#আমি_সেই_নীতু
#আনাবিয়া_বৃষ্টি
#পর্ব_১
[#বিঃদ্রঃ এটি একটি ( সাসপেন্স, থ্রিলার ,রোমান্টিক,গ্রামীণ প্লট ,কাজিন রিলেটেট গল্প) । এটি কাল্পনিক গল্প। বাস্তবের সাথে কেনো মিল নেই ।প্রথম দিক দিয়ে কিছু বুঝবেন না , প্রথম কিছু পর্ব পরেই গল্পটাকে খারাপ ভাববেন না,ধীরে ধীরে সব বুঝে যাবেন আশা করি ভালো লাগবে ]
দীদুননননননন , ওওওও দীদুননননননন
দরজা খুলে ঘরে ঢুকলো ফাইজ ,,
ফাইজ : দীদুন তুমি না বললে আমাদের গল্প বলবে দেখো সবাই চলে এসেছি ....
দাদীমা একটি বই পড়ছিলেন বারান্দায় বসে ,, সবার আসার শব্দ শুনে বারান্দা থেকে বেরিয়ে এলো দাদিমা
দাদীমা: আরে আমার দাদুভাই দেখি , আসো আসো,, তা একা এসেছো ওই বিচ্ছু বাহিনীদের নিয়ে আসো নি ?
ফাইজ : দাদুমনি তুমি না বললে আমাদের গল্প শোনাবে তাইই তো সবাই চলে এসেছি .. এবার গল্প বলো...
দাদীমা : হে হে ভুলেই তো গিয়েছি,, তা আর সবাই কোথায় ? আনা, ফাইজা , আমান ,আরহান, আরহাম....
মাহীর : দাদুমণি সবাই আসছে ,
মাহীর এর কথার মাঝেই সবাই হুর হুড়িয়ে ঘরে প্রবেশ করলো
দাদীমা: আরে মাহীর ! ওই তো সবাই চলে এসেছে, সবার বুঝি আজ গল্প শুনতেই চলে এসেছো?
সবাই এক সাথে বলে উঠলো হ্যাঁ (অনেক জোরে বলে উঠলো দাদিমা কানে হাত দিয়ে ফেলে বিচ্ছুবাহিনীদের শব্দে )
দাদীমা: আচ্ছা সবাই বসো দেখি , আমি বইটি নিয়ে আসি ,,অনেক খুজে অবশেষ এ বইটি পেলো , বইটিতে ধুলো বালি পরে গিয়ে ছিল , বইটি হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ দেখে, কিছু একটা ভেবে বইটি নিয়ে আসে সবার কাছে, তা গল্প তো শুনতে আসলে পুরোটা শুনবে তো?
সবাই এক সাথে বলে উঠে হ্যাঁ শুনবো ...
দাদীমা: মেঝেতে বসে বইটি আবার হাতে নিয়ে দেখে বলতে শুরু করে ( দীর্ঘ এক নিশ্বাস নিয়ে )
( আমি সেই নীতু )
সময়টি তখন ১৯৯০ সাল নীতুর বয়স তখন ১৫ ।বাবা নেই শুনেছি ১৯৭৭সালে নীতুর জন্মের ২ বছর পর বাবা মারা যান কোনো এক জলদস্যুর হাতে , বাবার নাম আব্দুস আজিজ তালুকদার। মা লুৎফুন্নেছা (বেচে আছে) নীতুর বাবা-চাচারা এক বাড়িতে থাকতেন, বাবা নেই তবে সবাই আছে। বড় চাচা( আব্দুস ফরাজি তালুকদার) মেজো চাচা (আব্দুস সামাদ তালুকদার) নীতুর এক ফুপু আছে সে শশুর বাড়ি থাকে ঢাকাতে, নাম (ফারজানা বেগম) বছরে একবার নীতুদের গ্রামে আসে । তখন বাড়ি মেতে থাকে , শহর থেকে কেউ গ্রামে আসলে সবাই তাদের ঘিরে ধরে ,, যেমন নীতুর ফুপু আসলে সবাই তাদের বাড়ি ভিড় করে ,নীতুর কেনো জানি খুব আনন্দ হয়।শহর থেকে নতুন অতিথি আসে বলে কথা তার ওপর সবাই তাদের বাড়ি ভিড় করে। তবে তার খুব রাগ ও হয় কারণ ফুপুর ছেলে (শাহমীর ফাইয়াজ) ।(নীতু )সে তার ডাক নাম দিয়েছে(লাল ) কারণ সে তাকে কোনো এক কারণে ( নীল) বলে ডাকে ।কিন্তু তার নাম তো ছিল ( নীতু ) । সে দেখতে নায়ক দের মত লম্বা, গায়ের রং উজ্জ্বল বর্ণের (ফর্সা ও না শেমবর্ণের ও না ) গ্রামের বেশির ভাগ মেয়েরা তাকে দেখার জন্য পাগল ,, তবে তার( নীতু ) তাকে মোটেও ভালো লাগে না উনি সব সময় ওর পিছনে লেগে থাকে ,,, তাদের বাড়িতে আসলেই বলে (গম্ভীর মুখে নিয়ে ) নীল ,, আর কত বড় হবি, আর এই সব কি ধরনের ভাষায়? কথা বলিস শুদ্ধু ভাষায় কথা বলতে পারিস না ? । আর এত বাহিরে ঘুরিস কেনো ,, ঘরে থাকতে পারিস না ?,, তুই এগুলো হাতে, গলায় কি পরিস? , এইগুলো পড়া ভালো না জানিস না ?, কেমন দেখায় ? আরোও কত কি , আসলে সে (নীতু ) গলায় মাধুলি , হাতে কব্জি তে তাবিজ পরে তাই তাকে বকে। তাতে নীতুর কিচ্ছু টি যায় আসে না ! নীতুর মনে মনে ভাবে ,
নীতু : তার ঘরের বউ নাকি ? তার কথা শুনবো মোটেও না ,,,
আসলে নীতু অনেক বাউন্ডুলে মেয়ে সারাক্ষণ মাঠে ঘাটে ঘুরে বেড়ায় পড়াশোনা কোনো রকম করে ।সে তো তো সারাক্ষণ কল্পনার জগতে বসে থাকে। কোথায় কি হলো তাতে তার কোনো মাথা ব্যাথা নাই ।সে হাসি খুশি থাকতে বেশি ভালোবাসে ।
নীতু একটি পুকুর ঘাটে বসে ছিল কারণ তার মন ভালো নেই , কারণ তার মা বকেছে। পুকুরে ঢিলছুড়তেই পিছন থেকে কেউ যেন ডেকে উঠলো,সে পিছনে তাকায় ( ঘাড় ঘুরিয়ে)
হাসি: কিরে নীতু এইখানে কি করস? আম্মা তোরে ডাহে ...জলদি আয় ...
খুশী: আম্মা কইছে তোরে এহন বাসায় যাইতে নইলে সব মাইর তোর পিঠে দিবো ....
( হাসি আর খুশি নীতুর মেজো চাচার ২ মেয়ে )
নীতু : তোর ছোট আম্মা রে কো আমি আইতাম না (একটু রেগে )
হাসি : আচ্ছা কইতাছি পরে মারলে আমরা আর কিছু কইতাম না ,পরে তোর লগে আমরা ও মাইর খাম,
খুশী: আয় না নীতু আর কত রাগ করবি কো আম্মা তোরে কিছু কইবো না আয়।
আসলে নীতু সারা দিন পুরো গ্রাম ঘুরে বেড়ায়।ঘরে এক দণ্ড থাকে না তাই মা তাকে বকছে,
কিছুক্ষণ পর বাসায় তারা বাড়িতে যায় , হাসি চিৎকার দিয়ে বলে উঠে ছোট আম্মা নিতু আইছে ...
মা: (খুন্তি হাতে নিয়ে আসে ) কই ওই এত বড় ধিঙ্গি মাইয়া সারাক্ষণ ঘুইরা বেরাস , কে করবো তোরে বিয়া ( রাগি কণ্ঠে)
নীতু : আমি বিয়া করতাম না যার বিয়া করতে মনে কইবো হে এমনিতেই আমায় বিয়া করব ।
মা : তোর মত মাইয়ারে বিয়া করার লাইগা বইয়া আছে হোগলে তাই না ?
ঠিক সেই মুহূর্তে বাসায় প্রবেশ করে নীতুর বড় চাচা ...
বড় চাচা(আব্দুস ফরাজি তালুকদার) : আহ্ ছোট বউ বইকো না, ও ছোট মানুষ আর আমার মাইয়া কোন দিক দিয়া কম যে কেউ বিয়া করব না , কত সুন্দর আমার মাইয়া( নীতুর থুতনী তে হাত রেখে)
আমগো গ্রাম ও এমন মাইয়া আর কোথাও আছে কও? কত বড় ঘর থেকে সম্বন্ধ আসে জানো? মাইয়া একটু বড় হোক মাত্র দশ ক্লাস এ পরে পরীক্ষা দিক পরে সব কথা ।(নীতুর মাথায় হাত দিয়ে ) যা মা ঘরে যা ।
মা : আপনারা ওরে আস্কারা দিয়া মাথায় তুলছেন । জানেন কি হইছে ? পাশের গ্রাম রসুলপুর থেকে ২ ডা মাইয়া হারাইয়া গেছে এহনও খুইজা পায় নাই , কোন দিন দেখবেন ওরেও কেও তুইলা লইয়া গেছে (কান্না ভেজা কন্ঠ) মাঝে মাঝেই তো মাইয়া মানুষ হারাইয়া যায় , হয় লাশ হইয়া ফিরে নইলে আর ফিরে না , ওরে একটু বুঝান, বাপ মরা মাইয়া কিছু হইলে আমার কি হইব ভাইজান ( কান্না করে)
বড় চাচা: আহ্ ছোট বউ এইসব কথা কইও নাহ , আর কার এত সাহস রূপগঞ্জ আইয়া আমগো বাড়ির মাইয়া তুইলা নিয়া যাইবো,, তাও তালুকদার বাড়ির মাইয়া , আচ্ছা তুমি ঘরে যাও আমি ওরে বুঝাইয়া কমু , কাইন্দো না ছোট বউ কাইন্দো না। ফাইজুল তো আছেই............
,,,,,,,,,,,,,,চলবে,,,,,,,,,,,