#ভিনদেশী_পুরুষের_প্রেমে_পাগল
#পর্ব_৬
#লেখক_সানজিদা
গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকা রবার্টের চোখ দুটো রাগে ও হিংস্রতায় লাল হয়ে উঠল। হাত গিয়ে পড়ল কোমরে থাকা রিভলবারের ওপর। কিন্তু এই মুহূর্তে সরাসরি রিয়াদের সাথে ঝামেলায় জড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না ভেবে সে নিজেকে সামলে নিল। পাহাড়ি এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো আইনি ঝামেলা বা অন্য কোনো ঝামেলায় পড়লে তার মূল পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। রবার্ট চোয়াল শক্ত করে অপেক্ষা করতে লাগল।
অন্যদিকে, "রিয়াদ দ্রুত জুহির পাশে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল।"
"এক্সকিউজ মি! আর ইউ অলরাইট?"
জুহির কোনো সাড়া না পেয়ে রিয়াদ তার হাতের কবজি ধরে পালস চেক করল। হালকা স্পন্দন পাওয়া যাচ্ছে, অর্থাৎ সে বেঁচে আছে! পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ার কারণে জুহির শরীরে বেশ কিছু জায়গায় ছিলে গেছে এবং কপালে কেটে গিয়ে রক্ত জমাট বেঁধে আছে।
জুহির পোশাক-আশাক দেখে রিয়াদের সন্দেহ হলো যে মেয়েটি একজন বাঙালি। কিন্তু এই জনমানবহীন পাহাড়ি রাস্তায়, আর বিশেষ করে এই বিদেশি মুলুকে একটা বাংলাদেশি মেয়ে এভাবে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে কীভাবে?
সময় নষ্ট না করে রিয়াদ সাবধানে জুহিকে কোল তুলে নিল। জুহির হালকা ওজন আর নিস্তেজ শরীরটা নিয়ে দ্রুত নিজের গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল সে। গাড়ির পেছনের সিটে জুহিকে সাবধানে শুইয়ে দিয়ে নিজে চালকের আসনে বসল। দ্রুত গাড়ি স্টার্ট দিয়ে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে সেখান থেকে বেরিয়ে গেল রিয়াদ। তার উদ্দেশ্য একটাই— দ্রুত নিকটস্থ কোনো নিরাপদ স্থানে গিয়ে মেয়েটার ফার্স্ট এইড করা এবং জ্ঞান ফেরানো।
গাছের আড়াল থেকে রবার্ট বেরিয়ে এল। গাড়িটি ধূলিঝড় উড়িয়ে চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে সে দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করল—
"You made a big mistake, stranger! You took what belongs to Robert Harris. I will hunt you down!"
রবার্ট তার পকেট থেকে ওয়াকিটকি বের করে নিজের লোকজনকে সিগন্যাল দিল। গাড়ি নিয়ে পাহাড়ের নিচের মোড়ে রিয়াদকে অনুসরণ করার নির্দেশ দিল সে।।
প্রায় আধা ঘণ্টা গাড়ি চালানোর পর রিয়াদ তার সাময়িক রেস্টহাউসে এসে পৌঁছাল। জুহিকে নিজের ঘরে এনে বিছানায় শুইয়ে দিল এবং দ্রুত ফার্স্ট এইড বক্স বের করল। স্যাভলন আর তুলো দিয়ে জুহির কপাল ও হাতের ক্ষতগুলো সাবধানে পরিষ্কার করে দিল সে। পানি ছিটিয়ে জুহির জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করতে লাগল রিয়াদ
"হ্যালো... শুনছেন? চোখ খুলুন..." রিয়াদ জুহির গালে হালকা টুকা দিল।
কিন্তু তাও কোনো কাজ হলো না,,জুহির জ্ঞান আসলো না।।তাই রিয়াদ ভাবলো কিছুক্ষণ পর একাই জ্ঞান আসবে,,তখন না হয় সবকিছু শোনা যাব।। এটা ভেবে সে নিজের জন্য কফি বানাতে গেলো।।
_____
___________
ওইদিকে,,,
"রবার্ট ওর লোকজনকে নিয়ে রিয়াদ এর পিছু পিছু এসেছে।।রিয়াদ সরে গেলেই জুহি কে তারা নিয়ে যাবে।।" কারণ ওদের এখন ৯৯ জন মেয়ে রয়েছে, কিন্তু ১০০ জন মেয়েকে সাপ্লাই দেওয়ার কথা।।একজন কম হয়ে গেলে ওদের বস ওদের মেরে ফেলবে,, তাই জুহি কে যে করেই হোক নিয়ে যেতে হবে ওদের।।
রবার্টরা অপেক্ষা করলো কখন ওই ছেলেটা সরে যাবে,,,রবার্ট দূর থেকে রিয়াদ কে দেখেছে তাই স্পষ্টভাবে রিয়াদের চেহারা দেখতে পারেনি।।
জুহি আস্তে আস্তে চোখের পাতা পিটপিট করল। তার মাথার ভেতরটা ভীষণ ঘুরছিল, শরীরজুড়ে তীব্র যন্ত্রণা। ঝাপসা দৃষ্টিতে সে দেখতে পেল তার সামনে একটা অচেনা পুরুষ দাঁড়িয়ে আছে।।যার শুধু পিঠের অংশটা দেখা যাচ্ছে।।
জুহির মনে পড়ে গেল শেষ মুহূর্তের কথা— পাহাড়ের খাদ, গাছের ডাল ভাঙার শব্দ, আর রিতুর বুকফাটা চিৎকার!
"রিতু!".........
(চলবে...)