#পর্ব_১৯
#হৃদয়_প্রনয়সক্তি
#লেখিকা_আরিফা_বিনতে_মায়া
সকাল ১১টা...
সূর্যের আলো উঠেছে, বাগানের শিশির ভেজা ঘাসে পায়ের ছাপ পড়ছে।
আদিবার গায়ে এখন সকালের নাইড ড্রেস পড়া, সারা বাগানে ঘুরে ফিরে বেড়িয়েছে।
আর মালিরা, বাড়ির গার্ডরা তাকে দেখে সেইযে পালিয়েছে, তাদের আর দেখা মিলে নি।
তবে আদিবা আজকে বেশ মজা পেয়েছে, সবাইকে শিক্ষা দিতে পেরে। এখন শুধু একটাই কথা ভাবছে, সে যে মাথার তার কেটে উল্টো কাজ করেছে।
তার উগ্র চন্ডি শাশুড়ী মা যদি দেখে তাহলে কী হবে?
সেই সব নিয়ে ভাবছে।
তার ভাবনার মাধ্যমে হঠাৎ করে বাড়ির গেট দিয়ে গাড়ির ঢুকলো। আর সেই গাড়ির মধ্যে থেকে নেমে আসল রেহানা বেগম, চোখে চশমা, মুখে গম্ভীর ভাব।
দেখলে কেউ বুঝবে কোন কিছু নিয়ে সে খুব রেগে আছে।
হঠাৎ করে আদিবা খেয়াল করলো তার গাল প্রচুর রকমে ব্যাথা অনুভব করলো ।
কারন আদিবা যখন নিজের শাশুড়ী মাকে পরক করতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় "লায়লা সেন কোথা থেকে এসে আদিবা গালে সোপাটে চড় মারলো।
এতে আদিবার ধ্যান ভেঙে গেল, আর রাগে তার ইচ্ছে করছে সব ভেঙে ঘুরিয়ে দিতে।
লায়লা সেন
" ব্যা*শা মেয়ে মানুষ তোর কি কোন রকম লজ্জা নেই।
এই ভাবে এই পোশাক পড়ে ঘুরে বেড়াস।
আর তোর মা তো তোকে কোন কিছু শিক্ষা না দিয়ে অন্যের বাড়িতে পাঠিয়েছে কিভাবে মানুষ খুন করতে, আর নিজের শরীর দেখিয়ে দেখিয়ে কীভাবে ইমপ্রেস করা যায়।
তখন বাড়ির ভিতর থেকে লোকজন বাহিরে বেরিয়ে এসে আদিবার আর লায়লা সেনের তামশা দেখতে ব্যস্ত।
মনে হয়ে কেউ ফ্রি সিনেমা চালিয়ে দিয়েছে।
লায়লা সেন আবার বলল–
"একে তো লজ্জা নাই। তারপর চৌধুরী বাড়ির ছেলেকে বিয়ে করে।
তুই নিশ্চয়ই আমার বেটাকে কোন কিছুর ব্ল্যাকমেইল করছিস। না হলে তো আমার বেটা এমন কাজ করতো না।
নিশ্চয়ই তোদের পুরো পরিবার একটা লোভি।
আর তা ছাড়া তুই তো সবার আগে, কারন মেয়েদের কে নিয়ে নিশ্চয়ই তোর বাবা কোন পতি*তা লয় ব্যবসা করতো। আর তুই খুন করে বেড়াস, তার জন্য তো তুই আমার ছেলে কে মেরে হসপিটালে পাঠিয়েছিস, আর এখন আমার মেয়ের শরীর পুড়িয়ে দিয়েছিস। আর তার মা বাবা কেমন হবে তা জানা আছে,
নিশ্চয়ই তোর বাবা আর মা তো হইছে একটা চু****
আর কিছু বলতে পারে না, ঠিক তখন ই বিরাট আওয়াজে সবার চোখ বের হওযার উপক্রম।
কারন আদিবা লায়লা সেন কে নিজের শরীরে সর্ব শক্তি দিয়ে থাপ্পর মেরেছে।
এতে সবাই তো হা করে তাকিয়ে রয়েছে। এটা কি ছিল?
নিজের বয়সীর মত মুরব্বির গায়ে হাত তুলেছে। এটা কি করে সম্ভব?
আর আদিবা তো শে থাপ্পড় মেরে বড় নিঃশ্বাস ফেলছে।
আর একদম মুখের সামনে এসে বলল-
" চুপ একদম চুপ! আর একটা কথা যদি আমার বাপ মার সম্পর্কে বলিছিস তো, তোর শরীর আর এই মুখ থাকবে না।
আর কি বলিস আমার পরিবার দুশ্চরিত্র
আরে তুই দুশ্চরিত্রা, তোর মা, তোর পুরো গুস্টি। বুঝতে পেরেছিস।
আমার ফেরেশতার মত বাবাকে কেন টেনে আনবি তুই?
বল _ " মাথার মধ্যে হাত দিয়ে বলল আর এদিকে কাটা হাত দিয়ে রক্ত পড়তে লাগলো
শুধু আজ তোর কারনে আমি এই প্রথম কোন গুরুজনের উপর হাত তুলেছি। কারন তুই তো আমার মুরব্বি হওয়া যোগ্যতা নাই।
শুধু হাই লেবেলের বড় হলে হয় না, মন মানসিকতার দিক দিয়ে বড় হতে হয়।
এজন্য তুই আমার সাথে যেই ব্যবহার করেছিস, তার ফল তুই পেয়েছিস।
বুঝতে পেরেছিস।
লায়লা সেন গালে হাত দিয়ে এতক্ষণে সব কথা শুনছিলেন। তবে সহ্য করতে না পেরে মুখে বলল "
"তোর এত বড় সাহস! তুই আমাকে থাপ্পর মেরেছিস।
দাড়া তোকে আজ আমি পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিব।
এটা বলে শোজা আদিবাকে ধাক্কা মারে আর আদিবা পিছনে একটা পেরেকের হাতল লাগানো ছিল।
ওটার উপর পড়তে নিলে কেউ একজন এসে ওকে বাচিয়ে নেয়।
কারন সে আর কেউ না রোহান!
~আদিবার লম্বা চুল হাওয়ায় উড়ে এসে রোহানের মুখে লাগলো
আর আদিবা ভয়ে ভয়ে রোহানের বুকে চেপে রইল।
কয়েক মুহূর্তে জন্য চারপাশ থেমে গেল।
আদিবা আর রোহানের চোখে চোখ পড়ল –
" চোখে ভয়ের কাঁপুনি, আর ২জনের ভেতরেই লুকানো এক অদ্ভুত টান।
রোহানের মনে হল এই মেয়েটা যে খুব কাছের কেউ, এই দৃষ্টি যে তার বড্ড চেনা, তবে সে হিসেব মেলাতে ব্যর্থ!
আর আদিবার সেম একই অবস্হা, বড্ড তার আপন আপন মনে হচ্ছে, যেন কত বছর হল এই নজরে সে দেখেনা, পুরো স্বপ্নের পুরুষের মত।
২জনে যখন কল্পনার রাজ্বে ব্যস্ত। তখন কারোর কাশির শব্দ শুনে ধ্যান ভেঙে গেল।
আর আদিবা কে সোজা করে দাড় করিয়ে বলল –
" এখানে কি হচ্ছে খালামণি?
লায়লা সেন কিছু বলতে নিলে, ঠিক সে সময় উপস্থিত হয় রেহানা বেগম আর বললেন-
" এসব কি হচ্ছে লায়লা ? আর এভাবে আদিবাকে ধাক্কা কেন মেরেছিস, ওর কিছু যদি হয়ে যেত। তখন কি করতি?
লায়লা সেন
" আপা তুমি দেখ নেই, এই মেয়ে আমাকে থাপ্পড় মেরেছে।
আর তুমি ওকে কিছু বলছ না, ও ও এখন কি সব বিশ্ররী পোশাক পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
আর তোমার স্টাটাস নষ্ট করছে।
রেহানা বেগম–
" থামবি তুই লায়লা! কি খারাপ পোশাক পড়েছে। শুধু নাইড ড্রেস পড়েছে ' ভালোইত পড়েছে, যেটা তুই সবসময় পড়িস আর আমরাও । এটাতে বিশ্ররী বলার কি আছে?
আর ওর তো নিজের স্বাধীন নতা আছে তাই না। ও কি পড়ে ঘুড়ে বেড়াবে না বেড়াবে এটা সম্পুর্ন ব্যত্তীত্ব ব্যপার।
তুই ওর ব্যপারে নাক গলাবি কেন?
তাছাড়া এই বাড়িও ওর, তোর যতটুকু অধিকার আছে। তার থেকে বেশি ওর অধিকার আছে।
তুই ওকে বলার কে? Ansar me..
লায়লা সেন
" আপা ঠিকাছে আমি ওকে ওর পোশাক নিয়ে বলেছি, ঘাট হয়েছে আমার।
তবে ও যে আমাকে থাপ্পড় মেরেছে, সেটার বিচার কে করবে শুনি?
এদিকে আদিবা নিরব দর্শকের মত শাশুড়ী আর ভাইরাস খালার যুদ্ধ দেখছে।
নিশ্চয়ই এখন বলবে সিনেমার শাশুড়ী মত " এখনই sorry বল, পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চাইতে বলবে।
তবে আদিবাকে ভুল প্রমান করে তার মত করে কঠিন উওর দিয়ে বলল-
" এখানে বিচার করার কি আছে?
যেখানে তুই ওকে থাপ্পড় মেরেছিস,সেখানে তুই উল্টো থাপ্পড় খেয়েছিস। ২জনের সমান সামন।
তাছাড়া তুই যেমন ব্যবহার করবি তেমনই তো ফল পাবি, যেটা তোর জন্মের স্বভাব? আর আমি তোকে হারে হারে চিনি, যে তুই কতটুকু ভালো।
যাই হোক "আমি আর এই ব্যাপারে কোন কথা বলতে চাইছি না। যে যার রুমে চলে যাও।
হা করে রেহানা বেগমের দিকে তাকিয়ে আছে আদিবা।
ওর তখনো বিশ্বাস হচ্ছে না যে, তার ভাবনা উল্টো ভুল প্রমান হবে।
" হা করে কী দেখছ? যাও রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে কলেজে যাও। নাকি পড়া শোনা করার ইচ্ছে নেই
আদিবা
"যা'''চ্ছি, কাপা কাপা গলায়
ওরা পিছনে ফিরে বাড়ির ভিতরে ঢুকতে নিলে, লায়লা সেনে কথায় পা থেমে যায়।
লায়লা সেন
" বাহিরে একটা মেয়ের জন্য তুমি আমায় এতগুলো কথা শোনাচ্ছ তো আপা?
ঠিকাছে দেখবে একদিন এই মেয়ে তোমার মান সম্মান, আর চরিএ দাগ লাগিয়ে তোমার নাম ডুবাবে, দেখে নিও।
রেহানা বেগম কিছু বলতে নিবে,ঠিক সে সময় আদিবা বলল–
"আরে ভাইরাস খালা কিযে বলেন না, আমার চরিএ আর নাক ডুবানো সেটা কি এক যায়?
আপনি জানেন না, আমার চরিএ কতটা ফুলের মতো পবিএ?
সেই চরিএ নিয়ে বারবার আঙুল তুলছেন।
আরে....
চরিত্র কাকে বলে সেটা আপনি বুঝেন বা জানেন, অবশ্যই আপরার কি নিজের চরিএ ঠিকাছে, তা না হলে অন্যকে বলবেন কেন?
আর আপনার মুখে ওই সব কথায় মানায় না।
আর পোশাক, সেটা হলো আমার সম্পুর্ণ ব্যত্তিত্ব ব্যাপার, তা নিয়ে ভাবতে হবে না আপনাকে।
আর আপনি যদি আমাকে ছোট মনে করেন, তাহলে ভুল ধারনা -
জানেন তো ছোট মরিচের ঝাঁঝ বেশি থাকে ।
তাই আমাকে ইনোসেন্ট মনে করলে পরে নিজেই বিপদে পরবেন।
যদি খেলতে চান তো সরাসরি খেলেন, কেউ মানা করে নাই৷ তবে মাঝ খান থেকে আমার পরিবার কে কেন টানবেন?
তাই নেক্সট টা-ইমে আমার পরিবারে নামে একটাও বাজে কথা শুনি, তাহলে থাপ্পর মারবো না, সোজা আপনার গলা কেটে রেখে দিব "" হাতের এক আঙুল উঠিয়ে হিসহিসিয়ে বলল
এই বলে চুল কে এক হাত দিয়ে উড়িয়ে বাড়ির ভিতরে চলে গেল, আর রেখে গেলো কতগুলো মানুষের অবাক করা দৃষ্টি।
চলবে......