয় বোধহয়। গায়ে এখনো বিয়ের বেনারসি’টা, গা ভর্তি গহনা খোলেনি সে। চুলগুলো খুলে গেলো বৃষ্টির তোরে। একরাশ দীঘল কেশরাশি ছড়িয়ে গেলো কোমর ছেড়ে, ধুয়ে যেতে লাগলো সাজসজ্জা। চোখের কাজল, ঠোঁট ভর্তি লাল টকটকে রং সব নিজ হাতে ডলে তোলার চেষ্টা করলো। বসে পরলো সেখানে। এক হাতে মুখ চেপে গগনবিদারী কান্নার শব্দ আটকালো।
এক অদ্ভুত ইচ্ছে হচ্ছে তার। দৌড়ে গিয়ে ঈশানের বুকে ঠাঁই নেওয়ার ইচ্ছা। খুব করে ইচ্ছা টা হচ্ছে।
তিতির পাগলের মতো হেসে উঠলো, বেনারসির আঁচল খানা দু হাতে নিয়ে পরখ করলো, বুক চি’ড়ে চি’ৎকার বেড়িয়ে আসলো। আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠলো।
—’ খোদা কিসের শা’স্তি দিলে তুমি? কিসের শা’স্তি? বিয়ের রা’তে স্বামী বলছে সে অন্য নারীকে ছুঁ’য়ে এসেছে। এটা প্রাপ্য ছিলো আমার? এটা? কি করবো এখন আমি। কার কাছে যাবো। কি করবো জবাব দাও।’
ঝড়ো বাতাসের তীক্ষ্ণ শব্দে ঢাকা পরে গেলো মেয়েটার সে ক’লিজা ছেঁ’ড়া আ’র্তনাদ। লুটিয়ে পরা শরীরটা ছেড়ে দিলো উন্মু’ক্ত টা’ইল’স্ এর ওপর। উপুড় হয়ে পরে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো। গায়ের বেনারসিখানা টেনে ছিঁড়ে ফেলতে চাইলো।
প্রকৃতি আজ বোধহয় আর শান্ত হবার নয়, না বৃষ্টি একবিন্দু কমলো আর না তো ঝড়ের গতি। একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে দুটো। আচমকা কোথা থেকে এক গাছের ভাঙা ডাল এসে ছুঁ’য়ে গেলো তার ডান হাত। মুহূর্তের মধ্যে চামড়া ছড়ে গেলো। গলগল করে র’ক্তে ভেসে গেলো আশপাশ। দুর্বল শরীর, মানসিক চাপ কোনোটাই আর তার ছোট্ট মস্তিষ্ক নিতে পারছে না যেনো। শরীর তো বল শূন্য। সে ওখান থেকে জোর করে ওঠার চেষ্টাও করলো না। এই প্রলয়ংকারী আবহাওয়াও আজ তার মনের ওপর ভয় ধরাতে পারলো না। বরঞ্চ আরও সে প্র’লয়ে দৃষ্টি রেখে জড় পদার্থের মতো বসে রইলো মেয়েটা। অনুভূতি গুলো কাজ করতে চাইছে না, মাথার ভিতরটা ফাঁকা হয়ে আসছে। ঘোর অন্ধকারের মধ্যে ঘর থেকে ভেসে আসা ফেইরি লাইটের সোনালির আলোর রশ্মি তার গায়ে পরেছে। আধখোলা লাল বেনারসি গায়ে, এলোমেলো চুলে জবজবে অবস্থায় পরে রইলো সেখানটায়। কতক্ষণ সে বরফশীতল বৃষ্টির ফোটাগুলো তার গায়ে পরতে অনুভব করলো তা জানা নেই। তবে জ্ঞা’ন হারা’লো খুব দ্রুত।
*
সারাদিন বিয়ে বাড়ির এতো এতো কাজকর্মের পরেও এখনো নিজেদের রুমে ঘুমাতে যায়নি কেউ। রাত বাজে দেড়টা। সবাই মিলে আড্ডায় মেতেছে সাজিদ, অনিমার জন্য বরাদ্দকৃত রুমটায়। রিশা, রোশনি, রাফিকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ঘুমানোর জন্য। বাকিরা এখনো এখানেই। সবার আলোচনার বিষয়বস্তু অবশ্য ঈশান আর তিতির। সাজিদ চোখ কুচকে শুয়ে আছে অনিমার কোলে মাথা রেখে, তার প্রচণ্ড মাথা ব্যথা। কিন্তু আড্ডা দেওয়ার মুড ও ষোলআনা।। বিছানার আরেক পাশে নিশি, নূরি আর রিতু বসা। সামনের সোফার ওপর নাইম আর নিয়াজ।
নিয়াজ বারবার আড়চোখে দেখছে নিশিকে, মেয়েটা গাল ফুলিয়ে বসা। আজ আবার সে কি করলো তার হিসেব তো কিছুতেই মিলছে না। মেয়ে মানুষ নিয়ে এই এক সমস্যা। কেন রাগ করে নিজেরাও জানেনা।
—’ তোদের কি মনে হয় ঈশান কি করবে?’
সাজিদ কপাল ডলে নাইম এর কথায়। ফিচলে হাসে।
—’ সেটা কিভাবে বলি। ও শা’লা এক নাম্বার এর গি”রগিটি। এই রেগে যায়, এই সব শান্ত। এখন কি করছে ওই জানে।’
—’চল একবার দেখে আসি শব্দ টব্দ তো পাওয়া যাবেই। এহেম এহেম.. মানে কিছু হলে।’
নিয়াজের ঠোঁ’টকাটা কথায় কুশন ছু’ড়ে মা’রলো নিশি। চোখ রাঙিয়ে তাকালো। নিয়াজ বাঁকা হাসলো। কুশনটা জড়িয়ে নিলো বুকের মধ্যে।
—’ সবার মুখ ফা’টা বেলুন এর মতো হলো কেন! কি আশ্চর্য। নরমাল বিষয় এটা! শব্দ না হওয়াটাই তো আর খারাপ দেখায় তাইনা? পারফরম্যান্স ভালো হলে শব্দটাও জোশ হবে..’
—’আ’হ নিয়াজ থামবি তুই।’
নাইমের ধমকেও নিয়াজ থামলো না। বরঞ্চ সবার ধমক, নিশির চোখ রাঙানো সব উপেক্ষা করে একইরকম বিজ্ঞের মতো তার উল্টাপাল্টা বুলি গুলো আওড়াতে রইলো,
—’ চল না। দেখে আসি। ওইরকম পুতুলের মতো বউ রেখে শা’লা কেমনে আজ রাগ দেখায়, দেখবো।’
সাজিদ দু দিকে মাথা নাড়ে। একে একে সবার দিকে অসহায় দৃষ্টি বোলায় নিয়াজ। সবাই নাকচ করে দেয়।নিয়াজ বেশ হতাশ হলো। নিশি মনে মনে এই বে’হায়া লোকটাকে নিয়ে মহা বিরক্ত। ভাইটাও তার, বোনটাও তার। তাদের বা’সরে কি হচ্ছে সেটা শুনতে যাওয়ার জন্য ছটফট করছে এই অসভ্য লোকটা। তাও আবার তারই সামনে। ন্যূনতম ল’জ্জাবোধ যদি থাকে। এই নি’র্লজ্জ লোকের প্রে’মে সে কিভাবে পরেছিলো ভাবতেই মেজাজ খারাপ হয়ে আসে।
নূরির ফোনে ক্রমাগত কল এসে যাচ্ছে। সে বারবার কেটে দিচ্ছে কলটা। উশখুশ করছে রুম থেকে বের হওয়ার। নিশির চোখ এড়ায় নি সেটা। আবার ব্যাস্ত ভঙ্গিতে কলটা কেটে দিতে দেখেই নিশি জিজ্ঞেস করে বসলো নূরিকে,
—’কে কল করছে।’
নূরি চমকে উঠলো। কেমন একটি হাসলো।
—’রং নাম্বার, বড়পু। ঘুম পাচ্ছে। রুমে যাবেনা।”
—’তুই যা। আমরা আসছি।’
নূরি অপেক্ষা করে না আর। দ্রুত হাতে বেড়িয়ে যায় রুম থেকে। নিজের রুমে এসে দরজা আটকে বুকে হাত দিয়ে শ্বাস ছাড়ে। অল্পের জন্য ধরা পরেনি আজকে। বিছানায় গা এলিয়ে দিলো। কল ব্যাক করলো কাঙ্ক্ষিত নাম্বার টাতে। ওপাশের মানুষ টার অভিমান জড়ানো গলা শুনতে পাওয়া গেলো।
—’কখন থেকে কল করছিলাম, ম্যাডাম।’
নূরি মিষ্টি হাসলো।
—’আমি তো বলেছিলামই সময় মতো কল করবো।’
—’রাত দুটো বাজে। আপনার সময় কখন হতো? আমার বুঝি ঘুম পায়না। ঘুমাবো তো।
’
—’না করেছিলাম? ‘
—’আপনার সাথে কথা না বলে এই তিন বছরে একদিন ও ঘুমিয়েছি আমি।’
নূরি হেসে ফেললো। প্রশান্তির হাসি।
—’জানো ইয়াজ একটা মজার ঘটনা। আজকে লক্ষ্য করলাম হুট করে।’
—’কি বলোতো।’
—’ বড়পুর বয়ফ্রেন্ড এর নাম নিয়াজ। বলেছিলাম না তোমাকে? নিয়াজ ভাই? বড় ভাইয়া বন্ধু? তোমার নাম ইয়াজ। মিল দেখছো?’
ইয়াজ শব্দ করে হাসলো।
—’কাকে ডাকতে কাকে ডাকবে খেয়াল রেখো।’
—’তা ঠিক... শোনো না।’
ওপাশের পুরুষটাও মনোযোগ দিলো।
—বলুন ম্যাডাম।”
—’তোমার বাড়িতে আমাদের কথা জানিয়েছো?’
খানিক সময় নিয়ে জবাব এলো ওপাশ থেকে।
—’ জানাবো…’
নূরিকে অধৈর্য লাগলো।
—’আর কত পরে! তিন বছর হয়ে গেলো।’
—’আমি তো আর পালিয়ে যাচ্ছি না। জোর করে বিয়েও দিচ্ছে না আমাকে। তাহলে এতো তাড়া কিসের? ‘
নূরি আহত গলায় বললো,
—’আমাকে তো দিতে পারে। তখন!’
—’করে নেবে বিয়ে।’
— ইয়াজ!”
উচ্চস্বরে হাসির আওয়াজ এলো।
—“মজা করছিলাম তো।”
—“আমি জানাবো বাসায়।”
—“নাহ্...”
এতো জোরে না শুনে চমকে উঠলো নূরি। কান থেকে ফোন খানিকটা সরাতে হলো। ইয়াজ সমালে নিলো সাথে সাথেই। গলা পরিষ্কার করলো
।
—“মানে আমি ছেলে। আমি আগে বলি। মেয়েদের বাড়িতে জানালে দেখবে দু দিন পর থেকে সম্বন্ধ নিয়ে আসছে তোমার পরিবার।”
—“তা ঠিক বলেছো।”
—“তা বললে না তো আজকে কিসের ব্যাস্ততা তোমার এতো?”
নূরি কপাল চাপড়ালো। এতো তাড়াহুড়োর মধ্যে বলতে ভুলেই গেছিলো। আফসোস এর সুরে বললো।
—“তোমাকে জানাবো, তুমি তো কয়েকদিন ফোনই ধরছো না। তোমাকে নেটওয়ার্ক এই পাইনা। বড় ভাইয়া আর বার্বির বিয়ে হলো।”
ওপাশের ব্যক্তি চমকে উঠলো বোধহয়। গলায় একরাশ বিস্ময়।
—“ঈশান এর বিয়ে!”
—“হুম।”
—“বার্বি মানে তোমার ওই ছোট ফুপাতো বোনটা না?”
—“হ্যাঁ গল্প করতাম না?”
—ওয়াও ইন্টারেস্টিং। কাজিন লাভ!”
নূরি দীর্ঘশ্বাস ফেললো।
—“এখনো লাভ ডাভ হয়নি। ভাইয়াকে তো জানোই।
একরোখা। হুট করে বিয়ে করানোয় রেগে আছে। তবে সে রাগ ধরে রাখতে পারবে না দেখো... বার্বি কে কাছে পেলে সব কন্ট্রোল এ পানি ঠেলে ভাইয়া ঠিক গলে যাবে।'
—“নূরি রাখি কেমন। সকালে আবার হসপিটাল এ ছুটতে হবে।”
তার কথাগুলো কি ইয়াজ শুনলো না! এভাবে এড়িয়ে গেলো কেন! তবে সে কথা জিজ্ঞেস করা হলো না।
নূরি ব্যাস্ত হয়ে শুধালো,
— “ফিরবে কবে?”
—“সামনে সপ্তাহে সম্ভবতা।”
—“আন্টির শরীর...”
—“এখন ঠিক আছে।”
কল কেটে গেলো। ফোনের হোম ওয়ালপেপার দেওয়া ছবিটায় ঠোঁ’ট ছোঁয়ালো। বাসায় জানাবে সে। কাউকে না জানালেও অন্তত নিশি আর নয়ন আর ঈশান কে জানাবে। অনেকদিনই তো হলো। ইয়াজ বারবার চাকরির দোহাই দিচ্ছিলো, এখন সেটাও পেয়েছে, সেটেল হয়েছে। তার পড়াশোনা চলবে। বিয়ের পর কি পড়াশোনা করে না মানুষ! করে তো। এই যেমন তার বার্বিটার বিয়ে হলো। কত বয়স মেয়েটার। তার কি ওর জীবন আটকে থাকবে! থাকবে না তো। তার বড় ভাইয়া ঠিক পড়াশোনা করাবে। ইয়াজ ও তো তাকে পড়াশোনা করাবে, ক্যারিয়ারে সাপোর্ট করবে। সেটা সে খুব ভালো করে জানে। তাহলে সমস্যা কোথায় আর! তাছাড়া ইয়াজ এর মা অসুস্থ। সে ছেলে মানুষ হয়ে আর কতটা যত্ন নিতে পারে। সে বউ হয়ে গেলে মায়ের মতো আগলে রাখবে একদম।
*
পুরো দেওয়ান বাড়িতে নি’স্তব্ধতা। মধ্যরাত। সবাই ক্লান্ত শরীরে অবশেষে যার যার রুমে চলে গিয়েছে। বাড়িতে এই মুহূর্তে একটা কাকপক্ষীও জেগে নেই। বলা বাহুল্য প্রকৃতির তান্ডব এখনও থামেনি। আর না তো বিন্দুমাত্র কমেছে। টানা বৃষ্টি তে বাইরে হাঁটু সমান পানি জমে গেছে প্রায়। অসময়ের এমন বৃষ্টির কারণ সবার অজানা।
ঈশান চোখ পিটপিট করে তাকালো। ব্যাথায় মুখ কুচকে গেলো। ওষুধ এর ডোজ নেওয়ার টাইম হয়েছে। শরীরটা ভীষণ ম্যা’জম্যা’জ করছে। ধীরে সুস্থে বিছানায় হেলান দিয়ে বসলো। বেড সাইট টেবিল থেকে ব্যা’থার ওষু’ধ বের করে খেলো। হঠাৎ থমকে গেলো সে। মনে পরে গেলো আজ তার বি’য়ে ছিলো। ঘরময় ফুলে ফুলে সজ্জিত। চমকে এদিকওদিক তাকালো ঈশান। তিতির কে কোথাও দেখতে পেলো না।
বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। এগিয়ে গেলো দরজার দিকে। উঁহু, দরজা ভিতর থেকেই আটকানো। কিন্তু ঘরের কোথাও তিতির নেই। বাইরে ঝড়ের শব্দ কানে বাজছে এখনো। সোফা, বিছানা এমনকি মেঝেতেও নেই। হঠাৎ বেলকনির থাই গ্লাসের দিকে চোখ পরতেই কি মনে করে ছুটে গেলো ওদিকে। দরজা বন্ধ, অথচ পুরো রুমে কেউ নেই। তার মানে একটাই দাঁড়ায়। গ্লাস ঠেলে সামনে তাকাতেই হতবিহ্বল হয়ে গেলো ঈশান। তার বিশাল বেলকনির মাঝ বরাবর কাত হয়ে পরে আছে তিতির। বৃষ্টির ফোঁটা আ’ছড়ে পরছে মেয়েটার ওপর। গায়ের শাড়ি প্রায় আ’ধখো’লা। বুকের ভিতরটা একটা হার্ট বিট মিস করলো। শ্বাস নিতে ভুলে গেলো মেয়েটার এই অবস্থা দেখে। নিজের ব্যথার কথা ভুলে ছুটে গেলো তিতির এর কাছে। হাঁটু ভেঙে বসে পরলো।
দমকা হাড়হীম করা ঠান্ডা বাতাসে দাঁড়িয়ে থাকা কষ্ট কর। সেখানে এই মেয়ে কতক্ষণ এমন পরে আছে কে জানে। দু হাতে জড়িয়ে নিলো নিজের সাথে। শাড়ির আঁচল খানিকটা পেঁচিয়ে নিলো শরীরে। রুমে নিয়ে যাওয়া দরকার। পাঁজাকোলে তুলতে নিলো, পেটের কা’টা থেকে গলগল রক্ত বেরোলো তার। ব্য’থায় চোখমুখ খিচে নিলো। তুলতে পারলো না এ যাত্রায়। তার আঘাত অনেকটাই গভীর কিনা.. আ’ঠারো টা সে’লাই পরেছে, বাড়ির কাউকে এতো কথা জানায়নি ইচ্ছে করেই। গালে হাত দিয়ে ডাকলো তিতির কে। প্রচণ্ড জ্ব’র মেয়েটার গায়ে।
ঈশানের বুকটা ধকধক করছে। এ কি অবস্থা। চোখমুখ কাজল, লিপস্টিক এ লেপটে আছে।নিজের পায়ের ওপর মাথা রাখলো তিতিরের। বৃষ্টির তোরে তাকানো যাচ্ছে না।ব্যস্ত ভাবে ডাকলো সে,
— “তিতির, অ্যাই তিতির।”
উষ্ণ হাতের স্প'র্শ গা'লে লাগতেই কিছুক্ষণ পর তাকানোর চেষ্টা করলে তিতির। পারলো না। ঈশানের ঘোলাটে মুখটা চোখের সামনে একবার দেখলো। সে মুখজুড়ে রাজ্যের উ’দ্বেগ। তিতির এর অবশ্য সেটা স্বপ্নই মনে হলো। চোখ বুজে এলো। দুর্ব’ল হাতে জ’ড়িয়ে ধরলো ঈশানের গলা। মুখ গুজলো ঈশানের উ’ন্মুক্ত গলায়। ঈশান এর শ’রীর কেঁপে উঠলো। তিতির অস্ফুটস্বরে বললো,
—“আমার খুব শীত লাগছে ঈশান ভাই। জ’ড়িয়ে ধরবেন একবার?”
ঈশান বাধ্যের মতো কো’মড় টা জ’ড়িয়ে ধরলো। তিতির এর শাড়ির বেশিরভাগ অংশই খো’লা। ন’গ্ন পে’ট আর পিঠে ঈশানের ছোঁ’য়া লাগতেই শরী’রে শি’হরণ বয়ে গেলো তিতিরের। আরও ভিতরে ঢু’কে যেতে চাইলো ঈশানের। মুখ ঘ’ষছে ঈশানে বুকে। ঈশান চোখমুখ খি’চে নিলো। অ’স্থির হয়ে ওঠা বুকটা তে শান্ত করার উপায় এখন তার নেই, এতো গভীর না’রী স্পর্শে সে চেষ্টা করাও বৃথা। তবে নিমিষেই দুর্বল হাতের বাঁধন ঢিলে হয়ে আসলো তিতিরের। ঈশান আগলে নিলো।
— “তুই মাঝরাতে এই ঝড়ের মধ্যে ভিজছিস! এসব বেনারসি পরে! মাথা খারাপ তোর?”
তিতির তখনও ঈশানের ভাজ করা হাঁটুর ওপর। ঈশানের এক হাত তার কোমড়ে, অন্যটা পিঠে। তিতির দু হাত বাড়িয়ে দিলো ঈশানের দিকে। আকুল গলায় বললো,
—“জ’ড়িয়ে নিন না একবার।”
ঈশান পরখ করলো গোটা না’রী দে’হকে। দমকা বাতাসে বু’কের ওপর থেকে স’রে গেছে খোলা শাড়ির আঁ’চলখানা। ভে’জা শরী’রে না’রী দে’হের ভা’জ একদম সুস্পষ্ট। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা মেয়েটার মুখচোখ, উন্মুক্ত গ’লায় আছড়ে পরছে। ঢোক গিললো ঈশান। এভাবে এখানে পরে থাকার মানেই হয়না। তিতিরকে আবার কোলে তুলতে উদ্যৎ হলো। নিজের ব্যথাকে তুচ্ছজ্ঞান করে দাঁতে দাঁত চেপে তুলে নিলো কোলে।
—“গা পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে। চল ভিতরে চল।”
তিতির হঠাৎই ছো’টাছুটি শুরু করলো। কোলের ওপর।
—“ছোঁ’বেন না আমাকে। নামান বলছি। এভাবে ওই রূষা
কে কোলে তোলেন আপনাদের বি”শেষ মুহূর্তের সময়? তাইনা? ঈশান ভাই?”
তিতির এর উল্টাপাল্টা কথায় হতভম্ব হয়ে গেলো ঈশান। মেয়েটা কিসব বলছে। নেহাৎ হুশ নেই। ঘরের দিকে নিয়ে গেলো। ধমকে উঠলো,
—“শা'ট আপ। জ্বরের ঘোরে কিসব উল্টাপাল্টা বকছিস!”
ঘরে ঢুকে পা দিয়ে ঠেলে দ্রুত গ্লাস আটকে দিলো। তিতির
তখন ভয়াবহ ছোটাছুটি করছে, ঈশানকে সরতে বলছে। জ্বরের তীব্রতায় কথা আটকে আটকে আসছে। ঠোঁট নাড়ছে, কথা শুনতে প্রায় কান লাগিয়ে দিতে হচ্ছে।
—“নামান আমাকে। আমি যাবো না আপনার সাথে। আপনি বে’ইমা’ন, দু’শ্চরিত্র। আমি চলে যাবো, মুক্তি দিয়ে যাবো। থাকবোনা এখানে।”
ঈশান কিচ্ছু বললো না। সোজা নিয়ে গেলো ওয়াশরুমে। বসালো বাথটাবে। ভেজা জামাকাপড় না পাল্টালে তারও শরীরের বারোটা বাজবে। তিতির তো মাথাই তুলতে পারছে না। তিতির ঢুলতে ঢুলতে উঠতে চাইলো। জ্বরের প্রকোপে মাথা ঘুরে উঠলো। হেলিয়ে মাথা...
তিতির লাল চোখ নিয়ে সরু চোখে তাকানোর চেষ্টা করছে।
—“কোথায় যাবি? তোর ওই রাহাত এর কাছে?”
তিতির এর মুখটা চুপসে গেলো। কাঁদো কাঁদো হয়ে গেলো। দু হাতে ঈশানকে ঠেলে সামনে থেকে সরাতে চাইলো। ঈশান হাঁটু গেড়ে ততক্ষণে বসে পরেছে। আরও সামনে চলে এসেছে। দুজনের নিঃশ্বাস আছড়ে পরছে একে অপরের ওপর। তিতির আবার ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করলো।
—“রাহাত ভাই? তার কাছে আমি বে’ইমান হয়ে গেলাম তো। আর দেখুন না। না পেলাম আপনাকে। রাহাত ভাই খুব ভালো মানুষ জানেন?”
ঈশান বাঁকা হাসলো।
—“দুজনের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে বললে কাকে নিবি?”
তিতির ধ্যান মেরে মাথা হেলিয়ে রাখলো। যেনো ভাবলো কিছু একটা। আবার ঠোঁট নাড়লো অস্ফুটে।
—“আপনি ওই রূষা কে নিলে আমিও রাহাত ভাইকেই নিবো। চলে যাবো আপনাকে ছেড়ে। বহুদূরে যাবো।”
ঈশান আচমকা চে’পে ধরলো তিতির এর গাল। ব্য’থায় গু’টিয়ে উঠলো। দুর্বল হাতে সরাতে চাইলো ঈশানের হাত। ঈশান ছাড়লো না। তিতিরের ঠোঁ’ট জোড়া গোল হয়ে ফাঁকা হয়ে আছে ঈশানের হাতের চাপে। ঈশান মুখ এগিয়ে নিয়ে গেলো। একদম এক ইঞ্চির দূরত্ব দুই জনের অধর জোড়ার মধ্যে। গরম নিঃশ্বাসে দুজনের শ’রীরে আ’ন্দো’লন তুলেছে।
ঈশান হিসহিসিয়ে উঠলো,
—“খু’ন করে ফেলবো তোকে। জা’ন নিয়ে নেবো। আরেকবার বল এই কথাটা। ম’রার শখ হয়েছে না?”
তিতির ব্য’থায় শব্দ করে কেঁদে উঠলো। ঈশান ছেড়ে দিলো গালটা। হাতের দাগ বসে গেছে। দাঁড়িয়ে পরলো। পরখ করলো মেয়েটাকে। জ্বরের ঘোরে বারবার শাড়িটা স’রিয়ে দিচ্ছে। ঠান্ডা লাগছে হয়তো, ভেজা কাপড়ে আরও অস্বস্তি হচ্ছে। ঈশান ঢোক গিললো। কি করবে সে! কাউকে ডাকবে! কি বলবে ডেকে এতরাতে। সে তিতির কে মানতে পারেনি? অন্য মেয়ের সাথে সময় কাটিয়ে এসেছে, তাকে ভালোবাসে এটা শুনে তিতির নিজের এ অবস্থা করেছে! অসম্ভব।
মেয়েটা নিজেও জা’মাকা’পড় পা’ল্টানোর অবস্থায় নেই। জ্বরের ঘোরে মা’তালের মতো কথাবার্তা বলছে, একদম গায়ে শক্তি নেই। ঈশানের কিন্তু একদম শীত লাগছে না। বরং নারী দে”হের ছোঁ’য়ায় তার শী’তল শ’রীর উ’ত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কেমন হাঁসফাঁস লাগছে। দ্রুত হাতে গায়ের টি শার্ট খুলে ফেললো। তিতির এর দিকে এগিয়ে মাথার ওপরের শাওয়ার’টা ছাড়লো। বৃষ্টির পানি মাথায় থাকলে এ জ্বর আরও বাড়বে। তিতির শীতে কেঁপে কেঁপে উঠছে। অর্ধ জ্ঞান প্রায়.।শাওয়ার বন্ধ করে কাছে ঝুঁকলো। কাঁপা হাতে শরী’র থেকে ভারি বে’না’রসি টা খু’লে ফেললো। ঈশান সরে দাঁড়ালো। চোখের সামনে বউ নামক না’রী’টি যদি এমন ভে’জা শরী’রে...
ঈশান চোখ ডলে। বুকের ভিতর টা স্থির নেই আর। শরীরে মনে হয় কেউ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তিতির বাথটাবে কাত হয়ে আছে। বা হাত হা বাইরে ঝুলছে। পে’টিকো’ট আর ব্লা’উ’জ গা’য়ে এই মুহূর্তে। না’রী দে’হের সমস্ত বা’ক ভাসছে ঈশানের চোখে। জ্বরে বারবার গু’ঙিয়ে গু’ঙিয়ে উঠছে মেয়েটা। সে শব্দও এই মুহূর্তে এত আ’বেদনময়ী লাগছে। ঈশান দ্রুত নিজের ভেজা প্যা’ন্ট পাল্টে শুকনো প্যান্ট পরে নিলো। তিতির কে কো’লে তুলে টুলে বসালো। আলতো হাতে গালে হাত দিয়ে ঝাঁকায়।
—“তিতির...”
—“হুমমম..”
—“তাকা ভালো করে দেখ এদিকে।“
—“ঠান্ডা লাগছে খুব।”
—“আমাকে পু”ড়িয়ে এখন তোর ঠান্ডা লাগে কিভাবে জবাব দে নি’র্বোধ... “
—“ঠান্ডা..”
—“উফফফ! তাকা ভালো করে।”
তিতির নিভু নিভু চোখে তাকায়। চোখজোড়া রক্তিম একেবারে। পুরো মুখটাই জ্বরে লাল হয়ে এসেছে।
—“বোস শক্ত হয়ে। আমি তোর জামা কাপড় নিয়ে আসছি কেমন?”
—“বিছানায় যাবো...”
—“এভাবে বলবি না। বিছানায় যাবো আবার কি! তাও এমন গু’ঙিয়ে গু’ঙিয়ে বলছিস। বুঝিস আমার য’ন্ত্রণা। মে’রে ফেলবে আমাকে।“
—”বিছানা..”
—“উফফফ আবার এক কথা। নেবো তো। এভাবে কিভাবে যাবি ভেজা গায়ে। একটু বোস।”
তিতির মাথা নাড়ে। ঈশান ধীরে ধীরে ওকে ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। তিতির হেলেদুলে পরে যেতে যেতে ঈশান আবার ধরে ফেলে।
—“মহা সমস্যায় পরলাম তো। এভাবে তোকে বিছানায় কিভাবে নেবো। একটু বোস। আমি কাপড় নিয়ে আসি।”
ওপর শীতে শরীর হীম হয়ে আসছে। এখন বিছানায় লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমানোর সময়। এখানে ভেজা কাপড়ে বসে থাকবে নাকি সে! কান্নার শব্দে বিরক্ত মুখে ঘুরে তাকালো ঈশান। তার শরীর এখন আর তার নিয়ন্ত্রণে নেই। অ’ঙ্গপ্রত্যঙ্গ সচল হয়ে উঠেছে কেমন। উ’ত্তাপ বেরোচ্ছে শরীর থেকে। না চাইতেও চোখ চলে গেলো তিতিরের আধা উন্মুক্ত ব’ক্ষ’জো’ড়ার দিকে। ভিতরের কালো ই’নার স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ঈশান জোরে জোরে শ্বাস নিলো। দু হাতে মাথার চুল খামচে ধরে দ্রুত হাতে নিজের হাতের তোয়ালে তিতির এর বুকের ওপর ছড়িয়ে দিলো।
—“এখানে বসতে বলেছি। আমি যাবো আর আসবো। আর কিছু খুললে কিন্তু আজ তোর স’র্ব’নাশ করে ছাড়বো। তারপর সকালে উঠে দু’শ্চ’রিত্র খেতাব আমার গ’লায় ঝোলালে আবার দ্বি’তীয় দ’ফা স’র্বনাশ করে বা’চ্চা ধরিয়ে দেবো একটা। একসাথে বড় হোস তখন দুজন। বে’য়া’দব মেয়ে।”
তিতির এর বোধগম্য হলো কি না সব কথাগুলো বোঝা গেলো না। তবে নাক ফোলালো। কেঁদে ফেলবে আবার। ঈশান ধমকে উঠলো।
—“কাঁ’দবি না বললাম। আমাকে সি’ডি’উস করার ধান্দা খালি।”
ঈশান দ্রুত পায়ে বেড়িয়ে এলো ওয়াশরুম থেকে। পুরো আলমারি খুঁজে একটা নরমাল জামা পেলো না। সব শাড়ি। মেজাজ দারুণ খারাপ হচ্ছে এবার। রাতভর এভাবে জ্বরের মানুষ বসিয়ে রেখে তারওপর সে মেয়ে তো তাকে আজ পাগল করতে উঠেপড়ে লেগেছে। সন্ধ্যা রাতে ডিভোর্স চেয়ে মাঝরাতে ক’ন্ট্রো’ল হারিয়ে বা’সর সেরে ফেললে বিষয়টা নিশ্চয়ই ভালো দেখায় না। তার সব প্ল্যান এক ধাক্কায় জ্বলে যাবে। তখন আরেক সমস্যা।
শাড়ি সে পড়াতে জানেনা। বাধ্য হয়ে নিজের শার্ট বের করলো আলমারি থেকে। বাথরুম এর দরজায় গিয়ে পা আটকে গেলো। খোদা জানে গিয়ে আবার বউ নামক নি’র্বোধ টাকে কি খোলা অবস্থায় দেখবে! ভয়ই করছে ঢুকতে। জোরেসোরে শ্বাস নিলো। এবার কিছু খুলে বসে থাকলে তারও কিছু করার থাকবে না আর। নিজের কো’ম’ড়ের বাকিটুকু খু’লে ফেলে রাত টা এ’ন’জয় করা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না তার। সম্ভবই না আর ক’ন্ট্রো’ল করা। বউ নামক আগুন এসে শ’রী’র ঘেষবে আর সে পু’ড়বে না সেটা সম্ভব! পারবে সে! সে তো পুরুষ। হা’লাল এর সা’র্টিফিকেট নিয়ে এমন কাছে টানলে দিনদুনিয়া ভুলবে না সে! চোখ বন্ধ করে বাথরুম এ পা রাখলো সে। দীর্ঘশ্বাস নিয়ে তাকালো সামনে। মুহূর্তে তার দুনিয়া থেমে গেলো। হৃদপিন্ড টা খাঁচা ছেড়ে বেড়িয়ে এলো বোলো। দু হাতে বা পাশে চেপে ধরলো সে। চোখ বন্ধ করে পিছিয়ে গিয়ে ধাক্কা খেলো দেয়ালে।
চলবে ইনশাআল্লাহ 🥀
🚫 রেসপন্স করবেন, পাখি'রা। ডিলিট হওয়ার মতো পর্ব এটা কোন হিসেবে! মেজাজ খারাপ হয়।