লিখিকা :আলিফা ইসলাম মায়রা
উপন্যাস : তুমি তেই শুরু
পর্বসংখা ৩
যে ছেলেটি বাইক চালাচ্ছিল, সেই ছেলেটির নাম আরিয়ান চৌধুরী। গাজীপুরের বিখ্যাত বড়লোক ব্যবসায়ী আহামেদ চৌধুরীর একমাত্র ছেলে সে। দেশের ভিতরে-বাইরে সব জায়গাতেই তাদের ব্যবসা রয়েছে।
আহামেদ চৌধুরী ও তার ছোট ভাই বশির চৌধুরী—দুই ভাই একই বাড়িতে থাকেন।
আহামেদ চৌধুরীর এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলের নাম আরিয়ান চৌধুরী। আমাদের গল্পের প্রধান চরিত্র। খুব রাগী, জেদি ও বেপরোয়া একটি ছেলে। আরিয়ানের বয়স ২৬ বছর। সে বাবার সঙ্গে ব্যবসার কাজে সাহায্য করে।
আরিয়ানের বোনের নাম সাফা। তার বয়স ১৭ বছর। সে কলেজে পড়ে।
বশির চৌধুরীর এক ছেলে ও দুই মেয়ে। ছেলের নাম আয়ান। তার বয়স ২২ বছর। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। পড়াশোনার পাশাপাশি ভালো কনসার্টও করে তাখে।
বশির চৌধুরীর দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বয়স ১৭ বছর। সে সাফার সঙ্গে একই কলেজে পড়ে। তার নাম ফারহা। আর ছোট মেয়ের বয়স ১৬ বছর। এবার সে মেট্রিক পরীক্ষা দেবে। তার নাম জিনাত।
আহামেদ চৌধুরীর স্ত্রীর নাম চোপিয়া। আর বশির চৌধুরীর স্ত্রীর নাম রুকিয়া।
---
হলরুমে চোপিয়া বসে আছেন। আহামেদ চৌধুরী টিভিতে খবর দেখছেন। পাশে বসে আছেন আয়ান, মোবাইলে কী যেন দেখছে। রান্নাঘরে কাজ করছেন চোপিয়া বেগম আর রুকিয়া বেগম।
এমন সময় ওপরতলার সিঁড়ি দিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে নামছে জিনাত। পেছন থেকে ফারহা বলছে,
—দাঁড়া, বলছি দাঁড়া!
এটা দেখে চোপিয়া বেগম বলে উঠলেন,
—আরে, পড়ে যাবি তো! আস্তে!
এই কথা বলে তিনি টেবিলে করে চা আর কফি নিয়ে এলেন আহামেদ আর আয়ানের জন্য।
তখন জিনাত রান্নাঘরে ঢুকে বলল,
—মা, তোমার মেয়ে আমাকে মারতে আসছে!
তখন রুকিয়া বেগম বলে উঠলেন,
—কী হয়েছে? বলবি তো?
ফারহা বলে উঠল,
—তোমার মেয়ে আমার প্রিয় পুতুলটা ভেঙে ফেলেছে!
তখন জিনাত বলল,
—আমি ইচ্ছে করে ভাঙিনি, সত্যি বলছি মা। ওরা দুই বোন ধাক্কাধাক্কি করছিল, তখন পুতুলটা পড়ে ভেঙে গেছে।
তখন রুকিয়া বেগম ধমকের সুরে বললেন,
—চুপ কর! তোরা যা, এইখান থেকে যা বলছি!
তখন ফারহা আর জিনাত চলে যাচ্ছিল। পেছন থেকে রুকিয়া বেগম আবার বলে উঠলেন,
—ঝগড়া করলে কিন্তু দুটোকেই মারব। মনে রাখিস!
এমন সময় হঠাৎ করে বাড়িতে ঢুকল আরিয়ান। দুপদাপ পা ফেলে সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমে যেতে লাগল। হঠাৎ আহামেদ বলে উঠলেন,
—কই গিয়ে ছিলি?
এই কথা শুনে আরিয়ান পেছনে না তাকিয়ে রুমের দিকে যেতে যেতে বলল,
—এইখানে, ওই...
---
সামিয়াকে ধরে ধরে নিয়ে বাড়িতে এলো মিম। এটা দেখে মেঘলা বেগম ভ্রু বাঁকা করে বললেন,
—কী হয়েছে রে তোর? এইভাবে হাঁটছিস কেন?
মিম বলল,
—মা, আপু পায়ে ব্যথা পেয়েছে।
তখনই হাসান সাহেব বাইরে থেকে এলেন। এ কথা শুনে সামিয়ার কাছে এসে বললেন,
—কই, ব্যথা পেয়েছিস? কীভাবে পেয়েছিস? বেশি লাগেনি তো?
সামিয়া বলল,
—না, মামা। বেশি লাগেনি। সামান্য একটু লেগেছে। তুমি চিন্তা করো না, ঠিক হয়ে যাবে।
তখন মেঘলা বেগম বললেন,
—ঢং দেখলে বাঁচি না!
এ কথা বলে তিনি চলে গেলেন।
সামিয়ার মামা-মামির দিকে একনজর তাকিয়ে মিমকে বললেন,
—সামিয়াকে নিয়ে ঘরে যা।
---
রাত ১০টা।
ডাইনিং টেবিলে সবাই খেতে বসেছে, শুধু আরিয়ান বাদে। আরিয়ানকে ডাকার জন্য আহামেদ চোপিয়া বেগমকে বললেন। তিনি উঠে গিয়ে আরিয়ানের রুমের দরজায় গিয়ে ডাকলেন,
—আরিয়ান বাবা, দরজাটা খোল। তোর বাবা ডাকছে, নিচে আয় তো।
আরিয়ান দরজা খুলে দিল। মা ভিতরে আসলেন।
আরিয়ানের উদ্দেশ্যে চোপিয়া বললেন,
—কী হয়েছে? কী বলবে বলো।
আরিয়ান বলল,
—সেটা তো জানি না।
আচ্ছা, আসছি। যাও তুমি।
চলবে...