ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদয় প্রনয়শক্তি

৩৮তম পর্ব

লেখক: আরিফা বিনতে মায়া

#পর্ব_৩৬ দ্বিতীয় অংশ

#হৃদয়_প্রনয়সক্তি

#লেখিকা_আরিফা_বিনতে_মায়া

অপর পাশে থেকো আওয়াজ এলো "

— হ্যালো......

তখনি লায়লা সেন কাপা কাপা গলায় বলল"

— শুন ব্লিক্সা , আমার কথাটা মনোযোগ দিয়ে।

একটু আগে রেহানা এসেছিল, সেই আগের মতো চোখ, আর আমাকে আগের মতো হুমকি দিয়েছে।

যদি মেরিকের পিছন না ছাড়ি, তাহলে আমাদের জন্য..... (বড় শ্বাস ফেলে)

দাফন কাফনের ব্যবস্তা করবে।

ব্লিক্সা অপর পাশে চুপ কর থাকলো "

— কিরে ব্লিক্সা! উওর দে.....

— মম শুন " তোমাকে এতো হাইপার হওয়ার প্রয়োজন নেই।

যা হবে পরে দেখবে, তবে আমি এখন যেখানে এসেছি সেখানে কিছুদিন থাকবো।

কাজ হাসিল হলে, "আই এম কাম বেক"

তার আগে ফিরবো না, ওকে মম "

বুঝতে পেরেছো।

লায়লা কোন রকম মুখে বলল"

— হুমমম... বুঝেছি।

— ইউর সো গুড মম" তবে আরেকটা কথা, তোমার বোনের উপর থেকে নজর সরাবে না।

কারন চিপায় যখন বাঘ বিড়াল হয়ে যায়, যদি তাকে কেউ ক্ষেপায় তখন ঠিকই বিড়াল থেকে বাঘের রুপে ফিরে আসে।

তাই ঠিক তোমার বোন তার আগের ফ.....

আর কিছু না বলে কল কেটে দিল।

রেখে দিলো হাজারো রহস্যের পাতা....

------------------------------------

মার্সির্স....

দিনের বেলায় শীতের মার্সির্স শহরটা আরও পরিষ্কার আর শান্ত লাগে।

রোদে বরফ ঝিলমিল করে, সাদা রাস্তা চোখ ধাঁধিয়ে দেয়।

হালকা ঠান্ডা বাতাসে মানুষ ধীরে হাঁটে,

আর নীল আকাশের নিচে শহরটা যেন নীরব সৌন্দর্যে হাসে।

তবে আদিবার ভেতরে হাসি আর আনন্দ কিছুই নেই।ওয়াশরুমের এই ঠান্ডার মধ্যে ঝর্রনা ছেড়ে বসে আছে। আর ভাবছে নিজের কথা।

"কেন হলো আমার সাথে, আমি তো চাইনি এসব।

তাহলে.....

ওই পাপিষ্ঠ গ্যাংষ্টার বারবার কেন আমাকে কষ্ট দেয়।

এই বলে কাদতে থাকে। "

ঠিক তখন বাইর থেকে শান্ত আওয়াজ শুনতে পেলো, তাই আর ঝর্নার নিচে না থেকে উঠে পড়লো। তারপর পোশাক পাল্টে, ওয়াশরুম থেকে বের হলো।

এরপরে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে সোজা নিজের রুমের দরজা খুলে দিল।

তখনই শান্ত হাইপার হয়ে ভেতরে ঢুকে জিজ্ঞেস করতে শুরু করল।"

— হুরপরী তুমি ঠিকাছো। কিছু হয়নি তো তোমার।

আদিবা কোন উওর না দিয়ে সোজা সোফার উপর বসে পড়ল।

কিন্তু শান্ত তো শান্ত" সে তো ছাড়ার পাএনা।

তবে শান্ত অনেকসময় ধরে জিজ্ঞেস করে উওর না পেয়ে নিজেই হাল ছেড়ে শ্বাস ফেলে বলল"

— যখন তোমার ইচ্ছে হবে তখন বল, আমি জোর করবো না। তবে আমি অপেক্ষায় থাকবো।

এই বলে চলে গেল, দরজা চাপিয়ে। "

যাওয়ার সাথে সাথে আদিবাও উঠে দরজা লাগিয়ে দিয়ে, রুমে যা ছিল সব উল্টো পাল্ট করে দিল। "

এরপরে নীচে ফ্লোরে বসে, কাদতে কাদতে বলল"

— কিসের অধিকারে আপনি আমাকে বারবার ছুয়ে কষ্ট দেন গ্যাংষ্টার পাপিষ্ঠ পুরুষ।

কোন অধিকারের.... আমি তো আপনার কেউ না।

তাহলে আমাদের মাঝে যেই সম্পর্ক, সেইটা কি শুধু দূর্ঘটনা মাএ। নাকি আপনি ইচ্ছে করে শাস্তি দিচ্ছেন।

আর আমি তো আপনার বউ না, তাহলে কোন অধিকারে আমাকে কলঙ্কিত করেছেন বলুন।"

এই বলে ফ্লোরে শুয়ে পড়ল, আর মুখে কি যেন বিড়বিড় করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ল।"

এই আর্তনাদের দৃশ্য একজন সব তার নিজের চোখে বন্ধি করে নিলো।" তবে আদিবা জানতে পারলো না। তা অগোচর কেউ তার উপর নজর রেখেছে ২৪ঘন্টা।"

তবে কে হতে এই আগন্তুক, যে আদিবার পিছনে পড়ে আছে।"

-------------------------------------------

ডায়নামাইন্ড শহর.......

ডায়নামাইন্ড শহর ঘুম ভাঙায় ধীর। এখানে ভোর আসে শব্দ করে নয়, আসে কুয়াশার চাদর গায়ে মুড়ে। সূর্য ওঠার আগেই নীলফটক চত্বর জেগে ওঠে—লোহার তৈরি পুরোনো ফটকটা যেন শহরের পাহারাদার। ফটকের গায়ে খোদাই করা চিহ্নগুলো আজও কেউ পুরোপুরি বুঝতে পারেনি। কেউ বলে এগুলো প্রাচীন সভ্যতার ভাষা, কেউ বলে ভবিষ্যতের সংকেত। তবে এক বিষয়ে সবাই একমত—এই ফটক পেরোলেই সময়ের গতি বদলে যায়।

চত্বর ছেড়ে একটু এগোলেই দেখা যায় মিরর লেক। শহরের হৃদয় বলা হয় একে। সকালে লেকের জল এতটাই স্থির থাকে যে মনে হয় কেউ আকাশটাকে নামিয়ে রেখে দিয়েছে জলের ওপর। শহরের মানুষ বিশ্বাস করে, যার মন অশান্ত সে যদি এখানে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকে, লেক তার ভেতরের ঝড় চুরি করে নেয়। কিন্তু রাত নামলে এই লেকই আবার রহস্যময় হয়ে ওঠে—জলের ভেতর ভেসে ওঠে আলো, যেন কেউ নীচে দাঁড়িয়ে বাতি জ্বালিয়ে রেখেছে।

লেকের দক্ষিণ পাশ ধরে বিস্তৃত সিলভার লেন। এই রাস্তা ডায়নামাইন্ডের সবচেয়ে জীবন্ত জায়গা। দিনের বেলা এখানে বইয়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ বইয়ের পাতায় হারিয়ে যায়, আর বিকেলে ক্যাফেগুলোতে কফির কাপের সাথে জমে ওঠে গল্প। সন্ধ্যা হলেই স্ট্রিট মিউজিশিয়ানরা আসে—কারও হাতে গিটার বেহালা। তাদের সুরে রাস্তার পাথর পর্যন্ত আনন্দে কেঁপে ওঠে।

সিলভার লেনের শেষে রয়েছে রেইনবো স্কয়ার। এটি শহরের হাসি। এখানে প্রতিদিনই যেন ছোটখাটো উৎসব। কখনও আলোর মেলা, কখনও খাবারের বাজার, কখনও আবার খোলা মঞ্চে নাটক। বাচ্চাদের হাসি, রঙিন ফানুস, আর বাতাসে ভাসতে থাকা মিষ্টির গন্ধ—সব মিলিয়ে এই জায়গাটা ডায়নামাইন্ডের আনন্দের প্রাণকেন্দ্র।

কিন্তু আনন্দের শহর বলেই যে এখানে রহস্য নেই, তা নয়। শহরের উত্তর দিকে ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে আছে ভেইল ফরেস্ট। এই জঙ্গলে ঢুকলে শব্দ কমে যায়, বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। গাছগুলো এত উঁচু যে সূর্যের আলোও মাটিতে নামার আগে কয়েকবার দিক বদলায়। লোককথা বলে, এই জঙ্গলের ভেতরে পথ বদলে যায়, সময় থেমে থাকে। তবুও অদ্ভুতভাবে এই জায়গাটাই অনেকের কাছে শান্তির ঠিকানা।

ভেইল ফরেস্টের ওপারে, পাহাড়ের মাথায় দাঁড়িয়ে আছে টাইম টাওয়ার। এই টাওয়ার শুধু একটি ঘড়ি শহরের স্মৃতি। দিনের বেলায় এটি নীরব থাকে, কিন্তু রাত গভীর হলে ঘড়ির টিকটিক শব্দ স্পষ্ট শোনা যায়। শহরের প্রবীণরা বলেন, এই শব্দের ভেতর লুকিয়ে আছে ডায়নামাইন্ডের অতীত আর ভবিষ্যৎ।

ডায়নামাইন্ড শহরের সবচেয়ে অদ্ভুত দিক হলো—এখানে কেউ একা থাকে না, আবার সবাই নিজের মতো করে একা। নীরবতা এখানে ভয়ংকর নয়, বরং আশ্রয়। রহস্য এখানে অন্ধকার নয়, বরং কৌতূহল। আর আনন্দ—সে কখনও চিৎকার করে আসে না, ধীরে ধীরে হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।

তবে সেই মিরর লেগে পাশে দাড়িয়ে আছে একজন মানুষ, হাতে তার কয়েন।

সেই মিরর লেগে নিজের হাতে থাকা কয়েন পানিতে ফেলে বলে"

—আই অ্যাম হ্যাপি উইথ মাই আউটকাম, বাট দ্য থিং আই ওয়াজ রেসপনসিবল ফর অল দিজ ডেজ ইজ নাউ আন্ডার সামওয়ান এলস্‌’স ওয়াচ। সো আই রিটার্নড টু মাই কিংডম।

(আমি আমার প্রাপ্তিতে খুশি, তবে যে জিনিসের উপর এতদিন আমার দায়িত্ব ছিল, তা এখন অন্য কারো নজরে। তাই আমি আমার রাজত্বে ফিরে এলাম।)

"আই হ্যাভ অনলি ওয়ান উইশ—প্রটেক্ট দেম বথ ফ্রম অল ডেঞ্জার।

(আমার একটাই ইচ্ছা—ওদের দু’জনকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করো।)

এই বলে পেছনে ফিরে গেলো,ঠিক তারপর কেউ তাকে আক্রমণ করে বসলো। তবে সেও কম উল্টো তার ছুরি হাতটা নিজের হাতের সাহায্য উল্টো করে মাটিতে একটা আছাড় দিলো।

তারপর আবার আরেকজন আসলে, তার নিজের হাতে ছুড়ি পেটে ডুকিয়ে দিলো। তারপর এক করে সবাইকে মারতে লাগলো। তখন কেউ ওই মানবের কালো সুট একডানে খুলে ফেলল। "

তার লাল চুল হাওয়া ভাসলো,আর নীল চোখের মণি এতো প্রখর যে। যে কাউকে ধ্বংস করে দিতে পারে। "

তবে যেই সুট ডান দিয়ে খুলেছে, তার কন্ঠটা ধরে মাটিতে একআছাড় মারলো, আর সঙ্গে সঙ্গে সে মাটিতে বসে পড়ল।"

আর সেই লালচুলের অধিকারীনি কাউকে ইশারা করলে বলল"

— ক্লারা লাইটার দে.....

সাথে সাথে লাইটার হাতে ধরিয়ে দিলো।

তারপর সেই লালচুল অধিকারীনি " লাইটারে আগুন ধরিয়ে ওই মানবের দিকে ছুড়ে মারলো।

আর সাথে সাথে দাউ দাউ করে পুরো শরীরে আগুন জ্বলতে শুরু করলো।

আর সেই আগুনের দিকে তাকিয়ে আস্তে করে হাওয়ার সাথে মিলিয়ে বলল—

" কামিং.... ডায়না ইস কামিং।"

এরপরে ঘুরতে ঘুরতে আবার একই নাম চিৎকার দিয়ে বলল"

— "ফ্লোরা ডায়না কুইন " কামিং।

তার নিজ শহর "ডায়নামাইট সিটিতে"

" ক্লারা " টাগ টোল পিটিয়ে বল,১০বছর পর তাদের দেশের কুইন কামিং। আজ থেকে এই শহরে কোন আনন্দ থাকবে না,থাকবে শুধু রক্তের বন্যা।

"দিস সিটি ইজ মাইন, অ্যান্ড ইট উইল রিমেইন মাইন।

ইট ওউন্ট ইভেন টেক টু মিনিটস টু ইরেইজ দ্য এগজিস্টেন্স অফ এনিওয়ান হু ডেয়ার্স টু টেক ইট ফ্রম মি।

এই কারণেই আমার আগমনের বার্তা পুরো শহরে পৌঁছে দিয়েছি।

এই বলে নিচে পড়ে থাকা কালো সুট উঠিয়ে নিলো। আর পড়ে নিয়ে এমন ভাবে সামনে হাটলো মনে হলো, কোন ধ্বংসের বুজ রেখে গেলো "মিরর লেগে" সামনে। তবে যাই হোক সামনে অপেক্ষা করতে হবে কে এই " ফ্লোরা ডায়না?

যার নাম এমন চিৎকার করে বলে গেলো।

চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন