ভালোবাসার অধিকার — পর্ব ১
#ভালোবাসার_অধিকার
#Writer_Selivra_Anu
আজ ৮ বছর পর দেশে ফিরছে দ্বীপ ও তার বন্ধুরা। পড়াশোনা শেষ করে। গাড়িতে বসে আছে দ্বীপ, আবির, অভি, শুভ ও ঈশান। ঈশান এখানে থাকে না। ইউএসএ থাকে, শুধু দ্বীপের রিকোয়েস্টে এসেছে। এর আগেও অনেকবার এসেছে। ফুল ভলিউমে গান বাজছে আর দ্বীপ ড্রাইভ করছে।
শুভ: আমাকে বাসায় ড্রপ করে দিবি।
আবির: আমাকেও।
দ্বীপ: ফার্স্ট আমার বাসায় যাব। তারপর তোরা তোদের বাসায় যাবি।
অভি: এটা কেমন কথা?
দ্বীপ: ঈশান আমার সাথে আমার বাসায় থাকবে। তোরা ও এখন আমার সাথে আমার বাসায় যাবি। একটু আড্ডা দিয়ে বিকেলে বাসায় ফিরে যাবি।
শুভ: না। প্লিজ, কাল তোর বাসায় যাব। বাট এখন আমাকে আমার বাসায় যেতে হবে।
অভি: শুভ ঠিক বলেছে।
ঈশান: কিন্তু...
আবির: কোনো কিন্তু না। তুই চুপ থাক। আর দ্বীপ, আমাদের বাসায় ড্রপ করে দে। লেফটে গাড়ি ঘোরা।
দ্বীপ: ওকে ওকে।
তারপর দ্বীপ শুভ, আবির ও অভিকে ওদের বাসায় ড্রপ করে নিজের বাসায় আসল। এসে কলিংবেল বাজাল।
দিয়া ওয়াশরুম থেকে চিৎকার করে বলছে,
দিয়া: অনু বাচ্চা, আমি ওয়াশরুম থেকে একবার বের হই, দেখিস তোকে কী করি। পানি একবার অন আর একবার অফ করছিস কেন? আমি সাবান মেখেছি। চোখ জ্বলছে।
অনু: হিহিহিহি। আমার ইচ্ছা করছে তাই।
দিয়ার মা (চিৎকার করে): অনু, দেখ তো কে কলিংবেল বাজাচ্ছে। আমি একটু কাজে আছি।
অনু: ওকে আন্টি।
দিয়া: পানি ছেড়ে দিয়ে যা।
অনু: হ্যাঁ, দিয়েছি।
অনু গিয়ে দরজা খুলল। খুলে দেখে দুটো ছেলে দাঁড়িয়ে আছে।
অনু: কাকে চাই?
দ্বীপ: কাকে চাই মানে? ভেতরে ঢুকব।
অনু: কে আপনারা? পরিচয় না দিলে ভেতরে ঢুকতে দেব না।
দ্বীপ: তুমি কে?
অনু: আমি কে, তা আপনাকে বলব কেন? আপনারা কে, সেটা বলুন।
ঈশান: তুমি ওকে চেনো না?
অনু: উনি কোন মুড়ির হিরো যে তাঁকে চিনতে হবে?
দ্বীপ: কিই 😡? ওই, তুমি কে? আর এই বাড়িতে কী করছ?
অনু: আমার বাড়িতে আমি থাকব না তো কে থাকবে?
ঈশান: 😮 তোমার বাড়ি মানে?
অনু: মানে এটা আমার শ্বশুরবাড়ি।
মাথায় ওড়না দিয়ে ঘোমটা দিয়ে আর লজ্জা পাওয়ার ভান করে। ঈশান হা করে দ্বীপের দিকে তাকিয়ে আছে। আর দ্বীপ হা করে অনুর দিকে তাকিয়ে আছে।
দ্বীপ: শ্বশুরবাড়ি মানে? এসব কী বলছ 😡
অনু: আরে গাধা, শ্বশুরবাড়ি মানে ও বোঝেন না? আমি এই বাড়ির বউ।
দ্বীপ: (বউ? আমার বড় ভাই আছে বলে তো আমি জানি না!)
ঈশান: কার বউ?
অনু: এই বাড়িতে এসেছেন আর এই বাড়ির মানুষ সম্পর্কে জানেন না। এই বাড়িতে কয়টা ছেলে আছে?
ঈশান: তার মানে তুমি দ্বীপের বউ?
দ্বীপ: শাট আপ, ঈশান।
অনু: শাট আপ কেন? একদম ঠিক বুঝেছেন।
দ্বীপ: Whattttt?
অনু: এই আপনি এত চিৎকার করছেন কেন? আর রেগে রেগে কথা বলছেন কেন? আপনার থেকে তো উনি অনেক ভালো। কী ভালোভাবে কথা বলছে। দেখতে ও অনেক কিউট।
ঈশান: থ্যাংকস 😊।
দ্বীপ: 😡
অনু: এখন কাকে চাই বলেন তো। আমার শাশুড়িয়াকে রায়ের হেল্প করতে হবে। আজকে আমার সময় নষ্ট করছেন।
ঈশান: দ্বীপ, তুই বিয়ে করলি কবে?
অনু: 🙀 দাদাভাই? 😲
ভালোবাসার অধিকার — পর্ব ৫
দ্বীপ: (বউ? আমার বড় ভাই আছে বলে তো আমি জানি না!)
ঈশান: কার বউ?
অনু: এই বাড়িতে এসেছেন আর এই বাড়ির মানুষ সম্পর্কে জানেন না। এই বাড়িতে কয়টা ছেলে আছে?
ঈশান: তার মানে তুমি দ্বীপের বউ?
দ্বীপ: শাট আপ, ঈশান।
অনু: শাট আপ কেন? একদম ঠিক বুঝেছেন।
দ্বীপ: Whattttt?
অনু: এই আপনি এত চিৎকার করছেন কেন? আর রেগে রেগে কথা বলছেন কেন? আপনার থেকে তো উনি অনেক ভালো। কী ভালোভাবে কথা বলছে। দেখতে ও অনেক কিউট।
ঈশান: থ্যাংকস 😊।
দ্বীপ: 😡
অনু: এখন কাকে চাই বলেন তো। আমার শাশুড়িয়াকে রান্নায় হেল্প করতে হবে। আজকে আমার সময় নষ্ট করছেন।
ঈশান: দ্বীপ, তুই বিয়ে করলি কবে?
অনু: দাদাভাই
ঈশান: তোমার বরকে তুমি চেনো না? 😂
দ্বীপ: ঈশান, তুই চুপ করবি। আর এই মেয়ে, তুমি এসব কী উল্টাপাল্টা কথা বলছ? মাথায় কী প্রবলেম আছে? 😡
অনুর মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না। হা করে দ্বীপের দিকে তাকিয়ে আছে। ও তো মজা করেই বলেছিল। দ্বীপের সামনেই মজা করবে, এটা বুঝতে পারেনি। চিৎকার-চেঁচামেচির আওয়াজ শুনে দ্বীপের মা বাইরে বেরিয়ে আসেন।
দ্বীপের মা: কী হয়েছে রে অনু? এত চিৎকার-চেঁচামেচি কেন?
অনু এখনো স্থির দাঁড়িয়ে আছে। কী বলবে বুঝতে পারছে না। দ্বীপের মা দরজায় দ্বীপকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাড়াতাড়ি এখানে আসেন।
দ্বীপের মা: দ্বীপ! তুই? কখন এলি? আর বাইরে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? তুই আসবি, একবার ফোন করে জানাবি না? 🥺
দ্বীপ: মম, কেমন আছো?
দ্বীপের মা: ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছে, ভালো না থেকে কী পারি?
ঈশান: আন্টি, আমিও এসেছি।
দ্বীপের মা: দেখেছি তো। আয় আমার কাছে। আমার দুই ছেলেই চলে এসেছে আমার কাছে। অনু, তুই এভাবে...
এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? এখানে আয়।
ঈশান: আসো এখানে, শাশুড়িয়ার পাশে। 😁
দ্বীপ: ঈশান! 😡
দ্বীপের মা: শাশুড়িয়া মানে?
অনু: কিছু না আন্টি। চলে তো কিচেনে। তোমার ছেলে এত দিন পর দেশে ফিরল। কিছু স্পেশাল রান্না করবে না তো?
দ্বীপের মা: হ্যাঁ, করব তো। যা, তোরা ফ্রেশ হয়ে আয়।
দ্বীপ: ওকে। (অনুর দিকে তাকিয়ে)
অনু দ্বীপের মার সাথে কিচেনে দৌড় দিল।
দ্বীপের মা: আস্তে, পড়ে যাবি তো।
অনু: ঠিক আছি। আচ্ছা, আজ তোমার ছেলে আসবে বলে না তো?
দ্বীপের মা: আমি তো নিজেই জানতাম না। আমাকে বলেছিল সামনের সপ্তাহে আসবে।
অনু: ওহ! 😞
দ্বীপের মা: তোকে আর আমাকে হেল্প করতে হবে না। গিয়ে দেখ, ঈশান বা দ্বীপের কিছু লাগবে কিনা। চলবে.....
(কিছু ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন, কেমন হলো জানাবেন ❤️)