#পর্ব_২৯ ( রহস্যের শেষ সাপ্তাহ
#হৃদয়_প্রনয়সক্তি
#লেখিকা_আরিফা_বিনতে_মায়া
আজকের আকাশটা যেন রাগ করে মুখ ফিরিয়ে আছে।সূর্যের আলো হারিয়ে গেছে কোথাও, চারদিকে জুড়ে এক অদ্ভুত নীরবতা। বাতাসও যেন থেমে গেছে, পাতার শব্দ নেই, পাখির ডাক নেই– যেন পৃথিবী নিঃশ্বাস আটকে গেছে বলে মনে হচ্ছে।
চারপাশে শুধু অন্ধকার আর ভারী নিস্তব্ধতা, এমন যেন কেউ সব রঙ মুছে দিয়ে রেখে গেছে শুধু ধূসর ছায়া।
তন্মধ্যে ক্রিমসন হোল্ডের জেল বেশ অন্ধকার।
তার ভেতরে চিকিৎসক কেন্দ্র একপাশে শুয়ে আছে আদিবা, হাতে ক্যানালক তার মধ্যে সেলাইন চলছে।
কিছু সময়ের মধ্যে আদিবা জ্ঞান ফিরে এল। তারপর আস্তে আস্তে চোখ খোলার চেষ্টা করল, তবে চারদিকে ঝাপসা ঝাপসা দেখতে পেল।
আবার পুনরায় চোখ বন্ধ করে তাকানোর চেষ্টা করল।
এখন সব দেখতে পেয়েছে উঠে বসল, আর ভাবতে লাগলো ও কোথায় আছে?
যখনই মনে পড়ল, সে এখন নরকের বন্দী শালায়,
তাই তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল—
" হায়রে জীবন! যারে চাইলাম তারে পাইলাম না।
অথচ সে আমায় ধোকা দিয়ে পুরো জীবনটা খেয়ে নিল।
এই বলে যখন সিট থেকে উঠতে যাবে, ঠিক সে সময়ে আয়নায় নিজেকে দেখে অবাক হয়ে যায়।
অপেক্ষা না করে আয়নার সামনে গিয়ে নিজেকে কে দেখে এক চিৎকার দিল আর বলল—
" এটা কে!!!! এই চোখ..... এই চোখতো আমার না।
- বলে চিৎকার শুরু করে দিয়েছে।
কারন আদিবা চোখ এখন আগের মত কালোমণি নেই, পুরো চোখের মণি লাল রঙে পরিণত হয়েছে।
আর ভাবছে, এটা তো সেই স্বপ্নের পিচ্চি মেয়ের মত।
যার চোখ এই চোখের সাথে হুবহু মিল।
তাহলে কি............ না বলে এক চিৎকার দিল।
ঠিক তখনই নার্স সে আওয়াজ শুনে কেবিনে ঢুকে পড়ল। আর আদিবাকে ধরে বলল—
" কি হয়েছে তোমার? এমন চিৎকার করছ কেন?
— দেখুন আমার চোখ কেমন যেন?
নিশ্চয়ই আপনারা কিছু করেছেন আমার সাথে।
— কি বলছেন আদিবা? আমরা কেন করবো?
আপনার চোখ তো এইরুকুমই, শুধু চোখের উপর যে কালো ল্যান্স ছিল। সেটা ডক্টর গতাম সার্জারি করে সরিয়ে দিয়েছে। না হলে তো আপনার চোখ বাস্তবে এরকম।
আদিবা নার্সের কথা শুনে বোকার মত তাকিয়ে রইল।
ওর বিশ্বাস হচ্ছে না এটা ওর জন্ম গত চোখের মণির রং লাল।
কেমন যেন দেখতে অদ্ভুত, বিদেশি লাগছে।
তবে কি????
আর কিছু না ভেবে মাটিতে বসে পড়ল।
তখনই তার সামনে বসে বলে —
" দেখ যা হওয়ার হয়েছে! এখন তুমি সুস্থ।
নিজেকে আর আঘাত দেওয়ার চেষ্টা করনা।
এখন তুমি আমার সাথে ক্রমিসন হোল্ডের ভেতরে যাবে। মানে যেখানে সব কয়েদীরা থাকে।
উঠ...... তোমায় সব বুঝিয়ে দিতে হবে আমাকে
আদিবা নার্সের কথার পাল্টা উওর করল না আর, সোজা নার্স যে পথে যাচ্ছে, সেই পথে আদিবাও তালে তালে মিলিয়ে হাটছে।
তারপর বিশাল এক জায়গা এল, যেখানে প্রায় ১০৮টা জেল একসাথে রাখা আছে,তবে সবগুলো খালি। কারন বর্তমানে ওই সকল কয়েদি ক্রিমসনের বাগানের মাঠে আছে। আর ওখানে তাদের কে দিয়ে কাজ করাচ্ছে।
তাই আদিবাকে নিয়ে নার্স একজায়গায় নিয়ে এসে, অতঃপর হাতে এক সুট জামা দিয়ে বলে এটা পড়ে রেডি হয়ে নিতে।
তারপর তাকে নিয়ে বাগানে যাবে।
আদিবা আর দেরি না করে চলে গেল জামা– কাপড় পাল্টাতে।
আর পাল্টিয়ে আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজের চেহারার দিতে তাকিয়ে ভাবলো –
" আজ থেকে তোর জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু আদিবা।
তোকে খুজে বের করতে হবে তুই কে?
তোর পরিচয় কি? আর এই চোখের সাথে তোর স্বপ্নের কেন এত মিল? তোকেই সব রহস্যের বেড়া জাল থেকে বের করতে হবে।
তাই আজকে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু তোর , যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে তোকে আদিবা......
এই বলে নিজের চেহারা পানি দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে গেল।
------------------------------------
অন্ধকার ঘরটা যেন এক নিঃশব্দ কবরে পরিণত হয়েছে, বাতাস ভারী, তবে কারোর নিঃশ্বাসের শব্দ শুনা যাচ্ছে
কারন রোহার্ড এড্রিয়ান একপাশে ডিভানের উপর বসে, অনবরত ড্রিংকস করছে, আর ভাবছে কোন কিছু নিয়ে,
ঠিক সে সময় রোহার্ডের কাথে কেউ হাত দেয়।
এতে সে বিষণ বিরক্ত হয়ে বলে —
" কোন শুয়া****রের বাচ্চারে আমায় ডিস্টার্ব করিস।
তখন ওই পাশের আওয়াজ আসে —
" এরিক আমি.... মানে এলিনা
চোখে ঝাপসায় ঝাপসায় বলল—
" তুমি?? বল কি বলতে এসেছো।
— আসলে যেই কাজটা সম্পুর্ণ হয়নি তা আমি পূরন করেছি।
— মানে??? " ব্রু কুচকে জিজ্ঞেস করল
— মানে তোমার আর আদিবার ডির্ভোস হয়ে গেছে।
দেখ!
এই বলে রোহার্ডের দিকে ফাইলটা এগিযে দিয়ো বলল-
রোহার্ড কোন কথা না বলে সোজা এলিনার হাতের থেকে ফাইলটা নিয়ে দেখতে শুরু করলো আর দেখলো সেখানে আদিবার সিগনেচার রয়েছে।
এটা দেখে এলিনাকে জিজ্ঞেস করলো —
" কোথায় তুমি পেলে এংড়ি বার্ডকে??
— পেয়েছি কোন এক জায়গায়।
— আমি তোমায় বলতে বলেছি এলিনা। কথা গুরানো আমি পছন্দ করি না।
এলিনা রোহার্ডের গম্ভীর আওয়াজ শুনে ভয়ে বলে দিল
– ক্রিমিসন হোল্ডের মধ্যে, ওখানেই বর্তমানে আছে।
রোহার্ড কিছু না বলে, কি যেন ভেবে?
এলিনার সামনে এসে বলল—
" vary good my lady....আমি তোমার কাজে খুব ইমপ্রেস।
এত সহজে তুমি কাজটা করে দিবে, তা কল্পনার বাহিরে।
এই কথা শুনে এলিনা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে রোহার্ডকে বলার শুরু করলো–
" এই এলিনা এমন কোন কাজ নেই যা তার দ্বারা সম্ভব হয় নি। তবে যদি বল তোমার জন্য নিজের জানটা হাজির দিয়ে দিতে পারি এরিক......
— okk. আর জান দিতে হবে না, এবার যাও নিজেকে পরিপাটি কর। সাজো আনন্দ কর৷
তোমাকে আমার তরফ থেকে ইটালি টিকেট ফ্রি করে দিলাম । যাও ঘুরে আস।
এইটা শুনে এলিনা রোহার্ডকে জরিয়ে ধরতে চাইলে পারেনা হাত সরিয়ে মুখে বলে —
" thank you so much, এরিক...
তোমাকে কি বলে বুঝাতে পারবো না।
— থাক আর কিছু বলতে হবে না । যাও এখন সব কিছু গুছিয়ে নাও।
আমি কল করে সব বলে দিচ্ছি।
এলিনা আর একমুহূর্ত সময় নষ্ট না করে বের হয়ে গেল।
আর রোহার্ড এলিনার যাওয়ার পথে চেয়ে দেখে৷
হঠাৎ করে ওর চেহারার রঙ পরিবর্তন করে বলল—
" অনেক হয়েছে লুকোচুরি! এবার শুরু হবে মুখোমুখির লড়াই।
এবার দেখি কে আমার কাছ থেকে আমার বাটারফ্লাই কে কেরে নিবে......
" বাটারফ্লাই তৈরি থেকেও,,, তোমার এই বেদনাদায়ক প্রেমিকের আগুনে ঝলসানোর জন্য।
প্রস্তুত কর নিজেকে আমায় সামলানোর জন্য।
কারন তোমার এই বেসামাল প্রেমিক যে অনেক বছরের ক্ষুদার্থ! তোকে যে আমায় সামলাতে হবে মাই রেড ওয়াইন.....
এরপর মুখে সিটি বাজিয়ে গান ধরল·—
~ঝলসানো রাতের এ পোড়া বরাতে
তুমি আমার অন্ধকার
আর রোশনাই ~
এরপরে বাকা হাসি দিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ল
আর রেখে গেল নিজের বুনা জাল।
তবে সামনে দেখার অপেক্ষা কি করতে চাইছে রোহার্ড এড্রিয়ান......
চলবে......