ফন্ট সাইজ:
থিম:
ভিনদেশী পুরুষের প্রেমে পাগল

২য় পর্ব

লেখক: সানজিদা

#ভিনদেশী_পুরুষের_প্রেমে_পাগল

#লেখক_সানজিদা

#পর্ব_২

দরজাটা সশব্দে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অন্ধকার ঘরে শুধু জুহি আর রিতার ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দই প্রতিধ্বনি হতে লাগল।

লোকটা জুহির বাঁধন খুলে দিলেও রিতার হাত-পা এখনো শক্ত করে বাঁধা।

জুহি নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে শরীরটা ঘষে ঘষে রিতার দিকে এগিয়ে গেল। কাঁপতে থাকা হাতে রিতার মুখ আর হাতের বাঁধনটা খুলতেই রিতা জুহিকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল।

> "জুহি! ওরা আমাদের কোথায় নিয়ে এসেছে? এরা আমাদের কী করবে বল তো? আমার খুব ভয় করছে!"— রিতার গলার আওয়াজ কান্নায় বুজে আসছিল।

>

জুহি রিতার মাথায় হাত বুলিয়ে চোখের পানি মুছে দিতে দিতে বলল,

> "ধৈর্য ধর রিতা... আল্লাহর ওপর ভরসা রাখ। তোর বাবা তো প্রশাসনের লোক, তিনি নিশ্চয়ই আমাদের খুঁজে বের করবেন। আমাদের শক্ত থাকতে হবে।। এরপর "রিতার পায়ের বাঁধন খুলে দিলো জুহি।।"

খাবারের ট্রেতে দুটো রুটি আর কিছুটা ডাল রাখা ছিল। বিষাক্ত সেই ঘরে খাবারের রূপ দেখে ক্ষুধা তো দূরের কথা, পেটের ভেতরটা গুলিয়ে উঠছিল। কিন্তু ওরা জানে, লড়াই করতে হলে বেঁচে থাকতে হবে। জুহি জোর করে রিতাকে এক টুকরো রুটি খাইয়ে দিল এবং নিজেও কিছুটা মুখে গুঁজে নিল।।

এমন সময় হঠাৎ ঘরের বাইরে থেকে জাহাজের হর্নের মতো একটা বিকট শব্দ ভেসে এলো। ঘরের ভেতরটাও মৃদু কেঁপে উঠল।

জুহির বুকটা ধক করে উঠল। জাহাজের আওয়াজ? তার মানে কি ওরা কোনো জাহাজে বন্দি? তারা কি সাগরের মাঝে ভেসে চলেছে অচেনা কোনো দেশের উদ্দেশ্যে?....

অন্যদিকে, বাংলাদেশে—

থানায় জিডি করার পর রিতার বাবা, পুলিশ কর্মকর্তা ইসরাফুল ইসলাম এক মুহূর্তের জন্যও শান্ত হয়ে বসতে পারেননি। জুহির পরিবারও পাশে বসে অঝোরে কাঁদছে। জুহির বাবা রাকিবুল সাহেব হাত দুটো ধরে বলছেন,,,

---- "ভাই সাহেব, আপনি তো আইনের মানুষ, হাজারটা অপরাধীকে ধরেছেন। আমার নিস্পাপ মেয়ে দুটোকে এনে দিন। আমার ঘরটা যে অন্ধকার হয়ে গেছে!"

>

ইসরাফুল সাহেব চোখ জোড়া শক্ত করে বুজে নিজের কান্না চাপার চেষ্টা করলেন। মেয়ের এই বিপদে তিনি আজ শুধু একজন বাবা নন, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ অফিসারও।

"তিনি স্পেশাল ক্রাইম ব্রাঞ্চের সহকর্মীদের সাথে জরুরি বৈঠকে বসলেন।"

জুহি আর রিতার মোবাইল ফোনের লাস্ট লোকেশন ট্রেস করতেই বেরিয়ে এলো আঁতকে ওঠার মতো তথ্য!

> "স্যার, কক্সবাজারের একটি নির্জন ট্রলার ঘাটের কাছে ওদের শেষ লোকেশন পাওয়া গেছে। কিন্তু সমস্যা হলো... গত ২৪ ঘণ্টায় ওই অঞ্চল দিয়ে একটি আন্তর্জাতিক অবৈধ মানব পাচারকারী জাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করেছে!"— জানালেন সাব-ইনস্পেক্টর।

>

ইসরাফুল সাহেবের মাথার ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। তবে কি অনেক দেরি হয়ে গেল?

________

এদিকে, দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রা শেষে জাহাজটি এসে থামল এক অচেনা বন্দরের তীরে। ঘরের বাইরে প্রচণ্ড হাঁকডাক আর চাবুকের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।

হঠাৎ আবার সেই শক্ত লুপ খোলার শব্দ! এবার ঘরে ঢুকল চার-পাঁচজন সশস্ত্র লোক। তাদের পরনে অদ্ভুত সামরিক পোশাক, চেহারা এবং ভাষা—কোনোটাই পথচলতি মানুষের মতো নয়।

তাদের মধ্যে থেকে দীর্ঘদেহী, ধারালো চোয়াল আর নীল চোখের এক যুবক সামনে এগিয়ে এলো। তার চেহারায় এক রাজকীয় কিন্তু অত্যন্ত কঠোর ও ঠান্ডা ভাব। তার হাতে একটা কোট আর চোখে কালো চশমা। লোকগুলোকে দেখে পাচারকারী দলের মাস্ক পরা লোকটা মাথা নিচু করে দাঁড়াল।

নীল চোখের লোকটা গম্ভীর কণ্ঠে ইংরেজিতে বলে উঠল—

> *"Is this the new batch? Make sure none of them are injured. They are going to the Border Castle."*

>

জুহি আবছা আলোয় লোকটার মুখটার দিকে তাকাল। এমন তীক্ষ্ণ চোখের পুরুষ সে আগে কখনো দেখেনি, কিন্তু তার চোখের শীতলতা দেখে জুহির রন্ধ্রে রন্ধ্রে ভয় নেমে এলো।

লোকটা দরজার দিকে পা বাড়াতেই পাচারকারী লোকটা বলে উঠল, *"স্যার, এই দুটো মেয়ে একটু বেশিই ছটফট করছে। বিশেষ করে ওই মেয়েটা (জুহি)..."*

কথাটা শুনে নীল চোখের যুবকটি হঠাৎ থমকে দাঁড়াল। আস্তে আস্তে ঘুরে জুহির দিকে তাকাল। তার নীল চোখের চাউনি যেন জুহির বুকের ভেতর পর্যন্ত বিঁধে গেল!

______

অন্যদিকে,,

""রিয়াদ আবরার!""

একজন বিজনেসম্যান পাশাপাশি আমেরিকায় পড়ালেখা প্রায় শেষের দিকে,,,আর মাত্র এক বছর আছে তাহলেই তার পড়ালেখার চুক্তি এখানেই শেষ ।।

রিয়াদ পড়ালেখার পাশাপাশি নিজের বিজনেস ও নিজের পরিবারকে সামলায়।।

আমেরিকায় ওর পরিবার বলতে মা আর ছোট ভাইকে নিয়েই.....

**[চলবে.....]**

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন