#হৃদয়_প্রনয়শক্তি
#লেখিকা_আরিফা_বিনতে_মায়া
#৩য়_পার্টের_(প্রথমাঅংশ)
(মুক্তমন মানসিকতার পড়বেন, যারা পড়তে চান না তারা স্কিপ করবেন, কপি করা করা নিষিদ্ধ 🚫)
দুপুর ২টা বাজতে চলল......
চৌধুরীর বাড়ির সবাই অপেক্ষা করছে কখন তাদের বাড়ির বড় ছেলে আসবে।
সোফার রুমে বসে এসব ভাবছে আলতাফ চৌধুরী, ছেলে বাড়িতে আসবে অথচ রেহানার খবর নেই।কই আর ১০টা মায়ের মত ছেলের জন্য ১০পদ রান্না করবে,গেটে দুয়ারে দাড়িয়ে অপেক্ষা করবে। তা না করে ভার্সিটিতে গিয়ে বসে আছে,ভার্সিটির প্রফেসার বলে কথা, এখন আসার খবর নাই।
এসব ভাবতে ভাবতে ঠিক তখন দেখল বাহিরে গাড়ির হনের শব্দ , সকালে দাড়িয়ে গেল তারা বুঝে গেল তাদের ছেলে বাড়িতে এসে গেছে, কারন এসময় রেহানা বাড়িতে ফিরবে না সব সময়ের মত ৩.০০টায় বাড়ি ফিরবে ভার্সিটি সব কিছু গুছিয়ে আসতে লেট হবে।
এসব ভাবতে ভাবতে দেখল শামীম বাড়িতে ঢুকেছে টলি ব্যাগ নিয়ে। তার একটু পরে তার ছেলে রোহান ডুকলো। আর সবাই তাকিয়ে দেখলো রোহান আগের থেকে বেশ পরিবর্তন হয়েছে, শরীর দবদবে ফর্সা, লম্বা৫ফিট ২ইঞ্চি, চোখের মণি হালকা বাদমী নীলের মধ্যে , দেখলে কেউ বলতে পারবে এ কোন বিদেশি, আর চেহারা একদম কোরিয়ার ড্রামা সিরিজের নায়কের মত হলে কি হবে মুখের ভিতরে গম্ভীরতা আছে বটে , যে কোন মেয়ে তাকে দেখে ক্রাশ খেয়ে পরে যাবে। অথচ এই ছেলে কোন মেয়েকে পাত্তা দেয় না, কারন এই ছেলের বরাবরই মত মেয়ে দেখলে দূরে থাকে, কারন তার মেয়েতে এলার্জি, মেয়ে দেখলে শরীর রাগে টোকবোক করে।আর তো কারন আছে অনেক কিছু ""যা সামনে জানতে পারবে।
এদিকে রোহান তার বাবাকে দেখে দৌড়ে জড়িয়ে ধরল, আর জিজ্ঞেস করল"— বাবা কেমন আছো?
— আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি বাপ, তুই কেমন আছিস। এত বছর পর বাবার কথা মনে পড়ল তোর, এই বুড়ো বাপের কথা কি আর শুনবি, শুধু তোর মায়ের কথা শুনবি।
—আহ বাবা এমন করে কেন বলছ, আমি কি তোমার কথা শুনি না, দেখ কিভাবে সুরসুর করে চলে এলাম তোমার কাছে হুমমম
—হইছে আর পাম দেওয়া লাগবে না বুঝি সব বুঝি, এই বলে "ছেলেকে ছেড়ে পাশে দাড়িয়ে রইল আর সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল কে কি কাজ করে, আর কে কে থাকে
ভাইয়া বলে "রাহি" দৌড়ে এসে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো আর বলল :
— ভাইয়া তুমি এত দিন কোথায় ছিলে, তোমার কথা কত মনে পড়েছে তুমি জানো!
এই বলে আরো জোড়ে কান্না করতে লাগলো
রাহির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল"
— আরেহ পাগলী কান্না করিস কেন? দেখ তোর ভাই চলে এসেছে তোর কাছ,আর যাব না দূরে তোকে ছেড়ে। এইযে পিক্কি প্রমিজ আর কান্না করা লাগবে না লক্ষিটি পিল্জ শান্ত হ,
আরো অনেক কিছু বলে কান্না করতে মানা করল রোহান....
কিছুক্ষণ পর কান্না বন্ধ করে রোহান কে ছেড়ে পাশে দাড়িয়ে রইলো,এখানে আরো বাড়ির সবাই দাড়িয়ে আছে আর তাকে দেখছে পরে বলবে সে চিদকাদুনি; কত বিসরি ভাবে কাদে" এই ভেবে এক পাশে দাড়িয়ে পরল
তার পর রোহান সবার সাথে কুশল বিনিময় করে, অতপর রুমে চলে গেল।
আর ভাবতে লাগলো তার রুম কি আদৌ আছে না স্টর রুম হয়ে গেছে কে জানে? ভাবতে ভাবতে হাসি পেয়ে গেল। কিন্তু হাসলো না সব সমযের মত গম্ভীর মুখ করে রইল।
তারপরে রুমের সামনে এসে দাড়ালো দেখলো রুম লক করা যেটা সে ছোট বেলা যেভাবে দিয়ে ছিল ঠিকই সেরুকুম আছে একটুও পরিবর্তন হয়নি। রুমের লক খুলে ভিতরের ঢুকলো আর দেখলো রুমটা বেশ পরিপাটি করে গুছানো, মনে হলো কেউ রুমের মধ্যে ছিলনা। থাকলে এমন গুছিয়ে রাখতো না, উল্টা পাল্টা হয়ে থাকতো অথচ কত বছর হলো এইরুমে এক রাত কাটায় নি।
এরুকুম হাজারটা চিন্তা ভাবনা করে ব্যাগ থেকে টির্শাট আর টাউজার নিয়ে ওয়াশরুম ঢুকে পড়ল ফ্রেশ হওয়ার জন্য — কারন এখন ফ্রেশ হওয়ার দরকার, তারপরে ভাবা যাবে কি করে মায়ের রাগ ভাঙতে পারবে?
----------------------------------------
এদিকে আদিবা ও তার ফ্রেন্ড সারকেল সহ গোল হয়ে বসে তাকে দেখছে, মন হয় তাকে চিড়িয়াখানায় থেকে দরে এনে পেজেন্ট করেছে আর বিনা টিকিটে তাকে দেখছে!
অতপর ওদের কে উদ্দেশ্য করে বলল"
— কিরে তোরা আমার দিকে এভাবে হা করে তাকিয়ে কি দেখছিস, আমার কি রুপ বায়াবায়া পড়ে "" হুমমম!
নিলয় :নারে দোস্ত তোরে কি সুন্দর লাগছে একদম রুপসি পরিমনির মত, আমি তো ক্রাশ খেলাম
তা সাজার কারন কিরে শুনি বল না কাউকে প্রপোজ করবি নাকি "" চোখ টিপ দিয়ে বলে...
আয়েশা :ধ্যাৎ নিলয় তুই চুপ থাকবি দেখছিস না এখানে খুব ঘুরতরো কথা চলছে ।
বল না আদিবা কি হয়েছে তোর সাথে? বল না সেই কখন থেকে আমার সাথে মিস বিহেফ করছিস বলনা!
আদিবা পানি খেতে বলল"
— বাবা আমার সাথে আগে যেমন করতে চাইছিল, ঠিক সেরুকুম আজ করতে নিছে।কোন রকম পালিয়ে এলাম আমি? আল্লাহ বাচাইযে দিয়েছে আজকে।
— কি এমন কাহিনি বল শুনি, তারপরে বুঝবো আংকেলে কি ঘটনা ঘটাইছে? "আয়েশা বলল
আদিবা : বাবা আমাকে সেম গোল খাইয়ে আবার বিয়ে দিতে চাইছিল, আর আমি বাবাকে কোন রকম বাশ দিয়ে পালিয়ে এলাম তোদের কাছে?
এ মধ্যে নিলয় পানি মুখে দিল ঠিক সেই সময় আদিবার কথা শুনে পানি মুখ থেকে সোজা তিথির গায়ে পড়ল আর তিথি রাগান্বিত দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে রইল, আরো অয্যস ভাষায় গালি দিতে লাগলো।
নিলয় : কেমন কি কি দোস্ত? তুই একা গোল খাওয়াইলি আংকেলের,আমাদের সাহায্য ছাড়া বাপরে তোর দেখি সুবুদ্ধি হইছে। এই সবাই হাত তালি দে!
তিথি : এই তুই থামবি, আদু বেবি বল পিল্জ পুরা ঘটনা টা আমরা সকলে শুনি তুই কিভাবে কাজটা করলি একা একা।
তারপর আদিবা ওদের কে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘটনা বলল কি কি হয়েছে? শুধু রাস্তায় যে ঘটনাটা ঘটলো সেটা বাদে!
এগুলো শুনে ওরা সবাই হাসতে হাসতে একে অপরের
গায়ে গড়াগড়ি করতে লাগলো আর বলল "
তিথি : বেবি তুই পারিস বোটে, আমরা তোমরা হলে বাবার ভয়ে এতখনে বিয়ে রাজি হয়ে যেতাম।আর এ নিয়ে তুই ১২বার আংকেল কে গোল খায়িয়ে পালিয়ে এসেছিস ভাবা যায় আর আমাদের সাহায্য নিয়ে।
"" হাসতে হাসতে বলল
আদিবা : এই তোরা থামবি... আমি মরছি আমার জ্বালা আর তোরা আমায় নিয় মজা করছিস। যা তোদের সাথে কথা বলবো না।
" মুখ ফুলিয়ে রইলো
আয়েশা : এই তোরা থামবি, দোস্ত রাগ করিস না। যা করছি ভালো করছিস।কিন্তু এটা একবার চিন্তা করছিস বাসায় গেলে কি হবে তোর?
আদিবা - সেই চিন্তা করে তো আমার মাথা ঠিক নাই আদৌ কি তারা বাড়ি থাকতে দিবে নাকি বাড়ি থেকে বের করে দিবে?
""আফসোসে সুরে বলল কথা টা...
তিথি : থাক বেবি মন খারাপ করে না। সব ঠিক হয়ে যাবে। আর কখন তোর বিয়ে কথা মুখে আনবে না দেখিস!
"হি হি হাসি দিয়ে বলল
নিলয় - আচ্ছা বুঝলাম না তোর বাপ তোকে বিয়ে দেওয়ার জন্য এত পাগল হলো কেন বল তো তার কি সমস্যা??
আদিবা: জানি নারে কেন এমন করছে আমার সাথে? আর আমার বয়স টা বা কতটুকু হল বল সবে ১৮ শেষ করে ১৯পা রাখলাম। আর এ মধ্যে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। যদি ঘারের বোজা হয়ে থাকি বলে দিলেই পারে আমি নির্দিধায় বের হয়ে যাব।তবু আমি বিয়ে করবো না।
আমার কত স্বপ্ন আছে আমি ফ্যাশেন ডিজাইনার হবো। বিভিন্ন দেশে ঘুরবো, ফিরবো, খাবো দাবো ঘুমাবো এটাইতো জিন্দেগী, আর এখন আমার হিটলার বাপ আমায় বিয়ে দিয়ে তার ঘার থেকে নামাতে চায় অথচ আমারে বুঝলো না, আফসোস!
নিলয় : থাক দোস্ত মন খারাপ করে থাকিস না। দেখবি একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।তোর বাপ আর তোর বিয়ে নিয়ে ঝামেলা করবে না দেখিস।
তবে এক কাজ করতে পারিস তোর বড় ভাই রাজকে বিয়ে দিয়ে ঘরে সুন্দর একটা ভাবি আনতে পারিস, আইডিয়া টা দারুন না।
আদিবা চেচিয়ে বলল"
—পাগল হয়ে গেছিস, ভাইয়া সবে মাএ মাস্টার্স ফাশ করছে।এখন পযন্ত চাকরি হয় নি, সে বিয়ে করবে।নো,
এই আইডিয়া টা আমার এক দম পছন্দ হয় নাই। বাদ দে এসব কথা, দেখ দুপুর হয়ে গেছে বাসায় যেতে হবে, জানি না কি হবে ওদিকে? আর আমার জন্য কোন ঘূর্ণিঝড় অপেক্ষা করছে কে জানে? আচ্ছা উঠি তোরা যে যার বাড়ি যা আর তোদের কে পরে সব জানবো নে এখন যা!
নিলয় : আমার আইডিয়া টা এতটা খারাপ ছিল না বুঝলি ড্রাই করে দেখতি কাজে লাগতো"' হুম!
আয়েশা: তুই চুপ থাকবি, তোর এরুকুম আযঘুবি বুদ্ধি কে শুনে? যত সব উল্টা পাল্টা কাহিনি করে,মাথা মোটা একটা!
আদিবা চল তোর সাথে আমিও যাব আংকেল কে বুঝাবো এবং শুনতে চাইবো উনি কেন তোর এমনে করে চল "" হাত টেনে নিয়ে বলল
— তোর যাওয়ার দরকার নাই আমার সাথে। আমি একা সব করতে পারবো। তাছাড়া আমি চাই না কেউ আমার জন্য কোন ঝামেলায় পড়ুক।তোরা যে যার বাড়ি যা, আমিও যাই আবার দেরি হলে কেলেঙ্কারির হয়ে যাবে। ভাববে কোন ছেলের হাত ধরে তার সাথে পালিয়ে গিয়েছি?
এ বলে আদিবা সামনে হাটতে লাগলো আর আদিবার পিছে পিছে আয়েশা, তিথি, নিলয় আসল। আর আদিবাকে রিকশায় উঠিয়ে ভাড়া দিয়ে দিল। কারন আদিবা আসার সময় কোন টাকা পয়সা আনে নি। আর ওরা ওদের মত করে যে যার গন্তব্যে চলে গেল।
-----------------------
মাএ মিসেস রেহানা চৌধুরী বাড়িতে প্রবেশ করল ৪.০০টা বাজে..বাড়িতে ঢুকে তার নাকে ঘ্রাণ আসলো বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারের, রান্না ঘরে অবশ্যই সারভেন্ট রা রান্না করছে।কারন তার ছেলে এতখক্ষণে বাড়িতে চলে এসেছে, তাই রান্না তোরজোর শুরু হয়েছে। উনি সিড়ি বেয়ে উপরের উঠতে লাগলো আর ভাবতে লাগলো কত বছর হয়ে গেল ছেলে কে নিজের চোখে দেখে না কেমন হয়েছে দেখতে, কিন্তু ইগোর কারনে তার ছেলেকে জোরে ডাকতে পারছে না!
কারন প্রচুর রেগে আছে তার ছেলে সাথে ১বছর যাবত কোন যোগাযোগ রাখে না সব কিছুর থেকে নিজেকে বিছিন্ন করে রেখেছে।তা অবশ্যই অনেক কারন আছে যা সামনে আস্তে আস্তে জানতে পারবে। এই সব হাবিজাবি ভাবতে ভাবতে যখন নিজের রুমে ঢুকতে যাবে ঠিক পিছনে কারোর আওয়াজে তার পা থমকে গেলো , কারণ এত বছর পর ছেলের ভারি কন্ঠ স্বর শুনে,
কারণ রোহান তার মাকে ডাকতে বলল-
—মম, মম তুমি কি আমার সাথে না দেখা করে চলে যাবে? একটু কি আদর করবেনা? কপালে ভালোবাসার পরশ একে দিবে না, একটু কি জিজ্ঞেস করবে না কেমন আছে তোমার ছোট রোহু ---
ওদিক থেকে কোন সাড়াশব্দ আসলো না!
আবার রোহান বলল :
—মম তুমি কি আমার সাথে কথা বলবে না।
এখন কি রেগে থাকবে?দেখ... তোমার কথা মত শুনে আমি লন্ডন থেকে বাংলাদেশ চলে এসেছি। শুধু তোমার ডানে মম পিল্জ একবার কথা বল! পিল্জ..
রেহানা বেগম রোহানের কথা না শুনে উল্টো নিজের রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিল শব্দ করে।
আর পিছন থেকে শুধু ''মম'' "মম "বলে চিৎকার করতে থাকলো রোহান,,,
আদৌ কি নিজের মমের রাগ ভাঙাতে পারবে কিনা কে জানে? নতুন কোন পরিকল্পনা করতে হবে যেন মায়ের রাগ ভেঙে আগের মত করে তাকে আদর করে বুকে টেনে নিবে, আবার কোন ভুল করলে বকাদিতে পারে। অথচ আজ কত বছর হলো রোহু ডাকে না ডাকটা যে শুনতে বড্ড ইচ্ছে করে। অথচ তার মা একবার ফিরে দেখল না তার ছেলে কেমন আছে? এসব ভাবতে ভাবতে নিজের রুমে ডুকে পরে আর দরজা লাগিয়ে দিল।
আদৌ কি ছেলে তার মায়ের রাগ ভাঙতে পারবে নাকি ইগোটাই জিতে যাবে? নাকি এরুকুম সারা জীবন পরে থাকবে, মা তার সন্তানকে তার বুকে জড়িয়ে নিবে.....
চলবে ---