ফন্ট সাইজ:
থিম:
Tell Me Who I Am chapter 2

১ম পর্ব

লেখক: আয়শা ইসলাম মনি

#Tell_me_who_I_am

#পর্ব_১
#আয়সা_ইসলাম_মনি
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)
                              🍁২য় খণ্ড🍁
🔺Trigger Warning: This post is a fictional story that contains sensitive content related to sexual violence. It is intended solely for awareness and educational purposes. It does not promote or glorify any form of abuse.
__________________________________________☞
মিরা হঠাৎ চিৎকার করে বলল, "আমিও নিষ্পাপ নই, আমিও কলুষিত, আমিও আঁধারের অংশ, আমিও মিথ্যের এক রূপ।"
মিরার এমন কথায় শারমিন কপাল কুঁচকে অবাক হয়ে বলল, "কিন্তু ম্যাডাম, এতক্ষণ যা শুনলাম, তাতে আপনাকে বা কারান স্যারকে ভুল মনে হয়নি। বরং ভাবতেই অবাক লাগছে, এত ভালোবাসার পরও কেউ কীভাবে নিজের প্রিয় মানুষকে হ"ত্যা করতে চায়! এমন কেস আমি কখনো দেখিনি বা শুনিনি। আর আপনি কেন নিজেকে দোষী ভাবছেন, ম্যাডাম?"
মিরা সামান্য বিষণ্ন হেসে বলল, "যা চোখের সামনে ভাসে, তা সবসময় সত্যি নয়। আমিও একটা বড় সত্য কারান থেকে আড়াল করেছিলাম। জানি না, কোনো দিন তার সামনে সেই সত্য উন্মোচন করতে পারবো কিনা। কারান বেঁচে আছে, অথচ দুই মাস তাকে দেখিনি। তবুও এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি সে দূরে। আসলে সে তো আমার নিশ্বাসে লুকিয়ে আছে, অস্তিত্বের গভীরে মিশে আছে।"
"কি লুকিয়েছিলেন, ম্যাডাম?"
মিরা দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে বলল, "তেমন কিছু নয়। এই কেস বা এসবের মধ্যেও পড়ে না।"
"সে হোক। কিন্তু আমার থেকে কিছু লুকাবেন না।"
"অবশ্যই।"
"আচ্ছা। আপনি তাহলে এখন বিশ্রাম নিন। কাল আবার আসতে হবে।"
"জি।"
শারমিন প্রস্থান করলো। কিন্তু মিরা গভীর দৃষ্টিতে শারমিনের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে আপনমনে বলল, "আমিও খু*ন করেছিলাম, কারানের কাছ থেকে সেই সত্য লুকিয়েছি। আর এবার আপনার থেকেও লুকালাম। কারণ আমি আর জেলের অন্ধকার কুঠিরে থাকতে চাই না। আমার কারান যে আমাকে ডাকছে! আমাকেও তো তার কাছে যেতে হবে। ক্ষমা করবেন, মিস শারমিন। জানি, আপনার কাছে এই সত্য গোপন করা একদম উচিত হয়নি। কিন্তু জানেন, মানুষ যত আপনই হোক, তাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে নেই। এ কথা আমায় আমার স্বামী শিখিয়েছে। আর তার বলা কথার চেয়ে শুদ্ধ সত্য আর কিছু হতে পারে না। আপনাকে সত্যিটা বললে হয়ত আমার বন্দিত্বের মেয়াদ আরও দীর্ঘ হবে। কিন্তু আমি বন্দী থাকতে চাই না, আমি শুধু আমার কারানের কাছে ফিরতে চাই।"
কিছুক্ষণ পর থানার সামনে ইসহাক এসে দাঁড়ালেন। তাকে দেখেই শারমিন দ্রুত স্যালুট দিল।
"কি অবস্থা, শারমিন?"
"স্যার, আমার এখনো মনে হচ্ছে না মিরা ম্যাডাম খু"ন করেছেন। এমনকি এটাও মনে হয়নি কারান স্যার কোনো দোষ করেছেন।"
ইসহাক দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। রহস্য যত গভীর হচ্ছে, ততই যেন সমাধানের পথ কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে। এক মুহূর্ত থেমে শারমিন চোখ তুলে ইসহাকের স্থির দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে বলল, "ব্যাপারটা কোন দিকে গড়াচ্ছে, বুঝতে পারছি না। এমন গোলকধাঁধা কেস আমি আগে কখনো দেখিনি।"
ইসহাক চুপ করে কিছু একটা চিন্তা করলেন। তারপর বলে উঠলেন, "আর মিরার দিকে কেমন খেয়াল রাখা হচ্ছে?"
"স্যার, ম্যাডামের গায়ে হাত তোলা তো দূরের কথা, একটা আঁচ"ড়ও কেউ কাটেনি।"
"আচ্ছা ঠিক আছে, আপনি যান।"
"জি, স্যার।"
শারমিন স্যালুট দিয়ে সরে গেল।
জেলের ভেতরে মিরা নিশ্চুপ বসে আছে, তার দৃষ্টি মেঝের দিকে স্থির। কারাগারের অন্ধকারে শ্বাস নিতেও কষ্ট হয় তার। এর মধ্যেই লোহার দরজার শব্দে চমকে তাকাল সে। ইসহাক ভেতরে ঢুকেছেন। তাকে দেখেই মিরা আবার মাথা নীচু করে ফেলল।
 ইসহাক তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন, তারপর শ্বাস টেনে বললেন, "আমি তোমাকে বাঁচাতে চাই, মিরা। এখান থেকে মুক্তি দিতে চাই। কিন্তু আদালতে একবার যদি প্রমাণ হয়, তুমিই খু*ন করেছ, আমার কিছুই করার থাকবে না।"
মিরার কণ্ঠ নিস্তেজ হয়ে এলো, "আদালতে কবে রায় দেওয়া হবে?"
"তোমার সাক্ষ্য সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত রায় ঘোষণা হবে না।"
"ওহ। আর... আমাকে কত বছর এই কালকুঠুরিতে থাকতে হবে?"
"৩০৭ ধারা অনুযায়ী ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আদালত যদি মনে করে, অপরাধ গুরুতর, তাহলে শাস্তি আরও বেশি হতে পারে। আত্মসমর্পণ করেছ বলে কিছুটা লঘু হওয়ার সম্ভাবনাও আছে।"
"দশ বছর?" মিরার ঠোঁট কেঁপে উঠল। আপনমনে বলল, "তার মানে জানি না কত বছর কারানের থেকে আমাকে দূরে থাকতে হবে।"
ইসহাক গভীর কণ্ঠে বললেন, "আমি জানি, কারানকে তুমি খু*ন করোনি, করতেই পারো না। তাহলে কে করেছে?"
মিরার ঠোঁট ধীরে নড়ে উঠল, "আমিই করেছি।"
ইসহাক হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলেন। চোখে অবিশ্বাস নিয়ে বললেন, "কি বলছো তুমি?"
মিরা এবার স্থির দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে গভীর কণ্ঠে বলল, "আপনার কি মনে হয় কাকাই, আপনার ভাইপোকে খু*ন করার মতো কলিজা আর কারো আছে?"
ইসহাক মাথা নাড়িয়ে নিজেকে সামলে নিলেন। এক মুহূর্ত ভেবে নিয়ে প্রশ্ন করলেন, "ওর অপরাধটা কি এত বড় ছিল?"
মিরা কিছু বলল না। শুধু শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
ইসহাক বুঝলেন, তার উত্তর আজ মিলবে না। তাই দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বেরিয়ে যেতে লাগলেন, তখনই মিরা বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো। "মা কেমন আছেন, কাকাই?"
ইসহাক থমকে দাঁড়িয়ে পেছন ফিরে তাকালেন, "শুনেছি, আগের মতোই আছেন।"
"আমার কথা জানতে চেয়েছেন?"
"সেসব তো জানি না।"
 "আমার একটা অনুরোধ রাখবেন, কাকাই?"
"বলো, মা।"
"মা যদি কখনো এখানে আসতে চায়, তাকে ভুলেও আনবেন না। সহ্য করতে পারবে না।"
ইসহাক শ্বাস টেনে মাথা নেড়ে বেরিয়ে গেলেন। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দে মিরা আবার ধপ করে মেঝেতে বসে পড়ল। তার চোখ থেকে একফোটা অশ্রু নিঃশব্দে মাটিতে গড়িয়ে পড়ল।
মিরা গভীর শ্বাস টেনে বলল, "অপরাধী তুমি নও কারান, অপরাধী আমি।"
জেলের স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে বসে মিরা হঠাৎই চারপাশে তাকিয়ে অনুভব করল, দেওয়ালগুলো যেন ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে, ওর আত্মাটাকে চেপে ধরতে চাইছে। নিশ্বাস ভারী হয়ে আসছে।
মিরা জানে, মানুষ তার সত্যের ভার কতটুকু বহন করতে পারে, তার ওপর নির্ভর করে তার মুক্তি বা বন্দিত্ব। কিন্তু সে কি আসলেই মুক্তি চায়?
একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো ওর ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে।
কারাগারের ছোট জানালাটা দিয়ে রাতের আকাশ দেখা যায়। আকাশে অসংখ্য তারা, কিন্তু চাঁদ নেই। 
ইসহাকের কথাগুলো মাথার মধ্যে প্রতিধ্বনিত হতে থাকল। দশ বছর...
দশটা বছর কারানকে না দেখে কীভাবে কাটাবে? কারান কি জানতেও পারবে, কতখানি ভালোবেসে ও এই শাস্তির ভার বহন করছে?
মিরার শরীর হালকা কাঁপতে লাগল। অবশেষে চোখ বন্ধ করে বলল, "কারান, তুমি জানো না, আমি একবারও তোমাকে হ'ত্যা করিনি। আমি প্রতিটি মুহূর্তে তোমাকে বাঁচিয়ে রেখেছি। আমার শ্বাসে, আমার স্মৃতিতে, আমার সমস্ত অপরাধবোধের ভেতর। আমি অপরাধী, কারণ আমি তোমার কাছে ফিরে যেতে পারছি না। আমি অপরাধী, কারণ আমি এখনো তোমাকে ভালোবাসি।"
______
সকালবেলা হাসপাতালের প্রধান ফটকে কয়েকটি কালো গাড়ি এসে থামল। প্রথম গাড়ির দরজা খুলতেই বেরিয়ে এলেন অর্থমন্ত্রী আব্দুল মোত্তালেব খালিদ। পরনে হালকা ধূসর পাঞ্জাবি-পাজামা, চোখে কালো সানগ্লাস, মুখে একরাশ গম্ভীরতা নিয়ে হাঁটা ধরলেন। তার পেছনের গাড়ি থেকে ছুটে এলো কয়েকজন সাদা পোশাকধারী নিরাপত্তারক্ষী। গার্ডরা চারপাশে নজর রেখে তার জন্য পথ তৈরি করল। খালিদের পদচারণায় হাসপাতালের কর্মীরা কাজ ফেলে দাঁড়িয়ে পড়ল।
"আসসালামু আলাইকুম, স্যার," হাসিমুখে এগিয়ে এসে কথাটা বলল রিসেপশনিস্ট।
খালিদ চশমার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় উত্তর দিলেন, "ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কারান চৌধুরীর কেবিন নাম্বার ও তার চিকিৎসার দায়িত্বে কারা আছেন, সব বিস্তারিত রিপোর্ট চাই।" 
রিসেপশনিস্ট কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ইমন সামনে এসে বলল, "স্যার, সালাম নিবেন।"
খালিদ শ্বাস টেনে ইমনের দিকে তাকালেন। তারপর রিসেপশনিস্টকে হাতের ইশারায় চলে যেতে নির্দেশ দিলেন। লোকটি চলে যাওয়ার পর খালিদ বললেন, "যাক, ভালো লাগলো, তোমাকে পেলাম।"
 "স্যারের যে অবস্থা, আমাকে তো থাকতেই হতো।"
" আমি ভাবতেই পারছি না, কারান চৌধুরীর স্ত্রী এই কাজটা করতে পারে! এটা কীভাবে সম্ভব? নিজের স্বামীকে কোনো মেয়ে এমন ভয়ানকভাবে আ"ঘাত করতে পারে?"
ইমন মাথা নীচু করে বলল, "স্যার, কাহিনি তো নিশ্চয়ই অনেক বড় হবে।"
"ইসহাকের সাথে কথা হয়েছে। এখনো কিছু বিশেষ কারণ জানা যায়নি," খালিদ মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন। "আর আমি একটা বিশেষ কারণে এসেছি।"
 "কি কারণ, স্যার?"
"বলছি। আগে বলো, কারান কেমন আছে? কোমা থেকে কবে ফিরবে, কিছু জানানো হয়েছে?"
"দেশবিদেশের সকল বড় ডাক্তাররা তাকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে কবে জ্ঞান ফিরে আসবে, সে ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানা যায়নি। কিন্তু আমি ভাবছি, মিরা ম্যামের হাতে দম তো আছেই, বুকের কলিজাও অনেক বড়। নাহলে কারান স্যারের মতো একজন মানুষকে এমন নৃ"শংসভাবে আ"ঘাত করতে পারে?"
খালিদ অল্প হেসে বললেন, "কারানের বউ, তুমি কি ভাবো, দম থাকা কি স্বাভাবিক নয়? বরং না থাকাটা অস্বাভাবিক দেখায়।"
 "সেটা তো ঠিক, তবে ম্যাডাম মেরে'ছেন কেন, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়।"
"সেসব জানা যাবে। আগে বলো, কারানের অবস্থার খবর মিডিয়ায় গেছে কি?"
"না, স্যার। এমন ভুল তো কোনো ভাবেই করা যাবে না। আক্রমণ করতে দু মিনিটও লাগবে না। তবে সিকিউরিটি ব্যবস্থা আমরা বেশ কঠোর রেখেছি।"
"ঠিক আছে, এই কারণেই আমি এসেছি। সিকিউরিটি আরও বাড়িয়ে দাও। আর শোনো, কারানের জ্ঞান ফিরলেই আমাকে প্রথমে জানিয়ে দেবে, ভুলবে না।"
"জি স্যার, অবশ্যই।"
খালিদ মাথা নাড়িয়ে তার পথে চলতে লাগলেন।
কিছুক্ষণ পর ইমন কারানের কেবিনে ঢুকল। কেবিনে ঢুকতেই তার চোখে কিঞ্চিৎ জল চলে গেল। এই সেই মানুষ, যে এক সময় ক্ষমতার শিখরে পৌঁছেছিল, আজ সেই মানুষ অক্সিজেন মাস্ক পরা অবস্থায় শয্যাশায়ী। তার হাতে সুইচ এবং বুকে টিউব লাগানো। ঘরের ভেতর মনিটরের টুং টুং শব্দ কেবল জানান দিচ্ছে, সে এখনও জীবিত। ইমন গভীর শ্বাস ফেলল। চোখ নামিয়ে চেয়ারে বসে কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইল কারানের দিকে। 
অবশেষে নীচু গলায় বলল, "বাঘ যখন ঘুম থেকে জেগে উঠবে, তখন বাঘিনীর কী অবস্থা হবে সেটাই ভাবছি।"
______
পুলিশ অফিসার আমান থানার কাজ শেষে বাহিরে বেরিয়ে এলো। বাইরে তার ব্যক্তিগত গাড়িতে ড্রাইভার নির্দিষ্ট স্থানে বসে অপেক্ষা করছে। দরজা খুলে আমান ভিতরে প্রবেশ করে সংক্ষিপ্তভাবে বলল, "হুম, দ্রুত চলো।"
গাড়ি চলতে শুরু করল। আমান ফোনে নিমগ্ন, কিন্তু কিছুক্ষণ পর হঠাৎই বুঝতে পারল গাড়িটি ভিন্ন পথে এগোচ্ছে। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও, পথ পরিবর্তনের বিষয়টি খেয়াল করতেই সে সতর্ক হলো। তৎক্ষণাৎ চিৎকার করে উঠল, "ওই হারা*মজাদা, কোথায় যাচ্ছিস?" মুহূর্তের মধ্যে তার ভ্রূ কুঁচকে গেল। কপালে চিন্তার রেখা ফুটে উঠলো। আমান সচকিত হয়ে বলল, "ওয়েট ওয়েট... রিপন তো কখনো মাস্ক পরত না!"
এই সন্দেহ মাথায় আসতেই সে দ্রুত পকেট থেকে অ"স্ত্র বের করতে গেল, কিন্তু এর আগেই ড্রাইভার আচমকা পেছন দিকে আমানের ডান হাতে গু*লি ছুঁড়লো। র*ক্ত ছিটকে উঠে পোশাকের ওই অংশ ভিজিয়ে দিল। প্রচণ্ড ব্যথায় চিৎকার করে উঠল আমান, "শালা, পুলিশের গায়ে গু"লি করেছিস তুই?"
সে বা হাতে প্রতিরোধের চেষ্টা করতেই আরেকটি গু"লি সেই হাতেও আঘাত হানল। এবার গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসা মুখোশধারী ব্যক্তি ঘুরে তাকাল। তার চাহনির গভীর শীতলতা আমানের বুকের ভেতর শিহরন তুলল। কিন্তু ভয়কে উপেক্ষা করে আমান দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠল, "মা*দা*রফা*কার, এখনো গাড়ি থামাতে বলছি। তোকে কিন্তু আমি ফাঁ*সিতে ঝোলাবো, শুয়ো'রেরবাচ্চা।"
কিন্তু গাড়ি দ্রুত গতিতে চলতেই থাকল। এবার আমান মরিয়া হয়ে পা দিয়ে দরজা খুলতে চেষ্টা করল। মুখোশধারী লোকটি মুহূর্তেই বিষয়টি আঁচ করে ফেলল। তাই কোনো সুযোগ না দিয়েই গাড়ি থামিয়ে আমানের দুই পায়েও গু*লি চালাল। এবার আর্তনাদ ছাড়া কিছুই করার রইল না। ব্যথায় জর্জরিত আমান সিটে কাতরাতে লাগল, তার শ্বাস ভারী হয়ে আসছে।
কিছুক্ষণ পর গাড়ি এসে একটা অন্ধকার রেস্তোরাঁর সামনে থামল। মুখোশধারী লোকটি গাড়ি থেকে নেমে এসে আমানের কলার ধরে তাকে টেনে বের করল। ক্ষ*তবি*ক্ষত পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি নেই, তাই আমান ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেল। লোকটি নিষ্ঠুরতার সঙ্গে তাকে টেনে নিয়ে যেতে লাগল। আমান কষ্টে, ক্রোধে ফেটে পড়ল, "তোকে খু*ন করব আমি! তোর গ*লা কা*টব, চো*দ*নারফো।"
কতগুলো অশ্রাব্য গালি দিতে শুরু করলো আমান। কিন্তু লোকটি নির্বিকার। কেবল টেনে টেনে নিয়ে গিয়ে তাকে একটা বিশাল মাং*স কাটার টেবিলে শুইয়ে দিল। কক্ষটির জানালাগুলো কালো পর্দায় ঢাকা। দেয়ালে শুকিয়ে যাওয়া র*ক্তের ছোপ ছোপ দাগ ফুটে আছে। দৃশ্যটা দেখেই আমানের গলা শুকিয়ে গেল। আমান চিৎকার করে উঠলো, "এত বড় সাহস তোর? মা*দারচো*দ, ছেড়ে দে বলছি৷ এখনো ছেড়ে দে। নাহলে কিন্তু তোকে বেধে পিটিয়ে ফাঁ*সির দড়িতে ঝুলাবো।"
লোকটি নিস্পৃহ ভঙ্গিতে মাথা কাত করল। এগিয়ে এসে আমানের থুতনি চেপে ধরল, নখের খোঁচায় ক্ষ*তবি*ক্ষত চাম*ড়ায় নতুন দাগ বসিয়ে বলল, "ফাঁ*সি? সে তো মানুষের জন্য। আমি তো মানুষ নই, আমান। আমি মৃ*ত্যুকে খাই, কে*টে টুক*রো টু*করো করে গিলে ফেলি। আর আজ রাতের মেন্যু তুই।"
আমান প্রাণপণে ছটফট করতে লাগল, সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে যাবে, ঠিক তখনই ছু*রির প্রথম আ*ঘাত তার মুখের ওপর এসে পড়ল। নাকের মাং*স ছিন্ন হয়ে মেঝেতে পড়ে গেল। ফিনকি দিয়ে র*ক্ত ছিটকে তার মুখ বেয়ে পড়তে থাকল। ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলেও তখনো বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা তাকে ধরে রেখেছিল।
মুখোশধারী এবার নিঃশব্দে হাসল। নিপুণ দক্ষতায় মাংস কা*টার ছু*রিতে ধার দিতে লাগল। আমান কোনোমতে মুখ খুলে করুণ স্বরে বলল, "আমাকে... ছেড়ে দে। কে... কেন এমন করছিস? আমি তো কিছু করিনি। মা'রা খাবি কিন্তু, সেরেন মা'রা খাবি। অন্যায় কি আমার?"
কিন্তু লোকটি নিরুত্তর। কিছুক্ষণ পর হাতে চেইন শো তুলে নিল সে। আচমকা আমানের কাঁধ থেকে দুই হা*ত কে*টে ফেলল। আমান চিৎকার করতে থাকল, এদিক-ওদিক বেঁকিয়ে ছটফট করতে লাগল। লোকটা তার কা'টা বাহুগুলো তুলে বিকারের ফুটন্ত এসিডে ডুবিয়ে রাখল।
 অস্পষ্ট স্বরে আমান ফিসফিস করল, "পু...পুলিশ হয়েও...আজ তোর পায়ে পড়ছি ভাই... যেতে দে, প্লিজ যেতে দে! তোকে... আ... আমি... কিছ... কিচ্ছু করব না..."
কিন্তু মুখোশধারী তখনো নির্লিপ্ত। কা*টা হাতদুটো এসিডের এক পাত্রে ফেলে দিয়ে এগিয়ে এলো। 
আমান শ্বাস নিতে পারছিল না। শরীরের সমস্ত শক্তি র*ক্তক্ষরণে নিঃশেষ হয়ে গেছে। 
মুখোশধারী লোকটা এবার ধারালো মাং'স কা*টার ছু*রি তুলে নিল। গভীর গলায় বলল, "Have you ever experienced the taste of fresh human flesh?"
এটা শুনে আমান শেষ শক্তিটুকু দিয়ে মাথা নাড়ানোর চেষ্টা করল। চোখের কোণ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল, মুখ দিয়ে অস্পষ্টভাবে অসহায় কিছু শব্দ বেরিয়ে আসল।
"ভা...ভাই... ছেড়ে দে... আমার ছোট মেয়ে আছে... প্লিজ..." 
লোকটা হঠাৎ হো হো করে হাসতে লাগল। সেই হাসির শব্দ দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ভয়ংকর শোনালো। সে আমানের মুখের কাছে ঝুঁকে ফিসফিস করল, "ওয়াও, হোয়াট আ বিউটিফুল ফ্যামিলি! চিন্তা করিস না, আমি ওদের কাছেও যাব। তোর র'ক্তের স্বাদ যদি ভালো লাগে, ওদেরও চেখে দেখব।"
লোকটা এবার একটা ঠান্ডা ছু*রি তুলে নিয়ে আমানের বুকের ওপর রাখল। ধীরে ধীরে চাপ দিতেই ধারালো ফলা আমানের চা*মড়ায় আঘাত করলো। আর অন্য হাতে আচমকা আমানের বুকের উপর ছু*রির বদলে চে*ইনশোর নির্মম আ*ঘাত হানলো। অস্বাভাবিক ঝাঁকুনিতে আমানের দেহ ছটফট করে উঠল, চোখ যেন কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চাইল। বুক থেকে উলকি দেয়া র*ক্তের স্রোত ভলভলিয়ে পড়ছিল। লোকটা ঠান্ডা ভঙ্গিতে আমানের বুকের এক টুকরো মাং*স ছিঁ*ড়ে রান্নার জন্য এগিয়ে গেল।
কিছুক্ষণ পরই কক্ষটা ধোঁয়া ওঠা গরম পানির ঘ্রাণে ভরে উঠল। 
মাংস কা*টার স্টিলের টেবিলের ওপরে নিথর শুয়ে আছে আমান। শরীরের ক্ষ*তস্থান থেকে র*ক্ত ধীরগতিতে চুঁইয়ে পড়ছে, তার নিশ্বাস টেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে।
আমানের কণ্ঠ ফ্যাসফ্যাসে হয়ে গেছে, গলা দিয়ে শব্দ বের হতে চাইছে না। তবুও একটুখানি শক্তি ব্যয় করে বলার চেষ্টা চালালো, "কেন মার...মারছিস তু... তুই?" 
কিন্তু মুখোশধারী লোকটা কোনো উত্তর দিল না। সে একটা পাত্র আনল। ভিতরে ফুটন্ত গরম তেল টগবগ করছে।
আমান চেষ্টা করল মাথাটা একটু ঘুরিয়ে দেখার, কিন্তু কিছু বোঝার আগেই মুখোশধারী তার প্যান্টের উপরে পু*রু*ষা*ঙ্গে*র উপর গরম তেল ঢেলে দিল। যন্ত্রণায় আমানের চোখ বিস্ফোরিত হল, শরীর পুড়ে যাচ্ছিল, পু*রু*ষা*ঙ্গে*র চামড়া পু*ড়ে সংকুচিত হয়ে গেল। ছি*টকে পড়া তেলের ফোঁটা টেবিলের নিচে গড়িয়ে ঝরে পড়ছিল।
আমান ফেনিয়ে ওঠা শ্বাস নিতে লাগল। চোখের সামনে সবকিছু ঘোলা হয়ে আসছে। মৃ*ত্যু কি এখনো দূরে? তবে কি এখনো তার অনেক কিছু হারানোর বাকি আছে?
মুখোশধারী লোকটা এবার আরেকটি স্টিলের ট্রে টেনে আনল। সেখানে রাখা অস্ত্রগুলো চকমক করছিল। সে এক হাতে আমানের পায়ের প্রতিটি আঙুল শক্ত করে চেপে ধরল। স্ট্যাপলার তুলে নিয়ে একে একে প্রতিটি ন*খের নিচে পিন প্রবেশ করাল।
"আআআআহহহ!" অসহনীয় যন্ত্রণায় শরীরটা কেঁপে উঠল আমানের।
প্রথম আঙুল, তারপর দ্বিতীয়, এরপর একে একে সমস্ত ন*খের নিচে স্ট্যাপলারের পিন ঢুকে গেল। চা*মড়া ফেটে র*ক্তের স্রোত বয়ে চলল। লোকটা আমানের প্যান্টের চেই*ন খুলল। অকস্মাৎ আমানের অ*ণ্ড*কো*ষ কে*টে ফেলল।
আমানের বিকট চিৎকারে কণ্ঠনালি ছিঁ*ড়ে গেল। র*ক্তে ভিজে গেল তার প্যান্ট। 
লোকটা ঠান্ডা হাসল। কাটা অ*ণ্ড*কো*ষ তুলে নিয়ে আমানের জিভের ওপর পে*রেক দিয়ে গেঁথে স্থাপন করল। আমানের চোখের পাতা আর নড়ল না। মৃ*ত্যু তার দুয়ারে এসে দাঁড়িয়েছে। শুধু একটুখানি অপেক্ষা...
এবার সেই কাঙ্ক্ষিত কেমিক্যাল মিশ্রিত মশলা ঢেলে দেওয়া হলো আমানের ক্ষতবিক্ষত দেহে। মুহূর্তেই তার শরীর বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো কেঁ*পে উঠল। নিজের শরীরের প্রতি তীব্র আকর্ষণে ছটফট করতে লাগল সে, কিন্তু হাত আগেই বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কিছুই খেতে পারল না। অতিরিক্ত র*ক্তক্ষরণে ক্ষণকালের মধ্যেই মৃ*ত্যুর কোলে ঢলে পড়ল আমান।
মুখোশধারী লোকটা এবার হুইস্কির বোতল হাতে পাশের কক্ষে প্রবেশ করল।
সেখানে সারি সারি কম্পিউটারের স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে এক পরিচিত মুখ। মিরা জেলের কাপড়ে নিঃশব্দে বসে আছে। কিন্তু এও কি সম্ভব? লোকটা কি পুলিশ স্টেশনের সিসিটিভি হ্যাক করেছে? নাহলে পেল কীভাবে? নাকি আরও কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে তার অন্ধকার দুনিয়ায়?
সে স্ক্রিনের মিরার ঠোঁটের ওপর হাত রাখল। পাশেই রাখা রান্না করা আমানের মাংসে কামড় বসাল, কিন্তু স্ক্রিন থেকে এক মুহূর্তের জন্যও চোখ সরিয়ে নিল না। সে নেশাভরা কণ্ঠে ফিসফিস করল, "হেই, লিটল ফায়ার। তোমার সাথে খেলাটা আমার দারুণ জমবে। আমি শুধু সেই দিনটার অপেক্ষায় আছি।"
এরপর হঠাৎই স্ক্রিনের মিরার ঠোঁটে কামড়ের ভঙ্গিমা দেখিয়ে হুইস্কির বোতল খুলে ঢকঢক করে গলায় ঢেলে দিল। মাতাল চোখে তাকিয়ে রইল স্ক্রিনের দিকে। কিন্তু আচমকা কিছু একটা মনে পড়ায় মুখ কঠিন হয়ে উঠল তার। "কারানের ভাগ্যটা যদি আমার হতো! রিডিকিউলাস! এমন আফসোস আমি কখনোই করব না। তুমি তো আমারই, ওকে শুধু কিছুদিনের জন্য ধার দিয়েছি।"
তার ঠোঁটের কোনে বিকৃত হাসি ফুটলো। সে মাতাল, সে উন্মাদ, সামনে স্ক্রিনে বসে থাকা নারীটি তাকে পা'গল করে তুলেছে। আর পাগ'ল তো হতেই হতো। যে নারীর সৌন্দর্যে আগুন জ্বলে ওঠে, যার অস্তিত্ব ছায়ার মতো তাড়া করে, তাকে দেখে বিভোর না হয়ে থাকা কি সম্ভব? 
_____
পরের দিন পুরো মিডিয়া সরগরম হয়ে উঠল। টিভি চ্যানেল, পত্রিকার শিরোনাম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম; প্রতিটি প্ল্যাটফর্মেই আমান হোসেনের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। রিপোর্টাররা নানাভাবে খবর ছড়িয়ে দিয়েছে, নানা অনুমান আর গুঞ্জন ঘুরছে সর্বত্র। 
থানার অফিসাররা বিভ্রান্ত, সিনিয়র কর্মকর্তারা চাপের মুখে। গোয়েন্দা বিভাগ থেকে কর্মকর্তারা আসতে শুরু করেছে, তারা খুঁটিয়ে সবকিছু জানার চেষ্টা করছে। একদল অফিসার আমানের শেষ অবস্থান খুঁজে বের করতে ব্যস্ত, আরেকদল সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরি করছে।
ডিউটি অফিসার রফিক মাথা চুলকে বললেন, "স্যার নিখোঁজ হয়েছেন, নাকি অন্য কিছু ঘটেছে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।"
শারমিন চিন্তিত মুখে বলল, "পুলিশ অফিসারকে সরিয়ে দেওয়ার মতো দুঃসাহস কার থাকতে পারে? কিন্তু স্যার কি স্বেচ্ছায় গায়েব হয়েছেন নাকি... কি যে বলবো, আমি ভাবতেই পারছি না।"
ডেস্কের সামনে বসে থাকা আরেকজন অফিসার ফাইলের পাতা উল্টে বললেন, "উপরমহল রীতিমতো চাপে আছে। হাইকমান্ড থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ এসেছে। বলা হয়েছে, দ্রুত তদন্ত শুরু করতে হবে।"
থানার বাইরে সাংবাদিকরা ভিড় জমিয়েছে। কেউ কেউ লাইভ করছে, কেউ পুলিশের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য মরিয়া আপাতত। 
অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। আমান হোসেন কোনো স্পর্শকাতর তদন্তে যুক্ত ছিলেন কিনা, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। কেউ কেউ বলছে, এটি কোনো পরিকল্পিত অপহরণ, আবার কেউ সন্দেহ করছে, তিনি নিজেই আত্মগোপনে গেছেন।
এদিকে জেলের ভিতর মিরাও এসব কথা শুনতে পেল। অবাক মুখে আপনমনে বলল, "কিছু রহস্য এখনো অজানা, অমীমাংসিত। আমি কি আসলেই সম্পূর্ণ সত্যের গভীরে প্রবেশ করতে পেরেছিলাম?"
এরমধ্যেই শারমিন হতাশ মুখে এসে মিরার সামনে বসলো। শারমিনের মুখ ভার দেখে মিরা প্রশ্ন করল, "আপনি... এভাবে চুপচাপ কেন আজ? কোনো খারাপ খবর আছে নাকি?"
শারমিন শ্বাস টেনে গম্ভীর স্বরে বলল, "আমান স্যার নিখোঁজ। তবে এটা নিয়ে উর্ধ্বতনরা কাজ করছে। আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আপনার দিকটাই নজরে রাখতে।"
মিরা চুপ করে রইল। তারপর আচমকা কোনো চিন্তার টানে বলে ফেলল, "আচ্ছা, এই কেস কি কোনোভাবে আমার সাথে যুক্ত?"
শারমিনের চোখে সন্দেহের ঝলক ফুটে উঠল। সে একটু এগিয়ে এসে সাবধানে বলল, "ম্যাডাম, কারান স্যার তো হাসপাতালে। আপনি কি নিশ্চিত, যে সব তথ্য আমাদের দিয়েছেন? ধরুন এমন কিছু কি আছে, যা এখনো সামনে আসেনি?"
মিরা এবার একটু ভেবে বলল, "আমি যা জানি, কিছুই গোপন করিনি। তবে এর বাইরেও কোনো সত্য লুকিয়ে আছে কিনা, সেটা আমার জানা নেই।"
শারমিন কিছুক্ষণ নীরবে ভেবে নিল। তারপর দৃঢ় কণ্ঠে বলল, "এটা সরাসরি এই কেসের সাথে সম্পর্কিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। আপনি তো প্রায় দুই মাস ধরে জেলে, তাহলে এই ঘটনার সাথে আপনার কীভাবে সংযোগ থাকতে পারে?" সে থেমে গিয়ে কিছু একটা ভাবল, "কিন্তু এক মিনিট! আপনি তো এখনো বলেননি ইউনিভার্সিটির সেই নিখোঁজ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিষয়ে... আর এখন আমান স্যারও নিখোঁজ। ম্যাডাম, আপনি যদি কিছু জানেন, এখনই বলুন। কেসটা এখন আর সাধারণ পর্যায়ে নেই। এটা যদি পূর্বের ঘটনাগুলোর সাথে সম্পর্কিত হয়, তাহলে প্রতিটা সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ। আপনি স্পষ্টভাবে সবকিছু বলুন। আমরা আপনাকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আছি। এবার মনে হচ্ছে এটা... কিছু তো একটা আছে। আর সময় নষ্ট করা উচিত হবে না। তারপর কি হলো?"
মিরা মাথা নাড়িয়ে আবার সেই পুরোনো ঘটনায় ফিরে গেল।
_______
কাচের জানালার পাশঘেঁষা এক নিভৃত কক্ষে আধশোয়া হয়ে বসে আছে মিরা। ব্যান্ডেজ করা জায়গাটির যত্ন নিতে পায়ের নিচে একটি বালিশ রেখে দিয়েছে। 
অন্যদিকে কারান ভোরবেলা উঠেই মিরার জন্য এবং নিজের জন্য সকালের নাস্তা প্রস্তুত করতে রান্নাঘরে ব্যস্ত। কিছুক্ষণ পর ট্রেতে সাজানো খাবার নিয়ে সে কক্ষে প্রবেশ করল। ট্রেটি পাশে থাকা টেবিলের ওপর রাখল। কারানের দিকে তাকিয়ে মিরা আলতো হাসিতে সাড়া দিল৷ সেও কারানের জন্যই অপেক্ষা করছিল।
কারান তার চোখে চোখ রেখে স্নেহমাখা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, "পায়ের কি অবস্থা, সুইটহার্ট?"
"আগের থেকে অনেকটা বেটার। কিন্তু দাঁড়াতে পারবো না মনে হচ্ছে।"
কারান মিরার পায়ের ব্যান্ডেজের উপর আলতো হাত বোলাল। তারপর নীচু হয়ে সেখানে একটা চুমু খেয়ে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলল। মিরার পায়ের দিকেই গভীর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে মনে মনে বলল, "যে বউয়ের শরীরে একটুখানি আঘাত সহ্য করতে পারি না আমি, আজ আমার জন্যই তার এই অবস্থা। সরি, মিরা। আ'ম এক্সট্রিমলি সরি, সুইটহার্ট। আমার ভিতরে ভিতরে প্রচুর অস্থির লাগছে। শ্বাস নিতেও কেমন যেন অসুবিধে হচ্ছে। কিন্তু তোমাকে এসব বুঝতে দিতে চাই না। শুধু জলদি জলদি সুস্থ হয়ে যাও।"
কিছুক্ষণ পর কারান মিরার দিকে তাকালে দেখল, মিরাও তার দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে।কারান মুচকি হেসে মিরার দিকে এগিয়ে গিয়ে তার পাশে বসে বলল, "কি দেখছো?" 
 "আমার জাঁহাপনাকে।"
কারান হেসে মিরার গালে এক হাত রেখে বলল, "নাও, এবার খেয়ে নাও।"
 "খাইয়ে দাও।"
কারান মিরাকে খাইয়ে দিতে শুরু করল। মিরাও হেসে খেয়ে নিল। কিছু সময় পর কারান খাবারের ট্রে নিচে রেখে আসল। একটুপর দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়ে দেখল, মিরা মাথা হেলিয়ে বসে কিছু একটা ভাবছে।
কারান দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে আপনমনে বলল, "অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি। মিরাকে এখানে আনা একদমই উচিত হয়নি। যদিও মিরার পরিচয় বা কিছুই এখনো কেউ জানে না, কিন্তু জানতে কতক্ষণ? এবার তো টেনশন বাড়ছে।"
এরমধ্যেই মিরার চোখে কারানের উপস্থিতি পড়ল। মিরা হেসে বলল, "ওখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন?"
কারান মিরার পাশে এসে বসে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল। 
 "একটা কথা জিজ্ঞেস করি?"
"পারমিশন নেওয়ার দরকার নেই, বেগম।"
"তুমি আমাকে এখানে কেন নিয়ে এলে?" 
 "কারণ আমি চাই না, তোমার কোনো ইচ্ছে বা আকাঙ্ক্ষা অপ্রাপ্তিতে রয়ে যাক। তাই তোমাকে আমার শহরটির রূপ দেখানোর জন্য নিয়ে এসেছি।"
মিরা মাথা নামিয়ে হাসল। তবে তৎক্ষণাৎ কারান একটা আচমকা প্রশ্ন করল, "তুমি আমাকে কতটা বিশ্বাস করো, মিরা?"
মিরা অবাক না হয়ে কারানের গলা দুই হাতে জড়িয়ে ধরল। "সত্যি বলি?"
"আমার কাছে মিথ্যা বলো না। এই একটা ব্যাপার আমার পছন্দ নয়।"
মিরা সন্দিহান চোখে বলল, "তুমি কি কখনো আমাকে মিথ্যা বলোনি?"
"না। কিন্তু আমি তোমাকে এমন কিছু দেখিয়েছি, যেগুলো সত্যি নয়।"
মিরা কথাটাকে তেমন কোনো গুরুত্ব না দিয়ে, কারানের হাতের ব্যথার দিকে তাকিয়ে বলল, "তোমার হাতের ব্যথাটা কমেছে?"
কথাটায় মিরার গুরুত্ব না দেখে, কারান বাঁকা হেসে বলল, "তার মানে তুমিও আমাকে কিছু কিছু ব্যাপার দেখিয়েছ, যা সত্যি নয়।"
মিরা মাথা তুলে বলল, "হঠাৎ এটা কেন বললে?"
কারান কোনো উত্তর দিল না, শুধু গভীর দৃষ্টিতে তার পানে তাকিয়ে রইল। 
কিছুক্ষণ পর কারান মিরার কপালের চুলগুলো সরিয়ে গম্ভীর মুখে বলল, "আমার প্রশ্নের উত্তর এখনো পাইনি, মিরা।"
"যেদিন আমি তোমাকে সম্পূর্ণ জানতে পারবো, সেদিন সম্পূর্ণ বিশ্বাস করবো।"
কারান আর কিছু না বলে বিছানা থেকে উঠতে যাবে, তখনই মিরা বলে উঠলো, "ওয়াশরুমে যাব।"
কারান এসে মিরাকে কোলে তুলে নিল, তারপর বাথরুমে রেখে এসে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলল, "আমি এখানেই আছি।"
মিরা হাসল। কিছু সময় পর মিরা দরজা খুলে বেরিয়ে আসলে, কারান আবার তাকে কোলে তুলে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে বলল, "এই কয়েকদিন আমি রান্নার দায়িত্ব নিলাম। আমি জানি, আমার বউ খুশি হয়েছে।"
মিরা হাসতে হাসতে কারানের গালে চুম্বন দিয়ে বলল, "আসলেই অনেক খুশি। আমার হাসবেন্ডের রান্না অমৃত।"
কারান সামান্য হেসে মিরার মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেল। মিরা একা বসে থেকে মুখ ভার করে আপনমনে বলল, "কারান, কিছু রহস্য থাকে যা স্বামী স্ত্রীর মাঝেও গোপন রাখতে হয়, নাহলে সম্পর্কের গভীরতায় ফাটল ধরে। যে কারণে তোমাকে নিয়ে আমার হাজার আগ্রহ, অগণিত প্রশ্ন জমে থাকলেও, কখনো প্রকাশ করি না।"
_______
সকাল থেকেই রোমানা পায়চারি করেই চলেছে। কারণ আরিয়ানের কথাগুলো তার বুকের ভেতর অস্থিরতা তৈরি করেছে। 
এরমধ্যেই আরিয়ান গোসল সেরে বেরিয়ে এসে নির্বিকার ভঙ্গিতে জামাকাপড় পড়তে লাগলো। 
কিন্তু আরিয়ানকে দেখে মুহূর্তেই রোমানার নিশ্বাস ভারী হয়ে উঠল। গলার কাছে শব্দগুলো গিঁট বেঁধে আটকে আছে। তবুও একটা গভীর শ্বাস টেনে রুদ্ধ কণ্ঠে বলল, "তুমি কীভাবে জানলে আমি খু*ন করেছি? সত্যি করে বলো, আরিয়ান। কে বলেছে?"
 আরিয়ান ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসির রেখা টেনে নিস্পৃহ কণ্ঠে বলল, "এত অস্থির হচ্ছো কেন? কেউ কিছু বলেনি। আমি নিজের চোখে দেখেছি।"
রোমানার মনে বাক্যগুলো যেন বজ্রাঘাতের মতো আঘাত হানলো। বুকের ভেতর ধুকধুক করে উঠল। আরিয়ান ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এসে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, "আর এটাও জানি, লা'শটা কারান সরিয়েছে।"
এই উক্তি শোনার পর রোমানা স্থির দাঁড়িয়ে থাকল। তার সমস্ত শরীর এক লহমায় পাথর হয়ে গেছে। মুখ একেবারে সিল হয়ে গেছে। অন্য কেউ হলে হয়ত কিছু একটা বুঝিয়ে দেওয়া যেত, কিন্তু আরিয়ান নিজেই ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছে এবং জানে কে লাশটা সরিয়েছে। অর্থাৎ সে যে মিথ্যা বলছে না, তা পরিষ্কার। রোমানার মনে অসংখ্য প্রশ্নেরা দানা বাঁধতে থাকল, তবে কোনো শব্দ বের হওয়ার মতো সাহস তার নেই। সে শুধুই ফ্যালফ্যাল করে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে থাকল। 
আরিয়ান জামাকাপড় পরিবর্তন করে কোনো উত্তেজনা ছাড়াই ফ্রিজ থেকে এক বোতল বিয়ার বের করল। তারপর বোতলের মুখ খুলে এক ঢোক নিয়ে রোমানার দিকে এগিয়ে এসে বলল, "বিয়ার খাবে? শুনেছি বিয়ার নাকি তোমার খুব পছন্দ।" 
রোমানার শরীর ঘামে ভিজে যেতে লাগল। বারবার ঢোক গিলে কিছু বলতে চাইল, কিন্তু গলা দিয়ে শব্দ বের হল না। এ ব্যাপারে সে কখনোই তো আরিয়ানকে কিছু বলেনি। তাহলে সে জানলো কীভাবে?
আরিয়ান হালকা হেসে বলল, "এদিকে এসো।"
তারপর রোমানার হাত ধরে তাকে সামনে টানতে লাগলো। কিন্তু রোমানা একদম অনড় হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। তার অসাড় শরীর বুঝতে পেরে, আরিয়ান তার হাত এক ঝটকায় টেনে তাকে বিছানার দিকে নিয়ে গেল। রোমানার কাঁধ শক্ত হাতে চেপে ধরে তাকে বিছানায় বসিয়ে দিলো। তারপর তার কোলের মধ্যে মাথা রেখে শুয়ে পড়ল।
কিছু মুহূর্ত নিস্তব্ধতার পর মধুর হাসি দিয়ে তীক্ষ্ণ স্বরে আরিয়ান বলল, "তোমাকে একটা গল্প শোনাবো। একটা উচ্ছল, দুরন্ত, বুদ্ধিমতী মেয়ের গল্প।"
চলবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন