ফন্ট সাইজ:
থিম:
ভিনদেশী পুরুষের প্রেমে পাগল

৪র্থ পর্ব

লেখক: সানজিদা

#ভিনদেশী_পুরুষের_প্রেমে_পাগল

#পর্ব_৪

#লেখক_সানজিদা

"নীল চোখের যুবকটি ধীরপায়ে জুহির দিকে এগিয়ে এলো। তার পরিপাটি বুট জুতো মেঝের সাথে লেগে এক অদ্ভুত ও গম্ভীর শব্দ তৈরি করছে। জুহি ভয়ে রিতার হাত শক্ত করে চেপে ধরল।"

যুবকটি জুহির সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসল। খুব কাছ থেকে লোকটার সানগ্লাসের পেছনে লুকিয়ে থাকা নীল চোখ দুটো যেন জুহির প্রতিটা স্পন্দন মেপে নিচ্ছে। সে ঠাণ্ডা গলায় ইংরেজিতে বলল,

> "You look educated. But remember, rebellion here only brings pain. Keep your head down if you want to stay alive."

জুহি ভয়ে কাঁপলেও চোখ তুলে লোকটার চোখের দিকে এক মুহূর্তের জন্য তাকাল। এত নিষ্ঠুর কিন্তু আকর্ষণীয় চেহারা সে আগে কখনো দেখেনি। যুবকটি এক মুহূর্ত থামল, তারপর কোনো কথা না বলে সোজা উঠে দাঁড়িয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। যাওয়ার আগে সঙ্গীদের দিকে হুকুম দিল—

"Move them to the cars. Now!"*

______

এদিকে আমেরিকায়,,—

বিশাল এক কাঁচের টেবিলের সামনে বসে ল্যাপটপে চোখ রাখছিল রিয়াদ আবরার। তার গম্ভীর চেহারায় ক্লান্তির স্পষ্ট ছাপ। মা এসে পাশে এক কাপ কফি রেখে আলতো করে ছেলের মাথায় হাত রাখলেন।

"রিয়াদ, তুই দিনরাত কাজ আর পড়ালেখা নিয়ে এভাবে পড়ে থাকিস কেন বল তো? শরীরটার দিকে তো একটু নজর দে!"

রিয়াদ কফির কাপে চুমুক দিয়ে ঘড়ির দিকে তাকাল। ঠান্ডা গলায় বলল,

"মা, তুমি জানো আমি সময় নষ্ট করা পছন্দ করি না। আর তাছাড়া বাবুল ভাই যা খবর পাঠিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় আমাদের কিছু শিপমেন্টে নাকি জটিলতা তৈরি হয়েছে। আমাকে এখনই একবার ওদিকে নজর দিতে হবে।"

রিয়াদের ছোট ভাই লিমন দৌড়ে ঘরে ঢুকে বলল,

__ "ভাইয়া! তুমি কি আবার বিজনেসের কাজে বাইরে যাচ্ছ? তুমি তো বলেছিলে এই উইকেন্ডে আমাকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যাবে!"

রিয়াদ ছোট ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি একটা হাসি দিল। শক্ত আর গম্ভীর রিয়াদ আবরার শুধু তার পরিবারের সামনেই এমন সহজ হতে পারে।

"আমি খুব দ্রুত কাজ শেষ করে ফিরব, লিমন। প্রমিস।"

তবে রিয়াদ তখনও জানত না, সীমান্ত এলাকার যে ব্যবসার ঝামেলা মেটাতে সে নজর দিচ্ছে, সেখানে তার জীবনের সবচেয়ে বড় ঝড় অপেক্ষা করছে।

বন্দরের বাইরে কালো ধোঁয়া ওঠা তিনটি বড় ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি দাঁড় করানো ছিল। জুহি আর রিতাকে চাবুকের মুখে ঠেলে একটা গাড়ির পেছনে বসানো হলো।

চারপাশের বরফাবৃত পাহাড়ি রাস্তা আর অচেনা পরিবেশ দেখে জুহির বুঝতে বাকি রইল না, তারা নিজ দেশ থেকে বহু হাজার মাইল দূরে কোনো অচেনা সীমান্তে চলে এসেছে।।

গাড়িটি দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলল পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ ধরে। তাদের গন্তব্য—'Border Castle'।

প্রায় এক ঘণ্টা পর বিশাল এক পাথরের দুর্গের সামনে এসে গাড়িগুলো থামল। চারপাশটা সশস্ত্র প্রহরী দিয়ে ঘেরা। গাড়ি থেকে নামাতেই জুহির চোখ গিয়ে পড়ল কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা নীল চোখের সেই যুবকের ওপর। সে ফোন কানে কারো সাথে কথা বলছিল।

হঠাৎ করেই দুর্গের প্রধান ফটকে একটা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ হলো! চারদিকে গোলাগুলি আর চিৎকার শুরু হয়ে গেল। পাচারকারী দলের লোকগুলো যে যার মতো পজিশন নিতে লাগল।

রিতা ভয়ে চিৎকার করে জুহিকে জড়িয়ে ধরল। জুহি দেখল, এই বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে পাহারাদারদের চোখ ফাঁকি দেওয়া সম্ভব! জুহি রিতার হাত ধরে শক্ত করে বলল,

"রিতা, এটাই আমাদের বাঁচার একমাত্র সুযোগ! দৌড়া!"

দুই বান্ধবী প্রাণপণে পাহাড়ি জঙ্গলটার দিকে দৌড়াতে শুরু করল। কিন্তু পেছনেই ভেসে এলো সেই নীল চোখের লোকটার গর্জন—

> "Stop them! Don't let them enter the forbidden zone!"

জুহি পেছনে ফিরে না তাকিয়ে শুধু সামনের দিকে দৌড়াতে লাগল। কিন্তু হঠাৎ করেই পাহাড়ের ঢালু খাদে জুহির পা পিছলে গেল!

**[চলবে.....]**

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন