#ভালোবাসার_অধিকার
#Writer_Selivra_Anu
কপি করা নিষেধ
পর্ব -২ এর অর্ধাংশ
দ্বীপ: কিইই?
অনু: এখন তোমার কথা শোনার টাইম নেই। এসে শুনব। ওকে, বাই।
অর্ধেক খেয়েই দিয়ার হাত ধরে টেনে উপরে নিয়ে গেল। দ্বীপ রেগে বোম হয়ে আছে। আর ঈশান হা করে তাকিয়ে আছে অনুর যাওয়ার দিকে।
দ্বীপের মা: দ্বীপ, ওর কথায় কিছু মনে করিস না। ও এরকমই। একটু বেশি কথা বলে। বাট মনটা অনেক ভালো।
ঈশান: (ওর কপালে যে কী আছে, কে জানে! দ্বীপ যেভাবে রেগে আছে...)
দ্বীপ না খেয়েই রেগে রুমে চলে গেল। ঈশান খেয়েই গেল। অনু আর দিয়া রেডি হয়ে একটা পার্কে গেল। আজ ওদের ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে গিয়ে দেখে তিথি আর সিমি দাঁড়িয়ে আছে।
অনু আর দিয়া ওদের কাছে গেল।
অনু: সরি।
সিমি: কখন থেকে তোদের জন্য ওয়েট করছি।
তিথি: ফোন ধরছিলি না কেন?
দিয়া: সাইলেন্ট করা ছিল। আর আজ ভাইয়া বাসায় ফিরছে। আমি তো আসতে চাইছিলাম না। অনু জোর করে আনল।
সিমি: কী! দ্বীপ ভাইয়া এসেছেন?
অনু: ভাইয়া!
তিথি: তুই এত অবাক হচ্ছিস কেন? দিয়ার ভাই মানে তো আমাদেরও ভাই।
দিয়া: ওর হয়তো অন্য কিছু।
অনু: অন্য কিছু মানে?
সিমি: মানে তুই আমাদের ভাবি।
অনু: কিইইই! ওই বেঁটে মোল্লার বউ হব আমি? কবি নেহি।
তিথি: এটা কী বলছিস? ভাইয়া যথেষ্ট লম্বা।
দিয়া: ওর কথা বাদ দে তো। আজই ভাইয়া এসেছে। আর আজই ভাইয়ার সাথে ঝগড়া শুরু করে দিয়েছে। ভাইয়াকে রাগিয়েও দিয়ে এসেছে।
অনু: আমি যা বলেছি, ঠিক বলেছি। সত্যি কথা কেউই হজম করতে পারে না।
দিয়া: তুই ভাইয়াকে হিরো আলম বলেছিস। এটা সত্যি?
তিথি + সিমি: কিইইইই?
অনু: তোরা এসব আজেবাজে টপিক নিয়ে কথা বলা বন্ধ করবি। চল, ফুচকা খাব।
সিমি: ওকে, চল।
ওরা ফুচকা খেতে গেল।
দিয়া: তোরা কালকে আমাদের বাসায় আসিস।
তিথি: কেন?
দিয়া: এমনি। ভাইয়া এসেছে। ভাইয়াকে দেখেও আসবি। আর আড্ডা দেওয়াও হবে।
সিমি: ওকে।
ওরা আরও কিছুক্ষণ ঘুরে সন্ধ্যার আগে বাসায় ফিরে যায়।
ঈশান: দ্বীপ, তোর মাথা এখনো ঠান্ডা হয়নি?
দ্বীপ: এই মেয়েটিকে একটা শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত আমার মাথা ঠান্ডা হবে না। ওর কত সাহস! আমাকে হিরো আলমের সাথে তুলনা করে।
ঈশান: তুই হিরো আলমকে চিনিস কী করে?
দ্বীপ: একবার দেখেছিলাম। আমাকে তো ও চেনে না। ওর কী অবস্থা করি, দেখিস।
ঈশান: মেয়েটা অনেক ভালো। জাস্ট মজা করে বলেছে। এত রাগ করছিস কেন? বাদ দে না।
দ্বীপ: তুই একদম ওর হয়ে সাফাই গাইতে আসবি না। আজ বাসায় আসুক। ওকে মজা বুঝাব।
ঈশান: (আজকে অনুর কী হবে! ইশশ...)
দ্বীপ: কী ভাবছিস? এই দেখ, শুভ ফোন দিয়েছে।
ঈশান: দে।
.
অনু আর দিয়া বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে নিল। অনু ছাদে চলে গেল। অনুর পিছন পিছন দিয়াও গেল। দোলনায় দুজন বসল।
দিয়া: মন খারাপ?
অনু: না।
দিয়া: আমি জানি। ফোন দিয়ে দেখ, আঙ্কেল-আন্টিকে।
অনু: না থাক। ওরা ফ্রি হলেই ফোন দেবে।
দ্বীপ অনুকে উপরে উঠতে দেখেছিল, তাই দ্বীপও উপরে গেল। দ্বীপের পিছন পিছন ঈশানও গেল।
দ্বীপ: দিয়া, এই সন্ধ্যাবেলায় তুই এখানে কী করছিস?
দিয়া: কিছু না। অনুর সাথে একটু গল্প করছিলাম।
দ্বীপ: নিচে যা।
দিয়া: কেন?
দ্বীপ: আমি বলছি তাই।
দিয়া: অনু, চল।
অনু: তুই যা। আমি একটু পর আসছি।
দিয়া: তাড়াতাড়ি আসিস।
অনু: হুম।
অনু ভেবেছে, দিয়ার সাথে সাথে দ্বীপও চলে গেছে। বাট দ্বীপ যায়নি। দ্বীপ ঈশানকেও পাঠিয়ে দিয়েছে। হঠাৎ দ্বীপ গিয়ে অনুর পাশে বসল। অনু চমকে উঠল। তাকিয়ে দেখে দ্বীপ।
অনু: তুমিইইইইইইইই।
পর্ব -০৩
দিয়ার পিছন পিছন ঈশানও নিচে নেমে এল। পিছনে তাকিয়ে ঈশানকে দেখেই দিয়ার মুখ গম্ভীর হয়ে গেল।
— তুমি আমার পিছন পিছন আসছো কেন? রেগে উঠল দিয়া।
ঈশান স্বাভাবিক গলায় জবাব দিল,
— তুমি আমার সামনে সামনে যাচ্ছ কেন?
— দেখো, একদম আমার মাথা গরম করবে না। বলে দিচ্ছি। বিরক্ত স্বরে বলে উঠল দিয়া।
ঈশান একটু ইতস্তত করে বলল,
— আচ্ছা, তুমি এখনো ওটা নিয়ে রেগে আছো কেন বলো তো? আমি তো জানতাম না সেদিন তুমি...
— চুপ! দিয়ার কণ্ঠ আরও কঠিন হয়ে উঠল। তুমি যদি এখন আমার সামনে থেকে না যাও, তোমার কী অবস্থা করব, তুমি ভাবতেও পারবে না।
ঈশান আস্তে করে বিড়বিড় করল,
— ডাইনি।
দিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— কী বললে?
ঈশান দ্রুত মাথা নাড়ল।
— কিছু না। আমি যাচ্ছি।
❖❖❖
অনু ছাদে একা বসে ছিল। হঠাৎ দ্বীপকে দেখে চমকে উঠল।
— তুমি এখানে কী করছো? অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল অনু।
দ্বীপ শান্তভাবে উত্তর দিল,
— এটা আমার বাসা, আমার ছাদ। আমি যেকোনো জায়গায় থাকতে পারি।
অনু মাথা নেড়ে বলল,
— হুম, তা-ও ঠিক। ওকে, আমি চলে যাচ্ছি।
দ্বীপ গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
— তুমি গেলে তো হবে না।
অনু অবাক হয়ে তাকাল।
— মানে?
দ্বীপ রাগী চোখে তাকিয়ে বলল,
— খাবার টেবিলে কী বলেছিলে?
অনু দুষ্টুমি ভরা হাসি দিয়ে উত্তর দিল,
— কী বলেছিলাম? ভুলে গেছি। মনে হলে বলব। ঠিক আছে, আমি আসি।
এই বলে অনু উঠে দাঁড়াতেই দ্বীপ তার হাত ধরে আবার বসিয়ে দিল।
— আমার কিন্তু মনে আছে। গম্ভীর গলায় বলল দ্বীপ। আমি বলছি।
অনু একটু ঘাবড়ে গিয়ে বলল,
— ক... কী?
দ্বীপ অনুর চোখে চোখ রেখে বলল,
— আমাকে হিরো আলমের মতো দেখতে, আর খাটো বলেছিলে।
অনু ঠোঁট চেপে হাসল।
— খাটো না... বেঁটে।
দ্বীপের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।
— তোমার সাহস তো কম না! এই "দ্বীপ নওয়াব" এর সামনে কারও উঁচু গলায় কথা বলার সাহস নেই, আর তুমি...
অনু দ্বীপের কথা শেষ হতে না দিয়েই বলে উঠল,
— আমাকে অন্য কারও সঙ্গে একদম তুলনা করবে না। আর আমার সাহসের কী দেখেছো? আমি কাউকে ভয় পাই না।
দ্বীপ ঠাণ্ডা গলায় বলল,
— ও তাই? আমাকে ও ভয় পাও না?
অনু নির্বিকার মুখে উত্তর দিল,
— তুমি বাঘ না ভাল্লুক যে ভয় পাব? কে তুমি? আমার হাত ছাড়ো।
দ্বীপ হালকা হাসল।
— ও তাই? এবার বুঝবে আমি কে।
কথা শেষ করেই সে অনুর হাত শক্ত করে ধরে টানতে টানতে নিচে নিয়ে এল। নিজের রুমে ঢুকে সরাসরি ওয়াশরুমের ভেতর দাঁড় করিয়ে দিল। অনু কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না। এরপর আলমারি থেকে নিজের সব নোংরা কাপড় এনে একে একে ওয়াশরুমে ফেলে দিল।
অনু হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল।
— এসব কী করছো? তুমি কী পাগল হয়ে গেছো?
দ্বীপ নির্বিকারভাবে বলল,
— দুই ঘণ্টা সময় দিলাম। সব কাপড় ধুয়ে দাও।
অনু বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে বলল,
— এই রাতের বেলা? কোন গাধা কাপড় ধোয়? আর এত কাপড় আমি একা কীভাবে ধোব?
দ্বীপ দরজার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল,
— যদি না ধোও, তাহলে আজ এই ওয়াশরুম থেকে বের হতে পারবে না। আমি দরজা লক করে রাখব। সব ধোয়া শেষ হলে ডাকবে, তখন খুলে দেব।
এই বলে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে দিল।
অনু দরজায় ধাক্কা দিতে দিতে বলল,
— দ্বীপ, প্লিজ! দরজা খোলো। আমি এত কাপড় কোনোদিন ধুইনি।
দ্বীপ দরজার ওপাশ থেকেই উত্তর দিল,
— আমাকে এত কথা বলার শাস্তি এটা। আর কোনোদিন আমার পিছনে লাগতে আসবে?
— একদম না! প্লিজ, দরজা খোলো।
— কাপড় ধোয়া শেষ না হলে এই দরজা খুলবে না।
অনু অসহায় গলায় বলল,
— আমি তোমাকে হিরো আলম বলেছি, তুমিও আমাকে কিছু বলো। তাই বলে এত বড় শাস্তি দেবে?
— কী হয়েছে? আর অনু ওয়াশরুমের ভেতর থেকে কথা বলছে কেন? অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল ঈশান।
— ঈশান, প্লিজ আমাকে বাঁচাও। এই রাক্ষসটা আমাকে কত কাপড় দিয়েছে ধোয়ার জন্য। অসহায় কণ্ঠে বলল অনু।
— আমি রাক্ষস? রেগে গিয়ে বলল দ্বীপ। টাইম কমে গেছে। এক ঘণ্টার ভিতর কাপড় ধোয়া শেষ না করলে আরও কঠিন শাস্তি পাবে।
ঈশান অবাক হয়ে দ্বীপের দিকে তাকাল।
— এসব কী করছিস?
অনু অভিমানী গলায় বলল,
— আমি তোমার বিয়ে করা বউ নাকি? আমি কেন তোমার কাপড় ধুতে যাব?
দ্বীপ মুচকি হেসে বলল,
— তুমি তো বললে তুমি আমার বউ। ভুলে গেছ? আমি বেশি কথা বলা পছন্দ করি না। চুপচাপ কাজ করো। আর ঈশান, তুই রুম থেকে বের হয়ে যা।
ঈশান বিরক্ত হয়ে বলল,
— বাইরে গেলে তোর বোন বলে এখান থেকে যাও। আর এখানে আসলে তুই বলিস এখান থেকে যেতে। তো আমি থাকবটা কোথায়?
দ্বীপ হেসে বলল,
— দিয়ার রুমে থাক।
ঈশান মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— ওই ডাইনির রুমে গেলে আমাকে আস্ত গিলে ফেলবে না?
দ্বীপ অবাক হয়ে বলল,
— তুই আমার সামনে আমার বোনকে ডাইনি বলছিস?
ঈশান কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল,
— সত্যি কথাই বলেছি।
অনু বিরক্ত হয়ে বলল,
— আমাকে ভেতরে আটকে রেখে তোমরা বাইরে ঝগড়া করছো কেন?
দ্বীপ কঠিন গলায় বলল,
— চুপচাপ কাপড় ধোও।
দ্বীপ কঠিন গলায় বলল,
— চুপচাপ কাপড় ধোও।
অনু কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,
— আমি আর তোমাকে কোনোদিন কিছু বলব না। প্লিজ, দরজা খুলে দাও।
ঈশান অনুর হয়ে বলল,
— দ্বীপ, দে না দরজাটা খুলে।
দ্বীপ মাথা নেড়ে বলল,
— কাপড় ধোয়া শেষ না হলে এই দরজা খুলবে না। আর তুই একদম দরদ দেখাতে আসবি না।
অনু আর কোনো উপায় না পেয়ে কাপড় ধোয়া শুরু করল। আর মনে মনে দ্বীপের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করতে লাগল।
( বিশেষ কথা: অনু দিয়ার ছোট বেলা থেকেই বেস্ট ফ্রেন্ড মাঝখানে ৫ বছর দ্বীপ না থাকায় দেখা হয়নি,অনু দ্বীপ কে ছোট বেলা থেকেই তুমি বলেই অভ্যস্ত তাই , তুমি করে বলে)
এমন সময় দ্বীপের বাবা বাসায় ফিরলেন। তাই দ্বীপ আর ঈশান নিচে চলে গেল।
— তুমি সেই দুপুরে বাসায় এসেছ, অথচ আমি এখন জানলাম? অবাক হয়ে বললেন দ্বীপের বাবা।
দ্বীপ হালকা হেসে বলল,
— সরি, ড্যাড। তুমি কাজে ছিলে, তাই আর জানাইনি। ভেবেছিলাম বাসায় এসে সারপ্রাইজ দেব।
দ্বীপের বাবা উঠে এসে দ্বীপকে জড়িয়ে ধরলেন।
— কেমন আছো?
— ভালো। তুমি? বলল দ্বীপ।
— ভালো। তারপর ঈশানের দিকে তাকিয়ে বললেন, ঈশান, তুমি কেমন আছো?
ঈশান হেসে উত্তর দিল,
— ভালো, আঙ্কেল।
— ওকে। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি। তারপর গল্প করব। তোমরা এখানেই বসো।
এখন সন্ধ্যা সাতটা। দিয়া আর দিয়ার মা ড্রয়িংরুমে এসে বসলেন। সবাই মিলে গল্প করতে লাগল। কিছুক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে দ্বীপের বাবাও এসে যোগ দিলেন। গল্প করতে করতে রাত সাড়ে দশটা বেজে গেল।
দ্বীপের মা সবার দিকে তাকিয়ে বললেন,
— অনেক গল্প হয়েছে। এবার খেতে এসো।
— ওকে। বলল দিয়া।
হঠাৎ দ্বীপের বাবা চারপাশে তাকিয়ে বললেন,
— আচ্ছা, অনু কোথায়? ওকে তো একবারও দেখলাম না।
দ্বীপের বাবার মুখে অনুর নাম শুনেই দ্বীপের হঠাৎ সব মনে পড়ে গেল। সে আর ঈশান একে অপরের দিকে তাকাল। পরের মুহূর্তেই দুজন একসঙ্গে দৌড়ে উপরে উঠে গেল।
অবাক হয়ে দ্বীপের বাবা বললেন,
— ওরা এভাবে দৌড়ে গেল কেন?
দিয়া বলল,
— আমি দেখছি।
এই বলে সেও ওদের পিছন পিছন উপরে চলে গেল।
দ্বীপ তাড়াতাড়ি ওয়াশরুমের দরজা খুলতেই দেখল, অনু মেঝেতে পড়ে আছে।
ঈশান আতঙ্কিত হয়ে বলল,
— দ্বীপ, ওর কী হয়েছে? আর ও সব কাপড়ও ধুয়ে ফেলেছে!
এক মুহূর্ত দেরি না করে দ্বীপ অনুকে কোলে তুলে নিজের বিছানায় শুইয়ে দিল।
অনুর মুখে আলতো চাপড় দিয়ে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল,
— অনু... এই অনু... চোখ খোলো। কী হয়েছে?
তারপর ঈশানের দিকে তাকিয়ে বলল,
— ঈশান, পানি আন।
ঠিক তখনই দিয়া রুমে ঢুকল।
— কী হয়েছে অনুর?
ঈশান উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল,
— ওয়াশরুমের ফ্লোরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিল।
— মানে? হতভম্ব হয়ে বলল দিয়া।
তারপর ঈশান শুরু থেকে সব খুলে বলল—দ্বীপ কীভাবে অনুকে ওয়াশরুমে আটকে রেখেছিল, কাপড় ধুতে দিয়েছিল, সবকিছু।
ঠিক তখনই ডাক্তার এসে পৌঁছালেন। ডাক্তারের সাথে সাথে দ্বীপের বাবা-মাও রুমে ঢুকলেন।
দ্বীপের মা উদ্বিগ্ন হয়ে বললেন,
— অনুর কী হয়েছে? ডাক্তার কেন?
দিয়া চিন্তিত কণ্ঠে বলল,
— অনু জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।
দ্বীপের বাবা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
— কীভাবে?
দিয়া শান্তভাবে বলল,
— পরে বলছি।
ডাক্তার অনুর কাছে গিয়ে ভালোভাবে পরীক্ষা করলেন। কয়েক মিনিট পর তিনি সবার দিকে তাকিয়ে বললেন,
— ভয়ের কোনো বিষয় নেই। বেশি স্ট্রেস সামলাতে না পারায় উনি জ্ঞান হারিয়েছেন। আমি একটি ইনজেকশন দিয়েছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্ঞান ফিরে আসবে। আর খেয়াল রাখবেন, উনি যেন কোনো ভারী কাজ না করেন। গ্যাসের সমস্যা আছে। বেশি ভারী কাজ করলে বুকে ব্যথা হয় এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। টেক কেয়ার।
এই বলে ডাক্তার চলে গেলেন।
ডাক্তারের কথা শুনে দ্বীপের নিজের কাছেই খুব খারাপ লাগতে শুরু করল। সে শুধু অনুকে একটু শাস্তি দিতে চেয়েছিল। যদি জানত এমন কিছু হবে, তাহলে কখনোই এমনটা করত না।
দ্বীপের মা রাগী গলায় বললেন,
— অনু কী কাজ করেছে?
দিয়া শুরু থেকে সব খুলে বলল।
সব শুনে দ্বীপের বাবা রেগে গেলেন।
— দ্বীপ, এটা আমি তোমার কাছ থেকে আশা করিনি। মেয়েটা একটু মজা করেছে বলে তুমি এত বড় শাস্তি দিলে? ওর বাবা-মা আমাদের ওপর ভরসা করে ওকে রেখে গেছেন। তাদের কী জবাব দেব?
দ্বীপ মাথা নিচু করে বলল,
— আমি জানতাম না ওর এমন হবে।
দ্বীপের বাবা কঠিন গলায় বললেন,
— তুমি জানোটা কী?
ঈশান শান্তভাবে বলল,
— আঙ্কেল, আপনি শান্ত হন। ও না জেনেই ভুল করেছে। আর এমন করবে না।
দ্বীপের মা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
— মেয়েটাকে বিশ্রাম নিতে দাও। সবাই খেতে চলো। পরে আমি ওকে খাইয়ে দেব।
দ্বীপ নিচু স্বরে বলল,
— তোমরা যাও। আমি পরে আসছি।
দ্বীপ নিচু স্বরে বলল,
— তোমরা যাও। আমি পরে আসছি।
সবাই রুম থেকে বেরিয়ে গেল। দ্বীপ সোফায় গিয়ে বসে অনুর দিকে তাকিয়ে রইল।
মনে মনে বলল,
— আমি এতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন কী করে হলাম? আমি তো কোনো কিছু ভুলে যাই না। এটা কী করে ভুলে গেলাম? আমার জন্যই আজ ওর এই অবস্থা।
কিছুক্ষণ পর সে উঠে অনুর পাশে গিয়ে বসল।
মৃদু স্বরে বলল,
— সরি। তোমার জ্ঞান ফিরলে হয়তো এটা বলতে পারব না। তাই এখনই বলছি। আশা করি, আমাকে ক্ষমা করে দেবে।
এই বলে দ্বীপ নিচে নেমে গেল।
দ্বীপ চুপচাপ খাওয়া শেষ করে দিয়ার রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। দরজায় নক করতেই ভেতর থেকে দিয়ার কণ্ঠ ভেসে এলো।
— কী? জিজ্ঞেস করল দিয়া।
দ্বীপ ধীর গলায় বলল,
— ও এখনো কিছু খায়নি। আর আমার রুমেই আছে। জ্ঞানও ফেরেনি।
দিয়া চিন্তিত হয়ে বলল,
— ডাক্তার তো বলেছিলেন কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্ঞান ফিরে আসবে। তুই এক কাজ কর, অনুকে আমার রুমে দিয়ে যা।
দ্বীপ অবাক হয়ে বলল,
— আমি?
— কেন, পারবি না? বলল দিয়া। আচ্ছা, আমি ঈশানকে বলছি।
দ্বীপ তাড়াতাড়ি বলল,
— না না, পারব। দাঁড়া, আমি এনে দিচ্ছি।
দ্বীপ নিজের রুমে ফিরে এলো। ঈশান তখন আবির, শুভ আর অভির সঙ্গে গ্রুপ ভিডিও কলে কথা বলছিল। দ্বীপ সেদিকে কোনো নজর না দিয়ে অনুকে আলতো করে কোলে তুলে নিল।
ঈশান অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
— অনুকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছিস?
ভিডিও কলে আবির অবাক হয়ে বলল,
— মানে?
ঈশান হেসে বলল,
— তোদের না, দ্বীপকে বলছি।
শুভ কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করল,
— দ্বীপ কোথায়?
ঈশান বলল,
— আমার সামনেই।
দ্বীপ সংক্ষেপে বলল,
— দিয়া ওকে ওর রুমে নিয়ে যেতে বলেছে।
অভি বলল,
— ক্যামেরাটা ওর দিকে দে।
ঈশান ক্যামেরা দ্বীপের দিকে ঘুরিয়ে দিতেই তিনজনই একসঙ্গে অবাক হয়ে উঠল।
— দ্বীপের কোলে একটা মেয়ে? বিস্মিত হয়ে বলল অভি।
— ঈশান, ও কে? জিজ্ঞেস করল শুভ।
ঈশান মুচকি হেসে বলল,
— ওই তো অনু। তোরা জানিস না, আজ এখানে এসে কী কী হয়েছে।
আবির আগ্রহ নিয়ে বলল,
— কী হয়েছে?
ঈশান বাসায় ঢোকার পর থেকে অনুর জ্ঞান হারানো পর্যন্ত সব ঘটনা খুলে বলল।
সব শুনে অভি, আবির আর শুভ হেসে গড়াগড়ি খেতে লাগল।
আবির হাসতে হাসতে বলল,
— সিরিয়াসলি! বউ?
শুভ হেসে বলল,
— হিরো আলম!
অভি মজা করে বলল,
— বাহ! দ্বীপকে জব্দ করার মতোও কেউ আছে দেখছি।
ঈশান হালকা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— অনু আজ দ্বীপকে খুব রাগিয়ে দিয়েছিল। আমার তো অনেক ভয় লাগছিল। তবে দ্বীপ শাস্তিটা সত্যিই অনেক বেশি দিয়ে ফেলেছে।
শুভ গম্ভীর হয়ে বলল,
— হুম। এটা শুনে সত্যিই খারাপ লাগল। দ্বীপের রাগটা একটু বেশিই।
অভি আবারও হেসে বলল,
— তবে 'বউ' ব্যাপারটা দারুণ ছিল।
ঈশানও হেসে ফেলল।
আবির বলল,
— ওকে গাইজ, কাল বিকেলে তো ওই বাসায় যাচ্ছিই। তখন দেখা হবে। এখন ঘুমাই, খুব ঘুম পাচ্ছে।
অভি বলল,
— ওকে। গুড নাইট।
ঈশান আর আবির একসঙ্গে বলল,
— গুড নাইট।
দ্বীপ অনুকে দিয়ার বিছানায় শুইয়ে দিল। সঙ্গে সঙ্গেই অনু চোখ খুলল।
দ্বীপ অবাক হয়ে বলল,
— দিয়া, ও তাকিয়েছে।
দিয়া খুশি হয়ে বলল,
— সত্যি?
দিয়া অনুর কাছে এগিয়ে এলো। অনু ধীরে ধীরে উঠে বসল।
দিয়া উদ্বিগ্ন হয়ে বলল,
— অনু, তোর কী হয়েছিল?
অনু একবার দ্বীপের দিকে তাকাল। দ্বীপও অনুর দিকেই তাকিয়ে ছিল। এর মধ্যেই ঈশান রুমে ঢুকল। অনুর জ্ঞান ফিরেছে দেখে সে অনুর কাছে গিয়ে বলল,
— কী হয়েছিল তোমার?
অনু শান্ত গলায় বলল,
— কিছু না। সব কাপড় ধোয়ার পর হঠাৎ মাথা ঘুরাচ্ছিল। সবাইকে অনেক ডাকলাম, কিন্তু কেউ শুনতে পায়নি। মাথা ঘুরে নিচে পড়ে যাই। তারপর কী হয়েছিল, মনে নেই।
অনুর কথা শুনে দ্বীপ চুপচাপ রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
ঈশান অনুর দিকে তাকিয়ে বলল,
— দ্বীপের হয়ে আমি ক্ষমা চাইছি। ও এত কিছু হবে ভাবতে পারেনি। ও কিন্তু মনের দিক থেকে খারাপ না।
দিয়া বলল,
— হুম, একদম ঠিক। সবাই তো তোমার মতো না। আর তুমি আমার রুমে এসেছ কেন?
ঈশান মুচকি হেসে বলল,
— অনুকে দেখতে এসেছি। নয়তো আমার কোনো শখ নেই তোমার রুমে আসার।
দিয়া বিরক্ত হয়ে বলল,
— তাহলে এই রুম থেকে বেরিয়ে যাও।
অনু অবাক হয়ে বলল,
— তুই ওর সঙ্গে এভাবে কথা বলছিস কেন?
দিয়া বলল,
— ওর সঙ্গে এর থেকে ভালোভাবে আমি কথা বলতে পারব না। আর আমি তোর জন্য খাবার নিয়ে আসছি।
ঈশান রুম থেকে বেরিয়ে গেল। দিয়াও নিচে চলে গেল অনুর জন্য খাবার আনতে।
এদিকে দ্বীপ বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল। ঈশান গিয়ে তার পাশে দাঁড়াল।
(আমি শুধু তার গান গাইলাম
সে আমার গান গাইলো না
আসি আসি বলে বন্ধু
আইলো না )
এই সময় ঈশানের টিটকারী মেরে গান গাওয়া টা কেনো জানি দ্বীপের সারা শরীরে আগুন জ্বলার মত করে কাজ করলো । দ্বীপ রক্ত চোখে ঈশানের দিকে তাকিয়ে আছে।
ঈশান এতক্ষনে দ্বীপ এর দিকে তাকিয়ে ভরকে গিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো _— এটা নিয়ে আর ভাবিস না। তুই তো না জেনেই করেছিস। আর সরি বলবি না, সেটা আমি জানি।
ঈশান বলল,
— এটা নিয়ে আর ভাবিস না। তুই তো না জেনেই করেছিস। আর সরি বলবি না, সেটা আমি জানি।
দ্বীপ ধীর গলায় বলল,
— আমি ওসব নিয়ে ভাবছি না।
ঈশান মৃদু হেসে বলল,
— আমি তোকে চিনি।
দ্বীপ বলল,
— চল, ঘুমাব।
ঈশান মাথা নেড়ে বলল,
— ওকে।
দিয়া অনুর জন্য খাবার এনে নিজের হাতে খাইয়ে দিল।
দিয়া বলল,
— আমি প্লেট রেখে আসছি। এসে যেন দেখি তুই ঘুমিয়ে গেছিস।
অনু হেসে বলল,
— ওকে।
সকালে,
দ্বীপ ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে গেল। ঈশান তখনও ঘুমিয়ে আছে।
দিয়া ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে অনেকক্ষণ ধরে অনুকে ডাকছে, কিন্তু অনুর ওঠার নাম নেই।
দিয়া অনুর হাত নেড়ে বলল,
— প্লিজ ওঠ না, মেরি মা। দেরি করে গেলে আমাদের শাস্তি দেবে।
অনু আধো ঘুমে বলল,
— হুম...
দিয়া বলল,
— ওঠ। ভার্সিটিতে যেতে হবে।
অনু বিরক্ত হয়ে বলল,
— তোর জন্য ভালো করে ঘুমাতেও পারি না।
দিয়া বলল,
— ভার্সিটি থেকে এসে যত খুশি ঘুমাস। এখন উঠে রেডি হ। তুই তো জানিস, লেট করলে আমাদের কীভাবে শাস্তি দেয়।
অনু বলল,
— উনি আমাদের পেছনে এত লাগেন কেন বল তো?
দিয়া উত্তর দিল,
— মায়ের জন্য। মা ওই খবিসটাকে বলেছে আমাদের দেখাশোনা করার জন্য।
অনু মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— তাই বলে এভাবে দেখবে?
দিয়া বলল,
— তুই এখন উঠে রেডি হবি কিনা বল।
অনু বলল,
— তুই নিচে যা। আমি দশ মিনিটের মধ্যে আসছি।
দিয়া বলল,
— ওকে।
অনু রেডি হয়ে নিচে চলে গেল। ব্রেকফাস্ট করে নিল। দ্বীপ ড্রয়িংরুমে বসে ছিল। অনু একবার দ্বীপের দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে দিয়ার হাত ধরে হনহন করে বেরিয়ে গেল। দ্বীপ অনুর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
ঠিক তখনই ঈশান এসে দ্বীপের পাশে বসল।
— কী ভাবছিস? জিজ্ঞেস করল ঈশান।
দ্বীপ বলল,
— কিছু না। কখন উঠলি?
ঈশান বলল,
— এইমাত্র।
দ্বীপ জিজ্ঞেস করল,
— ফ্রেশ হসনি?
ঈশান হেসে বলল,
— যাচ্ছি।
এই বলে ঈশান ফ্রেশ হতে চলে গেল।
দ্বীপ ফোন বের করে আবিরকে কল করল।
ঘুমের মধ্যেই আবির ফোন রিসিভ করে বলল,
— কে?
দ্বীপ বিরক্ত হয়ে বলল,
— তুই এখনো ঘুমিয়ে আছিস?
আবির বলল,
— ওহ, তুই! এখনই উঠছি।
দ্বীপ বলল,
— আজ একজনের সঙ্গে দেখা করার কথা ভুলে গেছিস?
আবির বলল,
— না। উঠছি। অভি আর শুভকে ফোন করে জানিয়ে দে।
দ্বীপ বলল,
— তুই টাইমমতো চলে আসিস।
আবির বলল,
— ওকে, বাই।
এরপর দ্বীপ অভি আর শুভকেও সময়মতো আসতে বলল। ওরা সবাই মিলে নিজেদের পরিশ্রমে একটি বিজনেস শুরু করবে। সেই ব্যাপারেই একজনের সঙ্গে দেখা করতে যাবে। ব্রেকফাস্ট শেষ করে দ্বীপ আর ঈশান বেরিয়ে গেল।
ভার্সিটিতে,
তিথি আর সিমি গেটে দাঁড়িয়ে দিয়া আর অনুর জন্য অপেক্ষা করছিল। কিছুক্ষণ পর ওরা এলো।
সিমি রেগে গিয়ে বলল,
— অলটাইম লেট করিস!
দিয়া বলল,
— অনুর জন্য হয়।
তিথি বলল,
— এখন চল। এমনিতেই অনেক লেট হয়ে গেছে।
অনু বলল,
— চল।
তারপর ওরা ক্লাসে ঢুকল...দ্বীপ, ঈশান, আবির, অভি আর শুভ একজন ইনভেস্টরের সঙ্গে দেখা করতে গেছে। তিনি ওদের সাহায্য করবেন। ওদের পরিকল্পনা নিজেদের পরিশ্রমে একটি ব্যবসা দাঁড় করানো এবং সেটাকেই একদিন সবার শীর্ষে নিয়ে যাওয়া।
এদিকে দিয়া, অনু, সিমি আর তিথি ক্লাসরুমের সামনে এসে দাঁড়ালো। ভেতরে প্রহর স্যার ক্লাস নিচ্ছিলেন।
প্রহর (রাগী গলায়): আজও লেট!
অনু (অনুতপ্ত হয়ে): সরি স্যার। ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল।
প্রহর: প্রতিদিন তো এই একই অজুহাত দাও। তোমাকে তো...
দিয়া (মাথা নিচু করে): সরি।
প্রহর নিজের চশমা ঠিক করে বলে উঠলো -আর তোমরা?
তিথি: ওদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।
প্রহর (কঠিন গলায়): নেক্সট টাইম ওয়েট করতে গিয়ে যদি দেরি করো, তাহলে আর ক্লাসেই ঢুকতে দেব না।
সিমি: ওকে, স্যার।
প্রহর: যাও।
দিয়া (বিরবির করে): খবিস!
প্রহর: কিছু বললে?
দিয়া (চমকে উঠে): না না, কিছু না।
প্রহর: মন দিয়ে ক্লাস করো। আজকে ছেড়ে দিলাম। কিন্তু পরের বার আর ছাড়ব না।
সবাই: ওকে, স্যার।
ক্লাস শেষ হওয়ার পর—
দিয়া: আজ তোদের আমার বাসায় যাওয়ার কথা না?
সিমি: এখন?
অনু: চলে আয়। এমনিতেও ওই বাসায় আমার ভালো লাগে না। তোরা এলে অন্তত একটু আড্ডা দিতে পারব।
দিয়া: তোদের একটা কথা তো বলাই হয়নি।
তিথি: কী?
দিয়া: কাল ভাইয়া অনুর সঙ্গে...
দিয়ার কথা শেষ হওয়ার আগেই অনুর আবার রাগ চড়ে গেল।
অনু (রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে): ওই আলমকে আমি ছাড়ব না!
তিথি (অবাক হয়ে): কী করবি?
সিমি: দ্বীপ দেখতে কোনো ফিল্মের হিরোর থেকে কম না। তুই ওকে এটা কোন আক্কেলে বললি?
অনু (আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে): সেটা পরে দেখবি। আমাকে দিয়ে কাজ করানোর শাস্তি তো ওকে পেতেই হবে। আর তুই কী বললি? ফিল্মের হিরো? ওর হিরোগিরি আমি বের করে দেব।
সিমি: অনু, দ্বীপের রাগ কিন্তু অনেক। তোকে ও ছাড়বে না।
অনু: আগে ধরুক, তারপর না ছাড়ার প্রশ্ন আসবে।
দিয়া (দুষ্টু হেসে): তুই কি চাস ভাইয়া তোকে ধরুক?
অনু (রাগী চোখে তাকিয়ে): ...
তিথি: ওকে, এখন চল। কী রাগ রে বাবা, দুজনের!
দৌড়াবে
দ্বীপ ইনভেস্টরের সঙ্গে কথা বলে সব ফাইনাল করে অভি, আবির আর শুভকে নিয়ে দুপুর ২টায় বাসায় ফিরল।
অনু, দিয়া, তিথি আর সিমি আরও আগেই চলে এসেছে।
তিথি: মায়রাকে ফোন দিয়ে আসতে বল। কালও আসল না, আজও কলেজে আসেনি।
দিয়া: আমাকে বলেছিল, ওর বয়ফ্রেন্ড অনেকদিন পর দেশে ফিরেছে। তাই আসতে পারবে না।
সিমি: এখন বল এখানে আসতে। একটু আড্ডা দেওয়া যাবে।
অনু: আমি ফোন দিচ্ছি।
অনু: হ্যালো মায়রা বেইবি, তুই কি এখন ফ্রি, নাকি কাজ আছে?
মায়রা: কেন? ফ্রি আছি।
অনু: তাহলে চলে আয় বাসায়।
মায়রা: কেন?
অনু: ওই, একটু আড্ডা দেব সবাই মিলে।
মায়রা: ওকে। কিন্তু বেশি সময় থাকতে পারব না।
অনু: আগে আয়।
মায়রা: ওকে, আসছি।
অনু: আসছে।
তিথি, সিমি, অনু আর দিয়া সবাই ড্রয়িংরুমে বসে আড্ডা দিচ্ছিল। হঠাৎ কেউ কলিংবেল বাজাল।
অনু (বিরক্ত হয়ে): ধুর! এখন আবার কে এলো?
দিয়া: আমার মনে হয় ভাইয়া। আমি দরজা খুলে দিচ্ছি।
অনু ঠোঁট বাঁকিয়ে রইল।
দিয়া দরজা খুলে দেখল, আবির, অভি আর শুভও এসেছে।
দিয়া (হেসে): আরে, তোমরাও এসেছ!
আবির (মুচকি হেসে): দেখতে পারছিস না?
দিয়া (ব্যঙ্গ করে): না, আমার তো চোখই নেই।
শুভ: বাইরে দাঁড়িয়ে কী গল্প করবি? ভেতরে যেতে দিবি?
দিয়া: না না, ভেতরে এসো।
সবাই ভেতরে আসতেই অনু, তিথি আর সিমি দাঁড়িয়ে গেল।
দ্বীপ: দাঁড়াতে হবে না, বসো।
অনু: আমরা তোমার জন্য দাঁড়াইনি। দিয়া, ওরা কে?
দ্বীপ ভ্রু কুঁচকে অনুর দিকে তাকাল।
দিয়া: ও আবির, ও অভি আর...
শুভ (হেসে): আমি শুভ। তুমি সেই না, যাকে কাল দ্বীপের কোলে দেখেছিলাম?
দ্বীপ (রেগে ঈশানের দিকে তাকিয়ে): ঈশান!
ঈশান (আত্মপক্ষ সমর্থন করে): আমি বলিনি। ওরা নিজের চোখে দেখেছে।
অনু (রেগে উঠে): ওই আলমের কোলে ছিলাম আমি?
দ্বীপ (কঠিন গলায়): কালকের শাস্তির কথা তুমি ভুলে গেছ?
অনু (দৃঢ় স্বরে): একদম না। তোমাকে সেটা ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত ভুলবও না।
অভি (অবাক হয়ে): কী ডেঞ্জারাস!
তিথি: অনু, প্লিজ চুপ কর।
দ্বীপ: ও তাই? তা কী করবে তুমি?
অনু (আত্মবিশ্বাসী হাসি দিয়ে): কী করব দেখতে চাও? দাঁড়াও।
অভি, আবির আর শুভ ঈশানের কাছে গিয়ে আস্তে করে বলল—
অভি: ও কী করতে চাইছে?
ঈশান: আমি নিজেও বুঝতে পারছি না।
সিমি: দিয়া, দেখ তো অনু কোথায় গেল।
অনু একটু পর এক জগ পানি নিয়ে ফিরে এলো।
অনু (ঠোঁটে দুষ্টু হাসি): এই নাও, তোমার শাস্তি!
কথা শেষ হতেই অনু পুরো জগের পানি দ্বীপের মাথায় ঢেলে দিল।
চারপাশে সবাই একদম অবাক হয়ে গেল।
সবাই (স্তব্ধ হয়ে): এ কী!
দ্বীপ (রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে): এটা কী করলে?
অনু (শান্ত ভঙ্গিতে): আমাকে কাল ওয়াশরুমে আটকে রাখার শাস্তি।
দ্বীপ: তোমাকে তো...
অনু (কথা কেটে দিয়ে): কাঁচকলা করবে।
দ্বীপ (দাঁতে দাঁত চেপে): তুমি একটু বেশি করে ফেলছ না?
অনু: তুমি কি কাল একটু বেশি করোনি?
দ্বীপ আর এক মুহূর্তও নিজেকে সামলাতে পারল না। সে শক্ত করে অনুর হাত ধরে টানতে টানতে উপরে নিয়ে যেতে লাগল।
ঈশান (চিন্তিত হয়ে): ও নো! এখন আবার অনুর সঙ্গে কী করবে?
দিয়া: এখানে দাঁড়িয়ে বকবক না করে গিয়ে দেখলেই তো পারো।
ঈশান (অসহায় মুখে): ...
আবির: ঈশান, চল গিয়ে দেখি।
আবির আর ঈশান তাড়াতাড়ি ওদের পেছন পেছন উপরে গেল।
দ্বীপ অনুকে নিয়ে গিয়ে সরাসরি বাথটবে ফেলে দিল।
অনু ও কম যায় না সে নিজেকে বাঁচাতে দ্বীপের শার্টের কলার ধরে এক হেঁচকা টান, আচমকা কি হলো তা বুঝে উঠার আগেই দ্বীপ ধপাস করে অনুর উপড়ে গিয়ে পরলো।
অনু (ব্যথায় চিৎকার করে): আআআ!
দ্বীপ হা হয়ে অনুর দিকে তাকিয়ে আছে, ফর্সা মুখ খানিকটা লালচে আভা, থুতনির মাঝখানে একটু হালকা গর্ত হয়ে আছে।
দ্বীপ মোহাচ্ছন্ন হয়ে সেখানে নিজের আঙ্গুল রেখে বলে উঠলো-Chin dimple
সেই মূহূর্তে আবির আর ঈশান দুজনে দরজার কাছে এসে দাঁড়ালো, আবির কিছু বলতে নিবে ওমনি দরজা বরাবর অদূরে বাথটাব এ চোখ যেতেই ওর চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়
হটাৎ ক্যামেরা কেচাপ কেচাপ শব্দে আবির পাশ ফিরে দেখে ঈশান রাজ্য বিজয়ী হাসি দিয়ে মোবাইল পোকেটে রাখছে,
-কি তুললি তুই মোবাইলে ঈশান?
ঈশান আবির এর পিঠ চাপড়ে বলে উঠলো - বুঝবিনা রে পাগলা বুঝবিনা
দ্বীপ অনুর দ্বিতীয় চিৎকারে তাড়াতাড়ি ওর উপড় থেকে উঠে দাঁড়ালো।
দ্বীপ (নির্বিকারভাবে): ভাঙা রেকর্ডার!
আবির ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে হাঁসি চেপে বলে উঠলো - এটা কী করলি?
ঈশান কান্নার ভাব নিয়ে বলে উঠলো - হাই হাইরে দ্বীপ তুই মানুষ হ্যাঁ ,দিলি তো মেয়েটার হাড্ডি গুলো চুরমার করে ?তা শুধু হাড্ডি ভেঙেছিস নাকি আরো কিছু করেছিস?
এই বলে ঈশান ঠোঁট টিপে হাসতে লাগলো।
দ্বীপ বিরক্ত হয়ে বলে উঠলো - ঈশান নির্লজ্জের মত কথা বলবি না বলে দিলাম ।
ঈশান (উদ্বিগ্ন হয়ে): অনু, তোমার কোথাও লাগেনি তো?
অনু (কান্নার স্বরে): ও মাগো!
দ্বীপ: এইভাবে মরা কান্না কাঁদছ কেন?
অনু (রেগে ও ব্যথায়): ওই খচ্চর পোলা! আমি ব্যথা পেয়েছি, তো কাঁদব না?
দৌড়াবে