ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদয় প্রনয়শক্তি

১৯তম পর্ব

লেখক: আরিফা বিনতে মায়া

#পর্ব_১৭

#হৃদয়_প্রনয়সক্তি

#লেখিকা_আরিফা_বিনতে_মায়া

আদিবা যখন উরাধুরা নাচতে থাকে, ঠিক তখনই রোহান ওকে টানতে টানতে বাড়ির ভিতরে নিয়ে গিয়ে ফ্লোরে ফেলে দিল।

আর চিৎকার করে বলতে লাগলো।

"How dare you! সাহস কি করে হলো তোর আমার সম্মান নিয়ে খেলা। তোর কি একটু মায়া নাই নিজের জীবনের প্রতি।

আদিবার ফ্লোর থেকে উঠে জবাব দিয়ে বলল-

" কিসের জীবনের মায়ার কথা বলছেন? হ্যা, আর আপনি কি চোখে দেখন নি। আপনার ভাই আমার সাথে কি করেছে সেটা কি চোখে পড়ে নি। তারপর নিজের সম্মান নিয়ে কথা বলছেন। How stupid?

রোহান

"তোমার কি মনে হয় আমি তোমার সাথে মজা করছি।

seriously. নিজের ভেতরে কি একটু অনুতপ্ত নেই। যে কি করেছো, একটা ছেলেকে বাড়ি মেরে সারাজীবনের জন্য কোমায় পাঠিয়েছো, আবার সেই খুশিতে ডান্স কর লজ্জা থাকা উঠিত।

আদিবা -

" বেশ করেছি! ও কোমায় না গিয়ে ওর মরা উঠিত। কত বড় সাহস ও আমাকে বাজে মেয়েদের মত করে আমায় বেড শেয়ারে অফার দেয়। আমার কাছে যদি অন্য অবশন থাকতো তো ওকে আমি মেরে বালি চাপা দিতাম। যেখানে নিজের জন্মের ঠিক নেই সেখানে কিভাবে মেয়েদের কে মায়ের চোখে দেখবে।

রোহান

"mind your language! ঠিক ভাবে কথা বল। তোমাকে কেউ রাইড দেয় নি অন্য কাউকে তুলনা করে কথা বলা।

আদিবা

" কেন বলবো না আমি! একশ বার বলবো হাজার বলবো, দেখি আপনি কি করেন। যেখানে আপনার পাশে থাকার দরকার একটা মেয়ের সম্মান নিয়ে ছেলে খেলা হচ্ছে, সেখানে আপনি আমায় কথা শুনানোর ধরে এনেছেন। বাহ" মিস্টার বিলিতি বিলাই বাহ

এই নাকি আপনার সম্মান আর গর্ব।

Oh sory আমি তো ভুলে গেছি। আমি আবার আপনার কে হই যে আমাকে বাচাবেন।

আচ্ছা বিলিতি বিলাই একটা সত্যি কথা বলুনতো, আমার জায়গায় অন্য কোন মেয়ে বা আপনার প্রেমিকা থাকতো তাহলে কি আপনি সেম করতেন, মানে যেটাকে বেড শেয়ার বলে আর কি৷ অবশ্যই করবেন আপনার মত অহংকারী, হার্টলেস মানুষ পারে। আর তাছাড়া..........

আর কিছু বলতে পারলো না বাঘ যেভাবে ধাবা দেয় শিকার ধরার জন্য, ঠিক আদিবার দুই বাহু শক্ত করে চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বলল-

"just shut up! তোকে কোন রাইড দেই নি আমার ব্যক্তিত্ব বিষয়ে নাক গলানো। আর তুই ঠিকই বলেছিস তুই থাকলে ওখানে ফেলে দিতাম, আর নর পশুরা তোকে ছিড়ে ছিড়ে খেত আর আমার শান্তি লাগতো। অত্যন্ত তর থেকে রেহাই পেতাম। আর তোকে আমি... হাসালি আমায়।

কাউকে যদি ঘৃণা করতে হয় তোকে করবো, তোর অস্তিত্ব কে করবো৷ কারন আমার তোর প্রতি কোন interest নেই। because I hate you & hate girl.

সারা জীবন আমি তোকে হেড করে যাব। বুঝতে পেরেছিস। আর আমার ইচ্ছে করছে তোকে এখনই আমার জীবন থেকে সরিয়ে দেই,কিন্তু আমার হাত বাধা। না হলে কি করতাম তোর কল্পনার বাহিরে।

বর্তমানে তোকে সাবধান করছি। যতদিন এ বাড়িতে আছিস ততদিন যেন নিজের সীমা মধ্যে থাকবি, না হলে আমি কি করবো তুই নিজেও জানিস না।

এই বলে আদিবাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে উপরে চলে গেল।

আর আদিবা সেও উঠে নিজের মত করে বলতে লাগলো -

" আমার এত সখ নেই তোর জীবনে পরে থাকার। শুধু কিছু কারনে আছি। যখন সময় হবে ঠিকই মুক্তি দিয়ে বের হয়ে যাব, কাউকে বলা লাগবে না । আর আমি আদিবা,এই আদিবা সহজে নিজের সাথে অন্যায় হলে চুপ থাকে না। আর তোকে কি করতে হবে আমার জন্য আমি নিজের টা নিজে ঠিকই চলতে পারবো। কারোর দয়ার দরকার নেই, ঠিক একমাস এ বাড়িকে থাকবো, তারপর নিজের পথে নিজে, আর তোর পথে তুই। দরকার নেই কারোর দয়া।

তবে আমি যেটা জন্য এসেছি, সেটা বের করে অবশ্যই যাব। তার আগে না!

এই বলে নিজেও নিজের রুমে চলে গেল।

কিন্তু তারা জানল না তাদের ব্যতীত আরো একজন আগন্ত ব্যক্তি সব শুনে নিল

আর সে দাঁড়িয়ে মনে মনে বলল -

" তোমার ভালোবাসা মানুষ কে খুব শ্রীঘ্রই পাবে। কিন্তু আমি যাকে এতদিন প্রটেক্ট করে এসেছি তাকে কি সহজে যেতে দিব এ....থাক নাম নিলাম না। তবে যেদিন সত্যি টা জানবে সেদিন তাকে পাওয়ার চেষ্টা সব যে ধ্বংস করার জন্য উঠে পড়ে লাগবে। আর তাকে তুমি নিজের বন্দিনী করতে চাইবে যে।

আর আদিবা তোমাকে তো এত সহজে জানতে দিলে চলবে না। না হলে যে এত বছরের প্ল্যান সব জল টেলে নষ্ট হয়ে যাবে।আর তাছাড়া সময়ের একটা ব্যাপার আছে, যখন জানবে তখন তোমার ভবিষ্যতে পুরো অধ্যায় বদলে যাবে। তখন আর নিজে নিজেকে চিনতে দোটানায় পড়ে যাবে।

ততদিন না হয় আমি তোমার উপর নজর রাখবো।আর তোমাকে এখন আড়াল করা যাবে না, কারন ওরা জানতে পারলে সব শেষ। তুমি যে কে সেটা আমি ছাড়া আর কেউ জানে না।

এই বলে আগন্তুক নিজের মত করে আড়াল হয়ে গেল।

রেখে গেল অনেক রহস্য জনক বাক্য।

আদৈা কি আদিবা জানতে পারবে যে তাকে নিয়ে কেউ খুটি সাজিয়েছে। আর রোহান কি বুঝতে পারবে তাকে কেউ আড়াল থেকে সব জেনেও না বুঝার ভান করছে।

যদি জানে তখন কি করবে সে, তাও অজানা রয়ে গেল।

----------------------------------------------------

মাঝ রাত

ঘড়ির কাটা ঠিক ৩টে বাজে। রুম পুরো নিঃশব্দ, তবে কারো কান্নার আওয়াজ বুঝিয়ে দেয় কোন মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

আদিবা নিঃশব্দে খাটের এক কোনায় বসে অনবরত মাথা ধরে পাগলামি করছে

কারন কিছুক্ষণে আগে সে ঘুমে স্বপ্ন দেখে উঠে মাথা ধরে পাগলামি করতে করতে বলল-

"কে আমি! আর এইটা কি স্বপ্ন?

যে আমাকে হাজারটা যন্ত্রনা দেয়। আর ওই পিচ্চি মেয়েটা কে? যে খিলখিল করে হেসে আমায় যন্ত্রণা আরো বাড়িয়ে দেয়।মনে হয় আমার সাথে কোন যোগ সূত্র আছে। আর চোখ " না না

এই বলে আয়নার সামনে দাড়ালে নিজের চোখ দেখতে পায় লাল,পুরো হুবহু ওই মেয়েটার মত।

চোখ পরিস্কার করে আবার আয়নায় দেখে নিল, দেখল তার চোখ তো সেই আগের মত কালো। তাহলে কি এটা ভ্রম?

না "না এটা কি হচ্ছে আমার সাথে? এই বলে সোজা নিজের হাত দিয়ে আয়নার মধ্যে ঘুষি মারলো।

এত জোড়ে ঘুষি ছিল যে, আয়না ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে আদিবার হাতে গেধে গেল।

আর মাটিকে বসে হাপাতে লাগলো । আর বিড়বিড় তো সাথে আছে৷

তবে যখন হুস ফিরলো, তখন নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে অবাক। পুরো ফ্লোরে রক্ত আর কাচ দিয়ে মাখামাখি।

তাই আর দেরি করলো না সোজা উঠে রুমে সব কিছু পরিস্কার করে, বিছানায় গেল। আর নিজের হাতের মধ্যে ওড়নার কে পট্টি মত করে বেধে নিল।

কারন নিজেই নিজেকে ঠিক রাখতে আজ বড় দায় হয়ে গেল। আচ্ছা সারা জীবন কি তার এই জীবন কাটাতে হবে। আমি যেই চোখ কে খুজছি তাকে পাবো তো।

যাকে দেখিনি, ছুইনি, সবটা তাকে দিয়ে বসে আছি। সে কি কখনো জানতে পারবে না?

আমি যে তাকে বড্ড ভালোবাসি, তাকে ছাড়া যে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে আমার। আর আমি অন্য কাউকে মন দিব না " কখনো না।

আমি তার জন্য অপেক্ষা করবো, মৃত্যুর আগ পযন্ত।

"হে আল্লাহ তাকে আমার কাছে এনে দাও। আমি যে তাকে ছাড়া নিঃশ্ব, সে ছাড়া যে আমার কেউ নেই। তাকে যে পুরো প্রাণটা দিয়ে ভালোবেসেছি আল্লাহ। দয়া করে তাকে এনে দাও।

তারপর বিছানার পাশে জানালা কাছে মাথাটা হেলান দিয়ে নিজের অতীত মনে করে গান গাইল -

Main tere kal mein

Hoon, Aaj mein hoon

Main teri saanson

Ke saaz mein hoon

Aankhein jhuka ke sunle mujhe tu

Main tere dill ki awaz mein hoon

Tu hausla hai, tu hai iraada

Aadhi main tujhmein,

Mujhmein tu aadhe

Toote na main bhi

Toote na tu bhi

Main tera sapna, tu mera vaada

Haaye, main mar hee jaaun

Jo tujko na paaun

Baaton mein teri main

raatein bitaun

Hothon pe lamha - lamha

hai naam tere, haaye

Tujhko hee gaaun main,

tujhko pukaarun

Oo..oo..oo...

Saiyaara tu to badla nahi hai

Mausam zara sa roothe hua hai

Saiyaara tu to badla nahi hai

Mausam zara sa roothe hua hai

গান শেষ করে ওখানে জানালার সাথে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে গেল, অথচ কেউ দেখতে পারলো না এই যন্ত্রণা?

পড়ে থাকলো জগম হওয়া হাত। আদৌ কি আদিবার গাওয়া গান কেউ শুনল তো। নাকি শুনে মনে করবে ও নাটক করছে।

আচ্ছা আদিবা কি কোন রহস্য লুকিয়ে আছে যে অদৃশ্য আগন্তক ব্যক্তি তাকে প্রটেক্ট করতে চায়। নাকি অন্য কোন মতলব হেটেছে। আদৌ কি এ রহস্য বের হবে কিনা সেটাই দেখার পালা। আচ্ছা রোহান সাথে আদৌ কি আদিবার কোন কানেকশন আছে নাকি অন্য কেউ রয়েছে তার জীবনে।

রোহান আর আদিবার জীবন সামনে কোন মোর নিতে চাচ্ছে সেটাই সামনে দেখার পালা। নাকি কোন বিপদ অপেক্ষা করছে তাদের জীবনে?

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন