ফন্ট সাইজ:
থিম:
স্রোতের টানে প্রেম

৯ম পর্ব

লেখক: Jerin Sultana

স্রোতের টানে প্রেম।

লেখিকা,,,,,,,
জেরিন সুলতানা 
০৯
ছোট স্রোত তার ছোট ছোট পা দিয়ে পুরো শেখ বাড়ি হেঁটে দেখছিল একটু আগে মালিথা শেখ স্রোত কে গোসল করিয়ে একটা সুন্দর সাদা রংয়ের ফ্রক পরিয়ে দিয়েছে সাদা ফ্রক টাতে স্রোত কে পুরো প্রিন্সেস এর মতো লাগছে। হাঁটতে হাঁটতে স্রোত একটা রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো রুমটায় দরজা খোলা স্রোত দরজা খোলা পেয়ে রুমের ভিতরে ঢুকলো রুমে কাউকে দেখতে না পেয়ে স্রোত রুমের বারান্দায় গেলো স্রোত সেখানে দেখতে পেলো একটা  ছেলে  সিঙ্গেল সোফায় বসে হাতে গিটার নিয়ে বাজাচ্ছে স্রোত এর কাছে ছেলেটার গিটার এর সুর টা অনেক ভালো লাগলো তাই স্রোত কৌতুহল বসতো আরেকটু ছেলেটার কাছে এগিয়ে গিয়ে ছেলেটার পাশে দাঁড়াল পাশে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে প্রেম পাশে তাকাল তাকিয়ে দেখলো স্রোত ওর দিকেই ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। প্রেম এর কাছে এই ছোট মেয়েটাকে অনেক কিউট লাগলো তাই স্রোত কে জিজ্ঞেস করলো _তোমার নাম কি ?
ছোট স্রোত কিছু বুঝে না তবে মালিথা শেখ ওকে স্রোত বলে ডেকেছিল ওর মনে আছে তাই ও বললো
_সোত
স্রোত এর কথা শুনে প্রেম হেসে উঠলো 
_আরে বোকা মেয়ে ওটা সোত না স্রোত তবে তোমাকে দেখতে পুরো রুপকথার রাজ্যের ছোট পরিদের মতো লাগছে তোমার এই কিউট ফেস আর লম্বা চুল হালকা বাদামি চোখের মনি সাথে গালের ওই টোল সাথে তো পড়েছ প্রিন্সেস দের মতো হোয়াইট গাউন । তাই আমি তোমাকে রুপকথা বলে ডাকবো তোমাকে ওই নামে বেশি মানায়।
প্রেমের কথা শুনে স্রোত হেসে উঠলো ছোট স্রোত প্রেম কে অবুঝ গলায় বলে উঠলো 
_তুমি কি গান খাইছোস
_হুম তুমি শুনবে 
_হুম খাও
স্রোতের কথা শুনে প্রেম হেসে তার গিটার এ সুর তুলতে লাগলো । তারপর প্রেম একটা গান গাইলো স্রোত খুব মনোযোগ দিয়ে প্রেম এর গাওয়া গানটা শুনলো স্রোত এর কাছে প্রেম এর গাওয়া গান টা অনেক ভালো লাগলো। তাই গান শেষ হতেই স্রোত হাত তালি দিতে লাগলো।
_তুমি অনেক সুন্দর গান গাও 
_thank you
৬ বছরের ছোট স্রোত আর ১৫ বছরের কিশোর প্রেমের মাঝে ভালোই একটা বন্ডিং তৈরি হলো প্রেম প্রাই স্রোত কে গান গেয়ে শুনাতো আর ছোট স্রোত হাসি মুখে সে গান শুনতো। এই রকম ভাবে ১ টা বছর কেটে গেলো স্রোত শেখ বাড়িতে এসেছে তারপর প্রেম‌ এর যখন ১৬ বছর হলো তখনই ফাইজান শেখ আর মালিথা শেখ জোর করতে লাগলো প্রেম কে বিদেশে যাওয়ার জন্য তবে প্রেম তো যেতে চাইছিল না কারন স্রোত এর সাথে এই একটা বছরে প্রেম অনেকটা মিশে গেছে তাই স্রোত কে ছেড়ে আর নিজের গায়ক হোয়ার স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে প্রেম কিছুতে দেশ ছাড়তে চাইছিল না। তবে শেষে ফাইজান শেখ আর মালিথা শেখ এর জোর এর কাছে প্রেম কে হার মানতে হলো প্রেম কে বিদেশে যাওয়ার জন্য রাজি হতে হলো। প্রেম যে দিন বিদেশে চলে যাবে বলে রেডি হয়ে ব্যাগ পত্র নিয়ে নিচে নামলো তখন ছোট স্রোত প্রেমের হাত ধরে জিজ্ঞেস করেছিল 
_তুমি কোথায় যাচ্ছ প্রেম ভাইয়া 
বিপরিতে প্রেম শুধু একটা কথাই বলেছিল
_হয়তো অনেক বছর পরে আবার আমাদের দেখা হবে নয়তো আর কখনো আমাদের দেখা হবে না রুপকথা। 
এই কথা বলে প্রেম বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেছিল বিদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্যে তবে প্রেম এমন ভারি কথা ৭ বছরের স্রোত এর মাথায় ঢুকলো না ।
বিদেশ যাওয়ার পরে প্রেম ইচ্ছে করে স্রোত এর সাথে কথা বলতো না বা স্রোত কে দেখার ও চেষ্টা করতো না এমন কি বাড়ির মানুষের সাথে ও প্রেম তেমন কথা বলতো না জিসান স্রোত এর সাথে কথা বললে প্রেম স্রোত এর খবরাখবর পেতো জিসান এর থেকে প্রেম অবশ্য সরাসরি কখনো স্রোতের কথা জিজ্ঞেস করত না তবে প্রেয় ছিল অনেক ধুর্ত এনিয়ে বিনিয়ে ঠিক ই জিসান এর থেকে স্রোত এর খবর নিয়ে নিতো বাচাল জিসান সেটা কখনো ধরতেও পারনা ।
অতিতের এই সব কথা কথা ভাবতে ভাবতে প্রেম সোফায় বসে নিজের গিটারে সুর তুলছিল ।
_আচ্ছা রুপকথার কি আমার কথা মনে পড়ে ওর ছোট বেলায় আমার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো ওর মনে আছে । ইস আমি বোকা কি ভাবছি ও তখন মাত্র ৭ বছরের ছিল ওর কি এই সব কিছু মনে থাকবে ।  তবে বলতে হবে রুপকথা অনেক বড় হয়ে গেছে আমার আন্দাজের থেকেও বড় ইসস ওর ওই হাসি আমি আজও ভুলতে পারি নাই আজকে আবার সেই হাসি কত বছর পর দেখলাম । 
এই সব কথা বাদ দিয়ে  প্রেম সোফা থেকে উঠে দাড়ালো নিজের গিটার টা জায়গায় রেখে ওয়াশ রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল।
___________________________
শেখ বাড়ির সকাল বেলা।
সানা আর স্রোত রেডি হয়ে নিচে নেমে এলো আজকে তাদের কলেজে ভর্তি করাতে নিয়ে যাবেন ফাইজান শেখ। নিচে নেমে দেখলো সবাই অলরেডি ব্রেকফাস্ট করতে বসে পড়েছে তাই তারাও দৌড়ে এসেছে নাস্তা করতে। ওরা দুইজন বসতেই মালিথা শেখ ওদের নাস্তা দিল । নাস্তা শেষ করে ফাইজান শেখ প্রিতম কে জয়নাল শেখ এর সাথে অফিসে পাঠিয়ে দিয়ে নিজে সানা আর স্রোত কে নিয়ে গাড়ি করে  বেরিয়ে পড়ল কলেজের উদ্দেশ্য। 
ফাইজান শেখ এর গাড়িটা এসে থামল নোয়াখালীর একটা নামকরা কলেজ SA college 
গাড়ি থেকে নেমে ফাইজান শেখ স্রোত আর সানা কে নিয়ে কলেজের ভিতরে প্রবেশ করলেন। ভিতরে ঢুকতেই তাদের দেখা হলো রোজে আর তার বাবা ইসতিয়াক আহমদ এর সাথে ফাইজান শেখ কে দেখা মাত্র ইসতিয়াক আহমদ এগিয়ে এসে তাকে সালাম দিলেন ফাইজান শেখ ও সালামের উত্তর দিলেন।
ইসতিয়াক আহমদ ফাইজান শেখ কে উদ্দেশ্য করে বলেন।
_কেমন আছেন স্যার 
_এই তো ভালো তুমি 
_জ্বি স্যার ভালো 
আপনি হটাৎ এখানে 
_ওহ আমি এখানে সানা আর স্রোত আম্মুকে ভর্তি করাতে এসেছি কিন্তু তুমি এখানে 
_আসলে আমি ও আমার মেয়ে রোজে কে ভর্তি করাতে এসেছি ।
ফাইজান শেখ একবার রোজের দিকে তাকান রোজে ওনাকে সালাম দেয় ওনিও সালামের উত্তর করেন।
আসলে ইসতিয়াক আহমদ হলেন ফাইজান শেখ এর অফিসের একজন উচ্চ পদের ম্যানাজার তিনি তার অফিসে চাকরি করেন তাই ইসতিয়াক আহমদ নিজের বস  কে দেখে এতো সম্মান এর সাথে কথা বলছে।
তারপর সবাই ভিতরে চলে গেলেন ভিতরে দুই জন শিক্ষক first year এর admissions করাচ্ছেন একজন একটু মাঝ বয়সি ভদ্র লোক আরেক জন যুবক এই ২৭ কি ২৮ বছর বয়সের হবে।
যুবকটির কাছে যান ফাইজান শেখ তারপর হাত বাড়িয়ে দেন
_হ্যালো আমি ফাইজান শেখ 
যুবকটি এতক্ষন নিচের দিকে তাকিয়ে কাজ করছিল কারো আওয়াজ পেয়ে উপরে তাকাতেই ফাইজান শেখ কে দেখে উঠে দাঁড়িয়ে নিজের হাত বাড়িয়ে ফাইজান শেখ এর বাড়ানো হাত টা ধরে হ্যান্ডশেক করে।
_জ্বী আমি সামির মির্জা শেখওয়াত বসুন 
ফাইজান শেখ ও চেয়ার টেনে বসে পড়ে ।
এই দিকে সানা তো প্রথম দেখায় সামির উপর টাশকি খেয়ে বসে আছে । এতো হ্যান্ডসাম একটা ছেলে দেখতে উজ্জ্বল শ্যামলা গায়ের রং উচ্চতা ও ৫:১০ হবে ।
পুরাই বয়ফ্রেন্ড মেটেরিয়াল সানার জন্য পারফেক্ট।
সামির হাসি মুখে ফাইজান শেখ কে বলে
_জ্বী আপনি কাকে admissions করাতে চান তার 
কাগজ পত্র গুলো দিন 
আসলে আমরা তিন জন কে এখানে ভর্তি করাতে এসেছি এই কথা বলে ফাইজান শেখ সবার ভর্তির জন্য যা কাগজ লাগে সব দেন ।
সেই অনুযায়ী সামির সবার admissions করে ফেলে এবার বাংলা সবার নাম খাতায় রেজেস্টি করা তাই সামির একে সবাইকে সামনে এসে নাম বলতে বললো
সানা এসে ওর পুরো নাম বললে সামির সেটা খাতায় তুলে তারপর রোজের টা তৃতীয় বারে স্রোত সামনে এসে ওর নাম বলে
_জ্বী আমি স্রোতস্বীনি রহমান স্রোত
সামির এতক্ষন সব কাজ নিচের দিকে তাকিয়ে করছিল তবে এবার কারো মিষ্টি কন্ঠের কথা শুনে সামির মাথা তুলে তাকাল আর তাকাতেই সামির এর চোখ আটকে গেল স্রোতের উপর স্রোত একটা হালকা মিষ্টি হাসি দিয়ে সামির এর দিকেই তাকিয়ে আছে।
সামির এর মনে হলো ও যেনো ওর হার্ড বিট হারালো।
স্রোতয়ের ওই টোল পড়া হাসি সামির কে ঘায়েল করে ফেলছে। সামির দ্রুত চোখ নামিয়ে নিল তার হাত কাঁপছে সে কাঁপা কাঁপা হাতে স্রোত এর পুরো নাম খাতায় লিখলো।
এই দিকে সানা তো মন্ত্রমুগ্ধের মতো সামির এর দিকে তাকিয়ে আছে ওর আর দুনিয়ার হুস নেয় তাই রোজে সানা কে একটা গুঁতো দিল।
_ কিরে তুই এই রকম মন্ত্রমুগ্ধের মতো স্যারের দিকে তাকিয়ে আছিস কেনো ক্রাসটাস খেলি নাকি ।
রোজের গুঁতো খেয়ে সানা নিজের হুসে এলো
_ আরে না না 
সানার কথা শুনে রোজে অতি উতসুক হয়ে বললো 
_যা বলিস স্যার টা কিন্তু হেবি তাই না 
সানা কিছু বললো না শুধু মুখ ভেংচালো 
ভর্তির সব কাজ শেষ করে ফাইজান শেখ সামির এর থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে এলো সবাইকে নিয়ে তারপর ইসতিয়াক আহমদ কে বিদায় জানিয়ে সানা আর স্রোত কে নিয়ে বাড়ির পথে গাড়ি নিয়ে পাড়ি দিল ইসতিয়াক আহমদ ও মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন ।
____________________________
রিদিতা বাড়িতে বসে বসে বোর হচ্ছিল তাই নিক কে কল করে বললো রোহান কে নিয়ে প্রেম দের ভিলায় আসতে সে রিম কে নিয়ে আসছে কল টা কেটে রিম কে কল করে বেরতে  বলে রিদিতা ও তৈরি হয়ে ওর বাইকটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।
পথে রিম এর ফুফির বাড়ির সামনে দাঁড়াল রিম ও বাড়ি থেকে নিজের বাইক টা নিয়ে বেরোলো তারপর দুই বান্ধবী মিলে রওনা হলো প্রেমদের ভিলার উদ্দেশ্য ভিলায় পৌঁছে দেখে নিক আর রোহান অলরেডি ওখানে পৌঁছে গেছে রিম আর রিদিতা গিয়ে সোফায় বসে পড়ে 
_এই জিমি যাতো আমার জন্য এক গ্লাস জুস বানিয়ে আন রিদিতার কথা শুনে জিসান একবার তেড়া চোখে রিদিতার দিকে তাকায়।
_ওমাই গোট মহারানী ভিক্টোরিয়ার পদার্পণ হয়েছে আমাদের ভিলায় কিরে নিক তুই কি ঘোটা করে welcome করতে ভুলে গেছিস।
জিসান এর কথা শুনে নিক নাক শিটকে বলে উঠে আমার বালের মহারানী।
এদের এমন ফাজলামি দেখে রিদিতা বিরক্ত হয়ে দুই হাত একসাথে করে মাস চাওয়ার মতো করে বলে উঠে।
_আমার ভুল হয়ে গেছে জনাব আমি আপনার কাছে জুস চেয়েছি আমি ও না আরেক গাঁদা যে আপনার মতো গরুর কাছে জুস চাইলাম।
_রিদিতার কথা শুনে জিসান তরাক করে রিদিতার দিকে তাকাল 
_এই তুই কি আমাকে ইনডাইরেকলি গরু বললি
রিদিতা হাহ শব্দ করে গাল বেঁকিয়ে বলে উঠলো।
_নানা সোনা ইনডাইরেকলি না তোমাকে আমি ডাইরেকলি গরু বলেছি ।
রিদিতার কথা শুনে সোফার হাতল ধরে লটকে থাকা জিসান তরাক করে উঠে দাড়িয়ে রিদিতা কে মারতে গেলে নিক জিসান কে জাপ্টে ধরে।
_থাম ভাই দয়া করে ঝগড়া করে এখন আমাদের মাথা খাসনা তুই এখন থেমে যা আমি কথা দিচ্ছি তোকে পুরো নতুন মডেলের একটা ভিডিও গেম সেট গিপ্ট করবো আমি।
নিক এর কথা শুনে জিসান থেমে গেল 
_সত্যি তো 
_হ্যা বাপ আমার সত্যি 
_ওকে 
জিসান আবার নিজের জায়গায় গিয়ে বসে পড়ল আসলে জিসান ভিডিও গেম এর প্রতি একটু বেশি obsessed তাই গেমের কথা শুনে জিসান থেমে গেছে।
তারপর সব বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিতে লাগলো তবে আমাদের প্রেম সাহেব তিনি বরাবরের মতো কম কথা বলেন নিজের কাজে ব্যাস্ত মানে ল্যাপটপে
চলবে,,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন