ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদয় প্রনয়শক্তি

১২তম পর্ব

লেখক: আরিফা বিনতে মায়া

#পর্ব_১০ (বিয়ে স্পেশাল

#হৃদয়_প্রনয়সক্তি

#লেখিকা_আরিফা_বিনতে_মায়া

রাতে আকাশ যেন এক রহস্যময় চাদরে মোড়ানো বিশাল এক ক্যানভাস। তারার ঝিকমিকি আলো যেন অসংখ্য স্বপ্নের প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছে

চাদের ম্লান আলো গিয়ে মিশেছে দূরের নীরব অন্ধকারে

গভীর নীল আকাশের মাঝে মাঝে ধূসর মেঘ ভেসে বেড়ায় অলস ভঙ্গিতে, নীরবতা এত ঘন যে নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যায়।

ঘড়িতে ঠিক ৮.০০টা বেজে ৫০মিনিট, বাহিরে মানুষের কলাহল শোনা গেল ও গাড়ির ভিতর সব কেমন নিশ্চুপ

রোহান আপন মনে ড্রাইফ করছে আর আদিবা জানালার কাছে গা গেসে বসে রয়েছে আর ভাবছে তার ভিতরে যাবা কষ্টের কথা

এই তো এখন কিছুক্ষণ আগের ঘটনা........

"রোহান আর আদিবার বিয়ে যখন পড়ানো শেষ, ঠিক ওর হাতের বাধন খুলে দিল, আর ওর রক্ত চুক্ষ নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে, পারছে না যে ওকে এখানেই মেরে জিন্দা কবর দিয়ে দিতে কিন্তু কিছুই সে পারবে না কারন সব তার হাতের বাহিরে, উল্টা পাল্টা কিছু করলে সব যে শেষ হয়ে যাবে, আর তার বাংলাদেশ আসার কারন সকলে কাছে ফাস হয়ে যাবে, তাই কিছু না ভেবে সোজা উঠে দাড়ালো -যখনই বের হতে নিবে তখন ওর পা থেমে গেল, কারন স্বয়ং আদিবায় ওর পথ আটকে ধরল

এই যে মিস্টার 'বিলেতি বিলাই কোথায় যাচ্ছেন হ্যা আমাকে রেখে, সাহস তো কম না -আমাকে রেখে একাই নিজের বাড়ি যাচ্ছেন আমাকে কে নিবে শুনি, বিয়ে করছেন যে ভুলে গেছেন

তখন রোহান একদম ওর মুখের সামনে এসে ওকে বলল - আমাকে একদম এসব বলে থামানোর চেস্টা করবে না, না হলে তোমার কি হাল করি দেখ

আর কি বিয়ে 'আমি এ বিয়ে মানি না বুঝতে পেরেছো

বউয়ের অধিকার একদম দেখাতে আসবে না, মনে থাকে যেন আর শুন আমার সাথে যাওয়ার কোন যোগ্যতা নেই বুঝতে পেরেছো " চিল্লিয়ে বলল

-আস্তে বিলেতি বিলাই এত জোরে কথা বলেন কেন, আপনি আমার স্বামী আর আমি আপনার বিবাহিতা স্ত্রী

তাহলে আপনার সাথে যাব না তো কার সাথে যাব, আর তা ছাড়া ওটা কি আপনার একার বাড়ি নাকি আমার বাড়ি যতটুকু আপনার অধিকার আছে ততটুকু আমার আছে, আর গেলে বুঝতে পারবেন কার কতটুকু যোগ্যতা আছে সেটা পরে দেখা যাবে এখন আমাকে নিযে চলুন তো, এই তিথি আমার ব্যাগটা নিয়ে আয়তো ওনার গাড়িতে ভরে দে, আর আপনি যদি মনে করেন আমাকে না নিয়ে দিব্যি চলে যাবেন 'তাহলে এটা আপনার ভুল ধারনা, যদি না নিয়ে যান– কি করি দেখুন শুধু

এরকম হাজার কথা কাটাকাটি হয় ২জনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয় ও সাথে যাবে, তবে যা পরিস্থিতি হবে ওকে মোকাবেলা করতে হবে, আর আদিবা বলে করবে কিন্তু তার মনে অন্য কিছু যে প্যাস আছে সেটা কি আদৌ কেউ জানে

এরুকুম হাজারটা শর্ত দিয়ে গাড়ি তে উঠে বসল ২জন নিশ্চুপ, কারন রোহান কে যখন কিডন্যাপ করার হয় তখন ওর গাড়িতে উঠিয়ে ওকে এখানে আনে

,তাই তার জন্য আর কষ্ট করতে হলো না, তবে রোহানের চিন্তা অন্য বিষয় বাড়িতে গেলে কি হবে, আদৌ তার মা তাকে বিশ্বাস করবে নাকি আরো দূরে ঠেলে দিবে 'দীর্ঘ এক নিঃশ্বাস ছেড়ে গাড়ি স্টার্ট করলো আর নিজের গন্তব্য দিকে চলতে থাকলো

বর্তমান.....

এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে তারা তাদের গন্তব্যে পৌছে গেল টের পেল না

আদিবা দেখল বিশাল ডুপ্লেক্স বাড়ি সামনে তাদের গাড়ি থামলো, তবে অন্ধকারে বুঝলো না বাড়িটা দেখতে কি কিরকুম, মাথা বেশি ঘাটাল কারন বাড়িতে যেহুত সে থাকবে তাহলে পুরো বাড়ি ঘুরে দেখা যাবে আপাদত পরিস্থিতির মোকাবেলা করার দরকার

সিটবেল খুলে গাড়ি থেকে নামল রোহান, আর ওপর পাশ দিয়ে আদিবা, ২জন ২জনের দিকে চোখাচোখি হলে বিরক্ত মনে করলো, একে ওপরের কোন জন্মের শত্রুর, কে জানে আর কিছু না ভেবে রোহান বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলো আর তার পিছন পিছন আদিবা

ভয়ে তার বুক ধুকপুক করছে, কি হবে কে জানে তার সাথে

রোহান দরজা সানে দাড়িয়াছে ভাবছে ভিতর যাবে কি যাবে না, ঠিক সে সময় রোহানের চাচি রোহানকে দেখে ডাকদিল - বাবা রোহু তুই বাহিরে দাড়িয়ে আছিস কেন? ভিতরে আয় সে কখন থেকে তোর জন্য অপেক্ষা করছি আয়

কিন্তু রোহান মূর্তির মত দাড়িয়ে থাকলো একটা কথা বলল না

এদিকে রোহানের চাচি গলা স্বর শুনে সকলে রুম থেকে বেড়িয়ে এল আর তার সাথে ওর মা

রোহানের চাচি আর কিছু বলতে যাবে ঠিক সেই মুহূর্তে ওর পেছন থেকে একজন রেনারসি পরিহিত মেয়ে বের হল, চোখগুলো টানা টানা , মুখে সাদা লাবণতা ছড়িয়ে, দেখতে একদম পুতুলের মত, যে দেখবে তারই আদর করতে মন চাইবে, মেয়েটা অস্পরা থেকে কম না

কিন্তু কে এই মেয়ে, রোহানের পিছনে কি করে?

এদিকে আদিবা মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে, যেন ও কোন কাঠ গড়া আসামি

রোহানের বাবা - রোহান কে এই মেয়ে? তোর পিছনে কি করে

কিন্তু রোহান কোন জবাব দেয় না, একে সবাই ওকে প্রশ্ন করে, কিন্তু কোন উওর দেয় না শুধু তার মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে, কিছু তো ওকে জিজ্ঞেস করুক

ঠিক তখন রেহানা বেগম মেয়েটির সামনে এসে দাড়ায় আর ওর ধুতনি উচু করে ওর নাম জিজ্ঞেস করে

-তোমার নাম কি মা?

এত মধুর গলা আগে শুনেছে বলে মনে পড়ে না, কারোর, কারন এখন পযন্ত কারোর সাথে ঠিক কতটুকু মধুর করে কথা বলছে কে জানে

.

কি হলো জিজ্ঞেস করছি তোমার নাম কি?

আদিবা আমততা আমততা করে বলল -

নুসরাত জাহান আদিবা

ও খুব সুন্দর নাম, তা বাহিরে দাড়িয়ে কেন ভিতরে আসো, এ কে কই আছিস বরণ ডালা নিয়ে আয় আমি আমার পুএ বধু কে বরন করবো

এদিকে রোহান হা করে তা মায়ের দিকে তাকিয়ে রইল, তার মা কি করে জানল তার বিয়ের কথা, এখন পযন্ত কিছু বলল না যে সে, তাহলে কি করে জানল

কিরে সাবিনা দাড়িয়ে আছিস যে যা বরন ডালা সাজিয়ে আন আমার বৌমাকে তো বরন করতে হবে তো, কতক্ষণ আর দাড়িয়ে থাকবে

সাবিনা বলল :কিন্তু ভাবি মেয়ে টা কে, আর কার বিয়ে কার সাথে বুঝলাম না, কি '''আর কিছু বলতে যাবে তখনই হাত দিয়ে থামিয়ে দিয়ে বলল-

"তোর এত মাথা ব্যাথা কিসের? তোকে যা বলছি কর না

পরে সব উওর দেব আর একটা উল্টো পাল্টা কথা বললে কি করবো বুঝতে পারবি না যা এখন,

সাবিনা তাড়াতাড়ি করে বরন ডালা সাজিয়ে আনলো, যদি কোন উল্টা পাল্টা হয় তখন তার উপরে সব রাগ ঝাড়বে যে ভাবা সে কাজ

আর আদিবা অবাক চোখে তাকিয়ে আছে, কে এই মহিলা যে তাকে মা মা বলে সম্বন্ধ করছে, আর বিয়ে ব্যাপার কি করে জানলো, এখন পযন্ত বিলেতি বিলাই কিছু বলল না, তাহলে,

যখন আদিবা ধ্যানে মগ্ন তখন আদিবা কে পানের কুলা দিয়ে বরন করে নিল আর ভিতরে নিয়ে সোজা সোফায় বসাল

রোহান অবাক চোখে তার মায়ের কর্ম কান্ড দেখল, কিন্তু বেশি সময় ধরে আর চুপ থাকতে পারলো না

তাই জিজ্ঞেস করল - " মম তুমি কি করে জানলে আমি বিয়ে করেছি, আর এই মেয়েটা এ বাড়ির বউ আমি তো এখন কিছুই বলিনি

রেহানা বেগম - আবরার আমি তোমার মা নাকি তুমি আমার মা কোনটা, সন্তান জন্ম দিয়েছি -এমনে এমনে না। সব সময় চোখ খোলা রাখি, কখন কে কি করে? বুঝতে পেরেছো, আপাদতে কিছু বললাম না, কারন ২জনে অনেক টায়ার্ড বাহির থেকে জার্নিং করছ কালকে এ বিষয় নিয়ে কথা হবে, এখন কোন প্রশ্ন নয়

কিন্তু মম ""

কোন কিন্তু না যা জিজ্ঞেস করবে কালকে, আপাদত চুপ এখন যাও রুমে গিয়ে নিজের কাপড় চেন্জ কর, আবার তো তোমার ঘর টা সাজাতে হবে তাই না, যেহেতু বিয়ে করছে বাসর ঘর তো হবে

এই জুয়েল যা বাহির থেকে কিছু ফুল জোগার করে ঘরটা সাজিয়ে দে, কোন কিছুর জানো কমতি না থাকে, আমি বলে দিলাম আর আমি আদিবাকে রুমে নিয়ে গেলাম, সাজানো হলে আমাকে খবর দিবি আমি নিজে গিয়ে দিয়ে আসবো" চল

এই বলে আদিবা কে নিয়ে উনি চলে গেলেন

আর রোহান তার মায়ের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে, আদৌ কি তার মা নাকি অন্য কেউ, কই তার মা তো এমন ছিল না, তাহলে এমন ব্যবহার করে মেয়েটাকে প্রটেক্ট করলো, আদৌ মা কি সব জানে নাকি সব জেনেও কোন প্রশ্নের উওর দিতে চাইছে না, আর মায়ের চেহারা দেখে মনে হলো পূর্বে মেয়েটাকে চিনে, কারন স্পষ্ট চেহারা বুঝা গেল, মা তো দেখছি রহস্য ঘেরা, আজও জন্মের পর থেকে বুঝলাম না তার মনে কি চলছে, সত্যি যদি কিছু জেনে থাকে তাহলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না, আর আমায় যে কষ্ট দিয়েছে তাকে ছাড়বো না, তবে আমি যে তার জন্য এখন অপেক্ষার দ্বীপ্রহর গুনি। সে কবে আসবে আমার জীবনে "বড় শ্বাস ফেলে এতগুলো কথা ভাবলো

নিজে নিজে কে চিনতে এখন ভুল হয় আসলে আমি রোহান চৌধুরী নাকি অন্য কেউ?আমার মাই আমার সাথে পল্টি নিয়ে খেলে, জানি না মায়ের মনে কি আছে তবে মা যা চাইবে তাই করার চেষ্টা করবো, শুধু মায়ের মুখের হাসির জন্য

আজ খুব করে একটা গানের কথা মনে পড়লো যেটা আমার সাথে যায়

আমি কোথায় পাব তারে,

আমার মনের মানুষ যে রে হারায়ে সেই মানুষে....

দিবা - নিশি দেখিতাম নয়ন ভরে,

এখন স্বপনে আসে কভু, জাগরণে নয় রে।

যে বাঁশি শুনাইত সে, সুরে মন ভাসাইতে সে,

আজ নিরব নিরব চারি ধারে, হাহাকার রয়ে যায়

হাওয়ায়

আমি কোথায় পাব তারে.......

(নিজ দায়িত্বে পুরাটা শুনে নিবেন)

চলবে ''''

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন