কলমে: আহমেদ বাঁধন
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)
[৮ম খণ্ড]
সকাল ১০ : ৩০ মিনিট।
অবশেষে বাংলাদেশের মাটিতে চাকা ল্যান্ড করল সেই আন্তর্জাতিক মাফিয়ার প্রাইভেট জেটের, যার নাম শুনলে পুরো আন্ডারওয়ার্ল্ড কেঁপে ওঠে। তিনি আর কেউ নন—
মাফিয়া বাঁধন মির্জা! পুরো দুনিয়ার ক্রাইম জগত থেকে শুরু করে সব বড় বড় ডিল যার হাতের মুঠোয়। তাকে আটকানোর মতো ক্ষমতা এই দেশের কোনো আর্মি, পুলিশ, মিনিস্টার কিংবা খোদ প্রধানমন্ত্রীরও নেই। বাঁধন চলে সম্পূর্ণ নিজের পাওয়ারে। ছোটবেলা থেকেই সে এই নিষ্ঠুর দুনিয়াটাকে খুব ভালো করে চিনে নিয়েছে, তাই এখন সে আর কারোর পরোয়া করে না। সামনে যে-ই আসুক না কেন, বাঁধনের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার সাহস কারো নেই।
আজ দীর্ঘ আট বছর পর সে পা রাখল সেই চেনা দেশে, যে দেশ থেকে একসময় তাকে অন্যায়ভাবে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আজ সে ফিরে এসেছে তার সেই হারিয়ে যাওয়া সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটা ফেরত নিতে! বাঁধন যখন একবার এই দেশে এসেছে, তখন নিজের জিনিস সে ছিনিয়ে নিয়েই ছাড়বে। কারণ তার সাথে কথা বলার যোগ্যতা সবার থাকে না। সে নিজের খেয়ালখুশিতে চলে, কারো হুকুম মানা তার রক্তে নেই। দিস ইজ বাঁধন'স ওপেন চ্যালেঞ্জ!
প্রাইভেট জেট থেকে ধীর পায়ে নেমে এল মাফিয়া বাঁধন মির্জা। পরনে তার ব্ল্যাক কাস্টমাইজড স্যুট, মুখে কালো মাস্ক, চোখে ডার্ক সানগ্লাস আর চুলগুলো নিখুঁত স্টাইলে সাজানো। শার্টের উপরের দুটো বোতাম খোলা—
যেকোনো সুপারমডেল বা নায়কের চেয়েও তার ব্যক্তিত্ব অনেক বেশি আকর্ষণীয় ও পৌরুষদীপ্ত। তাকে একনজর দেখার জন্য জার্মানির লক্ষ লক্ষ রূপবতী মেয়েরা পাগল ছিল, কিন্তু বাঁধনের ওসব দিকে কোনোদিন কোনো ইন্টারেস্ট ছিল না। সে শুধু একজনের প্রতিই আজীবন অনুগত, আর তাকে নিজের করে নেওয়ার জন্যই আজ এই দেশে পা রাখা। বাঁধন এক কথার মানুষ—যেটা পাওয়ার জন্য সে একবার পণ করে, সেটা না পাওয়া পর্যন্ত সে দেশ ছাড়ে না।
চোখ থেকে সানগ্লাসটা হালকা নামিয়ে চারপাশের পরিবেশটা পরখ করে নিল বাঁধন। তার দুপাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে আছে তার দুই প্রধান বডিগার্ড অ্যালবার্ট আর জোসেফ। আর তাদের ঠিক পাশেই বেশ হিল জুতো খটখট করে নামছে রূপসী নীলিমা।
পুরো বাংলাদেশ সরকার ও প্রশাসন ইতিমধ্যে জেনে গিয়েছে যে আন্তর্জাতিক অপরাধ জগতের এক কুখ্যাত ডন আজ এ দেশে পা রাখছে, যার একটু অসন্তুষ্টি পুরো দেশের ঘুম হারাম করে দিতে পারে। তাকে রিসিভ করার জন্য বিমানবন্দরে পুলিশ-আর্মির বড় বড় অফিসারদের পাশাপাশি খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত উপস্থিত হয়েছেন। কারণ তারা খুব ভালো করেই জানে, বাঁধনের প্রটোকলে সামান্যতম ভুল হওয়া মানে নিজেদের মৃত্যুকে ডেকে আনা!
বাঁধনকে জেট থেকে নামতে দেখেই প্রধানমন্ত্রী এগিয়ে এলেন এবং অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বললেন,
"মি. বাঁধন,
— আসতে কোনো প্রবলেম হয়নি তো? আপনার যদি কোনো কিছুর প্রয়োজন হয়, তবে আমি নিজেই আপনার সাথে প্রটোকলে চলতে পারি।"
বাঁধন তার দিকে এক পলক শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে একদম নিচু ও গম্ভীর কণ্ঠে জবাব দিল,
— তার কোনো প্রয়োজন নেই।
তুই এখন এখান থেকে যেতে পারিস।"
প্রধানমন্ত্রী খুব ভালো করেই জানেন, এই মাফিয়ার সামনে অতিরিক্ত কথা বলা মানে নিজের কফিনে নিজে পেরেক মারা। তাই সে আর কোনো কথা না বাড়িয়ে বাঁধনের নির্দেশ মতো সেখান থেকে সরে গেলেন।
একটু দূরেই পুরো সিআইডি টিম, এসিপি এবং বড় বড় কর্মকর্তারা অ্যালার্ট পজিশনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই টিমের মাঝেই দাঁড়িয়ে ছিল আমাদের লেডি সিআইডি অফিসার নূর! সে দূর থেকে চোখ বড় বড় করে বাঁধনের সেই রাজকীয় ও ভয়ঙ্কর রূপ দেখছিল। বাঁধনকে দেখামাত্রই নূরের বুকের ভেতরটা কেমন যেন এক অজানা কাঁপনে কেঁপে উঠল। তার
অবচেতন মন ফিসফিস করে বলে উঠল—
'আমার এমন মনে হচ্ছে কেন যে আমি এই লোকটাকে চিনি? এর সাথে কি আমার অতীতে কখনো দেখা হয়েছিল? ধুর! কী ভাবছি এসব! ও তো এক আন্তর্জাতিক মাফিয়া ও সন্ত্রাসী, যার সাথে কথা বলার যোগ্যতা এ দেশের বড় বড় ভিআইপিদেরও নেই। পুরো দেশ যাকে দেখে বাঘের মতো ভয় পায়, তাকে আমি কীভাবে চিনব? ও একজন অপরাধী আর আমি আইনের রক্ষক সিআইডি অফিসার, আমাদের মাঝে কোনো মিল থাকতেই পারে না!'
বাঁধন ভিআইপি লাউঞ্জ দিয়ে সামনের দিকে হেঁটে যাচ্ছিল, চারপাশের ভিড়ের দিকে তার বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই এক মুহূর্তের জন্য তার সেই ধারালো চোখ দুটো গিয়ে পড়ল দূরে দাঁড়িয়ে থাকা নূরের ওপর! বাঁধনের সেই বাঘের মতো তীক্ষ্ণ চাউনি দেখে নূরের কলিজা যেন শুকিয়ে গেল। সে ভয়ে আর বাঁধনের দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারল না, দ্রুত নিজের মাথা নিচু করে ফেলল।
নূরের দিকে এক নজর তাকিয়েই বাঁধন চোখের সানগ্লাসটা আবার ঠিক করে সোজা গিয়ে বসল তার পার্সোনাল ব্ল্যাক 'BMW M5' গাড়িটিতে। বাংলাদেশের সাধারণ রাস্তায় এই লেভেলের হাই-স্পিড স্পোর্টস কার চালানো যেখানে নিষিদ্ধ, সেখানে বাঁধনের জন্য এই গাড়ি নিয়ে আসা কোনো ব্যাপারই ছিল না। গাড়িটি এক বিকট স্টার্ট নিয়ে চোখের পলকে বিমানবন্দর ছেড়ে চলে গেল।
গাড়িটি চলে যেতেই নূর বুক ভরে একটা দীর্ঘ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল এবং মনে মনে বিড়বিড় করে বলতে লাগল,
"কচুকাটা মাফিয়া একটা!
— আমার দিকে ওভাবে বাঘের মতো কেন তাকাল? আমি কি ওর কোনো ক্ষতি করেছি নাকি? যেভাবে তাকাল, মনে হলো আস্ত চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে! উফ, আমার তো নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার দশা হয়েছিল!"
নূরকে এভাবে হাঁপাতে দেখে তার পাশে থাকা তার জুনিয়র সিআইডি অফিসার মিষ্টি কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করল,
"ম্যাম!
— কোনো প্রবলেম হয়েছে নাকি? আপনি হুট করে এভাবে হাঁপাচ্ছেন কেন?"
নূর নিজেকে সামলে নিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
— কোনো প্রবলেম না মিষ্টি। তুমি নিজের কাজ করো!"
বিকেল ৪ : ০০ টা।
ঢাকার একটি নিরিবিলি পার্কের বেঞ্চে পাশাপাশি বসে আছে নূর আর রিশাদ। নূরকে অনেকক্ষণ ধরে চুপচাপ আর বেশ চিন্তিত দেখে রিশাদ তার দিকে তাকাল। সে নূরের হাতটা আলতো করে ছুঁয়ে বলল,
"নূর,
তোমাকে আজ কেমন যেন চিন্তিত মনে হচ্ছে। কিছু হয়েছে নাকি?"
নূর চমকে উঠে বলল,
"কই,
— না তো! কিছুই হয়নি।
আমার আবার কী হতে যাবে...!!"
— তাহলে এভাবে এত মন খারাপ করে কী ভাবছ? মনে হচ্ছে তুমি অনেক বড় কোনো চাপে আছো বা এমন কিছু দেখেছ যা তুমি হজম করতে পারছ না।
—আরে ওসব কিছু না, তুমি বাদ দাও তো।
তা তোমার খবর বলো, আজকাল কী করছ?"
"আমি?
— আমি তো সবসময় একটা প্রফেসর হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। খুব জলদিই আমার পিএইচডি শেষ করে ভালো কোনো নামী ভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াব। এটাই তো আমি মন থেকে চাই।"
"যাক,
— খুব ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছ।"
"নূর,
— তোমার সাথে একটা কথা বলতে পারি? রাগ করবে না তো প্লিজ? কারণ এখন তো আমার সব কথা তোমাকেই বলতে হবে...!!"
— তাতে আবার অনুমতি নেওয়ার কী আছে রিশাদ? তুমি জিজ্ঞেস করো যা মন চায়, আমি মোটেও রাগ করব না।"
— তা... তোমার এই সুন্দর চুলগুলো কি একটু ছুঁয়ে দিতে পারি, আমার শুকনোগাথাঁ?"
— এটার জন্য পারমিশন নিতে হবে না। তুমি অবশ্যই পারো। যেহেতু আমি তোমাকে মনে-প্রাণে পছন্দ করি,
— সো ইটস ওকে। আচ্ছা, একটা কথা বলো তো, তুমি আমাকে সবসময় 'শুকনোগাথাঁ' বলো কেন?"
— এটা আমি তোমাকে এইজন্যই বলি নূর, কারণ তুমি হলে আমার জীবনের সেই প্রথম ও একমাত্র প্রেম, যাকে ভুলে যাওয়া আমার পক্ষে কোনোদিনই পসিবল না। হাজার চেষ্টা আর নিজের রক্ত দেওয়ার পর তোমাকে পেয়েছি, এত সহজে কি ভোলা যায়? তাই ভালোবেসে তোমাকে আমার আকাশের শুকতারা বলি। কেন, তোমার কি শুনতে খারাপ লাগে?"
— কেন খারাপ লাগবে? তুমি ভালোবেসে বলছ, আর আমি মাইন্ড করব? কখনোই না।"
ঠিক সেই মুহূর্তে পার্কের সামনের রাস্তা দিয়ে একটা আইসক্রিমের ভ্যান টুংটুং শব্দ করে যাচ্ছিল। সেটা দেখা মাত্রই নূরের ভেতরের ছোট বাচ্চাটা যেন জেগে উঠল! সে রিশাদের হাত ধরে একটু আহ্লাদী সুরে আবদার করে বলল,
"রিশাদ!
— আমি আইসক্রিম খাবো। প্লিজ এনে দাও না... প্লিজ! ওই দেখো আইসক্রিম ওয়ালা যাচ্ছে, জলদি এনে দাও, প্লিজ প্লিজ প্লিজ!"
নূরের এই কিউট আবদার দেখে রিশাদ না হেসে পারল না। সে বলল,
"আচ্ছা বাবা,
— তুমি এখানে বোসো, আমি এখনই নিয়ে আসছি।" এই বলে রিশাদ আইসক্রিম আনতে ভ্যানের দিকে এগিয়ে গেল।
নূর বেঞ্চে একা বসে বসে ফোনে স্ক্রোল করছিল। সিআইডি হেডকোয়ার্টারের আজকের শিফটের কাজ শেষ করেই সে রিশাদের সাথে একটু সময় কাটাতে এসেছে। রিশাদকে এখন তার সময় দেওয়া উচিত, কারণ ছেলেটা তার জন্য নিজের জীবন বাজি রেখেছিল।
কিন্তু নূরের কপালে এই হাসিখুশি শান্তি বোধহয় বেশি সময় স্থায়ী হওয়ার নয়! সে হঠাৎ ফোনের ওপর থেকে চোখ তুলে পার্কের মেইন গেটের দিকে তাকাতেই তার গায়ের রক্ত হিম হয়ে গেল। সে দেখল—
পার্কের গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকছে খোদ সেই ভয়ঙ্কর মাফিয়া বাঁধন মির্জা! তার দুপাশে জোসেফ-অ্যালবার্ট আর পেছনে সেই স্টাইলিশ মেয়েটা নীলিমা।
বাঁধনকে এই পার্কে দেখে নূরের মুখ থেকে সব হাসি উধাও হয়ে গেল। সে মনে মনে চরম বিরক্ত হয়ে বলল,
— এই মাথামোটা মাফিয়াটা এখানে কী করছে? ও কি আমাকে ফলো করছে নাকি? যেখানেই যাই, সেখানেই এই আপদটাকে কেন দেখতে পাই? কিছুই তো বুঝতে পারছি না! ধুর, ও যদি কোনো সাধারণ অপরাধী হতো আর ওকে অ্যারেস্ট করার ক্ষমতা যদি আমার থাকত, তবে ঠিকই ওকে লকআপে পুরে থেরাপি দিতাম! কিন্তু এই ডনের গায়ে হাত দেওয়ার অধিকার তো কারো নেই।"
নূর আড়াল থেকে দেখল, বাঁধন পার্কের একটু দূরের একটা চেরি গাছের নিচের চেয়ারে গিয়ে বসল এবং ল্যাপটপে তার ডার্ক ওয়ার্ল্ডের কোনো কাজ করতে লাগল। আর তার পাশে থাকা নীলিমাটা কিছুক্ষণ পরপরই বাঁধনের কখনো হাত ধরছে, কখনো কাঁধে মাথা রাখছে, আবার কখনো তাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করছে!
এই দৃশ্য দেখে নূরের মনের ভেতর কেমন যেন একটা অদ্ভুত ও অস্বস্তিকর কৌতুহল জাগল। সে একা একাই বিড়বিড় করতে লাগল,
"হুহ!
— মেয়েটা ওর গার্লফ্রেন্ড নাকি? কিন্তু আমি তো শুনেছি এই মাফিয়া নাকি চরম রাগী আর কোনো মেয়ের দিকে চোখ তুলেও তাকায় না। তাহলে এই চিপকু গার্লফ্রেন্ড আসলো কোত্থেকে? ধুর! এই খামখেয়ালি মাফিয়াকে নিয়ে আমার মাথা ঘামানোর কী দরকার? আমি তো ওকে চিনিই না, ও যা ইচ্ছা করুক গে!"
নিজের মনের ভেতর এক অজানা অস্থিরতা আর আবোল-তাবোল প্যাচাল পাড়ছিল নূর। সে একজন সিআইডি অফিসার হওয়া সত্ত্বেও কেন জানি এই মাফিয়াকে দেখলেই তার বুকের ভেতর এক অদ্ভুত অনুভূতি সজাগ হয়ে ওঠে, যা সে নিজেও ব্যাখ্যা করতে পারে না।
কিছুক্ষণের মধ্যেই রিশাদ দুটো আইসক্রিম হাতে নিয়ে হাসিমুখে ফিরে এলো এবং বলল,
— এই নাও তোমার প্রিয় আইসক্রিম। আর তুমি অমন গম্ভীর হয়ে কার দিকে তাকিয়ে আছ নূর? কোনো প্রবলেম?"
— কই না তো, কিছুই হয়নি।
দাও আইসক্রিমটা দাও, খাই।"
নূর আইসক্রিমে কামড় দিতে দিতে আড়চোখে চেয়ে দেখল, সেই শয়তান মাফিয়া বাঁধন হঠাৎ করে ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে সরাসরি নূরের দিকেই এক নজর তাকাল! বাঁধনের সেই গভীর ও রহস্যময় চাউনি দেখে নূরের আইসক্রিম যেন গলায় আটকে যাওয়ার জোগাড় হলো। সে চরম অস্বস্তি ও বিরক্তি নিয়ে রিশাদকে বলল,
"রিশাদ,
— এখন উঠি চলো। আমার অফিসে হুট করে একটা জরুরি কাজ মনে পড়েছে, এখনই যেতে হবে।"
রিশাদ একটু দমে গিয়ে বলল,
"এখনই যেতে হবে নূর?
আরেকটু সময় থাকলে হতো না?"
"না রিশাদ,
— সিআইডির কাজ তো বোঝোই, যেকোনো সময় ইমার্জেন্সি কল আসতে পারে। পরে না হয় আবার কথা হবে। রাতে তো মেসেজে চ্যাট হবেই আমাদের।"
"ওকে বাবা,
— চলো তোমাকে একটু পার্কের গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসি।"
নূর আর এক মুহূর্তও সেই পার্কের দিকে না তাকিয়ে, বাঁধনের দিকে শেষবারের মতো এক নজর কড়া চাউনি দিয়ে নিজের স্কুটি স্টার্ট দিল। সে রিশাদকে বিদায় জানিয়ে ঝড়ের গতিতে পার্কের সীমানা পেরিয়ে চলে গেল। কিন্তু সে জানত না, মাফিয়া বাঁধনের তীক্ষ্ণ নজর তখনো দূর থেকে কেবল নূরের চলে যাওয়ার পথের দিকেই নিবদ্ধ ছিল!