ফন্ট সাইজ:
থিম:
সাঁঝের মায়া

৩১তম পর্ব

লেখক: দুর এ দিলশাদ দুআ

#সাঁঝের_মায়া

#পর্ব ২৮

#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা

তিতির সরে যেতে পারছে না কেনো! ঈশানের সাথে না হয় গা’য়ের জোরে পারবে না, তবে মুখে তো কিছু বলা উচিত। তবে এখন সেটাও পারছে না। মুখ কাচুমাচু করে বসে আছে মেয়েটা। ঈশান গম্ভীর মুখে এক হাতে চেপে ধরে আছে ছোট ছোট ভাজ পরা মোমের মতো তু’লতু’লে পে’ট। অন্য হাত ব্যাস্ত হয়ে টাইপ করছে ল্যাপটপে।

তিতিরকে অবাক করে দিয়ে সত্যি সত্যিই চালু করে ফেললো মুভিটা। চোখের সমানে বড় বড় অক্ষরে লেখা উঠলো,”365 days”

আশ্চর্য বনে গেলো তিতির। সে ভেবেছিলো তাকে ভয় পাওয়ানোর জন্যই বলা হয়েছে কথাটা। এ লোকতো সত্যি সত্যি চালু করে ফেললে। হতাশ হয় তিতির। সারাদিন এক রাশ কথা জমা করে রেখেছিলো সে। রুষার কাছ থেকে বেড়িয়ে সেন্সলেস হওয়ার আগে তার কথা হয়েছে ঈশানের বন্ধু নাইম ভাইয়ের সাথে। অনেক কথা জেনেছে সে। যতটুকু জেজনেছে ততটুকু তে সে স্পষ্ট কোনো এক অজানা অধ্যায় এর আন্দাজ করতে পারছে।

কিন্তু সে সেটা মোটেই বুঝতে দেবে না। যতদিন না অবধি ঈশান নিজ মুখে স্বীকার করবে, নিজ থেকে মনের কথা জানাবে। এক চুলও এগোবে না সে। তিতির নড়াচড়া করেনা এখন। বু’কটা শব্দ করে আন্দোলন করছে। কোনোভাবে কেউ বাচাতে আসলে চিরজীবন কৃতজ্ঞ থাকতো সে। মুভি চালু করে দু’হাতে জড়িয়ে বাঁকা করে বসালো তিতির কে। দু পা টেনে পা’জাকোলে একসাইটে রেখে কো’মড় চেপে ধরে রইলো।

তিতির আড়চোখে তাকালো ঈশানের দিকে। লোকটার মুখ বড্ড স্বাভাবিক। এই অবস্থায় স্বাভাবিক কি করে থাকা সম্ভব। পুরো মুভি কি এখন এই মানুষ টার সাথে বসে বসে দেখতে হবে! ঈশান হঠাৎ গম্ভীর গলায় বলে উঠলে,

—”কি বলেছিলাম মনে আছো তো?”

—”ক..ক..কি?”

—” ক’নট্রোল কে আগে হারায়!”

— ”আমি এসবের মধ্যে নেই।”

—” ভয় পাচ্ছিস! “

—’কিসের ভয়! মোটেই না।”

ঈশান ফিচেল হাসলো। মুখটা এনে স্থির করলো তিতিরের কানের কাছে । গরম নিঃশ্বাসে শিওরে উঠছে শরীর। হাস্কিস্বরে বললো,

—” মেয়েমানুষ এর অবশ্য প্রচন্ড ধৈর্য। ভাঙ্গবে তবু মচকাবে না। তোর ক্ষেত্রেও সেটা হওয়াই স্বাভাবিক। তবে…”

তিতির তাকাতে চাইলে ঈশানের মুখে দিকে। তবে ঈশান তার খুবই কাছে। ঘা’ড় কাত করতে গেলেই ঈশানের নাক মুখের স্প’র্শ লাগছে তার কাধে।

—’তবে?’

—’আমি আমার গ্যারান্টি দিতে পারছি না কিন্তু। ‘

এ আবার কি কথা! গ্যারান্টি দিতে পারছে না তো তবে দেখতে হবে কেনো। মুভি এরই মধ্যে চলতে শুরু করেছে। কয়েক সেকেন্ড চলার পরেই মুখে বিরক্ত সূচক আওয়াজ করলো ঈশান। কেমন বিরক্ত গলায় বললো,

—’ শুরুর টুকু দেখে মজা নেই বল! এগিয়ে দেই।’

তিতির পুতুলের মতো বসে আছে ঈশানের কোলে। পায়ের আ’ঙুল খা’মচে ধরা বিছানার চাদর। দু’হাত মুঠো করে রাখা নিজেরই কোলের ওপর। তাকাচ্ছে না ল্যাপটপ স্ক্রিনে।

—- ‘ তাকাচ্ছিস না কেনো!’

—’ রোজা রমজান এর দিন। ক্ষমা করুন আমাকে। আর জীবনে এমন সেমন কথ বাড়াবো না আপনার সাথে। ‘

—’ কি আশ্চর্য! রোজা রমজান এর দিন বলে বউ কে রোমান্স শেখানো তো মানা নেই।’

একশ একবার বউ বউ করা হয়। হোক! সে কি ভুলে গেছে সব কথা। ভোলেনি। নাটক হোক আর সিনেমা, যে কারনেই হোক। বলেছিলো তো সে ওসব কঠিন কথা এতো সহজে ধরা দেবে সে!

ঈশান আলগোছে তিতিরের মু’খটা ঘুরিয়ে দিলো সিনেমার দিকে। শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত নেমে গেলো মেয়েটার। কোলের ওপরে নিজের ওড়না নিয়ে খোঁটাখুটি করা হাত টা এক ঝটকায় উঠে গেলো ঈশানের গায়ে। নিজের অ’জান্তেই হাতটা আঁ’কড়ে ধরলো ঈশানের উ’ন্মু’ক্ত কাঁধ। ঈশান গভীর মনোযোগ এ পরখ করতে ব্যাস্ত তিতিরের লজ্জায় রাঙা মুখটা, তাার ছটফটে কার্যকলাপ। তার এক হাত এখনো তিতিরের গাল চেপে ল্যাপটপ এর দিকে ঘুরিয়ে রাখা। তিতির যতবার চোখ বুঝছে হাতের চাপ তত দৃঢ় হচ্ছে।

ঈশানের হাত টা জোর করে সরিয়ে দিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে নিতে চাইলো সে। পারলো না।

—’ চোখ বন্ধ করছিস কেনো!”ল’

—’দেখবো না আমি ওসব। ছিহ্।’

—’ছিহ? হুম?’

গাল ছেড়ে হাত নামলো আবার কো’মড়ে। অন্য হাতে টান দিয়ে সরিয়ে ফেললো গ’লার ও’ড়না। জামার গলা অস্বাভাবিক বড়। ঈশান বিরক্ত হলো। তিতির বড় বড় করে তাকালো।

—’ তোকে কতবার বলেছি জামার গলা ছোট দিবি হু?’

—’ বলার পর আর জামা বানালাম কবে!”’

—’তা ঠিক!’

এক নজর ফেললো স্ক্রিনে। ভয়াবহ অংশ চলছে। ঈশানের ঘোরলাগা দৃষ্টি অনুসরন করে ভ’য়ার্ত ভবে ওদিকে তাকাতেই আৎকে উঠলো সে। ঈশানের হাত অবাধ্যতার সাথে নড়াচড়া করছে তার ন’গ্ন পে’টের ওপরে। ঈশান নিজের দৃষ্টিও সিনেমার দিকে রেখে হাস্কিস্বরে বললো,

—’ আমরা এভাবে ট্রাই করলে খারাপ হয়না কিন্তু। তাইনা বল? ওয়ানা ট্রাই?’

সর্বনাশা কথা। যে সিন চলছে ওটা ক্রিয়েট মানে কি! মরার বুদ্ধি! দু’দিকে সজোরে মাথা নাড়লো তিতির। চায়না সে। ঈশান ভ্রু বাকালো।

—’আর ইউ সিওর?’

আবার মাথা ঝাকায় মেয়েটা। ঈশান বাঁকা হাসে। আবার মুখ ঘুরিয়ে দেয় মুভির দিকে। কানের কাছে ফিসফিস করে বলে,

—’ আই থিংক যে গানটার জন্য এতদূর আসা ওই পার্ট টা এনজয় করা উচিত বল?’

বলা শেষ কাজ করতে দেরি নেই। ঝটপট মুখস্থের মতো সিনেমার অংশ এসে থামলো গানের কয়েক সেকেন্ড আগের মোমেন্ট এ। এখন কি ঘটবে জানে তিতির। মাথা ঘুরছে তার।

—’ পুরো অংশ টুকু দেখবি। মন দিয়ে দেখবি। তারপর ডিসাইড করবো কে হারলো, কে জিতলো।’

—’আমাকে নামান আগে আপনি। এভাবে এমন জায়গায় বসে…নামান আগে।’

ঈশান হাসে। হাস্কিস্বরে বলে,

—’ এটাই তো বাজির মেইন আকর্ষণ। এটাই তো শর্ত। এমন অবস্থায় কে কনট্রোল করতে পারে সেটা মেইন বিষয়।’

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে আ’ন্দোলিত হচ্ছে দুটো উ’ত্তাপ মানবদেহ। গভীর আ*দরে ম’ত্ত হতে চাইছে দুটো দে’হ। ঈশান আচমকা খিচে চোখ বুজে ফেললো। দাঁতে কা’মড়ে ধরলো নিচের ঠোঁট। তিতিরের বড় বড় ন’খ এরই মধ্যে দাবিয়ে দিয়েছে তার উ’ন্মুক্ত ঘা’ড়ে। স্বাভাবিক ভাবেই দ্রুত চলছে শ্বাসপ্রশ্বাস দুজনেরই। তিতির এলোমেলো দৃষ্টি লুকাতে ব্যাস্ত। ঈশানের নজরে নজর পরতেই রুহ কাপে তার। সেই দৃষ্টি! এই দৃষ্টি খু*ন করে তাকে।

তিতির এবার ধাক্কা দিয়ে উল্টে দিলো ল্যাপটপ। ঈশান বাধা দিলো না। তবে তিতিরকে সরতে দিলো না। তিতিরের খেয়াল হলো খা*মচে ধরে রাখা ঈশানের কাঁধের দিকে। হা হয়ে গেলো সে। রক্ত গড়াচ্ছে। ব্যাস্ত হয়ে মুখ খুলতে গেলো সে ওখানটা ইশারা করে। তার আগেই নরম ও*ষ্ঠজোড়া দখলে গেলো ঈশানের। ভেজা ছোট্ট একটা চু’মু দিয়ে থামলো সে। কো’মড়ে খা’মচে ধরা হাতটি জামার ভি’তরে অ*বাধ্যতা শুরু করেছে।

—’আর ইউ সিওর কিচ্ছু ট্রাই করতে চাসনা?’

—’ চ..চাইনা। ‘

ঈশান হাতের মধ্যে আধভেজা চুলগুলো পেচিয়ে নেয়!মু খ ছুঁইছুঁই তিতিরের মুখ।

—’সিওর? হু? থ্রিল চাসনা? ‘

মাথা নাড়ে তিতির। ঠোঁ’টে ঠোঁ’ট কা’মড়ে রাখে। মুখটা লাল হয়ে গেছে একদম। ঈশান নাক ঘ’ষে মেয়েটার ক’ন্ঠদেশে। আ’বেশে বন্ধ হয় চোখজোড়া। ঈশান ভেজা চু’মু খায় সেখান টা। আদরের তীব্রতায়।মূহুর্তে লাল টকটকে হয়ে ওঠে। ঝিরিঝিরি র*ক্তের ফোটা বেড়িয়ে গেছে। ব্যা’থায় বারবার মৃদু শি’ৎকার দিচ্ছে সে।

—’ তোর শরীর তো অন্য কিছু বলছে। ‘

ঈশানের কন্ঠে চমকে ওঠে তিতির। ঈশানের কা*মুক দৃষ্টিতে খে’ই হারাচ্ছে নিজের ওপর।

—’বলুক। আমি মুখে স্বীকৃতি দিয়েছি কি? দেইনো তো।’

ঈশান বেড সাইট টেবিল থেকে আচমকা কিছু একটা বের করে। ঝনঝন শব্দে চোখ বড় বড় করে তাকায় সে।হতভম্ব হয়। অস্ফুটস্বরে বলে ওঠে,

—’ হ্যান্ডকাফ? ‘

ঈশানের হাতে তখন হ্যান্ডকাফ টা। ঘোরাচ্ছে আঙুলের সাহায্য। এমন অসহায় অবস্থায় ভীষন কান্না পেলো আজকে। পুরুষমানুষ এর জো’রের ওপর নারী কেনো অসহায়। সে যখন সম্মতি দিচ্ছে না,এতো জোর কিসের! কেনো দেখাবে! খাতা কলমে বৈধতা আছে মনে? সমাজ, আইন স্বীকৃতি দিয়েছে বলে ।ধর্মে হালাল হয়েছে বলে। তাহলে মন? মনের হিসেব মানা হবে না কেনো। মনের হিসেবে সে চায়না ঈশানকে এখন। যে পুরুষ এখনো তাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দেয়না ,ভালোবাসেনা, বারবার শুধু দে’হের চাহি’দায় কাছে টানে তাকে।এমন কেনো হবে!

—’ আমি চা..চা..চাইনা।ছেড়ে দিন আমাকে। ‘

—’ তোর শরীর চায়। তাহলে তোর চাওয়া হলো না সেটা!’

—’ আ..আ..আমি চাইনা। ‘

—’ বসে আছিস তো আমার কোলে। আমি টের পাচ্ছি তোর চাওয়া। আমার চাওয়া টের পাচ্ছিস না?’

কিছু একটার অনুভব করতেই গা হীম হয়ে গেলো তার। শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠলো মেয়েটার।

—’ক্যান ইউ ফিল ইট? হু?’

তিতির জবাব দেয় না। সত্যি বলতে সবদিক ভেবে দেখলে এই মূহুর্তটা শুধুমাত্র তাকে দূর্বল করা। রোজ রোজ তার ওপর এই এক অত্যাচার কেনো করা হবে!

—’ আ..আ..আমি কিচ্ছু ফিল করতে চাচ্ছি না, ঈশান ভাই। দয়া করে যেতে দিন আমাকে।’

ঈশানের মুখ গম্ভীর হলো কোমড় উচু করে ওকে নামালো কোল থেকে।বিছানায় বসা মাত্র ওড়না টা গলায় জড়িয়ে ফেললো সে।শরীর কাপছে।ঈশান একনজর তাকালো নিজের কোলের দিকে,সেদিকে তিতিরও তাকালো।হতভম্ব হয়ে গেলো।দ্রুত বিছানা থেকে নামতে উদ্ধত হতেই আবার খোচা খোচা দাড়ির ছোয়া পেলো কাধে।

___”চাচ্ছিস তো আমাকে।বাধা কোথায় হুম?”

তিতির নিজের ছন্নছাড়া দৃষ্টি সামলালো।তোতলানো গলায় বললো,

___”আর একদিন জোরজবরদস্তি করলে কেস করবো আমি আপনার নামে।”

শব্দ করে হাসতে ইচ্ছে হলো তিতিরের কথায়।বলতে ইচ্ছে হলো কেস টা কোনো থানায় নেবে তো!মুখে বললো,

___”কি বলবি কোর্টে?”

___”আ..আপনি আমাকে।আ..আ..আপনি আমাকে।”

ঈশান গলার স্বর খাদে নামায়।হাস্কিস্বরে বলে,

___”আমি তোকে কি?আদর করতে চাই শুধু?”

লজ্জায় শরীর কাপে তিতিরের।কি অবলীলায় লোকটা কথাগুলো বলে ফেলে।একফোটা লজ্জা থাকলে হয়।মুখ বাকিয়ে বলে,

____”অ*শ্লীল। “

ঈশান আঙুলের উল্টো সাইড তিতিরের গাল স্পর্শ করলো।ধীরে ধীরে স্লা*ইড করছে সেখানটায়।তিতির বুছানার চাদর খামছে বসে রয়।ঈশান আবার একই স্বরে বলে,

____”স্বামীর আদর যদি তোর মতো সব নারীর অ*শ্লীল লাগতো তাহলে দেশের জনসংখ্যা কবেই বিলুপ্ত হয়ে যেতো ডায়নোসর এর মতো। “

আশ্চর্য কথাবার্তা।ডায়নোসর রা কি স্বামী ডায়নোসরের আদরের অভাবে বিলুপ্ত হয়েছে নাকি!ইল-লজিকাল যুক্তি।

___”বিলুপ্ত হয়ে যেতাম তাও ভালো।তবু আপনার মতো ডায়নোসর এর সাথে এক মূহুর্ত নয়।”

ঈশানের হাতের আঙুল এখন এসে ঠায় নিয়েছে তিতিরের রক্তিম ওষ্ঠজোড়ার ওপর।ক্রমাগত উল্টেপাল্টে দলিতমথিত হচ্ছে ঈশানের আঙুলের চাপে।হাঁপাচ্ছে মেয়েটা।বুকের ওঠানামা ভীষন আবেদনময়ীর মতো দৃশ্যমান।

___”একবার আদর করতে দে।তারপর দেখবো এই সেম কথায় স্থির থাকতে পারিস কি না তুই।”

___”আমি এ জীবন দিব্যি কাটিয়ে দিতে পারবো।আপনার আ*দর ছাড়া। “

ঈশান ফিচেল হাসে।

___”সেটা তো এখনো করিনি বলে মনে হচ্ছে। “

___”তবুও দরকার নেই আমার।”

ঈশান মুখ সিরিয়াস করে।গম্ভীর গলায় বলে,

___”আমি অতো সাধু সন্ন্যাসী হতে পারবনা।আমার লাগবে বউ।বউকে আদর করবো আমি।যত দ্রুত মনকে মানিয়ে নিবি তত ভালো। না হলে আর কি!বেধে ফেলা ছাড়া উপায় নেই।”

ঈশান শেষ কথাগুলো বললো নিজের হাতের হ্যান্ডকাফ গুলোর দিকে তাকিয়ে।আতঙ্কিত হলো তিতির!মানে কি।বেধে ফেলবে মানে!এর আগে অন্য একট মুভি তে দেখেছিলে।সর্বনাশ…

___”ও..ও..ওই হ্যান্ডকাফ গুলো কি…

ঈশান নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে উল্টেপাল্টে পরখ করে জিনিসটা।মাথা নাড়ে বিজ্ঞের মতে।

___”হু।তোকে বাধার জন্য। এখন ভেবে দেখ।আদ*রের সময় আমাকে খা*মচে ধরে একটু হলেও শোধ তুলতে চাস?নাকি বন্দি হয়ে তোকে আদর করার পুরো স্বাধীনতাটাই আমাকে দিতে চাস।দুটোই আমি এনজয় করবো।চয়েজ ইজ ইওর'স।ভাব ভাব।

মেজাজ খারাপ হচ্ছে তিতিরের।সবকিছুতে ভয়,জোর,অশান্তি।ভালোবাসা কোথায় এখানে।দুজনের মন রয়েছে এদিকসেদিক। একসাথে হচ্ছে না।অথচ শরীর একসাথে করতে উঠেপড়ে লাগার কি মানে!

___”আমি কোনোভাবেই নিজেকে সমর্পণ করবো না।”

___”ইতিমধ্যেই চাচ্ছিস তুই।”

___”আপনার কল্পনায়। “

___”এখনো চাচ্ছিস।তোর চোখজোড়া বলে দিচ্ছে।বাধা কোথায় তাহলে?হু?”

তিতির অবাক হলো বোধহয় খানিকটা।বাধা কোথায় জানেনা সে!বাধা শুধু!গোটা দেয়াল খাড়া করা তাদের সামনে। আর বাধা দেখতে পারছে না!তিতির নিজের শরীরের তোলপাড় বেশ সামলে নিয়েছে।পেটের ওপরের ঈশানের হাতজোড়া দুহাতে সরালো।

____”শরী*রের ক্ষুধায় আমরা অনেক ভুলই করে ফেলি, ঈশান ভাই।তখন টের পাই না।এই মূহুর্তে আমার বা আপনার দুজনেরই শরীর সেই ভুলের ইশারা করছে।যে মূহুর্তে আমরা তাতে সায় দেবো।শরীরের কথা শুনবে।মস্তিষ্কের যুক্তি না মেনে।দেখবেন বেহায়া শরীরটার ক্ষুধা মিটে যাওয়া মাত্র আপনার বেহায়া মনটা মস্তিষ্ককে দায়ি করবে ঘটিয়ে ফেলা ভুলের জন্য। “

ঈশান বাকরুদ্ধ হয়ে শুনলো তিতিরের কথা!মেয়েটা সবেতে শরীর টেনে আনছে কেনো!সেদিন রাতে ওকে যে সে বললো তিতির প্রথম নারী যাকে ঈশান ছুুয়েছে বিশ্বাস করেনি মেয়েটা!ঈশানের মুখ কঠিন হয়।

___”আমাকে ভালোবাসিস তুই?”

তিতির একপলক তাকায় ঈশানের দিকে।কেমন একটা হাসে।

___”কি এসে যায় তাতে!”

___”এসে যায় বল।”

___”বুঝিনা।বাসি হয়তো বা বাসিনা।”

ঈশানের মুখজুড়ে কাঠিন্যে ফুটে উঠেছে।

___”নিজের সিদ্ধান্তের ওপর অটল না?”

___”আগে ছিলাম।এখন নই।”

___"রাহাত নামের ওই ছেলেকে ভালোবাসিস?

___""বাসা উচিত ছিলো।ভুল হয়ে গেছে না বেসে।"

ঈশান চুপ করে স্থির তাকিয়ে থাকে তিতিরের দিকে।দুজনের মধ্যে এতক্ষণ উপচে পড়া উত্তেজনায় ভাটি পরেছে। তিতির উঠে দাড়ায় বিছানা থেকে।টেনেটুনে জামাকাপড় ঠিক করে।ঘাড় ঘুড়িয়ে বাকা গলায় বলে,

___”একই প্রশ্ন আমিও করি তাহলে।ভালোবাসেন আমাকে?"

থমকায় ঈশান।বুকটা ধুকপুক করে উঠলো তার।মুখটা কেমন থমথমে হলো।

___”সামান্য প্রশ্নে জবাবে এতো দ্বিধা!বাসেন আমাকে ভালো?”

ঈশান নিজেও উঠে দাড়ায় বিছানায় থেকে।চেয়ারের ওপর থেকে কালো টি শার্ট টা এক ঝটকায় গায়ে জড়ায়।ভারি গলায় বলে,

___”এখনো না বোধহয়। “

বুকের ভিতরটা জ্বলে যায় তিতিরের।মলিন হাসে।হাসিতে স্পষ্ট বিদ্রুপের ছাপ।

___”রুষা কে ভালোবাসেন?”

___”না।”

___”ভালোবাসা ভুলে গেলেন এতো সহজে?”

___”আই নেভার লাভ'ড হার।

ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিতির।এতো এতো দ্বিধাদ্বন্দের ভিড়ে অসহ্যকর অনূভুতির মধ্যে থাকে সে সবসময়।

___”গ*ভীর ভাবে ছুঁয়েছেন ওকে কখনো?”

তিতির এর এ প্রশ্নে ঈশানের মেজাজ হারায়।

___”আমি একবারও বলেছি ওকে গভীর ভাবে ছুঁ*য়েছি আমি।”

___”বিয়ের রাতে বলেছিলেন।”

___"আমি বলেছিলাম আমি ওর সাথে ফি*জিকালি ইন*টিমেট হয়েছি?বলেছিলাম এই ভাবে স্পষ্ট করে?”

গা শিওরে ওঠে মেয়েটার।গা গরম হয় লজ্জায়।

___”ঈশান ভাই…”

ঘুরে দাড়ায় তিতির।মুখোমুখি হয় ঈশানের।গম্ভীর গলায় বলে,

___”আমাদের বিয়ের আজ ছয়দিন সবে।আর দশটা স্বাভাবিক বিবাহিত দম্পতির মতো সবটা শুরু হয়নি আমাদের। আমি আপনি আজকে দিয়ে একঘরে ছিলাম তিনদিন।দূর্ভাগ্যবশতঃ তিনদিনই আমি আপনি….

খানিক থামে তিতির।কেমন অস্বস্তি হচ্ছে।

___তুই আমি?”

___”আমি আপনি আমাদের নিজেদের কথাই রাখিনি।প্রথম রাতে আপনি মুক্তি চাইলেন নিজ ইচ্ছায়। আমারও আপত্তি নেই।অন্য নারীর ছো”য়া পুরুষ আমার প্রয়োজন নেই।সারাজীবন কুমারী থেকে যাবো।আমি যেমন আমার স্বামী তেমন না হলে আমার খুব সমস্যা। সেখানে খুব ভালো হয়েছে আপনি নিজেই মুক্তি চেয়েছেন।তবে সে যুক্তিতে উচিত কিন্তু আমার আপনার বিশাল দুরত্ব।আজ বাদে কাল আমরা আলাদা। কিন্তু এই মিথ্যা সম্পর্কের কলঙ্ক গায়ে নিয়ে ঘুরতে আমার সমস্যা নেই।নেই ঠিক নয়।কিছু করার নেই আসলে আমার।তবে নিজের মনের কাছে আমি অপরাধী হবো না।আপনি যেমন পুরুষ,আমিও নারী।আপনার চাহিদা থাকলে আমারও আছে।সে কারণে একে অন্যের মধ্যে ঝলসে না গিয়ে দুরত্বে থাকা উচিত। আপনি মুক্ত। কাগজ কলমের মুক্তির আগেই আমি মন থেকে মুক্তি দিলাম আপনাকে।আপনি শরী*রের প্রয়োজনে যার সাথে ইচ্ছে শু*তে পারেন।তবে আমাকে দয়া করে ব্যবহার করবেন না।আমার সতি*ত্ব কেড়ে নেবেন না।”

বারবার এক কথা।মাথা ছিড়ে যাচ্ছে তার।ভয়াবহ রাগ হচ্ছে তার।রাগের কারণ এতক্ষণ বলা তিতিরের কথা!তাই কি?মস্তিষ্ক বলছে একটু আগে করা তিতির এর ওই প্রশ্ন খানা।সে তিতিরকে ভালোবাসে কিনা।বাসে কি?এমন অনূভুতি হচ্ছে কেন তার।আচমকা হাত চলে গেলো তিতিরের ক*ন্ঠদেশে।উ*ন্মাদের মতো চেপে ধরে ঠোঁ*ট ডোবালো পুরো মুখে।টুকরো টুকরো চুমুতে ভরিয়ে দিলো মুখটা।

তিতির ছটফট করছে।

___”আ..আ..আবার আপনি।কেনো…

ঈশান জবাব দেয় না।মুখজুড়ে তার চুমুর বর্ষন।

একপ্রকার তুলে নিয়ে ফেললো বিছানায়।দু হাত মাথার ওপরে নিজের একহাতের মধ্যে নিয়ে নিলো।অন্য হাতে ছটফট করা কো*মড় বি*ছানায় মেশালো।নিজের শরীরের স*মস্ত ভর ছেড়ে দিলো ছোট্ট শরীরটার ওপর।

উন্মাদের মতো নিজের আক্রোশ মেটাচ্ছে মেয়েটার কন্ঠ দেশ ক্ষতবিক্ষত করে।ঈশানের চু*মু আর চুমুতে স্থির নেই।সেটা তীক্ষ্ণ দং*শন এখন।র*ক্তাক্ত করে ফেলছে তার শরীর।আবেশ কাজ করছে না তিতিরের।যন্ত্রণায় গা গোলাচ্ছে।কেমন ঘিন্না হচ্ছে নিজের ওপর।

জোরজবরদস্তি বিয়ে,রোজ রাতে রাগারাগি জোরজবরদস্তি করে শ*রীরে ক্ষত।কোনেমতে বাচিয়ে রেখেছে নিজের শেষ স*ম্ভ্রম টুকু।কবে যে এই জেদি,একরোখা মানুষের জেদের নিচে সেটা মিশে যায়।মরে যেতে ইচ্ছে করছে তার এখন।ঈশানের এখনকার স্প*র্শে বিন্দুমাত্র ভালোবাসা,মায়া,আদর এর ছিটেফোঁটা নেই।মনে হচ্ছে গোটা একজীবনে সকল রাগের বহিঃপ্রকাশ করছে তার শরীর জুড়ে।

তিতির দু হাতে ঠেলে সরিয়ে আচমকা চ*ড় বসিয়ে দিলো ঈশানের গালে।কাজ টা হলো একদম হুট করে।তিতির করতে চায়নি এটা।সে তো শুধু সরাতে চেয়েছিলো।ঈশানের মুখে রক্ত জমলো রাগে।গ*লা চেপে ধরলো বিছানায়।এক টানে গায়ের জামাটা ছিড়ে ফেললো তিতিরের।বুকের সামনে শুধুমাত্র কালো রঙের একটা ই’নার রইলো।দু হাতে বুক আড়াল করলো তিতির।শব্দ করে কেদে উঠলো।ঈশান চিৎকার করে উঠলো,

___”করে দেই সর্বনাশ? হু?করে দেই?থামিয়ে দেই এই আত্মঅহংকার নিজের সতিত্ব নিয়ে?দেবো মুখ খোল দেবো?”

তিতিরের শরীর ঈশানের এই রুপে জমে বরফ হয়ে গেছে।চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে হলো।কেঁদেও ফেললো।

ঈশান বিছানা থেকে উঠে সরে গেলো।দু হাতে খামচে ধরলো মাথার চুল।তাকালো তিতিরের দিকে।গলায় অসংখ্য কামড়ের দাগ।একদম ইনারের ওপর পর্যন্ত গায়ের সুতি জামাটা দুভাগ হয়ে গেছে।এলেমেলো বিধস্ত অবস্থা মেয়েটার।গলা চেপে ধরায় পাঁচ আঙুলের ছাপ স্পষ্ট।

কঠিন মুখ তবুও স্বাভাবিক হয়না।দ্রুত পায়ে দরজা খুলে এসে দাড়ায় বারান্দায়। সিগারেট ঠোটে নেয়।কেনো আঘাত করলো মেয়েটাকে!একটাও তে ভুল কথা বলেনি মেয়েটা। সে নিজের মুখে বললো সে ভালোবাসেনা তিতিরকে।তাহলে কোন ভরসায় মেয়েটা তাকে নিজের সবথেকে দামি সম্পদ টা দেবে!সলই বা কেনো চাচ্ছে!এই মেয়ের কাছে আসলে সে তার চিরাচরিত রুপ ধরে রাখতে পারে না কেনো।কোথায় হারিয়ে যায় তার শক্তপোক্ত চরিত্র।কখনো কোনো মেয়েকে ছুয়ে না দেখা সে মাতাল হয় ওই ছোট্ট শরীরটা ছুয়ে দিতে,কাছে টানতে।উন্মাদ হয় ওই ঠোঁ*টের স্প’র্শ পেতে।হারায় নিজের হিতাহিত জ্ঞা’ন। হাজার বার রুষা সহ অনেক অনেক মেয়েই বিলিয়ে দিতে চেয়েছে তাদের সব।কই চোখ তুলে তাকানোর কথাও তো কখনো ভাবেনি সে।গভীর ভাবে ছোঁ’য়া তো দূর।তাহলে এই বাচ্চা মেয়েটা তাকে পাগল করে কোন জাদুতে।তখন কেনো রাগলো!তিতির ওকে বারবার বাধা দিচ্ছে তাই?নাকি তিতিরের প্রশ্নর সঠিক জবাবটা দিতে পারলো না সে।

ভালোবাসা! সেটা কি!কিভাবে হয়।আগে তো এই প্রশ্ন কেউ করলে এতো ছটফট করেনি মন।রুষার প্রতিবার জিজ্ঞেসে বিরক্ত হয়েছে।তবে তিতিরের প্রশ্নে তোলপাড় হলো কেনো বুকে!ভালোবাসে সে এই মেয়েকে!বাসে কি!না বাসলে প্রশ্নের জবাব' না' দেওয়ায় এতো যন্ত্রণা হচ্ছে কেনো তার।রাগ হচ্ছে কেনো।অসহ্যকর অনূভুতি।মানসিক রুগী লাগছে তার এই টানাপোড়েন এ।রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কেনো কষ্ট দিলো মেয়েটাকে!নিজের অনঊভ৩না বুঝতে পারার রাগটা ঢাললো মেয়েটার ওপর।ও কেনো বললো রাহাত কে ভালোবাসা উচিত ছিলো ওর।কেনো বলবে!তার নামে কবুল পরে অন্য পুরুষের নামও মুখে আনা যাবেনা।একদম যাবেনা।অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে সিগারেট এর ধোয়ায় ছেয়ে ফেলছে আশপাশ…

তিতির বিধ*স্ত হয়ে পরে আছে।দু হাত এখনো আড়াল করা উন্মু’ক্ত শরীর।কান্না থেমেছে।হেচকি উঠছে এখন।দুনিয়ার সবথেকে অসহায় নারী মনে হচ্ছে তার নিজেকে।যার বাবা মা নেই তাদের ভাগ্য হয়তো এমনই হয়।মেয়েদের জীবনে দুটো পুরুষ তাদের ভরসা হয়।এক বাবা অন্যজন স্বামী।বাবা নামক পুরুষ তো জন্মের দু বছরেরই বিদায় দিয়েছে তাকে।আর স্বামী! স্বামী নামক পুরুষ ভালো তো বাসেই না।নিজের ক্রোধ,রাগ তার শরীরে ঢালতে মরিয়া।

আচ্ছা তার ভবিষ্যৎ কি?ঈশানের সাথে এমন যন্ত্রণাদায়ক সংসার?তাহলে বুঝি আয়ু তার এতো কম!কারণ এ সংসার তার পক্ষে আর সম্ভব নয়।ভালোবাসাহীন এ ছোঁয়া বিষ তার জন্য। হোক স্বামী অন্য নারীকে ছোয়নি।তবুও সে চায়না এ স্বামী। ভালোবাসা ছাড়া দে’হের ক্ষু’ধা তো পুরুষ পতি*তালয়ে গিয়েও মেটায়।তাহলে তার সাথে তাদের পার্থক্য রইলো কোথায়!

চিৎকার করে বাবা মাকে ডাকলো মনে মনে।হাজার একটা অভিযোগ জানালে মেয়েটা।বিয়ে টা করে এ বাড়ির সবার সাথে আলোকবর্ষ দুরত্বের পথ তৈরি করলো বোধহয় সে আরও।ঈশান তাকে ছাড়ার পর সে গোটা জীবনে আর একবারও ওই মানুষ টার মুখোমুখি হবে না।এ বাড়িতেও থাকা হবে না তার আর!আজ তার একটা বাপের বাড়ি থাকলে ছুটে গিয়ে মায়ের বুকে জায়গা খুজতো বুঝি সে! হুম তা করতো বোধহয়। আগের সময় হলে বড় মামনীর কোলে মাথা রাখতো।এখন তো সে পথও বন্ধ। তার নানু কত খুশি তাদের বিয়েতে! অথচ বন্ধ ঘরের ভিতর ক্রমাগত নিজেদের সাথে লড়াই করছে তারা।ভালোাবাসার নাটক করা যায় বুঝি!কতদিন এ যন্ত্রণার আয়ু!! তার আয়ুই বা আর কতদিন। বড্ড জানতে ইচ্ছে করছে তিতিরের।

ঘাড় বাকিয়ে দেখলো ঈশানকে।একটার পর একটা সিগারেট টানছে।তিতির হাসলো।শরীর কে ঠান্ডা করতে না পারার আক্ষেপে বুঝি!এবার ইচ্ছে হচ্ছে ঈশানকে ডেকে তার ইচ্ছে টা পূরন করতে দিয়ে সকাল হওয়ার আগেই নিখোঁজ হয়ে যেতে।গোটা জীবনের মতো।

জোরে জোরে হা করে শ্বাস নেয় সে।সব কেমন ঘুরছে।দূ্র্বল লাগছে শরীর।এক হাত বুকে রেখে অন্য হাতের কনুই এ ভর করে উঠে বসলো।ওড়না নিয়ে গায়ে জড়ালো।মাথা ভাী লাগছে তার।ঈশান ভুলেও পিছনে তাকাচ্ছেনা।

তার ওপর খুব রেগে আছে বুঝি!শরীর দিলে সব ঠিক থাকতো হয়তো!

আচমকা কিছু একটা গড়িয়ে পরলো কোলের ওপর।নাকের কাছে ঠান্ডা অনুভব করতেই হাত ছোয়ালো সেখানে।কাঁপা কাঁপা হাত ধরলো সামনে।টকটকে লাল র’ক্ত।আৎকে উঠলো তিতির।হাতের উল্টো পিঠে দ্রুত মুছতে চাইলো।উহু।গলগল করে গড়িয়ে পরছে রক্ত।ঝিমঝিম করা শরীর নিয়ে উঠে দারালো সে।ছেড়া জামাটা গায়ে কোনোমতে ধরলো।ওপরে ওড়না পেচালো।কম্পিত পায়ে বের হওয়ার জন্য এগোলো দরজার দিকে।এক হাত নাকে চাপা দেওয়া।ব্যাস্ত চোখে খেয়াল করলে ঈশানের নজরে পরে কিনা।

ঈশান সিগারেট মগ্ন।দরজার দিকে তাকালো।ওপরের ছিটকিনি লক।এক হাতের চেষ্টায় সম্ভব নয় খোলা।দু হাতে অনেক কসরতে খুলে ফেললো দরজা।মাথা বাড়িয়ে বাড়ির বাকিদের পরখ করলো। দেখা গেলো না কাউকে।নিজের ঘরে ঢুকে গেলো সে।অতি সাবধানে কল করলো নিশিকে।নিশি, নূরি একপ্রকার ছুটে এসেছে বোনের কাছে।এর আগে দু দুবার এমন হয়েছিলো মেয়েটার।অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফল এটা।

_____

প্রায় ঘন্টা দুইয়েক পরে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলো ঈশান।এ অবধি পুরো এক প্যাকেট সিগারেট শেষ করে এসেছে সে।ঘরের মধ্যে দেখা গেলো না তিতিরকে।দরজা খোলা।তবে সেদিকে তাকাতেই আৎকে উঠলো সে।দ্রুত এগিয়ে পরখ করলো গোটা মেঝে। বিছানার কাচ থেকে দরজার ওখানটা অবধি।ফোটা ফোটা অজস্র রক্ত।ঈশান স্তব্ধ হলো।তিতিরকে করা আঘাতের কথা মাথায় আসতেই শূন্য হলো মস্তিষ্ক। দরজা খুলে দ্রুত এসে দাড়ালো তিতিরের বন্ধ দরজার সমানে।ব্যাস্ত হাতে ধাক্কা দিলে।ভিতর থেকে লক।

___”তিতির?তিতির?খোল বলছি।ভেঙে ঢুকবো না হলে।…..তিতির…”

দরজা খুলে গেলো।নিশি দাড়ানো।মুখটা অন্য রকম লাগছে।

___”কিছু বলবে ভাইয়া?”

ঈশান অবাক হয় নিশির কন্ঠে।কঠিন গলায় বলে,

___”তিতির কোথায়?”

___”ঘুমায়।”

একপ্রকার চিৎকার করে ওঠে ঈশান।

___”,আমাকে না বলে এ রুমে আসার অনুমতি কে দিলো ওকে?”

নিশি এদিকওদিক তাকলো।কেউ আছে কি না খেয়াল করলো।নির্বিকার গলায় বললেো,

___”আস্তে ভাইয়া।সবাই ঘুমায়।চিৎকার করার কিছু নেই।”

নিশির গলা আজ অচেনা লাগলো ঈশানের।

___”সর ভিতরে যাবো।নিজের রুমে যা।”

নিশি মোটেই সরলো না।বরং দরজা আটকানোর জন্য ধরে দাড়ালো।ভাইকে ভাবলেশহীন গলায় বললো,

___”ওর ঘুম দরকার।পরে একসময় কথা বলে নিয়ো।”

ঈশান চূড়ান্ত অবাক হয় বোনের ব্যবহারে।তার বউ,অথচ তাকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।বলা হচ্ছে পরে একসময়! মানে কি!ধমক দিয়ে কিছু বলতে যাবে প্রায় সাথে সাথে সিড়ি ভেঙে ব্যাস্ত পায়ে ছুটে এলো নয়ন।হাতে ব্যাগট্যাগ।ঈশানকে থেকে থমকালেও সেটার সময় বেশিক্ষণ স্থায়ী হলে না।এই প্রথম ঈশানকে নয়ন বুঝি এমন ইগনোর করলো।তাকে ডিঙিয়ে ভেতরে গেলো।নিশিকে ব্যাগ্র গলায় তাড়া দিলো।

___”ইনজেকশনটা দিবি তো নাকি?”

নিশির খেয়াল হতেই ছুটলো সেদিকে।

___”তুমি দাও ভাইয়া।আমরা হাতটা শক্ত করে ধরি।”

ঈশান অবাক দৃষ্টিতে দেখছে সবটা।নয়ন খুব সময় নিয়ে রগে প্রবেশ করালেো সুচ।সাথে সাথে ঝাঁকি দিয়ে উঠলো তিতির।দু হাতে চেপে ধরে রইলো নিশি আর নূরি।চোখ উল্টে আসছে মেয়েটার। ঈশান এর শরীর ভারসাম্য হারালো।পিছিয়ে এসে ঠেকলো দেয়ালে।নয়ন প্রায় দু মিনিট সময় নিয়ে পুশ করলো সে ইনজেকশন। তিতির শান্ত হলো আরও মিনিট পাঁচেক পরে।নয়ন নূরিকে ভালোকরে তিতিরকে ধরতে বলে নিজে এগিয়ে এলো ভাইয়ের দিকে।গম্ভীর গলায় বললো,

___”ওকে মানসিক ট্রমা দেবে না দয়া করে।সম্পূর্ণ নিষেধ ওর জন্য। প্রায় পনেরো বছর পর এমন হলো আবার।কি পরিমাণ মানসিক চাপে… যাই হোক।ও এখানেই থাকুক।তুমি ঘরে যাও।”

ঈশান জবাব দিতে পারে না।কেমন অবশ লাগছে শরীরটা।তবে নয়নের কথার ধরনও পছন্দ হলো না তার।

___”সি ইজ মাই ওয়াইফ। ওর দিকটা দেখার দায়িত্ব আমার।”

___”আমরা ওর পরিবার ভাইয়া।তুমি একা ওর সব নও।হতে পারো না।”

___”বিয়ের পর স্বামীই সব হয় না?”

___”হয় হয়তো।তবে মণির ক্ষেত্রে সেটা হয়তো নয়।হলে আজ ওর এই অবস্থা হতো না।”

ঈশানের হাত মুঠো হয়ে আসে।নূরি আতঙ্কিত হয়।নয়নের মনের কথা সে জানে।কোনোরকমে উত্তেজিত হয়ে মুখ ফসকে এমনসেমন কিছু বলে দিলে সর্বনাশ হয়ে যাবে একেবারে।ঈশান তপ্ত দৃষ্টিতে তাকালো নয়নের দিকে।

___”ভুলে যাস না কার সামনে দাড়িয়ে কথা বলছিস।”

___”ভুলিনি।আর ভুলিনি বলেই কিছু করিনি আমি।”

ঈশানের হাত উঠে গেলো নয়নের শার্টের কলারে।ছুটে এলো নূরি।দু ভাইকে আটকাতে।শেষমেশ দেওয়ান বাড়ির ছেলেরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করবে ানকি! বাড়ির কেউ জানলে সর্বনাশ ঘটবে একেবারে।ঈশানকেই আগে সরিয়ে আনলো সে।ঈশান এর শরীর কাঁপছে রাগে।নয়নের চোখেমুখে সেটা নেই।ভাইয়ের মুখে মুখে দু একটা কথা বললেও এর চেয়ে বেশি বেয়াদবি তার দারা করা সম্ভব নয়।

নিশিও ধীরেসুস্থে উটে এসে দাড়ালো ভাইয়ের সামনে।ধীর গলায় বললো,

—’ গলার কাছটা দাগ হয়ে আছে ভাইয়া। গলা টি*পে ধরেছিলে নিশ্চয়। ‘

ঈশানের রাগ নিমিষে গলে গেলো। করুন চোখে তাকালো তিতিরের দিকে। জাবাব দিলো না। নিশিই দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,

—’ মেয়েটার শরীরটা ভালো না কয়দিন হলো। আর রাগারাগি না করলে হয়না? ভালো হয়তো বাসো না। কিন্তু মেয়েটা ছোট ভাইয়া। ওর দোষ নেই। বিয়েটা দিদার জোরাজোরি তে হয়েছে। ওউ রাজি হয়েছে একই কারণে। দুজনেই ভুক্তভোগী তোমরা। তারপরও ওর মনে তুমি কিভাবে জায়গা করে নিয়েছো জানিনা। জ্ঞান হারানোর আগ পর্যন্তও তুমি কেনো ভালোবাসলে না সেই আক্ষেপে ব্যাস্ত ছিলো মেয়েটা। ভালো নাই বাসলে। মুক্তি নাকি দিতে চেয়েছো? ততদিন অন্তত যন্ত্রণা দিয়ো না ওকে।’

ঈশান একটা শব্দও উচ্চারণ করে না। থরথর করে কাঁপা শরীর নিয়ে ধীরে পায়ে বেড়িয়ে আসে ঘর থেকে। নিশির চোখের পানি গড়িয়ে পরে টপটপ করে। ভাইয়ের সাথে এমন গলায় কখনো কথা বলেনি সে। নয়ন এর ও একই অবস্থা। ইচ্ছে হচ্ছে ছুটে গিয়ে ভাইয়ের পা ধরে মাফ চাইতে। তিনজনই দীর্ঘশ্বাস ফেললো।

চলবে!🥀🕊️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন