কলমে: আহমেদ বাঁধন
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)
[২৫তম খণ্ড]
সময়ের সাথে সাথে মেয়েটা কে হারিয়ে ফেলল নূর। আবার এই মুহূর্তে নুর একা বৃষ্টির পিছনে গিয়েও কোন লাভ নেই ওর দ্বারা এতগুলো ছেলের থেকে মেয়েটাকে একা বাঁচানো সম্ভব না। অস্থির নুর কি করবে বুঝতে না পেরে ওই পিছনে ওই ছেলেগুলোর। নূর আরেকটু সামনে গিয়ে দেখল একটু দুর বজায় রেখে। ছেলেগুলো হল একটু নেশা টাইপের হয়তোবা মদ বা অন্য কিছু খেয়েছি। তাই নেশায় আছে। অন্তত কোথায় নিয়ে যায় বৃষ্টিকে সেই লোকেশন দেখে না হয় নুর পুনরায় ফিরে এসে সবাইকে জানাবে সেটা। ভাবনা অনুযায়ী নূর তাই করল। তাদের অফিসার থেকে বেশ কয়েক অনেকটাই দূরে বৃষ্টি মেয়েটা কে সেই নেশাগ্রস্ত ছেলেরা নিয়ে যায়। পাহাড়ের শীর্ষে চুরাই এনে রাখল মেয়েটিকে হাত পা মুখ বাধা অবস্থায়। তার কিছুটা সামনেই আগুন জ্বালিয়ে হইচই এর পিছন ছুটে ছুটে অন্ধকারের মাঝে নিজেদের লোকদের অফিসারদের থেকে অনেক দূরে এবার লোকেশন হারিয়ে ফেলল নূর। চট্টগ্রামের এক অচেনা এলাকা পাহাড়ি নূর সেখানে নতুন কোন দিকে মূল রাস্তা আর কোন দিকে বিপদ সংকেত তাও জানা নেই নূরের। আতঙ্কিত নূর বৃষ্টিকে খুঁজিতে এসে নিজের জীবনও বিপদে ফেলল। পাহাড়ের চূড়ান্ত উড়তে উড়তে অসংখ্য বা উঁচু-নিচু গর্তে হোঁচট খেয়ে পড়ায় তার শরীরে কিছুটা কেটে গেল তা জামা হালকা ছিঁড়ে গেল হালকা রক্ত বেরোচ্ছে তাতে কোন তার মাথাব্যথা নেই মেয়েটার জন্য। মাটিতে ময়লা করে ফেললেও তারপরও হাল ছাড়েনি নূর চুপচাপ ছেলেগুলোর পিছনে ছুটে ছুটে। নির্দিষ্ট গন্তব্য পৌঁছানো।পাহাড়ি গাছের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে দেখল প্রায় ৮ থেকে ১০ জন লোক আছে নেশাখোর অর্ধেক। তারা বসে আছে একটা আগুনের ঘিরে। এদের বসবাস মূলত পাহাড়ের চূড়ায় হয়ে থাকে নূর আশেপাশে গা ছমছম করা পরিবেশ দেখল পাহাড়ি গাছে ডাল পালা কেটে বসার মতন একটা চুন বেঁধে রেখেছে। ওর পাশেই একটা বাঁশের কচি দেখা গেল আর মাঝে খালি জায়গাতে ছেলেগুলো গোল হয়ে বসে মধ্যম স্থান সিগারেট জ্বালিয়ে আগুন আবার কিছু জ্বালিয়ে হাতের তালুতে কিছু একটা ঘষে ঘষে বারবার সেটা মুখে দিয়ে নেশা করছে আবার কিছু জন মদ ও খাচ্ছে । নূর মূলত সবই জানে এই এটি কি কিন্তু তার সাবধান করা বা কোন কিছু করার কোনই সাধ্য নেই কারণ অনেক ছেলেপেলে এত জনের মাঝে সে একা
তরুণ পাহাড়ি ছেলেদের বংশজাত কিছুই হয় না তারা শুধু নেশাখোর তারা বেনামি পাহাড়ি জংলি বলে মানুষের কাছে পরিচিত এদের দিয়ে অন্ধকার জগতে সকল কাজ করায় দুনিয়ার ক্ষমতাশীল মানুষরা। চুরি ছিনতাই ডাকাতি ধর্ষণ অপহরণ নারী পাচার অস্ত্রপাচার কিডন্যাপিং জংলি আরো অন্যান্য কত কিছু দুনিয়ার সকল অরাজকতা কাজ করানো হয় এসব পাহাড়ি নেশাখোর ছেলেপেলে দিয়ে। এমন ভয়ংকর জঙ্গিদের হাতে কোন ছেলে মানুষ পরলে তার জীবন নিয়ে ফিরতে পারে না সেখানে নূর একা মেয়ে হয়ে এসে আর একজন মেয়েকে বাঁচাতে। নুরের হাতে একটা ফোন পর্যন্ত নেই কারণ তার ফোনটা রাস্তার মাঝে হারিয়ে ফেলেছে সে। কিছু সময় পার হতে পরিস্থিতি অল্প শিক্ষিত হলো। ছেলেগুলো নেশার মেতে থাকতে দেখে নূর গাছের আড়াল থেকে উঁকি মেরে দেখল বৃষ্টিকে। নুর থেকে কিছুটা দূরে বৃষ্টিকে ছেলেগুলো ওর হাত পা মুখ বাধা অবস্থায় ফেলে রেখেছে মাটিতে। হয়তো নেশা করার পরপরই ঝাঁপিয়ে পড়া চিন্তা ভাবনা। নূর এখন ভাবতাছে আসল কি করতে আর হলো টা কি পাহাড়িয়া এলাকায়। তারা আসলো টেররিস্টদের খুঁজতে কিন্তু নিজেই ফেঁসে গেল বাচ্চাগুলো কিভাবে বাঁচাবে সেটাও বড় কথা কিন্তু সেটা তো আর হলো না ওর তো নিজেই হারিয়ে গেল নিজের মাথায় নিজেই বাড়ি দিল। নুর আর কিছুই ভাবলো না নিজের। দলের মেয়েটাকে বাঁচাতে হামাগুড়ি দিয়ে বসলো বৃষ্টির পিছনে বৃষ্টি যখন নিজের হাতের পায়ের বাঁধন ছাড়ানোর চেষ্টায় ছিল। আর কান্না করছিল চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে। মাটিতে পড়ে ছটফট করার সময় হঠাৎ পায়ের কাছে যখন কারোর উপস্থিতি বুঝতে পারল তখন আতঙ্কিত বৃষ্টি লাথি মারলো নূরকে। আঘাত পেয়ে ছিটকে পড়ার মতো উল্টে পড়ল নূর। ছোঁয়ার চেষ্টা করছে সেজন্য ঘোঙ্গা নিয়ে অবস্থায় মাথা তুলে পায়ে কাজটা তাকাতেই দেখল নূরকে পুনরায় দৌড়ে গাছের পিছনে লুকাতে নূরকে দেখে আতঙ্কিত বৃষ্টি স্বস্তি হলো। শেষ ভরসার আশ্রয় খুঁজে নূরকে উদ্দেশ্য করে গাছের পিছিয়ে তাকিয়ে আরো জোরে জোরে কান্নায় লাগাতে ওকে বাঁচাতে। অথচ নুর বৃষ্টিকে বাঁচাতে এসে ও কেন পুনরায় পালিয়ে গেল সেটা বুঝতে। বৃষ্টি আরো কয়েক সেকেন্ড সময় লাগলো। যখন দেখল একটা নেশাখোর ছেলে এই দিকটায় এগিয়ে আসছে বৃষ্টি কি উদ্দেশ্যে। মূলত বৃষ্টির তখন নূরকে দেখে হঠাৎ চিৎকারের শব্দে এই ছেলেটিকে পাঠিয়েছে দেখতে বাকি ছেলেগুলো কি হয়েছে তা। পাহাড়ি এলাকায় বন প্রাণীর বেশি থাকে এরা একা মানুষ পেলে আক্রমণ করে বসে সেজন্য চিৎকারে দেখতে আসলো কোন বন প্রাণী আক্রমণ করেছে কিনা। কিন্তু আশেপাশে তেমন কিছু দেখতে না পেরে নূরের সামনে ছেলেটি বসতে বসতে ওর গাল।
আঁকড়ে ধরে ঝরঝরে চট্টগ্রামের ভাষায় নেশাগ্রস্ত গলায় বলল,,,
,,শালী বেশি চিল্লাইস না, নিজের শক্তিকে ধরে রাখ তোকে আমাদের দরকার বুঝিস নাই, তাই কান্নাকাটি বাদ দিয়ে আমাদের সাথে মজা ফুর্তি কর,,, এটাই তোর জন্য ভালো,,,
কথাগুলো বলি আবারো ছেলেটি হেলদ দুলতে হাঁটলো বাকি ছেলেদের উদ্দেশ্যে। হয়তো নেশা নিয়ে ফিরবে আবার। ছেলেটিকে চলে যেতে দেখে নূর পুনরায় গাছে পেছন হতে বের হল এবার নূরকে দেখে বৃষ্টি তেমন একটা হইচই করল না। বরং চুপ রইলো তাড়াহুড়োর নুর দ্রুত হাতে বৃষ্টির পিঠের হাতের বাধন খুলে দিতে বৃষ্টি উঠে বসল। নুর ওর গায়ে বাধন খুলতে খুলতে বৃষ্টি নিজের হাতের বাঁধন খুলে আতঙ্কিত গলায় খানিকটা উচুসরে নূরকে বলল,,,
,,তুমি এখানে কিভাবে আসলে নূর আর আমার সন্ধানী বা কিভাবে পেলে,,
বৃষ্টির উঁচু গলায় আতঙ্কিত হলো নূর তাড়াহুড়োর। তোর সোনার বৃষ্টির মুখ চেপে নূর সতর্ক করতে করতে ফিসফিস করে তার গলার কানের কাছে গিয়ে বলতে লাগলো,,,,
,,,আস্তে কথা বলো বৃষ্টি। নয়তো ধরা পড়ে যাব আমরা,,
নূরের সতর্কতা ও তেমন কাজ হলো না বৃষ্টি একটা বোকামি করে ফেলল ততক্ষণে প্রয়োজনীয় ছেলেটি ওর পিছন ঘুরে তাকালো একটা মেয়ের কন্ঠ শুনে। দেখলেও ওদের ধরে আনা মেয়েটিকে অন্য নতুন আরেকটা মেয়ে মুখ চেপে ধরে আছে ছাড়া পাওয়ার অবস্থায়। নতুন মেয়ে নূরকে দেখেই নেশাখোর ছেলেটির চিৎকার করে উঠে বাকিদের উদ্দেশ্যে কোন তুলনায় চট্টগ্রামে ভাষায় বলে উঠলো,,,,
,,,কিরে ভাই তোরা কই সবাই,,, দেখ এখানে আরো একটা নতুন ছেমরি আইছে,, এই মাইয়াটা তো হাতছাড়া করা যায় না,, মনে হয় পুরান্ডারে নিতে আইছে,,তাড়াতাড়ি ধর দুই ছেমরি রে,,,,