ফন্ট সাইজ:
থিম:
Wrong Profile

৩৫তম পর্ব

লেখক: সেয়ারা তিষিকা

"ভাই!! তুই তাইলে আগেই গেস করছিলি? আমি তো রীতিমতো টাশকি খাইছি এইখানে ভাবির আম্মুরে দেইখা"

"এই বয়ষ্কগুলা মাথায় জিলাপির প্যাচ নিয়া ঘুরে। আমরাই সহজ-সরল। আমাদের মতো সহজ-সরল হইতে পারল না এরা। ব্যার্থ! এরা জীবনে ব্যার্থরে মাহিম!"
আবেশ আক্ষেপের সুর টেনে বসা থেকে শুয়ে পড়ে এই চাতালে। এক হাত মাথার নিচে দিয়ে আকাশে মনোযোগ দেয়। 
"তো কি করবি? কবে জানাবি ভাবিরে? "
আবেশ এই কথায় মাথা ঘুরায় মাহিমের দিকে, " আমার বউ। যখন জানানো দরকার জানাব। তোর সমস্যা?"
" বউ রাইখা তাইলে এইখানে কি করস ?"
" গুটি খেলি। খেলবি?"
" ছিহ! ওসব বউয়ের সাথে খেলতে হয়।"
আবেশ পা উঁচু করে লাত্থির জন্য, " এক লাত্থিতে বগার পার হবি! পায়ের কাছেই আছিস। "
মাহিম আরো কিছু বলার জন্য মুখ খুলে। তখনি আবেশ শোয়া থেকে সোজা উঠে দাড়ায়। এক মুহুর্ত দাড়িয়ে কি ভাবে, পরপরই নিচের দিকে নেমে যায়।
মাহিম বিরবির করে, চোখ উল্টায়। 
" এর জীবনেও শান্তি নাই। আমার শান্তিও নষ্ট করার ধান্দা। তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লে ভালো। ঘুমন্ত ভাইকে দেখে দয়া করে ডাকটা নাও দিতে পারে। "
মাহিম উল্টো ঘুরে নিজের রুমের দিক বেয়ে নেমে যায়। রুমে গিয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুমানোর চিন্তা তার।
~~
আবেশ লটকনের বাগানের ভিতরে। উঁচু দেওয়াল বেয়ে ঢুকেছে। লটকন বাগানের একটা বিশেষত্ব হলো এই গাছগুলো ছাতার মতো ঝাকড়া হয়ে বড়ো হয়। আর ঘনত্ব এতটা হয় যে দিনের বেলাতেও সুর্যের আলো সরাসরি ঢুকতে পারে না। যেজন্য এই বাগানের ভিতরে জায়গায় জায়গায় লাইট দেওয়াটা আবশ্যক ছিল।
 
কিন্তু সমস্যা হলো এই লাইটগুলো হুট করেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পাশের ঝোপে বিচ্ছিন্ন নাড়াচড়া আর হুট করেই লটকন বাগানে শব্দ হওয়া। ওই নাড়াচাড়া আর শব্দগুলো অন্যকিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। পরিচিত আবেশের কাছে।
আবেশ ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় পর্যন্ত সজাগ রেখে দাড়িয়ে। শব্দ যেদিক থেকে আসছে সেদিকে পা বাড়ায়। মাটিতে চাপড়ে দাপানোর শব্দ। 
আর...আবেশ পেয়েও যায়। তার নেভিগেশন কখনো ভুল পথে যেতে পারে না।
ঘুটঘুটে অন্ধকার। তবে আবেশ সব টের পাচ্ছে। ওইদিকটাও বোধহয় টের পেয়েছে। একদম নিঃশব্দ হয়ে আছে চারপাশ। অবশ্যই ভালো কোনো লক্ষণ না এইটা। 
ফট করে আবেশ তার ফোন বের করে ফ্ল্যাশ অন করে।
সাথেসাথে দৃশ্যমান হয় সামনে রিয়াদের হাত-পা বি*কৃত করে শক্তি প্রয়োগে ধরে রাখা কালো পোশাকধারী একব্যক্তি। অন্যহাতে রিয়াদের মুখটাও চেপে ধরে আছে। রিয়াদকে দেখে বুঝা যাচ্ছে সে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বাধন থেকে বের হতে কিন্তু শক্তি খাটছে না লোকটার ওপর। এমনভাবে রিয়াদের হাত-পাকে বেঁধে রেখেছে।
আবেশ রিয়াদের এই অবস্থা দেখে দাঁত বের করে একচোট হেসে নেয়। 
যেই ব্যাক্তিটা রিয়াদকে ধরে আছে তার চামড়া, চোখ আর মাথায় পড়া বিনির নিচ থেকে উঁকি দেওয়া চুল বাঙালির না। অবয়বও সেটাই বলছে। আবেশ ওই ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলে,
"বিলাতি মাল?"
"stay the fuck out of it!" কড়কড়ে গলা ওই ব্যাক্তির। 
আবেশ গলা ঝেড়ে ফোনটা পিছন পকেটে ঢুকায়, আলো জ্বলছে ফোনে এখনো,
"Okeh! I'm in bro."
গাছের উপর থেকে একজন ঝড়ের বেগে ঝাঁপায় আবেশের ওপর। আবেশ সড়ে গিয়ে ঝাঁপানো অবস্থাতেই ওই ব্যাক্তির জ্যাকেট ধরে তাকে মাটিতে গেঁ*থে দেয়। মাটি শক্ত বলে ভিতরে ঢুকতে পারে না শরীর। কিন্তু মাথা-মুখ ফে*টে তরতর করে র*ক্তের প্রবাহে মাটি ভিজে। দেখা যায় মাথা যেখানে ঠাস শব্দে পড়েছে সেখানে মাটি ফেঁটে ফাঁক হয়ে আছে। ততক্ষণে আরো একজন অন্ধকার থেকে ভেসে উঠে সশব্দে গুলি ছুড়ে। আবেশ দৌড়ে সেই গুলি কাটিয়ে গাছের ডালে ঝুলে পড়ে। ডাল থেকে লাফিয়ে সোজা ওই ব্যক্তির গলা বরাবর চড়ে বসে।
"তোর মতো গাধা না মানুষ থাকে এইখানে, হাঁদারামের বাচ্চা! ঠাস-ঠুস গুলি যে ছুড়স!"
"what are you saying?"
" learn some fucking Bangla! before coming to Bangladesh. "
আবেশ চুল টেনে ধরে সজোড়ে গাছের সাথে বারি খাওয়ায় লোকটাকে। নেমে দাড়িয়ে হাত ঝাড়ে সে, যেন ময়লা লেগেছে হাতে।
"so you're tryna be big! Huh? Come at me, Kid!"
রিয়াদের মুখ চেপে ধরা হাত ঘুরিয়ে রিয়াদকে ছুড়ে ফেলে মাটিতে বিশালদেহী লোকটা। বলশালী শরীর, রুষ্টপুষ্ট মোটাগাটা স্বাস্থ্য। ফোলা ফোলা পেশী। কিন্তু মুখ ঢাকা কালোতে।
আবেশ হাত কয়েকবার ঝাড়া দিলেও মনে হলো যেন ময়লা গেলো না, তখন সে তার প্যান্টে দুই হাত ঘষে ভালোভাবে।
" আমার মাছরাঙার ওই শিবাহ্ কার্টুনটা একদমই পছন্দ ছিল না। বেশীই পাঁকনা। কিন্তু আমার এখন ওই পুঁচকের মতোই বলতে মন চাচ্ছে– 
'ছোটো বলিবেন না, আঙ্কেল'। "
"stop blabbering shit!" লোকটা লাফিয়ে গাছের বাকলে এক পায়ের ভর ছেড়ে উড়ে আসে আবেশের ওপর।
"You're cussing me out, Uncle!" আবেশ নিজেকে ঘুরিয়ে লাফিয়ে ডাল ধরে, লোকটার গলা দুই পায়ের মাঝখানে রেখে ম*টকায়। পায়ে লোকটার মাথায় মৃদু ঠেলা দিতেই লোকটা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
আবেশ ডাল থেকে ঝুলে নিচে নেমে আসে।
~~
 "কমান্ডার সাহেব, আপনি জানেন কেন আবেশকে নেকড়ে বলেছি আমি?"
অনুপমার মন ভালো থাকলে জারিফ এই ডাকটা শুনতে পায়। জারিফ বাধ্য হয় তখন সারা দুনিয়া থেকে মনোযোগ সড়িয়ে পুরোটা অনুপমার ধারে এনে রাখতে। এখনো তেমনটাই হয়। পুরোটা শোনার জন্য জারিফ মুখ ফেরায় অনুপমার দিকে।
"কেন?"
"কারন ও পরোয়া করে না শিকার কেড়ে নিয়ে আসার সময়, কার মুখের শিকার ঐটা? "
জারিফের ঠোঁট তখন বাঁকা হাসে সামনে তাকিয়ে। ওই হাসিতে লুকানো তৃপ্তি। তখনি লটকনের বাগান থেকে আবেশকে বের হতে দেখা যায়। পিছনে রিয়াদ, শরীরের ব্যাথা তার হাঁটায় ফুটে উঠছে।
" এই নেকড়ে'কে আমার ত্রিসীমানায় নিয়ে আসার জন্য আমার কৃতজ্ঞতা, প্রতিবারই যেন কম পড়ে যায় তোমার কাছে। "
অনুপমা সুক্ষ্ম অবহেলায় দৃষ্টি ফেরায় জারিফের দিকে, প্রসঙ্গ বদলায়,
" আপনি চিনেন কারা ছিল রিয়াদের সাথে? "
" এখন আর চিনে কাজ নেই। মামলা সেঁটে গিয়েছে। আর চিন্তা করো না, ঘুমিয়ে পড়ো। "
জারিফ উঠে পড়ে, বেলকনি থেকে ভিতরের দিকে এগিয়ে যায়। অনুপমার চোখেমুখে সংকোচ।
~~
"এই হারামি! কোত্থেকে বের হইলি মাত্র?"
সামনে সেলিমের রামধমকে আবেশ সবারপ্রথমে পিছনে তাকায়। না, রিয়াদ নেই।
"কুত্তা তাড়াই আসলাম। শশুরের লটকন বাগানে ঢুকছিল। "
সেলিম একবার বাগানের দিক থেকে দৃষ্টি দিয়ে আবার ছেলের দিকে ফেরায়, "কারা ছিল?"
"জানিনা। তুমি কি করো এইখানে?" আবেশ যেয়ে সেলিমের কাধ ধরে ঝুলে পড়ে।
সেলিমও সড়ায় না। বোঝা যায় অভ্যস্ত সে এতে, "রাতের হাওয়া-বাতাস শরীরে লাগাচ্ছি। "
"আর কিছু না? তুমি হইছ মহাধরিবাজ, ওস্তাদ!"
"আর তুই?"
"আমি ছোটটা! এইটুকুন। " আবেশ তার হাত দিয়ে ছোট দেখায়।
" ওই আ*ধমরা শরীরগুলোর কি হবে? ওইভাবেই যে ফেলে এলি?"
" শশুড়ের লটকন বাগানে এইসব প্রথমবার হয়েছে এমন তো না। তারাই ঠিকানা লাগাই দেবে। কিন্তু ওস্তাদ! তুমি একটু তালা দেওয়া মুখটা খুলবা? তোমার ছেলের কষ্টটাও তুমি দেখলা না। "
" আমার মুখ আবার তালা দেওয়া কবে থেকে?"
" ওই বাটিখোলা পাগলরে কেমনে চিনো তুমি?"
" বাটিখোলা পাগল আবার কে?"
" এইযে সিনিয়র! ভং ছাড়েন কইলাম।"
—'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি 
চিরদিন তোমার আকাশ, তোম-
শব্দ করে আবেশের ফোন বেজে ওঠে। আবেশ ফোন বের করে রিসিভ করলেই মাঝপথে সেটা থেমে যায়,
"হ্যা, মা?"
"কতবার বেজেছে কল?"
"কতবার বেজেছে?"
"কেন? জানিস না তুই? তোর ফোন?"
"ফোন সাইলেন্ট করা ছিল মায়ায়া! রাগো কেন?"
" সাইলেন্ট থেকে এজীবনে তোর ফোন খুলবে না! তোর ওস্তাদ কোথায়?"
"হেই পিতাহ্! আপনার সহধর্মিণী ফোন করেছে।"
সেলিম পিছন থেকে ইশারায় আবেশকে বলতে বলে 'তিনি এইখানে নাই। কোথায় আবেশ জানেনা।'
আবেশ মাকে ফোনে রেখে সেলিমের কাছে ফিসফিসায়, "আরে তুমি আমার কাছে আসছ মা জানে দেখেই তো আমারে কল দিছে। "
সেলিম নিশঃব্দেই চোখমুখ কুচকে গালি ছোড়ে। 
ওদিক থেকে মা প্রশ্ন করে, "কি করে তোর বাপ ঐখানে? "
আবেশ দৌড়ে বাবা থেকে দুরে সড়ে গিয়ে জানায়," রাতের হাওয়া লাগাইতে আসছে। তোমারে রাইখা!"
সেলিম পিছন থেকে জুতা খুলে ছুড়ে মারে আবেশের দিকে। দৌড়ে ধরতে যায় আবেশকে ।
" ওনারে বাড়িতে আসতে বল। হাওয়া লাগাইতেছি আমি!" ফোন কেটে যায়।
ফোন পকেটে রেখে দৌড়ের মধ্যেই আবেশ পিছন ঘুরে, চিল্লায়ে বলে, "আব্বোও!! মা বাড়িতে যাইতে বলছেএএ!! মা হাওয়া লাগাবে তোমারে!"
~~
সকালের আলো এখনো ফুটেনি। আযানের ধ্বনি কানে আসছে। তবে কম্ফোর্টার মুড়ি দিয়ে ঘুমানো মানবের কানে ঢুকছে কি না সন্দেহ। তাকে উঠানোর জন্য ফোনের মধ্যে 'জাতীয় সংঙ্গীত'টাও বেজে ওঠেছে শব্দ করে। বাজতে বাজতে কল কেটে যায় আপনাতেই।
একবার...দুইবার...তিনবার...ফোন বেজে কাটতে শুরু করলে একপর্যায়ে দড়জায় খটখট আওয়াজ হয়।
~~~~~~~~~~~~~~~
#wrong_profile -(২৭ মধ্যমাংশ)
#সেয়ারা_তিষিকা 

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন